Home Blog Page 671

সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চলবে : মান্না

সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চলবে জানিয়ে গণতন্ত্র মঞ্চের নেতা ও নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, যতদিন পর্যন্ত আমাদের যে দাবি- এই নির্বাচন ব্যবস্থা, গণতন্ত্রের ব্যবস্থা, রাষ্ট্র ব্যবস্থা, সংবিধান পরিবর্তন করে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে না পারবো ততদিন পর্যন্ত আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে। আমরা অন্য কারো সাথে হাত মিলিয়ে আপস করে সমঝোতা করার চেষ্টা করছি না। আমরা এই লড়াই চালাবো এবং বিশ্বাস করি, এই লড়াইয়ে আমরা জিতব।

রোববার (২৮ মে) দুপুরে রাজধানীর মালিবাগ রেলগেটে গণতন্ত্র মঞ্চের ঢাকা উত্তরের পদযাত্রা পূর্ব বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সংক্ষিপ্ত সমাবেশের পর পদযাত্রাটি মালিবাগ থেকে শুরু হয়ে বাড্ডা গিয়ে শেষ হয়।

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বুঝা যাচ্ছে আজকে বাংলাদেশের মান বিশ্বের বুকে লুণ্ঠিত। আমেরিকা আমাদের স্যাংশন দেয়নি, কিন্তু বলেছে তোমরা ভোট চুরি করো। তোমরা মানুষকে কথা বলতে দাও না, মত প্রকাশ করতে দাও না, নির্যাতন করো। এই সমস্ত কাজ সামনে নির্বাচনে যদি করা হয় তাহলে তাদেরকে আমরা আর ভিসা দেবো না। এটা শুধু রাজনৈতিক নেতাদের জন্য নয়। পুলিশ বলেন, র‌্যাব বলেন, আর্মি বলেন সকলের ব্যাপারে এই কথা বলা হয়েছে।

সরকারের উদ্দেশে গণতন্ত্র মঞ্চের এই নেতা বলেন, আপনি বিদ্যুৎ উৎসব করেছেন, উন্নয়নের কথা বলেন অথচ পায়রা কেন্দ্র বন্ধ হতে চলেছে। একটি-দুটি লাইন বন্ধ, কয়লা নেই, কয়লা আনতে পারেন না, কয়লার টাকা দিতে পারেন না। টাকা নেই, ডলার নেই জিনিসপত্রের দাম বাড়ে, কিন্তু দাম কমাতে পারেন না। সারা দুনিয়াতে দাম কমে কিন্তু বাংলাদেশ সরকার দাম কমাতে পারে না। এরকম ব্যর্থ, লুটেরা সরকারকে আমরা চাই না।

মান্না বলেন, আমরা আন্দোলন শুরু করেছি আন্দোলন থামাচ্ছি না। আমরা বহুবার বলেছি, কোনো ভয়ের কাছে মাথানত করবো না। কোনো লোভের কাছে আত্মসমর্পণ করি না। কোনো জেল-জুলুমকে ভয় পাই না। যদি ভয় পেতাম তাহলে আজকে এই নেতা এভাবে আপনাদের সামনে দাঁড়াতেন না।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের সভাপতিত্বে এ সময় জেএসডির সহ-সভাপতি তানিয়া রব, ভাসানী অনুসারী পরিষদের সভাপতি শেখ রফিকুল ইসলাম, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের হাসনাত কাউয়ুম, নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ্ কায়সার প্রমুখ বক্তব্য দেন।

এরদোগানের আরো ৫ বছর, না কি ক্ষমতার বদল

তুরস্কে রজব তাইয়েব এরদোগানের ২০ বছরের ক্ষমতার দৌড় আরো দীর্ঘায়িত হবে কি না, তা নির্ধারিত হবে আজ দ্বিতীয় দফা ভোটে।

তার প্রতিদ্বন্দ্বী কেমাল কিলিচদারুলু, যিনি বেশ কয়েকটি বিরোধী দলের জোটের সমর্থনপুষ্ট, এই ভোটকে তুরস্কের ভবিষ্যতের নির্ধারক বলে মন্তব্য করেছেন।

এখনো পর্যন্ত এই নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট এরদোগানই ফেভারিট, মানে এগিয়ে আছেন বলে মনে হচ্ছে। তার সমর্থকদের ‘নতুন যুগ’এর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ২০ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা বতর্মান প্রেসিডেন্ট।

তবে এ দফায়ও নির্বাচনের আগে সবচেয়ে বেশি আলোচনার বিষয় মূল্যস্ফীতি ও জীবন যাপনের ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি।

রোববার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা (বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা) থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে, যা চলবে স্থানীয় সময় বিকাল ৫টা পর্যন্ত। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা তুর্কি নাগরিকদের ভোট নেয়া এরই মধ্যে শেষ হয়েছে।

নির্বাচনের প্রথম ধাপে বিপুল সংখ্যক ভোটার ভোট দিয়েছিলেন, যা শতকরা হিসেবে মোট ভোটারের ৮৮.৮ শতাংশ।

দুই প্রার্থীর নজরই এবার ৮০ লাখ ভোটারের দিকে, যারা আগেরবার ভোট দেননি কিন্তু এবার ভোট দিতে পারেন।

দ্বিতীয় ধাপের ভোটের আগে কিলিচদারুলু তার প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ এনেছেন।

তার অভিযোগ, ভোটারদের কাছে তার পাঠানো টেক্সট মেসেজ ব্লক করা হয়েছে আর এরদোগানের পাঠানো টেক্সট মেসেজ স্বাভাবিকভাবেই পৌঁছেছে।

কোনো জায়গায় যেন ভোট জালিয়াতি না হয়, তা নিশ্চিত করতে বিরোধী জোট রীতিমতো স্বেচ্ছাসেবকদের বাহিনী মাঠে নামিয়েছে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, প্রথম ধাপের নির্বাচনে এরদোগান তার প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে বেশি সুবিধা পেয়েছেন।

তবে কিছুটা সুবিধা পেলেও তা ভোটিংয়ের ফলাফল পরিবর্তনে কোনো ভূমিকা রেখেছে বলে তারা দাবি করছেন না।

প্রচারণার শেষ দিনে বিরোধী জোটের নেতা কিলিচদারুলু বেশ অভিনব ধরনের প্রেসিডেন্সির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

তিনি বলেন, আমার প্রাসাদে থাকার কোনো ইচ্ছা নেই। আমি আপনাদের মতো সাধারণভাবে থাকতে চাই…আর আপনাদের সমস্যা সমাধান করতে চাই।

এই মন্তব্য আসলে এরদোগানের বর্তমান বাসভবনকে কটাক্ষ করেই করা হয়েছে।

২০১৪ সালে এরদোগান যখন প্রধানমন্ত্রী থেকে প্রেসিডেন্ট হন, তখন আঙ্কারার ঠিক বাইরে বিশাল এক প্রাসাদে তার বাসভবন স্থানান্তর করেন।

তুরস্কের মানুষের মতামত এই মুহূর্তে দুই মেরুতে রয়েছে। প্রেসিডেন্ট এরদোগান তার ধর্মীয়ভাবে রক্ষণশীল ও জাতীয়তাবাদী সমর্থকদের ওপর নির্ভরশীল।

অন্যদিকে, বিরোধী নেতা কিলিচদারুলুর সমর্থকরা মূলত ধর্ম নিরপেক্ষ- তবে তাদের মধ্যে অনেক জাতীয়তাবাদী মনোভাবের সমর্থকও রয়েছেন।

দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনের আগে টানা কয়েক দিন ধরে দুই ব্যক্তিই একে অপরকে খোঁচা দিয়ে মন্তব্য করেছেন।

কিলিচদারুলু প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন যে তিনি ভীতু, তাই নিরপেক্ষ নির্বাচন থেকে দূরে পালাচ্ছেন।

অন্যদিকে, এরদোগান তার প্রতিদ্বন্দ্বীর সাথে কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে তাকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

তবে এমন অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ থাকলেও শেষ পর্যন্ত নির্বাচনকে ঘিরে প্রধান ইস্যু ছিল জিনিসপত্রের লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি। তুরস্কে মূল্যস্ফীতির হার উঠেছে ৪৪ শতাংশে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এরদোগানের সুদের হার কমানোর নীতি পরিস্থিতিকে আরো খারাপ করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে তুরস্কের মুদ্রা লিরার দর ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ কমেছে এবং বিদেশী মুদ্রার চাহিদা বেড়েছে।

সেই সাথে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিদেশী মুদ্রার রিজার্ভ ২০০২ সালের পর থেকে প্রথমবার নেতিবাচক হয়েছে। এরদোগানের সময়কালে অর্থনীতির এই অবস্থা হওয়ার কারণে অনেকেই তার প্রশাসনের ওপর ক্ষুব্ধ।

কিন্তু এই জনসংখ্যারই একটা বড় অংশ আবার এরদোগানের ওপরই আস্থা রাখছেন। অনেকেই মনে করেন বিরোধী জোটের সাথে সন্ত্রাসবাদীদের সম্পর্ক রয়েছে, যেমনটা এরদোগান অভিযোগ করেছেন।

তবে তুরস্কের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিরোধী দল এইচডিডি পার্টি সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী পিকেকে’র সাথে কোনো ধরনের সম্পর্ক থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।

এই বিরোধী জোটেরই প্রধান দলের সাথে সন্ত্রাসবাদীদের সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

তবে, রোববারের নির্বাচনে যে দল বা জোটই জিতুক, তুরস্কের সংসদের দখল এরই মধ্যে এরদোগানের ইসলামপন্থী একে পার্টি এবং দক্ষিণপন্থী এমএইচপি পার্টির কাছে রয়েছে।

প্রথম ধাপের ভোটে এরদোগানের জোট ৪৯ দিশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। যদিও বিরোধী জোটের সাথে তার ভোটের ব্যবধান ছিল খুবই কম।

কিলিচদারুলু প্রথম ধাপে ভোট পেয়েছিলেন ৪৪ দশমিক ৯ শতাংশ, অর্থাৎ এরদোগানের সাথে তার ব্যবধান ছিল খুবই কম।

কিলিচদারুলুর প্রতি সমর্থন রয়েছে ছয়-দলীয় বিরোধী জোটের। তুর্কি জনগণকে তিনি আশার বাণী শুনিয়েছেন এবং স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

এরদোগান আবার নির্বাচিত হলে একটি নতুন ‘তুর্কি শতকের’ প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তার সমর্থকরা বলছেন, তিনি আরো উন্নয়ন, আরো শক্তিশালী এক তুরস্ক উপহার দেবেন।
সূত্র : বিবিসি

নির্বাচনে যারা বাধা দেবে তাদের প্রতিহত করব : কাদের

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতির বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, তারা বলেছে নির্বাচনে বাধা দিলে ভিসা নয়। আমাদেরও কথা এটা, এই নির্বাচনে যারা বাধা দেবে তাদের অবশ্যই প্রতিহত করব।

বৃহস্পতিবার (২৫ মে) জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে তার সমাধিতে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, স্পষ্ট করে আমরা একটা বলতে চাই, যারা আন্দোলনের নামে নির্বাচনকে সামনে রেখে বাসে আগুন দেয়, বাস ভাঙচুর করে, তারা পলিটিক্যাল ভায়োলেন্সে আছে। কাজেই তাদের খবর আছে।

তিনি বলেন, আমরা একটা কথা বারবার বলে আসছি। আমরা আগামী জাতীয় নির্বাচন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে, অবাধ সুষ্ঠুভাবে করব। একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে নির্বাচন কমিশনকে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।

কবি নজরুলের চেতনা সম্পর্কে সেতুমন্ত্রী বলেন, কবি কাজী নজরুল ইসলামের অসাম্প্রদায়িক মানবতাবাদী চেতনায় আমরা উজ্জীবিত হতে চাই। আজ অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে গড়ে তোলার পথে অন্তরায় সৃষ্টিকারী সাম্প্রদায়িক বিশ্বাস, সাম্প্রদায়িকতার বিষবৃক্ষ এখনো বাংলাদেশে শাখা প্রশাখা বিস্তার করে আছে। আজকের এই দিনে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠন করব।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, এস এম কামাল হোসেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সবুর, দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়াসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

ফিলিস্তিনে ইসরাইলের হামলা : গুলিবিদ্ধ ১৩, গ্রেফতার ১৪

ফিলিস্তিনে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর হামলায় ১৩ ফিলিস্তিনি গুলিবিদ্ধ হয়েছে। গ্রেফতার হয়েছে আরো ১৪ জন। আজ বৃহস্পতিবার আরিহার আকাবায়ে জাবের ক্যাম্পে এ অভিযান চালানো হয়। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরাইলি সেনাবাহিনী ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আকাবায়ে জাবের ক্যাম্পে হামলা চালায়। এ সময় তারা ক্যাম্পের প্রবেশপথ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে মাটির ঢিবি দিয়ে বন্ধ করে দেয়। নাগরিকদের ক্যাম্প থেকে বের হতে দেয়নি। বাইরে থেকে মানবাধিকারকর্মীদেরকেও প্রবেশের অনুমতি দেয়নি।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, এরপর তারা অন্তত ৫০টি ঘরে তল্লাশি চালায়। এ সময় তারা আরিহার গভর্নরের বাসভবনও বাদ রাখেনি। তারা স্থানীয় সিসি ক্যামেরাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেয়। সেখান থেকে ধারণকৃত অনেক ভিডিও ডিলেট করে দেয়।

ফিলিস্তিনি সংবাদমাধ্যম ওয়াফা প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে বর্ণনা করেছে, ইসরাইলি সেনাবাহিনী ক্যাম্পে প্রবেশ করে নাগরিকদের উদ্দেশ করে গুলি ও বিষাক্ত গ্যাস নিক্ষেপ করতে শুরু করে। এতে ১৩ ফিলিস্তিনি গুলিবিদ্ধ হন। তাদের একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, এ পর্যন্ত ক্যাম্পটিতে কয়েকবার অভিযান চালানো হয়েছে। এতে বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরো অনেক।

জাতিসঙ্ঘে ফিলিস্তিনি প্রতিনিধি রিয়াজ মানসুর ইসরাইলী আগ্রাসন বন্ধে যাবতীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। এ পর্যন্ত তিনি সংস্থাটির মহাসচিত অ্যান্তনি গুতরেস, নিরাপত্তা পরিষদ সভাপতি ও সাধারণ পরিষদ সভাপতি বরাবর তিনটি চিঠি লিখেছেন।

এসব চিঠিতে তিনি ইসরাইলিদের অভিবাসন তৎপরতা ও বেসামরিক নাগরিকদের জোরপূর্বক উচ্ছেদসহ পূর্ণ পরিস্থিতি অবহিত করেছেন। তুলে ধরেছেন আন্তর্জাতিক নীতি ভঙ্গন করে কিভাবে ইসরাইল আকসা মসজিদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেছে।

তিনি উল্লেখ করেন, ইসরাইলের চরমপন্থী মন্ত্রী ইতিমার বিন গাফির গত রোববার ইসরাইলি পুলিশের কঠোর নিরাপত্তায় আকসা মসজিদে অনুপ্রবেশ করেন। এরপর থেকেই সেখানে পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে থাকে।

এ সময় তিনি অধিকৃত ফিলিস্তিন ও আকসা মসজিদে ইসরাইলের যেকোনো পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যানের দাবি জানিয়ে নিরাপত্তা পরিষদকে বিবৃত দেয়ার অনুরোধ জানান। একইসাথে ইসরাইলকে আন্তর্জাতিক আইন ও আকসা মসজিদের ঐতিহাসিক সম্মান রক্ষার প্রতি আহ্বান জানান।

সূত্র : ওয়াফা/আল জাজিরা মুবাশ্বির ও অন্যান্য

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নীতি নিয়ে যা বললেন আমীর খসরু

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশের নির্বাচনকে সামনে রেখে যে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা তার প্রতিফলন হিসেবে এগুলো হচ্ছে। অন্যদের বা অন্য দেশের নির্বাচনগুলো নিয়ে এত উদ্বেগ ও আলোচনা হচ্ছে না। আমাদের প্রতিবেশী চার পাঁচটি দেশের নির্বাচনে নিয়ে তো আলোচনা হচ্ছে না। এই স্টেটমেন্টটা কিন্তু শুধু বাংলাদেশের জন্য দেয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে গুলশান বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

আমীর খসরু বলেন, বাংলাদেশের মানুষ তাদের জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারবে কিনা- এই শঙ্কা থেকেই তো বিষয়গুলো উঠে আসছে। এবং তার মধ্যে এটা একটা পদক্ষেপ। যেটা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আসছে। সেটা হচ্ছে, আগামী দিনে এ দেশের জনগণ নির্বাচনে ভোট দিতে পারবে কিনা? নাকি তারা আবারো বঞ্চিত হবে ভোট থেকে?

তিনি বলেন, এই স্টেটমেন্টটা তারা (যুক্তরাষ্ট্র) কিন্তু শুধু বাংলাদেশের জন্য দিয়েছে। শুধুমাত্র বাংলাদেশের সংগঠনগুলোকে ও ব্যক্তিবর্গ, যারা নির্বাচনকে বাঞ্চল করার জন্য, ভোট কেন্দ্র দখল করার জন্য, ভোট চুরির মাধ্যমে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সাথে সরাসরি জড়িত থাকবে তাদের এড্রেস করা হয়েছে। এখানে সংবাদ মাধ্যমের কথা বলেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কথা বলেছে, রাজনৈতিক ব্যক্তির কথা বলেছে, সরকারি কর্মকর্তাদের কথা বলেছে, যারা নির্বাচনের ভোট চুরি সাথে সরাসরি অথবা ইনডাইরেক্টলি জড়িত থাকবে- এটা তাদের জন্য। তাদের ভিসা বাতিল হবে এবং আমেরিকাতে তাদের কোনো ভিসা দেয়া হবে না। বিষয়টা নির্বাচনের দিন শুধু ভোট চুরির জন্য নয় কিন্তু। এখনো ভোট চুরি চলছে। প্রতিনিয়ত মিথ্যা মামলা, গ্রেফতার, হয়রানি এগুলোও তো ভোট চুরি। গুলি করে হত্যা করাটাও তো ভোট চুরি। তারা (যুক্তরাষ্ট্র) জিনিসটাকে ওইভাবেও এড্রেস করেছে। আগামী নির্বাচনে সম্পৃক্ততা জড়িত যে সংগঠন, ব্যক্তি হিসেবে সবাইকে এড্রেস করেছে। এটা ইঙ্গিত দিয়েছে যারা যারা জড়িত থাকবে। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, তারা এখন থেকে বিষয়টা এপ্লাই করেছে।

এটা আপনাদের সফলতা কি না এমন প্রশ্নে খসরু বলেন, এখানে আমাদের সফলতা বলতে কিছু নেই। বাংলাদেশের মানুষ যেদিন ভোট দিতে পারবে। ভোট দিয়ে তাদের জনপ্রতিনিধি ও তাদের সরকার নির্বাচিত করতে পারবে। সেটা হবে বাংলাদেশের মানুষের সফলতা। সেই উদ্দেশ্যে অনেকগুলো পদক্ষেপের মধ্যে এটা হয়ত একটা ভালো পদক্ষেপ। এবং দেশবাসী এটাকে সাদরে গ্রহণ করেছে। এদের মাধ্যমে তারা আশা করছে, যারা ভোট চুরি সম্পৃক্ত থাকে সেটা আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে হোক, বিচার বিভাগে হোক, মিডিয়াতে বা গণমাধ্যমে হোক, সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে হোক সকলের প্রতি একটা পরিষ্কার বার্তা। এর থেকে পরিষ্কার বার্তা কিন্তু আর হতে পারে না। তারা নাম ধরে ধরে বলছে।

তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন বাংলাদেশের মানুষকে অর্জন করতে হবে। এটা আমাদের মুক্তির দাবি। আগামী দিনে বাংলাদেশের গণতন্ত্র থাকবে কি না? মানবাধিকার থাকবে কি না? গণমাধ্যমে স্বাধীনতা, জীবনের নিরাপত্তা, মুক্তির সংগ্রামের পথে এটা একটা পদক্ষেপ। অনেকগুলো পদক্ষেপ দিতে হবে, যাতে তারা আগামীতে ভোট চুরি করে জোর করে ক্ষমতায় না থাকতে পারে।

তিনি আরো বলেন, আগামী নির্বাচনে যারা ভোট চুরি করবে বা নির্দেশ দেবে, শুধু তারাই নয়। তার পরিবারের সদস্যরাও কিন্তু এ ভিসা থেকে বঞ্চিত হবে। এবং বাতিল করা হবে।

আমীর খসরু বলেন, যেহেতু এই মুহূর্তে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ নেই। নির্বাচন তো পরের কথা। নির্বাচনের পরিবেশ থাকতে হবে লেবেল প্লেয়িং করতে হবে। মানবাধিকার, আইনের শাসন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা থাকতে হবে। আমাদের জনসভায়, রেলিতে মানববন্ধনে বাধা দেয়ার কারণেই তো এই প্রশ্নগুলো আসছে বার বার। যেহেতু এই মুহূর্তে বাংলাদেশের জনগণ তাদের কথা বলতে পারছে না। বাক স্বাধীনতা নেই। জীবনে নিরাপত্তা নেই। আইনের শাসন নেই। সভা মিছিল করতে পারছে না। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকার ভয়ভীতি পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। ভোটের আগে থেকে ভোট শুরুর প্রক্রিয়া চলতেছে। ভোট চুরি অলরেডি বাংলাদেশে চলছে।

বাংলাদেশে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এমন সিদ্ধান্তে সরকার উদ্বিগ্ন নয়, ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে- এ ব্যাপারে জানতে চাইলে খসরু বলেন, ভালো কথা। আইনের শাসন, বাক স্বাধীনতা, ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। উদ্বিগ্ন হতে হবে, উদ্বিগ্ন নয় বললে তো আর হবে না।

খসরু মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের এমন পদক্ষেপ আগামী দিনের নির্বাচনে সহায়ক পদক্ষেপ হিসেবে ভূমিকা পালন করবে। কিন্তু এটা একটা সিগনাল, একটা বার্তা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামা ওবায়েদ, মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।

মামুনুল হক ৫ মামলায় জামিন পেলেন

রাজধানীর পল্টন ও চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানায় দায়ের করা নাশকতার পাঁচ মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন হেফাজতে ইসলামের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক।
আজ বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি আমিনুল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।

মামনুল হকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন মোল্লা এ তথ্য জানিয়েছেন।

আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন মোল্লা। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শাহীন আহমেদ খান।

উল্লেখ্য, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদকে ঘিরে আন্দোলনের জেরে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ বায়তুল মোকাররমে সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনার জেরে চট্টগ্রামের হাটহাজারী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সহিংসতায় কমপক্ষে ১৭ জনের মৃত্যু হয়। এসব ঘটনায় ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে মামুনুল হকের বিরুদ্ধে তিন ডজন মামলা হয়।

একই বছরের ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও রয়েল রিসোর্টে এক নারীর সাথে অবস্থান করায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মামুনুল হককে ঘেরাও করেন। পরে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা এসে রিসোর্টে ভাঙচুর চালিয়ে তাকে নিয়ে যান। ৩০ এপ্রিল সোনারগাঁ থানায় মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেন তার সাথে থাকা ওই নারী। কিন্তু মামুনুল হকের দাবি, ওই নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী।

বাংলাদেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা উন্নয়নশীল দেশের ক্ষেত্রে উদাহরণ : তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বাংলাদেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বিস্তৃতি উন্নয়নশীল দেশের ক্ষেত্রে একটি উদাহরণ।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মুক্ত গণমাধ্যমে বিশ্বাস করি, গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি। প্রতিবেশী অনেক দেশেই গণমাধ্যমের এ রকম বিস্তৃতি ঘটেনি এবং এমন অবাধ স্বাধীনতার মধ্য দিয়ে কাজ করে না।’

তিনি আরো বলেন, স্বাধীনতার সাথে দায়িত্বশীলতাকে যোগ করতে হয়, তাহলেই গণমাধ্যম সঠিকভাবে পরিচালিত হয়। আর যদি স্বাধীনতার সাথে দায়িত্বশীলতা না থাকে, তাহলে অনেক ক্ষেত্রে সমাজের ক্ষতি হয়, রাষ্ট্রেরও ক্ষতি হয়।

তথ্যমন্ত্রী বুধবার দুপুরে রাজধানীর তোপখানা রোডে জাতীয় প্রেসক্লাবে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাব আয়োজিত ‘মানবাধিকার সংরক্ষণ ও গণতন্ত্র সম্প্রসারণে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে দৈনিক যুগান্তর সম্পাদক সাইফুল আলম, দৈনিক সমকাল সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, জাতীয় প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক মো: আইয়ুব ভূঁইয়া প্রমুখ তাদের আলোচনায় দেশে গণমাধ্যমের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পথযাত্রা নিয়ে বক্তব্য রাখেন।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। গণতন্ত্র এবং গণমাধ্যম একে অপরের পরিপূরক। গণমাধ্যম ব্যতিরেকে গণতন্ত্র হতে পারে না। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বচ্ছতা ব্যতিরেকে গণতন্ত্র কখনো পথ চলতে পারে না, গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা টিকে থাকতে পারে না। সে কারণে গণতন্ত্রকে সংহত করতে হলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অবশ্যই প্রয়োজন।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার গণতন্ত্র ও বহুমাত্রিক সমাজ ব্যবস্থার বিকাশ, ন্যায়ভিত্তিক-বিতর্কভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা কায়েম করার লক্ষে গণমাধ্যমের বিস্তৃতি এবং স্বাধীনতার ওপর জোর দিয়েছে, উল্লেখ করে পরিসংখ্যান দিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘গত ১৪ বছরে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনসহ সম্প্রচারে আসা টেলিভিশন চ্যানেলের সংখ্যা ৩৯টি, খুব সহসা আরো কয়েকটি সম্প্রচারে আসবে। বেসরকারি টেলিভিশন এবং বেতারের যাত্রাও শুরু হয়েছিল জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে। আমরা যখন ২০০৯ সালে সরকার গঠন করি, তখন টিভি চ্যানেল ছিল ১০টি আর দৈনিক পত্রিকা ছিল ৪৫০, যা এখন ১২৬০। ২২টি বেসরকারি এফএম রেডিও-এর লাইসেন্স দেয়া হয়েছে, ১২টি সম্প্রচারে আছে, কয়েক ডজন কমিউনিটি রেডিও-এর লাইসেন্স দেয়া আছে, যার বেশিরভাগই সম্প্রচারে আছে। অনলাইন গণমাধ্যম কয় শত কিংবা কয় হাজার, সেটি একটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যাপার। ইতোমধ্যে দুই শতাধিক অনলাইন গণমাধ্যমের রেজিস্ট্রেশন দেয়া হয়েছে, পত্রিকা এবং টেলিভিশনের অনলাইনসহ সেটা আরো অনেক বেশি।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এর ফলে আজকে হাজার হাজার সাংবাদিক গণমাধ্যমে কাজ করছে। আজকে যারা বিদগ্ধ সাংবাদিক, তারা তাদের এই ‘ট্যালেন্ট’ প্রকাশ করার সুযোগ পেতেন না, যদি গণমাধ্যমের এমন ব্যাপক বিস্তৃতি না ঘটত। আশেপাশের দেশে গণমাধ্যমের এমন বিস্তৃতি ঘটেনি এবং এমন অবাধ স্বাধীনতার মধ্যে কাজ করে না। কয়েকটি ছাড়া প্রায় সকল টেলিভিশন আওয়ামী লীগ সরকারের হাত ধরেই অনুমোদন পেয়েছে। আর সকল টেলিভিশনে প্রতি দিন রাতের বেলায় টক শো’তে সরকারের সমালোচনা হয়। সংবাদ যখন প্রকাশ করা হয়, তখনও সরকারের ব্যাপক আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে সরকার কখনো হস্তক্ষেপ করে না। কারণ, আমরা মুক্ত গণমাধ্যমে বিশ্বাস করি, গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি।’

ড. হাছান বলেন, ‘আমরা কথায় কথায় সিঙ্গাপুরের উদাহরণ দেই, একটি জেলে পল্লী থেকে কিভাবে সিঙ্গাপুর উন্নত দেশে রূপান্তরিত হলো। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত প্রায় সব দেশের চেয়ে সিঙ্গাপুরের মাথাপিছু আয় বেশি। সিঙ্গাপুরের চারটি চ্যানেল রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পত্রিকাও রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত। থাইল্যান্ডে সব টেলিভিশন চ্যানেল ফিড একটা জায়গা থেকে আপলিংক করা হয়। কোনো কনটেন্ট পছন্দনীয় না হলে তা অফ করে দিয়ে বিজ্ঞাপন বা অন্য কিছু দেওয়া হয়। আমাদের দেশে তা নয়। মালয়েশিয়ার শিক্ষার্থীরা ৮০ দশক পর্যন্ত আমাদের দেশে পড়তে আসতো। এখন আমাদের ছেলেমেয়েরা সেখানে যাচ্ছে। তারা কিভাবে এই জায়গায় এলো সেটি একটি বিস্ময়। সেখানে গণমাধ্যমের এই স্বাধীনতা নাই, বিস্তৃতিও নাই।’

ইউরোপের দেশগুলোর উদাহরণ দিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গণতন্ত্রের প্রসঙ্গে অনেক ক্ষেত্রে আমরা যুক্তরাজ্যকে অনুসরণের চেষ্টা করি। সেখানে প্রতি সপ্তাহে ভুল বা অসত্য সংবাদ পরিবেশন কিংবা কারো ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নষ্ট হওয়ার দায়ে গণমাধ্যমকে প্রতিনিয়ত মোটা অঙ্কের জরিমানা গুণতে হয়। বিবিসিতে একজন এমপির বিরুদ্ধে ভুল সংবাদ পরিবেশিত হওয়ার কারণে পুরো বিবিসি টিমকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। ১৩০ বছরের পুরনো পত্রিকা ‘নিউজ অব দ্যা ওয়ার্ল্ড’ একটি ভুল অসত্য সংবাদ পরিবেশনের কারণে কয়েক মিলিয়ন পাউন্ড জরিমানা পরিশোধ করতে গিয়ে দেউলিয়া হয়ে বন্ধ হয়ে গেছে। আমাদের দেশে এ ধরণের ঘটনা কখনো ঘটেনি। কন্টিনেন্টাল ইউরোপেও যুক্তরাজ্যের মতোই ভুল বা অসত্য সংবাদ পরিবেশনের কারণে গণমাধ্যমকে মোটা অঙ্কের জরিমানা গুণতে হয়, শাস্তি পেতে হয়।’

‘পত্রিকায় পুঁজির দৌরাত্ম্য আজকে দেশে একটা সমস্যা’ উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘যখন সংবাদ মাধ্যমে পুঁজি বিনিয়োগ হয়, সেই পুঁজির দৌরাত্ম্য সাংবাদিকদের ওপর খড়গ বসায়, তাদের কাজে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়। সরকারের পক্ষ থেকে কী প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে, সেটি নিয়ে আমরা সবসময় আলোচনা করি। কিন্তু আমি মনে করি, সুস্থভাবে, অবাধে, ভয়হীন পরিবেশে কাজ করার ক্ষেত্রে মালিক পক্ষের পুঁজির দৌরাত্ম্য একটি বড় প্রতিবন্ধকতা। কয়েকজন সাংবাদিক নেতা প্রশ্ন রেখেছেন, ব্যাংকের মতো সংবাদ মাধ্যমের পরিচালনা পর্ষদে কেন সাংবাদিকদের প্রতিনিধিত্ব থাকবে না, ইন্ডিপেনডেন্ট ডিরেক্টর থাকবে না!’

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি সব সময় বলেছি, আজকেও বলব, একজন সাংবাদিক, গৃহিনী, চাকরিজীবী, কৃষক অর্থাৎ সর্বক্ষেত্রে সব মানুষকে ডিজিটাল নিরাপত্তা দেয়ার জন্যই এই আইন। অনেক সাংবাদিকও এই আইনে ডিজিটাল নিরাপত্তার জন্য অপসাংবাদিকতার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। ক’দিন আগে একজন নারী সাংবাদিক তার চরিত্র হননের প্রতিকারের জন্য এই আইনে আরেক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।’

হাছান বলেন, ‘আজকের আলোচনায় সাংবাদিকরাও বলেছেন, এ আইনের প্রয়োজন রয়েছে। এ ধরণের আইন আজকে পৃথিবীর প্রায় সব দেশ প্রণয়ন করেছে। অনেক দেশে এই আইন আমাদের চেয়ে কঠোর। যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্য ছাড়া অন্যগুলোতে ফাঁসি নেই। কিন্তু সেখানে ডিজিটাল অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। যুক্তরাজ্যের লোকসংখ্যা আমাদের তিন ভাগের এক ভাগ, ছয় কোটির একটু বেশি। সেখানে প্রতি মাসে কয়েক ডজন মানুষ গ্রেফতার হয়। আমাদের দেশে হয় না। একজন গ্রেফতার হলে সেটা পত্রিকায় শিরোনাম হয়।’

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘একইসাথে অবশ্যই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপপ্রয়োগ বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। কারণে-অকারণে মামলা ঠুকে দেয়া, সাথে সাথে আবার গ্রেফতার করা- এগুলো অবশ্যই বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। সে ব্যাপারে আমি একমত। কোনো একটা গোষ্ঠীকে কোনো আইন থেকে বাদ দেয়া সেটি সমীচীন হয়। কিন্তু কোনো আইনের যেন অপপ্রয়োগ না হয় বা কারো ওপর অপপ্রয়োগ না হয়, সেটি আমাদের নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আগের তুলনায় অপপ্রয়োগ কমেছে, অপপ্রয়োগটা শূন্যের কোটায় নিয়ে আসা প্রয়োজন।’

সূত্র : বাসস

পুতিনকে হত্যার চেষ্টা করেছে কিয়েভ : রাশিয়া

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে হত্যার উদ্দেশে ক্রেমলিনে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। বুধবার (৩ মে) রাশিয়ার পক্ষ থেকে এই অভিযোগ জানানো হয়েছে।

ক্রেমলিন বলেছে, হামলায় দু’টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। তবে রুশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ড্রোন দু’টিকে অকার্যকর করে দিয়েছে।

রুশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ঘটনায় পুতিন সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছেন। ঘটনার সময় প্রেসিডেন্ট পুতিন ক্রেমলিনে ছিলেন না। এ হামলায় ক্রেমলিনের কোনো ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।

ক্রেমলিন সতর্ক করে জানিয়েছে, রাশিয়া প্রতিশোধ নেয়ার অধিকার রাখে এবং এটিকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বিবেচনা করছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রাতে ক্রেমলিন থেকে ধোঁয়া বেরিয়ে আসছে। তবে এই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করা যায়নি বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান। দ্বিতীয় একটি ভিডিওতে ক্রেমলিনের ভেতরে একটি ভবনের ছাদে আগুন জ্বলতে দেখা যায়।

তবে এই হামলার বিষয়ে ইউক্রেন এখন পর্যন্ত কোনো দাবি জানায়নি।

সূত্র : বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান ও আল জাজিরা

খালেদা জিয়াকে হাসপাতালেই থাকতে হচ্ছে

আজ বুধবার রাতেই এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরার সম্ভাবনা ছিল বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার। কিন্তু তার মেডিক্যাল বোর্ডের সিদ্ধান্তের পর জানা যায়, চিকিৎসার প্রয়োজনে তাকে হাসপাতালেই থাকতে হচ্ছে।

এ বিষয় বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবিরের কাছে জানতে চাইলে তিনি নয়া দিগন্তকে বলেন, আজ সন্ধ্যায় ম্যাডামের মেডিক্যাল বোর্ড বৈঠকে বসেছিল। বোর্ড থেকে সিদ্ধান্ত এসেছে তাকে হাসপাতালে থাকতে হবে। ম্যাডামের বাসায় ফেরার বিষয়টি কত দিন লাগতে পারে, তা বলা যাচ্ছে না।

এভারকেয়ারে হাসপাতালের ৭২২৩ নম্বর কেবিনে ভর্তি আছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। চিকিৎসকের পরামর্শ ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে আছেন তিনি।

গত ২৯ এপ্রিল নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ওই নিয়মিত চেকআপ করার পর বাসায় ফেরার কথা থাকলেও তার মেডিক্যাল বোর্ডের সিদ্ধান্তে রাতেই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এর আগে গত বছরের জুনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া হার্টের তিনটি ব্লক ধরা পড়ে । তার একটি ব্লকে রিং পরানো হয়েছে।

খালেদা জিয়া বহু বছর ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, দাঁত ও চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। ২০২১ সালের এপ্রিলে তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। নানা শারীরিক জটিলতায় ওই বছরের ২৭ এপ্রিল খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

একপর্যায়ে তাকে সিসিইউতে নেয়া হয়। প্রায় দুই মাস তিনি সিসিইউতে ছিলেন। ১৯ জুন বাসায় ফেরেন। এর মধ্যে করোনার টিকা নেয়ার জন্য খালেদা জিয়া দুই দফায় মহাখালীর শেখ রাসেল ন্যাশনাল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতালে যান। ১৯ জুলাই করোনার প্রথম ডোজ টিকা নেয়ার পর ১৮ আগস্ট দ্বিতীয় ডোজ টিকা নেন তিনি।

গত বছর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তার ‘পরিপাকতন্ত্রে’ রক্তক্ষরণ এবং লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হওয়ার কথাও জানান চিকিৎসকরা।

দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হয়ে খালেদা জিয়া ২০০৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে যান। করোনা মহামারীর প্রেক্ষাপটে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ সরকার শর্ত সাপেক্ষে তাকে সাময়িক মুক্তি দেয়। এ পর্যন্ত ছয় দফায় খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। ফলে তিনি তার গুলশানের বাসায় অবস্থান করছেন।

উল্লেখ্য, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকায় এভারকেয়ার হাসপাতালে যান বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

এক যুগ পর ভারতে আসছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি বৃহস্পতিবার সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) বৈঠকে যোগ দিতে ভারতের গোয়াতে এসে পৌঁছাবেন। প্রায় এক যুগের মধ্যে এই প্রথম কোনো পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারত সফরে আসছেন।

বৃহস্পতি ও শুক্রবার (৪ ও ৫ মে) ভারতের গোয়াতে এসসিওভুক্ত দেশগুলির পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠকে বসবেন। যেখানে ভারত ও পাকিস্তান ছাড়াও চীন, রাশিয়া এবং মধ্য এশিয়ার আরও চারটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা থাকছেন।

এসসিও জোটের বর্তমান চেয়ার ভারত, ফলে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করই এই বৈঠকের হোস্ট।

তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এই সম্মেলনের অবকাশে (‘সাইডলাইনে’) ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কোনো দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে না বলেই জানা যাচ্ছে।

পাকিস্তান সরকারও ইতোমধ্যেই স্পষ্ট করে দিয়েছে, বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির এই সফর হবে পুরোপুরি এসসিও ফ্রেমওয়ার্কের মধ্যে, এর সাথে ভারত-পাকিস্তান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক কোনোভাবে জড়িত নয়।

তবু সাম্প্রতিককালে কথিত জঙ্গী অনুপ্রবেশের ইস্যুতে দু‘দেশের সম্পর্ক যেরকম তলানিতে এসে ঠেকেছে, সেই পটভূমিতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সশরীরে ভারতে আসাটাকেই খুব গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছেন অনেক পর্যবেক্ষক।

গোয়ার সমুদ্রতটে বিলাওয়াল ভুট্টোর এই সফর দু‘দেশের সম্পর্কের বরফ গলাতে সাহায্য করবে কি না, তা নিয়েও নানা মহলে জল্পনা চলছে।

গোয়াতে যা যা ঘটবে
বৃহস্পতিবার (৪ মে) স্থানীয় সময় বেলা ২টার দিকে পাকিস্তানের করাচি থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি ও তার প্রতিনিধিদলকে নিয়ে একটি বিশেষ বিমান গোয়ার উদ্দেশে রওনা দেবে।

ভারতীয় সময় বিকেল ৫টার আগেই তার গোয়ায় পৌঁছে যাওয়ার কথা। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তথা সম্মেলনের হোস্ট এস জয়শঙ্কর বুধবারই সেখানে পৌঁছে গেছেন।

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী চিন গাং, রাশিয়ার সের্গেই লাভরভ এবং কাজাখস্তান, কিরঘিস্তান, তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও অল্প আগে-পরে একে একে গোয়াতে এসে নামবেন।

অতিথি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মানে কাল সন্ধ্যায় আরব সাগরের তীরে গোয়ার একটি সমুদ্রসৈকতে ‘গ্যালা ডিনার’ বা রাজসিক নৈশভোজের আয়োজন করেছে ভারত।

তবে এস জয়শঙ্করের আমন্ত্রণ গ্রহণ করে সেই নৈশভোজে জারদারি যোগ দেবেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে পাকিস্তানের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিনা রাব্বানি খার ভারত সফরে এসেছিলেন। সে দেশের কোনো পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সেটাই শেষবারের মতো ভারতে আসা।

দিল্লিতে বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আডভানির সাথে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিনা রাব্বানি খার। জুলাই, ২০১১

ঘটনাচক্রে সেই হিনা রাব্বানি খারই এখন পাকিস্তানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, সেই সুবাদে এবারের প্রতিনিধিদলেও তিনি থাকছেন।

এসসিও জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মূল বৈঠকটি হবে শুক্রবার (৫ মে), যেখানে আফগানিস্তান আলোচনার একটা বড় অংশ জুড়ে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আয়োজক দেশ ভারতের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে, তালেবান শাসনের অধীনে আফগানিস্তান যাতে আরো একবার সন্ত্রাসবাদের আঁতুরঘরে পরিণত না-হয় এসসিও জোটের দেশগুলোর যৌথভাবে সেই লক্ষ্যেই কাজ করা দরকার।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে প্রভাব?
তবে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা যেহেতু বহু বছর ধরে বন্ধ এবং সেই পটভূমিতেই পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বহুকাল পর ভারতে আসছেন, ফলে গোয়ার সম্মেলন দিল্লি ও ইসলামাবাদের সম্পর্কে কী প্রভাব ফেলে সে দিকেও পর্যবেক্ষকদের তীক্ষ্ণ নজর থাকবে।

গত ডিসেম্বরেই বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ‘গুজরাটের কসাই’ বলে বর্ণনা করার পর এস জয়শঙ্করও জারদারিকে কঠোর ভাষায় পাল্টা আক্রমণ করেছিলেন।

২০১৬-তে জম্মু ও কাশ্মীরের উরিতে ও ২০১৯ সালে পুলওয়ামায় ভারতের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর বিধ্বংসী হামলার জন্যও ভারত পাকিস্তান থেকে আসা উগ্রবাদীদেরই দায়ী করেছিল, সীমান্তের অন্য পারে ও বেশ দূরের বালাকোটে পর্যন্ত অভিযান চালিয়েছিল।

এই মারাত্মক তিক্ততার পরিবেশের মধ্যেও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যে শেষ পর্যন্ত ভারতে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এটাকেই বেশ বড় পদক্ষেপ বলে মনে করছেন দু‘দেশের অনেক বিশ্লেষক।

ভারতের সাবেক কূটনীতিবিদ ও প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত অনিল ত্রিগুনায়াতের মতে গোয়ার বৈঠক থেকে নাটকীয় কোনো ফল হয়ত আশা করা উচিত নয়, তবে দু‘দেশের সম্পর্ককে কিছুটা স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে সেখানে অগ্রগতি হতে পারে।

ত্রিগুনায়াতের কথায়, ‘এসসিও পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলন যদি কোনো তিক্ততা ছাড়াই শেষ হয়, তাহলে হয়ত আমরা দেখব আগামী জুলাই মাসে এসসিও শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতেও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ভারতে আসছেন।’

পাকিস্তানের প্রথম সারির ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য ডন’ লিখেছে, ‘ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংলাপের প্রক্রিয়া প্রতীকী স্তরে হলেও নতুন করে আবার শুরু করার একটা সুযোগ এনে দিয়েছে গোয়ার এই সম্মেলন।’

যদিও এসসিও প্ল্যাটফর্মে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার অবকাশ কম, ‘দ্য ডনের’ মতে গোয়াতে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে সৌজন্য বিনিময় হলেও তাতে সম্পর্কের তিক্ততা কিছুটা প্রশমিত হতে পারে।

তবে একই সাথে তারা মন্তব্য করেছে, ইসলামাবাদে নতুন একটি সরকার ক্ষমতায় আসলে এবং ভারতে আগামী বছরের সাধারণ নির্বাচনের পরই কেবল দু‘দেশের মধ্যে ‘সত্যিকারের শান্তি প্রক্রিয়া’ শুরু হওয়া সম্ভব।

দিল্লিতে নামী স্ট্র্যাটেজিক বিশ্লেষক সি রাজামোহন আবার মনে করছেন, গোয়াতে বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির সফর নিয়ে মিডিয়াতে হয়ত তুমুল আলোড়ন হবে, কিন্তু এতে দু‘দেশের সম্পর্কে তেমন কোনো প্রভাব পড়ার কারণ নেই।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকায় এক নিবন্ধে তিনি লিখেছেন, ‘বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিদেশী শক্তিগুলোর সাথে পাকিস্তানের কী ধরনের সম্পর্ক রাখা উচিত, তা নিয়ে সে দেশের ভেতরেই তীব্র মতবিরোধ ও বিভাজন আছে।’

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতিতে এ বিষয়ে যতক্ষণ না মতৈক্য প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত ‘রাওয়ালপিন্ডিতে সে দেশের সামরিক নেতৃত্বের সাথে পর্দার আড়ালে যোগাযোগ রেখে চলা ছাড়া’ ভারতের বিশেষ কিছু করারও নেই বলে রাজামোহনের অভিমত।

সূত্র : বিবিসি