গণভোটে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি ভোটে অনুমোদিত জুলাই সনদ আদেশ বিএনপি মানছে না। আদেশ অনুযায়ী দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে। বিএনপির চাওয়া অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা হলে জুলাই সনদ বিষয়ে ও সরকারের এখতিয়ার নিয়ে আরও বেশি প্রশ্ন উঠবে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেমিনারে এসব কথা বলেছেন বক্তারা। ‘গণভোটের আলোকে জনরায় বাস্তবায়নে গড়িমসি: সরকারের দায় ও জবাবদিহিতা’ শীর্ষক এই সেমিনারে আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার ইমরান আব্দুল্লাহ সিদ্দিকী, জামায়াতের কর্মপরিষদ পরিষদ সদস্য শিশির মনির, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এমপি, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাভেদ রাসিন, ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান, ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের নেতারা।
শিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। স্বাগত বক্তব্য দেন শিবিরের সাধারণ সম্পাদক সিবগাতুল্লাহ। সঞ্চালনা করেন ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদ। সেমিনারে নারী বক্তা না থাকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন শহিদুল আলম।
জামায়াতের রাজনীতির ঘোর বিরোধী হয়েও গণভোটের মত জাতীয় স্বার্থে শিবিরের সেমিনারে যোগ দিয়েছেন জানিয়ে শহিদুল আলম বলেন, আদর্শিক বা ধর্মীয় চিন্তায় ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও দেশের স্বার্থে এবং জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। নারী বক্তা না থাকা হতাশাজনক। তবুও এসেছি, কারণ জুলাই সনদ রক্ষা সবার দায়িত্ব।
জুলাই অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট স্মরণ করে শহিদুল আলম তিনি বলেন, ২০১৮ সালে শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা ‘রাষ্ট্রের মেরামত চাই’ প্ল্যাকার্ডটি আমাকে ভীষণভাবে স্পর্শ করেছিল।
শিশির বলেন, ঐকমত্য কমিশনের সংলাপের এক পর্যায়ে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া কী হবে, অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। তখন বিএনপির পক্ষ থেকেই গণভোটের প্রস্তাব আসে। এরপর বাকিরা তাতে সায় দেয়। এখন সেই প্রস্তাবকারী দল বলছে, গণভোটের আদেশ মানতে তারা বাধ্য নয়।
সরকারের গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ বাতিলের প্রস্তাবের সমালোচনা করে শিশির মনির বলেন, ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ বাতিল করার কী কারণ থাকতে পারে? ডিজিএফআইয়ের আপত্তি ছাড়া, এসবি, এনএসআইয়ের আপত্তি ছাড়া। এই আয়নাঘর তৈরি করার মূল কারিগর ডিজিএফআই।’
বিএনপি সরকার সংস্কারের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছে অভিযোগ করে শিশির মনির বলেছেন, তারা হয়ত এমন কোথাও নাকে খত দিয়েছে, যা ৭০ ভাগ মানুষের মতামতের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ তাদের কাছে।
নাজিবুর রহমান বলেন, সংবিধানের পক্ষের শক্তি এবং বিপক্ষের শক্তি হিসেবে দেশকে আবার বিভাজনের পাঁয়তারা চলছে।
আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, বাহাত্তরের সংবিধান জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পৃথিবীর কোথাও জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়া কোনো সংবিধান রচিত হয়নি।
নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, গণভোট কেবল নীতিগত অনুমোদন নয়, জনগণের প্রত্যক্ষ ম্যান্ডেট।
সিবগাতুল্লাহ বলেন, দুই-তৃতীয়াংশ আসন পেয়ে বিএনপি সরকার ২০০৯ সালে গঠিত সরকারের মতো একই পথে হাঁটা শুরু করেছে। সেমিনার থেকে গণভোট অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনসহ ৭ দফা দাবি জানানো হয়েছে।




