top-ad
৩১শে মার্চ, ২০২৩, ১৮ই চৈত্র, ১৪২৯
৩১শে মার্চ, ২০২৩
১৮ই চৈত্র, ১৪২৯

বাড়ছে সাইবার অপরাধ, শিকার হচ্ছে নারী-শিশু

ভারতে নারী ও শিশুদের সাথে বেড়েই চলেছে সাইবার অপরাধ। সংগঠিত এসব অপরাধের মধ্যে হাতেগোনা কয়েকটিতে পুলিশ এফআইআর দায়ের করে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অপরাধের শিকার পরিবারই পুলিশি তদন্ত চায় না।

২০১৬ সালের ঘটনা। তিরিশ ছুঁই ছুঁই এক নারীর কাছে জিমেইলে কুকথা লিখে পাঠাতে শুরু করেন কেউ।

ঘটনার শিকার নারী কলকাতার বাসিন্দা হলেও কাজের সূত্রে দিল্লি লাগোয়া গুরুগ্রামে থাকতেন।

নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক ওই নারী বলেন যে ওই ইমেইলগুলো কে পাঠাচ্ছিল, আমি এক রকম নিশ্চিত ছিলাম। মেসেজ ও ইমেইলগুলো ফেক আইডি থেকে পাঠানো হতো। আমার এক বন্ধুর মাধ্যমে এক নারীর সাথে আমার সামান্যই আলাপ হয়েছিল। আমি কেন ওই ছেলেটির সাথে বন্ধুত্ব রেখেছি, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন ওই নারী। ধীরে ধীরে গালিগালাজ দেয়া শুরু হয়। তারপর সেটা পৌঁছায় অশ্রাব্য গালিগালাজে। আমার চেহারা নিয়ে বিভিন্নভাবে বুলিং করতে শুরু করেন।

ওই বছরেরই শেষের দিকে তিনি কলকাতা পুলিশের কাছে সশরীরে গিয়ে অভিযোগ করেছিলেন।

বেনামী অভিযোগ বাড়ছে
২০১৯ সাল থেকে সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত অভিযোগ জানাতে জাতীয় স্তরের একটি পোর্টালে নাম প্রকাশ না করেই অভিযোগ জানানো যায়। তবে সেসব বেনামী অভিযোগগুলোর ভিত্তিতে পুলিশ কোনো তদন্তই করছে না।

ভারতের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে একটি লিখিত প্রশ্নের জবাবে সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন যে ২০২০ সালে নারী এবং শিশুদের সাথে সাইবার অপরাধ হওয়ার ১৭ হাজার ৪৬০টি বেনামী অভিযোগ জমা পড়েছিল, যার মধ্যে পুলিশ মাত্র ২৬টি এফআইআর দায়ের করেছে।

আবার ২০২২ সালে ৫৬ হাজার ১০২টি বেনামী অভিযোগ দায়ের হলেও মাত্র নয়টি অভিযোগের ক্ষেত্রে এফআইআর হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর বিভাস চ্যাটার্জী জানান, বিপুল সংখ্যক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এফআইআর হয় না, এটা সঠিক। তবে অপরাধের শিকার হওয়া পরিবার যখন অভিযোগ জানাতে আসেন তখন বেশিরভাগেরই অনুরোধ থাকে যে পেজ বা অ্যাকাউন্ট থেকে অপরাধটা সংঘটিত হয়েছে, সেই পেজ বা অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দেয়ার।

তিনি আরো জানিয়েছেন, সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত মামলা হওয়া উচিত তথ্যপ্রযুক্তি আইনে। কিন্তু মামলা দায়ের করা হয় ভারতীয় দণ্ডবিধি অনুযায়ী। কারণ তথ্যপ্রযুক্তি আইনে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ইন্সপেক্টর র‍্যাঙ্কের হতে হয়। আর পর্যাপ্ত ইন্সপেক্টর না থাকায় অনেক সময় দণ্ডবিধি অনুযায়ী মামলা করা হয় না।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, বেনামী অভিযোগের ক্ষেত্রে একটা বড় সমস্যা হলো যদি বাড়তি কোনো তথ্য দরকার হয়, তবে সেটা পাওয়ার কোনো উপায় নেই।

অন্যদিকে, একজন অভিযোগ জানানোর পর তদন্তের অগ্রগতির বিষয়েও তিনি জানতে পারবেন না। কারণ বেনামী অভিযোগ হওয়ার ফলে তার অভিযোগ ট্র্যাক করার কোনো পদ্ধতি নেই।

বেশিরভাগ পরিবারই তদন্ত চায় না
সাইবার অপরাধের মধ্যে সবথেকে গুরুতর অপরাধগুলো হলো রিভেঞ্জ পর্ণ, ধর্ষণের হুমকি, ব্ল্যাকমেইল করা আর সেক্টটর্শান। বিভাস চ্যাটার্জী পশ্চিমবঙ্গের প্রথম রিভেঞ্জ পর্ণ সংক্রান্ত মামলাটিতে অবশ্য অপরাধীকে জেলে পাঠিয়ে ছিলেন।

অপরাধের শিকার হওয়া নারীর পরিবার চান না তদন্ত বা মামলা করতে। আমাদের চিন্তাধারা এমন যে ভিক্টিম লুকিয়ে বেড়াবে আর অপরাধী বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াবে।

দরকার মানসিক সহায়তা
এফআইআর না নেয়ার ব্যাপারে সরকারি কৌঁসুলি বিভাস চ্যাটার্জী বলছেন, যেহেতু একজন নারী বা শিশুর অনলাইন পরিচয় প্রকাশ পেয়ে গেছে অপরাধীদের মাধ্যমে, সেটা আটকাতে পুলিশ বেশি তৎপর থাকে। ওই অনলাইন পরিচয় পৃথিবীর কোনো প্রান্তে গিয়ে কোন অপরাধ চক্রের হাতে পড়বে বলা যায় না। সেটা আটকানোই সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ।

আবার এ ধরনের সাইবার অপরাধের শিকার হওয়া মানুষের জন্য বিশেষজ্ঞ মনোবিদও রয়েছেন, যারা একদিকে পরামর্শ দেন কিভাবে সাইবার অপরাধে ঘটনা পুলিশের কাছে জানাতে হবে, তেমনই তিনি অপরাধের শিকার হওয়া ব্যক্তির মানসিক চিকিৎসাও করেন।

আইনজীবী বিভাস চ্যাটার্জী বলছিলেন, ‘সাইবার অপরাধের শিকার হওয়া নারী ও শিশুর ক্ষেত্রে মানসিক সহায়তা খুবই জরুরি। এতে অনেক ভিক্টিমই অভিযোগ দায়ের করবে এবং তাদের আর লুকিয়ে থাকতে হবে না।’

সূত্র : বিবিসি

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

জনপ্রিয় খবর