Home Blog Page 84

ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলার পাশে নেইমার

ভূমিকম্পে লণ্ডভণ্ড ভেনেজুয়েলার পাশে দাঁড়িয়েছেন ব্রাজিলের তারকা ফুটবলার নেইমার জুনিয়র। লাতিন আমেরিকার প্রতিবেশী দেশটির মানবিক বিপর্যয়ে জরুরি উদ্ধার তৎপরতা ও ত্রাণ সহায়তার জন্য তিনি ২ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ কোটি টাকা) অনুদান দিয়েছেন। ভেনেজুয়েলার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘এল সুমারিও’র বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, নেইমারের দেওয়া এই বড় অঙ্কের অর্থ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত গৃহহীন মানুষের জন্য জরুরি খাদ্যসামগ্রী, বিশুদ্ধ পানীয় পানি, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী এবং অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের কাজে ব্যয় করা হবে। দুর্যোগ-পরবর্তী এই কঠিন সময়ে দ্রুততম উপায়ে মানবিক সাহায্য নিশ্চিত করতে এই তহবিল সরাসরি মাঠপর্যায়ে ব্যবহার করা হবে।

ভেনেজুয়েলার প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও মানুষের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ নিয়ে আবেগঘন এক বার্তা দিয়েছেন নেইমার। তিনি বলেন ‘ভেনেজুয়েলার মানুষের জন্য আমার হৃদয় কাঁদছে। আমি আশা করি, এই ছোট্ট সহায়তা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য কিছুটা হলেও শক্তি ও স্বস্তি বয়ে আনবে।’

উল্লেখ্য, ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা সাম্প্রতিক স্মরণকালের ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। সরকারি সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত প্রাণহানির সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৫০০ জনে পৌঁছেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো হাজার হাজার মানুষ আটকে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিখোঁজদের জীবিত উদ্ধারে দেশি-বিদেশি উদ্ধারকর্মীরা দিনরাত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে স্ত্রী ও সন্তান হারালেন আর্জেন্টাইন ফুটবলার

ভেনেজুয়েলার ভয়াবহ ভূমিকম্পে আর্জেন্টিনার ফুটবলার লুকাস ত্রেহোর স্ত্রী ও তাদের দুই সন্তান নিহত হয়েছেন। দীর্ঘ ৭৪ ঘণ্টা পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

লুকাস ত্রেহো ভেনেজুয়েলার ক্লাব স্পোর্ট মারিতিমো দে লা গুয়াইরার হয়ে খেলছেন। সেই সুবাদে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি ভেনেজুয়েলার লা গুয়াইরা প্রদেশে বসবাস করতেন।

রোববার ক্লাব কর্তৃপক্ষ এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ভূমিকম্পে ত্রেহোর স্ত্রী ও সন্তানদের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে গভীর শোক জানিয়েছে।

গত ২৪ জুন ভেনেজুয়েলার উত্তর উপকূলে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে দেশটিতে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা ঘটে। ভূমিকম্পের সময় ৩৮ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইন ফুটবলার দলের সঙ্গে রাজধানী কারাকাসে অবস্থান করছিলেন।

ভূমিকম্পের কিছুক্ষণ পরই ত্রেহো জানতে পারেন, লা গুয়াইরার প্লায়া গ্রান্দেতে অবস্থিত তাদের আবাসিক ভবনটি সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। খবর পেয়েই তিনি দুর্গত এলাকায় ছুটে যান এবং উদ্ধারকর্মীদের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের খোঁজে যোগ দেন। পাশাপাশি আর্জেন্টিনা থেকে তার বাবা ও ভাইও ভেনেজুয়েলায় ছুটে আসেন। দীর্ঘ ৭৪ ঘণ্টা অনুসন্ধানের পর উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তার স্ত্রী ইয়ানিনা মারানেল্লা এবং দুই সন্তান অ্যারন ও আইনহোয়ার মরদেহ উদ্ধার করেন।

এ ঘটনায় ভেনেজুয়েলা ও আর্জেন্টিনার ফুটবল অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য ফুটবলার, ক্লাব ও সমর্থক লুকাস ত্রেহোর প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন এবং নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করেন।

এর আগে পরিবারের সন্ধান না পাওয়ার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে এক আবেগঘন বার্তায় ত্রেহো লিখেছিলেন, ‘আমাদের প্লায়া গ্রান্দের ভবনটি ধসে পড়েছে। আমার পরিবারের কোনো খোঁজ পাচ্ছি না। তাদের জন্য প্রার্থনা করুন। যদি কেউ তাদের দেখে থাকেন, দয়া করে জানাবেন। আমি এখনো বিশ্বাস করতে চাই, তারা হয়তো তখন ভবনের বাইরে ছিল।’

আফগানিস্তানে ফের পাকিস্তানের বিমান হামলায় নিহত ৩৬

আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় তিনটি প্রদেশে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। এতে অন্তত ৩৬ জন বেসামরিক নিহত ও আহত হয়েছেন ১৬৩ জন। সোমবার তালেবান সরকারের এক মুখপাত্র এসব তথ্য জানিয়েছেন।

মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত তাঁর এক্স অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, গত রাতে চালানো এই হামলায় নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশু আছে। তবে ইসলামাবাদের দাবি, হামলায় ২৫ জঙ্গি নিহত হয়েছে।

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, গত সপ্তাহের শেষ দিকে করাচিতে একটি সশস্ত্রগোষ্ঠী হামলা করেছিল। তাদের দমন করতে আফগানিস্তানে ওই অভিযান চালানো হয়। তবে আফগান কর্তৃপক্ষ তাদের ভূখণ্ডে কোনো সশস্ত্রগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই দুই প্রতিবেশীর সম্পর্ক বেশ উত্তপ্ত। গত ফেব্রুয়ারিতে কয়েক সপ্তাহ ধরে পাল্টাপাল্টি হামলায় জড়ায় সেনারা। সোমবারের ঘটনা নিয়ে তালেবান সরকারের প্রধান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, এটি ‘কাপুরুষোচিত’ আগ্রাসন।

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার দাবি, বিমান হামলার পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় স্থল অভিযানও চালানো হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য ছিল, জায়শ-উল-আহরার। এটি টিটিপির একটি বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠী। বিমান হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল আফগানিস্তানের পাকতিয়া, পাকতিকা ও কুনার প্রদেশে।

 

ভেনেজুয়েলা একদিকে ‘অলৌকিক উদ্ধারের’ ঘটনা, অন্যদিকে চলছে লুটপাট

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের চারদিন পর একটি ধ্বংসস্তূপ থেকে বাবা ও ছেলেকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরের একটি এলাকায় ওই অভিযান চালায় ফরাসি ও মার্কিন উদ্ধারকারী দল।

বার্তা সংস্থা এএফপির সাংবাদিকরা নিশ্চিত করেছেন, স্থানীয় সময় রোববার কারাবালেদা এলাকা থেকে এক কিশোর ও তার বাবাকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনো হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ আছেন।

প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর আটকে পড়া মানুষদের জীবিত উদ্ধারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা বা গোল্ডেন উইন্ডো ইতোমধ্যে পার হয়ে গেছে। এরপরও অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের উদ্ধারের একাধিক ঘটনা ঘটেছে।

ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা ইতোমধ্যে ১ হাজার ৪৫০ পার হয়ে গেছে। স্থানীয় সময় গত বুধবার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে কারাবালেদা এলাকায় ধসে গেছে অন্তত ২০০টি ভবন। সেখান থেকে এখনও জীবিতদের উদ্ধার করায় উদ্ধারকর্মীদের প্রশংসা করেছেন অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ।

রোববার রদ্রিগেজ বলেন, ‘আজকেও আমরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত মানুষ উদ্ধার করতে পেরেছি। তাই এই উদ্ধার অভিযান এখনই স্থগিত করা হবে না।’

লাতিন আমেরিকার ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ এই ভূমিকম্পের পর কয়েক লাখ মানুষ স্যানিটেশন এবং অন্যান্য মৌলিক চাহিদার তীব্র সংকটে পড়েছেন। ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট হোর্হে রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে প্রায় ৭৭৪টি ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উদ্ধার অভিযান পুরোদমে চললেও দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে অবস্থিত বন্দর নগরী লা গুয়াইরাতে লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবারের বিপর্যয়ের পর এই শহরের একটি বড় অংশ এখন পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষ ত্রাণ সামগ্রী দিতে অনেক বেশি সময় নিচ্ছে। যা দিচ্ছে সেটিও পর্যাপ্ত নয়। এই ক্ষোভ থেকে অনেকে ফার্মেসি, সুপারমার্কেট এবং অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালাচ্ছে।

কারাগারে অসুস্থ দীপু মনি, নেওয়া হলো ঢামেকে

মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি। সোমবার ভোরে অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে তাকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।

মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত দেড়টার দিকে তিনি অসুস্থতা অনুভব করলে কারা কর্তৃপক্ষ দ্রুত তাকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর চিকিৎসকের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।

মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার মুহাম্মদ এনায়েত উল্ল্যাহ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দীপু মনির কিডনি, থাইরয়েড ও অ্যালার্জিজনিত সমস্যা রয়েছে। এসব কারণে তাকে নিয়মিত চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হয়। অসুস্থ বোধ করলে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আরিফুজ্জামান বলেন, দীপু মনির শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়। তবে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

দীপু মনিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. ফজলু জানান, সোমবার সকাল সোয়া ৮টার দিকে তাকে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়। পরে নতুন ভবনের মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সেখানেই তার চিকিৎসা চলছে।

ডা. দীপু মনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার আগে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই আন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়ার পর আওয়ামী লীগ এবং দলটির সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের অনেক নেতা আত্মগোপনে চলে যান। সাবেক মন্ত্রী, সরকারি কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনকারী অনেক ব্যক্তিকে পরে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে ডা. দীপু মনিও রয়েছেন এবং বর্তমানে তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে রয়েছেন।

কালো টাকা সাদা করার বিধান প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন খাতে কর কমানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রস্তাবিত বাজেটে সাধারণ মানুষের করভার লাঘব, কালো টাকা সাদা করার বিতর্কিত বিধান প্রত্যাহার এবং দেশীয় শিল্প ও বেসরকারি উচ্চশিক্ষার প্রসারে একাধিক জনবান্ধব সংশোধনী প্রস্তাব এনেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে দেশের অর্থনৈতিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং বিদেশে পাচারকৃত অর্থ দ্রুত দেশে ফেরত আনার বিষয়ে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন তিনি।

আজ সোমবার জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনের আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানান। তিনি বর্তমান সরকারের এই বাজেটকে একটি জাতি পুনর্গঠনের বাজেট হিসেবে অভিহিত করে দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারি ও বিরোধী উভয় পক্ষকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমল থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনৈতিক অবস্থার কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, অতীতের দুঃশাসনের কারণে বিশেষ করে পুঁজিবাজার এবং ব্যাংকিং খাতে জনগণের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছিল। স্বৈরাচারের সময়ে পুঁজিবাজারে অসহায় মানুষ কষ্ট সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিল, যা পৃথিবীর অন্য কোথাও ঘটেনি। বর্তমান সরকার এই পুঁজিবাজারকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে এবং যোগ্য অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে দ্রুতই এর ইতিবাচক প্রতিফলন দেখা যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি, ব্যাংকিং সেক্টরে যেকোনো মূল্যে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকার সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করছে।

দেশের মানুষের পাচার হওয়া লক্ষ কোটি টাকা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সংসদকে আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যে ১৩টি দেশে ২৩টি মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট রিকোয়েস্ট পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত ১৫টির বেশি ব্যাংক আন্তর্জাতিক সম্পদ পুনরুদ্ধার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ৬০টিরও বেশি নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট স্বাক্ষর করেছে। আন্তর্জাতিক ও দেশীয় আইনের মাধ্যমে এই পাচারকৃত সম্পদ যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।

রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী করের বোঝা না বাড়িয়ে, হয়রানি কমিয়ে এবং করের ভিত্তি বাড়িয়ে শাসন ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা ফেরানোর নীতি গ্রহণের কথা বলেন। তিনি এমন একটি রাজস্ব ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যেখানে করদাতারা কর প্রদান করে উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে গর্ববোধ করবেন। কর ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ ও আধুনিক করার অংশ হিসেবে তিনি ব্যক্তি করদাতাদের করমুক্ত আয়ের সীমা আরও বাড়ানোর প্রস্তাব করেন। প্রস্তাবিত বাজেটে ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ কর বছরের জন্য ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা প্রস্তাব করা হলেও প্রধানমন্ত্রী তা বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করার অনুরোধ জানান। একইভাবে ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ কর বছরের জন্য ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ২০৩০-৩১ কর বছরের জন্য তা ৫ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করেন। এছাড়া জমি রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে প্রকৃত মূল্য ও মৌজা মূল্যের জটিলতা দূর করতে বাজেটে যে বিশেষ বিধান আনা হয়েছিল, তা নিয়ে জনমনে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ সংক্রান্ত বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ায় জনগণের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সেই প্রস্তাবিত বিধানটি সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করার জন্য অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

দেশের শিক্ষা ও কর্মসংস্থান খাতের উন্নয়নেও প্রধানমন্ত্রী বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পেশ করেন। বর্তমানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর প্রযোজ্য ১০ শতাংশ কর হ্রাস করে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেন। তবে একই সঙ্গে এসব বিশ্ববিদ্যালয়কে গবেষণা ও উন্নয়ন জোরদার করা, শিক্ষার্থীদের বহু ভাষায় পারদর্শী করতে ল্যাংগুয়েজ ল্যাব স্থাপন এবং গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।

জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, বণ্টননামা দলিল রেজিস্ট্রেশন এবং সম্পত্তি মিউটেশনের ক্ষেত্রে ‘টিন’ দাখিলের প্রস্তাবিত বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহার করার অনুরোধ জানান প্রধানমন্ত্রী। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক বিকাশের লক্ষ্যে তিন পার্বত্য জেলায় তাদের পরিচালিত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের আয়ের পাশাপাশি পাহাড়ি ও সমতল উভয় অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীভুক্ত ব্যক্তিদের বেতনভোগী আয়কেও করমুক্ত করার প্রস্তাব দেন তিনি।

তরুণ প্রজন্ম ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বাজেটে প্রথমবারের মতো রাখা ৫০০ কোটি টাকার স্টার্ট-আপ ফান্ডিংয়ের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে দেশে এক বিশাল কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি হবে। পাশাপাশি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, সোশ্যাল মিডিয়া ও সার্চ ইঞ্জিনে বিজ্ঞাপনের ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেন, যাতে ব্যবসায়ীরা হুন্ডির মতো অনানুষ্ঠানিক মাধ্যম পরিহার করে বৈধ চ্যানেলে অর্থ পরিশোধে উৎসাহিত হন এবং সরকার রাজস্ব পায়।

দেশীয় শিল্পের বিকাশ ও আমদানি শুল্ক হ্রাসের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী একগুচ্ছ সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেন। দেশের চিংড়ি চাষের প্রসার ও রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে একিউফিড, ফিড এডিটিভস, প্রোবায়োটিক্স, ভিটামিন ও মিনারেলস আমদানিতে সমুদয় আমদানি শুল্ক, রেগুলেটরি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান। এছাড়া স্থানীয় শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা প্রদান, ওষুধ ও স্থানীয় শিল্পে ব্যবহৃত মধু আমদানির ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার এবং পিভিসি ও পেট রেজিন আমদানির প্রস্তাবিত ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেন। ফায়ার ডোর উৎপাদনের কাঁচামাল কোল্ড রোল্ড শিট আমদানির ১০ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক এবং ফ্ল্যাট রোল্ড প্রোডাক্ট আমদানির ১০ শতাংশ আগাম কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান অর্থমন্ত্রীকে। বৈদ্যুতিক তার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের রিফাইন কপার আমদানির ১০ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক প্রত্যাহার এবং ক্যাশনাট প্রসেসিং শিল্পের কাঁচামাল অপ্রক্রিয়াজাত বাদাম আমদানির কাস্টমস শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার কথা বলেন।

স্থানীয়ভাবে এলইডি ল্যাম্প এবং প্রি-ফ্যাব্রিকেটেড বিল্ডিং উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কাঁচামাল আমদানির রেয়াতি সুবিধা ৩০ জুন ২০৩০ পর্যন্ত বর্ধিত করার আহ্বান জানান তিনি। ব্যবসায়ীবান্ধব ভ্যাট ব্যবস্থা প্রণয়নের লক্ষ্যে স্বর্ণ, ডায়মন্ড ও রৌপ্য অলংকারের ভ্যাটের হার পুনর্নির্ধারণ, বিটিআরসির রেভিনিউ শেয়ারিংয়ের ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও মাছ সরবরাহের জোগানদার পর্যায়ের ১০ শতাংশ ভ্যাট সম্পূর্ণ অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব করেন তিনি। রাজনীতি ও নির্বাচনী প্রচারণায় বহুল ব্যবহৃত ডাবল কেবিন পিকআপ এবং মাইক্রোবাস স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের ক্ষেত্রে ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।

রাষ্ট্র পরিচালনায় সুশাসন, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তি সম্পদে নয়, বরং জনগণের আস্থায় নিহিত। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও এর সার্বিক উন্নয়নে সুপ্রিম কোর্টকে অতিরিক্ত ১০০ কোটি টাকা এবং আইন মন্ত্রণালয়কে আরও ৫০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়ার জন্য তিনি অনুরোধ জানান।

একই সঙ্গে দক্ষ, সৎ ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত জনপ্রশাসন গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন তিনি। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে বিরোধীদলীয় নেতার একটি জনবান্ধব প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে পরিবেশবান্ধব ও গরিবের বাহন হিসেবে পরিচিত সাইকেলের ওপর থেকে সব প্রকার শুল্ক প্রত্যাহারের বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সর্বোচ্চ বিবেচনার জন্য অর্থমন্ত্রীকে তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জুলাই সনদকে সামনে রেখে সংবিধান সংশোধনসহ দেশের ভবিষ্যৎ পথরেখায় দেশের সব পক্ষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি একটি ন্যায়ভিত্তিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে বক্তব্য শেষ করেন।

এবার কৃষকের চোখের পানি ঝরাচ্ছে পেঁয়াজ উৎপাদন খরচ মণপ্রতি ১৬০০ টাকা, বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৯০০ টাকায়

বীজের অস্বাভাবিক দর, সার, কীটনাশক, ডিজেল, সেচ, পরিবহন ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় মৌসুমের শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় পেঁয়াজ চাষিরা। সব মিলিয়ে পেঁয়াজ চাষে এবার কৃষককে গুনতে হয়েছে সাম্প্রতিক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ খরচ। মাঠে বাম্পার ফলন হলেও এখন বাজারে সেই পেঁয়াজ বেচতে গিয়ে চাষির মন বেজার। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিমণ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়। কোথাও কোথাও ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায়ও নেমে এসেছে।

অথচ কৃষকের দাবি, এক মণ পেঁয়াজ উৎপাদনে তাদের খরচ হয়েছে অন্তত ১ হাজার ৫০০ টাকা। ফলে উৎপাদন খরচ তো দূরের কথা, মূলধনও তুলতে পারছেন না কৃষক। রাজবাড়ী, ফরিদপুর, পাবনা, কুষ্টিয়া ও রাজশাহীর বিস্তীর্ণ অঞ্চলের চাষিরা এখন হতাশ। অনেক কৃষক বলছেন, এভাবে লোকসান চলতে থাকলে আগামী মৌসুমে আর পেঁয়াজ চাষ সম্ভব হবে না।

পেঁয়াজ বাজারে ধসের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ঘটেছে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে।

ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার ক্ষোভে নিজের উৎপাদিত পেঁয়াজ নদীতে ফেলে প্রতিবাদ জানিয়েছেন এক কৃষক। বালিয়াকান্দির ইসলামপুর ইউনিয়নের হলুদবাড়িয়া গ্রামের কৃষক পলাশ মিয়া গত মঙ্গলবার সোনাপুর বাজার-সংলগ্ন সেতু থেকে হড়াই নদীতে কয়েক বস্তা পেঁয়াজ ফেলে দেন। পরে সেই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পলাশ মিয়া জানান, এই মৌসুমে তিনি ১০ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করেছিলেন। ফলনও হয়েছে ভালো। তবে বাজারে গিয়ে যে দাম পাচ্ছেন, তাতে উৎপাদন খরচও উঠছে না। তিনি বলেন, মাঠ থেকে তোলার সময় কিছু পেঁয়াজ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা মণ বিক্রি করলেও এখন তা বিক্রি করতে হচ্ছে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায়। অথচ এক মণ পেঁয়াজ ঘরে তুলতে তাঁর খরচ হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকা। তিনি জানান, যেদিন পেঁয়াজ নদীতে ফেলেন, সেদিন বাজারে আনা পেঁয়াজ ছিল বি-গ্রেডের। কোনো ব্যবসায়ীই সেই পেঁয়াজের ন্যায্য দাম বলতে রাজি হননি। ক্ষোভ ও হতাশা থেকেই তিনি চার মণ পেঁয়াজ নদীতে ফেলে দেন।

আরেক কৃষক অজি উল্যাহ বলেন, এবার এক বিঘা জমিতে পেঁয়াজ উৎপাদনে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। সার, জ্বালানি তেল, শ্রমিকসহ সবকিছুর দাম বেড়েছে। যারা লিজে জমি নিয়েছেন, তাদের খরচ আরও বেশি। বর্তমান বাজারদরে পেঁয়াজ বিক্রি করে উৎপাদন খরচ ওঠানো সম্ভব নয়। কৃষক আবুল কাশেম বলেন, উৎপাদনে লোকসানের পাশাপাশি সংরক্ষণ খরচও বাড়ছে। পেঁয়াজ যাতে পচে না যায়, সে জন্য বাড়িতে ফ্যান চালিয়ে রাখতে হচ্ছে। বিদ্যুতের বিলও দ্বিগুণ। তার পরও পচন ঠেকানো যাচ্ছে না।

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পেঁয়াজ উৎপাদনকারী জেলা ফরিদপুরের একই চিত্র। বাম্পার ফলন হলেও বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় হাজারো কৃষক লোকসানের মুখে পড়েছেন। ফরিদপুর সদরের কানাইপুরের পাইকারি ব্যবসায়ী শাহজাহান বেপারি বলেন, এ বছর উৎপাদন অনেক বেশি হয়েছে। বিভিন্ন জেলা থেকে প্রচুর পেঁয়াজ বাজারে আসছে। অতিরিক্ত সরবরাহের কারণেই দাম কমে গেছে।

ফরিদপুরের সালথার কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেন, বীজ, সার, কীটনাশক, ডিজেল ও শ্রমিকের মজুরি আকাশছোঁয়া। অথচ ফসল বিক্রি করতে গেলে কোনো দাম নেই। এক মণ পেঁয়াজ বিক্রি করে এক কেজি গরুর মাংস কেনাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

রাজশাহীতে রেকর্ড পরিমাণ পেঁয়াজ উৎপাদন হলেও বাজারদর নিয়ে কৃষকের হতাশার শেষ নেই। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ২১ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও হাইব্রিড জাতের ব্যবহার বাড়ার কারণে উৎপাদন অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। তবে উৎপাদন বাড়লেও দাম কমে যাওয়ায় কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন। পুঠিয়ার বানেশ্বর হাটে পেঁয়াজ বিক্রি করতে আসা কৃষক আব্দুল মমিন বলেন, গত ২০ বছরে আমি এমন বাজারদর দেখিনি।

কৃষকের তথ্য অনুযায়ী, নিজের জমিতে প্রতি বিঘা পেঁয়াজ চাষে খরচ হয় ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। আর লিজ নেওয়া জমিতে এ খরচ ৭০ থেকে ৯০ হাজার টাকায় পৌঁছে যায়। শুধু জমির ভাড়াই বিঘাপ্রতি প্রায় ৩৫ হাজার টাকা। দেশীয় মুড়িকাটা পেঁয়াজ বাজারে ওঠার সময় আমদানি করা পেঁয়াজ বাজারে চলে আসায় স্থানীয় উৎপাদকরা আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে মোট পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে ৩১ লাখ ৪০ হাজার ৬৯০ টন। আগের অর্থবছরে উৎপাদন ছিল ২৯ লাখ ৯০ হাজার ৮৪২ টন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে উৎপাদন বেড়েছে দেড় লাখ টন।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, অনুকূল আবহাওয়া, চাষের বিস্তার এবং হাইব্রিড জাতের ব্যবহার বাড়ার কারণে উৎপাদন বেড়েছে। তবে সেই অতিরিক্ত উৎপাদনই এখন বাজারে মূল্য পতনের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ফরিদপুর মসলা গবেষণা উপকেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. মুশফিকুর রহমান বলেন, মাঠ থেকে তোলার সময় বৃষ্টির কারণে এ বছর পেঁয়াজে বেশি পচন ধরেছে। হাইব্রিড পেঁয়াজে পানির পরিমাণ বেশি থাকায় সংরক্ষণের সময় দ্রুত নষ্ট হচ্ছে। অনেক কৃষক নিজে বীজ উৎপাদন করায় বিভিন্ন জাত মিশে যাচ্ছে। ফলে কোন পেঁয়াজ দীর্ঘদিন সংরক্ষণযোগ্য, তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। তিনি বলেন, বর্তমানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ উৎপাদনে কৃষকের খরচ ২৮ থেকে ৩০ টাকা। বাজারদর যদি এর নিচে থাকে, তাহলে কৃষকের ক্ষতি হবেই।

রাজবাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন,  বৃষ্টি ও নিম্নমানের বীজের কারণে জেলায় উৎপাদিত পেঁয়াজের প্রায় ৫ শতাংশ নষ্ট হয়েছে। কৃষকের কাছে পেঁয়াজ থাকা অবস্থায় যাতে আমদানি করা না হয়, বিষয়টি কৃষি মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।

রাজবাড়ী জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা নাঈম আহম্মেদ বলেন, মুক্তবাজার অর্থনীতিতে চাহিদা ও সরবরাহের ভিত্তিতেই দর নির্ধারিত হয়। তবে কৃষকের ক্ষতি কমাতে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সংগ্রহ কেন্দ্র স্থাপন এবং টিসিবির মাধ্যমে সরাসরি পেঁয়াজ কেনার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠ পরিচর্যা শাখার পরিচালক ওবায়দুর রহমান মণ্ডল বলেন, পেঁয়াজ সারাবছর ব্যবহৃত হলেও সবাই একসঙ্গে বিক্রি করতে গেলে বাজারদর কমে যাওয়াই স্বাভাবিক। তাই উৎপাদনের পরপরই পুরো খরচ উঠে আসবে, এমন প্রত্যাশা সবসময় বাস্তবসম্মত নয়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম বলেন, বাজারমূল্য নির্ধারণের বিষয়টি কৃষি বিভাগের হাতে নেই। আমরা কৃষকের উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে থাকি। সরকার কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করছে। আমরা পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য এয়ারফ্লো মেশিন পেঁয়াজ চাষিদের সরবরাহ করেছি। পেঁয়াজ সংরক্ষণ সুবিধা বাড়ানো গেলে কৃষকরা তাৎক্ষণিক কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হবেন না।

কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম সতর্ক করে বলেন, পেঁয়াজ বাজারের এই ধস শুধু কৃষকের ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, এটি গ্রামীণ অর্থনীতির জন্যও ধাক্কা। কারণ হাজার হাজার পরিবার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে পেঁয়াজ চাষের ওপর নির্ভরশীল। কৃষকের হাতে টাকা না থাকলে স্থানীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাঁর মতে, সংকট মোকাবিলায় সরকারকে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে পেঁয়াজ কেনা, আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং মধ্যস্বত্বভোগীর নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

টেইলর সুইফটের বিয়ে, রাস্তা বন্ধ রাখার অনুমতি চেয়ে আবেদন

বিশ্বসংগীতের আলোচিত তারকা টেইলর সুইফট এবং ফুটবল তারকা ট্রাভিস কেলসির বিয়ে নিয়ে জোর জল্পনা সর্বত্র। একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, আগামী ২ জুলাই নিউইয়র্কে ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে গোপনে বিয়ের অনুষ্ঠান সারতে পারেন এই তারকাজুটি।

৩ জুলাই, আয়োজন করা হতে পারে বিশাল এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের; যেখানে উপস্থিত থাকতে পারেন প্রায় দু’হাজার অতিথি। এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, গোপনীয়তা বজায় রাখতে কোনো ছাপানো নিমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়নি কাউকে। পরিবর্তে অতিথিদের সঙ্গে সরাসরি ফোনে যোগাযোগ করা হয়েছে বলেই খবর যাতে অনুষ্ঠানের তথ্য বাইরে ফাঁস না হয়। আমন্ত্রিতদের সকলকেই গোপনীয়তা বজায় রাখার অনুরোধ করা হয়েছে।

এর আগে জানা গেছে, জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে গাঁটছড়া বাঁধার পরিকল্পনা করছেন টেইলর ও ট্র্যাভিস। এক প্রতিবেদনে লেখা হয়েছিল, নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনকেই সম্ভাব্য ‘ভেন্যু’ হিসাবে বেছে নেওয়া হয়েছে। কারণ এত বড় আয়োজনে সেখানে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা বজায় রাখা সম্ভব। বিয়ের প্রস্তুতির ইঙ্গিত মিলেছে অন্য সূত্রেও। ট্র্যাভিসের টিম ‘কানসাস সিটি চিফস’-এর কয়েকজন সহখেলোয়াড় নাকি ইতোমধ্যেই বিয়ের জন্য ম্যানহাটানের বিলাসবহুল হোটেলে ঘর সংরক্ষণ করেছেন।

টেইলর সুইফট ও ট্রাভিস কেলসি। ছবি: গেটি ইমেজেস

টেইলর সুইফট ও ট্রাভিস কেলসি। ছবি: গেটি ইমেজেস

এ ছাড়াও শোনা যাচ্ছে, ‘উইনিক প্রোডাকশনস’ নামে একটি সংস্থা ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনের আশপাশে সাময়িকভাবে রাস্তা বন্ধ রাখার এবং ভেন্যুর বাইরে একটি অস্থায়ী তাঁবু তৈরির অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছে।  এই পদক্ষেপ বিয়ের জল্পনাকে আরও উস্কে দিয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত সুইফ্ট বা ট্রাভিস, কেউই এই খবরের সত্যতা স্বীকার করেননি। তাঁদের প্রতিনিধিরাও সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের কোনো উত্তর দেননি। ফলে বিয়ের খবর নিয়ে অনুরাগীদের মধ্যে উত্তেজনা থাকলেও, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা যতক্ষণ না করা হচ্ছে ততক্ষণ পুরো বিষয়টি জল্পনার পর্যায়েই রয়েছে।

এর আগে চলতি মাসের মাঝামাঝি নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি এক বক্তব্যে টেইলর সুইফটের বিয়ে খুব দ্রুতই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে কথা বলার সময় গায়িকার বিয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা বড় বড় ইভেন্ট আয়োজন করতে অভ্যস্ত এবং এটি নিয়ে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। জানি এই সময় এনবিএতে নিউইয়র্ক নিকসের খেলা চলছে। ৪ জুলাই স্বাধীনতা দিবসের উদযাপন। এবার একই সময়ে টেইলর সুইফটের বিয়েও হচ্ছে। সবকিছু মিলিয়ে বিশ্বকে এখানে স্বাগত জানাতে আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।’

প্রসঙ্গত, প্রায় দুই বছর প্রেমের পর গত বছরের ২৬ আগস্ট বাগদান সারেন টেইলর সুইফট ও ট্রাভিস কেলসি। এরপর থেকেই অনুরাগীরা তাদের প্রিয় তারকার বিয়ের দিনটির অপেক্ষায় রয়েছেন।

সিলেটের প্রবীণ সংবাদপত্র এজেন্ট ইসমাইল মারা গেছেন

সিলেটের প্রবীণ সংবাদপত্র এজেন্ট ও আলমগীর এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ইসমাইল হোসেন মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গত শুক্রবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ১০টায় কানাডার আলবার্টা শহরের একটি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। ওই দিন আলবার্টা শহরের কোবা জামে মসজিদে জানাজা শেষে মরদেহ দাফন করা হয়েছে।

সিলেট নগরীর কুমারপাড়া ঝেরঝেরিপাড়ার বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬২ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও চার মেয়ে রেখে গেছেন। তাঁর এক মেয়ে দেশে এবং পরিবারের বাকি সদস্যরা কানাডায় বসবাস করছেন। গত সেপ্টেম্বর মাসে কানাডায় যান ইসমাইল হোসেন।

অপর দুই মেয়ের বিয়ে সম্পন্ন করে তাঁর দেশে ফেরার কথা ছিল বলে স্বজনরা জানিয়েছেন। ইসমাইল হোসেনের ভাই হাফিজ উল্লাহ জানান, শুক্রবার ভোরে তিনি অসুস্থ বোধ করেন। হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁর মৃত্যু হয়।

স্বাধীনতার পর সিলেটে যে কয়জন সংবাদপত্র বিপণনে ভূমিকা রাখেন, তাদের মধ্যে অন্যতম ইসমাইল হোসেন। তিনি নগরীর পৌর বিপণি মার্কেটে অবস্থিত ‘আলমগীর এন্টারপ্রাইজ’ নামে সংবাদপত্র বিপণন প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী। শুধু সংবাদপত্র বিপণন নয়; সামাজিক ও ধর্মীয় বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ইসমাইল হোসেন। তিনি বাংলাদেশ সংবাদপত্র এজেন্ট সমিতির দীর্ঘদিনের সহসভাপতি ছিলেন।

ইসমাইল হোসেনের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এ ছাড়া সমকাল পরিবার, সিলেট প্রেস ক্লাব ও হকার্স নেতারা শোক জানিয়েছেন। তাঁর রুহের মাগফেরাত কামনায় শুক্রবার বাদ জুমা সিলেটের বিভিন্ন মসজিদে দোয়া মাহফিল এবং গাজী বুরহান উদ্দিন দারুল হাদিস মাদ্রাসায় কোরআন খতম ও বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে ফতোয়া নেবে জামায়াত!

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্যের সমালোচনা করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির সংসদ সদস্য (এমপি) শাহজাহান চৌধুরী বলেছেন, ‘ফতোয়ার জন্য আর হাটহাজারী যাব না। ফতোয়ার জন্য পটিয়াও না, লালবাগেও যাবো না। এই মহান সংসদে, জামায়াতে ইসলামীকে ইসলামী দল নয় বলে যিনি বলেন, তার কাছ থেকেই আমরা ফতোয়া নেব।’

আজ শনিবার সংসদে বাজেট আালোচনায় চট্টগ্রাম-১৫ আসনের জামায়াতের এই এমপি এমন মন্তব্য করেন।

শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের চট্টগ্রামের আরেক কৃতি সন্তান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। চট্টগ্রামে একটা কথা এসেছে, ফতোয়ার জন্য আর মাদ্রাসায় যেতে হবে না। আমি জিজ্ঞেস করলাম কেন? বলে, ফতোয়া তো আপনাদের এই পার্লামেন্টে দেওয়া হয়। ফতোয়া কী রকম? ফখরুল ইসলাম যেমন ইসলাম নয়, জামায়াতে ইসলামীও ইসলাম নয়।’

শাহজাহান চৌধুরী আরও বলেন, জামায়াতকে জানতে হলে ১০০ বছরের ইতিহাস জানতে হবে। জামায়াতে ইসলামী কী ইসলামী দল, না অন্য কিছু, এ বিষয়ে ফতোয়া দেওয়ার দরকার নেই। এই এমপি বিদ্রুপ করে বলেন, ‘তাই আমাদের চট্টগ্রামে এখন বলতেছে, হাল জামানার মুফতি তিনি (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী)। আরেকটা বললাম না। আলিফ বা তা জানেন না।’

এরপর বাজেট আলোচনায় বিএনপির এমপি জয়নুল আবেদিন ফারুক  বলেন, ‘তর্ক উত্থাপন করে সংসদকে উত্তপ্ত করতে চাই না। শুধু একটা বলতে চাই, নিজের কথা নিজেরাই বিচার করেন। আপনারা ৭১ সালে কোথায় ছিলেন? নিজেরাই বিচার করেন। আমাদের বলা দরকার নেই। আপনি একটু তাকান মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের দিকে। স্বাধীনতার একদিন আগে কারা হত্যাকাণ্ড সংগঠিত করেছে। কেন এবং কারা বুদ্ধিজীবীশূন্য করতে চেয়েছিল বাংলাদেশকে।’

মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে জয়নুল আবদিন বলেন, জুলাই বিপ্লবে যারা শহীদ হয়েছে, আহত হয়েছে, তাদের অবশ্যই আমরা স্মরণ করব। কিন্তু একাত্তরকে ভোলা যাবে না।