Home Blog Page 88

ইস্তানবুল ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে যা জানালেন রকস্টারের মিথিলা

ঘুরতে সবারই ভালো লাগে। সেই ভ্রমণে যদি প্রিয় কোনো মানুষ থাকে, তাহলে তো কথাই নেই। ঈদের ছুটি উপলক্ষে আমার প্রিয় বন্ধু সামিরা খান মাহিকে নিয়ে ঘুরতে বের হয়েছি দেশের বাইরে। আমাদের দুজনের পছন্দের দেশ তুরস্ক। অনেক দিন ধরেই সেখানে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলাম। অবশেষে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। গত ১৮ জুন দেশটির রাজধানী ইস্তানবুলে এসেছি। ইতিহাস, সংস্কৃতি আর অপার সৌন্দর্যে ঘেরা এই শহর যেন এক জীবন্ত গল্পের বই, যার প্রতিটি পাতা নতুন বিস্ময়ে ভরা। শহরের অলিগলি, ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা, বসফরাসের নীল জলরাশি আর মানুষের আন্তরিকতা আমাকে মুগ্ধ করেছে বারবার। মনে হয়েছে, প্রতিটি মুহূর্ত যেন এক টুকরো জাদু, যা সহজে ভোলার নয়।

এ ছাড়া ইস্তানবুলের স্থানীয় খাবারের স্বাদ নেওয়াও ছিল আমাদের সফরের অন্যতম আকর্ষণ। ঐতিহ্যবাহী তুর্কি খাবার, ব্যস্ত রাস্তার প্রাণচাঞ্চল্য আর সন্ধ্যার মনোমুগ্ধকর দৃশ্য ভ্রমণকে আরও রঙিন করে তুলেছে। ভ্রমণের প্রতিটি দিন ছিল নতুন অভিজ্ঞতায় ভরা। কখনও ইতিহাসের স্পর্শ, কখনও প্রকৃতির সৌন্দর্য, আবার কখনও বন্ধুত্বের উষ্ণতায় কাটানো সময়– সব মিলিয়ে এই সফর আমার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে। এই ভ্রমণকে আরও অর্থবহ করে তুলেছে মাহি।

২০১৩ সাল থেকে জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে, প্রতিটি হাসি, অশ্রু আর গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আমরা একে অপরের পাশে থেকেছি। একসময়ের বন্ধুত্ব আজ বোনের মতো এক গভীর সম্পর্কে রূপ নিয়েছে। রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও বিশ্বাস, আস্থা, ভালোবাসা আর অসংখ্য স্মৃতির বন্ধনে আমরা একসূত্রে গাঁথা।

ইস্তানবুলের পথে পথে হাঁটতে হাঁটতে আমাদের সেই দীর্ঘ পথচলার কথা বারবার মনে পড়েছে। কত স্মৃতি, কত গল্প, কত স্বপ্ন আর সংগ্রামের সাক্ষী আমরা দুজন। জীবনের ব্যস্ততা আমাদের কখনও কখনও ভিন্ন পথে নিয়ে গেলেও আমাদের বন্ধনের শক্তি কখনও কমেনি; বরং সময়ের সঙ্গে তা আরও দৃঢ় হয়েছে। জীবন আমাদের যেখানেই নিয়ে যাক না কেন, কিছু সম্পর্ক কখনও বদলে যায় না।

ইস্তানবুলের এই দিনগুলো তাই শুধু একটি ভ্রমণের স্মৃতি নয়; বরং বন্ধুত্ব, ভালোবাসা এবং জীবনের সুন্দর মুহূর্তগুলোকে নতুন করে উদযাপন করার এক অনন্য উপলক্ষ। কোনো জায়গায় ভ্রমণে গেলে সেখানকার কিছু স্থিরচিত্র সামাজিক মাধ্যমে তুলে ধরি। এবার এর ব্যত্যয় ঘটেনি। পোস্টে অনেকেই ইতিবাচক প্রতিক্রয়া জানিয়েছেন। এই সফরে আমরা শুধু একটি শহর দেখিনি, নতুন করে উপলব্ধি করেছি আমাদের বন্ধুত্বের সৌন্দর্যও। একসঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্তের জন্য আমি কৃতজ্ঞ। সামনে আরও অনেক পথচলা, আরও অনেক গল্প আর নতুন নতুন স্মৃতি আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে।

হাওরপাড়ের বিদ্যালয় বর্ষায় কমে উপস্থিতি, দুই পোশাক নিয়ে যেতে হয় স্কুলে

বর্ষা মৌসুম এলেই সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার হাওরপাড়ের অর্ধশতাধিক গ্রামের হাজারো শিশুর শিক্ষাজীবন ব্যাহত হয়। যোগাযোগের দুরবস্থার কারণে অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে যেতে পারে না। ফলে কেউ শিশুশ্রমে জড়িয়ে পড়ছে, কেউ আবার গৃহস্থালি কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ছে। এতে প্রতিবছরই প্রাথমিক স্তরে ঝরে পড়ার হার বাড়ছে।

উপজেলায় সাতটি ইউনিয়নে মোট ২৪৯টি গ্রাম রয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে মাত্র ১৩৪টি গ্রামে। বাকি ১১৫টি গ্রামে কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। সদর, বাদাঘাট, বালিজুরী ও উত্তর বড়দল ইউনিয়নে সড়ক যোগাযোগ তুলনামূলক ভালো হওয়ায় শিক্ষার্থীরা পাশের গ্রামে গিয়ে পড়াশোনার সুযোগ পায়। তবে শ্রীপুর দক্ষিণ, উত্তর শ্রীপুরের কিছু অংশ এবং দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়ন হাওরবেষ্টিত হওয়ায় বর্ষাকালে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে যাতায়াত প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয়রা জানান, বর্ষার ছয় মাস বিদ্যালয়বিহীন গ্রামের শিশুদের বড় একটি অংশ স্কুলমুখী থাকে না। পরে হেমন্ত মৌসুমে তারা কৃষিকাজ বা পারিবারিক কাজে জড়িয়ে পড়ে। একসময় অনেকেই আর বিদ্যালয়ে ফিরে আসে না।

সম্প্রতি উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের মন্দিয়াতা, নতুনহাটি, মুজরাই, পানিয়াখালীসহ বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, বিদ্যালয়ে যাওয়ার বয়সী শিশুরা দলবেঁধে খেলাধুলা করছে। একই চিত্র দেখা গেছে বেতাগড়া, জামালপুর, তেলিগাঁও পশ্চিমপাড়া, কৃষ্ণতলা, গোপালপুর, রাজধরপুর, উজ্জ্বলপুর, জগদীশপুর, সাহসপুর, নিশ্চিন্তপুর, লতিবপুর, গোবিন্দপুর ও টুকেরগাঁওসহ অর্ধশতাধিক গ্রামে।

দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের রাজধরপুর গ্রামের অভিভাবক হাদিসনূর বলেন, নিজ গ্রামে স্কুল নেই, আবার অন্য গ্রামে যাওয়ারও কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই অনেক পরিবার শিশুদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে পারে না।

শাহগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুবাশ্বির আলম বলেন, বর্ষাকালে যোগাযোগ সমস্যার কারণে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। যারা আসে, তাদের দুই সেট পোশাক নিয়ে আসতে হয়। গ্রামের প্রায় ২০০ মিটার রাস্তা বর্ষার শুরুতেই পানির নিচে তলিয়ে যায়। শিক্ষার্থীদের হাঁটুসমান পানি মাড়িয়ে স্কুলে এসে ভেজা পোশাক বদলাতে হয়।

বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী পলি সরকার জানায়, স্কুলে যাওয়ার পথে সব সময় হাঁটুর ওপরে পানি থাকে। তাই বাড়ি থেকে অতিরিক্ত পোশাক নিয়ে আসতে হয়।

হাওরাঞ্চলে কর্মরত উন্নয়ন সংস্থা সেন্টার ফর ন্যাচারাল রিসোর্স সার্ভিস (সিএনআরএস)-এর তাহিরপুর উপজেলা সমন্বয়কারী ইয়াহিয়া সাজ্জাদ বলেন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সহজ করতে নৌকার ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ২০২২ সালে জনতা উচ্চ বিদ্যালয় ও মোয়াজ্জেমপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের জন্য ইঞ্জিনচালিত নৌকা দেওয়া হয়েছিল, যা শিক্ষার্থীদের অনেক উপকার করেছে।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান মানিক বলেন, বিদ্যালয়ের স্লিপ তহবিলের অর্থ ব্যবহার করে নৌকা তৈরি করা সম্ভব। এ বিষয়ে বেশ কয়েকজন প্রধান শিক্ষককে উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি গ্রামে একটি করে বিদ্যালয় স্থাপন করা গেলে হাওরাঞ্চলের এ সমস্যা অনেকটাই দূর হবে। প্রধানমন্ত্রী সারাদেশের প্রতিটি গ্রামে একটি করে বিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছেন। ইতোমধ্যে বিদ্যালয়বিহীন গ্রামের তালিকা চাওয়া হয়েছে।

নেইমারকে পেয়ে ভিনিসিয়াস বললেন, ‘আমাদের আইডল ফিরে এসেছে’

নেইমারের চোটে সম্প্রতি ব্রাজিলের অন্যতম ভরসা হয়ে উঠেছেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। সেই ভরসার প্রতিদানও দিয়েছেন মাঠের পারফরম্যান্সে। বিশ্বকাপের প্রথম তিন ম্যাচে তার কাছ থেকে ব্রাজিল পেয়েছে ৪টি গোল, একটি অ্যাসিস্ট। সবশেষ স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে নেইমারের ফেরার ম্যাচেও জোড়া গোল করেছেন রিয়াল মাদ্রিদের এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। তবে ভিনির কাছে নেইমারই সবচেয়ে বড় তারকা।

ম্যাচ শেষে উচ্ছ্বসিত ভিনিসিয়াস বলেন, ‘এটি আমাদের সবার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মুহূর্ত। আমাদের আইডল ফিরে এসেছে। ও এমন একজন মানুষ যে এখানে আসার জন্য সবসময় কঠোর লড়াই করেছে এবং সবকিছু উজাড় করে দিয়েছে। ইনজুরি কাটিয়ে ও আবার মাঠে ফিরেছে।’

ব্রাজিলের কাছে ভক্তদের প্রত্যাশা অনেক। সেই প্রত্যাশা পূরণে নেইমার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন ভিনি। তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি ও নিজের পারফরম্যান্স আরও উন্নত করতে থাকবে এবং পুরো টুর্নামেন্টে আমাদের সাহায্য করবে। দিনশেষে সেটাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’

বৃহস্পতিবার সকালে গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হয় ব্রাজিল। মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচ দিয়েই চোট কাটিয়ে দীর্ঘ ৩২ মাস পর জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে ফেরেন নেইমার। ৭৬ মিনিটে ম্যাথিউস কুনিয়ার বদলি হিসেবে নেইমারকে মাঠে নামান ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি।

নেইমারের প্রত্যাবর্তনে স্বস্তি ফিরেছে ব্রাজিল শিবিরে। দলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়কে ফিরে পেয়ে কোচিং স্টাফ থেকে শুরু করে সতীর্থ- সবাই দারুণ খুশি। তবে সবচেয়ে বেশি খুশি সম্ভবত ভিনিসিয়াস। কারণ, নেইমার ফিরে আসায় আক্রমণভাবে আরও শক্তি খুঁজে পাবেন তিনি।

ব্রাজিলের জার্সিতে সর্বোচ্চ গোল করার রেকর্ডটি নেইমারের। ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা জাতীয় দলের জার্সিতে ১৩০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে গোল করেছেন ৭৯টি। এর মধ্যে দেশের হয়ে তিনটি বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে ৮টি গোল করেন তিনি।

কর্মপরিষদ সভায় জামায়াত আমির সরকার একদলীয় শাসনের দিকে ধাবিত হচ্ছে

সরকার রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে দলীয়করণ করছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, সংসদেও চরম বৈষম্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সরকারি বরাদ্দের ক্ষেত্রে বিরোধী দলের এমপিদের অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে। এভাবে সরকার ক্রমান্বয়ে একদলীয় শাসনের দিকে ধাবিত হচ্ছে, যা জাতির জন্য চরম হতাশাজনক।

গতকাল বুধবার রাজধানীর মগবাজারে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সভায় কথা বলছিলেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, সরকারের কিছু ভুল ও অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্তে দেশের অর্থনীতি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। ফ্যাসিস্ট আমলে ধ্বংসপ্রায় ইসলামী ব্যাংক যখন মাত্র ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে সরকার ব্যাংকটিকে পুনরায় ফ্যাসিবাদের দোসরদের হাতে তুলে দেওয়ার আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা মনে করি, সরকারের এই সিদ্ধান্ত দেশের অর্থনীতিকে সমূলে ধ্বংস করে দেবে।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ ও কর্মপরিষদের সদস্যরাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।

চার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের ২০ ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন

দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণ, নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য নিত্যপণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করা, তরুণদের কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে একগুচ্ছ বড় ক্রয় ও উন্নয়ন প্রস্তাবের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে মোট চার হাজার ১৮ কোটি ৮ লাখ টাকা ব্যয়ের ২০টি প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এর আগে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকেও কিছু নীতিগত প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে অর্থ মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানায়।

দেশের গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০২৫ অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক কোটেশন পদ্ধতিতে সিঙ্গাপুর থেকে দুই কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে ক্রয় কমিটি। এ জন্য ব্যয় হবে এক হাজার ৩৫৫ কোটি টাকা। আগামী জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর পিটিই ও গানভর সিঙ্গাপুর পিটিই এলএনজি সরবরাহ করবে।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে এক কোটি কার্ডধারী নিম্ন আয়ের পরিবারের মধ্যে ভর্তুকি মূল্যে বিতরণের জন্য প্রায় ৮১২ কোটি ৩১ লাখ টাকার মসুর ডাল ও ভোজ্যতেল কেনার চারটি পৃথক প্রস্তাবও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের পায়েল অটোমেটিক ফুড প্রসেসিং মিলস থেকে প্রতি কেজি ৮১ দশমিক ৪৭ টাকা দরে ১০ হাজার টন মসুর ডাল এবং আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিষ্ঠান এমসিজি ইন্টারন্যাশনাল থেকে পরিবহন ব্যয়সহ প্রতি কেজি ৭৪ দশমিক ৮৬ টাকা দরে ১২ হাজার ৫০০ টন ডাল কেনা হবে।

এ ছাড়া ঢাকার শবনম ভেজিটেবল অয়েল থেকে প্রতি লিটার ১৮৩ দশমিক ৯৫ টাকা দরে দুই কোটি লিটার পাম অলিন সংগ্রহ করা হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে দুই কোটি লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল কেনা হবে, যার প্রতি লিটারের দাম পড়বে ১৬৪ দশমিক ৭৭ টাকা।

শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণের বাইরে থাকা (এনইইটি) আট লাখ ৫০ হাজার ৫০০ তরুণ-তরুণীর দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সক্ষমতা বাড়াতে ইকোনমিক অ্যাকসেলারেশন অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ফর এনইইটি প্রকল্প সম্পর্কিত প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ২০২৮ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। ৯৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে পরিচালিত এ প্রকল্পের আওতায় দেশের আট বিভাগে প্রশিক্ষণ ও কেন্দ্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে ব্র্যাক জেভি, সেভ দ্য চিলড্রেন, কেয়ার বাংলাদেশ, ঢাকা আহছানিয়া মিশনসহ ১০টি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ এক লাখ ২০ হাজার তরুণকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য ব্র্যাক জেভিকে ১৯৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

গভীর সমুদ্রে টুনা ও সমজাতীয় পেলাজিক মাছ আহরণের সম্ভাবনা যাচাইয়ে আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়েছে। প্রায় ৩৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে পরিচালিত এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান সাসটেইনেবল রিসার্চ অ্যান্ড কনসালট্যান্সি লিমিটেড, দক্ষিণ কোরিয়ার নিউ ওয়াটার টেক কোম্পানি ও শতাব্দী হাই বাংলাদেশ।

রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পরিবেশের উন্নয়নের লক্ষ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) খাল পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টি প্রকল্পের সাতটি প্যাকেজ সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অধীন ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করবে।

কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে প্রায় ৪৬৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬০ হাজার টন সার কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) জন্য মরক্কো থেকে ৩০ হাজার টন টিএসপি সার কেনা হবে ২৬৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকায়। অন্যদিকে কাফকো থেকে ১৯৯ কোটি ৯৪ লাখ টাকায় ৩০ হাজার টন ব্যাগড গ্রানুলার ইউরিয়া সার সংগ্রহ করা হবে।

এ ছাড়া বেনাপোল স্থলবন্দরের কার্গো হ্যান্ডলিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রায় ৪৯ কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ঠিকাদার নিয়োগ এবং বান্দরবান সড়ক বিভাগের আওতায় রামু-নাইক্ষ্যংছড়ি সড়ক নির্মাণ ও উন্নয়নকাজে ১৯৫ কোটি টাকার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকার।

 

দাম কমেছে স্বর্ণের, আজ থেকেই কার্যকর

দেশের বাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা কমেছে। এর ফলে পরপর দুই দফা কমল স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) বৃহস্পতিবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন মূল্য ঘোষণা করে। নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

বাজুস জানিয়েছে, খাঁটি স্বর্ণ ও রুপার মূল্য হ্রাস পেয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, নতুন মূল্য ভ্যাটসহ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অলংকারের ডিজাইন ও কারুকাজভেদে মজুরি আলাদাভাবে যুক্ত হবে। রুপার অলংকারের ভ্যাট বিষয়ে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

এদিকে কমেছে রুপার দামও। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৪৯১ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ২৫৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৭৪১ টাকা।

তিস্তাসহ বন্যা মোকাবিলায় সহযোগিতা বাড়াতে একমত ঢাকা-বেইজিং

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৃহস্পতিবার বৈঠক করেছেন চীনের পানি সম্পদমন্ত্রী লি গুয়িং। এ সময় দুই দেশ তিস্তা মহাপরিকল্পনা, বিভিন্ন নদী ব্যবস্থাপনা, বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলাসহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে সহযোগিতা বাড়াতে একমত হয়েছে।

বেইজিংয়ের স্থানীয় সময় দুপুরে একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে বৈঠকের বিষয়ে ব্রিফ করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি জানান, নদী খনন, ভাঙন রোধ, সেচ ও নৌ-নেভিগেশন উন্নয়নেও দুই দেশ সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে। চীনা মন্ত্রী এ খাতে একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ এবং গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতার আগ্রহ দেখিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর সফরের নানা দিক তুলে ধরে মাহদী আমিন জানান, বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইক্সিংও ‘পার্টি-টু-পার্টি’ বৈঠক করেছেন। এ সময় তিনি দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সহযোগিতা, টেকসই প্রবৃদ্ধি ও পারস্পরিক সমৃদ্ধির লক্ষ্যে আরও ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

চীনা পক্ষ দুই দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও জনসম্পৃক্ততা জোরদারের আগ্রহ প্রকাশ এবং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে। বৈঠকে বিএনপির সঙ্গে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সফরের নানা দিক তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে। ছবি: সংগৃহীত

সংবাদ সম্মেলনে সফরের নানা দিক তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে। ছবি: সংগৃহীত

বিকেলে চীনা প্রধানমন্ত্রী লি কিংয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন তারেক রহমান। এটি অনুষ্ঠিত হবে বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক গ্রেট হলে। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীরা বিভিন্ন বিষয়ে ১৫টি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করবেন।

মাহদী আমিন জানান, শুক্রবার সকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তারেক রহমান বৈঠক করবেন। সেখানে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী।

রাষ্ট্রীয় সফর শুরু হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এরইমধ্যে বেশ কয়েকটি বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীর শীর্ষ কর্মকর্তারা সাক্ষাৎ করেছেন। তাদের মধ্যে আছেন- চায়না ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কোঅপারেশন এজেন্সি, রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশন, রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের প্রধান, বিনিয়োগকারী ও মন্ত্রীরা। সাক্ষাতের সময় তারা বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে কার্যকর ভূমিকা রাখার বিষয়ে আলোচনা করেন।

মাহদী আমিন জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক ও কৌশলগত অবস্থান, ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি, চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের প্রসার, জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক জোরদার এবং শিক্ষা, সংস্কৃতি, তথ্যপ্রযুক্তি ও স্বাস্থ্যসহ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরও কার্যকর সহযোগিতা প্রতিষ্ঠা করা।

বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার বিডা ও ‘চায়না কাউন্সিল ফর দ্য প্রমোশন অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড’-এর যৌথ উদ্যোগে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ নামের অনুষ্ঠান হয়েছে। সেখানে চীনের প্রথম সারির ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ৮০ জন মালিক ও শীর্ষ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেছেন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। পাশাপাশি আনোয়ারা ও মোংলায় অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন, চীনে বাংলাদেশের প্রথম ইনভেস্টমেন্ট অফিস স্থাপন এবং অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিভিন্ন খাতে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১৫ দিনের কম সময়ের মধ্যে বিনিয়োগকারীদের নতুন লাইসেন্সও দেওয়া হবে।

সফরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরার এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান, উপ প্রেসসচিব জাহিদুল ইসলাম, সুজন মাহমুদসহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তারা।

দেশে ৮২ লাখ মানুষ মাদকে আসক্ত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাদক মামলার জট কমাতে হচ্ছে আলাদা ট্রাইব্যুনাল

দেশের ৮২ লাখ মানুষ বিভিন্ন ধরনের মাদকে আসক্ত বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, এজন্য মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তাদের অস্ত্র দেওয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ১৫ টি বেসরকারি মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্রকে অনুদানের চেক হস্তান্তর করা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদকসংক্রান্ত প্রায় ৮০ হাজার মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলার বিচারের জন্য স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে, পাশাপাশি প্রথাগত আদালতেও এর বিচার কাজ চলবে।

তিনি বলেন, বিদ্যমান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন দিয়ে কার্যকরভাবে মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই করা যাচ্ছে না। মাদক ব্যবসায়ীদের অনেকেরই সশস্ত্র গ্রুপ রয়েছে, অথচ অভিযানে যাওয়া অধিদপ্তরের পরিদর্শকদের কাছে কোনো অস্ত্র নেই। এ পরিস্থিতিকে তিনি ‘ঢাল-তলোয়ারবিহীন নিধিরাম সর্দারের’ সঙ্গে তুলনা করেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মাদক শনাক্তকরণে পর্যাপ্ত পরীক্ষাগার নেই। ফলে জব্দ হওয়া মাদকের দ্রুত পরীক্ষা ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতেও সমস্যা হচ্ছে। অন্যদিকে মামলা পরিচালনায় বিদ্যমান আদালতগুলোকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তারের পর থানায় হস্তান্তরের আগে রাখার জন্য অধিদপ্তরের নিজস্ব কোনো হাজতখানা নেই। সংশোধিত আইনে হাজতখানা নির্মাণ, পরিবহন সুবিধা, ডগ স্কোয়াড এবং আধুনিক অস্ত্র সরবরাহের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। এসব সক্ষমতা বৃদ্ধির পর আরও জোরালো অভিযান পরিচালনা করা হবে।

মন্ত্রী জানান, বিদ্যমান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সংশোধনী বিল জাতীয় সংসদে তোলা হবে বলে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, অপরাধের ধরন বদলে গেছে। এখন অনলাইনে মাদক কেনাবেচা হচ্ছে, সেই অর্থ অবৈধ পথে পাচার হচ্ছে এবং মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে সম্পদ অর্জন করা হচ্ছে। এসব অপরাধ মোকাবিলায় শক্তিশালী আইনি কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন।

ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা চালু হচ্ছে রোববার

বাংলাদেশিদের জন্য আবার ট্যুরিস্ট ভিসা চালুর ঘোষণা দিয়েছে ভারত। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টার অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ঢাকায় ভারতীয় ভিসা সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন দেশটির নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেন, ২৮ জুন থেকে বাংলাদেশিদের জন্য আবার ট্যুরিস্ট ভিসা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হবে।

এর আগে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের হাতে পরিচয়পত্র পেশ করেন দীনেশ ত্রিবেদী। এর মধ্য দিয়ে ঢাকা মিশনের দায়িত্ব শুরু করেন তিনি। এরপর ভারতীয় ভিসা সেন্টারে যান। সেখানে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন দীনেশ ত্রিবেদী।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডব্লিউইএফের সিইওর সাক্ষাৎ জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশের জন্য সহায়তার আহ্বান

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশসহ বদ্বীপ রাষ্ট্রগুলোর সহায়তায় সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

গতকাল মঙ্গলবার চীনের দালিয়ানে ডব্লিউইএফের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আলোইস জুইংগির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় ডব্লিউইএফের বার্ষিক সম্মেলনের ফাঁকে এই বৈঠক হয়। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের বিবৃতি ও ইউএনবি থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

বৈঠকের শুরুতে আলোইস জুইংগি বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ডব্লিউইএফের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

পরিবেশ রক্ষায় বাংলাদেশের অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল পুনর্খননের মাধ্যমে পানির প্রবাহ পুনরুদ্ধার, বন্যার ঝুঁকি হ্রাস এবং পরিবেশ সুরক্ষার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি। এ ছাড়া পাটজাত পণ্য, বৈদ্যুতিক যানবাহনসহ পরিবেশবান্ধব পরিবহনের মতো সবুজ শিল্পে উৎসাহের কথা জানান।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ সরকার বন, জলাভূমি, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল এবং ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্র রক্ষা করছে। গ্রামীণ এলাকায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণে বিনিয়োগ করছে এবং পরিবেশবান্ধব নির্মাণ মান চালু করেছে।

তারেক রহমান বলেন, ‘কৃষিতে সহায়তা ও জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলার লক্ষ্যে আমাদের প্রধান নদীর ওপর পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। আমরা একটি ব্যাপক মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে তিস্তা ব্যারাজকেও আধুনিকীকরণ করছি।’
তারেক রহমান আরও জানান, বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে উৎসাহিত করতে সরকার কর রেয়াত সুবিধা দিচ্ছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জলবায়ু কার্যক্রম কোনো ব্যয় নয়। আমরা এটিকে সমৃদ্ধি, স্থিতিশীলতা এবং একটি যৌথ ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ হিসেবে দেখি। আমরা এখানে উপস্থিত সবাই মিলে একটি সবুজ, নিরাপদ, টেকসই এবং আরও ন্যায়সংগত ভবিষ্যৎ গড়তে পারি।’ তিনি বলেন, জলবায়ু সহনশীলতার অংশীদারিত্ব, প্রযুক্তি, অর্থায়ন এবং যৌথ অঙ্গীকার প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কপ৩১ এবং কপ৩২ (আগামী নভেম্বরে তুরস্কের আন্তালিয়া এবং আগামী বছর ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবায় অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনের অধিবেশন)-এর দিকে তাকিয়ে আমরা তিনটি অগ্রাধিকারের ওপর জোর দিতে চাই। প্রথমত, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য সহজলভ্য, অনুমানযোগ্য সহায়তাসহ ক্ষয়ক্ষতি তহবিলকে প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবায়নে আনা; দ্বিতীয়ত, জলবায়ু অর্থায়নকে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য আরও সহজলভ্য, সহজসাধ্য ও চাহিদাসাপেক্ষ করা, যার মাধ্যমে প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ ত্বরান্বিত হয়; তৃতীয়ত, বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য অভিযোজন শুধু নীতিগত বিকল্প নয়, এটি অপরিহার্য বিষয়। ইউএনসিটিএডির মতে, ৩০০ বিলিয়ন ডলারের নতুন সম্মিলিত পরিমাণগত লক্ষ্যমাত্রা (এনসিকিউজি) উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রশমন ও অভিযোজনের প্রয়োজনীয়তা পূরণে অপর্যাপ্ত।’

জলবায়ু মোকাবিলায় তারেক রহমানের অভিজ্ঞতা ও উদ্যোগগুলো বৈশ্বিক পর্যায়ে কাজে লাগানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন ডব্লিউইএফ প্রধান।
ডব্লিউইএফ প্রধান বলেন, জলবায়ু সহনশীলতা এবং টেকসই উন্নয়নে বাংলাদেশের এই প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে।
বাংলাদেশ যেসব বিষয় উত্থাপন করেছে, তা যথাযথভাবে বিবেচনা করা হবে বলে ডব্লিউইএফ প্রধান আশ্বস্ত করেন। একই সঙ্গে ফোরামের পক্ষ থেকে সহযোগিতা ও সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

এ সময় সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠেয় ডব্লিউইএফের বার্ষিক সভায় অংশ নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানান ডব্লিউইএফ প্রধান।
বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে চার দিনের সরকারি সফরে মালয়েশিয়া থেকে সোমবার রাতে চীনের বন্দরনগরী দালিয়ানে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি তাঁর দ্বিতীয় দেশ সফর। চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের আমন্ত্রণে তিনি এ সফরে গেছেন।

চীনে প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানসূচি 
দালিয়ানে দুদিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চীনের লিয়াওনিং প্রদেশে ২৩ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত ‘সামার দাভোস’ নামে পরিচিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ‘নিউ চ্যাম্পিয়ন্স’-এর ১৭তম বার্ষিক সভা হবে। এতে প্রধানমন্ত্রী অংশ নিচ্ছেন। গতকাল সন্ধ্যায় চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং আয়োজিত এক সংবর্ধনায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
আজ বুধবার সকালে কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। পরে অন্যান্য কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বিকেলে তিনি ট্রেনে করে বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা হবেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের মূল আনুষ্ঠানিকতাগুলো বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে তিনি দেশটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং এবং পরদিন শুক্রবার প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। শুক্রবার রাতে দেশে ফেরার কথা রয়েছে তাঁর।