Home Blog

কারিনা অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার গুঞ্জন, সত্যিটা জানিয়ে দিলেন সাবা

বলিউড অভিনেত্রী কারিনা কাপুরের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর তা উড়িয়ে দিয়েছেন তাঁর স্বামী সাইফ আলি খানের বোন সাবা আলি খান। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওর ভুল ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল থেকেই এই জল্পনার শুরু বলে দাবি করেছেন তিনি।

সম্প্রতি বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় কারিনার হাঁটার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি দেখে কয়েকজন নেটিজেন দাবি করেন, কারিনার পেটে নাকি সন্তানসম্ভবা হওয়ার মতো আভাস দেখা যাচ্ছে। এরপরই তাঁর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।

তবে সাইফের বোন সাবা সেই ভিডিওটি নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে শেয়ার করে গুঞ্জনের জবাব দেন। তিনি জানান, একটি ভুল অ্যাঙ্গেলের কারণে মানুষ এমন ধারণা করছেন।

কারিনা কাপুর ও সাবা আলি খান। ছবি: সংগৃহীত

কারিনা কাপুর ও সাবা আলি খান। ছবি: সংগৃহীত

সাবা লেখেন, ‘খারাপ অ্যাঙ্গেলের দিন! কীভাবে সবাই এত বড় সিদ্ধান্তে পৌঁছে গেলেন? তিনি বিমানবন্দর থেকে বের হয়েছেন, দেখতে বেশ স্টাইলিশ, পরিপাটি ও স্লিম ছিলেন। আর আজ জিম থেকেও বের হয়েছেন। ব্যস, এটুকুই!’

এরপর ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে জল্পনা না করার অনুরোধ জানিয়ে সাবা লেখেন, ‘আমি তো আমার বোন সোহা আলি খানকে দ্বিতীয় সন্তান নেওয়ার জন্য বোঝানোর চেষ্টা করছি। ইশ, যদি সত্যি হতো! এটা বলার জন্য ও আমাকে মেরে ফেলবে! সবাই নিজের মতো থাকুন, অন্যকেও নিজের মতো থাকতে দিন। কিছু বিষয় ব্যক্তিগতই থাকুক। কোনো জল্পনার প্রয়োজন নেই।’

কারিনার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর এরই মধ্যে তার টিমও অস্বীকার করেছে। ‘এইচটি সিটি’-কে কারিনার টিম জানিয়েছে, ‘কারিনা অন্তঃসত্ত্বা নন। এটি সত্য নয়।’

কারিনা কাপুর। ছবি: ইন্সটাগ্রাম

কারিনা কাপুর। ছবি: ইন্সটাগ্রাম

কারিনা ও সাইফ আলি খানের দুই ছেলে—তৈমুর আলি খান ও জেহ আলি খান। অন্যদিকে সাবার বোন সোহা আলি খান ও অভিনেতা কুনাল খেমুর একমাত্র মেয়ে ইনায়া।

কাজের দিক থেকে কারিনা কাপুরকে সামনে দেখা যাবে পরিচালক মেঘনা গুলজারের ‘দায়রা’ সিনেমায়। এতে তার সঙ্গে অভিনয় করছেন পৃথ্বীরাজ সুকুমারন। সত্য ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত এই সিনেমায় অপরাধ, বিচার ও শাস্তির পাশাপাশি কোনো আলোচিত ঘটনা নিয়ে জনমত কীভাবে মানুষের ধারণাকে প্রভাবিত করে, সেই বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে। সিনেমাটি কারিনার প্রধান চরিত্রে অভিনীত ৬৮তম চলচ্চিত্র। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির কথা রয়েছে।

ফিফা আসিয়ান কাপে খেলবে বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশের সামনে এক সুবর্ণ সুযোগ এসে গেছে। প্রথমবারের মতো আয়োজিত ফিফা আসিয়ান কাপে অংশ নিতে যাচ্ছেন হামজা-শমিতরা। মূলত এই টুর্নামেন্টে ভারতের খেলার কথা থাকলেও তারা নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ায় তাদের পরিবর্তে বাংলাদেশকে এই প্রতিযোগিতায় অংশ করার সুযোগ আসে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) তাদের জাতীয় দল কমিটির জরুরি সভায় এই ঐতিহাসিক আমন্ত্রণ সানন্দে গ্রহণ করে। ফিফা ও আয়োজকদের পক্ষ থেকেও বাংলাদেশের অংশগ্রহণের সম্মতি জানিয়েছে বলে গতকাল শনিবার বাফুফের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

ফিফার সরাসরি তত্ত্বাবধানে ও অর্থায়নে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়ায় এই টুর্নামেন্টটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ভারতের ফুটবল ফেডারেশন সেপ্টেম্বর উইন্ডোতে ব্রাজিলের বিপক্ষে একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আসিয়ান কাপ থেকে নিজেদের সরিয়ে নেয়। এর পরপরই ফিফা এবং টুর্নামেন্ট আয়োজকরা বাংলাদেশকে খেলার প্রস্তাব দিলে বাফুফের সভাপতি ও কমিটির সদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে তাতে ইতিবাচক সাড়া দেন।

টুর্নামেন্টের গ্রুপিং অনুযায়ী বাংলাদেশ শক্তিশালী ‘এ’ গ্রুপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। এই গ্রুপে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের বাকি তিন প্রতিপক্ষ হলো–আয়োজক ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুর। নভেম্বরে ঘরের মাঠে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আগে র‍্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে তাকা আসিয়ান দলগুলোর বিপক্ষে এমন প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলা বাংলাদেশ দলের প্রস্তুতি, দলীয় আত্মবিশ্বাস ও খেলোয়াড়দের পারস্পরিক সমন্বয় বাড়াতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা। বাফুফে সূত্রে জানা গেছে, এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশ দলকে কোনো আর্থিক খরচ বহন করতে হবে না। বিমান ভাড়া থেকে শুরু করে আবাসন–সব খরচই আয়োজকরা দেবে।  এছাড়া টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন ও সেমিফাইনালিস্টদের জন্য কোটি টাকার আকর্ষণীয় প্রাইজমানির ব্যবস্থাও রয়েছে।

‘স্ট্রংম্যান’ মোদি জেন-জিদের জন্য রিল বানাচ্ছেন কেন?

দীর্ঘদিন ধরে ‘স্ট্রংম্যান’ ভাবমূর্তি ধরে রাখা এবং মেপে মেপে বক্তব্য দেওয়া ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এখন তরুণদের আকৃষ্ট করতে ইনস্টাগ্রাম রিলের ওপর জোর দিচ্ছেন। সম্প্রতি তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম ইনস্টাগ্রামে বেশ ক্যাজুয়াল বা অনানুষ্ঠানিক শৈলীতে উপস্থিত হতে দেখা যাচ্ছে তাঁকে।

বিবিসির খবর বলছে, এক মাস আগেও মোদির সামাজিক মাধ্যম হ্যান্ডেলগুলোতে অত্যন্ত ভেবেচিন্তে তৈরি কনটেন্ট পোস্ট করা হতো। তবে সম্প্রতি সেখানে ‘গেট রেডি উইথ মি’ ধরনের ট্রেন্ডিং ভিডিও, সেলফি স্টাইল রিল এবং তরুণদের ‘ফ্রেন্ডস’ সম্বোধন করার মতো ক্যান্ডিড রিল দেখা যাচ্ছে। এমনকি সম্প্রতি দিল্লিতে একটি সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘আমার বংশে আমিই প্রথম যে রকেট, চিপ এবং ড্রোন তৈরি করেছি।’

মূলত এই গঠনের বক্তব্য দীর্ঘদিন ধরেই সামাজিক মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে প্রচলিত। সংবাদমাধ্যম বলছে, ১০ কোটির বেশি ফলোয়ার নিয়ে মোদি ইনস্টাগ্রামের অন্যতম রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। ২০১৪ সালে ডিজিটাইজেশনকে হাতিয়ার করে ক্ষমতায় এলেও, বিজেপির মূল যোগাযোগ কৌশলে এই ধরনের হালকা মেজাজের কনটেন্ট আগে দেখা যায়নি।

কৌশল পরিবর্তনের নেপথ্যে 
ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ব্যানারে গড়ে ওঠা সাম্প্রতিক আন্দোলন ভারতের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিয়েছে। মিম, লাইভস্ট্রিম ও রিল-নির্ভর এই ডিজিটাল আন্দোলন রাজপথের শক্তিতে পরিণত হয় এবং এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর পদত্যাগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এতে করে নরেন্দ্র মোদি সামাজিক মাধ্যমের শক্তি ও তরুণদের আগ্রহের বিষয়ে সম্পর্কে সচেতন হয়ে ওঠেন।

তাছাড়া জনশুমারি অনুযায়ী, ভারতের জনসংখ্যার ৬০ শতাংশের বেশি মানুষের বয়স ৩৫ বছরের নিচে। ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনের নাগাদ ১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণকারী জেন-জি প্রজন্ম সবচেয়ে বড় ভোটার ব্লকে পরিণত হবে। তাই এই প্রজন্মের ভোট বিজেপির জন্য প্রয়োজন।

তরুণদের প্রতিক্রিয়া
তবে মোদির এই কৌশল পরিবর্তন নিয়ে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। সম্প্রতি আন্দোলনের মধ্যে প্রকাশিত মোদির সেলফি ভিডিও রিলে ‘ফ্রেন্ডস’ সম্বোধনের পর কয়েক মুহূর্তের নীরবতা নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক ট্রল। পরে অবশ্য মোদির সোশ্যাল মিডিয়া টিম আলো ও ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল পরিবর্তন করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে।

অনেকে মোদির উদ্যোগের প্রশংসা করলেও, ২২ বছর বয়সী জিনি মালিয়ার মতো অনেক তরুণ মনে করেন, জেন-জিদের ভাষায় কথা বলা হলেও মূল রাজনৈতিক উদ্বেগগুলো এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইনস্টাগ্রামে রাজনৈতিক ন্যারেটিভ নিয়ন্ত্রণ করা এক্স বা হোয়াটসঅ্যাপের মতো সহজ নয়। কারণ, অ্যালগরিদমের কারণে এটি সম্পূর্ণই প্রতিক্রিয়াকেন্দ্রিক। তারা বলছেন, ইনস্টাগ্রামে কনটেন্টের পারফরম্যান্স যাই হোক না কেন, বিজেপির মাঠ পর্যায়ের সাংগঠনিক শক্তি ও নির্বাচন জয়ের কৌশল এখনও সেকেলে।

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের জবাবে কানাডার পাল্টা শুল্ক আরোপ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কানাডীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তের জবাবে পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে কানাডা। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ইস্পাত, ইলেকট্রনিকসসহ বিভিন্ন পণ্যে সমপরিমাণ শুল্ক বসাবে দেশটি। শনিবার কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এ ঘোষণা দেন।

এর আগে শুক্রবার রাতে কয়েক দিন ধরে চলা নিবিড় আলোচনার পরও যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা কোনো বাণিজ্যচুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি। এর পরই কানাডীয় পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এতে দীর্ঘদিনের মিত্র ও প্রধান বাণিজ্য অংশীদার দুই দেশের সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার মধ্যে বিদ্যমান মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কের আওতায় পড়েছে কানাডার ওয়াইন, আসবাবপত্র, দুগ্ধজাত পণ্য, সিমেন্ট, পোশাক, মাছ ধরার ছিপ ও হকি সরঞ্জামসহ বিভিন্ন পণ্য। এর ফলে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের কানাডীয় রপ্তানি পণ্য শুল্কের আওতায় আসবে। এত দিন উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আওতায় কানাডার অধিকাংশ পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়ে আসছিল।

অটোয়ায় এক সংবাদ সম্মেলনে কার্নি বলেন, কানাডার শ্রমিক, কৃষক, পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে সুরক্ষা দিতে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা শুল্কের সমপরিমাণ পাল্টা শুল্ক দেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত নতুন শর্তগুলো কানাডার জন্য অর্থনৈতিকভাবে অন্যায্য এবং গ্রহণযোগ্য নয়।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের ইস্পাত, দুগ্ধজাত পণ্য, গৃহস্থালি সামগ্রী, কৃষি সরঞ্জাম, মণ্ড ও কাগজ এবং ইলেকট্রনিকস পণ্যে শুল্ক আরোপ করবে। যুক্তরাষ্ট্র আগে যেসব কানাডীয় পণ্যে শুল্ক বসিয়েছিল, তার কয়েকটির ক্ষেত্রেও পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য আগামী কয়েক দিনের মধ্যে জানানো হবে।

কার্নি বলেন, আলোচনার শেষ পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র এমন কিছু নতুন শর্ত দিয়েছিল, যা কানাডার অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। এর মধ্যে কানাডার ভবিষ্যতে নতুন বাণিজ্যচুক্তি করার সক্ষমতা সীমিত করার বিষয়ও ছিল।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেছেন, কানাডার পাল্টা শুল্কের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। কানাডার সামনে আরও ভালো একটি বাণিজ্যচুক্তির সুযোগ ছিল, কিন্তু দেশটি তা গ্রহণ করেনি। নতুন করে কানাডার সঙ্গে আলোচনার কোনো পরিকল্পনা নেই।

কানাডা তার মোট রপ্তানির প্রায় ৭০ শতাংশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের ওপর নির্ভরশীল। দেশটির মোট যুক্তরাষ্ট্রগামী রপ্তানির প্রায় ৫ শতাংশ নতুন শুল্কের আওতায় পড়বে। বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এর প্রভাব কানাডার নরম কাঠ ও ওয়াইনসহ কিছু শিল্পে বেশি পড়তে পারে। এতে কর্মসংস্থান কমার পাশাপাশি কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পগুলোর জন্য আগামী সপ্তাহে সহায়তা কর্মসূচি ঘোষণার কথা জানিয়েছেন কার্নি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নতুন বাণিজ্য ও সামরিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।

চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার পেছনে গাড়ি শিল্পের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কানাডা চেয়েছিল হালকা যানবাহনের জন্য প্রস্তাবিত শুল্ক সুবিধা মাঝারি ও ভারী ট্রাকের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হোক। যুক্তরাষ্ট্র এতে সম্মতি না দেওয়ায় কানাডায় উৎপাদিত কয়েকটি বড় ট্রাক মডেল সুবিধার বাইরে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

এ ছাড়া কানাডার সংস্কৃতি, ভাষা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু প্রস্তাব নিয়েও আপত্তি ছিল বলে জানিয়েছেন কার্নি। তবে এসব প্রস্তাবের বিস্তারিত তিনি প্রকাশ করেননি।

কানাডার পাল্টা শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রস্তাবিত চুক্তিটি কানাডার গাড়ি, ইস্পাত ও উৎপাদন খাতের জন্য ক্ষতিকর হতে পারত।

এদিকে প্রধান বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টির নেতা পিয়েরে পোইলিভ্রে বলেছেন, কানাডার কর্মসংস্থান ও ব্যবসা রক্ষায় দেশটির জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

খেলাপি ঋণ ঘোষণার সময়সীমা ১২ মাস করার দাবি বিকেএমইএ’র

বর্তমান জ্বালানি সংকট পরিস্থিতিতে খেলাপি ঋণ হিসেবে ঘোষণার সময়সীমা বর্তমান ৬ মাস থেকে বাড়িয়ে ১২ মাস করার দাবি জানিয়েছে তৈরি পোশাকের নিট ক্যাটেগরির পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিকেএমইএ।

আজ শনিবার পোশাক খাতের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে এক মতবিনিময় সভা থেকে এরকম ৫টি দাবি তুলে ধরা হয়েছে। বিকেএমইএর নারায়ণগঞ্জ অফিসে ওই জোনের সদস্যদের নিয়ে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এতে সভাপতিত্ব করেন।

সংগঠনের অন্য দাবির মধ্যে রয়েছে গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে কিস্তির সুবিধা দেওয়া। বিকেএমইএ বলেছে, বর্তমান সংকটে সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো অবর্ণনীয় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। প্রায় এক মাস ধরে উৎপাদন বন্ধ থাকায় অনেক প্রতিষ্ঠানই গুরুতর আর্থিক সংকটে পড়েছে। তাই, নিয়মিত বকেয়ার পাশাপাশি জুন ও জুলাই মাসের গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল আগামী ১২ মাসে কিস্তির মাধ্যমে পরিশোধের সুযোগ চান তারা। তাদের অন্য দাবির মধ্যে রয়েছে সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করা। অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা। ব্যক্তিমালিকানাধীন গাড়িতে সিএনজি সরবরাহ বন্ধ রাখা।

নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি জানানো। বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহে প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে গ্যাস ও জ্বালানি সরবরাহের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে গ্রাহকদের অবহিত করার দাবি জানানো হয়। এতে গ্রাহকরা পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারবেন এবং অনিশ্চয়তা ও বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা পাবেন।

এছাড়া, অবিলম্বে গ্যাসের সব ধরনের অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হবে এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এতে একদিকে গ্যাসের সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে সিস্টেম লসও কমে আসবে।

বেসরকারি খাতে বিদেশি উৎসের ঋণেও ধীরগতি

বেসরকারি খাতে অভ্যন্তরীণ উৎসে ঋণপ্রবৃদ্ধি কমে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। দীর্ঘদিন একই জায়গায় স্থির হয়ে আছে স্বল্পমেয়াদি বিদেশি ঋণ। বিদেশ থেকে যে পরিমাণ ঋণ আসছে পরিশোধ হচ্ছে তার বেশি।
আশানুরূপ বিনিয়োগ না হওয়া, রপ্তানি কমে যাওয়া, টাকার দরপতন, অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমাসহ বিভিন্ন কারণে ঋণের চাহিদা কমে গেছে; যার প্রভাবে বেসরকারি খাতে বার্ষিক ঋণপ্রবৃদ্ধি কমে প্রথমবারের মতো গত জুনে ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশে নেমেছে। দেশি উৎসের পাশাপাশি বিদেশি উৎসের ঋণেও একই পরিস্থিতি।

মূলধনি পণ্য ও শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামাল আমদানির জন্য স্বল্পমেয়াদি ঋণ নেন ব্যবসায়ীরা। সাম্প্রতিক সময়ে বিনিয়োগ সেভাবে বাড়ছে না। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ডলার দরে অস্থিরতা ছিল। এখন দুটি ক্ষেত্রে পরিস্থিতির উন্নতি হলেও বিদ্যুৎ-গ্যাস, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আশানুরূপ উন্নতি হয়নি। এসব কারণে সার্বিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও রপ্তানিতে ধীরগতি রয়েছে। সুদসহ ঋণস্থিতি দীর্ঘদিন একই রকম কিংবা আগের তুলনায় কমে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুন শেষে স্বল্পমেয়াদি বিদেশি ঋণের স্থিতি সামান্য কমে এক হাজার ২৫ কোটি ডলারে নেমেছে। গত এপ্রিলে যা ছিল এক হাজার ৩৩ কোটি ডলারে। চলতি বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে ছিল এক হাজার ৪৭ কোটি ডলার।

স্বল্পমেয়াদি বিদেশি ঋণ বেশি আসে করোনা-পরবর্তী ডলার সংকট শুরুর পর। ২০২০ সালের তুলনায় ২০২১ সালে স্বল্পমেয়াদি ঋণ প্রায় ৬৫ শতাংশ বেড়ে এক হাজার ৫৪৬ কোটি ডলারে ওঠে। পরের বছর আরও বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৬৪২ কোটি ডলারে। তবে পরে ডলারের দরে ব্যাপক ওঠানামার পর ব্যবসায়ীরা আবার ঋণ কমাতে শুরু করেন। ২০২৩ সাল শেষে এ ঋণ কমে এক হাজার ১৭৯ কোটি ডলারে নেমে যায়। ২০২৪ সাল শেষে আরও কমে নেমে আসে এক হাজার ১৩ কোটি ডলারে।

বিশিষ্ট ব্যাংকার ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নূরুল আমিন সমকালকে বলেন, বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানির বিপরীতে কাঁচামাল, মূলধনি পণ্যে আমদানির জন্য এ ধরনের সাপ্লায়ার্স ও বায়ার্স ক্রেডিট নেন ব্যবসায়ীরা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে খুব গতি না থাকায় হয়তো এ ধরনের ঋণ কমছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়লে আবার দেখা যাবে মূলধন যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল আমদানি বেড়ে সামগ্রিকভাবে ঋণের প্রয়োজনীয়তা বাড়বে।

তিনি বলেন, বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরিতে সরকার বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। বন্ধ কারখানা সচলসহ অর্থনীতিতে গতিশীলতা আনতে কম সুদে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারিশিল্পের জন্য আলাদা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

জানা গেছে, পেট্রোবাংলা, রাসায়নিক শিল্প করপোরেশন, চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের মতো সরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানও স্বল্পমেয়াদি ঋণ নিয়ে থাকে। তবে সেই তথ্য এখানে যুক্ত করা হয় না। স্বল্পমেয়াদি ঋণের বাইরে বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে বিভিন্ন খাতে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ নেওয়া হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিবেশ পরিস্থিতির কারণে কারখানা পরিধি বাড়ানোর জন্যও উদ্যোক্তারা সেভাবে ঋণ নিচ্ছেন না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকও এখন এ ধরনের ঋণে কিছুটা নিরুৎসাহিত করছে। সব মিলিয়ে স্বল্পমেয়াদি বিদেশি ঋণ বাড়ছে না। স্বল্পমেয়াদি ঋণের সর্বোচ্চ সুদহার কী হবে তা ঠিক করে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। গত মে মাসে সর্বোচ্চ সুদহারের সীমা কমানো হয়। সব ধরনের খরচসহ এখন সিকিউরড ওভারনাইট ফাইন্যান্সিং রেটের (এসওএফআর) সঙ্গে সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ যোগ করে এ ধরনের ঋণ নিতে পারেন ব্যবসায়ীরা। আগে এসওএফআরের সঙ্গে যোগ করা যেত ৪ শতাংশ।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সব মিলিয়ে গত মার্চ পর্যন্ত বিদেশি ঋণস্থিতি কমে ১১ হাজার ৯৩ কোটি ডলারে নেমেছে। তিন মাস আগে গত ডিসেম্বর শেষে যা ছিল ১১ হাজার ৩৫ কোটি ডলার। গত মার্চ পর্যন্ত এই বিদেশি ঋণের মধ্যে সরকারি খাতের ৯ হাজার ৯১ কোটি ডলার। গত ডিসেম্বরে যা ৯ হাজার ৩৪৬ কোটি ডলার ছিল। বেসরকারি খাতে গত ডিসেম্বরের ২ হাজার ৬ কোটি থেকে কমে ২ হাজার ২ কোটি ডলারে নেমেছে।

আইন লঙ্ঘনের দায়ে পদক্ষেপ নেবে ইসি আয়-ব্যয়ের হিসাব দেয়নি এনসিপিসহ সাতটি দল নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব দিয়েছিল দলগুলো

নির্ধারিত সময়ে বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব (বার্ষিক নিরীক্ষা প্রতিবেদন) জমা দেয়নি এনসিপিসহ নির্বাচন কমিশনে (ইসি) নিবন্ধিত সাতটি রাজনৈতিক দল। এ অবস্থায় দলগুলোর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে ইসি।

ইসি সূত্র বলছে, ২০২৫ পঞ্জিকা বছরের বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিতে ব্যর্থ হওয়া দলগুলোর মধ্যে তিনটি নতুন নিবন্ধিত, যারা গত বছরের শেষভাগে নিবন্ধন নিয়েছে। এই দল তিনটি হচ্ছে- জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জনতার দল ও আমজনতার দল। আর বাকি চারটি ২০২৩ সালে নিবন্ধন নিয়েছিল। দলগুলো হচ্ছে- বাংলাদেশ জাসদ, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ, তৃণমূল বিএনপি এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি।

এই সাতটি দলই গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। সবগুলো দল ইসিতে তাদের নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব জমা দিয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বার্ষিক নিরীক্ষা প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতাদের দল এনসিপি গত বছরের ১৯ নভেম্বর নিবন্ধিত হয়। আগের পঞ্জিকাবর্ষে দলটির কার্যক্রমের মেয়াদ ছিল মাত্র এক মাস ২১ দিন। এ বিষয়ে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিতে আমাদের কিছুটা দেরি হয়ে গিয়েছিল। তবে, আমার জানামতে দলটির সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা ইসিতে এই হিসাব পাঠিয়ে দিয়েছেন।’

নিবন্ধনের দাবিতে আমজনতার দলের সাধারণ সম্পাদক তারেক রহমানের ১৩৪ ঘণ্টার অনশন কর্মসূচির পর গত বছরের ২১ ডিসেম্বর দলটি ইসির নিবন্ধন পায়। এ হিসাবে আগের পঞ্জিকাবর্ষের মাত্র ১০ দিনের হিসাব জমা দিতে হবে দলটিকে। এ বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘ইসি জানিয়েছে, তারা ডাকযোগে চিঠি পাঠায়। কিন্তু আমি তা কখনোই পাইনি। নিরীক্ষা প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতার বিষয়টি আমার জানা আছে। তাই আমরা এখন প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করেছি এবং নির্বাচন কমিশনে দলের ৯ দিনের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

গত ১১ ডিসেম্বর নিবন্ধিত জনতার দলকে আইন অনুযায়ী ২০ দিনের হিসাব জমা দিতে হবে। দলটির মহাসচিব আজম খান জানান, নিয়ম-কানুন সম্পর্কে তারা অবগত আছেন। তবে ইসি থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি পাননি তারা।

এর আগে গত ৭ জুলাই নিবন্ধিত ইসিতে নিবন্ধিত ৬০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫৯টিকে চলতি বছরের ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে তাদের ২০২৫ পঞ্জিকা বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব (বার্ষিক নিরীক্ষা প্রতিবেদন) জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল ইসি। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থাকায় তারা এই নির্দেশ পায়নি। আইনি বাধ্যবাধকতা ও জরিমানার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে ৫৯টি দলের কাছে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠিও পাঠানো হয়। তবে ৩১ জুলাই শুক্রবার সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় পরবর্তী প্রথম কার্যদিবস ২ আগস্ট পর্যন্ত সময় পেয়েছিল দলগুলো।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী ঘোষিত ‘রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বিধিমালা, ২০০৮’-এর ৯(খ) বিধি অনুযায়ী, নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দলকে আগের পঞ্জিকাবর্ষের বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দিতে হয়। আর আরপিওর ৯০(এইচ) ধারা অনুযায়ী, কোনো দল টানা তিন বছর নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে ব্যর্থ হলে তাদের নিবন্ধন বাতিল করা হতে পারে।

ইসি সূত্র বলছে, ইসির চিঠি পাওয়ার পর ৫৯টি দলের মধ্যে ৩৮টি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিয়েছে। আর ১৩টি দল সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করে। এ ছাড়া জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) শুরুতে সময়সীমার মধ্যে হিসাব জমা দিতে ব্যর্থ হলেও পরে গত ১৩ আগস্ট জমা দেয়। এনসিপিসহ বাকি সাতটি দল হিসাব জমা দেয়নি, সময় বাড়ানোর আবেদনও করেনি।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করা ১৩টি দলকে আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিতে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছে ইসি। এই দলগুলোর মধ্যে রয়েছে- কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), গণফোরাম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), গণসংহতি আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) প্রভৃতি।

ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ সমকালকে বলেছেন, ইসির চিঠি পাওয়ার পর বেশ কয়েকটি দল সময় বাড়ানোর আবেদন করেছিল। কমিশন তাদের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছে। আর যেসব দল প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হয়েছে, তারা আইন লঙ্ঘন করছে। আমরা তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠাব। সেই অনুযায়ী আইনানুগ পদক্ষেপ নেব।

স্মরণসভায় পানিসম্পদমন্ত্রী মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কাজ করেছেন মোশাররফ হোসেন

পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেন আর্থিকভাবে অসচ্ছলকে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছেন। অনেককে বিদেশেও কাজের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। দেশের তৈরি পোশাকশিল্পের বিকাশেও তাঁর অবদান ছিল।

মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেনের ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন। গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এই স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে ‘ফেনী আমার ফেনী, ঢাকা’। স্মরণসভায় বক্তারা তাঁর কর্মময় জীবনের সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, মোশাররফ হোসেন ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ সমাজকর্মী। বৃহত্তর নোয়াখালীর মানুষের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল এবং তাদের কল্যাণে তিনি কাজ করেছেন। তিনি আগে তাদের বিদেশে পাঠাতেন, পরে তারা টাকা পরিশোধ করতেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রাণু ও ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির চেয়ারম্যান তফাজ্জল হোসেন। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক সভাপতি এম আবদুল্লাহের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মোশাররফ হোসেনের মেয়ে ও বে ইস্টার্ন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারাহ আঞ্জুম বারী। এতে মোশাররফ হোসেনের রুহের মাগফেরাত ও চিরশান্তি কামনা করা হয়।

সেমিনারে বক্তারা ওষুধের মূল্যবৃদ্ধিতে রোগী ও শিল্পের স্বার্থ দেখতে হবে

রোগীর ব্যয় কমানো, অত্যাবশ্যক ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় ওষুধশিল্পের টেকসই বিকাশ– এই তিনটি বিষয় সমন্বয় করে নতুন ওষুধ মূল্যনীতি প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, শুধু ওষুধের দাম কমানোর উদ্যোগ নিলে বাজারে সরবরাহ সংকট সৃষ্টি হতে পারে। আবার শিল্পের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিলে রোগীর চিকিৎসা ব্যয় বেড়ে যেতে পারে। তাই তথ্যভিত্তিক, স্বচ্ছ ও নিয়মিত মূল্য পর্যালোচনার ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।

গতকাল শনিবার ঢাকায় পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) আয়োজিত ‘ওষুধের মূল্য: বিতর্ক ও করণীয়’ শীর্ষক ভার্চুয়াল সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। সেমিনারে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদ, আইনজীবী ও ওষুধশিল্পের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, দেশের স্বাস্থ্য ব্যয়ের বড় অংশই ওষুধ কিনতে ব্যয় হয়। স্বাস্থ্য বীমার সীমিত সুযোগের কারণে এই ব্যয়ের বড় বোঝা সরাসরি রোগীকেই বহন করতে হয়। ফলে ওষুধের দাম কেবল মূল্য নির্ধারণের বিষয় নয়; এটি জনস্বাস্থ্য, স্থানীয় শিল্প এবং রাষ্ট্রের সামাজিক দায়িত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত। রোগীর আর্থিক সুরক্ষা, শিল্পের সুস্থ বিকাশ, বৈজ্ঞানিক প্রাইসিং ফর্মুলা এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারি স্বাস্থ্য সুরক্ষা– এই চারটি বিষয়কে কেন্দ্র করে ওষুধের মূল্যনীতি তৈরি করতে হবে।
হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ওষুধের মূল্য নির্ধারণ বৃহত্তর স্বাস্থ্য ব্যবস্থার একটি পদ্ধতিগত চ্যালেঞ্জ। শুধু দাম নির্ধারণ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। সরবরাহ ব্যবস্থা, ওষুধের গুণগত মান, অতিরিক্ত প্রেসক্রিপশন এবং নগর স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, ১৯৯৪ সালে নির্ধারিত ১১৭টি অত্যাবশ্যক ওষুধের দাম প্রায় তিন দশক ধরে নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয়নি। এ সময়ে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় কিছু কোম্পানি এসব ওষুধ উৎপাদন বন্ধ করেছে। আবার কোনো প্রতিষ্ঠান অন্য ওষুধ থেকে পাওয়া মুনাফা দিয়ে ওষুধে ভর্তুকি দিচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও এআরকে ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ড. রুমানা হক বলেন, দেশে বছরে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকার ওষুধ ব্যবহার হয়। দুর্বল রেফারেল ব্যবস্থা, প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ কেনা এবং অন্যের প্রেসক্রিপশন অনুসরণ করে ওষুধ সেবনের প্রবণতাও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বাড়াচ্ছে।  অত্যাবশ্যক ওষুধের তালিকা নিয়মিত হালনাগাদ, জেনেরিক নামে ওষুধ বিক্রি এবং সরকারি ওষুধ খোলা বাজারে বিক্রি বন্ধে নজরদারি প্রয়োজন।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এম মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, বাংলাদেশের ওষুধশিল্প দেশের প্রায় ৯৮ শতাংশ চাহিদা পূরণ করছে। ক্যান্সার, এইচআইভি, যক্ষ্মাসহ প্রায় সব ধরনের ওষুধ এখন দেশেই উৎপাদিত হচ্ছে।
তবে দীর্ঘদিন ১১৭টি অত্যাবশ্যক ওষুধের দাম সমন্বয় না হওয়ায় কিছু ওষুধে নেগেটিভ মার্জিন তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এর ফলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাজারে সরবরাহ সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. এম মুশতাক হোসেন বলেন, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের গেজেটে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী অত্যাবশ্যক ওষুধের তালিকা সম্প্রসারণ এবং নতুন মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেখানে বিতর্ক থাকলে সংশোধনের সুযোগ ছিল। কিন্তু পুরো গেজেট বাতিল করা জনস্বাস্থ্যের জন্য পশ্চাৎপদ সিদ্ধান্ত।
রেনাটা লিমিটেডের সিইও কায়সার কবির বলেন, আন্তর্জাতিক তুলনায় বাংলাদেশের ওষুধের দাম কম। শক্তিশালী প্রতিযোগিতার কারণেই এটি সম্ভব হয়েছে। তাঁর মতে, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও ক্যান্সারের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগের ওষুধ সরকার বড় পরিসরে কিনে রোগীদের বিনামূল্যে সরবরাহ করলে প্রকৃত সমাধান মিলতে পারে। কারণ সব ওষুধ রোগীর জন্য সমান আর্থিক বোঝা তৈরি করে না; উচ্চমূল্যের জীবনরক্ষাকারী ওষুধেই রোগীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন।

স্বাস্থ্য খাতে ১৮০ দিনে এক-তৃতীয়াংশ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়েছে

স্বাস্থ্য খাত আধুনিকায়ন ও সেবার মান বাড়াতে সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় ১২টি প্রতিশ্রুতি ছিল। এর মধ্যে চারটিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার চূড়ান্ত অগ্রগতি প্রতিবেদনে। ১৬ আগস্ট পর্যন্ত অগ্রগতির প্রতিবেদনটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বাড়ানো, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন, সরকারি হাসপাতালে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও অবকাঠামো সংস্কারে কিছু অগ্রগতি হয়েছে। তবে ই-হেলথ কার্ড, ই-প্রেসক্রিপশন, জনবল নিয়োগ ও পদমর্যাদা উন্নীত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগে প্রশাসনিক জট রয়ে গেছে।

আন্তঃমন্ত্রণালয় অনুমোদন, পদ সৃজন ও আইনি প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতায় এগুলো নির্ধারিত সময়ে পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা যায়নি। এরই মধ্যে হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকারকে বাড়তি সময় ও মনোযোগ দিতে হয়েছে। সব মিলিয়ে স্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের কিছু উদ্যোগে গতি কমেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিচ্ছিন্ন সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা দিয়ে স্বাস্থ্য খাতে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। প্রয়োজন সমন্বিত মহাপরিকল্পনা ও স্পষ্ট রোডম্যাপ, যার ঘাটতি এখনও স্পষ্ট।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় সরকারের অন্যতম বড় অর্জন হলো স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বাড়ানো। দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ১ শতাংশের নিচে থাকা বরাদ্দ বাড়িয়ে ১ দশমিক ২ শতাংশ করা হয়েছে। এ ছাড়া ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন-২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। গত ১০ এপ্রিল আইনটি চূড়ান্ত অনুমোদন পায়।

এ ছাড়া চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দেশের সব সরকারি হাসপাতালে আনসার মোতায়েন করা হয়েছে। অবকাঠামো সংস্কারেও অগ্রগতি স্পষ্ট। স্বাস্থ্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে সারাদেশে এক হাজার ৯৬৩টি অবকাঠামো মেরামতে ১৯০ কোটি টাকার বেশি ব্যয় করা হচ্ছে। এসব কাজের ভৌত অগ্রগতি শতভাগ।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অগ্রগতি হয়েছে। ১৫টি হাসপাতালে আন্তর্জাতিক মানের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার লক্ষ্যের বিপরীতে ভৌত অগ্রগতি ৭৩ শতাংশ। তবে প্রকল্পটির আর্থিক অগ্রগতি ৪৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ। অর্থাৎ, অবকাঠামোগত কাজ এগোলেও অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে বড় ব্যবধান রয়েছে। মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা বাড়ানো সংক্রান্ত প্রকল্পের অগ্রগতি হয়েছে ৩০ দশমিক ২৫ শতাংশ।

জ্যেষ্ঠ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. আবু জামিল ফয়সাল সমকালকে বলেন, স্বাস্থ্য খাত নিয়ে এই প্রতিবেদন মূলত দীর্ঘ স্থবিরতার চিত্র। দৃশ্যমান উন্নতি বা অবনতি কোনোটিই হয়নি, খাতটি আগের জায়গাতেই রয়েছে। তাঁর মতে, সংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণে দেশের ব্যর্থতাই সবচেয়ে বড় বিষয়।

প্রতিবেদন প্রসঙ্গে চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ডা. লিয়াকত আলী বলেন, সরকারের প্রথম ছয় মাসে পুরো স্বাস্থ্য খাতের চূড়ান্ত মূল্যায়ন করা কঠিন। তবে কিছু রাজনৈতিক ঘোষণার অসামঞ্জস্য বাদ দিলে কাঠামোগত পরিবর্তনের উদ্যোগগুলো ইতিবাচক ইঙ্গিত দেয়। তিনি বলেন, গত ৫৫ বছর ধরে স্বাস্থ্য খাতের বাজেট বরাদ্দ জিডিপির মাত্র দশমিক ৭ শতাংশে আটকে ছিল। এবার তা বাড়িয়ে ১ দশমিক ২ শতাংশ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে তা ৫ শতাংশে নেওয়ার উদ্যোগ বড় নীতিগত পদক্ষেপ।

ই-হেলথ কার্ডে ধীরগতি
প্রতিবেদনে বলা হয়, স্বাস্থ্যসেবাকে ডিজিটাল করার গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ছিল ই-হেলথ কার্ড। ১৮০ দিনের মধ্যে পাঁচটি জেলায় এর পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালুর লক্ষ্য থাকলেও তা এখনও শুরু হয়নি। কারিগরি সহায়তা প্রকল্প প্রস্তাব (টিএপিপি) অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। ফলে উদ্যোগটি এখনও প্রক্রিয়াধীন। জাতীয় ই-প্রেসক্রিপশন ও অটোমেশন কার্যক্রমে অগ্রগতি প্রায় ৩০ শতাংশ। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্টের (বিআইএম) সঙ্গে আলোচনা শেষে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে।

আজিমপুর প্রকল্পে অগ্রগতি সামান্য 
প্রতিবেদনে বলা হয়, আজিমপুর মা ও শিশু স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ডরমিটরি ও হোস্টেল নির্মাণ প্রকল্পে অগ্রগতি মাত্র ১.১ শতাংশ। ব্যয় না বাড়িয়ে প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে দরপত্র মূল্যায়নের কাজ চলছে। এ ছাড়া নগরবাসীর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় বিশ্বব্যাংকের সহায়তার একটি প্রকল্প গত ২৬ এপ্রিল একনেকে অনুমোদন পেয়েছে। কড়াইলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতেও সমীক্ষা ও বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

নিয়োগে সুপারিশ, আটকে ভেরিফিকেশনে
স্বাস্থ্য খাতে জনবল সংকট কাটাতে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এর অংশ হিসেবে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (বিপিএসসি) মাধ্যমে ৪০১ জন নিয়োগের লক্ষ্য থাকলেও ৫৯৮ জনের সুপারিশ পাওয়া গেছে। তবে নিয়োগ প্রক্রিয়া এখনও শেষ হয়নি। প্রার্থীদের পুলিশ ভেরিফিকেশন চলছে। ফলে বেশি প্রার্থীর সুপারিশ এলেও মাঠ পর্যায়ে নতুন জনবল যোগ দিতে সময় লাগবে।

পদ সৃজনে প্রশাসনিক জট
বিদ্যমান জনবলের পদমর্যাদা উন্নীত করার উদ্যোগে ধীরগতি দেখা দিয়েছে বলে অগ্রগতি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, নার্সিং সুপারভাইজারদের এক হাজার ২০৮টি পদ নবম গ্রেডে এবং অন্য পদগুলো পঞ্চম ও সপ্তম গ্রেডে উন্নীত করতে অর্থ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন। এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের অংশ হিসেবে ১৫ হাজার সিনিয়র স্টাফ নার্স এবং দুই হাজার ৪৭০টি মিডওয়াইফ পদ সৃজনের প্রস্তাবও জনপ্রশাসন ও অর্থ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। এগুলো এখনও অনুমোদন পায়নি। স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, পদ সৃজন ও পদমর্যাদা উন্নীত করার বিষয়গুলো দ্রুত নিষ্পত্তিতে অর্থ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সংস্কারে প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা বড় বাধা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় কিছু দৃশ্যমান অগ্রগতি হলেও ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা, জনবল বৃদ্ধি ও সংস্কারে প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা বড় বাধা। আগামী পাঁচ বছরের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এসব জট দ্রুত কাটানোই মূল চ্যালেঞ্জ।

জনস্বাস্থ্যবিদ বে-নজীর আহমেদ সমকালকে বলেন, বিচ্ছিন্ন সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা দিয়ে স্বাস্থ্য খাতে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। প্রয়োজন সমন্বিত মহাপরিকল্পনা ও স্পষ্ট রোডম্যাপ, যার ঘাটতি এখনও স্পষ্ট। তিনি বলেন, সরকারের প্রতিশ্রুতিগুলো এখনও অনেকটাই আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ। বাজেটে বরাদ্দ দেওয়া হলেও মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের প্রস্তুতি স্পষ্ট নয়। শুধু শয্যা বাড়ালেই সেবার মান বাড়ে না; জনবল, বাজেট, যন্ত্রপাতি, ওষুধ ও সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী যা বললেন
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন সমকালকে বলেন, ছয় মাসে স্বাস্থ্য খাতে বেশ কিছু সাফল্য অর্জিত হয়েছে। এর মধ্যে জরুরি পরিস্থিতিতে হামের টিকার মজুত নিশ্চিত করা এবং টিকাদান জোরদার করা অন্যতম। তিনি জানান, টিকার সংকট কাটিয়ে পর্যাপ্ত মজুত গড়ে তোলা হয়েছে। পাশাপাশি ভিটামিন ‘এ’ কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় বড় পরিবর্তনের উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের ২৯৮টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১৫১ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেখানে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার, শিশুদের জন্য ২৫ শয্যার চাইল্ড কেয়ার সেন্টার ও জরুরি পরিস্থিতির জন্য ১৫টি শয্যা থাকবে। এ জন্য হাসপাতাল ভবনের পরিসরও বাড়ানো হবে।