বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশ বাদ, এবার নীরবতা ভেঙে যা বলল আয়োজক শ্রীলঙ্কা

0
16

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ ঘিরে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) মধ্যে চলমান বিতর্ক প্রায় তিন সপ্তাহ পর চূড়ান্ত রূপ নিল। নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে ভারতে নির্ধারিত ম্যাচগুলো অন্যত্র সরানোর আবেদন জানিয়েছিল বাংলাদেশ।

প্রাথমিক সূচি অনুযায়ী, টুর্নামেন্টের শুরুতে কলকাতা ও মুম্বাইয়ে বাংলাদেশের চারটি ম্যাচ খেলার কথা ছিল। তবে ভারতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনুকূলে নয়—এই যুক্তিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানায়। মুস্তাফিজুর রহমানের আইপিএল থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘটনার পরপরই এই আবেদন আসে।

আইসিসি বাংলাদেশের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা দিয়েছিল। কিন্তু বিসিবি নিজ অবস্থানে অনড় থাকায় শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেয় আইসিসি। বাংলাদেশের পরিবর্তে বাছাইপর্বে বাদ পড়া দলগুলোর মধ্যে শীর্ষ র‍্যাঙ্কিংধারী স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এ ঘটনার পর বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে, বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে পাকিস্তানও টুর্নামেন্ট বর্জনের কথা ভাবতে পারে অথবা ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

পুরো পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন নীরব ছিল সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কা। ভারত ও শ্রীলঙ্কা যৌথভাবে টুর্নামেন্টের আয়োজক হওয়ায় কলম্বোর এই নীরবতা নিয়ে ক্রিকেট বিশ্বে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অবশেষে এ বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করেছে দ্বীপরাষ্ট্রটি।

শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের (SLC) সেক্রেটারি বান্দুলা ডিসানায়েকে বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, আঞ্চলিক রাজনৈতিক বিরোধে জড়িয়ে পড়তে চায় না তাঁর দেশ। তিনি বলেন, “ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে যেসব বিরোধ রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে আমরা নিরপেক্ষ অবস্থানে আছি। এরা সবাই আমাদের বন্ধুপ্রতিম দেশ।” তবে তিনি জানান, ভবিষ্যতে আইসিসি অনুরোধ জানালে শ্রীলঙ্কা যেকোনো দেশের জন্য টুর্নামেন্ট এককভাবে আয়োজন করতেও প্রস্তুত।

উল্লেখ্য, রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বর্তমানে ভারত ও পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলে না। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ পাকিস্তান তাদের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় খেলবে, যার মধ্যে ভারতের বিপক্ষের হাই-ভোল্টেজ ম্যাচটিও রয়েছে।

শ্রীলঙ্কার ক্রীড়ামন্ত্রী সুনীল কুমারা গামাগে এএফপিকে জানান, টুর্নামেন্টটি নির্বিঘ্নে আয়োজন করাই তাঁদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। বিশেষ করে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের নিরাপত্তার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরু হবে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি এবং ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ৮ মার্চ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here