দীর্ঘদিন ধরে ‘স্ট্রংম্যান’ ভাবমূর্তি ধরে রাখা এবং মেপে মেপে বক্তব্য দেওয়া ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এখন তরুণদের আকৃষ্ট করতে ইনস্টাগ্রাম রিলের ওপর জোর দিচ্ছেন। সম্প্রতি তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম ইনস্টাগ্রামে বেশ ক্যাজুয়াল বা অনানুষ্ঠানিক শৈলীতে উপস্থিত হতে দেখা যাচ্ছে তাঁকে।
বিবিসির খবর বলছে, এক মাস আগেও মোদির সামাজিক মাধ্যম হ্যান্ডেলগুলোতে অত্যন্ত ভেবেচিন্তে তৈরি কনটেন্ট পোস্ট করা হতো। তবে সম্প্রতি সেখানে ‘গেট রেডি উইথ মি’ ধরনের ট্রেন্ডিং ভিডিও, সেলফি স্টাইল রিল এবং তরুণদের ‘ফ্রেন্ডস’ সম্বোধন করার মতো ক্যান্ডিড রিল দেখা যাচ্ছে। এমনকি সম্প্রতি দিল্লিতে একটি সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘আমার বংশে আমিই প্রথম যে রকেট, চিপ এবং ড্রোন তৈরি করেছি।’
মূলত এই গঠনের বক্তব্য দীর্ঘদিন ধরেই সামাজিক মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে প্রচলিত। সংবাদমাধ্যম বলছে, ১০ কোটির বেশি ফলোয়ার নিয়ে মোদি ইনস্টাগ্রামের অন্যতম রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। ২০১৪ সালে ডিজিটাইজেশনকে হাতিয়ার করে ক্ষমতায় এলেও, বিজেপির মূল যোগাযোগ কৌশলে এই ধরনের হালকা মেজাজের কনটেন্ট আগে দেখা যায়নি।
কৌশল পরিবর্তনের নেপথ্যে
ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ব্যানারে গড়ে ওঠা সাম্প্রতিক আন্দোলন ভারতের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিয়েছে। মিম, লাইভস্ট্রিম ও রিল-নির্ভর এই ডিজিটাল আন্দোলন রাজপথের শক্তিতে পরিণত হয় এবং এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর পদত্যাগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এতে করে নরেন্দ্র মোদি সামাজিক মাধ্যমের শক্তি ও তরুণদের আগ্রহের বিষয়ে সম্পর্কে সচেতন হয়ে ওঠেন।
তাছাড়া জনশুমারি অনুযায়ী, ভারতের জনসংখ্যার ৬০ শতাংশের বেশি মানুষের বয়স ৩৫ বছরের নিচে। ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনের নাগাদ ১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণকারী জেন-জি প্রজন্ম সবচেয়ে বড় ভোটার ব্লকে পরিণত হবে। তাই এই প্রজন্মের ভোট বিজেপির জন্য প্রয়োজন।
তরুণদের প্রতিক্রিয়া
তবে মোদির এই কৌশল পরিবর্তন নিয়ে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। সম্প্রতি আন্দোলনের মধ্যে প্রকাশিত মোদির সেলফি ভিডিও রিলে ‘ফ্রেন্ডস’ সম্বোধনের পর কয়েক মুহূর্তের নীরবতা নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক ট্রল। পরে অবশ্য মোদির সোশ্যাল মিডিয়া টিম আলো ও ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল পরিবর্তন করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে।
অনেকে মোদির উদ্যোগের প্রশংসা করলেও, ২২ বছর বয়সী জিনি মালিয়ার মতো অনেক তরুণ মনে করেন, জেন-জিদের ভাষায় কথা বলা হলেও মূল রাজনৈতিক উদ্বেগগুলো এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইনস্টাগ্রামে রাজনৈতিক ন্যারেটিভ নিয়ন্ত্রণ করা এক্স বা হোয়াটসঅ্যাপের মতো সহজ নয়। কারণ, অ্যালগরিদমের কারণে এটি সম্পূর্ণই প্রতিক্রিয়াকেন্দ্রিক। তারা বলছেন, ইনস্টাগ্রামে কনটেন্টের পারফরম্যান্স যাই হোক না কেন, বিজেপির মাঠ পর্যায়ের সাংগঠনিক শক্তি ও নির্বাচন জয়ের কৌশল এখনও সেকেলে।


