Home Blog Page 665

সহযোগিতা জোরদারে ঢাকা ও টোকিও’র মধ্যে ৮টি চুক্তি স্বাক্ষরিত

জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদার আমন্ত্রণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাপানে চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরের দ্বিতীয় দিনে আজ বুধবার ঢাকা ও টোকিও আজ আটটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

কৃষি, মেট্রোরেল, শিল্প উন্নয়ন, জাহাজ রিসাইক্লিং, শুল্ক সংক্রান্ত বিষয়, মেধাসম্পদ, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, আইসিটি এবং সাইবার নিরাপত্তা সহযোগিতা বিষয়ে দুই বন্ধুপ্রতীম দেশের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রীদের উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে চুক্তিগুলো বিনিময় করা হয়।
প্রথম চুক্তিটি হলো- বাংলাদেশের কৃষি মন্ত্রণালয় এবং জাপানের কৃষি, বন ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কৃষি গবেষণা ও উন্নয়ন এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য কৃষি সহযোগিতার বিষয়ে একটি সহযোগিতা স্মারক (এমওসি)।

দ্বিতীয় চুক্তিটি হলো- শুল্ক আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে শুল্ক বিষয়ক সহযোগিতা ও পারস্পরিক সহায়তা সংক্রান্ত জাপান সরকার এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে একটি চুক্তি। এর লক্ষ্য শুল্ক অপরাধ প্রতিরোধ, তদন্ত এবং শুল্ক পদ্ধতির সরলীকরণ ও সমন্বয়ের জন্য সহযোগিতামূলক প্রচেষ্টা গ্রহণ করা।

তৃতীয় চুক্তিটি হলো বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের মধ্যে ‘বাংলাদেশ-জাপান ইন্ডাস্ট্রিয়াল আপগ্রেডিং পার্টনারশিপ কোঅপারেশনের ওপর একটি ফ্রেমওয়ার্ক প্রতিষ্ঠার জন্য যৌথভাবে বাংলাদেশের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে বাংলাদেশের শিল্পের মানোন্নয়নের সম্ভাবনা অন্বেষণ করার জন্য একটি এমওসি।

২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) অবস্থান থেকে উত্তরণ লাভের জন্য এবং ‘ভিশন ২০৪১’-এর সাথে সঙ্গতি রেখে ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশ হওয়ার চলমান প্রচেষ্টার জন্য বাণিজ্য কর্মক্ষমতা এবং পণ্য বৈচিত্র্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি উভয় পর্যায়ে জাপান ও বাংলাদেশের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার।

চতুর্থ চুক্তিটি হলো- প্রতিরক্ষা সংলাপ, সফর বিনিময়, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, কোর্স, সেমিনার, কর্মশালা, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং এর সাথে প্রাসঙ্গিক অন্য কোনো সম্মত কার্যক্রমের ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করার জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এবং জাপান সরকারের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সংক্রান্ত স্মারক।
পঞ্চম চুক্তিটি হলো- মেট্রো রেলের ক্ষেত্রে সহযোগিতা, মেট্রো রেল নীতি, আইন ও প্রবিধান বিষয়ে সহযোগিতা, অবকাঠামো, রোলিং স্টক ও সিস্টেমের জন্য প্রযুক্তি; নিরাপত্তা নীতি ও ব্যবস্থাপনা এবং দুর্যোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে জাপানের ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সহযোগিতা স্মারক।

ষষ্ঠ চুক্তিটি হলো জাপানের ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের শিল্প মন্ত্রণালয়ের মধ্যে জাহাজ রিসাইক্লিংয়ের ক্ষেত্রে সহযোগিতা স্মারক। বাংলাদেশী পক্ষ ২০২৩ সালের মধ্যে জাহাজের নিরাপদ ও পরিবেশসম্মতভাবে রিসাইক্লিং করার জন্য হংকং ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন (এইচকেসি) মেনে চলার জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতা অর্জনে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাবে।
জাপানি পক্ষ জাহাজ রিসাইক্লিং করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উন্নয়নে সহায়তা প্রদানের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাবে। এগুলোর মধ্যে একটি ট্রিটমেন্ট, স্টোরেজ এবং ডিসপোজাল সুবিধা প্রতিষ্ঠা করা এবং এইচকেসি এর বিধানগুলোর শর্ত পূরণে বাংলাদেশকে সহায়তা করা।

তথ্য বিনিময় ও চর্চা, আইপিআরের গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, শিল্পের বিকাশ ও উদ্ভাবনের জন্য আইপিআর সিস্টেমের উন্নতির মাধ্যমে মেধাসম্পদ অধিকার (আইপিআর) সিস্টেম ও চর্চার বিষয়ে জাপান পেটেন্ট অফিস এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের পেটেন্ট, ডিজাইন এবং ট্রেডমার্ক বিভাগের মধ্যে সপ্তম সহযোগিতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

অষ্টম চুক্তিটি হলো- বাংলাদেশের আইসিটি বিভাগ, ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সাইবার নিরাপত্তাসহ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এমওসি।
কৃষিমন্ত্রী ড. মুহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডেও চেয়ারম্যান (সিনিয়র সচিব) আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনীম, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াকের-উজ-জামান, সড়ক পরিবহন ও জনপথ বিভাগের সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নূরী, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকিয়া সুলতানা এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বাংলাদেশের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
চুক্তি স্বাক্ষরের আগে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও জাপানের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

নিরাপত্তা সহযোগিতা, বিনিয়োগ, বর্ধিত বাণিজ্য সম্পর্ক, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা ইস্যুসহ সংশ্লিষ্ট পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আলোচনায় প্রাধান্য পায়।
সূত্র : বাসস

নির্যাতন করে সরকার নেতাকর্মীদের দমিয়ে রাখতে পারেনি : রিজভী

সদ্য কারামুক্ত বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে দিনভর ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছে দলটির নেতাকর্মীরা। এ সময় রুহুল কবির রিজভী দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আমাদের নেতাকর্মীরা আজ অনেক বেশি উজ্জীবিত। এই সরকার নির্যাতন, অত্যাচার করে নেতাকর্মীদের দমিয়ে রাখতে পারিনি।

রিজভী বলেন, আজকে যে লড়াই সেটি গণতন্ত্রের জন্য লড়াই, বাকস্বাধীনতার ফিরিয়ে আনার লড়াই। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে যে আন্দোলন হচ্ছে, তারই প্রতিফলন আজ আমি দেখতে পাচ্ছি। এই লড়াই কোনো ব্যক্তি বা দলের জন্য নয়। এটি দেশ বাঁচানোর লড়াই, একনায়কতন্ত্র থেকে মুক্ত হওয়ার লড়াই।

তিনি আরো বলেন, এই সরকারের হিংস্রতা শুধু রাজপথেই নয়, কারাগারেও। সেখানে রাজবন্দীরা অমানবিক জীবনযাপন করছেন। আমাকে একা একটি প্রিজন ভ্যানে দাঁড়িয়ে আদালতে আনা হতো। আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ। গাড়ি ব্রেক করলে আমি পড়ে যেতাম। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে আমার জন্য চেয়ারের ব্যবস্থা করা হয়।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ঈদের আগে আমি সবকয়টি মামলায় জামিন পেলেও আমাকে মুক্তি দেয়া হয়নি, পরিবার-পরিজনের সাথে ঈদ করতে দেয়া হয়নি।

এ সময় তিনি আটকের সময় তার পরিবারের প্রতি খোঁজ-খবর রাখার জন্য ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলসহ সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এদিকে, তিনি গতকাল বিকেলে মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই তার বাসভবনে গিয়ে দলের অসংখ্য নেতাকর্মী তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। বুধবার সকাল থেকেই ঢাকা মহানগর বিএনপির উত্তর-দক্ষিণ, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিকদলসহ অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের হাজারো নেতাকর্মী তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এছাড়াও বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী তার আদাবরের বাসায় গিয়ে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

এ সময় রিজভীর স্ত্রী আরজুমান আরা বেগমসহ বিএনপি নেতা শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস,
হাবিব উন নবী খান সোহেল, খায়রুল কবির খোকন, ফজলুল হক মিলন, আব্দুস সালাম আজাদ, ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন, আমিনুল হক, মীর সরাফত আলী সপু, অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, ডা. রফিকুল ইসলাম, মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, অধ্যক্ষ সেলিম ভুইয়া, অধ্যাপক ড. মো: মোর্শেদ হাসান খান, আমিনুল ইসলাম, তারিকুল আলম তেনজিং, ঢাকা জেলার সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক, সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী, তানভীর আহমেদ রবিন, ছাত্রদলের সভাপতি কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ, সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল, বিএনপি নেতা মঞ্জুরুল করিম রনি, আসাদুল করিম শাহীন, শাখায়াত হোসেন সবুজ, কাজী সাইফুল আলম বাবুল, মুজিবুর রহমান, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতা কাদের গনি চৌধুরী, রাশেদুল হক, বাছির জামাল, পেশাজীবী নেতা ডা. শামীমুর রহমান, ডা. রফিকুল ইসলাম, ডা. আউয়াল, মৎস্যজীবী দলের মো. আবদুর রহিম, ওমর ফারুক পাটোয়ারী, ফজলে কাদের সোহেল, কেএম সোহেল রানা, এম সায়েম উদ্দিন সিয়াম, স্বেচ্ছাসেবক দলের ডা. জাহেদুল কবির জাহিদ, আরিফুর রহমান তুষার, যুবদলের মেহবুব মাসুম শান্ত, সোহেল আহমদ, ছাত্রদলের সাবেক নেতা ওমর ফারুক কাওসার, ঢাবি ছাত্রদলের রাজু আহমেদসহ অসংখ্য নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, প্রায় পাঁচ মাস তথা ১৪০ দিন পর কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন তিনি। ঈদের আগেই ৫০ মামলার সবকটিতেই জামিন পেয়েছিলেন রিজভী।

সর্বশেষ মানহানির অভিযোগে গোপালগঞ্জে করা এক মামলায় গত ১৮ এপ্রিল জামিন পেলেও জামিননামার মূল কপি কারাগারে না পৌঁছানোর কারণে ঈদের আগে তাকে মুক্তি দেয়া হয়নি।

২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশকে ঘিরে ৭ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দলের নেতাকর্মীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। পরে ওই রাতে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে প্রায় সাড়ে চার শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই সময় রুহুল কবির রিজভীকে আটক করা হয়। পরদিন পল্টন, মতিঝিল, রমনা ও শাহজাহানপুর থানায় পৃথক চারটি মামলা করে পুলিশ।

পল্টন ও মতিঝিল থানার মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে রুহুল কবির রিজভীকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে আরো বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

মামলার জট নিরসনের চেষ্টা রয়েছে : প্রধান বিচারপতি

প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বলেছেন, মামলা জট যাতে না হয় এবং তা সহনীয় পর্যায়ে রাখতে তারা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

বুধবার টাঙ্গাইল জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চত্ত্বরে ন্যায়কুঞ্জ নির্মাণের স্থান পরিদর্শন ও ভিত্তি প্রস্তুর স্থাপন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘মামলার জট আমাদের চিন্তিত করেছে। বিচার প্রার্থীরা যদি দীর্ঘ দিনেও বিচার না পায়, তবে একসময় তারা আদালতের প্রতি বিশ্বাস হারাতে পারেন।’ মামলা থাকবে, কিন্তু যাতে জট না হয়- যাতে সহনীয় পর্যায়ে থাকে সে চেষ্টা আমরা চালিয়ে যাচ্ছি।’

এর আগে প্রধান বিচারপতি বুধবার বিকেলে টাঙ্গাইল এসে পৌঁছলে জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার ও পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার তাকে ফুলের তোড়া দিয়ে অভ্যর্থনা জানান।

প্রধান বিচারপতি আরো বলেন, ২০২২ সাল থেকে আমাদের বিচারকরা অবিরাম পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। পুরোনো বা বর্তমান মামলাগুলো যাতে দ্রুত নিষ্পত্তি করা যায়। এ কারণে বর্তমানে যতগুলো মামলা ফাইল হয়েছে তার চেয়ে বেশি নিষ্পত্তি হয়েছে। এই ধারা যদি অব্যাহত থাকে, তবে আমরা একটা সহনীয় পর্যায়ে থাকবো। তিনি আইনজীবী, আইনজীবীর সহকারী এবং বিচার প্রার্থীদের আদালতের কার্যক্রমে সহযোগিতার আহ্বান জানান।

এ সময় টাঙ্গাইলের জেলা ও দায়রা জজ শেখ আব্দুল আহাদ, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার মুন্সি মো: মশিয়ার রহমান, আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান, টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) মাহাবুবুর রহমান, টাঙ্গাইলের বিশেষ জজ আদালতের বিচারক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) রাফিজুল ইসলাম, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাউদ হাসান, জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন হায়দার, পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়ছার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের ৬৪ জেলার আদালত প্রাঙ্গণে ন্যায়কুঞ্জ স্থাপনের উদ্যোগ নেন। ন্যায়কুঞ্জ স্থাপন হলে বিচারপ্রার্থীরা ন্যায় বিচারের জন্য আদালত প্রাঙ্গণে এসে স্বস্তিতে বিশ্রাম নিতে পারবেন।
সূত্র : বাসস

শি জিনপিংয়ের সাথে জেলেনস্কির দীর্ঘ টেলিফোনে আলাপ

ইউক্রেনে রুশ অভিযানের পর এই প্রথমবারের মতো প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং চীনের নেতা শি জিনপিংএর মধ্যে টেলিফোনে সরাসরি কথাবার্তা হয়েছে।

জেলেনস্কি বলেছেন, এটি ছিল একটি দীর্ঘ এবং অর্থপূর্ণ আলাপ।

অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট শি জোর দিয়ে বলেছেন যে বেইজিং সবসময়ই শান্তির পক্ষে এবং ‘সংলাপ ও আলোচনাই’ সঙ্কট থেকে ‘বেরিয়ে আসার একমাত্র পথ।’

ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর এই দুই নেতার মধ্যে সরাসরি কথাবার্তার খবর এবারই প্রথম জানা গেল।

চীনের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, কিয়েভ সবগুলো যুক্তিসংগত উদ্যোগকেই প্রত্যাখ্যান করে আসছে এবং অবাস্তব দাবি তুলে আল্টিমেটাম দিয়ে যাচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি টুইটারে এক বার্তায় বলেছেন, এই ফোনালাপ এবং বেইজিংয়ে ইউক্রেনের একজন রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দুদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের গতি জোরালো করবে।

বুধবার জেলেনস্কির সাথে শি-র ফোনালাপের পর চীনের বিবৃতিতে বলা হয়, চীন ইউক্রেনের সাথে সরাসরি যোগাযোগের অংশ হিসেবে কিয়েভ এবং অন্যান্য রাজধানীতে একজন বিশেষ প্রতিনিধি পাঠাবে- যার লক্ষ্য হবে একটি রাজনৈতিক নিষ্পত্তির ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করা।

আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় শি জিনপিং
বিবিসির সংবাদদাতা বলছেন, ইউক্রেনে রুশ অভিযানের ব্যাপারে চীন বরাবরই এটা দেখানোর চেষ্টা করেছে যে তারা এক্ষেত্রে নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়েছে।

কিন্তু চীন কখনো মস্কোর সাথে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে লুকানোর চেষ্টা করেনি বা রুশ অভিযানের নিন্দাও করেনি।

গত মাসে প্রেসিডেন্ট শি রাশিয়াতে এক রাষ্ট্রীয় সফরেও গিয়েছেন। তবে তিনি কখনোই রাশিয়াকে অস্ত্র দেবার অঙ্গীকার করেননি।

ওই সফরে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ‘প্রিয় বন্ধু’ বলে বর্ণনা করেন শি। তিনি একটি ১২-দফার শান্তি পরিকল্পনাও প্রস্তাব করেন। তবে ইউক্রেন ও পশ্চিমা দেশগুলো ওই পরিকল্পনার সমালোচনা করে।

এতে (রাশিয়ার ওপর) নিষেধাজ্ঞাগুলো তুলে নেবার কথা থাকলেও ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা বা রাশিয়ার দখল করা এলাকাগুলোর ব্যাপারে স্পষ্ট কোন পরিকল্পনা ছিল না।

সেই সফরের কয়েকদিনের মধ্যেই প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি চীনা নেতাকে আলোচনার জন্য কিয়েভ সফরে আসার আমন্ত্রণ জানান।

বিবিসির সংবাদদাতা বলছেন, চীন এই যুদ্ধ অবসানে সহায়ক ভুমিকা রাখতে পারবে এমন সম্ভাবনা কম। কারণ রাশিয়া এখন পর্যন্ত তাদের সৈন্যদের ইউক্রেনের ভূখণ্ড থেকে সরিয়ে নেবার ইচ্ছা প্রকাশ করেনি- যা কিয়েভের অন্যতম প্রধান দাবি।

তবে শি জিনপিং সম্প্রতি ইরান ও সৌদি আরবকে তাদের মধ্যেকার সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে প্রভাবিত করে কূটনৈতিক সাফল্য পেয়েছেন।
সূত্র : বিবিসি

শেখ হাসিনাকে জাপানে লাল গালিচা সংবর্ধনা

জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদার আমন্ত্রণে চার দিনের সফরে আজ মঙ্গলবার বিকেলে টোকিও পৌঁছলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ভিভিআইপি চাটার্ড ফ্লাইট (বিজি১৪০৩) আজ জাপানের স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে টোকিও’র হানেদা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

বিমানবন্দরে জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ইয়ামাদা কেনজি ও জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সাহাবুদ্দিন আহমেদ প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।

এর আগে জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে ১৫ দিনের সরকারি সফরের প্রথম পর্যায়ে টোকিও’র উদ্দেশে আজ সকাল ৭টা ৫৬ মিনিটে বিমানটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে।

টোকিও’র বিমানবন্দর থেকে আনুষ্ঠানিক মোটর শোভাযাত্রা সহকারে তাকে আকাসাকা প্রাসাদে নিয়ে যাওয়া হয়। জাপান সফরকালে প্রধানমন্ত্রী টোকিও’র এই প্রাসাদেই অবস্থান করবেন।

সফরকালে টোকিওর সাথে আটটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে বলে ঢাকা আশা করছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন গতকাল সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ব্রিফিংকালে বলেন, ‘দুই প্রধানমন্ত্রীর (বাংলাদেশ ও জাপান) উপস্থিতিতে উভয় দেশের মধ্যে আটটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে।’

তিনি আরো বলেন, জাপান সফরকালে কৃষি, মেট্রোরেল, শিল্প উন্নয়ন, জাহাজ রিসাইক্লিং, শুল্ক সংক্রান্ত বিষয়, মেধাস্বত্ব, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, আইসিটি ও সাইবার নিরাপত্তা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে।

মোমেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৬ এপ্রিল জাপানের সম্রাট নারুহিতোর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

একই দিন চুক্তি স্বাক্ষরের পর শেখ হাসিনা জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদার সাথে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে নৈশভোজের মাধ্যমে বৈঠকটি শেষ হবে।

জাপান সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি বিনিয়োগ সম্মেলন এবং প্রবাসী বাংলাদেশীদের আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও যোগ দেবেন।

মোমেন বলেন, একই দিন প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য চার জাপানি নাগরিককে ‘ফ্রেন্ড অব লিবারেশন ওয়ার অনার’ প্রদান করবেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৭ এপ্রিল টোকিওতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি এবং জেট্রোর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বাংলাদেশ বিজনেস সামিটে প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দিবেন।

সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী জাপানে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশী ও কমিউনিটি আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

টোকিও সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োশিমাসা হায়াশির সাথে বৈঠক করবেন। এছাড়াও তিনি জাইকা, জেইটিআরও, জেইইআইসি, জেবিপিএফএল, জেবিসিসিইসি’র নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠকসহ আরো কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে যোগ দেবেন।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জাপানের পরলোকগত প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সহধর্মিণী আকি আবে ও জাপানি স্থপতি তাদাও আন্দোর সাথেও দেখা করবেন।

এছাড়া, জাপানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল ‘এনএইচকে’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি সাক্ষাৎকার সম্প্রচার করবে।

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো: শাহরিয়ার আলম, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকসহ সংশ্লিষ্ট উচ্চ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারা সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রী টোকিও থেকে ওয়াশিংটন ডিসিতে পৌঁছে ১ মে বিশ্ব ব্যাংকের সদর দফতরে বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যে ৫০ বছরের অংশীদারিত্ব উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

মোমেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৪ মে যুক্তরাজ্য এবং অন্যান্য কমনওয়েলথ দেশের রাজা ও রানি তৃতীয় চার্লস এবং তার পত্নী ক্যামিলার রাজ্যাভিষেকে যোগদানের জন্য লন্ডনের উদ্দেশে ওয়াশিংটন ত্যাগ করবেন।

প্রধানমন্ত্রী আগামী ৯ মে লন্ডন থেকে ঢাকা ফিরবেন।

সূত্র : বাসস

আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা বাইডেনের

আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। মঙ্গলবার তিনি এ ঘোষণা দেন।

মঙ্গলবার সকাল দিকে প্রকাশিত এক ভিডিওতে বাইডেন বলেন, তিনি আগামী চার বছরের জন্য হোয়াইট হাউসে থাকতে চান। লড়তে চান রিপাবলিকান চরমপন্থার বিরুদ্ধে। এছাড়া জাতির চরিত্র পুনরুদ্ধারে তার ব্রত সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করার জন্য তার আরো সময় প্রয়োজন।

আগামী নির্বাচনে লড়ার বাইডেনের এ ঘোষণার মাধ্যমে এটা অনেক পরিষ্কার হয়ে গেল যে ২০২০ সালের নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন তিনি।

সূত্র : সিএনএন

ছোট কারাগার থেকে বড় কারাগারে প্রবেশ করেছি : রিজভী

ছোট কারাগার থেকে বৃহত্তর কারাগারে প্রবেশ করেছি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। তিনি বলেছেন, সারাদেশই এখন কারাগারে পরিণত হয়েছে।

মঙ্গলবার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বের হয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রিজভী বলেন, ‘মানুষের কোথায়ও অধিকার নেই। ভোটের অধিকার নেই, কথা বলার অধিকার নেই। গণতন্ত্রের মুক্তি মিললেই মানুষ সকল অধিকার ফিরে পাবে।’

তিনি বলেন, ‘ছোট কারাগার থেকে বৃহত্তর কারাগারে প্রবেশ করেছি। আমাকে মানুষ এতটা ভালোবাসে তা মুখে বলে প্রকাশ করা যাবে না।

দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান বিএনপির এই সিনিয়র নেতা।

গত বছরের ১০ ডিসেম্বর বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশকে ঘিরে ৭ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সাথে দলের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষের পর বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে সাড়ে ৪ শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। একই সময় রুহুল কবির রিজভীকেও গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।

এরপর তার বিরুদ্ধে করা ৫০ মামলার সবকটিতেই জামিন পান তিনি। সর্বশেষে গত ১৮ এপ্রিল গোপালগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত মানহানি মামলায় তার জামিন মঞ্জুর করেন। এরপর রিজভীর মুক্তিতে আর কোনো বাধা ছিল না।

ভোটে অংশ নিয়ে আমাদের পরীক্ষা নিন : বিএনপিকে ইসি

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপিকে নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরীক্ষা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে নির্বাচন কমিশনার মো: আলমগীর।

মঙ্গলবার নির্বাচন ভবনের নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এ আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, এ পর্যন্ত ভালো কাজ করে যাচ্ছি এবং আগামীতেও ভালো কাজ করব। সবসময় আমাদের আহ্বান থাকবে যে, আপনারা (বিএনপি) নির্বাচনে অংশ নিন, আমাদের পরীক্ষা নিন। আপনারা তো আমাদের পরীক্ষাই নিচ্ছেন না। পরীক্ষা না নিয়েই আমরা যে অকৃতকার্য হলাম কিভাবে আপনারা বুঝলেন? আমরা পরীক্ষা দিতে প্রস্তুত সবসময়।

জাতীয় নির্বাচনের আগে পাঁচ সিটি ভোট, বেশির ভাগ দল অংশ নিচ্ছে না। এটা আস্থাহীনতা কিনা- এমন প্রশ্নে সাবেক এই ইসি সচিব বলেন, ৩৯টি দলের স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে… তাদের তো স্থানীয় পর্যায়ে অফিস থাকতে হবে। সব জেলায় সবগুলো দলের তো অফিস নাও থাকতে পারে।

তাহলে বিএনপির কী অফিস নেই- এমন প্রশ্নে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে তারা (বিএনপি) বলেছে যে নির্বাচনে অংশ নেবে না। আমাদের বলেনি যে নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনাস্থা থাকায় তারা নির্বাচনে অংশ নেবে না। তারা তো বলেনি কখনো। এটা রাজনৈতিক কৌশল হতে পারে। ছোট ছোট দলের ওই রকম অফিস নেই, তাদের হয়তো যোগ্য প্রার্থী নাও থাকতে পারে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো প্রার্থী নেই, হয়তো এজন্যও নাও দিতে পারে। সেটা তো তাদের ব্যাপার। বড় দলগুলো তো আসছে। বিএনপি আসেনি এটা তো তাদের রাজনৈতিক কৌশল। এটা তো আমাদের ব্যর্থতা না। তারা কি বলেছে নির্বাচন কমিশন ব্যর্থ নির্বাচন করেছে- এজন্য আসব না?

আ’লীগ চাইলে তত্ত্বাবধায়কের বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে : মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগ যদি সিদ্ধান্ত নেয় সংঘাত এড়িয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে।

তিনি বলেন, আমরা পরিষ্কার করে বলেছি, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া বা নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া কোনো নির্বাচন হবে না। সেই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না। শুধু আমরা নই, বহির বিশ্ব- যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে তারাও বলছে, বাংলাদেশের একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন খুব জরুরি। বাংলাদেশের জন্য, এ দেশের মানুষের জন্য, ভবিষ্যতে এর অগ্রগতি-উন্নয়ন সবকিছুর জন্য। কিন্তু এ বিষয়ে তারা আগ্রহী নয়। আবারো আগের মতো ক্ষমতায় থাকার জন্য এককভাবে নির্বাচন করতে চায়। এজন্য সব রকম প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। সেক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির দিকে জনগণের প্রত্যাশা থাকে।

সোমবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক যে সঙ্কট তৈরি হয়েছে, এই রাজনৈতিক সঙ্কটকে খাটো করে দেখার কোনো কারণ নেই।

নতুন রাষ্ট্রপতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে যে রাষ্ট্রপতি শপথ নিয়েছেন জনগণের কাছে তার নামটা একেবারে পরিচিত ছিল না। বর্তমান সঙ্কট কাটিয়ে ওঠার ব্যাপারে মানুষের মাঝে একটি সন্দিহান রয়েছে। যে তিনি কি ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন?

ফখরুল বলেন, নতুন রাষ্ট্রপতির ব্যাপারে আমাদের আগ্রহটা কম। কারণ আমরা মূল জায়গাতে যেতে চেয়েছি। আজকে নির্বাচন প্রক্রিয়া গণতান্ত্রিক নয়, নির্বাচন যদি গ্রহণযোগ্য না হয়, আমরা অংশগ্রহণ করতে না পারি, বিরোধী দল অংশগ্রহণ করতে না পারে, একটি নিরপেক্ষ সরকার যদি না হয়, তাহলে সবকিছুই অর্থহীন হয়ে যায়। সে কারণে আমরা তার প্রতি জোর দিচ্ছি বেশি।

তিনি বলেন, সরকারের উদ্দেশ্য হচ্ছে তারা এক দলীয় সরকারের দিকে যাচ্ছে। ইতোপূর্বে গেছে আবারো তারা একইভাবে আগের মতোই, ১৪ সালের মতো, ১৮ সালের মতো নির্বাচন করতে চায়। তাদের লক্ষ্য সেটাই দেখাচ্ছে। পরিষ্কার করে বলছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়ে কোনো আলাপ হবে না। বিরোধী দলের সাথে কোনো আলোচনা হতে পারে না।

সরকারের উদ্দেশে‌ বিএনপি মহাসচিব বলেন, সমস্ত রাষ্ট্রকে নিয়ন্ত্রণ করে তারা আবারো আগামী নির্বাচন পার হতে চায়। রাষ্ট্র ক্ষমতা তারা দখলে আনতে চায়।

আপনারা নতুন রাষ্ট্রপতি থেকে এরকম আশা করেন কিনা প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমরা হতাশ হয়েছি। আমরা যাকে চিনি না, যাকে জানি না, যার সম্পর্কে বেশি কিছু বলতেও পারি না; এমন একজন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি করে নিয়ে আসা। আমরা তার কাছে আশা করি না। কারণ দলকে আগে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, আওয়ামী লীগকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। শুধু তার (মো: সাহাবুদ্দিন) থেকে আশা করার প্রশ্ন উঠতে পারে না।’

শুভ জন্মদিন শচীন টেন্ডুলকার

০

শেন ওয়ার্ন-মুশতাক-ম্যাগগিল-মুরালির ঘূর্ণি মায়াজালে বিস্মিত হয়েছেন? আকরাম-আখতার-ওয়াকারের ধেয়ে আসা অগ্নিগোলা দেখেছেন? ব্রেট লি-স্টেইন জনসন-মালিঙ্গার-নিখুঁত ইয়ার্কার চোখে ভাসে? এমব্রোস-ওয়ালশ-আন্দ্রে-নেলরা কি ভয় ধরা বাউন্সারে কল্পনায় আসে? ম্যাকগ্রা-পোলক-ডোনাল্ডের মহা প্রলয়ে কি কম্পিত হয়েছেন? ভাস-বিপস-এডামসের বিষাক্ত স্পেল অবাক অবলোকন করেছেন?

তবে তাদের প্রতিরোধে আপনার ভাবনায় ব্যাট হাতে কে আসবে? কে রুখবে তাদের অপ্রতিরোধ্যতা? স্মৃতি মন্থন করে ফিরে আসবেন আপনি একটি নামে, শত কোটি ভারতবাসীর প্রত্যাশার পাহাড় নিয়ে শতকের শতক মাইলফলক উন্মোচন করা, ভারতীয় ক্রিকেটের ‘ঈশ্বরে’! হ্যাঁ শচীন রমেশ টেন্ডুলকার। মাত্র ১৬ বছর বয়সে সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটার হয়ে পাকিস্তানের মাটিতে ব্যাট হাতে। ওয়াকারের বলে স্বীয় নাক রঞ্জিত করে যার উত্থান। কাদিরের ওভারে চার ছক্কা হাঁকিয়ে যেনো রাজার আত্মপ্রকাশ। ক্রিকেটের ডন ডনের প্রশংসা- ‘ছেলেটা তো আমার মতো!’

‘মহারাজা, তোমারে সেলাম
সেলাম, সেলাম…’

শচীন টেন্ডুলকার নামটা স্মরণে শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় কুর্নিশ জানাতে সত্যজিৎ রায়ের ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’ সিনেমার এই বিখ্যাত গানটার এই লাইন অপেক্ষা ভালো আর কিইবা হতে পারে! তিনি তো সত্যিই মহারাজা। তিনি ক্রিকেটের মহারাজা। তিনি বাইশগজের মহাপরাক্রমশালী মহারাজা। যে রাজার প্রভাব-প্রতিপত্তি গোটা বিশ্বজুড়ে। এমন একজন রাজার তরে কুর্ণিশ জানাতে দ্বিধার কি কোনো সুযোগ আছে?

যতদিন ব্যাটটা তার খাপখোলা ছিলো, ততদিন তিনি ক্রিকেটের বাইশ গজের রাজ্যটাকে শাসন করেছেন নিজের মতো করে। অভিজ্ঞ শিল্পীর ন্যায় ওই সবুজ ক্যানভাসে একেঁছেন ব্যাটের আল্পনায় মুগ্ধতা ছড়ানো সুন্দর সব চিত্র। বাইশ গজে হাজারও স্মৃতি, গল্প, বা উপন্যাসের রচিয়তা তিনি। তিনি কীর্তিগাঁথার পাহাড়ের অধিপতি। হয়তো পূর্বের কীর্তিতে নতুনত্ব এনেছেন, নয়তো নিজেই নতুন কীর্তির সূচনা গড়েছেন।

তার নামটাই যেন একটা আবেগ, একটা মোহ। শচীন একটা বিস্ময়, একটা বিলাসিতা। শতকোটি ভারতবাসীর প্রত্যাশার চাপ কাঁধে নিয়েও সগৌরবে উঁচু শিরে ছুটে চলা এক আভিজাত্যের নাম শচীন। যার নাম মানেই ইতিহাস, যার নামেই অসংখ্য সব রেকর্ডের ঝড়োচ্ছ্বাস। পরিসংখ্যানেই তার পরিচয় ফোঁটে, আবার পরিসংখ্যান তার জন্য শুধুই সংখ্যা বটে।

তবুও পরিসংখ্যান বিবেচনায় অসংখ্য রেকর্ডের মাঝে শচীনের অনবদ্য ১০টি রেকর্ড হলো—

-আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তিনি। তিন ফরম্যাট মিলিয়ে শচীনেরর রান সংখ্যা ৩৪,৩৫৭। ওয়ানডে ও টেস্ট ক্রিকেটের সর্বোচ্চ রানও তার দখলে।

-আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বোচ্চ শতক হাঁকানো ক্রিকেটার তিনি। বিশ্বের একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে শতকের শতক হাঁকিয়েছেন তিনি। তিন ফরম্যাট মিলিয়ে শচীনের সেঞ্চুরি আছে ১০০টি।

-একদিনের ক্রিকেটে ১০ হাজারের অধিক রান (১৮,৪২৬) আর শতাধিক (১৫৪টি) উইকেট শিকারী একমাত্র ক্রিকেটার তিনি।

-বিশ্বের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ানডে ক্রিকেটে দ্বিশতক হাঁকান শচীন। (২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে)

-ভারতের হয়ে সবথেকে কম বয়সে (১৭ বছর ৩ মাস ১৭ দিন) টেস্ট ম্যাচে সেঞ্চুরি করেন শচীন।

-ক্রিকেটের ইতিহাসে একমাত্র তিনি ২০০টির বেশি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন।

-একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে ২০০ টেস্ট ম্যাচ খেলার রেকর্ড তার৷ একই রেকর্ড আছে ওয়ানডেতেও। এই ফরম্যাটেও সর্বোচ্চ ৪৬৩ ম্যাচ খেলেছেন তিনি।

-বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তিনি (২,২৭৮)। এক আসরের সর্বোচ ৬৭৩ রানও তার দখলে।

-একদিনের ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১৪ বার ‘ম্যান অফ দ্য সিরিজ’ও হয়েছেন শচীন।

-একদিনের ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৬২ বার ‘ম্যান অফ দ্য ম্যাচ’ হবার রেকর্ডও শচীনের দখলে।

শচীন এমন আরো হাজারো রেকর্ড গড়েছেন, ক্রিকেটে যা সবার কাছে স্বপ্ন! তাকে নিয়ে বলতে গেলে ফুরিয়ে যাবে বিশেষণ-উপমা। চায়ের কাপে ঝড় ওঠবে, হয়তো সুর তুলবে কলম। একদিন সব থেমেও যাবে। কিন্ত থামানো যাবে না তাকে নিয়ে লিখতে থাকা সেই কলম, লেখা হতেই থাকবে তার কীর্তময় সব গল্প।

দীর্ঘ ২৪ বছরের ঘূর্ণাবতে দিশেহারা করেছেন ঘূর্ণির মায়াজাল, অগ্নিগোলাগুলো সামলে করেছেন পগারপার। মরন ছোবল ইয়ার্কার রুখে দিয়েছেন অবিশ্বাস্য ক্ষিপ্ততায়। ১৫ নভেম্বর ২০১৩ যবে এই ঝড় থামে কালের স্রোতে বাস্তবতা মেনে ততদিন ইতিহাসের প্রতিটি অধ্যায়ে, প্রতিটি পাতায় ঠায় নিয়েছেন স্বর্ণাক্ষরে ‘গড অফ ক্রিকেট’ খেতাবে।

১৯৭৩ সালের ২৪ এপ্রিল ঔপন্যাসিক বাবার ঘরে, মহাউপন্যাস আর মহাকাব্যের উপমার আতুঘর হয়ে প্রস্ফুটিত হয়েছিলেন, ক্রিকেটে ‘বিধাতা’র দেয়া সেরা উপহার শচীন রমেশ টেন্ডুলকার।

শুভ জন্মদিন শচীন! শুভ জন্মদিন মাস্টার!!