লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গোয়েন্দা হেফাজতে তৃতীয় দিনের মতো জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জনশক্তি রপ্তানি ব্যবসার পাশাপাশি এক-এগারো ও প্রাসঙ্গিক নানা বিষয়ে তাঁর ভূমিকা নিয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে। ২০০৭ সালে বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষাপট ও পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন ছিল।
এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় প্রভাব ব্যবহার করে ভয়ভীতি দেখানো এবং নির্যাতনের সঙ্গে সম্পৃক্তদের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হয়। তবে অধিকাংশ প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান মাসুদ উদ্দিন। গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত তাঁর কাছ থেকে খুব বেশি তথ্য গোয়েন্দারা জানতে পারেননি। এদিকে গত কয়েক বছরে তাঁর বিদেশ ভ্রমণের তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সোমবার রাতে মাসুদ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মানব পাচার প্রতিরোধ আইনে দায়ের করা মামলায় পাঁচ দিনের হেফাজতে আছেন তিনি। বুধবার গ্রেপ্তার করা হয় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক শেখ মামুন খালেদকে। তিনি ডিবি হেফাজতে রয়েছেন। গতকাল ছিল তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রথম দিন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর মিরপুরে ফল ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় মামুন খালেদকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, মাসুদ উদ্দিনের কাছে জনশক্তি রপ্তানির নামে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হয়েছে। কারা, কীভাবে এর সঙ্গে জড়িত ছিল– সেটি আমরা বের করব।
শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, মাসুদ উদ্দিন ও মামুন খালেদকে একসঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদের পরিকল্পনা এখনও নেই। কারণ তাদের দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আলাদা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এক-এগারো ও পরবর্তী সময়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অর্থবিত্তের মালিক হয়েছেন এমন আরও কয়েকজনের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হচ্ছে। ওই সময় উচ্চাভিলাষীদের ভূমিকার জানার চেষ্টা চলছে।
ডিজিএফআইকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার অভিযোগসহ এক-এগারোর সময় সাবেক সেনা কর্মকর্তা মামুনের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা রয়েছে। সিগন্যালস কোরের কর্মকর্তা হিসেবে মামুন খালেদ ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে ডিজিএফআইতে পরিচালক (এফএসআইবি) হিসেবে যোগ দেন। পরে ২০০৮ সালের জুনে তিনি ব্রিগেডিয়ার চৌধুরী ফজলুল বারীর স্থলাভিষিক্ত হয়ে পরিচালকের (কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর-সিআইবি) দায়িত্ব পালন করেন।
পরে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০১১ সালে লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোল্লা ফজলে আকবরের উত্তরসূরি হিসেবে শেখ মামুন মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে ডিজিএফআইতে ফিরে আসেন।




