ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে ভোটকেন্দ্রের আশপাশে মোবাইল ফোন বহনে নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম মারুফের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।
বিবৃতিতে চরমোনাই পীর বলেন, ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত কোনো স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়ার ইঙ্গিত দেয় না। বরং এর মাধ্যমে তথ্যপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তার মতে, এমন সিদ্ধান্তের পেছনে অসৎ উদ্দেশ্য না থাকলে এই নিষেধাজ্ঞার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
তিনি আরও বলেন, অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, তথ্যপ্রবাহ বন্ধ করলেই নানা অনিয়মের সুযোগ সৃষ্টি হয়। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময়ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সীমিত করার চেষ্টা হয়েছিল, তবে সাধারণ মানুষের হাতে থাকা মোবাইল ফোনের কারণে অনেক ঘটনা নথিভুক্ত করা সম্ভব হয়েছিল। এখন মোবাইল নিষিদ্ধ করে সেই সুযোগও বন্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ইসলামী আন্দোলনের আমির বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে সন্দেহ ও অনাস্থা তৈরি করছে। দ্রুত এই নির্দেশনা বাতিল না করলে নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে আরও প্রশ্ন উঠবে বলেও তিনি সতর্ক করেন। একই সঙ্গে নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে, ভোটকেন্দ্রে নারী ভোটারদের ধর্মীয় অনুভূতির বিষয়টিও তুলে ধরেন চরমোনাই পীর। তিনি বলেন, পর্দানশীন ও নেকাব পরিহিত নারী ভোটারদের প্রয়োজনে নারী কর্মকর্তা নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই পুরুষ কর্মকর্তার সামনে তাদের নেকাব খুলতে বাধ্য করা উচিত নয়।




