top-ad
২৯শে মে, ২০২৪, ১৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১
banner
২৯শে মে, ২০২৪
১৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১

ঢাকায় কাতারের আমিরকে লাল গালিচা সংবর্ধনা

দুদিনের সফরে ঢাকায় এসেছেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি। সোমবার বিকালে একটি বিশেষ ফ্লাইটে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পদার্পণ করেন। এ সময় তাকে স্বাগত জানান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, বিমানবন্দরে তাকে জানানো হয় লাল গালিচা সংবর্ধনা।
কাতারের আমিরের এ সফরে দুই দেশের মধ্যে ছয়টি চুক্তি এবং পাঁচটি সমঝোতা স্মারক সই হবে। এছাড়া ঢাকায় একটি সড়ক এবং একটি পার্কের নামকরণও আমিরের নামে করা হবে। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে কাতার থেকে বাংলাদেশ গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করে থাকে। তবে এবার ডলার সংকটের কারণে গ্যাসের দাম এক বছর পর্যন্ত বাকি রাখতে চায় বাংলাদেশ। এ প্রস্তাব কাতারের আমিরের সফরকালে দেওয়া হবে। তার সঙ্গে মন্ত্রী এবং গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা বাংলাদেশ সফর করবেন। এটি কাতারের আমিরের এশিয়া সফরের অংশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চতুর্থ মেয়াদের নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের এ গুরুত্বপূর্ণ নেতার সফর রাজনৈতিকভাবেও খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।
সফরকালে যে ছয়টি চুক্তি সই হবে সেগুলো হলো : ১. দ্বৈতকর পরিহার ও কর ফাঁকি সংক্রান্ত, ২. আইনগত বিষয়ে সহযোগিতা, ৩. সাগরপথে পরিবহণ, ৪. উভয় দেশের পারস্পরিক বিনিয়োগ উন্নয়ন ও সুরক্ষা সংক্রান্ত, ৫. দুই দেশের দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি বিনিময় এবং ৬. যৌথ ব্যবসা পরিষদ গঠন সংক্রান্ত চুক্তি।
এছাড়া যে পাঁচটি সমঝোতা স্মারক সই হবে, সেগুলো হলো : ১. শ্রমশক্তিবিষয়ক, ২. বন্দর পরিচালনা সংক্রান্ত, ৩. উচ্চশিক্ষা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা, ৪. যুব ক্রীড়া ক্ষেত্রে সমঝোতা স্মারক এবং ৫. কূটনৈতিক প্রশিক্ষণে সহযোগিতা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক।
এদিকে ঢাকায় কালশি এলাকায় বালুর মাঠে নির্মিতব্য পার্ক এবং ইসিবি চত্বর থেকে কালশি উড়াল সেতু পর্যন্ত সড়ক আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির নামে নামকরণ করা হবে।
২৩ এপ্রিল বিকালে তিনি নিজে দুটি স্থাপনা উদ্বোধন করবেন।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে ২২ ও ২৩ দুইদিনের সফরে বাংলাদেশে এসেছেন শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি। মঙ্গলবার সকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এরপর গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমিরের সঙ্গে প্রথমে একান্ত বৈঠক এবং পরে আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে ছয়টি চুক্তি ও পাঁচটি সমঝোতা স্মারক সই হবে। রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বঙ্গভবনে কাতারের আমিরের সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করবেন। পরে সন্ধ্যায় বিশেষ বিমানে তিনি ঢাকা ত্যাগ করবেন।
কাতারের আমিরের এ সফর তার এশিয়া সফরের অংশ। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসসমৃদ্ধ কাতার সর্বোচ্চ গড় মাথাপিছু আয়ের দেশ। কাতারের শক্তিশালী অর্থনীতি, ভূরাজনৈতিক অবস্থান ও কূটনৈতিক তৎপরতা ও মধ্যস্থতার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে একটি প্রভাবশালী দেশ হিসাবে বিবেচিত।
কাতার মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের অন্যতম শ্রমবাজার, যেখানে প্রায় চার লাখ বাংলাদেশি কর্মরত। পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ সার্বভৌম তহবিলের অধিকারী কাতার বাংলাদেশের জন্য একটি সম্ভাবনাময় বিনিয়োগের উৎস হিসাবে বিবেচিত। তদুপরি কাতার বাংলাদেশের জন্য জ্বালানি আমদানির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস। কাতারের আমিরের এ সফর তাই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জন্য এক বিরাট মাইলফলক।

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

জনপ্রিয় খবর