দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করেব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার পক্ষে নির্বাচনি প্রচারে সক্রিয় থাকার অভিযোগে সরাইল উপজেলার শাহজাদাপুর ইউনিয়ন বিএনপির ৭১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক এ বি এম সালাউদ্দিন জেলা বিএনপির প্যাডে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে শাহজাদাপুর ইউনিয়ন বিএনপির কমিটির সব ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।
দলীয় সূত্র জানায়, সংসদ নির্বাচন ঘোষণার পর থেকেই শাহজাদাপুর ইউনিয়ন বিএনপির অধিকাংশ নেতাকর্মী দলীয় মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে সক্রিয় না হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নেন। মাইকিং, গণসংযোগ, পথসভা ও বিভিন্ন নির্বাচনি সমাবেশে তাদের সরব উপস্থিতি দলীয় পর্যায়ে ব্যাপক অসন্তোষের জন্ম দেয়।
সূত্র আরও জানায়, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার দলীয়ভাবে সতর্ক করা হলেও সংশ্লিষ্ট নেতারা তা উপেক্ষা করেন। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়েই কঠোর সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিতে হয় উপজেলা বিএনপিকে।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বলেন, বহিষ্কারের বিষয়ে জেলা নেতৃবৃন্দকে জানানো হয়েছে। শাহজাদাপুর ইউনিয়ন বিএনপির অধিকাংশ নেতা-কর্মী দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রত্যাশিত ভূমিকা পালন করেননি। বরং তারা দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে সক্রিয় হয়েছে বলে জানানো হয়, যা আমাদের দলীয় শৃঙ্খলার সম্পূর্ণ পরিপন্থি। তাই উপজেলা কমিটি দলীয় ঐক্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাময়িকভাবে পুরো কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে দলীয় প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঘিরে বিএনপির ভেতরের টানাপড়েন দিন দিন প্রকাশ্য রূপ নিচ্ছে, যা নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করছে।
এদিকে শাহজাদাপুর ইউনিয়ন কমিটি স্থগিতের ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ একে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় সময়োপযোগী ও কঠোর সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে মনে করছেন, নির্বাচন ঘিরে দলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও গত মঙ্গলবার একই উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকসহ ছয়জন নেতাকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়। ধারাবাহিক এসব সাংগঠনিক পদক্ষেপ সরাইল উপজেলা বিএনপির রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।




