Home Blog

হরমুজে ‘অত্যাধুনিক’ মার্কিন সাবমেরিন ড্রোন আটকের দাবি ইরানের

হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক মানুষবিহীন সাবমেরিন ড্রোন আটকের দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তবে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তাদের যে আন্ডারওয়াটার ড্রোনটি বিকল হয়েছিল, সেটি পুরোনো মডেলের এবং এতে কোনো সংবেদনশীল তথ্য বা গোপন সরঞ্জাম ছিল না।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে আইআরজিসির বরাতে বলা হয়, মঙ্গলবার ভোরে গোয়েন্দা অভিযানের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি মানুষবিহীন ও ‘স্মার্ট’ সাবমেরিন আটক করেছে আইআরজিসির নৌবাহিনী।

আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, আটক করা ডুবোজাহাজটি পানির নিচে ব্যবহারের জন্য বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত। এটি ২০২৫ সালে মার্কিন নৌবাহিনীর বহরে যুক্ত করা হয়েছিল বলেও দাবি করেছে ইরান। শিগগির আটক করা সাবমেরিনটির ছবি প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে তারা।

ইরানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানুষবিহীন এই ডুবোজাহাজের সক্ষমতার মধ্যে রয়েছে পানির নিচে অনুসন্ধান ও নজরদারি, সমুদ্রতলের মানচিত্র তৈরি, মাইন শনাক্তকরণ এবং সাবমেরিন কেবল ও পাইপলাইন পরিদর্শন।

তবে ইরানের দাবির পরপরই আল-জাজিরার কাছে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা। তিনি বলেন, এক দিনেরও বেশি সময় আগে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর পরিচালিত একটি আন্ডারওয়াটার ড্রোন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিকল হয়ে পড়ে।

মার্কিন ওই কর্মকর্তার ভাষ্য, ড্রোনটি চলমান সামরিক অভিযানে সহায়তার জন্য আঞ্চলিক জলসীমায় জরিপ চালাচ্ছিল। এটি ছিল পুরোনো মডেলের একটি ড্রোন। এতে কোনো সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা ছিল না এবং কোনো গোপন সোনার বা রাডার সরঞ্জামও ছিল না।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।

ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ বজায় রেখেছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বন্দরগুলোতে পাল্টা অবরোধ আরোপ করেছে।

সুতায় বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারে কারও আপত্তি, কেউ খুশি

১০ থেকে ৩০ কাউন্টের সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার করেছে সরকার। এর প্রতিক্রিয়ায় টেক্সটাইল খাতের উদ্যোক্তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে সুতার মূল ব্যবহারকারী তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা সরকারের এ সিদ্ধান্তকে আত্মঘাতী বলছেন। জরুরি ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।

রোববার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের আদেশ জারি করে। এর আগে গত ২০ আগস্ট আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে ওই সভার কার্যবিবরণীতে জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বস্ত্র খাতের সমস্যা সমাধানে আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হয়েছিল। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং বস্ত্র ও পোশাক খাতের তিন সংগঠনের সভাপতিরা রয়েছেন কমিটিতে। তবে বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ সভাপতি বলেছেন, ওই সভায় এ ধরনের সিদ্ধান্ত হয়নি।

এনবিআর আদেশে বলা হয়, আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির সভায় ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার করা হয়েছে। আমদানির শর্ত হিসেবে বস্ত্র ও পোশাক খাতের তিন সংগঠন বিটিএমএ, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর প্রত্যয়নপত্র সংশ্লিষ্ট কাস্টমস স্টেশনে দাখিলের কথা বলা হয়। আমদানি পর্যায়ে প্রযোজ্য শুল্ক ও করের সমপরিমাণ নিঃশর্ত ও অব্যাহত ব্যাংক গ্যারান্টি দাখিল করতে হবে। এ ছাড়া খালাস করা কাঁচামালে প্রস্তুত করা পণ্য সম্পূর্ণরূপে রপ্তানি হওয়া সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট লাইসেন্স কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়নপত্রের ভিত্তিতে ব্যাংক গ্যারান্টি অবমুক্তযোগ্য হবে।

সরকারের এ সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশ করেছে পোশাক উৎপাদক ও রপ্তানিকারকদের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ। গতকাল সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে লেখা এক চিঠিতে বলা হয়, গত ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভার কার্যবিবরণীর সিদ্ধান্তের ‘ক’ অংশে ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের কটন সুতা আমদানির ক্ষেত্রে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার করে ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে আমদানির কথা বলা হয়েছে। সিদ্ধান্তের ‘খ’ অংশে রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় সুতার ন্যূনতম ৫০ শতাংশ স্থানীয় স্পিনিং মিল থেকে সংগ্রহ বাধ্যতামূলক করা এবং অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ সুতা আমদানির সুযোগ দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু সভায় দুই সংগঠনের সভাপতি উপস্থিত ছিলেন এবং এমন কোনো বিষয়ে আলোচনা হয়নি।

চিঠিতে আরও বলা হয়, সভা শেষ হওয়ার পর এ বিষয়ে একটি আলোচনা উঠলে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমএর যৌথ সিদ্ধান্ত নিয়ে মন্ত্রণালয়কে জানালে সরকার এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে জানানো হয়। সভার আলোচনাবহির্ভূত এ ধরনের বিষয় সভার কার্যবিবরণীতে ‘সিদ্ধান্ত’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা তাদের বিস্মিত করেছে। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবতাবিরোধী ও আত্মঘাতী, যা বাস্তবায়িত হলে পোশাকশিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে। স্বার্থান্বেষী মহলকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার জন্য দীর্ঘদিনের বন্ড ব্যবস্থাকে বাদ দেওয়া যাবে না। দেশের তৈরি পোশাকশিল্প এ বন্ড ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে গড়ে উঠেছে। হঠাৎ করে এই সিদ্ধান্ত বাদ দেওয়া হলে বিদেশি ব্র্যান্ড ক্রেতাদের কাছে ভুল বার্তা যাবে। এতে পোশাক রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, বর্তমানে রপ্তানি আদেশ কম। এ কারণে বাজারে সুতার চাহিদা তুলনামূলক কম থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় বাজারে এর দাম বাড়ছে। এতে বোঝা যায় একটি স্বার্থান্বেষী মহল দেশে মনোপলি ব্যবসা করার জন্য পোশাক রপ্তানিকারকদের জিম্মি করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের চেষ্টা চালাচ্ছে। বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান ও বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম চিঠিতে সই করেন।

অন্যদিকে সরকারের সিদ্ধান্তকে দেশীয় বস্ত্র ও স্পিনিং খাতের পুনরুজ্জীবন বলছে টেক্সটাইল মিল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএ। সংগঠনের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, দেশীয় বস্ত্রশিল্প বিশেষ করে স্পিনিং খাতের সুরক্ষা  ও বন্ড সুবিধার অপব্যবহার রোধে সরকারের এ সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী। এতে দেশীয় বস্ত্র ও স্পিনিং খাতের পুনরুজ্জীবন হবে। স্থানীয় সুতার চাহিদা বাড়বে, বন্ধ ও আংশিক বন্ধ মিলগুলো পুনরায় সচল হবে, বিপুল পরিমাণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং বিনিয়োগ পুনরুদ্ধারের সুযোগ বাড়বে। এ ছাড়া বন্ড সুবিধার অপব্যবহার কমবে।

বিটিএমএ মনে করে, আমদানি পর্যায়ে প্রযোজ্য শুল্ক-করের সমপরিমাণ ব্যাংক গ্যারান্টি সংশ্লিষ্ট সংগঠনের প্রত্যয়নপত্র দাখিল ও আমদানি করা কাঁচামালে উৎপাদিত পণ্য সম্পূর্ণরূপে রপ্তানির পর তা অবমুক্ত করার ব্যবস্থা রাখার ফলে আমদানি করা সুতা স্থানীয় বাজারে অবৈধভাবে বিক্রি কমবে। সুতা আমদানিতে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) কাতার থেকে উত্তরণের পর রপ্তানিতে স্থানীয় মূল্য সংযোজন বাড়ানোর যে শর্তের কথা বলা হচ্ছে, তা পরিপালনও সহজ হবে।

প্রসঙ্গত, সুতা কতটুকু চিকন বা মোটা, তার ওপর এর কাউন্ট নির্ধারণ হয়। ১০ কাউন্টের সুতা মোটা এবং ৩০ কাউন্টের সুতা তুলনামূলক চিকন। বিভিন্ন কাউন্টের সুতা থাকলেও বাংলাদেশের পোশাক খাতে ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের সুতার ব্যবহার বেশি।

জুলাইয়ে বাণিজ্য ঘাটতি ২০৯ কোটি ডলার

আমদানি বাড়লেও কমেছে রপ্তানি আয়। এতে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২০৯ কোটি ডলার।
গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই মাসের এ ঘাটতি ছিল ১৫১ কোটি ডলার। তবে রেমিট্যান্সে উচ্চ প্রবৃদ্ধির ফলে চলতি হিসাবে সাড়ে ছয় কোটি ডলার উদ্বৃত্ত রয়েছে। গত অর্থবছরের
একই সময়ে অবশ্য উদ্বৃত্ত ছিল সাড়ে ১২ কোটি ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের জুলাই ভিত্তিক বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্য প্রতিবেদনে এমন চিত্র উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে আমদানিতে খরচ হয়েছে ৬৪৪ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যা ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি। অথচ রপ্তানি এক দশমিক ৬০ শতাংশ কমে ৪৩৫ কোটি ডলারে নেমেছে। এতে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে। প্রথম মাসে রেমিট্যান্স প্রায় সাড়ে ১৫ শতাংশ বেড়ে ২৮৬ কোটি ডলার দেশে আসে। সব মিলিয়ে চলতি হিসাবে ছয় কোটি ৪০ লাখ ডলার উদ্বৃত্ত হয়েছে। আগের অর্থবছরের প্রথম মাসে উদ্বৃত্ত ছিল সাড়ে ১২ কোটি ডলার।

আর্থিক হিসাবে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৬৮ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের জুলাইতে যা ৮৮ কোটি ডলার ছিল। চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে বিদেশি ঋণ ও অনুদান কমেছে। সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ আগের বছরের জুলাইয়ের তুলনায় এক কোটি ডলার কমে ১১ কোটি ডলার এসেছে। সব মিলিয়ে সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্যে ৬৩ কোটি ডলার ঘাটতি দাঁড়িয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যেখানে ঘাটতি ছিল ৫৪ কোটি ডলার।

বাঁধনের ওপর হামলা ভিন্নমত দমনের নজির: মহিলা জামায়াত

ইতালির ভেনিসে আজমেরী হক বাঁধন ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপর ছাত্রলীগ পরিচয়ে হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগ। মঙ্গলবার বিবৃতিতে বলেছে, জুলাই অভ্যুত্থানে অভিনেত্রী বাঁধন ফ্যাসিবাদের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে রাজপথে নেমেছিলেন। এমন একজনের ওপর হামলা শুধু ব্যক্তি আক্রমণ নয়, বরং ভিন্নমত দমনের ভয়ংকর নজির।

মহিলা জামায়াতের প্রচার বিভাগীয় সেক্রেটারি নাজমুন নাহার এমপি বিবৃতিতে বলেছেন, বিদেশের মাটিতে গিয়ে একজন নারী শিল্পী ও তাঁর পরিবারের ওপর এ ধরনের সংঘবদ্ধ হামলা, গায়ে ডিম-পানি নিক্ষেপ এবং প্রকাশ্যে হেনস্তা কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। রাজনৈতিক মতপার্থক্য যত গভীরই হোক, তা কাউকে গায়ে হাত তোলার বা প্রকাশ্যে অপমান করার অধিকার দেয় না।

হামলাকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের জন্য ইতালীয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মহিলা জামায়াত। ইতালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসকে অবিলম্বে বাঁধন ও তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়াতেও আহ্বান জানিয়েছে।

অভিনেত্রী বাঁধন ও তাঁর পরিবারের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে নাজমুন নাহার বলেছেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, নারীর মর্যাদা ও নাগরিক নিরাপত্তার প্রশ্নে জামায়াতে ইসলামী সবসময় সোচ্চার থাকবে।

সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদে মন্ত্রী-হুইপ স্পিকারের উষ্মা

সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদে একাধিক হুইপকে রাখা এবং প্রতিমন্ত্রীকে কমিটির সদস্য পদ দেওয়া নিয়ে সংসদের বৈঠকেই উষ্মা প্রকাশ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, কমিটির সভাপতি হবেন বেসরকারি সদস্য এবং মন্ত্রী পদে যারা আছেন তারা সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্য থাকবেন। বিষয়টি নিয়ে ভবিষ্যতে সতর্ক থাকতে চিফ হুইপকে অনুরোধ জানান স্পিকার।
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি পাঁচটি সংসদীয় কমিটি গঠন ও দুটি পুনর্গঠন করেন। এরপর স্পিকার এই মন্তব্য করেন।

মন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপনকে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় সংসদের সরকারদলীয় চার হুইপকে চারটি সংসদীয় কমিটির সভাপতি করা হয়েছে।

এদের মধ্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সভাপতি করা হয়েছে হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুলকে; বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সভাপতি করা হয়েছে হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুকে; বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সভাপতি করা হয়েছে হুইপ আখতারুজ্জামান মিয়াকে এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের সভাপতি করা হয়েছে হুইপ জি কে গউছকে। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটির সদস্য পদ দেওয়া হয়েছে। রীতি অনুযায়ী মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা নিজ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য থাকেন, অন্যসব কমিটিতে তাদের সাধারণত রাখা হয় না।

চিফ হুইপের উদ্দেশে স্পিকার বলেন, কমিটি গঠনের স্পিরিট হলো কমিটির সভাপতি হবেন বেসরকারি সদস্য অর্থাৎ এমপিরা। কিন্তু লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সদস্য পদে প্রতিমন্ত্রী, হুইপ– এ ধরনের উচ্চপদস্থ এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধাভোগী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে কোনো বাধা নেই। কিন্তু সংসদের প্রথা হলো বেসরকারি সদস্যরাই সদস্য পদে থাকবেন এবং মন্ত্রীও একজন সদস্য থাকবেন।

পাঁচ সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন
গতকাল আরও পাঁচ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির প্রস্তাবে কমিটিগুলো কণ্ঠভোটে পাস হয়।
জাতীয় সংসদের ৫০টি সংসদীয় কমিটি রয়েছে। এর মধ্যে ৩৯টি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত এবং ১১টি বিষয়ভিত্তিক। এর মধ্যে ৪৫টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। যার মধ্যে ৩৬টি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। বাকি ৯টি বিষয়ভিত্তিক।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয়েছে নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহজাহানকে। তিনি বেসরকারি সদস্যদের বিল এবং বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত-প্রস্তাব সম্পর্কিত কমিটিরও সভাপতি। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয়েছে এ কে এম ফজলুল হক মিলনকে। রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয়েছে মোহাম্মদ আলী আসগার লবিকে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয়েছে হুইপ এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুকে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয়েছে এসএম রফিকুল ইসলামকে।

সীতাকুণ্ডে অস্ত্রের মহড়া দেওয়া তিনজন গ্রেপ্তার বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে মারামারি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি কেন্দ্র করে দলের দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সময় আগ্নেয়াস্ত্রের মহড়া দেওয়া তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা যায়নি।
গ্রেপ্তার তিনজন হলেন– মো. সাদেক আলী, কামরুল হাসান ও মো. হানিফ। গত সোমবার রাতে সাদেককে চট্টগ্রামের মিরসরাই, কামরুলকে চাঁদপুর এবং হানিফকে সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরের ছিন্নমূল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ বলছে, তাদের কাছ থেকে একটি দেশি একনলা কাটা বন্দুক, ১১টি ধারালো ছুরি, তিনটি কিরিচ, একটি দা ও ১৫টি লাঠি উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার দিন মো. সাদেক আলী ও সিরাজুল ইসলাম নামে দুই অস্ত্রধারীর ছবি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ছাপা হয়। এর মধ্যে সাদেক গ্রেপ্তার হলেও সিরাজুল এখনও গ্রেপ্তার হননি। এ ছাড়া ঘটনার দিনের ছবি বিশ্লেষণ করে কামরুল হাসান এবং মো. হানিফের কাছেও অস্ত্র ছিল বলে নিশ্চিত হয় পুলিশ। এ ছাড়া ঘটনার দিন হানিফ একটি ব্যাগ বহন করছিলেন। ওই ব্যাগেও অস্ত্র ছিল বলে সন্দেহ করছে পুলিশ।

পুলিশ বলছে, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে কামরুলের কাছে শুটারগান এবং হানিফের কাছে পিস্তল ছিল। গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিরা তাদের অস্ত্রগুলো হাত বদল করেছেন। সাদেকের কাছ থেকে একনলা বন্দুক উদ্ধার করা হলেও সেটি ভাইরাল হওয়া ছবিতে থাকা অস্ত্র নয়। সাদেক ও কামরুলকে নিয়ে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার দিন ব্যবহৃত অস্ত্রগুলো উদ্ধার করার চেষ্টা করছেন তারা। আশা করছেন, খুব শিগগিরই উদ্ধার হবে। গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুদিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত।

অস্ত্রধারীদের হাতে যে অস্ত্র ছিল, সেগুলো উদ্ধার করা যায়নি বলে জানিয়েছেন সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা অবৈধ অস্ত্রের প্রদর্শন কোনোভাবেই বরদাশত করবে না। অপরাধী যে দলের, যে গ্রুপের বা যে রাজনৈতিক পরিচয়ই ব্যবহার করুক না কেন–কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। ঘটনায় জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হবে।

পুলিশ সুপার বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। ঘটনায় জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

অতি গরম চা-কফিতে বাড়ে ক্যান্সারের ঝুঁকি

সকালের এক কাপ গরম চা কিংবা ধোঁয়া ওঠা কফি—দিন শুরুর সঙ্গে অনেকেরই জড়িয়ে আছে এই অভ্যাস। কেউ আবার কাপ হাতে নিয়েই চুমুক দেন, পানীয়টি একটু ঠান্ডা হওয়ার অপেক্ষাও করেন না। কিন্তু খুব গরম অবস্থায় নিয়মিত চা-কফি পান করার এই অভ্যাসই ডেকে আনতে পারে স্বাস্থ্যঝুঁকি। গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত গরম পানীয় নিয়মিত পান করলে খাদ্যনালীর ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

কতটা গরম পানীয় ঝুঁকিপূর্ণ

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাটি ‘ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব ক্যান্সার’-এ প্রকাশিত হয়েছে। এতে ৬৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি তাপমাত্রার পানীয়কে ‘খুব গরম’ হিসেবে ধরা হয়েছে। ৯ লাখ ৭৭ হাজার ২৮২ জন মধ্যবয়সী নারী ও পুরুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা দেখেছেন, দিনে ছয়বার বা তার বেশি গরম পানীয় পান করার অভ্যাসের সঙ্গেও এই ঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে।

খাদ্যনালীর ক্ষতি হয় যেভাবে

অত্যন্ত গরম তরল পাকস্থলীতে যাওয়ার সময় খাদ্যনালীর ভেতরের কোষের আস্তরণে ক্ষতি করতে পারে। নিয়মিত এ ধরনের তাপের সংস্পর্শে আসা কোষের ক্ষতি ও প্রদাহের সঙ্গে খাদ্যনালীর ক্যান্সারের ঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে। চা বা কফিতে দুধ মেশালে পানীয় কিছুটা ঠান্ডা হয়। তবে দুধ-চা বা দুধ-কফিও অতিরিক্ত গরম অবস্থায় থাকলে একই ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে।

কতক্ষণ অপেক্ষা করবেন

কেটলিতে পানি পুরোপুরি ফুটে যাওয়ার পর তৈরি করা চায়ের তাপমাত্রা প্রায় ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে। কাপে ঢালার পরও এর তাপমাত্রা প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকতে পারে। তাই পান করার আগে কয়েক মিনিট অপেক্ষা করে পানীয়কে আরামদায়ক তাপমাত্রায় নামিয়ে আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ক্যান্সার রিসার্চ ইউকে বলছে, পানীয় ঠান্ডা হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কত মিনিট অপেক্ষা করতে হবে, তা বলা কঠিন। তবে সংস্থাটির পরামর্শ হলো, খুব গরম অবস্থায় পানীয় না খেয়ে আরামদায়ক তাপমাত্রায় আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করা।

গবেষকের বক্তব্য

প্রধান গবেষক ড. কেরেন পাপিয়ের জানান, দক্ষিণ আমেরিকায় ‘মাটে’ নামের অত্যন্ত গরম ভেষজ পানীয় পানকারীদের মধ্যেও গরম পানীয় ও খাদ্যনালীর ক্যান্সারের মধ্যে একই ধরনের সম্পর্ক আগে দেখা গেছে। তবে পানীয়ের ঠিক কোন তাপমাত্রা থেকে ঝুঁকি বাড়তে শুরু করে, তা নির্দিষ্ট করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। অন্য একটি গবেষণায় ১১৮ জন তরুণ-তরুণীকে বিভিন্ন তাপমাত্রার ব্ল্যাক কফি পান করানো হয়। এতে দেখা যায়, তাপমাত্রা ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি হলে অধিকাংশ অংশগ্রহণকারী কফিকে অতিরিক্ত গরম মনে করেন।

কফির আদর্শ তাপমাত্রা

এমটিপ্যাক কফির তথ্য অনুযায়ী, বাইরে নিয়ে গিয়ে পান করার জন্য গরম কফির আদর্শ তাপমাত্রা ৪৯ থেকে ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। তবে কেউ যদি কফি দীর্ঘ সময় গরম রাখতে চান বা ‘অতিরিক্ত গরম’ কফি চান, সেক্ষেত্রে ৮২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রায়ও কফি পরিবেশন করা হয়।

সামগ্রিক ঝুঁকি কতটা

গবেষকদের মতে, খুব গরম পানীয় পান করা বন্ধ করলে প্রতি ১০টি খাদ্যনালীর ক্যান্সারের মধ্যে একটি বা দুটি প্রতিরোধ করা সম্ভব হতে পারে। তবে স্কোয়ামাস সেল ইসোফেজিয়াল ক্যান্সার তুলনামূলকভাবে বিরল। যুক্তরাজ্যে একজন মানুষের জীবদ্দশায় এ ধরনের ক্যান্সার শনাক্ত হওয়ার ঝুঁকি প্রায় ১ শতাংশ। তাই অত্যন্ত গরম পানীয় পান করলে ঝুঁকি বাড়লেও ব্যক্তিগতভাবে এই ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। ধূমপান ও অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ খাদ্যনালীর ক্যান্সারের আরও বড় ঝুঁকির কারণ। ক্যান্সার রিসার্চ ইউকের ফিওনা ওসগুন বলেন, এই ক্যান্সারের ঝুঁকি কমানোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো ধূমপান না করা এবং অ্যালকোহল গ্রহণ কমিয়ে আনা।

যে লক্ষণগুলো খেয়াল করবেন

খাদ্যনালীর ক্যান্সারের লক্ষণের মধ্যে বুক জ্বালাপোড়া, বদহজম, গলা বা বুকে ব্যথা এবং অকারণে ওজন কমে যাওয়া রয়েছে। এসব লক্ষণ দীর্ঘদিন থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

চা-কফির কাপ ছেড়ে দেওয়ার কথা নয়—শুধু অতিরিক্ত গরম অবস্থায় পান করার অভ্যাসটি বদলানোই গুরুত্বপূর্ণ। কয়েক মিনিটের অপেক্ষা হয়তো খুব ছোট একটি পরিবর্তন, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের জন্য সেটিই হতে পারে সচেতনতার সহজ একটি পদক্ষেপ।

স্বামী-স্ত্রী ও নবজাতকের লাশ বাসায় ডেকে আনা ব্যক্তিই কেড়ে নেন তিন প্রাণ: পিবিআই

ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় আলোচিত স্বামী-স্ত্রী ও নবজাতকের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে পরকীয়া সংক্রান্ত বিরোধের তথ্য পাওয়ার কথা বলছে সংস্থাটি। হত্যাকাণ্ডের দিন নিহত আলমগীর কবিরই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বাসায় ডেকে এনেছিলেন বলে জানা গেছে। পরে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির একপর্যায়ে আলমগীর ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী নাজমা খাতুনকে হত্যা করেন ওই ব্যক্তি। একই সঙ্গে সদ্য ভূমিষ্ট শিশুরও মৃত্যু হয়।

সম্পূর্ণ ক্লুলেস হিসেবে শুরু হওয়া এ ঘটনায় পিবিআই তদন্তের মাধ্যমে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ সময় হত্যাকাণ্ডের আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার ঢাকা জেলা পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমান বাপ্পী গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ঘটনার পরপরই পিবিআই তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম ও পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হচ্ছে না। হত্যাকাণ্ডের আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্ত শেষে হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ ও বিস্তারিত তথ্য সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানানো হবে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নাজমা খাতুনের সঙ্গে এক ব্যক্তির পরকীয়ার সম্পর্ককে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত। গত ১ সেপ্টেম্বর কারখানা ছুটির পর পোশাককর্মী নাজমা খাতুন ও তার স্বামী পান সিগারেট বিক্রেতা আলমগীর কবির বাসায় ফেরেন।

ধারণা করা হচ্ছে, আলমগীর কবির ওই ব্যক্তিকে বাসায় ডেকে আনেন। তাকে মারধর ও সতর্ক করার উদ্দেশ্যেই ডেকে আনা হয়েছিল বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে। পরে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতির একপর্যায়ে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। একপর্যায়ে আলমগীর ও সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা নাজমাকে হত্যা করা হয়। এ সময় নাজমার প্রসব হয়ে যায় এবং নবজাতকটিও মারা যায়। পরে অভিযুক্ত ব্যক্তি মরদেহ তিনটি রেখে বাইরে থেকে ঘরে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে যান বলে ধারণা করছে তদন্তকারী সংস্থা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, আশুলিয়ার জামগড়ার চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের প্রাথমিক অনুসন্ধানে পরকীয়া সংক্রান্ত বিরোধের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। নিহত আলমগীর কবিরই ওই ব্যক্তিকে বাসায় ডেকে এনেছিলেন বলে জানা গেছে।

নাজমা স্থানীয় প্রীতি গ্রুপের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন এবং আলমগীর পান সিগারেট বিক্রি করতেন। গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে আশুলিয়ার জামগড়ার হযরত আলীর বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়রা ৯৯৯-এ ফোন দেন। পরে পুলিশ গিয়ে কক্ষের তালা ভেঙে ভেতর থেকে মরদেহ তিনটি উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় নিহত নাজমার বোন শাপলা বেগম বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে পিবিআই ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে পিবিআই জিজ্ঞাবাদ করছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আর কেউ জড়িত রয়েছে কিনা তা জানার চেষ্টা করছে পিবিআইয়ের ওই তদন্তকারী দল।

মা-নবজাতকের জন্য সেবা হাব গড়ার প্রস্তাব সমকাল-জননী গোলটেবিল বৈঠক

কয়েকটি ইউনিয়ন নিয়ে সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা হাব প্রতিষ্ঠা, ২৪ ঘণ্টা প্রাথমিক ও জরুরি সেবা নিশ্চিত করা, কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা চালু করে মা ও নবজাতক স্বাস্থ্যসেবার গুণগতমান অর্জন ও টেকসই করা সম্ভব।

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সমকাল সভাকক্ষে গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ‘মা ও নবজাতক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা: গুণগতমান ও টেকসই উন্নয়নে করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, সরকারি কর্মকর্তা ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা এ সুপারিশ করেন।

আলোচনায় বক্তারা সরকারি সেবা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংস্কার, কৌশলগত ক্রয়ে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে ২৪ ঘণ্টা রোগী পরিবহন সেবা চালুর পরামর্শ দেন। এসবের পাশাপাশি দক্ষ জনবল নিয়োগ ও ধরে রাখা, জরুরি সেবায় সমন্বিত যোগাযোগ ও কমান্ড ব্যবস্থা, নিয়মিত পরিবীক্ষণ ও জবাবদিহির ওপর জোর দেন।

সমকাল ও জননী প্রকল্প যৌথভাবে এ বৈঠকের আয়োজন করেছে। কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (কোইকা) অর্থায়ন, সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশের কারিগরি সহায়তা এবং আরডিআরএস বাংলাদেশের মাধ্যমে রংপুর ও লালমনিরহাটে জননী প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জননী প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ডা. উজ্জ্বল কুমার রায়। আলোচনায় অংশ নেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. মো. নুরুল ইসলাম, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও সমন্বিত থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিচালক ডা. সৈয়দ কামরুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা ও গবেষণা) ডা. শাহনেয়াজ দেওয়ান, সেভ দ্য চিলড্রেনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. গোলাম মোদাব্বীর, আইসিডিডিআর,বির জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ডা. শামস আল আরেফিন, ইউনিসেফের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপক ডা. এমদাদুল হক, ইউএনএফপিএর এসআরএইচআর কর্মসূচি বিশেষজ্ঞ আবু সাইদ মোহাম্মদ হাসান, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও জেপাইগো বাংলাদেশ এমসিজিএল প্রকল্পের সিওপি ডা. ইখতিয়ার উদ্দিন খন্দকার, আরডিআরএস বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইমরুল কায়েস মুনিরুজ্জামান, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রোগ্রাম মনিটরিং, আইইএম ইউনিট) ইসরাত জাবীন, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সাবিনা আশরাফী লিপি, রংপুরের পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের পরিচালক বিকাশ কুমার দাস, রংপুরের কান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ আজাদ জুয়েল, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক ও প্রধান মো. সাইফুল ইসলাম এবং লালমনিরহাটের পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাহজালাল।

আলোচনায় অংশ নিয়ে জননী প্রকল্প পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন চলচ্চিত্র অভিনেত্রী মাসুমা রহমান নাবিলা। উপস্থিত ছিলেন জননী প্রকল্পের উপদেষ্টা নারে কিম ও তদারকি ও মূল্যায়ন পরিচালক সেই অয়ন কিম। বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন সমকাল সম্পাদক শাহেদ মুহাম্মদ আলী।

আলোচকরা বলেন, জননী প্রকল্পের উদ্ভাবনী অভিজ্ঞতা সরকারি নীতিমালায় যুক্ত করা গেলে প্রান্তিক সেবার মান আরও বাড়বে। জননী প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও সেবার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে শুরু থেকেই সরকারি মালিকানা প্রতিষ্ঠা এবং প্রকল্পের সফল মডেলগুলো জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় যুক্ত করার সুপারিশ করেন তারা।

মূল প্রবন্ধে ডা. উজ্জ্বল কুমার রায় বলেন, রংপুর বিভাগের দুর্গম এলাকা ও চরাঞ্চলের মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি চিহ্নিত করে তা দূর করাই জননী প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। বর্তমানে রংপুর ও লালমনিরহাটের ১৩টি উপজেলার ৪০টি ইউনিয়নে প্রথম পর্যায়ের কাজ চলছে। এ প্রকল্পের আওতায় ১৯ হাজারের বেশি স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে।

প্রকল্পটি ‘চার বিলম্ব মডেল’-এর ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এগুলো হলো– একজন প্রসূতির স্বাস্থ্যসেবা নিতে দেরি করা, সেবা নেওয়ার জায়গায় পৌঁছানোর সমস্যা, সময়মতো মানসম্মত চিকিৎসার অভাব এবং জবাবদিহিতার অভাব। এই চারটি স্তর একসঙ্গে মোকাবিলা করে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই জননী প্রকল্পের কাজ।

রংপুরের পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের পরিচালক বিকাশ কুমার দাস বলেন, মাঠ পর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের প্রায় ৩০ শতাংশ পদ শূন্য থাকায় কার্যকর তদারকি করতে সমস্যা হচ্ছে। তিনি প্রতিটি উপজেলায় অন্তত একটি আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন ও কনসালট্যান্টের সহায়তা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন।

ডা. আ. ন. ম. মোস্তফা কামাল মজুমদার বলেন, সারাদেশে তিন হাজার ২৯০টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র রয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে মাত্র একজন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা দিয়ে ২৪ ঘণ্টা সেবা চালানো বাস্তবে সম্ভব নয়। তিনি জানান, প্রতিটি কেন্দ্রে চারজন করে মিডওয়াইফ পদায়নের জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

ডা. মো. নুরুল ইসলাম বলেন, সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে আঞ্চলিক চাহিদা অনুযায়ী ‘স্ট্র্যাটেজিক পারচেজিং’ বা কৌশলগত ক্রয় পরিকল্পনা জরুরি। প্রান্তিক পর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করা এবং কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে অনাকাঙ্ক্ষিত সিজারিয়ান কমানো সম্ভব।

ডা. সাবিনা আশরাফী লিপি বলেন, ২০২৫-২০২৯ মেয়াদের নতুন প্রকল্পের আওতায় প্রসূতি ও নবজাতকের পুষ্টি নিশ্চিত করতে আয়রন বড়ির পাশাপাশি ‘মাল্টিপল মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট সাপ্লিমেন্ট’ চালু করা হবে। একই সঙ্গে লেবার রুম সংস্কার ও ফ্যাসিলিটি রেডিনেসের কাজও হাতে নেওয়া হয়েছে।

ডা. শামস আল আরেফিন বলেন, মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবায় পরিবর্তন আনতে জননী প্রকল্পের উদ্ভাবনী উদ্যোগগুলো কীভাবে অন্য এলাকায়ও সম্প্রসারণ করা যায়, সে বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে কী কী সীমাবদ্ধতা আছে, সেগুলোও চিহ্নিত করতে হবে। প্রকল্পের উদ্যোগগুলো সম্প্রসারণে সরকারের সঙ্গে একটি কার্যকর সম্পর্ক তৈরি করা জরুরি। কারণ সরকারেরও নানা সীমাবদ্ধতা আছে; সবকিছু চাইলেই পাওয়া যায় না।

চলচ্চিত্র অভিনেত্রী মাসুমা রহমান নাবিলা রংপুরের প্রত্যন্ত এলাকার স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, কেন্দ্রগুলোর দেয়ালে গর্ভকালীন ও প্রসবোত্তর সেবা সম্পর্কে সহজ ভাষায় তথ্য দেওয়ায় মায়েরা উপকৃত হচ্ছেন। ‘জননী বন্ধু’ ও স্বজনদের উৎসাহে প্রসূতিরা বাড়িতে প্রসবের বদলে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসছেন এবং বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় সাপ্লিমেন্ট পাচ্ছেন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও জেপাইগো বাংলাদেশ সিওপি-এমসিজিএল প্রকল্পের ডা. ইখতিয়ার উদ্দিন খন্দকার বলেন, সরকারি স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে দক্ষ জনবলের বিকল্প নেই। উন্নয়ন সহযোগীরা সরাসরি জনবল না দিলেও প্রশিক্ষণ ও মেন্টরশিপের মাধ্যমে বিদ্যমান কর্মীদের সক্ষমতা বাড়াতে পারে। তিনি বলেন, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাতৃত্বকালীন ভাতা শুধু প্রথম গর্ভকালীন সেবা বা এএনসি-১-এর সঙ্গে যুক্ত না রেখে চতুর্থ এএনসি বা এএনসি-৪-এর সঙ্গেও যুক্ত করা দরকার।

জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) এসআরএইচআর কর্মসূচি বিশেষজ্ঞ আবু সাইদ মোহাম্মদ হাসান বলেন, দুর্গম এলাকায় সেবা নিশ্চিত করতে চারটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। শূন্য পদ দ্রুত পূরণ ও নতুন জনবল নিয়োগ, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, রেড-ইয়েলো-গ্রিন জোনভিত্তিক কার্যকর রেফারেল ও পরিবহনব্যবস্থা এবং মাতৃমৃত্যু নিরীক্ষার মাধ্যমে সেবার মান ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. সৈয়দ কামরুল ইসলাম বলেন, রেফারেল ব্যবস্থার জটিলতার কারণে তৃতীয় স্তরের হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে প্রতিটি ইউনিয়নে একটি ‘হাব ফ্যাসিলিটি’ এবং আশপাশের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে ‘স্পোক’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তিনি জননী প্রকল্পে স্ট্র্যাটেজিক পারচেজিংয়ের মাধ্যমে অফিস সময়ের পরও গাইনি বিশেষজ্ঞ ও অ্যানেস্থেসিস্টদের সমন্বিত সেবা দেওয়ার উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

আরডিআরএস বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইমরুল কায়েস মুনিরুজ্জামান বলেন, সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের জন্য ভালো ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। ‘বন্ধু সেবা নেটওয়ার্ক’কে টেকসই করতে স্বেচ্ছাসেবীদের সামাজিক স্বীকৃতি এবং পারিবারিক সহায়তা নিশ্চিত করা দরকার। রেফারেলের পর রোগীর পরবর্তী অবস্থা সম্পর্কে মাঠকর্মীর কাছে তথ্য পৌঁছানোর ব্যবস্থা চালু করার পরামর্শ দেন তিনি।
ডা. গোলাম মুত্তাব্বির বলেন, স্বাস্থ্য খাতে শুধু জনবল নিয়োগ করলেই হবে না; তাদের পদায়ন, স্থায়ীকরণ এবং নীতিগত সংস্কারেও গুরুত্ব দিতে হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়ার আইনি জটিলতা কমানোর পাশাপাশি শহর ও প্রান্তিক এলাকার জনবল বৈষম্য দূর করতে হবে।

ইউনিসেফের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপক ডা. এমদাদুল হক বলেন, নবজাতকের মৃত্যু কমাতে হলে সবার আগে মাতৃস্বাস্থ্যে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। ২০০৩ সাল থেকে হাসপাতালগুলোতে সমন্বিত জরুরি প্রসূতি সেবা চালুর পরিকল্পনা থাকলেও তা এখনও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। নিরবচ্ছিন্ন জরুরি প্রসূতি সেবা নিশ্চিত করতে প্রতিটি হাসপাতালে অন্তত ছয়জন গাইনি বিশেষজ্ঞ ও চারজন অ্যানেস্থেসিস্ট প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সরকারের ভরসা ব্যয়বহুল তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

গ্যাস ও কয়লার সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় ব্যয়বহুল ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্রের ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে সরকার। স্বল্প মেয়াদে লোডশেডিং কমাতে দ্রুত উৎপাদনে আনা সম্ভব এমন কেন্দ্রগুলো থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চলতি মাসে তেলচালিত কেন্দ্র থেকে গড়ে দৈনিক প্রায় ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। এ লক্ষ্যে ৫৩ কেন্দ্রের জন্য এক মাসে ২ লাখ ৪ হাজার ১০০ টন ফার্নেস অয়েল চেয়েছে সংস্থাটি। ৫৩ কেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৫ হাজার ৫৩৮ মেগাওয়াট। চাহিদার বিপরীতে চলতি মাসে ১ লাখ ৩৬ হাজার টন ফার্নেস অয়েল সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। তবে এই পরিমাণও একবারে পাওয়া যাবে না; ধাপে ধাপে সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।

৬ হাজার কোটি টাকার জোগান
জ্বালানি সংকটের মধ্যে তেলচালিত কেন্দ্রগুলো চালাতে অর্থের সংস্থানও করেছে সরকার। ফার্নেস অয়েল কেনার জন্য গত সপ্তাহে পিডিবিকে ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে অর্থ বিভাগ। বিদ্যুৎ বিভাগ ও বাংলাদেশ প্রাইভেট পাওয়ার প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশন (বিপ্পা) সূত্রে জানা গেছে, এর মধ্যে বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ৪ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। বাকি ১ হাজার ৩০১ কোটি টাকা জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য রাখা হয়েছে।

এর মধ্যে সামিট গ্রুপের চারটি তেলভিত্তিক কেন্দ্রের জন্য ৫৩৩ কোটি এবং ইউনাইটেড পাওয়ারের চারটি কেন্দ্রের জন্য ৪৩৩ কোটি টাকা রয়েছে। এ ছাড়া ডোরিন গ্রুপ ৩৩৩ কোটি, অ্যাকর্ন গ্রুপ ২২৩ কোটি, ওরিয়ন ২২৩ কোটি, লংকা গ্রুপ ১২৩ কোটি, বারাকা পাওয়ার ২৩৩ কোটি, ইপিভি ঠাকুরগাঁও ও চট্টগ্রাম ১৯৬ কোটি, ইনডেক্স গ্রুপ ১০০ কোটি, আরপিসিএল ২০০ কোটি, বিআর পাওয়ারজেন ৪৫০ কোটি, আনলিমা এনার্জি ২২০ কোটি, মধুমতি বিদ্যুৎকেন্দ্র ৫০ কোটি, হোসাফ গ্রুপ ২০০ কোটি, দেশ এনার্জি ২২০ কোটি এবং মিডল্যান্ড গ্রুপ ২৪০ কোটি টাকা পেয়েছে।
সরকারি কেন্দ্রগুলোর তালিকাভুক্ত বরাদ্দের পরিমাণ ৫৯৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে তিতাসের ৫০ মেগাওয়াট কেন্দ্র পেয়েছে ৫৪ কোটি টাকা। বাঘাবাড়ী ৫৯ কোটি, দোহাজারী ৬৪ কোটি, হাটহাজারী পিকিং প্লান্ট ১০১ কোটি, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১০০ মেগাওয়াট কেন্দ্র ১২৬ কোটি, কাটাখালীর ৫০ মেগাওয়াট কেন্দ্র ৪৩ কোটি, সান্তাহারের ৫০ মেগাওয়াট কেন্দ্র ৩২ কোটি, ফরিদপুরের ৫০ মেগাওয়াট কেন্দ্র ৩৮ কোটি এবং গোপালগঞ্জের ১০০ মেগাওয়াট কেন্দ্র ৮২ কোটি টাকা পেয়েছে।

আসছে বেসরকারি কেন্দ্রের তেল
পিডিবির কাছ থেকে অর্থ পাওয়ার পর কয়েকটি বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ফার্নেস অয়েল আমদানি করছে। এরই মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ঋণপত্র খুলেছে। তবে এসব চালান দেশে পৌঁছাতে ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগতে পারে। ফলে তাৎক্ষণিক তেল সরবরাহ বাড়ানোর ক্ষেত্রে এসব চালান খুব বেশি কাজে আসবে না।

মজুতও কম
৫ সেপ্টেম্বর দিন শেষে সরবরাহযোগ্য ফার্নেস অয়েলের মজুত ছিল মাত্র ১৪ হাজার ৭৫১ টন। মাসের বাকি সময়ে আরও ১ লাখ টন আমদানি এবং স্থানীয় উৎস থেকে ২৫ হাজার টন পাওয়ার কথা রয়েছে। বিপরীতে পিডিবির চাহিদা ২ লাখ ৪ হাজার ১০০ টন। ফলে চাহিদা পুরোপুরি মেটাতে আরও ৬৫ থেকে ৭০ হাজার টন ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।
সেপ্টেম্বরের প্রথম পাঁচ দিনে সব খাত মিলিয়ে বিপিসি ৩১ হাজার ৯০২ টন ফার্নেস অয়েল বিক্রি করেছে। দৈনিক গড় বিক্রি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ হাজার ৩৮০ টনে। ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রের চাহিদার পাশাপাশি শিল্প খাতের সরবরাহও অব্যাহত রাখতে হচ্ছে বিপিসিকে।

বিপিসিরও আমদানি ও খালাস সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যমান অবকাঠামো দিয়ে মাসে সর্বোচ্চ প্রায় ১ লাখ টন ফার্নেস অয়েল আমদানি সম্ভব। এর বেশি আমদানিতে অতিরিক্ত অবকাঠামোগত সক্ষমতা প্রয়োজন। ফলে হঠাৎ চাহিদা বেড়ে গেলে দ্রুত আমদানি বাড়ানো কঠিন হয়ে পড়ে।

বন্ধ পাঁচ কেন্দ্রও চালুর উদ্যোগ
তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলায় আগে বন্ধ হয়ে যাওয়া পাঁচটি তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রও চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব কেন্দ্রকে ‘বিদ্যুৎ নেই, টাকা নেই’ ভিত্তিতে চালানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। অর্থাৎ কেন্দ্রগুলো বিদ্যুৎ উৎপাদন করে সরবরাহ করতে পারলেই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে অর্থ পরিশোধ করা হবে।

বাড়ছে সরকারের আর্থিক চাপ
গ্যাস ও কয়লার চেয়ে ফার্নেস অয়েল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ বেশি। ফলে ঘাটতি সামাল দিতে তেলভিত্তিক কেন্দ্রের ওপর নির্ভরতা বাড়লে পিডিবির বিদ্যুৎ কেনার খরচও বাড়বে। এর প্রভাব পড়বে সরকারের ভর্তুকির ওপর।

এরই মধ্যে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কাছে সরকারের বকেয়া জমেছে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। বকেয়া পরিশোধ না হওয়ায় অনেক কেন্দ্র নিজস্ব অর্থে জ্বালানি কিনে উৎপাদন চালিয়ে যেতে হিমশিম খাচ্ছে। ফলে বকেয়া পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট ঘাটতি
জ্বালানি সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় সারাদেশে বেড়েছে লোডশেডিং। গতকাল মঙ্গলবার দিনভর জাতীয় গ্রিডে চাহিদার চেয়ে সরবরাহ ঘাটতি ছিল ১ হাজার ৭৭৩ থেকে ২ হাজার ৮৪৪ মেগাওয়াট। সবচেয়ে বেশি ঘাটতি হয়েছে বেলা ৩টায়। ওই সময় ১৬ হাজার ১৮ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করা হয় ১৩ হাজার ১৭৪ মেগাওয়াট।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দেশে মোট ২ হাজার ৩২৯ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হয়েছে। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাস ১ হাজার ৬২০ এবং এলএনজি ৭০৯ মিলিয়ন ঘনফুট। এই সরবরাহ দিয়ে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর চাহিদা পূরণ করা যায়নি।

বিকেল ৪টার দিকে গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে ৪ হাজার ৫২৮ মেগাওয়াট। ওই সময় ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্র থেকে ১ হাজার ৮৬১ মেগাওয়াট এবং কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র থেকে ৪ হাজার ৭২৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। ভারত থেকে এসেছে ২ হাজার ১৫১ মেগাওয়াট। এর মধ্যে আদানির কেন্দ্র থেকে সরবরাহ ছিল ১ হাজার ২২০ মেগাওয়াট।