top-ad
২১শে জুন, ২০২৪, ৮ই আষাঢ়, ১৪৩১
banner
২১শে জুন, ২০২৪
৮ই আষাঢ়, ১৪৩১

নব্বই-এর গণ আন্দোলনের সাহসী ছাত্রনেতা শফি আহমেদ আর নেই

জন্মভূমি ডেস্কঃ নব্বই-এর গণ আন্দোলনের অন্যতম সাহসী ছাত্রনেতা শফি আহমেদ পৃথিবীর মায়া ছেড়ে অনন্তে পাড়ি দিয়ে়ছেন ৩ জুন বিকেল সাড়ে চারটায়।নব্বই-এর গণ আন্দোলনের অন্যতম সাহসী ছাত্রনেতা শফি আহমেদ পৃথিবীর মায়া ছেড়ে অনন্তেপাড়ি দিয়েছেন ৩ জুন । শফী আহমেদ মারা গেছেন আওয়ামী লীগার হিসেবে। কিন্তু দেশজুড়ে তার পরিচিতি আসলে জাসদ ছাত্রলীগের নেতা হিসেবে। স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় ‘ছাত্রলীগ’ নামে একাধিক সংগঠন ছিল। আওয়ামী লীগ সমর্থিত ছাত্রলীগের পাশাপাশি জাসদ সমর্থিত ছাত্রলীগও বেশ জনপ্রিয় ছিল। তাই আলাদা করতে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নামের আদ্যাক্ষর দিয়ে ব্র্যাকেটবন্দী করা হতো। যেমন ছাত্রলীগ (সু-র) মানে সুলতান-রহমান বা ছাত্রলীগ (হা-অ) মানে হাবিব-অসীম আওয়ামী লীগ সমর্থিত। আবার ছাত্রলীগ (শি-মু) মানে শিরিন-মুশতাক, ছাত্রলীগ (না-শ) মানে নাজমুল-শফী; ছিল জাসদ সমর্থিত। এরশাদ আমলে একবার দুই ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়ন মিলে ডাকসুতে প্যানেল জয় পেয়েছিল। ভিপি হয়েছিলেন আওয়ামী ছাত্রলীগের সুলতান মনসুর, জিএস জাসদ ছাত্রলীগের মুশতাক আহমেদ, এজিএস ছাত্র ইউনিয়নের নাসিরউদ দোজা। তখন মাঠ ছিল উত্তাল, আন্দোলনমুখর। এটা মানতেই হবে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের মূল নেতৃত্বটা ছিল ছাত্রদের হাতে। ৮৩এর মধ্য ফ্রেুয়ারি থেকে শুরু করে ৯০এর ডিসেম্বর পর্যন্ত নানা ধাপে ছাত্ররাই সামনে থেকে লড়াই করেছে। ৯০এর ১০ অক্টোবর শহীদ জিহাদের লাশ সামনে রেখে গড়ে ওঠা সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের ইস্পাতকঠিন দৃঢ়তায় এরশাদের পতন নিশ্চিত হয়েছিল।

এই সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের অন্যতম কারিগর ছিলেন শফী আহমেদ। ছোটখাটো গড়নের হলেও মিছিলে, মিটিঙে, স্লোগানে, লড়াইয়ে শফী আহমেদ সবসময় সামনের কাতারেই থাকতেন। তবে শফী আহমেদের আসল কৃতিত্ব ছিল কৌশল প্রণয়নে। ছাত্রঐক্যের বৈঠকে আন্দোলনের কৌশল ও কর্মসূচি নির্ধারণ, দ্রত সির্দ্ধান্ত নিতে দারুণ পারঙ্গম ছিলেন তিনি। আন্দোলন নস্যাৎ করতে স্বৈরাচারের দোসরদের নানা কৌশলও নস্যাৎ হয়ে যেতো শফী আহমেদের পাল্টা চালে।ছাত্র রাজনীতির উজ্জ্বল অধ্যায় শেষে জাতীয় রাজনীতিতে পা রাখেন শফী আহমেদ। জাসদ হয়ে যোগ দেন আওয়ামী লীগে। তবে আওয়ামী লীগ থেকে কিছু পাননি তিনি। ছাত্রলীগের কমিটিতে তার সভাপতি নাজমুল হক প্রধান জাসদে থেকেই এমপি হয়েছেন। কিন্তু শফী আহমেদ আওয়ামী লীগে এসে মনোনয়নই পাননি। একেবারে পাননি বললে ভুল হবে। ২০০৭ সালের নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন পেয়েছিলেন। তবে সেবার নির্বাচনই হয়নি। এরপর ৪টি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ টানা জয় পেয়েছে, কিন্তু শফী আহমেদের কপালে আর মনোনয়ন জোটেনি। মনোনয়ন না পেলেও রাজনীতি ছাড়েননি তিনি, ছাড়েননি এলাকার জনগণকেও। নেত্রকোণার হাওরের মানুষ তাকে প্রাণ দিয়ে ভালোবাসতো। মনোনয়ন না পেয়ে শফী আহমেদ যতটা বঞ্চিত হয়েছেন, তার মত তীক্ষ্ণ মেধার একজন মানুষকে কাজে লাগাতে না পারায় আওয়ামী লীগের ক্ষতিও কম নয়। অবশ্য আওয়ামী লীগে এখন স্মার্ট হাইব্রিড নেতাদের দাপটে শফী আহমেদের মত মাটি-মানুষের নেতা বড্ড বেমানান। শফী আহমেদ থাকা না থাকায় কিচ্ছু যায় আসে না। শফী আহমেদের বুক ভরা অভিমান ছিল; কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রশ্নে, অসাম্প্রদায়িকতার প্রশ্নে কখনো আপস করেননি। বুক ভরা অভিমান নিয়েই দুপুরে ঘুমের মধ্যে মাত্র ৬৩ বছর বয়সে চির ঘুমের দেশে চলে গেলেন শফী আহমেদ।

এদিকে নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক জন্মভূমির সম্পাদক রতন তালুকদার সাহসী ছাত্রনেতা শফি আহমেদ-এর আকস্মিক মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং তার শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন।

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

জনপ্রিয় খবর