বরিশাল-২ আসনে সর্বাধিক নয়জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা

0
13

বরিশালের ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে বরিশাল-২ (উজিরপুর ও বানারীপাড়া) আসনে সর্বাধিক নয়জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এছাড়া বরিশাল-১ (গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া) আসনে পাঁচজন। বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ ও মুলাদী) আসনে আটজন। বরিশাল-৪ (হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ) আসনে পাঁচজন। বরিশাল-৫ (সিটি করপোরেশন ও সদর) আসনে আটজন এবং বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে ছয়জন প্রার্থীসহ ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট ৪১ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এছাড়া বিভিন্ন কাগজপত্রে অসংগতির কারণে চারজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। ৪ জানুয়ারি রাতে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বরিশাল জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমন।

সূত্রমতে, বৈধ প্রার্থীরা হলেন, বরিশাল-১ (গৗেরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপন, বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত হাফেজ মাওলানা মো. কামরুল ইসলাম খান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. রাসেল সরদার মেহেদী ও জাতীয় পার্টির ছেরনিয়াবাত সেকেন্দার আলী।

বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এস সরফুদ্দিন আহম্মেদ সান্টু, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত আব্দুল মান্নান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ নেছার উদ্দীন, জাতীয় পার্টির (জেপি) আব্দুল হক, জাতীয় পার্টির এমএ জলিল, খেলাফত মজলিসের মুন্সি মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল বাসদের মো. তারিকুল ইসলাম, গণঅধিকার পরিষদের রঞ্জিত কুমার বাড়ৈ এবং এনপিপির সাহেব আলী।

বরিশল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে বিএনপি মনোনীত অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, এবি পাটির ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ভূইয়া (ফুয়াদ), কারাগারে থাকা জাতীয় পার্টির গোলাম কিবরিয়া টিপু, মো. ইকবাল হোসেন, ফকরুল আহসান, ইসলামী আন্দোলনের মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, বাসদের মো. আজমুল হাসান জিহাদ, গণঅধিকার পরিষদের ইয়ামিন এইচএম ফারদিন।

এ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর তার মনোনয়নপত্র জমা দেননি। দলীয় সিদ্ধান্ত ও আমীরে জামায়াতের নির্দেশনার প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দিয়েছেন।

বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ) আসনে বিএনপি মনোনীত মো. রাজিব আহসান, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত মো. আব্দুল জব্বার, বাংলাদেশ জাসদের আব্দুস সালাম খোকন, ইসলামী আন্দোলনের সৈয়দ এছাহাক মো. আবুল খায়ের এবং মুক্তি জোটের আব্দুল জলিল।

বরিশাল-৫ (সদর) আসনে  বিএনপি মনোনীত অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম, বাসদের মনিষা চক্রবর্তী, জাতীয় পার্টির আখতার রহমান, এনপিপির আব্দুল হান্নান সিকদার, এবি পার্টির মো. তারিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) মো. সাইদুর রহমান।

বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে বিএনপি মনোনীত মো. আবুল হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম, জামায়াতে ইসলামীর মো. মাহমুদুন্নবী, বাংলাদেশ মুসলীম লীগের আব্দুল কুদ্দুস, গণ অধিকার পরিষদের মো. সালাউদ্দীন মিঞা এবং স্বতন্ত্র মো. কামরুল ইসলাম।

সূত্রমতে, এর আগে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রের প্রাথমিক বাছাইয়ে স্থগিত হওয়া বরিশাল-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু, বরিশাল-৩ আসনে জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া টিপু ও প্রকৌশলী ইকবাল হোসেন তাপস, বরিশাল-৫ আসনে বাসদ মনোনীত প্রার্থী ডা. মনীষা চক্রবর্তীর মনোনয়নপত্র রবিবার বৈধ বলে ঘোষনা করা হয়।

বৈধ ঘোষনার পর  বরিশাল-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু বলেন-অন্য আসনের কথা বলতে পারি না আমার আসনে প্রশাসন পক্ষপাতিত্ব শুরু করেছে। আমার মনোনয়ন বাদ দেওয়ার জন্য অনেক চেষ্টা ও ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রার্থীতা ফিরে পেয়েছি। আমি সংশয়ে রয়েছি ভোটের মাঠে প্রশাসন কেমন আচরণ করবে। কারন আমার কাছে মনে হচ্ছে প্রশাসন এখনই এক প্রার্থীর দিকে ঝুঁকে পরেছে।

সূত্রে আরও জানা গেছে, রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক চূড়ান্তভাবে বাতিল করা মনোনয়নপত্রের প্রার্থীরা হলেন, বরিশাল-২ আসনে জাসদের প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ। বরিশাল-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুস সাত্তার খান। বরিশাল-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তহিদুল ইসলাম এবং খেলাফত মজলিসের প্রার্থী একেএম মাহবুব আলম।

উল্লেখ্য, আজ ৫ থেকে আগামী ৯ জানুয়ারির মধ্যে রিটার্নিং অফিসারের সিন্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে। আগামী ২০ জানুয়ারি প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষদিন এবং ২১ জানুয়ারি প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here