প্রকৃতির সৌন্দর্যের পাশাপাশি পুষ্টিগুণেও ভরপুর সজনে

0
7

মুকসুদপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের পথে-প্রান্তরে সজনে ফুল এখন এক মনোরম দৃশ্য সৃষ্টি করেছে, যা প্রকৃতিতে ভিন্ন মাত্রার রঙ ছড়িয়ে দিচ্ছে। বসন্তের আগমনে প্রকৃতিতে শোভা ছড়াচ্ছে শ্বেতশুভ্র সজনে ফুল। ডালে ডালে থোকায় থোকায় ঝুলে থাকা এই ফুল গ্রামীণ প্রকৃতির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার পাশাপাশি এর পুষ্টিগুণেও ভরপুর।

শুধু নান্দনিক সৌন্দর্যই নয়, সজনে একটি উচ্চ পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ ও ভেষজ গুণসম্পন্ন গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভিদ। স্থানীয়ভাবে এটি সুস্বাদু সবজি হিসেবেও ব্যাপক জনপ্রিয়। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে রাস্তার পাশে ও বসতবাড়ির আঙিনায় সজনে গাছে সাদা ও হলুদাভ ফুলে ছেয়ে গেছে, যা প্রকৃতিকে করে তুলেছে আরও নয়নাভিরাম।

জানা গেছে, সজনে গাছ খুব অল্প পরিচর্যায় বেড়ে ওঠে।  মুকসুদপুরেও বাড়ির আঙিনা, রাস্তার ধারে, পরিত্যক্ত ও অনাবাদি জমিতে এই গাছ সহজেই জন্মাতে দেখা যায়। কিছু এলাকায় সজনে ফুলের সমারোহে প্রকৃতি হয়ে উঠেছে রঙিন ও প্রাণবন্ত।

সজনে ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ স্থানীয় বাসিন্দারাও। অনেকেই সকাল-বিকাল হাঁটার সময় কিংবা সড়কে যাতায়াতের পথে থমকে দাঁড়িয়ে উপভোগ করছেন চোখজুড়ানো এই প্রাকৃতিক শোভা। গাছের নিচে ঝরে পড়া ফুল কুড়িয়ে নিচ্ছে শিশু-কিশোররাও।

উদ্ভিদ বিশেষজ্ঞদের মতে, সজনে একটি ঔষধি গাছ। এর বৈজ্ঞানিক নাম মরিঙ্গা ওলিফেরা। এটি খরা সহিষ্ণু ও গ্রীষ্মপ্রধান অঞ্চলের উপযোগী একটি মাঝারি আকৃতির গাছ। থোকায় থোকায় ফুল ফোটার পাশাপাশি এর কাঁচা লম্বা ফল সবজি হিসেবে এবং পাতা শাক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আমাদের দেশে সাধারণত ডাল বা অঙ্গজ প্রজননের মাধ্যমে এর বংশবিস্তার করা হয়।
সজনে ফুলেও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ঔষধি গুণাগুণ। এতে থাকা উপাদান ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এ ছাড়া সজনে গাছের ফল, পাতা ও ফুলে রয়েছে ভিটামিন এ, বি১, বি২, বি৩, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

সব মিলিয়ে, বসন্তে ফোটা সজনে ফুল শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যই বাড়াচ্ছে না, বরং একটি পরিচিত ও উপকারী ভেষজ উদ্ভিদ হিসেবে মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here