Home Blog Page 77

প্রেম-গোপন বাগদানের গুঞ্জন অতীত, ২২ বছর পর ফিরছে পুরনো জুটি

দীর্ঘ ২২ বছর পর আবারও বড় পর্দায় একসঙ্গে দেখা যাবে বলিউডের জনপ্রিয় জুটি অক্ষয় কুমার ও রাভিনা ট্যান্ডনকে। আসন্ন চলচ্চিত্র ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’ এ তাদের পুনর্মিলনকে দর্শকদের জন্য ‘ফ্যান সার্ভিস’ বলে আখ্যা দিয়েছেন পরিচালক আহমেদ খান।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে আহমেদ খান বলেন, অক্ষয় ও রাভিনাকে আবার একসঙ্গে পর্দায় দেখতে চেয়েছিলেন দর্শকরা। সেই ইচ্ছা পূরণ করতেই তাদের কাস্ট করা হয়েছে। তার ভাষায়, ‘দর্শক যখন তাদের আবার একসঙ্গে দেখতে চান, তখন সেই চাহিদা পূরণ করা যেতেই পারে। এটাও এক ধরনের ফ্যান সার্ভিস।’

১৯৯০-এর দশকে বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অনস্ক্রিন জুটি ছিলেন অক্ষয় ও রাভিনা। বিশেষ করে ‘মোহরা’ সিনেমায় তাদের রসায়ন দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। সর্বশেষ ২০০৪ সালে ‘পুলিশ ফোর্স: এন ইনসাইড স্টোরিতে একসঙ্গে অভিনয় করেছিলেন তারা।

অক্ষয় কুমার, রাভিনা ট্যান্ডন

অক্ষয় কুমার, রাভিনা ট্যান্ডন

অতীতে ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়েও এই জুটি বহুবার আলোচনায় এসেছে। সে সময় তাদের প্রেম ও গোপন বাগদানের গুঞ্জনও শোনা গিয়েছিল। তবে পরবর্তীতে দুজনই আলাদা পথে হাঁটেন। বর্তমানে অক্ষয় কুমার  টুইঙ্কেল খান্নাকে, আর ব্যবসায়ী অনিল থাডানিকে বিয়ে করেন রাভিনা ট্যান্ডন।

আহমেদ খান জানান, রাভিনাকে ছবির প্রস্তাব দেওয়ার সময় অক্ষয়ের উপস্থিতি নিয়ে তার কোনো দ্বিধা ছিল না। বরং তিনি বলেছিলেন, ‘তাতে কী? আমরা সবাই পেশাদার শিল্পী, পরিণত মানুষ এবং বন্ধু। সেটে দারুণ সময় কাটবে।’

পরিচালকের দাবি, সিনেমার একটি নাচের দৃশ্যে অক্ষয় ও রাভিনা একসঙ্গে পারফর্ম করার সময় পুরো ইউনিট করতালি দিয়ে তাদের স্বাগত জানায়। ওই সময় সুনীল শেঠি মজা করে মন্তব্য করেন, ‘মোহরার জুটি এসে গেছে!’

অক্ষয় কুমার, রাভিনা ট্যান্ডন ও সুনীল শেঠি। ছবি: ইন্সটাগ্রাম

অক্ষয় কুমার, রাভিনা ট্যান্ডন ও সুনীল শেঠি। ছবি: ইন্সটাগ্রাম

শুটিংয়ের সময় পুরোনো দিনের স্মৃতিচারণও করেছেন অক্ষয় ও রাভিনা। নিজেদের সন্তানদের নিয়ে গল্প করেছেন, পুরোনো কাজের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করেছেন এবং বন্ধুদের মতোই আড্ডা দিয়েছেন বলে জানান আহমেদ খান।

এর আগে রাভিনা ট্যান্ডন সামাজিক মাধ্যমে ‘মোহরা’ সিনেমার সেটের পুরোনো ছবি এবং নতুন সিনেমার শুটিংয়ের কিছু মুহূর্ত শেয়ার করে ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’ টিমকে শুভকামনা জানিয়েছিলেন।

সবকিছু ঠিক থাকলে ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’ আগামী ২৬ জুন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে।

সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন প্রধানমন্ত্রীর সফর বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম সফর বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে জানিয়েছেন তার উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেন, এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা, বন্ধুত্ব ও জনগণের সাথে জনগণের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় ও সুসংহত হয়েছে।

সফরে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে সংস্কৃতি বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো দুই দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং দীর্ঘদিনের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ককে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে আরও শক্তিশালী করা। এছাড়া বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও সন্ত্রাস দমনে ২টি কূটনৈতিক নোট বিনিময় করা হয়েছে।

সোমবার স্থানীয় সময় দুপুরে কুয়ালালামপুরের ‘শাংগ্রি লা’ হোটেলে প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান মাহদী আমিন।

মালয়েশিয়ার পাঁচটি বৃহৎ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পৃথক সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, সফরকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মালয়েশিয়ার পাঁচটি বৃহৎ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা পৃথকভাবে সাক্ষাৎ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে পেট্রোনাস, আজিয়াটা, এয়ারএশিয়া, পার্ডুয়া এবং এমএমসি পোর্ট।

স্বল্পসময়ের এই সফরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমে দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যেত একান্ত বৈঠক হয়। এরপর সীমিত পরিসরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে খোলামেলা আলোচনায় দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে। পরবর্তীতে ডেলিগেশন পর্যায়ে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৃহত্তর পরিসরে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ডেলিগেশন মধ্যাহ্নভোজে অংশগ্রহণ করেন। পরে মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান ইব্রাহিম সুলতান ইস্কান্দারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকসমূহে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়েও মতবিনিময় করা হয়। একইসাথে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।

দ্রুততার সঙ্গে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্তকরণের আহ্বান

মাহদী আমিন বলেন, স্বাভাবিকভাবেই জনগণের স্বার্থ প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রী তাঁর দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী এবং রাজার সঙ্গে শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন।

দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ঐক্যমত পোষণ করেছেন অভিবাসনের ক্ষেত্রে ব্যয় যত কমানো যায়, যত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় আনা যায় এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশে শ্রমিকদের সুরক্ষা যেন নিশ্চিত করা যায়। প্রধানমন্ত্রী সম্ভব হলে দ্রুততার সঙ্গে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশের জন্য পুনরায় উন্মুক্তকরণের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে স্বল্প অভিবাসন ব্যয়ে আরও বেশি সংখ্যক বাংলাদেশি শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণের আন্তরিক অনুরোধ জানিয়েছেন।

কারাগারে অন্তরীণ শ্রমিকদের নিয়ে আলোচনা

পাশাপাশি বিভিন্ন কারণে যেসব বাংলাদেশি শ্রমিক অবৈধ অবস্থায় রয়েছেন, কিংবা কারাগারে অন্তরীণ আছেন, তাঁদেরকে কীভাবে মানবিক ও সহানুভূতিশীল উপায়ে বৈধতার আওতায় আনা যায় অথবা প্রয়োজনে নিরাপদে দেশে ফেরত পাঠানো যায়, মালয়েশিয়ার বিদ্যমান আইন অনুযায়ী সে বিষয়েও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আন্তরিক অনুরোধ জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, উভয় বৈঠকে মালয়েশিয়ার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশি কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের প্রশংসা করা হয়। একইসাথে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার সম্পর্কোন্নয়নে প্রবাসী বাংলাদেশিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয় বৈঠকে।

জ্বালানি খাতে সহযোগিতা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে একমত

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, জ্বালানি খাতে সহযোগিতা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া একমত হয়েছে। বিশেষ করে এলএনজি, তেল-গ্যাস অনুসন্ধান এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগের বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের কীভাবে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও সম্মানজনকভাবে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন করা যায় এবং এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে মালয়েশিয়া কীভাবে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে পারে, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

মাহদী আমিন বলেন, একইভাবে, আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হিসেবে এবং রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ (আরসিইপি) এ বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে মালয়েশিয়া কিভাবে সহযোগিতা করতে পারে সে বিষয়ে আলোচনা হয়। ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায়সঙ্গত অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং মধ্যপ্রাচ্যে একটি স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সমাধান অর্জনের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি সংলাপ, কূটনৈতিক উদ্যোগ ও গঠনমূলক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তারা জাতিসংঘ ও ওআইসিসহ আন্তর্জাতিক ফোরামে পারস্পরিক সমন্বয় বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক আইন ও ন্যায়ভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় যৌথভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য নিরাপত্তা, মানবপাচার ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা জোরদারে দুই দেশের সরকার একত্রে কাজ করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাত নিয়ে আলোচনা

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, এবারের ঐতিহাসিক সফরে বাংলাদেশ এবং মালয়েশিয়ার মধ্যো অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ খাত নিয়ে আলোচনা হয়েছে। খাতগুলো হলো— রাজনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, হালাল শিল্প, ডিজিটাল অর্থনীতি, এআই এবং সেমিকন্ডাক্টর খাত, বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ এবং তাঁদের কল্যাণে সহযোগিতা, শিক্ষা ও পর্যটন খাতে সহযোগিতা, জ্বালানি খাত, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক সহায়তা সম্প্রসারণ। উল্লেখ্য্, সর্বমোট ৯টি বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেো দুই দেশের সম্মতিতে ৩৩ দফার একটি যৌথ বিবৃতি ইস্যুি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আজকের আলোচনায়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটাল অর্থনীতি, সাইবার নিরাপত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশের তথ্য প্রযুক্তি খাতে, বিশেষ করে প্রযুক্তি পার্ক ও অর্থনৈতিক অঞ্চলে, মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার ভূমিকার ভুয়সী প্রশংসা মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর

মাহদী আমিন বলেন, সভাশেষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর যৌথ প্রেস কনফারেন্স হয়েছে। এই যৌথ প্রেস কনফারেন্সে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের ইতিহাসে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকার ভুয়সী প্রশংসা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যে ত্যাগ ও সংগ্রাম রয়েছে, দেশের মানুষের অধিকার ও স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার জন্য, তা স্মরণ করেছেন। বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়ার যে ভিন্নমাত্রিক ঐতিহাসিক ভ্রাতৃত্বপূর্ণ এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে, তা স্মরণ করেন।

মাহদী আমিন বলেন, পারস্পরিক স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও কীভাবে শক্তিশালী করা যায় সে বিষয়ে দুই রাষ্ট্রনায়ক আলোচনা করেন। দুই দেশ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের লক্ষ্যে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে শিল্প ও ব্যবসা খাতে সহযোগিতা বাড়িয়ে নতুন কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরিতে দুই দেশ একসাথে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়। একই সাথে হালাল শিল্প ও হালাল ব্যবসার সম্ভাবনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ খাতে মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে হালাল পণ্য, সনদ প্রদান ব্যবস্থা, দক্ষ জনবল তৈরি এবং গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে তারা একমত হয়েছেন।

দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, মালয়েশিয়ায় বর্তমানে প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। বাংলাদেশ এবং মালয়েশিয়ার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে তাঁদের ইতিবাচক অবদানকে উভয় দেশ স্বীকৃতি দেয়। দুই দেশের সরকারপ্রধান শিক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা, বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অংশীদারিত্ব, যৌথ গবেষণা এবং কারিগরি ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা সম্প্রসারণে একমত পোষণ করেন। একই সঙ্গে কর্মবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন উভয় সরকার প্রধান।

তিনি বলেন, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার, সামরিক প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে উভয় দেশ একমত হন। পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় প্রশিক্ষণ এবং সক্ষমতা উন্নয়নের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

পর্যটন ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে কীভাবে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা যায় সে বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।

মাহদী আমিন বলেন, আজকের এই সফর কেবল একটি রাষ্ট্রীয় সফর নয়, এটি বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের এক ঐতিহাসিক অধ্যায় এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার এক নতুন দিগন্তের সূচনা। মাত্র ১৮ ঘণ্টার এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু অত্যন্ত ফলপ্রসূ সফরে যে আলোচনা, সমঝোতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে, তা আগামী দিনে দুই দেশের জন্য বহুমাত্রিক সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচন করবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি ও সুজন মাহমুদ।

প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী রোববার দুই দিনের সফরে মালয়েশিয়া আসেন। আজ সন্ধ্যায় মালয়েশিয়া থেকে চার দিনের সফরে চীনে যাবেন।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ. লীগের কর্মসূচি ৬ জেলায় সেনা মোতায়েন

দেশের ৬ জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। জেলাগুলো হলো- ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, গাজীপুর, চট্টগ্রাম ও ফরিদপুর।

আজ ২২ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত এসব জেলায় সেনাসদস্য মোতায়েন থাকবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-২ শাখা থেকে আজ সোমবার জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ কথা বলা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন সংগঠন কর্তৃক দেশের বিভিন্ন স্থানে বেআইনি মিছিল, শোডাউন ও অন্যান্য কর্মসূচির মাধ্যমে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার পাশাপাশি জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।’

এতে বলা হয়, ‘এমন অবস্থায়, ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকা, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকা, গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকা, নারায়ণগঞ্জ জেলা, গোপালগঞ্জ জেলা ও ফরিদপুর জেলার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত এবং জনগণের জানমালের সুরক্ষায় আজ ২২ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ এর আওতায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেনাসদস্য মোতায়েনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।’

চলন্ত বাইকে ইটের আঘাত বাঁচানো গেল না রাফিকে

রাজধানীর মিরপুরের কাফরুলে চলন্ত মোটরসাইকেল চালকের মাথায় ইট নিক্ষেপের ঘটনায় আহত সাজিদ চৌধুরী রাফি মারা গেছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সোমবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

কাফরুল থানার ওসি সাজ্জাদ হোসেন সমকালকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আজ সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাফির মৃত্যু হয়।’

তিনি জানান, ইটের আঘাতে রাফিকে আহতের ঘটনায় হত্যাচেষ্টা মামলা হয়েছিল। এ মামলায় এ পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে।

৯ জুন রাত সাড়ে ১২টার দিকে মোটরসাইকেলে নিজ বাসায় ফিরছিলেন ভুক্তভোগী রাফি। কাফরুল থানার পূর্ব শেওড়াপাড়ার আশরাফ আলী গলিতে চলন্ত মোটরসাইকেলে তার ওপর ইট নিক্ষেপ করা হয়।এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মোটরসাইকেলে যাওয়ার সময় এক তরুণ রাফিকে লক্ষ্য করে ইট ছুঁড়ে মারেন। ইটের আঘাতে তিনি মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তায় পড়ে অচেতন হয়ে যান। এ সময় মোটরসাইকেলটি তাঁর শরীরের ওপর পড়ে থাকে।

ভিডিওতে আরও দেখা যায়, ইট নিক্ষেপকারী তরুণই পরে আহত রাফিকে মোটরসাইকেলের নিচ থেকে বের করার চেষ্টা করেন। পরে আরও একজন সেখানে গিয়ে মোটরসাইকেলটি সরিয়ে নেন। একপর্যায়ে আহত রাফিকে একটি অটোরিকশায় তুলে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। সোমবার লন্ডনে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের বাইরে আবেগঘন কণ্ঠে স্টারমার বলেছেন, ‘প্রিয় দেশকে এগিয়ে রাখার উদ্দেশে আমি প্রতিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ কারণেই লেবার পার্টির নেতা হিসেবে পদত্যাগ করব।’

স্টারমার জানান, মধ্য-বামপন্থি এই দলের নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া আগামী মাসে শুরু হবে। নতুন নেতা নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। আগামী সেপ্টেম্বরে পার্লামেন্টের অধিবেশন শুরুর আগেই নতুন নেতা দায়িত্ব নেবেন।

এদিকে সোমবারই এমপি হিসেবে শপথ নেবেন অ্যান্ডি বার্নহাম। গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক এই মেয়র সম্প্রতি একটি আসনের উপনির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। তাঁকে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

গত মে মাসে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে লেবার পার্টির ভরাডুবির পর থেকে চাপের মুখে ছিলেন স্টারমার। ওই নির্বাচনে জয়ী হয় অভিবাসনবিরোধী দল ইউকে রিফর্ম পার্টি। এ ছাড়া, এপস্টেইন ফাইলে লেবার পার্টির সাবেক নেতা পিটার ম্যান্ডেলসনের নাম আসা নিয়েও স্টারমারের ওপর চাপ ছিল। অভিযোগ ওঠে, ম্যান্ডেলসনের অপরাধ জানার পরও তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন স্টারমার।

কিছুদিন আগেও স্টারমার জোর দিয়ে বলেছিলেন, তিনি পার্টির নেতৃত্ব বাছাইয়ের লড়াইয়ে অংশ নেবেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পদত্যাগ করবেন না। তবে গত শুক্রবার উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডের মেইকারফিল্ড আসনের উপনির্বাচনে বার্নহাম জয়ী হলে স্টারমারের পদত্যাগের গুঞ্জন জোরালো হয়।

সোমবার স্টারমার বলেন, ‘নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করব। ক্ষমতা হস্তান্তর যাতে সুশৃঙ্খলভাবে হয় তা নিশ্চিত করতেও সবকিছু করব।’

স্টারমারের এই পদত্যাগের মাধ্যমে এক দশকের মধ্যে সপ্তম নতুন প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য।

‘রোনালদোকে আমরা বল পাস দিতে বাধ্য নই’

বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই হোঁচট খেয়েছে পর্তুগাল। ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা আফ্রিকার দেশ ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ১-১ ড্র করেছে আসরের অন্যতম ফেভারিটরা। সেই ম্যাচে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পারফরম্যান্স নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন। পুরো ম্যাচে নিষ্প্রভ ছিলেন রোনালদো। ম্যাচের কোথাও তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

এর মধ্যেই রোনালদো সম্পর্কে তীর্যক মন্তব্য করে বসলেন তার জাতীয় দলের সতীর্থ ফ্রান্সিসকো কনসেসাও। পর্তুগালের এই উইঙ্গার মনে করেন, তারা রোনালদোকে বল পাস দিতে বাধ্য নন।

আগামীকাল উজবেকিস্তানের বিপক্ষে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামবে পর্তুগাল। ২৩ জুন হিউস্টনে বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় শুরু হবে ম্যাচটি।

ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে কনসেসাওকে প্রশ্ন করা হয়, দলের সবাই রোনালদোকে পাস দিতে বাধ্য কি-না! এর জবাবে তিনি বলেন, ‘না, রোনালদোর গোল করার সামর্থ্য রয়েছে। তার মতো আর কেউ নেই। আমাদের এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই যে, তাকে বল পাস দিতেই হবে। আমরা তাকেই দিবো যে খালি জায়গায় থাকবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যদি অন্য সতীর্থরা আক্রমণের জন্য আরও ভালো অবস্থানে থাকে, তাহলে রোনালদোকে পাস দেওয়ার বাধ্যবাধকতা অনুভব করার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। তাকে দলের আর দশজন সদস্যের মতোই দেখা হয়। দলের জন্য প্রত্যেককেই প্রয়োজন।’

একজন ফুটবলারকে ম্যাচ চলাকালীন প্রতি মিলিসেকেন্ডে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সেটা মনে করিয়ে দিয়ে এই জুভেন্টাস তারকা বলেন, ‘আমার ম্যাচের মুহূর্তে মাথায় থাকে না যে কে আমার সামনে আছে, কে নেই। আমরা নিজ উদ্যোগেই বল পাস দেই। এটাতে আমরা মিলিসেকেন্ড সময় পাই ভাবার জন্য। আর ক্রিশ্চিয়ানো এখানে অন্যান্য ফুটবলারদের মতই দলকে সাহায্য করার জন্য এসেছে।’

‘মেসিকে নিয়ে লিখতে গেলে একটি পুরো বইও যথেষ্ট নয়’

প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপ মিশন দারুণভাবে শুরু করেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আজ অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে নামবে লিওনেল স্কালোনির দল। এই ম্যাচকে সামনে রেখে আজ কোচের সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে এসেছেন আলবিসেলেস্তের মাঝমাঠের কাণ্ডারি এনজো ফার্নান্দেজ। যেখানে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে রণকৌশল নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে নিয়ে কথা বলেছেন চেলসির এই মিডফিল্ডার।

২০১৬ সালে কোপা আমেরিকার ফাইনালে হেরে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন মেসি। তখন ফেসবুকে এক খোলা চিঠিতে লিখেছিলেন এনজো লিখেছিলেন, ‘লিও, দয়া করে আমাদের ছেড়ে যেও না।’

কাতারে সেই মেসির পাশেই খেলে বিশ্বকাপজয়ী এনজোকে সেই চিঠির কথা মনে করিয়ে দেওয়া হলে তিনি বলেন, ‘আমি যদি আজ আবার পেছনে ফিরে গিয়ে লিওকে একটা চিঠি লিখতে চাই, তবে তার পাশে থেকে আমি যা যা শিখেছি তা লিখে শেষ করার জন্য একটা পুরো বইও যথেষ্ট হবে না।’

গত চার বছরে নিজের ক্যারিয়ারের উত্থান নিয়ে এনজো আরও যোগ করেন, ‘এই চার বছরে আমি অনেক কিছু শিখেছি। আজ নিজেকে অনেক বেশি পরিপক্ব মনে হয় এবং প্রতিদিন নিজেকে আরও উন্নত করতে আমি নিজের ওপর আরও বেশি তাগিদ দিই।’

অস্ট্রিয়াকে নিয়ে বেশ সতর্ক শোনা গেল এই আর্জেন্টাইন তারকাকে। অস্ট্রিয়ার খেলার ধরন বিশ্লেষণ করতে গিয়ে এনজো বলেন, ‘অস্ট্রিয়া সরাসরি আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে। ওরা মাঠে কিছুটা ফাঁকা জায়গা তৈরি করে দেয় ঠিকই, তবে আক্রমণে ওঠার সময় ওরা ভীষণ আগ্রাসী। তবে প্রতিপক্ষ যেই হোক না কেন, বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হোল্ডে রাখাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’

নিজের পজিশন ও খেলার ধরন নিয়ে এনজো জানান, ‘আমি যে পজিশনে খেলছি, সেখানে খুব স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। যখনই আমাকে একাদশে বেছে নেওয়া হয়, আমি দলের জন্য আমার সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করি। আমি সবসময় বল পায়ে রাখতে পছন্দ করি, এটি আমার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়।’

বিশ্বকাপের শুরুটা এবার ভিন্ন হয়েছে আর্জেন্টিনার। কাতার বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের কাছে সেই হারকে স্মরণ করে এনজো বলেন, ‘কাতারে হার দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করাটা আমাদের জন্য ভীষণ কঠিন ছিল, যদিও এর পরের সবকিছু ছিল অবিশ্বাস্য এক রূপকথা। তবে এবার প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে আমরা দারুণ খেলেছি, বলের নিয়ন্ত্রণও আমাদের কাছে ছিল। এবার জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করতে পারাটা ড্রেসিংরুমে আমাদের আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে।’

ফুটবল এখন অনেক বেশি প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠেছে উল্লেখ করে এনজো বলেন, ‘ফুটবল এখন অনেক বেশি সমানে-সমান হয়ে গেছে এবং আমার মনে হচ্ছে এবারের বিশ্বকাপটি আগের চেয়েও অনেক বেশি জমজমাট ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। এখন অনেক দলই দারুণ চমক দেখাচ্ছে এবং গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত পারফর্ম করছে।’

তৃতীয়বার বিয়ে করছেন আমির, কারা থাকবেন অনুষ্ঠানে

তৃতীয়বারের মতো বিয়ের পিঁড়িতে বসতে চলেছেন বলিউডের ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ আমির খান। ৬০ বছর বয়সে এসে অভিনেতার নতুন করে সংসার শুরুর খবর এখন বলিউডপাড়া থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

আগামী ৫ জুলাই দীর্ঘদিনের সঙ্গী গৌরী স্প্র্যাটকে বিয়ে করতে যাচ্ছেন ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’। তবে এই বিয়েতে কারা উপস্থিত থাকবেন, তা নিয়েও ভক্তদের কৌতূহলের শেষ নেই।

ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর, নিজ বাড়িতেই ঘরোয়া আয়োজনে আইনি বিয়ে সারবেন আমির ও গৌরী। জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান নয়, বরং পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতেই সম্পন্ন হবে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা।

আমির নিজেও জানিয়েছেন, তিনি ও গৌরী দুজনেই সাদামাটা আয়োজন পছন্দ করেন। তাই এই বিয়ে যতটা সম্ভব ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পরিসরেই রাখতে চান তারা।

খবর অনুযায়ী, বিয়েতে উপস্থিত থাকতে পারেন আমিরের মেয়ে আইরা খান, ছেলে জুনায়েদ খান, প্রথম স্ত্রী রিনা দত্ত, দ্বিতীয় স্ত্রী কিরণ রাও এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। এছাড়া গৌরী স্প্র্যাটের পরিবারের সদস্য ও অভিনেতার কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু-সহকর্মীকেও আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে।

সম্প্রতি ‘লগান’ ছবির ২৫ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে আমিরের সঙ্গে প্রথম স্ত্রী রিনা দত্ত, দ্বিতীয় স্ত্রী কিরণ রাও এবং হবু স্ত্রী গৌরী স্প্র্যাটকে দেখা যায়। সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বিশেষ করে আমিরের প্রাক্তন ও বর্তমান সম্পর্কের মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক অনেকের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯৮৬ সালে প্রেম করে রিনা দত্তকে বিয়ে করেন আমির। দীর্ঘ ১৪ বছরের সংসারজীবনের পর ২০০০ সালে বিচ্ছেদ হয় তাদের। ২০০৫ সালে কিরণ রাওকে বিয়ে করেন তিনি। ২০২১ সালে যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে বিচ্ছেদের ঘোষণা দেন এই দম্পতি।

এরপর বেশ কিছুদিন ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নীরব থাকলেও, সম্প্রতি গৌরী স্প্র্যাটের সঙ্গে সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে আনেন আমির। এবার সেই সম্পর্কই নতুন অধ্যায়ে পা রাখতে যাচ্ছে বিয়ের মাধ্যমে।

সাহসী কেপ ভার্দে, আতঙ্কে উরুগুয়ে

ছোট্ট দেশ কেপ ভার্দে। জনসংখ্যা সাড়ে পাঁচ লাখ। প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে এসেছে। গ্রুপের প্রথম ম্যাচে স্পেনকে (০-০) রুখে দিয়েছে। যেটিকে বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম অঘটন বলা হচ্ছে।

সোমবার বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় মায়ামি স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ম্যাচে উরুগুয়ের মুখোমুখি হবে তারা। ওই ম্যাচে দলটির কী প্রত্যাশা থাকবে? লড়াই করা। আরেকটি সমতা! কিন্তু কেপ ভার্দের তরুণ মিডফিল্ডার দিরয় দুয়ার্তে বলেছেন ভিন্ন কথা, ‘স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচটা আপনারা দেখেছেন। সমতা করবো কেউ প্রত্যাশা করেনি। তাদের আটকে দিতে পারলে উরুগুয়েকে কেন হারাতে পারবো না?’

বার্তা পরিষ্কার। স্পেনের বিপক্ষে সাহস সঞ্চয় করা ব্লু শার্করা দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দল উরুগুয়ের বিপক্ষে জয়ের স্বপ্ন দেখছে। তবে এবারের পরীক্ষাটা তাদের ফাঁস হওয়া প্রশ্নে দিতে হবে।

স্পেনের বিপক্ষে ফুটবলের রক্ষণাত্মক লো ব্লকেরও সবচেয়ে কুখ্যাত পদ্ধতিটা অবলম্বন করে খেলেছিল কেপ ভার্দে। মাঠ ছোট করে, প্রতিপক্ষকে কোনো জায়গা না ছেড়ে, গায়ে গা লাগিয়ে খেলাই এই কৌশলের ফুটবলের শেষ কথা। স্পেনের ফুটবলাররা দীর্ঘদেহি না হওয়ায় ক্রস খেলেও সুবিধা করতে পারেনি। দায় ছিল সুযোগ হারানোরও। উরুগুয়েকে একই প্রশ্নে পরীক্ষা দিতে হবে।

 

বিশ্বকাপের হাজারতম ম্যাচে জয় চায় জাপান

দারুণ এক মাইলফলকের অংশ হওয়ার অপেক্ষায় জাপান ও তিউনিসিয়া। মন্তেরিতে বাংলাদেশ সময় আজ সকাল ১০টায় বিশ্বকাপ ইতিহাসের এক হাজারতম ম্যাচটি খেলবে দুই দল। এমন উপলক্ষটি জয় দিয়ে রাঙাতে মরিয়া জাপানের কোচ হাজিমে মরিয়াসু। তিউনিসিয়ার কোচ হার্ভে রেনার্ডও জাপানের বিপক্ষে নিখুঁত পারফরম্যান্স চান।

নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করে যাত্রা শুরু করেছে জাপান। দুইবার পিছিয়ে পড়েও অনেকটা ডাচদের পকেটে চলে যাওয়া ম্যাচে একেবারে শেষ মুহূর্তে সমতা ফিরিয়ে ১ পয়েন্ট প্রায় ছিনিয়ে নিয়েছে জাপান। তার পরও সন্তুষ্ট নন কোচ মরিয়াসু।

তিউনিসিয়ার বিপক্ষে জয়ের জন্য মরিয়া তিনি, ‘আমাদের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডস খুব ভালো খেলেছিল। আমাদের দলও ভালো করেছিল। কিন্তু ওই ম্যাচের ফলাফলে আমরা পুরোপুরি সন্তুষ্ট নই। এখন আমাদের প্রতিপক্ষ তিউনিসিয়া। আমি বিশ্বাস করি, দলের সবাই মনে করে যে ম্যাচটি আমাদের জেতা প্রয়োজন।’

তিউনিসিয়া প্রথম ম্যাচে সুইডেনের কাছে ৫-১ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল। তার পরও প্রতিপক্ষকে সমীহ করছেন জাপানের কোচ, ‘আমি নিশ্চিত, সুইডেনের বিপক্ষে খেলা তিউনিসিয়ার চেয়ে এই তিউনিসিয়া ভিন্ন। নতুন কোচ নিশ্চিতভাবে দলকে তাতিয়ে দিচ্ছেন। তাদের জমাট রক্ষণ আছে, গোল করার মতো পরিস্থিতি তৈরির জন্য ফাঁকফোকর খুঁজে বের করতে তারা পারদর্শী।’

সুইডেনের কাছে বিধ্বস্ত হওয়ার জেরে তিউনিসিয়ার ডাগআউটে পরিবর্তন এসেছে। ওই ম্যাচের পরই কোচ সাবরি লামৌচিকে বরখাস্ত করে তিউনিসিয়া ফুটবল ফেডারেশন। নিয়োগ দেওয়া হয় ফরাসি কোচ হার্ভে রেনার্ডকে। গত বিশ্বকাপে তাঁর অধীনেই আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে চমক দেখিয়েছিল সৌদি আবর। সেই রেনার্ডের চোখে জাপান হলো এশিয়ার সেরা দল।