আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচটি খেলতে পাকিস্তান অস্বীকৃতি জানানোয় ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি চরম কঠোর অবস্থান নিয়েছে। পিসিবি যদি আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করে, তবে পাকিস্তান দলকেই বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কার করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের বিকল্প হিসেবে আফ্রিকার দেশ উগান্ডাকে নিয়ে বিশ্বকাপ আয়োজনের জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দেশ যদি রাজনৈতিক বা অন্য কোনো কারণে টুর্নামেন্টের নির্দিষ্ট কোনো ম্যাচ বয়কট করে, তবে তা টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক কাঠামো ও শৃঙ্খলার পরিপন্থী হিসেবে গণ্য হয়। যেহেতু এই বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশ ইতিমধ্যে সরে দাঁড়িয়েছে এবং তাদের পরিবর্তে স্কটল্যান্ড অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, তাই পাকিস্তান বহিষ্কৃত হলে আইসিসি টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে পরবর্তী অবস্থানে থাকা উগান্ডাই হবে টুর্নামেন্টের ২০তম দল। উগান্ডা বর্তমানে বিশ্বকাপের মূল তালিকায় থাকা দেশগুলোর বাইরে র্যাঙ্কিংয়ে সবার ওপরে অবস্থান করছে।
আইসিসি প্রধানত তিনটি কারণে পাকিস্তানকে বাদ দিয়ে উগান্ডাকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা ভাবছে:
ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি না হলে আইসিসি ও সম্প্রচারকারী সংস্থাগুলো বিশাল অঙ্কের রাজস্ব হারাবে, যা কোনোভাবেই মানতে রাজি নয় জয় শাহের নেতৃত্বাধীন আইসিসি।
পাকিস্তানকে টুর্নামেন্টে রেখে একটি ম্যাচ বাতিল করার চেয়ে তাদের বাদ দিয়ে একটি আগ্রহী দলকে (উগান্ডা) সুযোগ দেওয়াকে টুর্নামেন্টের ভারসাম্যের জন্য বেশি কার্যকর মনে করছে কর্তৃপক্ষ।
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের এই বয়কট সংস্কৃতি রুখতে আইসিসি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে অন্য দেশগুলোকে কড়া বার্তা দিতে চায়।
পিসিবি যদি তাদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকে, তবে উগান্ডা তাদের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বড় কোনো বিশ্বমঞ্চে খেলার সুযোগ পেতে যাচ্ছে। পাকিস্তান সরকার ও ক্রিকেট বোর্ডের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপরই এখন নির্ভর করছে তারা বিশ্বকাপে থাকবে নাকি উগান্ডার জন্য জায়গা ছেড়ে দেবে।




