top-ad
২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ১২ই ফাল্গুন, ১৪৩০
২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪
১২ই ফাল্গুন, ১৪৩০

যে কারণে মুসলিমরা বারবি মুভি বয়কট করছে

আমি ছোটবেলা থেকেই বারবিকে ভালোবাসতাম। তার পুতুল, শো ও গল্পগুলো বিনোদনের চেয়ে বেশি ছিল। সেগুলো আমার অনুপ্রেরণার উৎস ছিল। আমাকে আত্মবিশ্বাস, সৃজনশীলতা ও উদারতা শিখিয়েছিল।

যাইহোক, বার্বির প্রতি আমার ভালবাসা এবং পুতুলের এই বিশেষ শৈশব স্মৃতি থাকা সত্ত্বেও আমি এই সিনেমাটি না দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই সিদ্ধান্তে আমি একা নই। বিশ্বের অনেক মুসলমান বিভিন্ন কারণে সিনেমাটি বয়কট করছে। এখানে ওই কারণগুলো তুলে ধরছি।

ফিল্মে বার্বিকে একজন কট্টর নারীবাদী হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে। এটি প্রচলিত লিঙ্গ ভূমিকাকে চ্যালেঞ্জ করে। তা আমার জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। যদিও আমি নারীর স্বায়ত্তশাসনকে সম্মান করি, একজন মুসলিম হিসেবে আমার বিশ্বাস পুরুষ ও মহিলাদের জন্য অর্পিত দায়িত্ব ভিন্ন ভিন্ন। এটি নারীবাদী নীতির সাথে সাংঘর্ষিক। আমি বিশ্বাস করি যে ইসলামের শিক্ষাগুলো লিঙ্গের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখে, যা নারীবাদ বিবেচনা করে না।

মুভির একটি উল্লেখযোগ্য দৃশ্যে দেখা যাচ্ছে, বার্বি চীন সফর করছেন। দক্ষিণ চীন সাগরে বিতর্কিত নাইন-ড্যাশ লাইন দেখানো একটি মানচিত্র জুড়ে আসছেন। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও ব্রুনাইসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতার এই লাইনটি আমার জন্য পতাকা তুলেছে। এটি চীনা আঞ্চলিক দাবির সমর্থন বলে মনে হচ্ছে, যা উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। আমি এই অন্তর্ভুক্তিকে সম্প্রসারণবাদী নীতি ও আঞ্চলিক বিরোধগুলোর একটি সূক্ষ্ম প্রচার হিসেবে দেখি, যা আমি সমর্থন করি না।

বার্বিকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র হিসেবে চিত্রিত করা বিশ্বজুড়ে তার লাখ লাখ মুসলিম ভক্তদের উপেক্ষা করার নামান্তর। একজন মুসলিম হিসেবে আমি বিশ্বাস করি যে বিশ্বব্যাপী চরিত্রগুলো তাদের বিশ্বাস ও মূল্যবোধসহ তাদের দর্শকদের বৈচিত্র্যকেও প্রতিফলিত করবে। ধর্মীয় প্রতিনিধিত্বের অনুপস্থিতিকে আমার কাছে মনে হয়, বার্বির ফ্যান বেস তৈরি করে এমন সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক টেপেস্ট্রি স্বীকার করার একটি সুযোগের হাতছাড়া।

ফিল্মের দৃশ্যে বার্বির পোশাক প্রকাশ করা, কেনের সাথে রোমান্টিক মিথস্ক্রিয়া, অ্যালকোহল সেবন ও নাইটক্লাবের নাচ নৈতিক সমস্যাগুলো উত্থাপন করে। এই দৃষ্টান্তগুলো বিনয়, বিশুদ্ধতা ও সম্মানের নীতিগুলো লঙ্ঘন করে। তদুপরি আমি উদ্বিগ্ন যে এই দৃশ্যগুলো অসাবধানতাবশত তরুণ মুসলিম মেয়েদেরকে আমাদের মূল্যবোধের পরিপন্থী আচরণ গ্রহণ করতে প্রভাবিত করতে পারে।

মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে মতামত ভিন্ন হলেও, আমার নতুন বার্বি মুভিটি এড়িয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত দৃঢ় রয়েছে। এটা আমার বিশ্বাসের প্রতি আমার অঙ্গীকার। একজন মুসলিম নারী হিসেবে আমার পরিচয়ের উপর ভিত্তি করে।

ফিল্মের নারীবাদের চিত্রায়ন, ধর্মীয় প্রতিনিধিত্বের অভাব ও নৈতিক বিষয়বস্তু সবই আমার সিদ্ধান্তের কারণ। আমি বুঝি যে বিনোদন বিষয়ভিত্তিক। কিন্তু আমার জন্য সিনেমাটি মূল নীতিগুলোর বিরুদ্ধে যায়, যা আমার জীবন পরিচালনা করে।

বার্বি এক সময় আমার জন্য ক্ষমতায়নের প্রতীক ছিল। এখন তার নতুন চিত্রায়ন আমার মূল্যবোধের সাথে সাংঘর্ষিক, যা আমাকে এই সিনেমা থেকে বিমুখ হতে বাধ্য করেছে।

সূত্র : ইসলামিক ইনফরমেশন

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

জনপ্রিয় খবর