সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা হবে উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, এই বাংলাদেশে যারা মাইনোরিটি অধিকার নিয়ে বেশি হাল্লাচিল্লা করতেন। সাবেক ফ্যাসিস্ট সরকার আপনাদের পাশে সাঁওতাল পল্লীতে (গাইবান্দার সাহেবগঞ্জ) কি করেছে আপনারা কি দেখেন নাই? তাঁরা কি আমাদের ভাই-বোন না? তাঁরা কি এ দেশের নাগরিক না? আমরা তাঁদেরকে কথা দিচ্ছি, আমরা সবাইকে বুকে ধারণ করে সামনে আগাবো। আমরা সকলের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করব।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় নওগাঁ শহরের এটিম মাঠে নওগাঁ জেলা জামায়াতেই ইসলামী আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
জামায়াতের আমির বলেন, কোনো পরিস্থিতি হলেই যারা মুসলমান নন, তাঁরা ভয়ের সংস্কৃতিতে থাকবে কেন? সেই ভয়ের সংস্কৃতিকে আমরা গুড়িয়ে একাকার করে দিতে চাই। সেই পরিবেশ আমরা রাখব না। এদেশ আমাদের সকলের। সবাইকে নিয়েই আমরা চলব।
নারীদের ঘরে ও কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘মায়েদের জন্য ঘরে, চলাচলে, কর্মস্থলে সব জায়গায় মর্যাদা আর নিরাপত্তা এই দুইটা জিনিস নিশ্চিত করা হবে। কোনো জালিম সাহস করবে না নারী জাতির কারও দিকে চোখ তুলে তাকানোর। সেই পরিবেশ তৈরি করা হবে। এই অবস্থা দেখে অনেকে বেসামাল। ভাই মাঘ মাসে মাথা গরম করবেন চৈত্র মাস সামনে। এখনই যদি মাথা গরম করেন চৈত্র মাসে কি করবেন। মাথা ঠান্ডা রাখেন। মানুষ কি ভাবছে কান পেতে শোনেন। দেশ বাঁচলে আপনিও বাঁচবেন। এই ভোটটা আগামীতে হবে ইনশাআল্লাহ ইনসাফের প্রতীক।’
জামায়াত আমির বলেন, যারা নারীদের হুমকি-ধামকি, গায়ে হাত তোলেন, তাঁদের মনে করিয়ে দিতে চাই, জুলাইয়ের ১৫ তারিখে মেয়েদের গায়ে হাত দেওয়ার জন্য যেভাবে যুবক ভাইয়েরা গর্জে উঠেছিল। আবার বিস্ফোরিত হবে, গর্জে উঠবে। মায়ের অপমান সহ্য করবে না।
সরকার গঠন করলে চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের জামায়াত প্রশ্রয় দেবে না উল্লেখ করে জামায়াতে আমির বলেন, ‘আমাদের অঙ্গীকার চাঁদাবাজি আমরা করি না। চাঁদাবাজি আমরা কাউকে করতে দেব না। দুর্নীতি আমরা পছন্দ করি না। বগলের নিচে দুর্নীতিবাজদের আশ্রয় দেব না। ব্যাংক ডাকাতি আমরা করি না। কোনো ব্যাংক ডাকাতের সঙ্গে আমাদের আপস হবে না। মামলাবাজি আমাদের কাসলত নয়। মামলা বাণিজ্য যারা করেছে তাঁদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে।’
তিনি বলেন, ৫৪ বছরে যারা ক্ষমতায় ছিলেন তাঁরা নিজেদের পকেট পুরেছেন। ব্যাংক, বীমা লুট করেছে। বড় বড় মেগা প্রকল্পে মেগা দুর্নীতি করেছে। দুর্নীতির টাকা দেশে রাখতে পারে নাই। সেই টাকা বিদেশে পাচার করেছে। ক্ষমতায় এলে এই সব চোরদের মুখে হাত ঢুকিয়ে পেট থেকে সব টাকা বের করে নিয়ে আনা হবে।’
উত্তরবঙ্গ কৃষির রাজধানী উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘সারা দেশের মধ্যে নওগাঁ জেলায় দশ ভাগের এক ভাগ আম ও ধান উৎপন্ন হয়ে থাকে। কিন্তু এই জেলা তার ন্যায্য পাওনা পাইনি। নওগাঁ শহরের ভেতর দিয়ে চলা প্রধান সড়কটি চারলেন হওয়া দরকার। জামায়াত ক্ষমতায় এলে এই সড়কটি চারলেন করা হবে। এই জেলায় ব্যাপক পরিমাণে ধান ও ফল উৎপন্ন হয়ে থাকে। কিন্তু কৃষকরা তাঁদের ফসলের ন্যায্য মূল্য পায় না। উৎপাদিত ফল সংরক্ষণের জন্য সংরক্ষণাগার তৈরি করা হবে। ফল প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রি করা হবে। প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলো সংরক্ষণ করে পর্যটন শিল্পকে আরও বিকশিত করা হবে।’
নওগাঁ জেলা জামায়াতের আমির ও নওগাঁ-৪ আসনের জামায়াতের প্রার্থী আব্দুর রাকিবের সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন, নওগাঁ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও নওগাঁ-৫ আসনের জামায়াতের প্রার্থী আ স ম সায়েম, নওগাঁ-১ আসনের জামায়াতের প্রার্থী মাহবুবুল আলম, নওগাঁ-২ আসনের জামায়াতের প্রার্থী এনামুল হক, নওগাঁ-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী মাহফুজুর রহমান, নওগাঁ-৬ আসনের জামায়াতের প্রার্থী খবিরুল ইসলাম, ডাকসুর জিএস এসএম ফরহাদ, ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির প্রমুখ।




