বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। দীর্ঘ সামরিক শাসনের পর সব দলের অংশগ্রহণে এবং একটি নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে বিএনপির জয়লাভ ছিল অনেকের কাছেই এক বিরাট বিস্ময়। নির্বাচনের আগে জনমনে প্রবল ধারণা ছিল যে শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তির কারণে আওয়ামী লীগই ক্ষমতায় ফিরছে, কিন্তু ভোটের ফলাফল দেশের রাজনীতির গতিপথ সম্পূর্ণ বদলে দেয়।
নির্বাচনের আগে অনেক হেভিওয়েট নেতার দলত্যাগের কারণে বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থা আওয়ামী লীগের তুলনায় দুর্বল মনে করা হচ্ছিল। তা সত্ত্বেও বিএনপি ১৪০টি আসনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করে, যেখানে আওয়ামী লীগকে ৮৪টি আসন নিয়ে বিরোধী দলের আসনে বসতে হয়। এই নির্বাচনের মাধ্যমেই বাংলাদেশে কার্যত দ্বি-দলীয় রাজনীতির মেরুকরণ শুরু হয় এবং ওই সংসদের মাধ্যমেই দেশে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির এই অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ ছিল সাত দলীয় জোটের নেত্রী খালেদা জিয়ার স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে গড়ে ওঠা ভাবমূর্তি। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস এবং নেতাদের বক্তৃতা-বিবৃতিতে ফুটে ওঠা দম্ভ সাধারণ ভোটারদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। বিএনপি নেতারা মনে করেন, নির্বাচনের আগে জাতির উদ্দেশে দেওয়া দুই নেত্রীর ভাষণের পর থেকেই জনমত ধীরে ধীরে বিএনপির অনুকূলে আসতে শুরু করেছিল।
১৯৯১ সালের এই নির্বাচন বাংলাদেশে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের একটি সফল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। সব দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনটি স্বচ্ছতার দিক থেকে এখনো একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত। এই জয়ের মধ্য দিয়ে বিএনপি কেবল ক্ষমতায় ফেরেনি, বরং বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক শক্তিশালী ও অনিবার্য শক্তি হিসেবে নিজের অবস্থান সুসংহত করেছিল।




