Home Blog Page 83

দেশজুড়ে আরও ৫ দিনের বৃষ্টির পূর্বাভাস

মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় দেশজুড়ে আগামী পাঁচ দিন বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এ সময়ে বিভিন্ন বিভাগে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির পাশাপাশি কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

রোববার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ুর বর্ধিতাংশের অক্ষ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।

আজ রোববার রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।

আগামীকাল সোমবার রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। রংপুর ও রাজশাহীর কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।

বুধবার (১৫ জুলাই) রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে। তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। এদিন খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী পাঁচ দিনজুড়েই দেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

পাহাড়ধসে রান্নাঘরে প্রাণ গেল গৃহবধূর, অল্পের জন্য বাঁচলেন স্বামী

কক্সবাজারে পাহাড়ধসে স্বামীর সামনে মাটিচাপা পড়ে রোজিনা বেগম (৪০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের এ ঘটনায় তার স্বামী আব্দুল মজিদ অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেও স্ত্রীকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে কক্সবাজার শহরের পূর্ব কলাতলী ঝরঝরিপাড়ায় পাহাড়ধসের ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট প্রায় দেড় ঘণ্টা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে রোজিনা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে।

ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, টানা বৃষ্টিতে জেলার পাহাড়গুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বারবার সতর্ক করা হলেও জীবিকার তাগিদে অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণ বসতিতে ফিরে আসছেন, যা পাহাড়ধস ও প্রাণহানির আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

পরিবারের বরাতে জানা যায়, রাতের খাবার একসঙ্গে খাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন আব্দুল মজিদ ও তার স্ত্রী রোজিনা বেগম। এ সময় পাহাড়ের পাশের রান্নাঘরে রান্না করতে গেলে ভারী বৃষ্টির মধ্যে হঠাৎ পাহাড়ধস নামে। এতে আব্দুল মজিদ সামান্য আহত হয়ে প্রাণে বাঁচলেও রোজিনা বেগম মাটিচাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

নিহত রোজিনা বেগমের স্বামী আব্দুল মজিদ বলেন, ‘আমি বারবার ওকে বলেছিলাম, পাহাড়ের পাশের রান্নাঘরে না যেতে। বলেছিলাম, বৃষ্টি বেশি, পাহাড়ধসে যেতে পারে। কিন্তু রান্না করতে রান্নাঘরে যেতেই মুহূর্তেই ধস নামে। আমি অল্পের জন্য বেঁচে গেলেও আমার স্ত্রী মাটিচাপা পড়ে মারা যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘এর আগেও পাহাড়ের ওপরে থাকা বাড়ির লোকজনকে বলেছিলাম, যেন পানি না ফেলে এবং ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশগুলো কেটে ফেলে। কিন্তু কেউ কথা শোনেননি। ঘটনার সময় আমি ও স্ত্রী পেছনের ঘরে, আর বাবা ও আমার ছোট মেয়ে সামনের ঘরে ছিলাম।’

স্বজনদের দাবি, টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে পাহাড়টি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাদের অভিযোগ, পাহাড়ের ওপরে থাকা বাড়ির জন্য মাটি ভরাট করায় ধসের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। বারবার সতর্ক করলেও বিষয়টি আমলে নেওয়া হয়নি। পাহাড়ধসের পর চিৎকার করেও সময়মতো সহযোগিতা মেলেনি। আর সেই ধসেই প্রাণ হারান রোজিনা বেগম।

আব্দুল মজিদের ভাই আব্দুল গফুর বলেন, ‘আমরা ১৯৯১ সাল থেকে এখানে বসবাস করছি। এতদিন কখনও পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু সম্প্রতি পাহাড়ের ওপরে বাড়ি নির্মাণের জন্য মাটি ভরাট করায় ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। আমরা বারবার সতর্ক করলেও কেউ ব্যবস্থা নেয়নি। অন্তত পাহাড় ঢেকে রাখার ব্যবস্থা করা হলে হয়তো ধস নামত না, আর আমার বোনকেও প্রাণ হারাতে হতো না।’

ফায়ার সার্ভিস জানায়, রোজিনা বেগম রান্নাঘরে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই হঠাৎ পাহাড়ের ওপরের অংশ ধসে পড়ে। এতে তিনি মাটিচাপা পড়ে আটকা পড়েন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট উদ্ধার অভিযান শুরু করে। স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করেন।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স কক্সবাজার কার্যালয়ের উপপরিচালক সৈয়দ মোরশেদ হোসাইন বলেন, ‘রাত ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে কলাতলীর ঝরঝরিপাড়ায় পাহাড়ধসে একজন নারী মাটিচাপা পড়েছেন-এমন খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টার পর তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘টানা বৃষ্টির কারণে কক্সবাজারের পাহাড়গুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রতিনিয়ত পাহাড়ধসের আশঙ্কা থাকায় ফায়ার সার্ভিস নিয়মিত মাইকিং করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে আহ্বান জানাচ্ছে। কিন্তু সতর্কবার্তা সত্ত্বেও অনেকেই বিভিন্ন প্রয়োজনে আবারও ঝুঁকিপূর্ণ বসতিতে ফিরে আসছেন, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, ওই নারী রান্নাঘরে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই হঠাৎ পাহাড়ের ওপরের অংশ ধসে পড়ে। এতে তিনি মাটিচাপা পড়ে আটকা পড়েন। খবর পেয়ে দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। টানা বৃষ্টির এ সময়ে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় অবস্থান না করার জন্য তিনি সবাইকে আবারও অনুরোধ জানান।

রয়টার্সের প্রতিবেদন ডিসেম্বরে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা করছেন শেখ হাসিনা

দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা করছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ জন্য তিনি আগামী ডিসেম্বরে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফিরতে চান। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা নিজে এসব কথা বলেছেন। তবে সুনির্দিষ্ট তারিখ এবং কোন আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন তা জানাননি।

টেলিফোনে সাক্ষাৎকারটি নেওয়া হয় বৃহস্পতিবার রাতে। রয়টার্স এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে শুক্রবার। শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘দেশে ফেরার পর তারা আমাকে গ্রেপ্তার করতে পারে, এমনকি মেরেও ফেলতে পারে। তবু আমাকে যেতেই হবে। আমার দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ওপর নিপীড়ন চালানো হচ্ছে। মৃত্যু যদি আসেই, তবে আমি চাই তা যেন নিজের মাটিতেই হয়।’

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গত নভেম্বরে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনগুলোর সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, তিনি ও তাঁর দলের সদস্যরা স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। আদালতে নিজেদের সমর্পণ করার মাধ্যমে তাঁরা মূলত বর্তমান কর্তৃপক্ষের পরীক্ষা নিতে চান।

শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের জন্য বাংলাদেশ কয়েক দফায় ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। রয়টার্স লিখেছে, দুই বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে বর্তমান সরকার যখন স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে, তখন শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে রাজনৈতিক বিভাজন আরও তীব্র হতে পারে।

ভারতে নির্বাসিত হওয়ার পর শেখ হাসিনা এই প্রথমবারের মতো দেশে ফেরার নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করলেন। এ সময়সূচির ব্যাপারে তিনি কোনো বিদেশি সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করেননি জানিয়ে বলেন, ‘তারা আমাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে বারবার ভারতের কাছে চিঠি পাঠাচ্ছে। আমি নিজেই চলে যাব।’

আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালেরও মৃত্যুদণ্ড হয়েছে। দলটির অন্য নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি রয়টার্স। শেখ হাসিনার বক্তব্যের বিষয়ে মন্তব্যের জন্য বাংলাদেশ সরকারের মুখপাত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল, তবে সাড়া পায়নি।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি। গত এপ্রিলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, তারা হাসিনাকে হস্তান্তরের জন্য বাংলাদেশের অনুরোধ খতিয়ে দেখছে। নতুন সরকারের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে যুক্ত হতে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করতে চায় দিল্লি।

জাতিসংঘের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই বছর আগে গণআন্দোলন দমনে তৎকালীন সরকারের চালানো সহিংসতায় প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হন। বর্তমানে দিল্লিতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা বলছেন, ‘আমাদের প্রায় সব নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। তাদের অনেকেই আত্মগোপনে আছেন। তাই বলেছি, এবার আমি দেশে ফিরছি এবং একদিন আপনাদের সবারই ফিরে আসা উচিত। আমরা একসঙ্গে আদালতে গিয়ে আত্মসমর্পণ করব।’

সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশে ফেরার কোনো সুনির্দিষ্ট তারিখ এবং কবে কোন আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন তা জানাননি শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আমি বিচারে বিশ্বাস করি। আমার মনে হয় একবার আইনি প্রক্রিয়া শুরু হলে আদালতের এই প্রহসন জনগণের কাছে পরিষ্কার হয়ে যাবে। আমি সেটাই প্রমাণ করতে চাই।’

শেখ হাসিনা জানান, দেশে ফেরার পরিকল্পনার বিষয়ে ঢাকার বর্তমান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাঁর কোনো যোগাযোগ হয়নি। তিনি বলেন, ‘একটি সরকার যখন দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে, তখন কিছু ভুলত্রুটি হতেই পারে। কোনো সরকারই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। একটি সরকারের ভালো-মন্দ বিচার করার অধিকার কেবল জনগণের। আমি সেই বিচার জনগণের ওপর ছেড়ে দিচ্ছি।’

সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী জানান, আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠিত করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ১২৫টি আসনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে অনলাইনে বৈঠক করেছেন। তিনি বলেন, ‘তারা হয়তো আমাকে দণ্ডিত করতে পারে, আমি হয়তো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারব না। কিন্তু তারা কেন আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করবে? আমরা যদি খারাপ কিছু করে থাকি, তবে সেটি জনগণকেই নির্ধারণ করতে দেওয়া হোক।’

ডিসেম্বরে কাউন্সিলের পরিকল্পনা বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক

চলতি বছরে জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তবে এখনও কাউন্সিলের তারিখ নির্ধারণ হয়নি। প্রাথমিকভাবে আগামী ডিসেম্বরে কাউন্সিল করার বিষয়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। কেন্দ্র থেকে নেতৃত্ব চাপিয়ে দেওয়ার প্রচলিত ধারা থেকে বেরিয়ে এসে তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে কাউন্সিলে নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।

গতকাল শনিবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয় বলে সূত্রে জানা গেছে। রাত ৮টার দিকে বৈঠক শুরু হয়ে শেষ হয় রাত পৌনে ১০টায়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তৃতীয় দফায় অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৈঠক সূত্র জানায়, কাউন্সিলের চূড়ান্ত তারিখ এখনও নির্ধারণ না হলেও সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ডিসেম্বরের মধ্যে কাউন্সিল আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে দলের। প্রস্তাবিত নতুন পদ্ধতি অনুযায়ী, বিএনপি তৃণমূল পর্যায় থেকে একটি উন্মুক্ত কাউন্সিল প্রক্রিয়া চালুর পরিকল্পনা করছে। এটি ওয়ার্ড থেকে শুরু হয়ে পর্যায়ক্রমে ইউনিয়ন ও থানা ইউনিট হয়ে কেন্দ্রীয় কমিটি পর্যন্ত পৌঁছাবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন, কেন্দ্র থেকে সরাসরি নেতৃত্ব চাপিয়ে দেওয়ার প্রচলিত ধারা থেকে বেরিয়ে এসে তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে নেতৃত্ব গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নতুন এই সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী, জেলা নেতারা থানা কমিটি গঠনের বিষয়টি তদারকি করবেন। আবার থানা ইউনিট ইউনিয়ন কমিটি এবং ইউনিয়ন কমিটি ওয়ার্ড কমিটি গঠনের দায়িত্বে থাকবে। তৃণমূলের এ স্তরগুলোর সাংগঠনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই কেবল কেন্দ্রীয় কাউন্সিল হবে।

সূত্র আরও জানায়, পুনর্গঠন প্রক্রিয়া তদারকি করতে একটি ‘মনিটরিং অ্যান্ড ডিজাইন কমিটি’ গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রাথমিক অবস্থায় দুই-চারজনের একটি ছোট কোর টিম কাজ শুরু করবে, পরে এর পরিধি বাড়ানো হবে। সাংগঠনিক কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে এবং কাউন্সিলের প্রস্তুতি তদারকি করতে স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যানসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা বিভিন্ন অঞ্চল সফর করবেন।
জানা গেছে, কাউন্সিলের তারিখ চূড়ান্ত হওয়ার পর গঠনতন্ত্র সংশোধনের জন্য একটি উপকমিটি এবং প্রচার, যোগাযোগ ও অভ্যর্থনা তদারকির জন্য আরও কয়েকটি উপকমিটি গঠন করা হবে। এ ছাড়া বিএনপির সহযোগী এবং অঙ্গ সংগঠনগুলোকেও একই পদ্ধতিতে (বটম-আপ অ্যাপ্রোচ) পুনর্গঠন করা হবে। বৈঠকে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও আলোচনা হয়। সূত্র জানায়, প্রার্থীরা দলীয় প্রতীক ব্যবহার না করেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন, তবে বিষয়টি এখনও আলোচনাধীন।
বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন। মালয়েশিয়া থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।

ভারী বৃষ্টি ও ঢল চট্টগ্রাম-কক্সবাজারে বন্যার অবনতি, রান্নায় সংকট

কোলে ১১ মাসের শিশু। ডান হাতে ছাতা ধরেছেন। হাঁটুপানি ভেঙে আশ্রয়কেন্দ্রের দিকে যাচ্ছেন রকিবুল ইসলাম। পেছনে পেছনে যাচ্ছেন স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা। গতকাল শনিবার চট্টগ্রামের বাঁশখালীর মনকিচর এলাকায় হাঁটুপানিতে ডুবে থাকা সড়কে দেখা যায় এই দৃশ্য। রকিবুল জানান, তাদের বসতঘরে ঢুকেছে বন্যার পানি। রান্নাঘর তলিয়ে গেছে। খাওয়া-দাওয়া নেই। বাড়িতে থাকার আর সুযোগ নেই। তাই স্ত্রী-সন্তান নিয়ে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরের আশ্রয়কেন্দ্রে যাচ্ছেন।

একই সড়কে আরেকটু সামনে যেতেই দুই যুবক ও এক কিশোরের দেখা মেলে। তাদের মাথায় ও হাতে পানির কলসি। যুবক রাজ্জাক আলী বলেন, তিন দিন ধরে পানিতে ডুবে আছে ঘরবাড়ি।

খাবারের সংকট। তেষ্টায় বুক ফেটে যাচ্ছে। খাবার পানির সংকট। এ কারণে এক কিলোমিটার দূর থেকে পানি সংগ্রহ করেছেন। কলসিতে পানি নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যাচ্ছেন। সেখানে মা-বাবা, স্ত্রী-সন্তান রয়েছেন।

কিশোর আক্কাস বলে,  সে তার বাবা-মায়ের জন্য এই খাবার পানি সংগ্রহ করে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্রে দুই দিন ধরে সবাই শুকনা খাবার খাচ্ছে। কোনো খাদ্য সহযোগিতা পায়নি তারা।

তাদের মতো খাদ্য ও পানির সংকটে ভুগছেন সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলার বানভাসিরা।  এখানে অন্তত আট লাখ মানুষ পানিবন্দি। তারা দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন। কক্সবাজারের দুটি উপজেলায়ও বন্যার অবনতি হয়েছে। সেখানেও দুর্গতরা শুকনা খাবার খেয়ে দিন পার করছেন। পানির সংকট তীব্র। বান্দরবান সারাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। রাঙামাটির দুর্গম এলাকায় ত্রাণ পৌঁছায়নি বলে দাবি করছেন বানভাসিদের অনেকে।

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও বাঁশখালীর অধিকাংশ এলাকা গত ৪৮ ঘণ্টা ধরে সম্পূর্ণ বিদ্যুৎহীন। মোবাইল টাওয়ারগুলো অচল হয়ে পড়ায় দুর্গত এলাকার মানুষরা যোগাযোগ করতে পারছেন না।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর ১০ ও ২৪ পদাতিক ডিভিশনের সদস্যরা স্পিডবোট ও লাইফ জ্যাকেট নিয়ে দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার করছেন। উদ্ধারকাজ সুশৃঙ্খল করতে সেনাবাহিনী তিনটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করেছে। ফায়ার সার্ভিস ও নৌবাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন। বাঁশখালীর চেচুরিয়া এলাকায় ঘরের ভেতর আটকে পড়া এক অন্তঃসত্ত্বা নারী, শিশুসহ ১৩ জনের একটি পরিবারকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার করেছেন।

গতকাল সরেজমিন চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার জলদী সদর, শীলকুপ, গন্ডামারা বাহারছড়া ও শেখেরখিল এলাকা ঘুরে দেখা যায়, চলাচলের প্রধান সড়কের কোথাও কোমর, কোথাও হাঁটুপানি। এলাকার পর এলাকা পানিতে ডুবে আছে। যেসব এলাকায় গত শুক্রবার পানি ওঠেনি, সেসব ঘরবাড়িতে ঢুকতে শুরু করেছে পানি। তাই মানুষ নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছেন।

হাঁটুপানির নিচে থাকা গন্ডামারা সড়কে কথা হয় রাশেদ আলী নামে এক ব্যক্তি সঙ্গে। তিনি বলেন, সময় যত বাড়ছে, বন্যার পানি ততই বাড়ছে। পরিবারের সবাইকে নিয়ে আত্মীয়ের বাড়ি যাচ্ছেন। শুক্রবার শুকনা খাবার খেয়ে রাত কাটিয়েছেন। বিশুদ্ধ পানি শেষ হয়ে গেছে।

বাহারছড়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের বাড়িতে এক শিশু পানিতে ডুবে মারা গেছে। তাকে কবর দেওয়ার জন্য শুকনা জায়গা খুঁজে পেতে অনেক কষ্ট হয়েছে। আমাদের বাড়ি থেকে অনেক দূরে পুকুরপাড়ে একটি উঁচু এলাকায় তাকে দাফনের ব্যবস্থা করতে হয়েছে।’

বাঁশখালীর পূর্ব ইলশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে ১২টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। তারা গত বৃহস্পতিবার রাতে এসেছে। এখনও প্রশাসনের কেউ তাদের খবর নেয়নি। খাদ্য সহযোগিতা পাননি। সবচেয়ে বড় সংকট বিশুদ্ধ পানির। পাঁচ কিলোমিটার দূরের দোকান থেকে পানি কিনে খেতে হচ্ছে।

সেখানে আশ্রয় নেওয়া সরোয়ার হোসেন বলেন, ‘বাড়ি থেকে চাল-আলু নিয়ে এসেছিলাম। খাওয়া শেষ। এখন মুড়ি খেয়ে আছি। এক গ্লাস করে পানি খাচ্ছি। আমার মতো অন্যরাও খাবার কষ্টে আছেন।’

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন বলেন, ‘উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকার মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ের পাশাপাশি ত্রাণের আওতায় আনার চেষ্টা করছি। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৪৪ টন চাল ও আড়াই হাজার পরিবারে শুকনা খাবার বিতরণ করেছি। আজ থেকে সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়েছে।’

সাতকানিয়ায়ও বন্যার পানি কমছে না। দুই উপজেলায় প্রায় আট লাখ মানুষ পানিবন্দি। মূলত বান্দরবানের পাহাড়ি এলাকার পানি নেমে আসায় বন্যার পানি কমছে না। খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির বন্যা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।

শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে গতকাল সকাল ৯টা পর্যন্ত চট্টগ্রামে ২১ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগকবলিত এলাকায় ১ হাজার ৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু রয়েছে। এসব কেন্দ্রে ১২ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

সাতকানিয়া উপজেলা প্রতিনিধি জানান, সাতকানিয়া পৌরসভাসহ উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের কোনোটির পুরো অংশ, আবার কোথাও আংশিক পানিতে ডুবে রয়েছে। উপজেলার প্রায় চার লাখ মানুষ পানিবন্দি। সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমার ১৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কেরানীহাট-বান্দরবান মহাসড়কেও যান চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। লোহাগাড়া সদর, আধুনগর, বড়হাতিয়া ও আমিরাবাদ ইউনিয়নের কিছু এলাকায় এখনও পানি রয়েছে।

পাহাড়ি ঢলের পানির তীব্র স্রোতে একটি সেতু ধসে পড়ে রাঙ্গুনিয়া হয়ে বান্দরবানের সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। সেতুর দুই পাশে আটকা পড়েছে হাজারো যাত্রী ও বিভিন্ন ধরনের যানবাহন। ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

গতকাল শনিবার ভোরে উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের দুধপুকুরিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এছাড়া একটি রাবার ড্যামের বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় পানির চাপ আরও বেড়ে যায়। এক পর্যায়ে পানির তোড়ে সেতুটির একটি অংশ ভেঙে পড়ে। কর্ণফুলী নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় উপজেলার লিচুবাগান এলাকা থেকে নদীর অপর পারে চলাচলকারী ফেরি সার্ভিসও বন্ধ রয়েছে। ফলে বিকল্প পথেও বান্দরবানের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

দক্ষিণ চট্টগ্রামের চন্দনাইশে বন্যার পানি কিছুটা কমলেও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এখনও বাড়িঘর, উঠান ও গ্রামীণ সড়কে হাঁটুপানি জমে আছে। কৃষিজমি ও পুকুর তলিয়ে রয়েছে। ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

ফটিকছড়িতে দুর্গত মানুষের পাশে সেনাবাহিনী
বন্যায় ফটিকছড়ির বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক স্থানে সড়কযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় শত শত পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। দেখা দিয়েছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। এমন পরিস্থিতিতে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

গতকাল গুইমারা রিজিয়নের অধীন লক্ষ্মীছড়ি জোনের উদ্যোগে উপজেলার সুন্দরপুর, হারুয়ালছড়ি ও আশপাশের বন্যাকবলিত এলাকায় জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। সেনাসদস্যরা নৌযান ও অন্যান্য উপায়ে দুর্গম এলাকায় পৌঁছে ক্ষতিগ্রস্ত ১০০টি পরিবারের হাতে খাদ্যসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় ত্রাণ তুলে দেন।

দুই মন্ত্রীর দিনভর তৎপরতা
বন্যাকবলিত মানুষের পাশে সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন। গতকাল চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় ওষুধ মজুত রয়েছে। সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য রোগব্যাধি প্রতিরোধে আগাম প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।

সার্কিট হাউসে পৃথক এক সভায় জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, খাল-নালা দখল ও জলপ্রবাহে প্রতিবন্ধকতার কারণে দক্ষিণ চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা প্রকট আকার ধারণ করেছে। বাঁশখালীর সব স্লুইসগেট খুলে দেওয়া হয়েছে। খুব দ্রুত পানি নেমে যাচ্ছে।

কক্সবাজার
গতকাল সরেজমিনে দেখা গেছে, বন্যায় চকরিয়া উপজেলার অধিকাংশ এলাকার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এ উপজেলার লক্ষ্যারচর ইউনিয়নে বাড়িঘরের পাশাপাশি ডুবে গেছে স্কুল, কলেজ, ইউনিয়ন পরিষদ। এ দৃশ্য শুধু লক্ষ্যারচরের নয়। উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর, কৈয়ারবিল, বরইতলী, হারবাং, ফাঁসিয়াখালী, ডুলাহাজারা ও খুটাখালী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে।

এভাবে পানিবন্দি কক্সবাজার জেলার ৪০টি ইউনিয়নের প্রায় ৪ লাখ বাসিন্দা। তবে, বৃষ্টি কিছুটা কমায় কোথাও কোথাও নামতে শুরু করেছে পানি। তবে, অধিকাংশ এলাকার মানুষ এখনও পানিবন্দি।

লাক্ষ্যারচর ইউনিয়নের বন্যাদুর্গতের দাবি, প্রায় এক সপ্তাহ পানিবন্দি হয়ে থাকলেও এখনও পৌঁছায়নি খাদ্য সহায়তা। বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্য সংকটে ভুগছেন তারা।

ভোক্তভোগীরা জানান, বহু নলকূপ তলিয়ে যাওয়ায় নিরাপদ পানির উৎস অচল হয়ে পড়েছে। ঘরে বুকসমান থেকে কোমরপানি। তাই রান্নাবান্না করা যাচ্ছে না। প্রকট হয়ে উঠছে শুকনো খাবার, শিশুখাদ্য ও ওষুধের সংকটও।

চকরিয়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মঈন উদ্দিন বলেন, তিন দিন ধরে পানিবন্দি। শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় খাবারও পাওয়া যাচ্ছে না। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে যা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, তা অতি সামান্য।

মাতামুহুরী উপজেলার বিএমচর ইউনিয়নের বাসিন্দা মকবুল আহমদ বলেন, বন্যার পানিতে বসতঘর ডুবে গেছে। চুলা ধরানোর সুযোগ নেই। অসংখ্য মানুষ না খেয়ে আছে। বিশুদ্ধ পানির জন্য মানুষ হাহাকার করছে।

জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেছেন, বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায় সরকার ইতোমধ্যে কক্সবাজার জেলায় ৩০ লাখ টাকা এবং সাড়ে ৪০০ টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে। দুই থেকে আড়াই লাখ মানুষের কাছে ত্রাণসহ বিভিন্ন ধরনের জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। গতকাল দুপুরে বন্যাদুর্গত পেকুয়া ও চকরিয়া উপজেলা পরিদর্শন এবং ত্রাণ বিতরণকালে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক এসব কথা বলেন।

রাঙামাটি
রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলায় ফারুয়া ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। সেখানে অন্তত ২০টি গ্রামের ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে। পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় রাঙামাটি-বান্দরবান সড়কের শিলক সেতু ধসে পড়ায় দুই জেলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

গতকাল বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নে পানি বেড়েছে। এতে ১১ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। রাইখ্যং নদীর প্রবল স্রোতের কারণে এই ইউনিয়নের কয়েক হাজার দুর্গত মানুষের কাছে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না।

রাজাস্থলী-বিলাইছড়ি সীমান্ত সড়ক উদয়চর এলাকায় ধসে পড়ায় বড় যানবাহন চলাচল করছে না। উপজেলায় ২৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছে। বিলাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাকির হোসেন জানান, নদীতে প্রচণ্ড স্রোতের কারণে উপজেলা সদর থেকে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। স্থানীয় বাজার থেকে ত্রাণ সংগ্রহ করে ক্ষতিগ্রস্তদের দেওয়া হয়েছে।

বান্দরবান 
বান্দরবানে বন্যার পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় পাহাড়ধস ও সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় সারাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। গতকাল সকাল থেকে জেলা শহরের সঙ্গে রাঙামাটি, বাঙ্গাল হালিয়া-চন্দ্রঘোনা এবং রোয়াংছড়ি, রুমা ও থানচি উপজেলায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন বান্দরবান সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন।

শহরের বন্যার পানিতে সাতকানিয়ার বাজালিয়া এলাকার কোথাও কোথাও সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় এবং গাছ পড়ে থাকায় বান্দরবান থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারগামী দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা।

খাগড়াছড়ি
দীঘিনালা উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্র থেকে মানুষজন বাড়িঘরে ফিরতে শুরু করেছে। এদিকে প্রায় চার দিন বন্ধ থাকার পর দীঘিনালা-লংগদু সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। গতকাল সকাল থেকে মাইনী নদীর পানি কমে যাওয়ায় দীঘিনালার নিচু এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করে। উপজেলার মেরুং বাজারের পানি অনেকটাই নিচে নেমে গেছে। ধীরে ধীরে বাজারের সবকিছু স্বাভাবিক হচ্ছে।

১৬ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিভাগের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত
বৈরী আবহাওয়া ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন সব জেলার উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।

গতকাল সন্ধ্যায় সমকালকে এ তথ্য জানান আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এবং ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি এবং এ বিভাগের অধীনে আলিম এবং এইচএসসি ভোকেশনাল, বিএমপি, ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষা ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বন্যা মোকাবিলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৭ নির্দেশনা
দেশের চলমান বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্যসেবা সচল রাখতে সাত দফা জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর মধ্যে বন্যাকবলিত এলাকায় মেডিকেল টিম গঠন, জরুরি ওষুধ ও স্যালাইনের পর্যাপ্ত মজুত, অ্যান্টি-ভেনম সরবরাহ, অন্তঃসত্ত্বা নারী ও শিশুদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর ছুটি বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মৃত্যু বেড়ে ৪৪
বন্যা ও পাহাড়ধসে দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সাতটি জেলা বন্যার কবলে পড়েছে। এসব জেলায় ৪৪ জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে সৃষ্ট এ দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সাত জেলার ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন মানুষ।

হবিগঞ্জে বিশুদ্ধ পানির সংকট
হবিগঞ্জ সদর উপজেলায় নদীভাঙনে প্লাবিত হয়েছে অন্তত ৩০টি গ্রাম। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। বানভাসিরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্য সংকটে।

মৌলভীবাজারে দুর্ভোগ বেড়েছে
মৌলভীবাজারে নদনদীর পানি কমতে শুরু করায় পরবর্তী দুর্ভোগ বেড়েছে। বন্যাকবলিত এলাকার অনেক স্থানে বিশুদ্ধ পানির সঙ্গে গোখাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। উপদ্রুত এলাকায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মার্কেটে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। অনেক এলাকার মানুষকে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন থাকতে হয়েছে।

গ্যাসের মজুত কমছে, বিকল্প সীমিত

দেশে গ্যাসের মজুত ও উৎপাদন কমছে। এর প্রভাব পড়ছে শিল্প খাত ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে। গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে উৎপাদন কমে যাওয়ায় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। এতে সরকারের ব্যয় ও ভর্তুকির চাপ বেড়েই চলেছে। সংকট মোকাবিলায় স্থল ও সমুদ্রে নতুন গ্যাস অনুসন্ধান ও অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হলেও বাস্তবায়নের গতি ধীর।

১৯৯৮ সালে বিবিয়ানায় গ্যাসের সন্ধান পাওয়ার পর দেশে আর কোনো বড় গ্যাসক্ষেত্রের খোঁজ মেলেনি। কিছু ছোট ক্ষেত্র আবিষ্কার হলেও সেগুলোর মজুত দেশের চাহিদার তুলনায় কম। ইরান যুদ্ধের কারণে স্পট মার্কেট থেকে উচ্চমূল্যে এলএনজি কিনতে হচ্ছে।

পেট্রোবাংলার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশে মোট গ্যাসের মজুত ছিল ১২ দশমিক ২৬ টিসিএফ (ট্রিলিয়ন ঘনফুট)। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ৮ দশমিক ১৫ টিসিএফে। দেশে বর্তমানে গ্যাসক্ষেত্র ২৯টি। এর মধ্যে ২০টি থেকে নিয়মিত গ্যাস উৎপাদন হচ্ছে। চারটি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হলেও সেগুলোকে এখনও উৎপাদনে আনা যায়নি। বাকি পাঁচটি ক্ষেত্র দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, উৎপাদনে থাকা ২০টি গ্যাসক্ষেত্রে গত জানুয়ারিতে মজুত ছিল ছয় দশমিক ৩২১ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ)। ছয় মাসের ব্যবধানে জুনে তা কমে প্রায় ছয় টিসিএফে নেমে এসেছে। বর্তমানে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৫৮ বিসিএফ গ্যাস উত্তোলন হচ্ছে।

পরিত্যক্ত পাঁচটি গ্যাসক্ষেত্র– ছাতক, সাঙ্গু, ফেনী, কামতা ও রূপগঞ্জে এখনও প্রায় ৬৬১ বিসিএফ গ্যাস রয়েছে। জকিগঞ্জ ও কুতুবদিয়ায় নতুন গ্যাসক্ষেত্র পাওয়া গেছে। প্রয়োজনীয় পাইপলাইন ও অবকাঠামোর অভাবে উৎপাদন শুরু করা যায়নি। আর ভোলার গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে মূল ভূখণ্ডে আনা সম্ভব হচ্ছে না। সেখানে প্রায় দুই টিসিএফ গ্যাস আছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানের কার্যকর মজুত দিয়ে সর্বোচ্চ আট বছরের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। গ্যাসক্ষেত্রে শেষ পর্যায়ে চাপ কমে যাওয়ায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাস মাটির নিচে রেখেই খনি বন্ধ করতে হয়। বাণিজ্যিক বিবেচনায় তা উত্তোলনযোগ্য নয়।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু গত ২২ জুন সংসদে বলেন, সংকট মোকাবিলায় নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে দেশের বিভিন্ন এলাকায় থ্রিডি সিসমিক জরিপ চলছে ও নতুন জরিপের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাপেক্সের সক্ষমতা বাড়াতে দুটি নতুন ড্রিলিং রিগ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বড় দুই ক্ষেত্রে উৎপাদন কমায় উদ্বেগ বাড়ছে
গ্যাসের সামগ্রিক মজুত হ্রাসের পাশাপাশি উদ্বেগ বাড়ছে দেশের সবচেয়ে বড় দুই গ্যাসক্ষেত্র বিবিয়ানা ও তিতাসে উৎপাদন কমে যাওয়ায়। মার্কিন কোম্পানি শেভরন পরিচালিত বিবিয়ানা থেকে দেশের মোট গ্যাসের প্রায় অর্ধেক সরবরাহ হয়। কয়েক বছর আগে এখানে দৈনিক ১২০ থেকে ১৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন হতো। বর্তমানে তা নেমে এসেছে প্রায় ৮৫ কোটি ঘনফুটে। পেট্রোবাংলার কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, এই ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২৮ সালের শেষ নাগাদ বিবিয়ানার উৎপাদন অর্ধেকে নেমে আসতে পারে।

একই রকম অবস্থা দেশের অন্যতম প্রাচীন গ্যাসক্ষেত্র তিতাসেও। পাঁচ বছর আগে যেখানে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যেত, এখন তা ৩০ কোটি ঘনফুটে দাঁড়িয়েছে। ইতোমধ্যে তিতাসের উত্তোলনযোগ্য মজুতের প্রায় ৮০ শতাংশ শেষ হয়ে গেছে।

ভরসা এলএনজি, বেড়েছে খরচ
দেশীয় উৎপাদনের ঘাটতি মেটাতে ২০১৮ সাল থেকে এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরতা শুরু হয়। বর্তমানে দেশে গ্যাস সরবরাহের প্রায় ৩০ শতাংশ আসে আমদানি করা এলএনজি থেকে। আমদানির কারণে দেশের ওপর আর্থিক চাপ দ্রুত বাড়ছে। পেট্রোবাংলার হিসাব অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছর থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত এলএনজি আমদানিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় দুই লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে প্রায় ৫১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

২০২৫ সালে ১০৯টি এলএনজি কার্গো আমদানিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৪৭ হাজার কোটি টাকা। চলতি বছর ১১৫টি কার্গো আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। এর বড় অংশ দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কাতার এবং ওমান থেকে আসার কথা। কিন্তু ইরান যুদ্ধের কারণে চাহিদা সামাল দিতে স্পট মার্কেট থেকে উচ্চমূল্যে এলএনজি কিনতে হয়। এতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এলএনজি খাতে ভর্তুকি ছয় হাজার কোটি থেকে বেড়ে সাড়ে ১৬ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছায়।

ভূতত্ত্ববিদ অধ্যাপক বদরূল ইমামের মতে, স্থানীয় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার করা এবং এ খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য তারা দীর্ঘদিন ধরে সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়ে এসেছেন। কিন্তু সরকার দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানকে গুরুত্ব না দিয়ে আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভরশীলতা বাড়িয়েছে। ফলে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হলেও দেশের জ্বালানি সরবরাহে কাঙ্ক্ষিত স্থিতিশীলতা আসেনি।

উদ্যোগ আছে, অনুসন্ধানে গতি কম
গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে সরকার নতুন কূপ খননের পরিকল্পনা নিয়েছে। পেট্রোবাংলার কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৫ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ৫০টি এবং ২০২৬ থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে আরও ১০০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভারের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে অনুসন্ধান, উন্নয়ন ও সংস্কার মিলিয়ে ৫০টি কূপের কাজ চলছে, যার মধ্যে ৩১টি পুরোনো কূপ সংস্কারে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

তবে বাস্তব অগ্রগতি এখনও ধীর বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। স্থলভাগে কিছু কাজ এগোলেও দীর্ঘদিন সমুদ্রে কার্যকর কোনো অনুসন্ধান হয়নি। ২০১২ ও ২০১৪ সালে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তির পর বঙ্গোপসাগরের ২৬টি ব্লকে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হলেও কোনো বিদেশি কোম্পানি চূড়ান্ত প্রস্তাব জমা দেয়নি। বর্তমানে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় কোনো আন্তর্জাতিক কোম্পানি অনুসন্ধান চালাচ্ছে না।

এ অবস্থায় সম্প্রতি সংশোধিত উৎপাদন অংশীদারিত্ব চুক্তির (পিএসসি) আওতায় মোট ২৬টি ব্লকের জন্য আবারও আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে স্থল ও সমুদ্রে দ্রুত এবং ব্যাপক অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করাই এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ম তামিম সমকালকে বলেন, দেশের অধিকাংশ গ্যাসক্ষেত্রের আয়ু শেষের দিকে।  পেট্রোবাংলার উচিত আগ্রাসী পরিকল্পনা নেওয়া।  তারা স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি নানা পরিকল্পনা করছে। কিন্তু সেগুলো সেভাবে কার্যকর হচ্ছে না। কারণ খনন পদ্ধতি অনেক এগিয়ে গেছে। কিন্তু বাংলাদেশ এখনও মান্ধাতার আমলের পদ্ধতিতে এগোচ্ছে।

ম তামিম বলেন, স্থলভাগের যেসব গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদন কমে গেছে সেগুলোতে বিদেশি অভিজ্ঞ কোম্পানিকে কাজে লাগানো উচিত। দেশি আর বিদেশি কোম্পানির মধ্যে পার্থক্য দেশেই আছে। প্রায় সমান মজুত নিয়ে শেভরন বিবিয়ানা থেকে এক সময় ১২০-১৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন করত। অন্যদিকে তিতাস গ্যাসক্ষেত্র থেকে মাত্র ৪০ থেকে ৪৫ কোটি ঘনফুট মিলেছে। তিনি বলেন, আর্থিক সক্ষমতা থাকলেও চাইলে এলএনজির সরবরাহ বাড়ানো যাবে না। কারণ অবকাঠামো নেই। নতুন টার্মিনাল স্থাপনে চার থেকে আট বছর লাগবে। তাই স্বল্প মেয়াদে গ্যাস সংকটের সমাধানের জন্য স্থলভাগে আগ্রাসী অনুসন্ধান চালাতে হবে।

আমদানির ক্ষেত্রেও অবকাঠামো সংকট
সরকার গ্যাস আমদানি বাড়ানোর উদ্যোগ নিলেও তা বাস্তবায়ন কঠিন হবে। কারণ এ জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। মহেশখালীতে তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা ঝুলে আছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিশেষ আইনে করা সামিট গ্রুপের চুক্তিটি ২০২৪ সালের অক্টোবরে অন্তর্বর্তী সরকার বাতিল করে। পরে এটি আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র বা জিটুজি মডেলে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক দায়বদ্ধতা না চাপানোর নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে শেষ মুহূর্তে চূড়ান্ত চুক্তি সই প্রক্রিয়াটি স্থগিত করা হয়।

একই সঙ্গে কক্সবাজারের মাতারবাড়ীতে দেশের প্রথম স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনালটি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ মডেলে বাস্তবায়নের জন্য পেট্রোবাংলা গত ২৮ জুন আন্তর্জাতিক আগ্রহপত্র প্রকাশ করেছে। দৈনিক ১০০ কোটি ঘনফুট হ্যান্ডলিংয়ের ক্ষমতাসম্পন্ন এই টার্মিনালের জন্য ফিন্যান্সিয়াল ও টেকনিক্যাল কনসাল্ট্যান্ট নিয়োগের কাজ বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন।

এই খাত-সংশ্লিষ্টদের মতে, এখনই যদি এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন কাজ শুরু হয় তা শেষ করতে কয়েক বছর লাগবে। চুক্তির পর এফএসআরইউ স্থাপনে দুই বছর সময় লাগে। স্থলভাগের টার্মিনাল নির্মাণে ৭-৮ বছর সময় প্রয়োজন।

পেট্রোবাংলার পরিচালক (পরিকল্পনা) আব্দুল মান্নান পাটোয়ারী বলেন, দেশে গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বাপেক্সকে শক্তিশালী করা হচ্ছে। সমুদ্রের ব্লক ইজারা দিতে দরপত্র ডাকা হয়েছে। এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনে কাজ চলছে। সংস্থাটির পরিচালক (পিএসসি) জানান, সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধান ডাকা দরপত্রে সময়সীমা আগামী নভেম্বর পর্যন্ত। এখন পর্যন্ত ৫টি কোম্পানি তথ্যউপাত্ত কিনেছে।

ধুঁকছে পোশাক শিল্পও
পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ না থাকায় তৈরি পোশাক, টেক্সটাইলের মতো শিল্পকারখানায় উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমছে। অনেক কারখানায় দিনের দীর্ঘ সময় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে সময়মতো ক্রেতাদের কাছে পণ্য সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে, যা রপ্তানি বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। উৎপাদন সচল রাখতে অনেক উদ্যোক্তাকে ব্যয়বহুল বিকল্প জ্বালানি (ডিজেল, এলপিজি) ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় আরও বেড়ে যাচ্ছে এবং প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে।

বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম সমকালকে বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে অনেক কারখানার উৎপাদন ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমেছে। বিপরীতে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারে উৎপাদন খরচ প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে অনেক প্রতিষ্ঠানের রপ্তানি আদেশ বাতিল হচ্ছে, ব্যাংকঋণ পরিশোধে জটিলতা তৈরি হয়েছে। কিছু কারখানা উৎপাদন কমিয়ে দিতে বা বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছে।

গ্যাস সংযোগের অভাবে স্থবির বিনিয়োগ
দেশে গ্যাসের ঘাটতির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে শিল্প খাতে। নতুন শিল্পকারখানা নির্মাণ শেষ হলেও গ্যাস সংযোগ না পাওয়ায় হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ আটকে আছে। গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলোর কাছে বর্তমানে প্রায় এক হাজার ৮০০টি শিল্পে গ্যাস সংযোগের আবেদন জমা রয়েছে। এর মধ্যে ডিমান্ড নোটের অর্থ পরিশোধ করেও চার-পাঁচ বছর ধরে অপেক্ষায় আছে অন্তত ৫৫০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান। ফলে স্টিল, তৈরি পোশাক, সিমেন্টসহ বিভিন্ন খাতের অনেক কারখানা উৎপাদনে যেতে পারছে না। বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চল ও শিল্পাঞ্চলে অন্তত ৩৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ অলস পড়ে আছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

গ্যাস সংযোগের অভাবে বেশি বিপাকে পড়েছে বড় বড় শিল্পগোষ্ঠী। সিটি গ্রুপের প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা, মেঘনা গ্রুপের ১৬ হাজার কোটি টাকা, আব্দুল মোনেম গ্রুপের পাঁচ হাজার কোটি টাকা এবং বসুন্ধরা, নিটল-নিলয়, টিকে ও আমান গ্রুপের কয়েক হাজার কোটি টাকার প্রকল্প রয়েছে উৎপাদনের অপেক্ষায়। কারখানা চালু না হলেও ব্যাংকঋণের সুদ ও কিস্তি পরিশোধ করতে হচ্ছে উদ্যোক্তাদের। ফলে বাড়ছে আর্থিক চাপ। মিরসরাই, জামালপুর, সিরাজগঞ্জসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চলে অবকাঠামো প্রস্তুত থাকলেও গ্যাস সংযোগের অভাবে বিনিয়োগের গতি থমকে আছে।

জিতেও খুশি নন টুখেল, মন ভরেনি পারফরম্যান্সে

০

নরওয়েকে হারিয়ে ২০১৮ সালের পর ফের বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। তবুও খুশি নন ইংল্যান্ডের কোচ থমাস টুখেল। জয়ের আনন্দ ছাপিয়ে তার কণ্ঠে অসন্তোষের প্রতিধ্বনিই বেশি শোনা গেল। ম্যাচ জয়ের পেছনে নিজেদের পারফরম্যান্সের চেয়ে ভাগ্যের অবদানকেই বড় করে দেখছেন ইংল্যান্ডের এই জার্মান কোচ।

রোববার রাতে মায়ামিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরুতে পিছিয়ে পড়েছিল ইংল্যান্ড। তবে জুড বেলিংহামের জোড়া গোলে শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে জয় পায় ইংলিশরা। সেমিফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

ম্যাচ শেষে টুখেলকে তেমন কোনো উদযাপন করতে দেখা যায়নি। নিজের অসন্তোষও লুকাননি। ম্যাচের পর মাঠেই দেওয়া ছোট প্রতিক্রিয়ায় এই জার্মান কোচ বলেন, ‘আমরা নিজেদের জন্য পরিস্থিতি খুব কঠিন করে তুলেছিলাম। ফলাফল অবশ্য দারুণ হয়েছে। শেষ চারে যেতে পারার অনুভূতি দুর্দান্ত। কিন্তু আমি এমন পারফরম্যান্সে খুশি নই।’

সন্তোষজনক পারফরম্যান্স ছাড়াই ম্যাচ জেতায় ভাগ্যকে কৃতিত্ব দিয়েছেন টুখেল। শিষ্যদের লড়াইয়ের মানসিকতার প্রশংসা করলেও তাদের খেলার ধরন নিয়ে হতাশাই প্রকাশ করেছেন ইংল্যান্ড কোচ।

তিনি বলেন, ‘মাঠে খেলোয়াড়দের নিবেদনে কোনো কমতি নেই। কিন্তু আমরা আজ যেভাবে খেলেছি, তাতে নিজেদের জন্য পরিস্থিতি কেবল কঠিনই করেছি। আমরা নিরাপদ ফুটবল খেলার চেষ্টা করেছি, যথেষ্ট আক্রমণাত্মক মনোভাব দেখাইনি। আমরা আজ ভাগ্যবান ছিলাম।’

সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার আগে নিজেদের পারফরম্যান্সে আরও উন্নতির জায়গা দেখছেন টুখেল। তার ভাষ্য, ‘আমাদের আরও উন্নতি করতে হবে। এখন উদযাপনের সময়। এজন্য আমাদের হাতে তিন দিন সময় আছে।’

সুইসদের রূপকথা থামিয়ে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা

০

১২০ মিনিটের শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই শেষে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা ১-১ সমতায় শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত সময়ে হুলিয়ান আলভারেজ ও লাউতারো মার্তিনেজের জোড়া আঘাতে সুইসদের প্রতিরোধ ভেঙে চুরমার করে দেয় আলবিসেলেস্তেরা। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে লিওনেল মেসির দলের প্রতিপক্ষ জুড বেলিংহামের ইংল্যান্ড।

ম্যাচের ১০ মিনিটের মাথায় লিড নেয় আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির মাপা কর্নার কিক থেকে হেডে বল জালে জড়ান আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টার। ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও দমে যায়নি সুইজারল্যান্ড। প্রথমার্ধে বেশ কিছু সুযোগ হাতছাড়া করলেও দ্বিতীয়ার্ধের ৬৭ মিনিটে ঠিকই সমতায় ফেরে তারা। মাঝমাঠ থেকে গড়া এক গোছানো আক্রমণ থেকে আর্জেন্টিনার রক্ষণ ভেঙে এমি মার্তিনেজকে পরাস্ত করেন ড্যান এনদোয়ে।

সমতায় ফেরার আনন্দ বেশি সময় স্থায়ী হয়নি সুইজারল্যান্ডের। ম্যাচের ৭২ মিনিটে ডাইভ দিয়ে ফাউল আদায়ের অভিনয় করতে গিয়ে ভিএআর প্রযুক্তির ফাঁদে পড়েন সুইস ফরোয়ার্ড ব্রিল এমবোলো। রেফারিকে প্রতারিত করার দায়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের সাথে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন তিনি। ১ জন কম নিয়ে খেলার পরও নির্ধারিত ৯০ মিনিট পর্যন্ত আর্জেন্টিনার একের পর এক আক্রমণ রুখে দিয়ে ম্যাচটিকে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যায় লড়াকু সুইজারল্যান্ড।

টাইব্রেকারের শঙ্কা যখন ড্রেসিংরুম জুড়ে ভর করছিল, ঠিক তখনই জাদুকরী মুহূর্তের জন্ম দেন হুলিয়ান আলভারেজ। অতিরিক্ত সময়ের ১১২ মিনিটে বক্সের বাঁ দিকের কোণা থেকে ডান পায়ের অবিশ্বাস্য রকেট শটে বল জালে পাঠান এই ফরোয়ার্ড। সুইস কিপার গ্রেগর কোবেলের কেবল চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করার ছিল না। এই গোলের উদযাপনের সময় মাঠে দুই দলের খেলোয়াড়দের তর্কের জেরে আর্জেন্টিনার বদলি খেলোয়াড় হোসে ম্যানুয়েল লোপেজকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি।

শেষ ৪ মিনিটের ইনজুরি টাইমে সমতা ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে ১০ জনের সুইজারল্যান্ড। ঠিক তখনই অতিরিক্ত সময়ের যোগ করা সময়ে আর্জেন্টিনার হয়ে তৃতীয় গোলটি করেন লাউতারো মার্তিনেজ। আর তাতেই ৩-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।

ভারী বৃষ্টি ও ঢল চট্টগ্রামসহ ৫ জেলায় দুর্যোগ, সুপেয় পানির সংকট

কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। চুলা ধরানোর জায়গা নেই। তাই দুর্গত এলাকার কয়েক লাখ মানুষ খাবার ও সুপেয় পানির সংকট পোহাচ্ছে। নারী ও শিশুসহ ৩০ হাজার ৫৮৫ জন উঠেছে আশ্রয়কেন্দ্রে। চট্টগ্রাম বোর্ডের আজ শনিবারের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

এদিকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে পর্যাপ্ত খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি পৌঁছানো এবং তাদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

গতকাল শুক্রবার পানিতে ডুবে চার শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ নিয়ে গত ছয় দিনে ৩৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে পাহাড়ধসে মৃত্যু হয়েছে ২৪ জনের।
চট্টগ্রামের সাতটি উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাঁশখালী, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ার অবস্থা করুণ। হাজার হাজার ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট বুকসমান পানিতে ডুবে গেছে। পুকুরে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা মৎস্য প্রকল্প ও মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে। রান্নার চুলায় হাঁড়ি উঠছে না। নলকূপ পানিতে ডুবে যাওয়ায় সুপেয় পানির হাহাকার দেখা দিয়েছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাও।

বন্যার মধ্যেই বঙ্গোপসাগরের কোথাও কোথাও বেড়িবাঁধ ভেঙে পড়ছে– এই খবরে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক আরও বাড়ছে। জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, গতকাল পর্যন্ত জেলার প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাহাড়ধস ও পানিতে ভেসে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্গতদের জন্য ৬৭০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ২৩ হাজার ৮০০ মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বলা হয়েছে, আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়া মানুষের খাদ্য ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।

আশ্রয় নেওয়াদের জন্য চিড়া, মুড়ি, গুড় এবং শিশুদের জন্য বিশেষ খাবার হিসেবে মাফিন, কেক ও বিস্কুটসহ ওরস্যালাইন এবং পাঁচ লিটার করে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ ছাড়া নারী ও শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে এবং প্রবীণ ও অন্তঃসত্ত্বা নারীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে প্রতিটি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় মেডিকেল সাপোর্ট নিশ্চিত করা হয়েছে।
গত ৫ জুলাই থেকে গতকাল ১০ জুলাই পর্যন্ত ছয় দিনে চট্টগ্রামে বৃষ্টিপাত হয়েছে এক হাজার ১১৭৫ মিলিমিটার! গত চার দশকে চট্টগ্রামে এটি সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতের রেকর্ড।

পানিতে ডুবে মৃত্যু তিন শিশুর
ঢলের পানিতে ডুবে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ও সরল ইউনিয়নে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ওই তিন শিশু হলো বাহারছড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ইলশা গ্রামের মেহের আলী বাড়ির প্রবাসী কামাল উদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ আশিক (৭), একই ইউনিয়নের রত্নপুর এলাকার মোহাম্মদ মিরাজ (৩) এবং সরল ইউনিয়নের জালিয়াখালী এলাকার এক শিশু।

এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত
বৈরী আবহাওয়া ও বন্যা পরিস্থিতির অবনতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন পাঁচ জেলায় আজ শনিবার অনুষ্ঠেয় এইচএসসির তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। স্থগিত হওয়া পরীক্ষার নতুন সময়সূচি পরে জানানো হবে।

গতকাল চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বিভাগের ওই পাঁচ জেলায় শনিবারের আলিম, এইচএসসি বিএমটি, ভোকেশনাল ও ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে।

ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক
গত বুধবার থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইনের চন্দনাইশসহ বিভিন্ন উপজেলায় রেললাইনে বন্যার পানি জমে থাকায় ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তবে গতকাল থেকে এ রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।

 

সেনাবাহিনী মোতায়েন
চট্টগ্রাম জেলায় ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের জরুরি অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন ও ২৪ পদাতিক ডিভিশন বন্যাদুর্গত বিভিন্ন উপজেলায় অনুসন্ধান, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

কক্সবাজার
বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে ১০ উপজেলার ৪০টি ইউনিয়নের পাঁচ লাখের বেশি মানুষ। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আজাদের রহমান সমকালকে জানান, গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত কক্সবাজার জেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৫০ হাজার ৬৬২ জন। ৬৪০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১৪ হাজার ৬১ জন রয়েছেন। সরকারিভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২০০ টন চাল, ৪৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ১২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা।

নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার পথে নৌকাডুবিতে মৃত্যু হয়েছে এক শিশুর। তার নাম হাসনাতু জান্নাত (১২)। আরও দুই শিশুকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। শিশু জান্নাত উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের রসুলাবাদ গ্রামের আবদুল মালেকের মেয়ে।

কাকরা ইউনিয়নের বাসিন্দা আহমেদুল হক বলেন, ঘরে চাল আছে, তরকারি আছে। কিন্তু রান্না করার জায়গা নেই। মাটির চুলা বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। এখন শুকনা বা রান্না করা খাবার দরকার। গত বৃহস্পতিবার ভোরে ঘরে পানি ঢোকার পর থেকে ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করতে পারেননি।

উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর, লক্ষ্যারচর, কৈয়ারবিল, বরইতলী, হারবাং, ফাঁসিয়াখালী, ডুলাহাজারা ও খুটাখালী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। যেসব স্থানে গতকাল হাঁটুপানি ছিল, গতকাল সেখানে কোমরপানি দেখা গেছে।

পানি ওঠার কারণে গবাদিপশু নিয়েও বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। বরইতলী ইউনিয়নের ডেইঙ্গাকাটা এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী হোসেন বলেন, পাঁচটি গরুই তাঁর একমাত্র সম্বল। পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় নৌকায় করে গরুগুলো নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছেন। পরিবারের সদস্যরা আশ্রয় নিয়েছেন পাশের একটি বাড়ির ছাদে। কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শাহিদুল আলম সমকালকে বলেন, দুর্গতদের টাকা, চালসহ প্রয়োজনীয় অনুদান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

রাঙামাটি
বাঘাইছড়ি, জুরাছড়ি, বিলাইছড়ি উপজেলাসহ ১০ উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে উদ্ভূত বন্যার পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। হাজারও মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ৪০টি আশ্রয়কেন্দ্রে আছেন ৩ হাজার ৫২৪ জন। বিভিন্ন নদনদীতে উজান থেকে নেমে আসা ঢলে বাঘাইছড়ি উপজেলা ও পৌরসভা, জুরাছড়ি উপজেলার মৈদং ইউনিয়ন, জুরাছড়ি সদর, বনযোগীছড়া ইউনিয়ন, বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি এলাকা ও বরকল উপজেলার কয়েকটি এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলার ১০ উপজেলার ২০৪টি আশ্রয়কেন্দ্রের মধ্যে ৪০টিতে ৩ হাজার ৫২৪ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। এর মধ্যে রাঙামাটি সদরে ৫০৮ জন, কাউখালী ১১৫ জন, কাপ্তাইয়ে ১৯৮ জন, বাঘাইছড়ি উপজেলায় ২৩৬৬ জন, রাজস্থলীতে ৪৮ জন, নানিয়ারচরে ৩৩ জন, বিলাইছড়িতে ১২২ জন, বরকলে ১১৮ জন ও জুরাছড়িতে ১৬ জন রয়েছেন। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানান, পানিবন্দি লোকজনকে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা লোকজনকে তিন বেলা খাবার দেওয়া হচ্ছে।

খাগড়াছড়ি
গতকাল দিনভর বৃষ্টি বিরতির ফলে খাগড়াছড়িতে পানি দ্রুত নামতে শুরু করেছে। জেলা ও আন্তঃউপজেলা সড়কের নিচু অংশ থেকে পানি সরে যাওয়ায় খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি, দীঘিনালা-বাঘাইছড়ি, দীঘিনালা-সাজেক এবং দীঘিনালা লংগদু সড়কেও ছোট ছোট যানবাহন এবং মানুষের চলাচল বেড়েছে। তবে কোথাও কোথাও সড়কের অবকাঠামো (সেতু ও ধারক দেয়াল) ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ভারী যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

তবে এরই মধ্যে প্লাবিত হয়েছে ৩০টি গ্রাম। পানিবন্দি হয়েছে অন্তত ৩০ হাজার মানুষ। ২৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে আছে ১৮০০ জন। জলাবদ্ধতা বিরাজ করছে জেলাশহর এবং দীঘিনালার মেরুং ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে। জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি এলাকা পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে দীঘিনালাতেই। জেলা শহর এবং দীঘিনালা উপজেলার মেরুং ও কবাখালী এলাকায় প্রশাসন-জনপ্রতিনিধির পাশাপাশি সেনাবাহিনীকে ত্রাণ তৎপরতায় অংশ নিতে দেখা গেছে।

সাজেক থেকে ফিরেছেন ৪২১ পর্যটক
দীঘিনালা-সাজেক-বাঘাইহাট সড়কের পানি কিছুটা কমেছে। এতে সাজেকে আটকে পড়া ৪২১ পর্যটককে নিরাপদে খাগড়াছড়ি পৌঁছে দিয়েছে সেনাবাহিনী ও ট্যুরিস্ট পুলিশ। এর পর পর্যটকরা নিজ নিজে গন্তব্যে চলে গেছেন। জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত জানান, খাগড়াছড়ি থেকে পর্যটকদের নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছাতে সহযোগিতা করার জন্য পরিবহন মালিক ও অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বান্দরবান
জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। গতকাল পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও প্রধান সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সারাদেশের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ ছিল। গতকাল সকাল থেকে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়। তবে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় দূরপাল্লার যাত্রী, পর্যটক ও পণ্যবাহী যানবাহনের চালক ও শ্রমিকরা দুর্ভোগে পড়েছেন। জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস বলেন, ‘বন্যাদুর্গত এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে যেতে মাইকিং এবং সার্বক্ষণিক মনিটর করা হচ্ছে।’

হাতিয়ার দুই লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়া পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়নের দুই লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। গত রোববার থেকে গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত টানা বৃষ্টি হয়েছে। পানিবন্দি নিম্ন আয়ের মানুষ অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন। ৩০০ হেক্টর জমির আমন ধানের বীজতলা তিন থেকে চার ফুট পানি নিচে তলিয়ে গেছে।

মৌলভীবাজারের ২৫ গ্রামের মানুষ পানিবন্দি, মৃত্যু ১
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার উজিরপুর ও একামধু এলাকার দুটি স্থানে মনু নদের বাঁধ ভেঙে অন্তত ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। আকুয়া গ্রামে বন্যার পানিতে ডুবে আশোরফ আলী আশই (৭০) নামে এক ব্যক্তি গতকাল শুক্রবার মারা গেছেন। ভাঙন এলাকায় বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। একামধু, ভাঙ্গারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অন্তত চারটি স্কুল জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। একামধু গ্রামের অনেকের ঘরবাড়ি পানিতে নিমজ্জিত থাকায় পরিবারের সদস্য, গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি ও অন্যান্য জিনিসপত্র নিয়ে কেউ কেউ মনুর তীর রক্ষাবাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন। অনেকে নিকটবর্তী আত্মীয়স্বজনের বাড়ি গেছেন।

সুনামগঞ্জে জনজীবন স্থবির
টানা বৃষ্টিতে সুনামগঞ্জে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। সুনামগঞ্জ শহর ও শহরতলির কোনো কোনো এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে বিকেলে জানানো হয়েছে, সকালের চেয়ে বিকেলে সামান্য পরিমাণে কমেছে জেলা শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সুরমার পানি।

হবিগঞ্জের ১৫ গ্রাম প্লাবিত
কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে খোয়াই নদ। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জে নদের বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। এতে অন্তত ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। হঠাৎ পানি ঢুকে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। গবাদি পশু ও আসবাব নিয়ে নিরাপদ স্থানে ছুটছেন দুর্গতরা।

চুয়াডাঙ্গার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
টানা বৃষ্টিতে চুয়াডাঙ্গা জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বসতবাড়ি ও ফসলের মাঠ তলিয়ে গেছে। বিপাকে পড়েছেন মানুষ। দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুরে রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় দুই গ্রামের মধ্যে চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বৃষ্টির কারণে গ্রীষ্মকালীন সবজি ও আমন বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সাতক্ষীরায় কোথাও কোথাও হাঁটুপানি
কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে সাতক্ষীরা শহরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পৌর সদরের নিম্নাঞ্চলের গ্রামীণ সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। কোনো কোনো এলাকায় হাঁটুপানি জমে থাকায় সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। রাস্তার পাশের ড্রেন দিয়ে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় অনেকের বাড়ির উঠান, রান্নাঘরে এমনকি বসতঘরে পানি জমেছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা।

শেরপুরে ৩০ মিটার সড়ক বিলীন
টানা দুদিনের বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে শেরপুর-নালিতাবাড়ী-গাজীর খামার সড়কের গোল্লারপাড় এলাকায় প্রায় ৩০ মিটার পাকা সড়কের অর্ধেক নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। গত বুধবার বিকেল থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত দফায় দফায় ভারী বৃষ্টিপাত এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকে আর বৃষ্টিপাত হয়নি।

বেনাপোল বন্দরে কোটি কোটি টাকার পণ্য নষ্ট
টানা বৃষ্টিতে তলিয়েছে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কোটি কোটি টাকার পণ্য। বন্দরের বিভিন্ন শেডে হাঁটুপানিতে ভাসছে জিনিসপত্র। সরু ড্রেনসহ পানি নিষ্কাশনে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা থাকায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতার।

‘আমরা ফ্রান্সকে ভয় পাই না, ভয়টা ওদেরই হওয়া উচিত’

০

লস অ্যাঞ্জেলসে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে স্পেন। আর শেষ চারে পা রাখতেই ব্লকবাস্টার লড়াইয়ের পারদ চড়তে শুরু করেছে। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে স্পেনের প্রতিপক্ষ এমবাপ্পের ফ্রান্স। শিরোপার অন্যতম দুই প্রধান দাবিদারের এই হাই-ভোল্টেজ মহারণ নিয়ে এবার ফরাসি শিবিরকে হুঙ্কার দিয়ে রাখলেন স্পেনের আক্রমণভাগের কাণ্ডারি লামিন ইয়ামাল।

বেলজিয়াম বধের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ইয়ামাল জানিয়ে দেন, ফরাসি ব্রিগেডকে বিন্দুমাত্র সমীহ করছে না লা রোজা’রা। বরং সাম্প্রতিক ইতিহাস টেনে ইয়ামাল বলেন, ভয়টা ফরাসিদেরই হওয়া উচিত।

ইয়ামাল বলেন, ‘ফ্রান্সেরই আমাদের ভয় পাওয়া উচিত, কারণ আমরা ওদের দু-দুবার হারিয়েছি। আমরা ওদের মোটেও ভয় পাচ্ছি না। এই মুহূর্তে বুকভরা আত্মবিশ্বাস নিয়ে যদি কেউ ফ্রান্সের বিপক্ষে মাঠে নামার যোগ্যতা রাখে, তবে সেটা আমরাই। আমার স্পষ্ট মনে হয়, আমরাই এই টুর্নামেন্টের সেরা দল।’

স্প্যানিশ সমর্থকদের আশ্বস্ত করে এই তরুণ জাদুকর আরও যোগ করেন, ‘দলের সবাই এখন দারুণ খুশি এবং উত্তেজিত। আমরা সেমিফাইনালে নিজেদের সবকিছু উজাড় করে দেব। সমর্থকেরা যেন আমাদের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখেন এবং আপাতত শেষ চারে ওঠার আনন্দ উদযাপন করেন।’

স্পেন ও ফ্রান্সের মধ্যকার সবচেয়ে স্মরণীয় লড়াইগুলোর একটি ছিল ২০২৪ ইউরোতে। সেবার স্পেনের হয়ে দুর্দান্ত এক গোলে সমতা ফিরিয়েছিলেন ইয়ামাল, যা শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে জয় এনে দিয়েছিল তার দলকে। তিনি বলেন, ‘আশা করি সেটা আবার হবে, আমি সত্যিই চাই সেই দিনটা এখনই আসুক।’

ফ্রান্সের বিপক্ষে কৌশলগত এবং মানসম্পন্ন এক লড়াইয়ের অপেক্ষায় থাকা আছেন বার্সেলোনার এই খেলোয়াড়। তিনি বলেন, ‘আমি আশা করছি তারা আমাদের বিপক্ষে আক্রমণাত্মক খেলবে, তবে পুরো ম্যাচ ধরে নয়। কোনো দলই পুরো মাঠজুড়ে এক-বনাম-এক লড়াই করবে না। আমরা সবাই জানি ফ্রান্সের উপরে ও নিচে মানসম্পন্ন খেলোয়াড় আছে এবং তারা অনেক শারীরিক শক্তির খেলা খেলে। আমরা নিজেদের মতো করেই খেলব এবং বল দখলে রাখার চেষ্টা করব। আমি অনেক আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলতে যাচ্ছি, জানি সবকিছু ভালো হবে, ম্যাচের জন্য প্রস্তুত আছি এবং সেই দিনটা আসার অপেক্ষায় আছি।’