Home Blog

বিয়ের গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন প্রভা

কয়েক দিন ধরে সামাজিক মাধ্যমে অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভার বিয়ে নিয়ে আলোচনা। যুক্তরাষ্ট্রে পরিচয় হওয়া এক যুবককে গোপনে বিয়ে করেছেন বলে গুঞ্জন চলছে। এমনকি চুক্তিভিত্তিক বিয়ের কথাও সামনে আসে। এবার এসব গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন প্রভা। জানালেন, তার বিয়ের খবর সম্পূর্ণ গুজব ও ভিত্তিহীন।

সম্প্রতি ফেসবুক পোস্টে প্রভা স্পষ্ট করে জানান, তিনি বিয়ে করেননি। একই সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক বিয়ে বা এ ধরনের কোনো সম্পর্কেও তিনি আবদ্ধ হননি। তার ভাষায়, ‘আমাকে ঘিরে ছড়ানো কথাগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’

হঠাৎ করে ছড়িয়ে পড়া এই গুঞ্জনের উৎস মূলত প্রভার কয়েকটি সামাজিক পোস্ট। গত এপ্রিলে আংটি পরা একটি ছবি প্রকাশ করেন অভিনেত্রী। এরপর আংটি ও হাতে ফুল থাকা আরেকটি ছবি প্রকাশের পর কৌতূহল বাড়তে থাকে নেটিজেনদের। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে বিয়ের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।

সাদিয়া জাহান প্রভা। ছবি: ফেসবুক

সাদিয়া জাহান প্রভা। ছবি: ফেসবুক

গত সপ্তাহে সেই গুঞ্জন আরও জোরালো হয়। দাবি করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে পরিচয় হওয়া নিজের চেয়ে কম বয়সী এক যুবকের সঙ্গে গোপনে বিয়ে করেছেন প্রভা। পরে সেই দাবির সঙ্গে যুক্ত হয় চুক্তিভিত্তিক বিয়ের প্রসঙ্গও। তবে এসব তথ্যের কোনোটি সত্য নয় বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী।

শুধু বিয়ের গুঞ্জন নয়, এ ধরনের খবর প্রকাশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রভা। তার দাবি, এ বিষয়ে কেউ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। নিজেদের মতো করে নানা তথ্য লেখা হচ্ছে।

দায়িত্বশীলতার বিষয়টি উল্লেখ করে প্রভা বলেন, একজন সাংবাদিকের লেখার শক্তি অনেক বেশি। একই কলম দিয়ে কাউকে ভয়ংকর মানুষ, আবার কাউকে চমৎকার মানুষ হিসেবে তুলে ধরা সম্ভব। এই শক্তির সঙ্গে দায়িত্বশীলতাও থাকা জরুরি।

সাদিয়া জাহান প্রভা। ছবি: ফেসবুক

সাদিয়া জাহান প্রভা। ছবি: ফেসবুক

প্রভার বক্তব্যে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে গুজব ছড়ানোর বিষয়টিও নতুন করে সামনে এসেছে। তারকাদের ব্যক্তিজীবন নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নানা আলোচনা নতুন নয়। বিশেষ করে কোনো ছবি বা পোস্টের সূত্র ধরে অনুমান, জল্পনা কিংবা অসম্পূর্ণ তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়।

শেষে নিজের অনুসারীদের উদ্দেশে প্রভা অনুরোধ করেন- গুজব বা অপপ্রচারে কান না দিতে। ক্যারিয়ার, ব্যক্তিগত জীবন কিংবা অন্য কোনো বিষয়ে সঠিক তথ্য জানার জন্য ফেসবুক পেজে দৃষ্টি রাখতে বলেছেন তিনি।

রোমান্টিক গল্পের নাটক-সিনেমা বন্ধের নোটিশে প্রতিবাদ ৭ সংগঠনের

প্রেম ও রোমান্সনির্ভর নাটক-সিনেমা নির্মাণ ও সম্প্রচারে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের দাবিতে সরকারের কাছে আইনি নোটিশ পাঠানোকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দেশের শোবিজ অঙ্গন। যুবসমাজের নৈতিক অবক্ষয়, সামাজিক শৃঙ্খলা এবং সৃজনশীল মেধার বিকাশের স্বার্থে কেবল প্রেম ও রোমান্সনির্ভর কনটেন্ট নির্মাণ বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে ওই নোটিশে। অন্যদিকে, একটি নির্দিষ্ট ঘরানার সৃজনশীল কাজ সামগ্রিকভাবে বন্ধের উদ্যোগকে শিল্পের স্বাধীনতা ও কর্মসংস্থানের জন্য উদ্বেগজনক উল্লেখ করে যৌথ প্রতিবাদ জানিয়েছে টেলিভিশন ও অডিওভিজ্যুয়াল অঙ্গনের বিভিন্ন সংগঠন।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এ আইনি নোটিশ পাঠান। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের চেয়ারম্যানকে নোটিশের প্রাপক করা হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, দেশের বর্তমান নাটক ও চলচ্চিত্রে প্রেম ও মাত্রাতিরিক্ত রোমান্টিক কনটেন্টের আধিক্যের কারণে সাংস্কৃতিক ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে যুবসমাজ ও শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা এবং ক্যারিয়ারের প্রতি অমনোযোগী হয়ে পড়ছে বলেও দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি নাটক-সিনেমায় পরকীয়া ও বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ককে স্বাভাবিক ও মহিমান্বিত করে দেখানোর অভিযোগ তোলা হয়েছে। নোটিশদাতার দাবি, এ ধরনের উপস্থাপন সমাজের প্রচলিত নৈতিক কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

এমনকি মূলধারার গণমাধ্যমে অনৈতিক সম্পর্কের অবাধ প্রদর্শনের সঙ্গে সামাজিক নৈরাজ্য এবং পরকীয়া ও ধর্ষণের মতো অপরাধ বৃদ্ধির সম্পর্ক রয়েছে বলেও নোটিশে দাবি করা হয়েছে। তবে এই সম্পর্কের পক্ষে নোটিশে কোনো গবেষণা বা পরিসংখ্যান উপস্থাপন করা হয়েছে কি না, তা প্রকাশিত সংবাদগুলো থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি আপাতত নোটিশদাতার অভিযোগ ও যুক্তি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

শুধু নিষেধাজ্ঞা নয়, কী বানাতে হবে সেটিও বলা হয়েছে

নোটিশে শুধু প্রেম ও রোমান্সনির্ভর নাটক-সিনেমায় বিধিনিষেধের দাবি জানানো হয়নি। এর পরিবর্তে বিজ্ঞান, শিক্ষা, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ এবং প্রতিরক্ষাভিত্তিক চলচ্চিত্র ও নাটক নির্মাণ ও সম্প্রচারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর নির্দেশনা দেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে।

নোটিশে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ১০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া এবং সে বিষয়ে নোটিশদাতাকে অবহিত করতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পদক্ষেপ না নিলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট পিটিশন দায়েরের কথা বলা হয়েছে।

সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগ নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে মৌলিক অধিকার বাস্তবায়ন এবং সরকারি কর্তৃপক্ষের আইনবহির্ভূত বা এখতিয়ারবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের বিষয়ে আদেশ বা নির্দেশ দিতে পারে।

তবে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—আইনি নোটিশ নিজে কোনো আদালতের নিষেধাজ্ঞা বা সরকারি আদেশ নয়। এটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি বা আইনি পদক্ষেপের পূর্বধাপ হিসেবে কাজ করতে পারে। ফলে এই মুহূর্তে প্রেমভিত্তিক নাটক বা সিনেমা নির্মাণ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে—এমন কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

সৃজনশীলতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়

আইনি নোটিশের পরই এর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে টেলিভিশন ও অডিওভিজ্যুয়াল অঙ্গনের বিভিন্ন সংগঠন। বৃহস্পতিবার রাজধানীর নিকেতনে যৌথ প্রতিবাদলিপিতে তারা বলেছে, বাংলাদেশের টেলিভিশন ও অডিওভিজ্যুয়াল শিল্প দীর্ঘদিন ধরে দেশের সংস্কৃতি, বিনোদন, সৃজনশীলতা ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, কোনো নির্দিষ্ট কনটেন্ট নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে প্রচলিত আইন, বিধিমালা ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আওতায় তার প্রতিকার করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু একটি সম্পূর্ণ সৃজনশীল মাধ্যমের একটি নির্দিষ্ট ঘরানার নির্মাণ সামগ্রিকভাবে বন্ধের উদ্যোগ সৃজনশীল শিল্পের বিকাশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। একই সঙ্গে এ ধরনের সিদ্ধান্তের ফলে টেলিভিশন শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থান ও সৃজনশীল কার্যক্রমও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

শিল্পী ও কলাকুশলীদের সংগঠনগুলো অবশ্য দায়িত্বশীল ও মানসম্মত কনটেন্ট নির্মাণের প্রয়োজনীয়তাও স্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য, সৃজনশীল স্বাধীনতা বজায় রাখার পাশাপাশি নির্মাতা ও শিল্পীদেরও দর্শকের প্রতি দায়িত্বশীল থাকতে হবে।

প্রতিবাদে সাত সংগঠন

যৌথ প্রতিবাদলিপিতে স্বাক্ষর করেছেন ডিরেক্টরস গিল্ড বাংলাদেশের সভাপতি শহীদুজ্জামান সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক ফরিদুল হাসান, অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশের সভাপতি আজাদ আবুল কালাম ও সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু, টেলিভিশন নাট্যকার সংঘের সভাপতি শিহাব শাহীন ও সাধারণ সম্পাদক মেজবাহ উদ্দীন সুমন, ক্যামেরাম্যান অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক সাহিল রনি, অডিও-ভিজ্যুয়াল টেকনিক্যাল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাদেক সিদ্দিকী, টেলিভিশন অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টরস অর্গানাইজেশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক রাজ্জাক রাজ এবং বাংলাদেশ মেকআপ আর্টিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুব রহমান মানিক।

তাদের সম্মিলিত বক্তব্য—রোমান্টিক নাটক বা সিনেমা নির্মাণ সামগ্রিকভাবে বন্ধের দাবি গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে টেলিভিশন শিল্পের সৃজনশীল স্বাধীনতা, শিল্পী ও কলাকুশলীদের কর্মক্ষেত্র এবং দেশের বিনোদন ও সংস্কৃতি অঙ্গনের স্বাভাবিক কার্যক্রম নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর ও ইতিবাচক ভূমিকা প্রয়োজন।

বড়ালে পুরোনো স্থাপনা উচ্ছেদ হয়নি, নতুন করে চলছে দখল

অস্তিত্ব সংকটে থাকা বড়াল নদীতে নতুন করে আবার শুরু হয়েছে দখল। গত এক সপ্তাহে নদীর অন্তত পাঁচটি স্থানে আরসিসি ঢালাই দিয়ে ভবন ও দোকানঘর নির্মাণের কাজ চলছে। দিনের আলোয় প্রকাশ্যে নদীর জায়গা দখল করে এসব স্থাপনা নির্মাণ করা হলেও তা বন্ধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই সংশ্লিষ্টদের। ফলে পুরোনো দখল উচ্ছেদ না হতেই নতুন করে দখলের বিস্তার ঘটছে।
পদ্মা ও যমুনার সংযোগ রক্ষাকারী একসময়ের প্রবহমান বড়াল এখন স্থানীয়ভাবে ‘মরা বড়াল’ নামে বেশি পরিচিত। দখল ও দূষণে নদীর অনেক অংশ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। উৎসমুখ পদ্মা-বড়ালের মোহনা এলাকায় নদীর দুই তীর দখল করে গড়ে উঠেছে আবাসিক ভবন, পৌরসভার মার্কেট, গণশৌচাগারসহ নানা স্থাপনা। কোথাও কোথাও নদীর ভেতরে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতি ও শুক্রবার বড়াল নদীর শিমুলিয়া, পুঠিমারি ও বাটিকামারী এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর জায়গায় নতুন করে নির্মাণকাজ চলছে। কয়েকটি স্থানে আরসিসি ঢালাই দিয়ে ভবনের ভিত্তি তৈরি করা হয়েছে। কোথাও আবার ঢালাইয়ের রড বের করে রাখা হয়েছে, যাতে পরে ভবনের পরিধি আরও বাড়ানো যায়।

শিমুলিয়া এলাকায় নদীর ভেতরে আরসিসি ঢালাই দিয়ে বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন স্থানীয় মিনারুল ইসলাম। ভবনের বিস্তৃতি বাড়ানোর জন্য ঢালাইয়ের রডও বের করে রাখা হয়েছে। নদী দখল করে নির্মাণের বিষয়ে জানতে চাইলে মিনারুল ইসলাম বলেন, ‘কত মানুষই তো ঘরবাড়ি করেছে। কতজনকে বাধা দিয়েছেন? পুরোটা নদীর জায়গা নয়।’
পুঠিমারি-বাটিকামারী এলাকায় নদীর জায়গায় চা দোকান করতেন রবিউল ইসলাম। এখন সেখানে তাঁর ছেলে আল আমিন আরসিসি ঢালাই দিয়ে দুই কক্ষের ঘর নির্মাণ করছেন। একটি কক্ষ ভাড়া দেওয়ার এবং অন্যটিতে নিজেদের দোকান করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল ওহাব বলেন, ‘জায়গাটি নদীর। চা বিক্রি করতে করতে এখন ঘর তৈরি করছে। এভাবে দখল হতে থাকলে নদীর তীর বলে কিছুই থাকবে না।’ তবে আল আমিনের দাবি, জায়গাটি তাঁদের নিজস্ব। নদীর জায়গায় নয়, নিজেদের জমিতেই ঘর নির্মাণ করছেন তিনি।
পুঠিমারি এলাকায় কিছুদিন আগে নদীর জায়গা দখল করে দোকানঘর নির্মাণ করেছেন স্থানীয় ইমদাদুল ইসলাম ও আব্দুর রহমান। তাঁদের ভাষ্য, অনেকেই নদীর পাশে দোকান করেছেন, তাঁরাও করেছেন। সব জায়গা নদীর নয়। সরকারি জায়গা হলে সরকার চাইলে তখন ব্যবস্থা নেবে।
উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, বড়াল নদীর দখলদার উচ্ছেদে গত দুই দশকে একাধিকবার তালিকা করা হয়েছে। ২০০৫ সালে নদীর দুই তীরের ৬৮ জন অবৈধ দখলদারের তালিকা করা হয়। ২০০৮ সালে হালনাগাদ করে দখলদারের সংখ্যা করা হয় ১১৩ জন। ২০১৯ সালে সরেজমিনে তদন্তে ৫৬ জন এবং ২০২৫ সালে ১০১ জন দখলদারের তালিকা করা হয়। সর্বশেষ চলতি বছরের মে মাসে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের নির্দেশে হালনাগাদ করা তালিকায় দখলদার হিসেবে ১১০ জনের নাম পাঠানো হয়েছে।
সর্বশেষ তালিকা যাচাই করে দেখা গেছে, চারঘাট স্লুইসগেট এলাকায় ২৯ জন, সরদহে ৩ জন, বাটিকামারীতে ২৫ জন এবং আড়ানী বড়াল সেতুসংলগ্ন রামচন্দ্রপুর এলাকায় ৫৪ জন দখলদার রয়েছেন। তবে সম্প্রতি নতুন করে স্থাপনা নির্মাণকারীদের অনেকের নাম এ তালিকায় নেই।

বড়াল রক্ষা আন্দোলনের নেতাকর্মী ও পরিবেশকর্মীদের দাবি, সরকারি তালিকায় দখলদারের সংখ্যা শতাধিক হলেও বাস্তবে এ সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) চারঘাট উপজেলা সভাপতি মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘নদী দখলকারীদের তালিকা করে উচ্ছেদ করা তো দূরের কথা, নতুন যারা দখল করছে তাদের বাধা পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে না। তাহলে এসব তালিকা করে লাভ কী? সরকারি হিসাবে দখলদার শতাধিক হলেও বাস্তবে সংখ্যা চার শতাধিক।’
রাজশাহী পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ সরকার বলেন, উচ্ছেদ কার্যক্রম একটি চলমান প্রক্রিয়া। এ বিষয়ে কাজ চলছে এবং খুব দ্রুত আবারও উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হবে।
চারঘাট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মীর মেজবাহীজ্জুলাম চৌধুরী বলেন, ‘দখলকারীদের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নদী-সাগরে ইলিশের আকাল শূন্য হাতে ফিরছেন জেলে

ভোলার চরফ্যাসন উপজেলার সামরাজ ঘাটের মাঝি দেলোয়ার হোসেন গত বছর ছয় লাখ টাকা দাদন নিয়ে একটি ট্রলার সাগরে নামিয়েছিলেন। আশানুরূপ ইলিশ না পাওয়ায় দাদনের টাকা শোধ করতে পারেননি। প্রতি ট্রিপেই লোকসান যোগ হওয়ায় দাদনের পরিমাণ বেড়ে ৯ লাখে দাঁড়িয়েছে। এ বছরও তিন লাখ টাকা দাদন নিয়ে একটি ট্রলার সাগরে নামিয়েছেন। এবারও ইলিশের আকাল যাচ্ছে। আবারও ভারী হচ্ছে দাদনের বোঝা। সুদিন ফেরার আশা নিয়ে প্রতি মৌসুম শুরু হলেও সুদিন আর আসেনি। শুধু দেলোয়ার নন, একই অবস্থা দক্ষিণ উপকূলের লক্ষাধিক জেলের।

নিষেধাজ্ঞা শেষে অনেক আশা নিয়ে জেলেরা নদী ও সাগরে ইলিশ শিকারে যান। কিন্তু তাদের ফিরতে হচ্ছে অনেকটা শূন্য হাতে। জালে উঠছে না কাঙ্ক্ষিত মাছ। সারাদিন জাল ফেলে দু-চারটি ইলিশ পড়লেও সেগুলো ডিমওয়ালা হওয়ায় ধরা যায় না। ফলে সংসারই ঠিকমতো চলে না। দাদনের টাকাও শোধ হয় না। এভাবে দিনের পর দিন লোকসান হওয়ায় মহাজনের জালে আটকে যাচ্ছেন জেলেরা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই এলাকার জেলেরা প্রায় ৫০০ কোটি টাকার দাদনের জালে আটকে পড়েছেন।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চরফ্যাসনের উপকূলীয় জেলেপল্লিতে লক্ষাধিক ইলিশ শিকারি রয়েছেন।
তবে বেসরকারি হিসাবে ইলিশ শিকারির সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি।

ঢালচর ঘাটের জেলে আবদুর রব বলেন, নিষেধাজ্ঞা শেষে নদী-সাগরে ইলিশের দেখা ছাড়াই শেষ হতে চলেছে একটি মৌসুম। নদীতে ইলিশ সংকট থাকায় ট্রলার মালিক থেকে জেলে পর্যন্ত সবাই দোনার বোঝা ভারী করে শূন্য হাতে ঘরে ফিরেছেন। ভরা মৌসুমে নদীতে নেই ইলিশ, বিকল্প কোনো কাজ না থাকায় শ্রমনির্ভর মানুষগুলোকে চরম অভাবে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাতে হয়। ঘরে ঘরে অভাব বিরাজ করছে। এই অভাবের সময়ে সরকারি কোনো সহায়তা না পেয়ে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন জেলেরা।

ট্রলার মালিক ইদ্রিস মাঝি বলেন, বড় ফিশিং ট্রলার তৈরি করে জালসহ সাগরে যাওয়ার উপযোগী করতে ২০-২৫ লাখ টাকা খরচ হয়ে থাকে। এর পর সাগরে পাঠানোর আগে ২০ জন মাঝি-মাল্লারকে ১৫-২৫ হাজার টাকা করে আগাম দিতে হয়। মালিকপক্ষ এই টাকার জোগান দিতে আড়তদারের কাছ থেকে অগ্রিম নিয়ে থাকে। এই অগ্রিম নেওয়া টাকাকেই জেলেরা দাদন বলেন। দাদনের শর্ত হচ্ছে, দাদনভুক্ত ট্রলারে ধরা মাছ দাদন প্রদানকারী মহাজনের আড়তের মাধ্যমে বিক্রি করতে হবে। বিক্রয়মূল্য থেকে মহাজন শতকরা ৫-৮ টাকা হারে কমিশন কেটে নেবেন।

ঢালচর ঘাটের জেলেরা জানান, মহাজনরা কৌশলে জেলেদের সিন্ডিকেটের সুতায় বেঁধে ফেলেন। সিন্ডিকেটের মতো বুর্জোয়া কৌশলকে ‘ঘাট শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা কমিটি’র আদলে জেলেদের সামনে তুলে ধরা হয়। এই কমিটি মোকামের সঙ্গে মিল রেখে ঘাটে মাছের দাম নির্ধারণ করে দেয়। ফলে জেলেরা ইলিশের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন। বছরের পর বছর জেলেরা এই সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে আছেন। মৌসুম শেষ হয়ে যায়, কিন্তু মহাজনের কাছ থেকে নেওয়া দাদন আর শেষ হয় না।

সামরাজ ঘাটের জেলে নুরুল ইসলাম মাঝি জানান, জেলেদের খাদ্য সহায়তা হিসেবে বিপুল পরিমাণ চাল বরাদ্দ দেখানো হলেও এসব চাল প্রকৃত জেলেরা পান না। জেলেদের পাশাপাশি সমাজের নানা পেশার লোকজন নানাভাবে এসব চাল পেয়ে থাকেন।

দাদনের দায় বছরের পর বছর বাড়তে থাকার কারণ ব্যাখ্যা করে ঢালচর ঘাটের মাঝি আব্দুল আলীম জানান, একটি ফিশিং ট্রলার সাগরে যেতে ডিজেলসহ সোয়া লাখ টাকার বাজার নিতে হয়। ১০-১৫ দিন পর ঘাটে ফিরে আসার সময় কখনও কখনও খোরাকির মাছ নিয়ে আসতে পারেন না। ফলে সাগরযাত্রার সোয়া লাখ টাকার খরচের দায় জেলেদের মাথায় বর্তায়। প্রাথমিক দাদনের সঙ্গে খরচটা নতুন দাদন হিসেবে যোগ হয়। এভাবে ট্রিপে লোকসান দাদন হিসেবে গণ্য হতে থাকে। ফলে বাড়তে থাকে দায়।

ঢালচর ঘাটের আড়ত মালিক নুরে আলম জানান, গত মৌসুম শেষে জেলেদের হাতে তাঁর প্রতিষ্ঠানের প্রায় পাঁচ কোটি টাকা দাদন বকেয়া ছিল। এ মৌসুমে আরও সোয়া কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এভাবে নদী-সাগরে ইলিশের সংকটের কারণে দাদনের পরিমাণ আরও ৫০ লাখ টাকা বেড়ে যেতে পারে।
ইলিশ সংকটের কারণ উল্লেখ করে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু বলেন, এখন ইলিশের ভরা মৌসুম হলেও আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় নদী-সাগরে ইলিশ কম দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি নদী সংযুক্ত বনগুলোর খালে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারের ফলে বিষাক্ত পানিতে ইলিশ প্রজননের ব্যাঘাত ঘটে। এসব কারণে দিন দিন সাগর আর নদনদীতে ইলিশের সংকট দেখা দিচ্ছে।

ভারতে সোনিয়া গান্ধীর বই ‘বিলংগিং’ প্রকাশ করছে না পেঙ্গুইন

ভারতের কংগ্রেসনেত্রী সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ‘বিলংগিং: আ জার্নি অব লাভ’ প্রকাশের দ্বন্দ্বে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে প্রকাশনা সংস্থা পেঙ্গুইন র‌্যানডম হাউস ইন্ডিয়া। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, ভারতে বইটির প্রকাশক তারা নয়।

সম্পাদনা-সংক্রান্ত বিষয়ে মতভেদের কারণে পেঙ্গুইন পিছিয়ে এসেছে–ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এমন গুঞ্জন অস্বীকার করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের দাবি, লেখক সম্পাদনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় বইটি প্রকাশ না করার বিষয়ে যে জল্পনা চলছে, তা প্রকৃত পরিস্থিতি নয়। তবে বইটি প্রকাশ করতে পেঙ্গুইন আগ্রহী ও উৎসুক ছিল উল্লেখ করে তারা জানায়, বাণিজ্যিক আলোচনার গোপনীয়তার স্বার্থে লেখক সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে আলোচনার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

পেঙ্গুইন সরে দাঁড়ানোর পর ভারতে বইটি প্রকাশ ও বিতরণের স্বত্ব পেতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় প্রকাশনা সংস্থা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, খ্যাতনামা প্রকাশনা সংস্থা হার্পারকলিন্স চুক্তিটি চূড়ান্ত করার কাছাকাছি রয়েছে।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারে বইটি প্রকাশের দায়িত্ব পেয়েছে পেঙ্গুইন র‌্যানডম হাউসের আমেরিকান সহযোগী প্রতিষ্ঠান আলফ্রেড এ নফ। প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে সোনিয়া গান্ধী জানিয়েছেন, আগামী ১০ নভেম্বর বিশ্বজুড়ে বইটি প্রকাশ হবে।

বইয়ের প্রেক্ষাপট নিয়ে তিনি বলেন, তাঁর পরিবারকে নিয়ে অতীতে অনেক লেখা হলেও খুব কম লেখাই তাদের মানবিক ভুলত্রুটিগুলো সঠিকভাবে উল্লেখ করতে পেরেছে। বইটি তাদের সেই মানবিক বিষয়গুলো তুলে ধরবে। বইটিতে ১৯৮৪ সালে সোনিয়ার শাশুড়ি ইন্দিরা গান্ধীর নির্মম হত্যাকাণ্ড, রাজীব গান্ধীর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্থলাভিষিক্ত হওয়া এবং সাত বছর পর তাঁরও খুন হওয়ার ঘটনাগুলো বিস্তারিত উঠে এসেছে।

নেপালের বন্যায় নিহত বেড়ে ৫৭৯, নিখোঁজ প্রায় ২ হাজার

নেপালে ভয়াবহ ও আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৭৯ জনে। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিআরআরএমএ) সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যার পর এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ১ হাজার ৯২৪ জন।

নিখোঁজদের মধ্যে ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। তাদের উদ্ধারে ১৫ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।

এর আগে নেপাল পুলিশের সর্বশেষ তথ্যে ৫৭৫ জন বিদেশি নাগরিক নিখোঁজ থাকার কথা জানানো হয়েছিল। তবে পুলিশ ও জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ পৃথকভাবে তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশ করছে। পুলিশের তথ্যের প্রায় দুই ঘণ্টা পর এনডিআরআরএমএ সর্বশেষ পরিসংখ্যান প্রকাশ করে।

নেপালে বন্যাকবলিত এলাকায় উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধারে কাজ করছেন নিরাপত্তাকর্মীরা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে সংসদে হট্টগোল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের শুরুর দিনই উত্তপ্ত হয়ে উঠল সংসদ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির সংসদ সদস্যরা। তাদের হট্টগোলে সংসদে ১০ মিনিটের মতো অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দুঃখ প্রকাশ করার জন্য আহ্বান জানান। আপত্তিকর শব্দ এক্সপাঞ্জ না করলে সংসদ বর্জনেরও হুমকি দেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়। প্রশ্নোত্তরে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অভিযোগ তুলে প্রথমে এনসিপি এবং পরে জামায়াতের একজন সদস্যের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পল্টন বা শাহবাগ স্কয়ার আর সংসদ এক জিনিস নয়। ঢালাও অভিযোগের জবাব দেওয়া সম্ভব নয়, সুনির্দিষ্ট ঘটনা তুলে ধরতে হবে।

প্রথমে এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে একটি প্রশ্ন করেন। এই প্রশ্নে তিনি বর্তমান সরকারের ছয় মাসে খুন-ধর্ষণের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ কিনা, জানতে চান।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এটা প্রশ্ন হলো না পল্টনের বক্তৃতা হলো– বুঝতে পারিনি।’
পরে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ এ-সংক্রান্ত আরেকটি প্রশ্ন করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, দিনদুপুরে অস্ত্র ব্যবহার করে ছিনতাই হচ্ছে। নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ওপর হামলা হচ্ছে। এমনকি সরকারি দলের সদস্য আয়নুল হক ও এসএম জাহাঙ্গীরের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ-সংক্রান্ত মামলায় আসামিকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। বরং এর পরিপ্রেক্ষিতে যে মিথ্যা ভুয়া মামলা দেওয়া হয়েছে, সেই মামলায় বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদক্ষেপ জানতে চান।

এক পর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শাহবাগ স্কয়ারে বক্তব্য দেওয়া আর পার্লামেন্টে বক্তব্য দেওয়া এক কথা না। তাঁর এই মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে সংসদে হইচই শুরু হয়। বিরোধী পক্ষের একাধিক সদস্য দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্যের প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন। বিরূপ পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি কাউকে উদ্দেশ করে বলেননি। তিনি তাঁর বক্তব্য প্রত্যাহার করছেন বলে জানান। এক পর্যায়ে মন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার আমি আপনার শেল্টার চাচ্ছি।’ এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিরোধী সদস্যদের নিবৃত্ত হওয়ার এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য শেষ করতে দেওয়ার জন্য আহ্বান জানাতে থাকেন। বিরোধী সদস্যরা হইচই অব্যাহত রাখলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুনরায় বক্তব্য শুরু করেন। বিরোধী দলের সদস্যরা দাঁড়িয়ে হইচই করেন। স্পিকার বলেন, ‘আপনারা কি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য শুনতে রাজি না?’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর বিরোধী দলের নেতাকে সুযোগ দেওয়া হবে।

পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘কোথায় ছিনতাই হয়েছে, আসামি গ্রেপ্তার হয়নি– সেটার সুনির্দিষ্ট বর্ণনা দরকার। ঢালাও অভিযোগ করলে জবাব দেওয়া যায় না। সেজন্য বলছি, এটা মহান জাতীয় সংসদ।’

এর পর বিরোধীদলীয় নেতাকে সুযোগ দেন স্পিকার। এ পর্যায়ে সরকারি দলের একাধিক সদস্য হইচই শুরু করেন। এর মধ্যেই বক্তব্যের শুরুতে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, ‘এটা অশুভ। আমার বক্তব্যের সময় যদি এইভাবে কমেন্টস করা হয়, তাহলে আমার এখানে দাঁড়ানোর প্রয়োজন নেই।’

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আজকে নতুন করে এই শব্দগুলো উচ্চারণ করেননি। তিনি বলেন, আজকে একই বক্তব্যে দুবার তিনি আক্রমণ করেন। তাঁর এই আচরণ বিরোধী দলের সদস্যরা মনে করে যে, এটা কালচারাল না, এটা পার্লামেন্টারিয়ান ফ্যাসিজম। এটা হওয়া উচিত না।

সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত স্পিকার
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমি গভীর দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, ক্রমেই কিছু কিছু সদস্যের মধ্যে অসহিষ্ণুতা লক্ষ্য করছি। জাতীয় সংসদ পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। এখানে প্রত্যেকেরই কথা বলার স্বাধীনতা আছে।’

স্পিকার বলেন, তিনি বক্তব্য পরীক্ষা করে দেখবেন, অসংসদীয় কিছু থাকলে এক্সপাঞ্জ করবেন। সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি কিন্তু সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা চিন্তিত। আজকে যেইভাবে একে অন্যকে কথা বলার ক্ষেত্রে বাধা দেওয়ার প্রচেষ্টা লক্ষ্য করেছি, এটি সংসদের জন্য কোনো ভালো লক্ষণ নয়।

দুষ্টুলোকে বলে– ‘টুকু আসে, টুকু যায়’
জ্বালানি সংকট, লোডশেডিং নিয়ে সংসদে সমালোচনা করে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, ‘গ্যাস ও বিদ্যুতের বিষয়ে দুষ্টুলোকে বলে, ভালো লোকে বলে না– টুকু আসে, টুকু যায়। এই আসে, এই যায়। কতক্ষণ থাকে তারা নাকি বুঝতে পারে না।’

জ্বালানি সংকট নিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, যখন তেলের দাম বাড়ছে, যখন বিদ্যুতের জন্য হাহাকার, যখন গ্যাস পাওয়া যায় না; তখন এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার প্রতিশ্রুতি যে সরকার দিয়েছিল, নির্বাচনে সে সরকার ক্ষমতায় আসার ছয় মাসের মধ্যে ৬২ হাজার লোক চাকরি হারিয়েছে। ৯শর ওপরে কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।

রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মুশকিল হয়, আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আছেন– তিনি হয় ব্যঙ্গ করেন, না হলে বাকচাতুর্য দিয়ে পুরো বিষয়টি ঢেকে দিতে চান। কিন্তু সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বললে জানা যায়, বাংলাদেশে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যেমন তিনজন মন্ত্রী আছেন, ৬৪ জেলায় ৬৪ জন আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকলে কেবল মন্দ হতো না।’

দুর্নীতি বন্ধ হলেই শিক্ষকদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা হবে: চরমোনাই পীর

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাইর পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেছেন, দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। তখন শিক্ষকদের অধিকার, মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং জাতীয়করণ করাও সহজ হবে গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে জাতীয় শিক্ষক ফোরামের কেন্দ্রীয় সম্মেলনে সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম এ কথা বলেন।

জাতীয় শিক্ষক ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক নাসির উদ্দীন খানের সভাপতিত্বে সম্মেলনে সারাদেশ থেকে আসা শিক্ষক প্রতিনিধিরা বিভিন্ন দাবি তুলে ধরে বক্তব্য দেন।

সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম ২০২৭-২৮ সেশনের জন্য জাতীয় শিক্ষক ফোরামের সভাপতি হিসেবে এবিএম জাকারিয়া, সিনিয়র সহসভাপতি হিসেবে মাওলানা মোহাম্মদ নেছার উদ্দীন এবং সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে আব্দুস সবুরের নাম ঘোষণা করেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক আ খ ম ইউনুস, জাতীয়করণ প্রত্যাশি জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান প্রমুখ।

কপ সম্মেলনে যোগ দিতে নভেম্বরে তুরস্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন কপ-৩১-এ অংশ নিতে আগামী নভেম্বরে তুরস্ক সফরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
গতকাল বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের জেদ্দায় ২৩তম ওআইসি কাউন্সিল অব ফরেন মিনিস্টার্সের (সিএফএম) বৈঠকের সাইডলাইনে তুরস্কের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মুসা কুলাকলিকায়ারের সঙ্গে বৈঠকে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের প্রতিনিধিরা আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহের কথাও জানান তারা।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়ে উভয় পক্ষ বিদ্যমান সহযোগিতায় সন্তোষ প্রকাশ করে। পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কূটনীতি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে অভিন্ন আগ্রহের কথা তুলে ধরা হয়। দুই দেশের সম্পর্ককে আরও উচ্চতর পর্যায়ে নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
বৈঠকে হুমায়ুন কবির তুরস্কের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানান, কপ-৩১-এ অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তুরস্ক সফর করবেন।

জ্বালানি পরিস্থিতি গ্যাস সরবরাহ কমেছে বেড়েছে লোডশেডিং পাঁচ দিনে এলএনজি সরবরাহ কমেছে ৭ কোটি ঘনফুট

এলএনজি কার্গো নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই দেশে গ্যাস সরবরাহ আবার কমতে শুরু করেছে। গত পাঁচ দিনে আমদানি করা এলএনজি থেকে গ্যাস সরবরাহ কমেছে প্রায় সাত কোটি ঘনফুট। এতে আগে থেকেই চলা গ্যাস সংকট আরও তীব্র হয়েছে। শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ হচ্ছে যানবাহনের সারি।

শিল্পের সংকট সামলাতে বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ কমানো হয়েছে। এর সঙ্গে জ্বালানি তেল ও কয়লার ঘাটতি যুক্ত হয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও চাপ তৈরি হয়েছে। বেড়েছে গরম। ফল হিসেবে গত কয়েক দিনে লোডশেডিং বেড়েই চলছে।

মূলত এক মাসের বেশি সময় ধরে গ্যাস সংকটের পাশাপাশি লোডশেডিংও চলছে। বৃষ্টিতে বিদ্যুতের চাহিদা কমলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়, আবার গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লোডশেডিংও বেড়ে যায়। এতদিন মূলত ঢাকার বাইরের গ্রাহকদের ওপরই এর চাপ ছিল। তবে ১২ আগস্ট রাত থেকে সরকারি নির্দেশনায় ঢাকায়ও লোডশেডিং শুরু হয়েছে। রাজধানীর কোনো এলাকায় দিনে একবার, সর্বোচ্চ এক ঘণ্টা লোডশেডিং করার পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবে অনেক এলাকায় একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, ২৫ আগস্ট দুপুর ২টায় দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২৩৮ কোটি ১০ লাখ ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাস ১৬১ কোটি ৬০ লাখ এবং এলএনজি ৭৬ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুট। পরদিন ২৬ আগস্ট দুপুর ১২টায় সরবরাহ কিছুটা বেড়ে মোট ২৪১ কোটি এবং এলএনজি ৭৯ কোটি ঘনফুটে ওঠে। এর পর থেকেই আবার কমতে থাকে সরবরাহ। ২৭ আগস্ট বিকেল ৪টায় মোট গ্যাস সরবরাহ নেমে আসে ২৩৫ কোটি ৪০ লাখ এবং এলএনজি ৭৩ কোটি ৬০ লাখ ঘনফুটে।

২৮ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টায় মোট গ্যাস সরবরাহ আরও কমে দাঁড়ায় ২৩৩ কোটি ৯০ লাখ ঘনফুট। দেশীয় উৎস থেকে সরবরাহ ছিল ১৬১ কোটি ৬০ লাখ এবং এলএনজি ৭২ কোটি ৩০ লাখ ঘনফুট। অর্থাৎ, ২৬ আগস্টের চেয়ে দুই দিনে মোট সরবরাহ কমেছে সাত কোটি ১০ লাখ ঘনফুট। এলএনজি সরবরাহ কমেছে ছয় কোটি ৭০ লাখ ঘনফুট।
দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা সরকারি হিসাবে ৩৮০ কোটি ঘনফুট। খাত-সংশ্লিষ্টদের হিসাবে প্রকৃত চাহিদা ৫০০ থেকে সাড়ে ৫০০ কোটি ঘনফুট।

গ্যাস সরবরাহ আরও কমতে পারে
গ্যাস সরবরাহ কমার মধ্যেই সামনে প্রয়োজনীয় এলএনজি কার্গো পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। উচ্চমূল্য ও সরবরাহকারীদের কম সাড়ায় চাহিদা অনুযায়ী কার্গো সংগ্রহ করা যাচ্ছে না। এরই মধ্যে আগামী কয়েক দিনের দুটি কার্গোর সরবরাহ নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে। ফলে বর্তমান সরবরাহ ধরে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এসব কার্গো সময়মতো না এলে গ্যাস সরবরাহ আরও কমে সংকট তীব্র হতে পারে।

মহেশখালীর সামিট ও এক্সিলারেটের দুটি ভাসমান টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ করা হয়। গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনায় এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগে। ঠিক হওয়ার পর কার্গো সংকটে টার্মিনালটি কয়েক দিন বন্ধ থাকার পর ২২ আগস্ট একটি কার্গো আসায় পুনরায় সরবরাহ শুরু হয়।
আগস্টে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) কেনার উদ্যোগ নেওয়া কয়েকটি কার্গো সময়মতো না আসায় গ্যাস সরবরাহে বড় চাপ তৈরি হয়। গতকাল শুক্রবার এবং আগামী সোমবার দুটি কার্গো আসার শিডিউল ছিল; কিন্তু সেগুলো আসছে না। দরপত্রের মাধ্যমে কার্গো কেনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও উচ্চমূল্য এবং সরবরাহকারীদের কম সাড়ায় প্রয়োজন অনুযায়ী আমদানি বাড়ানো সম্ভব হয়নি। ফলে গ্যাস সরবরাহ আরও কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শিল্পে উৎপাদন কমছে
গ্যাসের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে শিল্পে। জুলাইয়ের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীর শিল্পাঞ্চলে গ্যাসের চাপ কমে যায়। কোথাও দিনের বেলায় গ্যাসের চাপ প্রায় শূন্যে নেমে যাচ্ছে, আবার কোথাও কয়েক ঘণ্টার বেশি কারখানা চালানো যাচ্ছে না।

গাজীপুরের মোশাররফ কম্পোজিট টেক্সটাইলে স্বাভাবিক সময়ে দিনে ১৭০ টন সুতা উৎপাদন হলেও গ্যাস-সংকটে তা নেমে এসেছে প্রায় ৩০ শতাংশে। এক মাসে কারখানাটির ক্ষতি হয়েছে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা। নরসিংদীর একটি বস্ত্রকল গ্যাসের অভাবে টানা ২২ দিন বন্ধ ছিল। নারায়ণগঞ্জের একটি ডাইং কারখানায় গত ১৮ আগস্ট থেকে গ্যাস না থাকায় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ৬৬০টি বস্ত্রকল জুলাইয়ের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে তীব্র গ্যাস-সংকটে ভুগছে। বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের হিসাবে, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৩০০ পোশাক কারখানায় উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
শিল্পমালিকদের শঙ্কা, দীর্ঘদিন গ্যাসের চাপ কম থাকলে উৎপাদন ও রপ্তানি দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে না পারলে বিদেশি ক্রেতা হারানোর ঝুঁকিও তৈরি হবে।

সিএনজিতে ভোগান্তি
গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় সিএনজি স্টেশনেও স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় স্টেশনের সামনে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে। কোথাও গ্যাস নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে পরিবহন খাতে সময় ও ব্যয় দুটোই বাড়ছে। গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক না হলে এই ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে।

বাড়ছে লোডশেডিং
শিল্পে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাসের বরাদ্দ কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগে বিদ্যুৎকেন্দ্রে দৈনিক প্রায় ৯৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস দেওয়া হলেও তা কমিয়ে ৭৫ কোটি ঘনফুট করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সাশ্রয় হওয়া প্রায় ২০ কোটি ঘনফুট গ্যাস শিল্পে দেওয়ার কথা। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনে। গ্যাস কম পাওয়ায় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পুরো সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না।

বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের পাশাপাশি তেল ও কয়লার সংকটও চাপ বাড়াচ্ছে। ঘাটতি সামাল দিতে তেলচালিত কেন্দ্রের উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা হলেও জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বল্পতায় সব কেন্দ্র চালানো যাচ্ছে না। বৃহস্পতিবার ২৪টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি তেলের সরবরাহে ঘাটতি ছিল।
কয়লাভিত্তিক আট কেন্দ্রের সক্ষমতা প্রায় সাত হাজার মেগাওয়াট হলেও বৃহস্পতিবার উৎপাদন হয়েছে পাঁচ হাজার মেগাওয়াটের কম। পায়রার একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটিতে, মাতারবাড়ীর একটি ইউনিট রক্ষণাবেক্ষণে এবং বড়পুকুরিয়ার দুটি ইউনিট ত্রুটির কারণে বন্ধ। কয়লা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় আদানির কেন্দ্রও ৭ আগস্ট থেকে উৎপাদন কমিয়েছে। দিনের বেলায় প্রায় ৯০০ এবং সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট সরবরাহ করছে।

বৃহস্পতিবার গ্যাস, কয়লা ও জ্বালানি তেলের সংকটে ৬২টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে লোডশেডিংয়ের ধারাবাহিকতাও ঊর্ধ্বমুখী। ২৪ আগস্ট দিনের বেলায় সর্বোচ্চ ঘাটতি ছিল এক হাজার ১৯৩ মেগাওয়াট। ২৫ আগস্ট বিকেল ৩টায় তা বেড়ে দুই হাজার ২৫৯ মেগাওয়াট হয়। ২৬ আগস্ট রাত ১২টায় ঘাটতি ছিল দুই হাজার ৮২৮ মেগাওয়াট। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় তা বেড়ে দাঁড়ায় তিন হাজার ৬৬৪ মেগাওয়াটে। রাতেও ঘাটতি ছিল তিন হাজার মেগাওয়াটের বেশি। রাত ১টায় চাহিদা ছিল ১৭ হাজার ১৭১ মেগাওয়াট, সরবরাহ ১৩ হাজার ৯২৭ মেগাওয়াট; ঘাটতি ছিল তিন হাজার ২৪৪ মেগাওয়াট। রাত ৩টায় তিন হাজার ৯০ মেগাওয়াট ঘাটতি ছিল। গতকাল ভোর ৪টায় দুই হাজার ৯১৫ মেগাওয়াট এবং সকাল ৬টায়ও লোডশেডিং ছিল দুই হাজার ৬৩৬ মেগাওয়াট। গতকাল বিকেল ৩টায় লোডশেডিং ছিল এক হাজার ৪৮৩ মেগাওয়াট।