top-ad
২৪শে এপ্রিল, ২০২৪, ১২ই বৈশাখ, ১৪৩১
banner
২৪শে এপ্রিল, ২০২৪
১২ই বৈশাখ, ১৪৩১

‘আশা করব এবার ভারত সরকার আন্তরিক হয়ে দ্রুত আমাকে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করবে’ সালাউদ্দিন আহমেদ

আশা করব, এবার ভারত সরকার আন্তরিক হয়ে দ্রুত আমাকে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন আহমেদ। ভারতের একটি আদালত তাকে দেশে ফেরানোর নির্দেশ দেয়ার পর তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এর আগে মেঘালয়ের একটি নিম্ন আদালতও একই নির্দেশ দিয়েছিল। ওই নির্দেশের বিরুদ্ধে আপিল করেছিল মেঘালয় সরকার। তবে সেই আপিল খারিজ করে দিয়েছেন শিলংয়ের অ্যাডিশানাল ডেপুটি কমিশনারের আদালত।

আহমেদ বিবিসিকে বলেন, ‘আশা করব, এবার ভারত সরকার আন্তরিক হয়ে দ্রুত আমাকে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করবে।’

মেঘালয়ের রাজধানী শিলংয়ে ২০১৫ সালের ১১ মে সকালে রহস্যজনক পরিস্থিতিতে তাকে উদ্ধার করা হয়েছিল। তার ঠিক দু’মাস আগে ২০১৫ সালের ১০ মার্চ ঢাকায় হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন তিনি।

উদ্ধার হওয়ার পর কিছু দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন আহমেদ। তবে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া ভারতে প্রবেশ করার অপরাধে তাকে গ্রেফতার করে বিদেশী আইনের ১৪ নম্বর ধারায় মামলা করে পুলিশ।

মেঘালয় সরকারের আপিল খারিজ
শিলংয়ের একটি আদালত ২০১৮ সালেই সালাউদ্দিন আহমেদকে বেকসুর খালাস ঘোষণা করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু মেঘালয় সরকার ওই নির্দেশের বিরুদ্ধে আপিল করায় এত দিন মামলা চলছিল।

বুধবার বিবিসিকে সালাউদ্দিন আহমেদ বলছিলেন, ‘আমরা মামলার চূড়ান্ত রায় এখনো হাতে পাইনি। কিন্তু নির্দেশটা পেয়েছি। সরকারের আপিল খারিজ হয়ে গেছে। এরপরও প্রক্রিয়াগত কাজে কিছু সময় লাগবে সরকারের। কিন্তু আশা করব, ভারত সরকার এবার আন্তরিক হয়ে আমাকে দ্রুত দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করবে।’

তবে এই বিষয়ে এখনো মেঘালয় সরকারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দেশে ফেরার জন্য উদগ্রীব বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা।

বাংলাদেশে নির্বাচন আসছে, তিনি কি আবার রাজনীতিতে ফিরে যাবেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে আহমেদ বলেন, ‘আগে দেশে ফিরি। তারপর দেখা যাবে।’

রহস্যজনকভাবে ঢাকায় ‘নিখোঁজ’
আট বছর আগে ঢাকায় তিনি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান।

আহমেদ বলছেন, ‘ডিবি পুলিশ আমাকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল। দু’মাস আটক ছিলাম তাদের কাছেই। তারপর চোখ বেঁধে জবরদস্তি আমাকে নিয়ে আসা হয় এখানে। বাংলাদেশে তো এই সরকার আসার পরে আইনবহির্ভূত হত্যা-গুম নিয়মিতই হচ্ছে।’

মেঘালয়ের রাজধানী শিলং শহরে গল্ফ কোর্সের কাছে ২০১৫ সালের ১১ মে ভোরসকালে কে বা কারা আহমেদকে নামিয়ে দিয়ে চলে যায়।

ওখানে কর্তব্যরত এক ট্র্যাফিক পুলিশ কর্মী বিবিসিকে তখন বলেছিলেন যে ওই ব্যক্তি অচেনা জায়গায় কয়েকজনকে জিজ্ঞাসা করছিলেন যে এটা কোন জায়গা। তারপর তিনি নিজের পরিচয় দেন যে বাংলাদেশের সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য। নিজের নামও বলেন তিনি।

তারপর তাকে পুলিশ নিয়ে যায়। বেশ কিছু দিন তার চিকিৎসা চলে। অন্যদিকে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের অভিযোগে সালাউদ্দিন আহমেদকে গ্রেফতারও করা হয়।

তারপর জামিন পেয়ে শিলং শহরেই একটি বাড়িতে থাকেন সালাউদ্দিন আহমেদ। মাঝে আদালতের অনুমতি নিয়ে চিকিৎসা করাতে মেঘালয়ের বাইরেও গেছেন একাধিকবার।

বাংলাদেশ থেকে ভারতে কী করে আনা হলো?
এখন তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ এলেও যে বিষয়টা এত বছর পরও রহস্যাবৃতই থেকে গেল, তা হলো, কারা ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত পার করে আহমেদকে শিলংয়ে নিয়ে এসেছিল।

কোনো না কোনো জায়গা দিয়ে তাকে সীমান্ত পার করাতে হয়েছে। সেটা যদি শিলং থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরের ডাউকি হয়, তাহলে বিএসএফ কেন দেখতে পেল না? আবার সীমান্ত থেকে গাড়িতে চাপিয়ে একজনকে নিয়ে আসা হলো। এতটা রাস্তাতে কি তবে কোথাও কোনো নজরদারি ছিল না?

আবার শিলংয়েই বা কেন নিয়ে আসা হয়েছিল, ওই প্রশ্নেরও জবাব পাওয়া যায়নি।

সূত্র : বিবিসি

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

জনপ্রিয় খবর