Home Blog

হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চাপ শয্যা সংকটে মেঝেতে চিকিৎসা

প্রতিদিন নতুন রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় মুন্সীগঞ্জে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমে অবনতির দিকে যাচ্ছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আট মাস পাঁচ দিনে এই জেলার ছয়টি উপজেলায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা এক হাজার ৮০০ ছাড়িয়েছে। গতকাল শনিবার পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ৮৪৫ জন। এর মধ্যে জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন এক হাজার ৫১২ জন। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে গতকাল শনিবার পর্যন্ত দুজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন আরও ৩৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৭২ জন। ছাড়পত্র নিয়েছেন ৫৬ জন। গত আগস্ট মাসে মুন্সীগঞ্জের ছয়টি উপজেলায় মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৮১২ জন। এ ছাড়া চলতি মাসে গতকাল শনিবার পর্যন্ত পাঁচ দিনে জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৩০ জন।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, আগস্ট মাসে জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৮১২। এর মধ্যে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ৬৭২, টঙ্গিবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪৭, শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৯, সিরাজদীখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৯, লৌহজং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১২ এবং গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪৩ ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই জেলায় প্রতিদিন বেড়ে চলেছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। এই পরিস্থিতিতে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোতে রোগীর চাপে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। ২৫০ শয্যার হাসপাতালের নতুন ছয়তলা ভবনের চতুর্থ ও পঞ্চম তলার বারান্দায় নারী, শিশু ও পুরুষ ওয়ার্ডে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা সর্বাধিক। এ ছাড়া একাধিক রোগী মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

একই পরিস্থিতি পাঁচটি উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতেও। সেখানেও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেশি। এখনও জ্বর, শরীর ব্যথা, বমি, ডায়রিয়ার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসছেন রোগীরা।
জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৫১২। প্রতিদিন নতুন রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় মুন্সীগঞ্জ জেলার ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
পরিসংখ্যান বলছে, জুন মাস থেকে মুন্সীগঞ্জে ডেঙ্গুর প্রকোপ দ্রুত বাড়তে শুরু করে। গত বছর ১২ মাসে ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিল এক হাজার ৪১০। আর চলতি বছরে আট মাস পাঁচ দিনে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৮৪৫ জন।

স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে, দিনের বেলায় এডিস মশার কামড় থেকে সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আরিফুজ্জামান জানান, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ৩৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। রোগীর চাপ বাড়তে থাকায় হাসপাতালে শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে অনেক রোগীকে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। গুরুতর রোগীদের ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে রেফার্ড করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ঢাকায় রেফার্ড করা রোগীদের মধ্যে মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে। মুন্সীগঞ্জ স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যানে এসব মৃত্যুর তথ্য যুক্ত হচ্ছে না। ফলে জেলার ডেঙ্গু আক্রান্ত
ও মৃত্যুর প্রকৃত চিত্র পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তবুও ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।
মুন্সীগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. সাজেদা বেগম বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। তবে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ জন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হচ্ছে। জুলাই ও আগস্ট মাসের ন্যায় চলতি সেপ্টেম্বর মাসেও ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে রোগীর সংখ্যা। এই পরিস্থিতিতে জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পাশাপাশি ডেঙ্গু শনাক্তে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেন তিনি। সিভিল সার্জন বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা ও অন্যান্য পানির আধার নিয়মিত পরিষ্কার রাখার জন্য জেলার বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

রায়পুরে আগুনে পুড়ল ১১ ঘর ও ৬ দোকান

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১১টি বসতঘর ও ছয়টি দোকান পুড়ে গেছে। এতে ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালামাল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন কয়েকটি পরিবার। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, অগ্নিকাণ্ডে প্রায় তিন কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

রোববার ভোর ৫টার দিকে উপজেলার ৪ নম্বর সোনাপুর ইউনিয়নের বাসাবাড়ি বাজারের পাশের ১ নম্বর ওয়ার্ডের আশহক আলী ব্যাপারী বাড়িতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রফিক উল্যার ছেলে সোহেল নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নিজের ঘরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের বসতঘরে ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে পাশাপাশি থাকা ১১টি বসতঘর ও ছয়টি দোকানেও আগুন লাগে। অবশ্য বিষয়টি অস্বীকার করেছেন সোহেল।

আগুনে ঘরবাড়ি ও দোকানের টিন, আসবাবপত্র, ব্যবসায়িক মালামালসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।

ক্ষতিগ্রস্ত জাবের ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের মালিক হোসেন বলেন, আগুনে তার দোকানের বিপুল পরিমাণ মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দোকানের পেছনের বসতঘরটিও পুরোপুরি পুড়ে গেছে। তার দাবি, ওই ঘরের সোহেলই আগুন লাগিয়েছেন।

তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং অগ্নিসংযোগের অভিযোগের সত্যতা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য জরুরি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সোহেল মাদকাসক্ত এবং তার অগ্নিসংযোগের কারণেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। পরে স্থানীয়রা সোহেলকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।

ফায়ার সার্ভিসের সরকারি পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত করে জানা যাবে।

ঘটনার পর ঘটনাস্থলে পুড়ে যাওয়া ঘরবাড়ি ও দোকানের ধ্বংসাবশেষ পড়ে থাকতে দেখা যায়। সাজানো সংসার ও জীবিকার একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে অনেকেই এখন অসহায় হয়ে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের আহাজারিতে সেখানে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান কাউছার, রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি নাজমুল ইসলাম মিঠু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর নেন এবং পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

ইরানে জ্বালানি ট্যাংকার বিস্ফোরণে নিহত ১০

ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর সানান্দাজে জ্বালানি বহনকারী একটি ট্যাংকারে বিস্ফোরণের ঘটনায় ১০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ছয়জন।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, হামাদান-সানান্দাজ মহাসড়কে যাওয়ার সময় ট্যাংকারটির ব্রেকিং সিস্টেমে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। এতে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে ট্যাংকারটিতে আগুন ধরে যায়। পরে সেটি বিস্ফোরিত হয়।

সানান্দাজের গভর্নরের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরে তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

আহত ছয়জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে।

পুতিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে কিয়েভের পথে উইটকফ-কুশনার, মস্কো বৈঠকের নেপথ্যে কী

ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি চুক্তির পথ খুঁজতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তিন ঘণ্টারও বেশি সময় বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দুই দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। শনিবারের এ বৈঠককে ‘অত্যন্ত ফলপ্রসূ’ বলে মন্তব্য করেছে ক্রেমলিন। তবে আলোচনায় বড় কোনো অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

মস্কোর বৈঠক শেষে আজ রোববার কিয়েভের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে উইটকফ ও কুশনারের। সেখানে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের বিষয়ে আলোচনা করবেন তারা। মার্কিন কর্মকর্তাদের আশা, মস্কোর মতো কিয়েভেও আলোচনাটি ফলপ্রসূ হবে।

ক্রেমলিনের কর্মকর্তা ইউরি উশাকভ জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতার সম্ভাব্য উপায় নিয়ে বেশ কিছু ধারণা তুলে ধরেছেন। তবে সেসব প্রস্তাবের বিস্তারিত তিনি জানাননি।

উশাকভ বলেন, পুতিন মার্কিন প্রতিনিধিদের জানিয়েছেন, যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়া ‘বাস্তব অগ্রগতি’ অর্জন করছে এবং নিজেদের লক্ষ্য পূরণে তারা আত্মবিশ্বাসী। একই সঙ্গে সংঘাতের ‘সব মূল কারণ’ সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকেই মস্কো যুদ্ধের মূল কারণগুলো সমাধানের কথা বলে আসছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয়েই দূরপাল্লার বিমান হামলা জোরদার করেছে। তবে সম্মুখসারির অবস্থানে বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, বৈঠকটি ছিল ‘তাৎপর্যপূর্ণ’। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে ঘোষণা দেওয়া হতে পারে।

উশাকভ বলেন, বৈঠকে শুধু ইউক্রেন সংকট সমাধান নিয়ে মতবিনিময় হয়নি। রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিকভাবে লাভজনক বড় প্রকল্প নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সামগ্রিকভাবে বৈঠকটি ছিল সময়োপযোগী এবং উভয় পক্ষের জন্য অত্যন্ত ফলপ্রসূ।

পুতিনের বিনিয়োগবিষয়ক দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, বৈঠকটি ছিল ‘শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সফর’। বৈঠকে দিমিত্রিয়েভ ও উশাকভ উভয়েই উপস্থিত ছিলেন।

যুদ্ধ অবসানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচেষ্টারও প্রশংসা করেছেন পুতিন। বৈঠকের শুরুতে তিনি বলেন, কঠিন পরিস্থিতি সম্পর্কে জেনেও ট্রাম্প সমঝোতা অর্জন এবং রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত নিরসনে অবদান রাখার চেষ্টা থেকে বিরত হননি।

শুক্রবার ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি নতুন প্রস্তাব রয়েছে। তবে তিনি এর বিস্তারিত প্রকাশ করেননি।

পুতিন মার্কিন প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এর আগে জানিয়েছিলেন, মার্কিন দূতদের সফরকে কেন্দ্র করে পুতিন রুশ বাহিনীকে তিন দিন কিয়েভে হামলা না চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

এদিকে, রাশিয়া ও ইউক্রেনের অবস্থানের মধ্যে এখনো বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে। গত ১০ দিন ধরে রাশিয়া ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে দিন-রাত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। শুক্রবার ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা এসবিইউর সদর দপ্তরেও হামলা চালানো হয়।

অন্যদিকে, যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে মস্কোর ওপর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত চাপ বাড়াতে ইউক্রেন গ্রীষ্মজুড়ে রাশিয়ার তেল শোধনাগার, তেল টার্মিনাল এবং অনলাইন খুচরা বিক্রেতা ওয়াইল্ডবেরিজের গুদামগুলোতে হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, সোমবার পর্যন্ত মস্কোতে হামলা না চালানোর বিষয়ে কিয়েভ প্রস্তুত রয়েছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে প্রাণঘাতী এই যুদ্ধ কীভাবে শেষ করা যায়, তা নিয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেনের অবস্থানের মধ্যে এখনো বিশাল ব্যবধান রয়েছে।

ট্রাম্পের দূতদের সফরের খবর প্রকাশের আগেই ক্রেমলিনের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছিল, পুতিন আরও ভূখণ্ড দখলের বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। রয়টার্সকে ওই ব্যক্তি বলেন, দোনেৎস্ক অঞ্চলের অবশিষ্ট অংশের পুরো নিয়ন্ত্রণ নেওয়া পর্যন্ত সম্মুখরেখা নিয়ে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

ওই সূত্র আরও জানান, কমান্ডারদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুতিন আত্মবিশ্বাসী যে চলতি বছরের শেষ নাগাদ এ লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হবে। তবে রাশিয়ার ধীরগতির অগ্রগতির কারণে পশ্চিমা সামরিক বিশ্লেষকেরা এমন সম্ভাবনাকে ক্ষীণ বলে মনে করেন।

ইউক্রেনও বিপুল ত্যাগের বিনিময়ে রক্ষা করা ভূখণ্ড ছেড়ে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। কিয়েভ এ ধরনের শর্তকে আত্মসমর্পণের শামিল বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

ক্রেমলিন শুক্রবার জানিয়েছে, দুই বছর আগে এক ভাষণে পুতিন যে অবস্থান তুলে ধরেছিলেন, তা এখনো ‘অটল’ রয়েছে। ওই অবস্থানের মধ্যে রয়েছে—ইউক্রেনকে রাশিয়ার দাবি করা চারটি অঞ্চলের পুরো ভূখণ্ড ছেড়ে দিতে হবে এবং ন্যাটোতে যোগদানের পরিকল্পনা ত্যাগ করতে হবে।

সরকারি কর্মীদের জন্য বিশেষ সেবা এনেছে ব্র্যাক ব্যাংক

সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং রাষ্ট্র মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আরও উন্নত ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করতে নিজেদের বিশেষ সেবা ‘দ্যুতি’-কে নতুনভাবে সাজিয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক। এর আওতায় থাকছে নানাবিধ সুযোগ-সুবিধাসংবলিত ‘দ্যুতি সেভিংস অ্যাকাউন্ট’ এবং সম্পূর্ণ নতুন ‘দ্যুতি স্যালারি অ্যাকাউন্ট’। ব্র্যাক ব্যাংক গতকাল শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
এতে বলা হয়, ‘দ্যুতি’ সেবা চালুর পর থেকেই সরকারি কর্মকর্তাদের বিশেষায়িত ব্যাংকিং সেবা দিয়ে আসছে ব্র্যাক ব্যাংক। নতুনভাবে ডিজাইন করা সেবার মূল আকর্ষণ হলো ‘দ্যুতি সেভিংস অ্যাকাউন্ট’, যেখানে গ্রাহকরা উপভোগ করবেন আধুনিক ও আকর্ষণীয় ব্যাংকিং সুবিধা। এই অ্যাকাউন্টে গ্রাহকরা প্রথম বছর সম্পূর্ণ ফ্রিতে পাবেন একটি ভিসা মাল্টি-কারেন্সি ডেবিট কার্ড। এর পাশাপাশি ইন্টারসিটি ট্রানজ্যাকশন এবং এসএমএস অ্যালার্ট চার্জ সম্পূর্ণ ফ্রি। এ ছাড়া অ্যাকাউন্টে মাসিক গড় ব্যালেন্স ৫০ হাজার টাকা বজায় রাখলে দিতে হবে না কোনো অ্যাকাউন্ট মেইনটেন্যান্স ফি। প্রতি মাসে আকর্ষণীয় ইন্টারেস্টের পাশাপাশি থাকছে ‘আস্থা’ অ্যাপ ব্যবহার এবং ২৪/৭ কাস্টমার সাপোর্টের সুবিধা।

নতুন পথচলায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আরও যুক্ত হয়েছে ‘দ্যুতি স্যালারি অ্যাকাউন্ট’। যেসব কর্মকর্তারা ব্র্যাক ব্যাংকের মাধ্যমে বেতন পেয়ে থাকেন, তাদের উন্নত ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা দিতে এই অ্যাকাউন্টে থাকছে বিশেষ সুবিধা। অন্য ব্যাংকের এটিএম থেকে প্রতি মাসে পাঁচবার ফ্রিতে টাকা তোলা যাবে। এ ছাড়া প্রথমবার থাকছে ১০ পাতার একটি ফ্রি চেকবই। পাশাপাশি পার্সোনাল লোন এবং ক্রেডিট কার্ডে থাকছে বিশেষ অফার।
ব্র্যাক ব্যাংকের ডিএমডি অ্যান্ড হেড অব ব্রাঞ্চ ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক শেখ মোহাম্মদ আশফাক বলেন, ‘রাষ্ট্র পরিচালনা এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাদের এই গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য এমন ব্যাংকিং সেবা প্রয়োজন, যা আধুনিক, ব্যক্তি চাহিদাসম্পন্ন এবং তাদের পরিবর্তনশীল প্রয়োজনগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।’

নিট ফেব্রিক্স আমদানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার চেয়েছেন উদ্যোক্তারা

তৈরি পোশাকের নিট ক্যাটেগরির পণ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত ফেব্রিক্স বা কাপড় আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞায় রপ্তানি সক্ষমতা কমবে দেশের। বিদেশি ব্র্যান্ড-ক্রেতাদের সঙ্গে করা চুক্তি অনুযায়ী লিড টাইম বা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য উৎপাদন ও জাহাজীকরণ বাধাগ্রস্ত হবে। এতে ব্র্যান্ড-ক্রেতারা বাংলাদেশের বিকল্প উৎস দেশ থেকে পণ্য সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এর ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি আদেশ ও রপ্তানি কমবে।

সরকারের নতুন আমদানি নীতিতে নিট কাপড় আমদানির ক্ষেত্রে আরোপিত বিধান বাতিল করার দাবি জানিয়েছে তৈরি পোশাক খাতের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ। সম্প্রতি বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের কাছে লেখা পৃথক চিঠিতে সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত ২৪ আগস্ট ২০২৬-২৯ সাল মেয়াদের আমদানি নীতি ঘোষণা করে। আমদানি নীতির ধারা-২৫-এ বলা হয়, ‘শতভাগ রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান কর্তৃক কাঁচামাল ও অন্যান্য উপকরণ আমদানির শর্তাবলির উপধারা-১২ নিট ফেব্রিক্স আমদানি যোগ্য হইবে না।’ এ নীতির কারণে নিট ফেব্রিক্স আমদানি নিয়ে সমস্যায় পড়েছেন উদ্যোক্তা রপ্তানিকারকরা। নতুন আমদানি নীতি ঘোষণার আগের এলসির ভিত্তিতে আমদানি করা অনেক নিট ফেব্রিক্স চট্টগ্রাম বন্দর থেকে খালাস করতে সমস্যা হচ্ছে। আগে খোলা এলসির নিট ফেব্রিক্সও বন্দরে আসার পথে রয়েছে। ওইসব চালান খালাসেও সমস্যা হবে। এতে স্বাভাবিক রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হবে।

নিট ফেব্রিক্স আমদানি নিষিদ্ধ হওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তৈরি পোশাকের নিট ক্যাটেগরির পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিকেএমইএর সদস্য কারখানাগুলো। নিট পোশাক উৎপাদনে প্রয়োজনীয় ফেব্রিক্সের বড় একটা অংশ, প্রায় ৯০ শতাংশ স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করা হয়। বাকি ১০ শতাংশের মতো আমদানি করতে হয়। এ ছাড়া দেশে সহজলভ্য হলেও ব্র্যান্ড-ক্রেতারাও কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিদেশি ফেব্রিক্স ব্যবহারে শর্ত দিয়ে থাকে। তখন আমদানি করা ছাড়া উপায় থাকে না।

বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম সমকালকে বলেন, এর আগে কখনও এ রকম নীতি সংকটের মুখে পড়তে হয়নি। নতুন আমদানি নীতির খসড়া নিয়ে অংশীজনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সভায় বিষয়টি আমাদের নজরে আসে। তখন প্রতিবাদ করলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিধানটি ভুলক্রমে নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। চূড়ান্ত করার আগে এ ধারা বাদ দেওয়া হবে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় চূড়ান্ত নীতিমালায় নিট ফেব্রিক্স আমদানি নিষেধের বিষয়টি বহাল রয়েছে। এটা কিছুতেই মানা যায় না। বিকেএমইএ সভাপতি বলেন, এ বিষয়ে সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করছেন তারা। না হলে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের চেয়েও এই সংকট আরও প্রকট হবে শিল্পের জন্য।

বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে লেখা বিকেএমইএর চিঠিতে বলা হয়, রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনায় ক্রেতাদের নির্দেশ অনুযায়ী দেশি ও বিদেশি উৎস থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করতে হয় তাদের। বর্তমানে তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে নিট পোশাকের ফেব্রিক্স উৎপাদন ভয়াবহ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ কারণে বিদেশি ক্রেতাদের চাহিদা, নির্ধারিত মান ও ডিজাইন, পণ্যের বৈচিত্র্য ও অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রয়োজনে বিদেশি ফেব্রিক্স বেশি আমদানি করতে হয়। এ বাস্তবতায় আমদানি নীতিতে নিট ফেব্রিক্স আমদানি নিষেধাজ্ঞা স্থগিত বা প্রত্যাহার করার অনুরোধ জানানো হয় চিঠিতে।
নিট ফেব্রিক্স আমদানি নিষেধাজ্ঞার কারণে বিকেএমইএর মতো প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত নয় তৈরি পোশাকের ওভেন পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যেক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএর সদস্য

কারখানাগুলো। তবে বিজিএমইএর
অনেক সদস্য একই সঙ্গে বিকেএমইএরও সদস্য। এ ছাড়া ফ্যাশনেবল সিনেথেটিক নিট পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানি করে থাকে অনেক ওভেন কারখানা। সে হিসেবে নতুন আমদানি নীতিতে নিট ফেব্রিক্স আমদানি নিষেধাজ্ঞায় বিজিএমইএ-ও ক্ষতিগ্রস্ত।
বাণিজ্যমন্ত্রীকে পাঠানো বিজিএমইএর চিঠিতে সংগঠনের সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের চাহিদা প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। এ কারণে পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে হয়। নির্ধারিত মান, ডিজাইন বজায় রাখা ও দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রয়োজন হয়। এসব কারণে অনেক ক্ষেত্রে বিদেশ থেকে নির্দিষ্ট ধরনের কাপড় সংগ্রহ করতে হয়। এ ধরনের আমদানির সুযোগ সীমিত হলে রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্পের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা আছে। এ ছাড়া বিদেশি ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী নির্দিষ্ট মান, সুনির্দিষ্ট ধরন, রং, ডিজাইন ও ধরনের কাপড় অনেক সময় স্থানীয়ভাবে পাওয়া যায় না। ফলে এসব ক্ষেত্রে বিদেশি উৎস থেকে ফেব্রিক আমদানি করতে হয়। নতুন নীতির সংশ্লিষ্ট বিধান বহাল থাকলে রপ্তানিকারকদের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সংগ্রহে জটিলতা সৃষ্টি হবে।
চিঠিতে বিজিএমইএ বলেছে, রপ্তানির বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা সমীচীন হবে না। এতে রপ্তানি সক্ষমতা কমবে এবং রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হবে। এই বাস্তবতায় দেশে তৈরি পোশাক খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ আগের মতো বহাল থাকা জরুরি। ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির মাধ্যমে অথবা ফ্রি অব কস্ট (এফওসি) বা বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় নিট কাপড় আমদানির সুযোগ বহাল রাখার অনুরোধ জানানো হয় চিঠিতে।

কিছু রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের চলমান সংকটকে পুঁজি করে কিছু রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তি বিভ্রান্তির মাধ্যমে অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে।

তিনি বলেন, গত কিছুদিন ধরে খেয়াল করছি, যেসব সমস্যা আমরা ইনহেরিট করেছি, স্বৈরাচার আমলেই হোক অথবা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রেখে যাওয়া সমস্যাই হোক না কেন, সবগুলোই সমাধানের চেষ্টা করছি। সমস্যা নেই, তা কখনোই বলছি না। অবশ্যই বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমস্যা আছে। কিন্তু সমস্যাগুলোকে পুঁজি করে কিছু রাজনৈতিক দল এবং কিছু ব্যক্তি বিভিন্নভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। এর মাধ্যমে দেশে অরাজকতা তৈরি করার চেষ্টা করছেন।

শনিবার বিকেলে বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই যে, বাংলাদেশের জনগণ এই সরকারকে দায়িত্ব দিয়েছে দেশ পরিচালনা করার। অবশ্যই আমরা গণতন্ত্রের ধারাকে সমুন্নত রাখবো। গণতান্ত্রিক নীতি-নৈতিকতাগুলো আপহোল্ড করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কেউ যদি অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায়; সেটিকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে তা দেশের আইনে বলে দেওয়া আছে। কাজেই জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার হিসেবে পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, প্রত্যেকের নিজেদের সীমার মধ্যে থাকা দরকার।

দেশের প্রতিটি সংকটকালীন মুহূর্তে বিএনপি জনগণের পাশে ছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেকটি সংকটকালীন মুহূর্তে বিএনপি নামক রাজনৈতিক দলটি নেতাকর্মী ও দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য পরিশ্রম করেছে। সংকট থেকে ধীরে ধীরে দেশকে বের করেও নিয়ে এসেছে।

তিনি আরও বলেন, আজকে যেহেতু বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এই মুহূর্তে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আছে। শিল্পকারখানার মালিকসহ বহু সাধারণ মানুষ যারা বিদ্যুৎ ও জ্বালানির কষ্টে রয়েছেন, তাদের সকলের কাছে আমি দলের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করছি।

প্রধানমন্ত্রীকে পাশে রেখে মির্জা আব্বাসের আবেগঘন বক্তব্য

দীর্ঘদিন বিদেশে চিকিৎসা নিয়ে দেশে ফেরা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় আবেগঘন বক্তব্য দিয়েছেন। এ সময় তিনি দলের ‘ভেতরে ও বাইরে থেকে ষড়যন্ত্রের’ সতর্কবার্তাও দিয়েছেন।

গতকাল শনিবার এ আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাশে বসে তিনি যখন কথা বলছিলেন, তখন বারবার তাঁর গলা ধরে আসছিল।
সাড়ে পাঁচ মাসের অনুপস্থিতির কথা তুলে ধরে মির্জা আব্বাস বলেন, এ সময়ে দেশের মানুষের অকুণ্ঠ ভালোবাসা পেয়েছেন। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁর খোঁজখবর রেখেছেন।
তিনি বলেন, ‘একজন কর্মী দলের কাছ থেকে কী আশা করে– নেতারা খোঁজখবর রাখবেন, নেতারা ভালোবাসবেন, বিপদে পড়লে পাশে দাঁড়াবেন। অথবা সমবেদনা জানাবেন। সেটাই পেয়েছি।’ মির্জা আব্বাস আরও বলেন, ‘আজকে একটা কথা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, অনেক ষড়যন্ত্র হচ্ছে এ দলের বিরুদ্ধে, অনেক ষড়যন্ত্র হবে এই দলের বিরুদ্ধে।’

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আপনি দরকার হয় সাবধান থাকবেন এবং আপনি অনেক উদার আমি জানি, নিঃসন্দেহে। তবে সব সময় এমন হওয়া যাবে না। এটুকু আপনাকে আমি বলতে চাই। বহু কর্মী আছেন, নেতা আছেন, যারা আপনার সামনে অনেক ভালো ভালো কথা বলেন, বাইরে এসে কিন্তু ভালো কথা বলেন না।’
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে বহুদিন কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে ঢাকা-৮ আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘ওনার মৃত্যু, নিঃসন্দেহে কেউ হত্যা করেনি, এটা ঠিক আছে। কিন্তু উনি যেভাবে মারা গেছেন, তা আমাদের কাম্য ছিল না।’ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অনেক ভালো ভালো কাজ, খারাপ লোকের খারাপ কথায়, খারাপ কাজে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে– তুলে ধরে সেদিকে লক্ষ্য রাখার আহ্বান জানান বিএনপির এই নেতা।

জিয়াউর রহমানের হাতে রাজনীতির দীক্ষা পাওয়া এবং খালেদা জিয়ার কাছে লালিত হওয়ার কথা তুলে ধরে মির্জা আব্বাস বিএনপির চেয়ারম্যানের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনার সঙ্গে রাজনীতি করেই আমার রাজনৈতিক জীবন শেষ করতে চাই। এখানে আর কোনো কিছু সুযোগ নাই। … এখানে কোনো ষড়যন্ত্র কাজ করবে না।’
ষড়যন্ত্রের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘যেগুলো আমি জানব, দলের জন্য ক্ষতিকর, দেশের জন্য ক্ষতিকর, সেগুলো আপনাকে জানাব ইনশাআল্লাহ।’
বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন দলের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

‘কিছু নেতাকর্মীর জন্য বদনাম হচ্ছে’
মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমার অনেক নেতাকর্মী আছেন … কিছু মনে করবেন না, আমি খোলাখুলি বলি … কিছু নেতাকর্মীর জন্য বদনাম হচ্ছে। আপনাদের বয়সটা আমাদের ছিল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে থেকে রাজনীতি করেছি, রাজনীতি শিখেছি, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে থেকে রাজনীতি করেছি। কিন্তু আমাদের সময়ের দুই-একজন হাতে লোক ছাড়া এই দলের কোনো বদনাম আমাদের মাধ্যমে হয়নি।’

দলের প্রতিষ্ঠাতাকে হত্যা, খালেদা জিয়ার কারাভোগ ও নির্যাতনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা জেল খেটেছি … দলটা এখনও ঠিক আছে। দলটা আরও টিকে থাকবে। এ দলটা মরে যাওয়ার জন্য আসে নাই, ভেঙে যাওয়ার জন্য আসে নাই। দুই-একজন লোকের জন্য দলটার বদনাম হতে পারে না, এটা আপনারা খেয়াল রাখবেন।’
দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে এবং প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন অর্থনীতিবিদ মাহবুবউল্লাহ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমান উল্লাহ আমান, ফরহাদ হালিম, ইসমাইল জবিহউল্লাহ, যুবদল সভাপতি এম মোনায়েম মুন্না, কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান, ঢাকা মহানগর বিএনপি দক্ষিণের সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন, উত্তরের সদস্য সচিব মোস্তফা জামান, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।
অন্যদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আব্দুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, সেলিমা রহমান ও এজেডএম জাহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

সরকারকে জামায়াত জোট ৬ দফা না মানলে এক দফা ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম লংমার্চ

গণভোটে অনুমোদিত জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী হুবহু সংবিধান সংস্কার না করলে ছয় দফা দাবি এক দফায় পরিণত হবে বলে সরকারকে হুঁশিয়ার করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। গতকাল শনিবার ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত লংমার্চের পথসভাগুলোতে এসব কথা বলেছেন তারা।

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে প্রথম পথসভার পর গতকাল সকাল ৯টার দিকে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা করে লংমার্চ। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ, কুমিল্লার পদুয়ার বাজার ও চৌদ্দগ্রাম, ফেনীর মহিপাল, চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পথসভা হয়। নেতাকর্মীর ভিড়ে তা জনসভায় রূপ নেয়। রাত ৯টার দিকে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে পৌঁছে লংমার্চ। সেখানে সমাবেশের মাধ্যমের কর্মসূচির ইতি টানা হয়।

লংমার্চের বহরে হাজারখানেক গাড়ি থাকবে বলে জানানো হয়েছিল। কুমিল্লার মেঘনা-গোমতী সেতুতে ছয় শতাধিক গাড়ি পার হয়েছে টোল দিয়ে। তবে গাড়ির প্রকৃত সংখ্যা জানা যায়নি। কারণ, ১১ দলের নারায়ণগঞ্জের নেতাকর্মীদের তাদের গাড়ি নিয়ে কুমিল্লায় সেতু পার হওয়ার আগে ফেরত আসে। আবার কুমিল্লার নেতাকর্মীদের গাড়িবহরে যুক্ত হয় সেতু পার হওয়ার পর।

প্রকৃত সংখ্যা জানাতে পারেনি জামায়াতও। জ্বালানি সংকট নিরসনের দাবিতে তেল পুড়িয়ে লংমার্চের সমালোচনা করছেন বিএনপির মন্ত্রী, নেতা, সমর্থকরা। তবে তা নাকচ করেছে জামায়াত-এনসিপির জোট। ১১ দলের সমন্বয়ক এবং জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ সমকালকে বলেন, এগুলো অযৌক্তিক বিরোধিতা। ২০১১ ও ১২ সালে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে লংমার্চ হয়েছিল। তখনও তো জ্বালানি খরচ হয়েছিল।

গণভোটের ফল অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, গ্যাস-বিদ্যুৎ-সার সংকট নিরসন, জুলাই গণহত্যার বিচার, আইনশৃঙ্খলার উন্নতি, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং দলীয়করণ বন্ধসহ ছয় দফা দাবিতে গতকাল চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ করেছে জামায়াত। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর ঢাকা-রংপুর রুটে লংমার্চ করবে ১১ দল। পরের মাসে খুলনা ও সিলেটের পথে লংমার্চ হবে ছয় দফা দাবিতে। ১৪ নভেম্বর ঢাকায় হবে মহাসমাবেশ।
‘আঙুল বাঁকাতে বাধ্য করবেন না’
লালদীঘি ময়দানে জনসভায় জামায়াত আমির শফিকুর রহমান সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আমরা কাউকে বিদায় দিতে চাই না। কিন্তু কেউ নিজ থেকেই যদি বিদায় নিতে চায়, তাহলে আমরা কি তাকে সুরা পড়ে ফুঁ দিয়ে পানি খাওয়াব?’

এলডিপির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘এবারের লংমার্চ সরকারকে সতর্ক করার জন্য। কিন্তু বাকিগুলো এ রকম হবে না। এখন পর্যন্ত আঙুল সোজা। কিন্তু আঙুল বাঁকাতে বাধ্য করবেন না।’

গণরায় মেনে না নিয়ে সরকার মানুষের সঙ্গে গাদ্দারি করছে বলে অভিযোগ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা থামব না। বাংলাদেশে পরিবর্তন আসবেই। লড়াইয়ে জনগণ বিজয়ী হবে। ফ্যাসিবাদীরা হেরে যাবে।’

অলি আহমদ বলেন, ‘অতীতে অনেক সরকার এসেছে। কিন্তু কখনও ছয় মাস পর কাউকে বলতে শুনিনি– সরকার টিকবে না। প্রধানমন্ত্রীকে বলতে চাই, ১১ দলের পক্ষ থেকে আপনার ভয় নেই। আপনার সমস্যা আপনার আশেপাশের লোকজন।’

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, বিরোধী দল সহযোগিতা না করলে তারেক রহমান সরকার চালাতে পারবেন না– বিষটা মেনে নেন। মানুষ বিকল্প খুঁজছে। এই লংমার্চে দেখা গেছে, বিকল্প কারা। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে আর কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। নতুন করেও কাউকে ফ্যাসিস্ট হতে দেব না।

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ‘আমরা স্বপ্ন দেখেছিলাম, দেশে আর গুম-খুন হবে না। কিন্তু দেখলাম, আমাদের বন্ধুরা ক্ষমতায় বসে সব ভুলে গেছেন।’

মতিঝিলে হাজারো নেতাকর্মীর জমায়েত 
শনিবার ভোর থেকেই শাপলা চত্বরে জমায়েত হতে শুরু করেন ১১ দলের নেতাকর্মীরা। তবে তাদের অধিকাংশ ছিলেন জামায়াতের নেতাকর্মী। এর বাইরে এনসিপি ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতাকর্মীদের কিছু উপস্থিতি ছিল। অন্যান্য দলের নেতারা মঞ্চে থাকলেও তাদের কর্মীদের সমাগম-মিছিল দেখা যায়নি।

মতিঝিলে হাজার হাজার নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে পথসভা রূপ নেয় জনসভায়। সেখানে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান সরকারের উদ্দেশে বলেন, পরিষ্কার বলে দিচ্ছি– জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি করলে জনগণও কাউকে ছাড় দিয়ে কথা বলবে না।

বিদ্যুৎ বিলের ক্ষোভে প্রধানমন্ত্রীকে গালাগাল করায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার সিফাত আবদুল্লাহর মুক্তি দাবি করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ নেই; অথচ ভূতুড়ে বিল আছে। কিন্তু এর বিরুদ্ধে কথা বলা যাবে না। অতিষ্ঠ বিরক্ত হয়ে সিফাত নামে একজন তরুণ কী বলেছিল, তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দলীয় সন্ত্রাসীরা থানায় গিয়ে তাকে নাজেহাল করেছে। তাকে ভালোয় ভালোয় ছেড়ে দিন। মনে রাখবেন, এক নূর হোসেন, এক ইয়াসমিন, এক ডাক্তার মিলন অনেকের গদি ওলটপালট করে দিয়েছিল।

বিএনপিকে ইঙ্গিত করে নাহিদ ইসলাম বলেন, নতুন করে যারা স্বৈরাচার হতে চাইছে, তাদের রুখতে লংমার্চ। এতে বাধা দিলে ছয় দফা এক দফায় পরিণত হবে।

অলি আহমদ বীরবিক্রম বলেন, বিরোধী দল প্রথম রাউন্ডের কর্মসূচি শেষ করেছে; দ্বিতীয় রাউন্ড শুরু হয়েছে। এখনই সতর্ক না হলে অন্যরা যেভাবে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে, একই পরিণতি হবে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, লংমার্চের বার্তা এখন না বুঝলে তাদের জন্যও সেই পরিণাম অপেক্ষা করছে, যা প্রত্যেক স্বৈরশাসকের ক্ষেত্রে হয়েছে।

পথে পথে ভিড়, পথসভা
ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে পথে রাস্তার দুই পাশে ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে দাঁড়িয়ে লংমার্চের গাড়িবহরকে স্বাগত জানান জামায়াতের নেতাকর্মীরা। ছিল এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফতের নেতাকর্মীদেরও উপস্থিতি। এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে নিয়ে সমবেতদের ছিল আগ্রহ।

যানজট এড়াতে লংমার্চের গাড়ি এক সারিতে চলে মহাসড়কে। ছাদখোলা গাড়ি থেকে হাত নাড়িয়ে সমবেত নেতাকর্মী ও পথচারীদের অভিবাদন জানান জামায়াত আমিরসহ জোটের অন্য নেতারা। তাদের দেখতে ভিড় করা মানুষে নানা জায়গায় সড়ক বন্ধ হয়। পথসভার এলাকাগুলোতে সড়ক বন্ধ হওয়ায় যানজট হয়।

সন্ধ্যার আগে মিরসরাইয়ে পথসভা করে ১১ দল। এতে শফিকুর রহমান বলেন, বিএনপি সরকার নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস দিতে ব্যর্থ। কৃষক সার পায় না। উচ্চ মূল্যে কিনতে হচ্ছে। সব জিনিসের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু সরকার আছে সব জায়গায় দলীয়করণে। বিএনপি সরকার অকার্যকর, অদক্ষ।

এক দফার হুঁশিয়ারি দিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমরা এখনও সরকারের বিরুদ্ধে না। কিন্তু ছয় দফা পূরণ না হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সরকার পতনের এক দফা ঘোষণা দেব।

এই পথসভায় আরও বক্তৃতা করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রমুখ। এর আগে ফেনীর মহিপালে পথসভায় বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, প্রথম দিন থেকেই বিএনপি সরকার জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে।

অন্য পথসভার মতো ফেনীতে জামায়াত আমির সমবেতদের কাছে জানতে চান, ওই এলাকায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি হয় কিনা? সমবেতরা বলেন, ‘হ্যাঁ হয়।’ বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, এখানেও এই অবস্থা?

নামে পথসভা হলেও মহিপালে ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কে তা জনসভায় রূপ নেয়। বক্তৃতা করেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুসহ জোটের দলগুলোর জ্যেষ্ঠ নেতারা।

বিএনপিকে ইঙ্গিত করে জামায়াত আমির বলেন, এই চোখ রাঙানি কোথায় ছিল সাড়ে ১৫ বছর? সরকারের অনুগ্রহে অনুমতি না পেলে রাস্তায় ১০ জন মানুষ নিয়ে নামার সাহস আপনারা করেননি। এখন চোখ রাঙান– এগুলো ভয় করি না। সব পর্যায়ে বেপরোয়া, নির্লজ্জ-বেহায়া দলীয়করণ করবেন, আর বিরোধী দল বসে বসে আঙুল চুষবে?

কুমিল্লায় দুই পথসভা 
প্রথমে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এবং পরে চৌদ্দগ্রামে পথসভা করে ১১ দল। পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডে শফিকুর রহমান বলেন, লংমার্চের পর ঢাকায় সমাবেশ হবে। আপনারা চিড়ামুড়ি নিয়ে ঢাকার সমাবেশে আসবেন। জুলাই সনদের দাবি আদায় করব। আমরা আশাবাদী, আস্থাশীল। জনগণের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথে থাকব। দুর্নীতিমুক্ত ও ফ্যাসিবাদমুক্ত দেশ গড়তে যত দাবি আছে, তা আমরা আদায় করব ইনশাআল্লাহ।

এই পথসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তো সংসদে সব মন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েছেন। কিন্তু নিজের মন্ত্রণালয়ে তাঁর কোনো খবর নেই। তাঁর দলেরই জ্যেষ্ঠ নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘বাংলাদেশ মাদকে সয়লাব। আর সবচেয়ে বড় চালান আসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাড়ির পাশ দিয়ে।’ তিনি তাঁর নিজের বাড়ির মাদকের চালান বন্ধ করতে পারেন না, তিনি আবার সব মন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে বসে আছেন।

কুমিল্লা বিভাগের দাবিকে সমর্থন করে জামায়াত আমির বলেছেন, এত বছর ধরে আন্দোলন হলেও বিভাগ করা হচ্ছে না। কুমিল্লাবাসীর অপরাধ কী? সরকারকে পরিষ্কার বলছি, কুমিল্লা বিভাগ নিয়ে আর ধানাইপানাই করবেন না। কুমিল্লা বিভাগ দিন। নোয়াখালী বিভাগও দিন। সবদিক থেকে উত্তম হলে কুমিল্লার বিমানবন্দর চালু করুন।

অলি আহমদ বলেন, ছয় দফা না মানলে ডিসেম্বর মধ্যে এই সরকারের পতন হবে। ২০২২ সালে বলেছিলাম, শেখ হাসিনাকে এক কাপড়ে দেশ ত্যাগ করতে হবে। তা-ই হয়েছে।

মামুনুল হক বলেন, বর্তমান সরকার শেখ হাসিনার পদাঙ্ক অনুসরণ করছে। শেখ হাসিনা মেগা প্রকল্পের নামে দেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি করে গিয়েছেন। এ সরকার কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড দিয়ে জনগণকে ধোঁকা দিচ্ছে। মানুষ এখন সরকারকে লাল কার্ড দেখাবে।

এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বলেন, ১২শ টাকার বিদ্যুৎ বিল চার হাজার টাকা হয়ে গেছে। বিদ্যুৎমন্ত্রী বিদ্যুৎ দিতে না পেরে আইসিইউতে চলে গেছেন।

পদুয়ার পর চৌদ্দগ্রামে পথসভা করে ১১ দল। জামায়াতের নায়েবে আমির এবং বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের লংমার্চকে স্বাগত জানান তাঁর নির্বাচনী এলাকায়। ঢাকার পর প্রথম সভায় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ১১ দলের নেতারা বলেন, সরকার প্রতারণা করছে।

লংমার্চে ১১ দলের শরিক বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আবদুল কাইয়ুম সুবহানী, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বিডিপির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম প্রমুখ অংশ নেন। বিভিন্ন পথসভায় বক্তৃতা করেন।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন, নির্বাহী পরিষদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, রেজাউল করিম, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহসহ ১১ দলের এমপিরা লংমার্চে অংশ নেন।

(এ প্রতিবেদনে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যুরো, জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিরা।)

তৃতীয় এলএনজি টার্মিনাল দুই কোম্পানির নথিতে মিল, ভাড়াও বেশি বর্তমান দুই এফএসআরইউর তুলনায় দৈনিক ভাড়া ৩৫ থেকে ৩৭ শতাংশ বেশি

দেশে তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ স্থাপনে দরপত্র ছাড়াই চীনা কোম্পানি সিএনইইর প্রস্তাব এগিয়ে নেওয়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। তবে টার্মিনালটির দৈনিক তিন লাখ ৪২ হাজার ডলার ভাড়া নিয়ে এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। বর্তমান দুই এফএসআরইউর তুলনায় এটা ৩৫ থেকে ৩৭ শতাংশ বেশি।

গত ২৮ জুলাই অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি জিটুজি (সরকার থেকে সরকার) ব্যবস্থায় সিএনইইর প্রস্তাবটি প্রক্রিয়াকরণের অনুমোদন দেয়। একই প্রকল্পে এর আগে এনএস এনার্জি নেভিগেশন যে প্রস্তাব দিয়েছিল, তার সঙ্গে সিএনইইর (চায়না ন্যাশনাল এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড) প্রস্তাবের তথ্য, ভাষা ও উপস্থাপনায় অস্বাভাবিক মিল পাওয়া গেছে। এমনকি সিএনইইর নথিতে থাকা একটি মানচিত্রে এনএস এনার্জি নেভিগেশনের নামও রয়ে গেছে।

জ্বালানি বিভাগের একটি সূত্র জানিয়েছে, এনএস এনার্জি নেভিগেশনের সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একজন সংসদ সদস্যের এক আত্মীয় জড়িত। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য জানা যায়নি।

দুই কোম্পানির প্রস্তাব পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এনএস এনার্জি নেভিগেশন গত ১২ মে তৃতীয় এফএসআরইউ স্থাপনের প্রস্তাব দেয়। এর প্রায় এক মাস পর ১৯ জুন একই প্রকল্পে সিএনইই প্রস্তাব জমা দেয়। দুই প্রস্তাবেই কক্সবাজারের মহেশখালীর কুতুবজোম এলাকায় টার্মিনাল স্থাপনের কথা বলা হয়েছে।

শুধু প্রকল্পের স্থান নয়, দুই প্রস্তাবের কারিগরি কাঠামোতেও মিল আছে। উভয় নথিতে প্রায় এক লাখ ৭০ হাজার ঘনমিটার সংরক্ষণ ক্ষমতার এফএসআরইউ, বেস হিসেবে দৈনিক ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং সর্বোচ্চ ৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পুনঃগ্যাসীকরণের সক্ষমতার কথা বলা হয়েছে। মহেশখালী আরএলএনজি টাই-ইন পয়েন্ট থেকে চার থেকে ছয় কিলোমিটার অফশোরে টার্মিনাল স্থাপন, ১৮ থেকে ২০ মিটার পানির গভীরতা এবং চার থেকে ছয় কিলোমিটার সাবসি পাইপলাইনের কথাও দুই নথিতে রয়েছে।

জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সংযোগের পরিকল্পনাও একই। দুই প্রস্তাবেই বিদ্যমান মহেশখালী-আনোয়ারা ৪২ ইঞ্চি পাইপলাইনের সঙ্গে সংযোগের কথা বলা হয়েছে। টার্মিনালের সুবিধা হিসেবে দ্রুত বাস্তবায়ন, কম মূলধন ব্যয়, পরীক্ষিত এফএসআরইউ প্রযুক্তি, কম ভূমি অধিগ্রহণ ও পরিবেশগত প্রভাব এবং জ্বালানি সরবরাহের উৎস বহুমুখীকরণের বিষয়গুলোও প্রায় একই ভাষা ও কাঠামোয় উপস্থাপন করা হয়েছে।

বাণিজ্যিক কাঠামোতেও মিল রয়েছে। উভয় কোম্পানি ২০ বছর মেয়াদি বিল্ড-ওন-অপারেট (বিওও) পদ্ধতিকে অর্থনৈতিকভাবে সুবিধাজনক হিসেবে দেখিয়েছে। বিকল্প হিসেবে বিল্ড-ওন-অপারেট-ট্রান্সফার (বিওওটি) মডেলের কথা বলা হলেও এফএসআরইউ হস্তান্তরের খরচের কারণে সেটিকে বেশি ব্যয়বহুল বলা হয়েছে। টার্মিনাল ইউজ অ্যাগ্রিমেন্ট (টিইউএ) ও ইমপ্লিমেন্টেশন অ্যাগ্রিমেন্ট (আইএ) করার কাঠামোও একই রকমের।

বাস্তবায়ন সময়সূচির ক্ষেত্রেও একই তথ্য রয়েছে। সেপ্টেম্বরের মধ্যে চুক্তি হলে ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে টার্মিনাল চালুর লক্ষ্য দুই প্রস্তাবেই রাখা হয়েছে। ২০২৬ সালের শীতকালকে কাজে লাগিয়ে অফশোর ও সাবসি কাজ শুরুর যুক্তিও একইভাবে দেওয়া হয়েছে।

দায়িত্ব বণ্টনেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য মিল। কোম্পানির দায়িত্ব হিসেবে পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন, ভূভৌত ও ভূপ্রকৌশল জরিপ, মুরিং বিশ্লেষণ, প্রকল্পের অর্থায়ন এবং টার্মিনাল নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। সরকারের দায়িত্ব হিসেবে অনুমোদন ও লাইসেন্স, এফএসআরইউ নোঙরের জন্য প্রয়োজনীয় পানির গভীরতা নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য দেওয়ার বিষয় রাখা হয়েছে।

কোম্পানির নাম, তারিখ, স্বাক্ষরকারী, প্রচ্ছদ এবং নিজস্ব কোম্পানি পরিচিতির পরিশিষ্ট বাদ দিলে মূল প্রস্তাবের গুরুত্বপূর্ণ অংশে একই ভাষা, তথ্য ও কাঠামো ব্যবহার করা হয়েছে। বিশেষ করে কারিগরি স্পেসিফিকেশন, প্রকল্পের সুবিধা, বাণিজ্যিক কাঠামো, বাস্তবায়ন পরিকল্পনা ও দায়িত্ব বণ্টনের মতো অংশে এই মিল দেখা গেছে।

চীনা কোম্পানির ভাড়া বেশি
এদিকে ভাড়ার হিসাবেও বড় পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। ১৫ বছরের জন্য প্রতিদিন তিন লাখ ৪২ হাজার ডলার চেয়েছে সিএনইই। ২০২৫ সালে সরকারের করা সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে এ ধরনের টার্মিনালের দৈনিক ভাড়ার বেঞ্চমার্ক ধরা হয়েছিল দুই লাখ ৩৯ হাজার ৬৫৩ ডলার। অর্থাৎ, সিএনইইর প্রস্তাবিত ভাড়া ওই বেঞ্চমার্কের চেয়ে প্রায় ৪৩ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশে বর্তমানে দুটি এফএসআরইউ চালু রয়েছে। একটি সামিট গ্রুপের এবং অন্যটি এক্সিলারেট এনার্জির। এক্সিলারেটের টার্মিনালের দৈনিক ভাড়া প্রায় দুই লাখ ৫৪ হাজার ডলার এবং সামিটের দুই লাখ ৪৯ হাজার ১১৫ ডলার। ফলে সিএনইইর প্রস্তাবিত ভাড়া এসব টার্মিনালের তুলনায় প্রায় ৩৫ থেকে ৩৭ শতাংশ বেশি।

এর আগে তৃতীয় এফএসআরইউ স্থাপনে সামিট গ্রুপের সঙ্গে সরকারের চুক্তি হয়েছিল। ২০২৪ সালের মার্চে করা ওই চুক্তিতে দৈনিক ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ সক্ষমতার টার্মিনালের জন্য সামিট প্রতিদিন তিন লাখ ডলার ভাড়া চেয়েছিল। পরে চুক্তিটি বাতিল করে সরকার। বিষয়টি নিয়ে সামিট আদালতের শরণাপন্ন হয়েছে।

সিএনইইর প্রস্তাবিত ভাড়া সামিটের ওই প্রস্তাবের চেয়েও প্রতিদিন ৪২ হাজার ডলার বেশি। ১৫ বছরে এই অতিরিক্ত ভাড়ার পরিমাণ প্রায় ২৩ কোটি ডলার। এক ডলার ১২২ টাকা হিসাবে তা প্রায় দুই হাজার ৮০৬ কোটি টাকা।

উচ্চ ভাড়ার কারণ হিসেবে সিএনইই মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা, এফএসআরইউ নির্মাণের উপকরণের দাম বৃদ্ধি এবং বিশ্ববাজারে এ ধরনের টার্মিনালের চাহিদা বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করেছে।

এ বিষয়ে জানতে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের মোবাইলে ফোন দিলে তিনি ধরেননি। জ্বালানি সচিব জিয়াউল হক এবং পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নানের মোবাইলে ফোন দিলেও তারা ধরেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা দিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম সমকালকে বলেন, আগের টার্মিনালগুলোর তুলনায় নতুন এফএসআরইউর ভাড়া এত বেশি হওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়া এ ধরনের বড় চুক্তির আগে দর ও ব্যয়ের কাঠামো আরও ভালোভাবে যাচাই করা উচিত। প্রয়োজনে সরকারের পক্ষ থেকে ভাড়া নিয়ে পুনরায় আলোচনা করা প্রয়োজন।