সরকার গঠনের সুযোগ পেলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশকে নতুনভাবে উপস্থাপন করা হবে—এমনই ইঙ্গিত দিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বিদেশি রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তিতে সুসম্পর্ক বজায় রাখার অঙ্গীকারের পাশাপাশি তিনি নির্বাচন, রাজনৈতিক পরিবর্তন ও গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেন।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর বসুন্ধরায় দলের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত ইসলামী সরকার গঠন করলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দায়িত্বশীল ও ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় রাখা হবে। তিনি জানান, নির্বাচনের পর সব রাজনৈতিক দলকে নিয়ে একসঙ্গে বসে দেশকে স্থিতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং আগামী পাঁচ বছরে দেশের কল্যাণে কী করা যায়, সে বিষয়ে যৌথ আলোচনা হবে।
বর্তমান নির্বাচন পরিস্থিতি প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, দেশে এখনো পুরোপুরি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়নি। তবে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি উল্লেখ করেন, আসন্ন নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রায় ২০০ সদস্যের পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর আশ্বাস দিয়েছে, যারা জেলা পর্যায়ে কাজ করবে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, গত ৫৪ বছরের রাজনীতিতে দেশের মানুষ হতাশ হয়ে পড়েছে। জনগণ এখন পরিবর্তন চায়, আর সেই পরিবর্তনের লক্ষ্যেই জামায়াত কাজ করছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যারা ক্ষমতায় আসতে চায়, তাদেরও জনগণকে এই পরিবর্তনের আশ্বাস দেওয়া উচিত।
গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান সাংবাদিকদের দেশের স্বার্থে ওয়াচডগ হিসেবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশের মূলধারার গণমাধ্যম যেন কোনো নির্দিষ্ট দলের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট না হয়ে জনগণের কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করে—এই বিষয়টি সব সময় মনে রাখা প্রয়োজন।




