Home Blog

কোন আকৃতির ইলিশ বেশি স্বাদের হয়

অনন্য স্বাদ ও গন্ধের কারণে ইলিশের আলাদা ক্যাতি রয়েছে । ভাজি, ঝোল, সিদ্ধ- সব রকমভাবেই এ মাছটি খেতে ভালো লাগে। তবে সাগরের লোনাপানির চেয়ে মিঠাপানির ইলিশ বেশি সুস্বাদু। অনেক সময় বেশি টাকা দিয়ে বাজার থেকে বড় ইলিশ আনার পর মাছের স্বাদ বা গন্ধ পাওয়া যায় না। তখন হতাশ হতে হয়। শুধুমাত্র‘পদ্মার ইলিশ’ কিংবা বেশি দাম কিনলেই ইলিশের স্বাদ ভালো হবে- এমন কোনো কথা নেই। বরং ইলিশ কেনার গোপন কৌশল লুকিয়ে রয়েছে মাছটির ওজন এবং শারীরিক গড়নে।

গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত ছোট কিংবা অতিমাত্রায় বিশাল আকৃতির ইলিশ কখনওই স্বাদের বিচারে সেরা হয় না। বরং ভালো স্বাদে-গন্ধের ইলিশ চাইলে ১ কেজি থেকে দেড় কেজি ওজনের ইলিশ কেনাই সবচেয়ে আদর্শ। গবেষকদের মতে, এই আকৃতির মাছের শরীরে প্রাকৃতিক চর্বি ও তেলের ভারসাম্য একদম নিখুঁত থাকে। রান্নার সময় এই চর্বি গলেই মাছটা অত্যন্ত তুলতুলে, নরম ও সুস্বাদু করে তোলে। অন্যদিকে আড়াই-তিন কেজি বা তারও বেশি ওজনের বড় ইলিশে অনেক সময় আঁশটে বা অতিরিক্ত শক্ত হয়ে পড়ে, এর ফলে ইলিশের আসল স্বাদ অনেকটাই নষ্ট হয়ে যায়।

হরমুজে ইরান, বাব আল-মান্দেবে হুতি যুদ্ধের জের দুই প্রণালিতে, উদ্বেগ বাড়ছে বিশ্বে

একদিকে হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ ও হামলা, অন্যদিকে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ প্রণালি বাব আল-মান্দেব হুতি গোষ্ঠীর দখলে থাকাকে ঘিরে বিশ্বে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের কী হবে– তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও আরেকটি মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে হুতিদের উত্থান। বিশ্লেষকরা বলছেন, অনুমিত সবচেয়ে প্রতিকূল পরিস্থিতির দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে গোটা বিষয়টি।

বার্তা সংস্থা এএফপির খবর বলছে, ইয়েমেনে ইরানসমর্থিত হুতি গোষ্ঠী ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে লড়াইয়ের কারণে প্রায় এক হাজার ৪০০ মানুষ পালিয়ে জিবুতিতে আশ্রয় নিয়েছে বলে জানা গেছে। দেশটির অর্থমন্ত্রী গত শনিবার এই তথ্য জানান।

হুতি যোদ্ধারা বর্তমানে উত্তর ইয়েমেনের বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। তাদের এই নিয়ন্ত্রণাধীন অংশের মধ্যে রয়েছে রাজধানী সানা ও পশ্চিমের হোদেইদা। উপকূলীয় এলাকাও মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে দখলে নিয়েছে তারা। গত বৃহস্পতিবার বন্দর শহর মোখা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে গোষ্ঠীটি।

রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, হুতিরা যদি বাব আল-মান্দেব বন্ধ করে দেয়, তাহলে আরেকটি অর্থনৈতিক সংকট দেখা দেবে এবং বৈশ্বিক পেট্রোলিয়াম সরবরাহের আরও ৭ শতাংশ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের আরও ১২ শতাংশ চাপের মুখে পড়বে।

এএফপির খবরে আরও বলা হচ্ছে, লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকা ও দ্বীপগুলো তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ছাড়া গত শুক্রবার বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ জোরালো হয়েছে হুতিদের। বাব আল-মান্দেব প্রণালির অবস্থান অ্যাডেন উপসাগর থেকে লোহিত সাগরে প্রবেশের মুখে।

ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশনের সমন্বয়ক সাফিয়া ইব্রাহিম বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, নারী ও শিশুরা ওবুক উপকূলে গিয়ে পৌঁছেছেন। আগামী দিনগুলোতে আরও মানুষের সেখানে যাওয়ার কথা রয়েছে। জাতিসংঘের দেওয়া তথ্যানুসারে, অন্তত ৭৬ হাজার ব্যক্তি গত জুলাইয়ের পর ইয়েমেনে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। সর্বশেষ হামলার পর এই সংখ্যা চার গুণ হয়েছে।

গত সপ্তাহে হুতি যোদ্ধারা সৌদি আরবসমর্থিত সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে নতুন অভিযান শুরু করে। তারা সেই সময় বাব আল-মান্দেব প্রণালি-সংলগ্ন সীমান্ত এলাকাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়।

ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে রাখার পরিপ্রেক্ষিতে বাব আল-মান্দেব নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের এবং বিশেষ করে সৌদি আরবের তেল রপ্তানির জন্য ওই অঞ্চলটি গুরুত্বপূর্ণ।

বিপাকে যুক্তরাষ্ট্র
এদিকে এসব ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদন রেটিং অনেক কমে এসেছে। মূলত জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়া ও ইরান যুদ্ধের জেরেই ওই ঘটনা ঘটেছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইরান যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার রাস্তাও খুঁজছে।

এ রকম একটি সময়ে হুতি গোষ্ঠীর বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দেওয়া ও বিশ্ব বাণিজ্যে প্রভাব ফেলার বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য। তবে তারা সৌদি আরবের সঙ্গে লড়াইয়েও যোগ দিতে পারছে না। কারণ, মার্কিন সামরিক বাহিনী এরই মধ্যে ইরানের সঙ্গে লড়াইয়ে ব্যস্ত। ওই অঞ্চলে কৌশলগত অবস্থান ধরে রেখেছে তারা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, সৌদি আরবের ডি ফ্যাক্টো ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্পকে ফোন করে হুতিদের দমনে সহযোগিতা চেয়েছিলেন। তবে ওয়াশিংটন সরাসরি হস্তক্ষেপ না করার কথা জানিয়েছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে চেয়েছে। তিন সূত্রের বরাতে উঠে এসেছে বিষয়টি।

ইরান পরিস্থিতি
এদিকে, ওমানে উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে আজ সোমবার বসার কথা রয়েছে ইরানের। সেখানে হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনা ও আঞ্চলিক সুরক্ষা নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।

কেশম দ্বীপের কাছে ইরানের একটি বাণিজ্যিক জাহাজ আক্রমণের শিকার হয়েছে। এতে এক ব্যক্তি নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কর্মকর্তারা মার্কিন সন্ত্রাসী শত্রুদের দায়ী করছেন।

ইউএস ওপেনের শিরোপা জিতলেন জেরেভ

ইউএস ওপেনের ফাইনালে যুক্তরাষ্ট্রের বেন শেলটনকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন জার্মানির অ্যালেক্সান্ডার জেরেভ। বাংলাদেশ সময় সোমবার আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে চার সেটের এই লড়াইয়ে শেলটনকে দাপটের সঙ্গে পরাজিত করেন জেরেভ। এটি জেরেভের দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়।

এ জয়ের ফলে প্রথমবারের মতো ইউএস ওপেনের শিরোপা জিতলেন জেরেভ। এর আগে ২০২২ সালে ফাইনালে গেলেও ডমিনিক থিয়েমের কাছে হেরে রানার আপ হন তিনি। এ বছরে রোল্যান্ড গ্যাঁরো (ফ্রেঞ্চ ওপেন) ও উইম্বলডনেও ফাইনালে পৌঁছেছিলেন জেরেভ। ফ্রেঞ্চ ওপেনে শিরোপা জিতলেও উইম্বলডন ফাইনালে সিনারের কাছে হেরে যান তিনি।

এ দিন প্রথম সেটে ৬-৩ গেমে দাপুটে জয়ে ম্যাচ শুরু করেন জেরেভ। দ্বিতীয় সেটেও আধিপত্য ধরে রাখেন জেরেভ, টাইব্রেকে ৭-৬ (৭-২) ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেন তিনি। তৃতীয় সেটে শেলটন দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৭-৫ গেমে জয় পেলেও, চতুর্থ সেটে ৬-২ গেমের জয়ে শিরোপা নিশ্চিত করেন জার্মান তারকা।

পুরো ম্যাচে জেরেভ মোট ১২৫টি পয়েন্ট এবং ২৪টি গেম জিতেছেন, যেখানে শেলটনের সংগ্রহে ছিল ১১৩টি পয়েন্ট ও ১৮টি গেম। সার্ভিসের ক্ষেত্রে দুই খেলোয়াড়ের মধ্যেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে। পুরো ম্যাচে শেলটন ১০টি অ্যাস করেন, অন্যদিকে জেরেভের অ্যাস ছিল ৯টি। প্রথম সার্ভের ক্ষেত্রে শেলটন ৭৫ শতাংশ সাফল্য দেখিয়ে জেরেভের (৭০ শতাংশ) চেয়ে কিছুটা এগিয়ে ছিলেন।

ব্রেক পয়েন্ট কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে জেরেভের দক্ষতা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে; তিনি ৬টি সুযোগ পেয়ে ৪টিতেই ব্রেক করেছেন, বিপরীতে শেলটন ৩টি সুযোগ পেয়ে মাত্র ১টিতে সফল হন। রিসিভিং পয়েন্টের ক্ষেত্রেও জেরেভ ৪০টি পয়েন্ট জিতেছেন, যেখানে শেলটনের অর্জন ৩১টি। সার্ভিস গেম জয়ের ক্ষেত্রে জেরেভ ১৯টি এবং শেলটন ১৭টি গেম নিজেদের করে নিয়েছেন।

আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ৪ স্বতন্ত্র পরিচালকের পদত্যাগ

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার আলোকে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক থেকে পদত্যাগ করেছেন চার স্বতন্ত্র পরিচালক। ২০২৪ সালের আগস্টে গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আগের পর্ষদ বাতিল করে এই চার পরিচালকসহ পাঁচ সদস্যের পর্ষদ নিয়োগ দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। চলতি বছরের গত ১৫ জুলাই এই পরিচালকদের বহাল রেখেই পুরোনো মালিকদের ফেরানো হয়।

পদত্যাগ করা চার স্বতন্ত্র পরিচালক হলেন—বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক মো. শাহীন উল ইসলাম, এনআরবি ব্যাংকের সাবেক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) মো. আব্দুল ওয়াদুদ, চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট মোহাম্মদ আশরাফুল হাসান (এফসিএ) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এম আবু ইউসুফ। আগে নিয়োগ দেওয়া স্বতন্ত্র পরিচালকদের মধ্যে কেবল লঙ্কাবাংলা ফাইন্যান্সের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) খাজা শাহরিয়ার বহাল আছেন। ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর খাজা শাহরিয়ারকে চেয়ারম্যান করে এই পাঁচ স্বতন্ত্র পরিচালকের সমন্বয়ে পর্ষদ গঠন করে দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই স্বতন্ত্র পরিচালকদের নিয়োগ করেছিল। যেহেতু পুরোনো মালিকদের হাতে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ দেওয়া হয়েছে, সে কারণে আগের স্বতন্ত্র পরিচালকদের পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে।

তিনি জানান, গত ১৫ জুলাই পর্ষদে পুরোনো মালিকেরা ফেরার পর এই স্বতন্ত্র পরিচালকেরা বিভিন্ন ইস্যুতে একধরনের অস্বস্তিতে পড়েন।

বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি বছরের ১৫ জুলাই নতুন করে ১৩ জন পরিচালক নিয়োগ দেয়। এর মধ্যে পাঁচজনই চট্টগ্রামের কেডিএস গ্রুপ-সংশ্লিষ্ট। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আগে আল-আরাফাহ ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদের ভাই আব্দুস সামাদ লাবু। নতুনভাবে যাদের যুক্ত করা হয়েছে, তাদের অনেকেই তখন পর্ষদে ছিলেন।

গত ১৫ জুলাই গঠিত পর্ষদে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান হয়েছেন বদিউর রহমান। এ ছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান হয়েছেন লিয়াকত আলী চৌধুরী। আর পরিচালক হিসেবে আছেন কেডিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান, তার ছেলে সেলিম রহমান, কেডিএস গার্মেন্টসের প্রতিনিধি পরিচালক মাহবুব আহমেদ, মোহাম্মদ আব্দুস সালাম, নাজমুল আহসান খালেদ, সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৭ আসন থেকে জামায়াতে ইসলামীর হয়ে নির্বাচন করা মো. এনায়েত উল্লা, আহামেদুল হক, মোহাম্মদ ইমাদুর রহমান, মো. রফিকুল ইসলাম, আনোয়ার হোসাইন ও মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ।

ঢাকা উত্তরে এনসিপির প্রার্থী আসিফ, দক্ষিণে পাটওয়ারী

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে প্রার্থী ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র পদে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণ সিটিতে (ডিএসসিসি) প্রার্থী ঘোষণা করেছে গত সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে।

রোববার বিকেলে বাংলা মোটরে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে সমন্বয় সভায় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এ ঘোষণা দেন। সন্ধ্যায় দলের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এনসিপি জানিয়েছে, দুই মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলরদের নিয়ে আজ সমন্বয় সভা হয়েছে। সভায় সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী অন্বেষণ, ওয়ার্ডভিত্তিক নাগরিক সমস্যা, জুলাই শহীদ ও আহত পরিবারদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যুক্ত থাকা এবং আওয়ামী লীগের নাশকতামূলক তৎপরতার প্রতি কড়া নজরদারির নির্দেশনা দিয়েছেন দলের প্রধান নাহিদ ইসলাম।

সভায় ঘোষিত দুই মেয়র পদপ্রার্থী এনসিপির মুখপাত্র আসিফ ও মুখ্য সমন্বয়ক পাটওয়ারী, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক ও দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক ইসহাক সরকারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

কয়েক দিন আগে ৭ সেপ্টেম্বর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরশন থেকে দক্ষিণের ২১ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার হয়েছেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। আর দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে উত্তরের ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার এলাকা স্থানান্তর করেছেন দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সামনে রেখে তাঁরা ভোটার এলাকা স্থানান্তর করেন তারা।

 বাংলা মোটরে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে সমন্বয় সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়র প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম

বাংলা মোটরে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে সমন্বয় সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়র প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম

এনসিপি গত মার্চে জানিয়েছিল, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট নয়, এককভাবে স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। ঢাকা উত্তরে দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব এবং দক্ষিণে আসিফ মাহমুদ মেয়র প্রার্থী হবেন। ছয় মাস পর দলটির এই অবস্থান বদলে যায়। দক্ষিণে নাসীর এবং উত্তরে আসিফকে প্রার্থী করা হলো।

গত ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে নাসীরুদ্দীন হারলেও, ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের সঙ্গে সমানে সমানে লড়াই করেছেন। মির্জা আব্বাসের ৫৯ হাজার ভোটের বিপরীতে ৫৪ হাজার ভোট পান নাসীর। ওই নির্বাচনে তিনি ভোটার ছিলেন উত্তরের ঢাকা-১৮ আসনে। তাই নিজেকে নিজে ভোট দিতে পারেননি।

সংসদ নির্বাচনের আগে কুমিল্লা-৩ থেকে থেকে ঢাকা-১০ আসনের ভোটার হন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পদ ছেড়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া আসিফ মাহমুদ। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁর নির্বাচন করা হয়নি, জামায়াত জোট প্রার্থী না করায়। এরপর দক্ষিণে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম এই ছাত্রনেতা। কয়েক দিন আগে দক্ষিণের ধানমন্ডির ১৮ নম্বর ওয়ার্ড ছেড়ে উত্তরের আফতাবনগরের ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার হয়েছেন।

জাতীয় নির্বাচনের ভোটাররা যে কোনো আসেন প্রার্থী হতে পারেন। স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটার হতে হয়। আসিফ মাহমুদ সমকালকে বলেন, দলের পরিচালিত কয়েকটি জরিপে দেখা গেছে, উত্তরে আমার অবস্থান ভালো। দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর অবস্থান ভালো। তাই এ চিন্তা থেকেই ভোটার স্থানান্তর করা হয়েছে।

জামায়াত ইতোমধ্যে জানিয়েছে, স্থানীয় নির্বাচনে কেন্দ্রীয়ভাবে জোট হবে না। ১১-দলীয় ঐক্যের শরিকরা যে যার মতো অংশ নেবে। স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনে জোট হতে পারে। ঢাকা উত্তরে দলের নির্বাহী পরিষদ মুহাম্মদ সেলিমউদ্দিন এবং ঢাকা দক্ষিণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েমকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে বাছাই করেছে জামায়াত।

উত্তরের অন্তর্ভূক্ত আটটি আসনের চারটিতে জামায়াত জয়ী হয় সংসদ নির্বাচনে। দক্ষিণের সাতটি আসনের দুটি জিতেছে। জোট সূত্র জানিয়েছে, দক্ষিণকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে জামায়াত। সেলিমউদ্দিন সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৬ আসনে অল্প ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম ছাত্রনেতা সাদিক কায়েমকে তাঁর নিজ এলাকা খাগড়াছড়ির পরিবর্তে ঢাকার রাজনীতিতে সক্রিয় করতে চায় জামায়াত। এ কারণে দক্ষিণ শরিকদের ছাড়া হবে না। এই সমীকরণ মাথায় রাখছে এনসিপি।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আগামী নভেম্বর থেকে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে স্থানীয় নির্বাচন শুরু হবে। এরপর ধাপে ধাপে অন্যান্য স্তরের নির্বাচন হবে। আসিফ মাহমুদ সমকালকে বলেন, এ হিসাবেও সিটি নির্বাচনে এখনও আট দশ মাস সময় বাকি। তপশিল ঘোষণার পর বলা যাবে কী হবে।

জোট সূত্রের খবর, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে বোঝা যাবে সরকার এবং সরকারি দলের কী আচরণ হবে স্থানীয় নির্বাচনে। যদিও অতীতের মতো ক্ষমতাসীনরা স্থানীয় নির্বাচনে শক্তি দেখায়, তা দেখে পৌরসভা, উপজেলা, সিটি নির্বাচনে জোট করা না করার সিদ্ধান্ত হবে।

জামায়াত জোটের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ ১৯ সেপ্টেম্বর, পথে পাঁচ সভা মানিক মিয়ায় লাখ মানুষ সমাবেশের প্রস্তুতি

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ হবে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর অর্থাৎ, শনিবার। সাত দফা দাবিতে ওইদিন সকাল ৭টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জমায়েত ও সমাবেশ হবে। রাতে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে হবে জনসভা। পথিমধ্যে গাজীপুরের ভোগরা, টাঙ্গাইলের নগর জালফৈ, সিরাজগঞ্জ চৌরাস্তা, বগুড়ার চারমাথা ও গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে হবে পথসভা হবে।

আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলের লিয়াজোঁ কমিটির প্রস্তুতি সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়। সভার পর ব্রিফিংয়ে তা সাংবাদিকদের জানান জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।

গণভোটের রায় কার্যকর, গ্যাস-বিদ্যুৎ-সারের সংকট নিরসন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণসহ ছয় দফা দাবিতে গত ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ করে ১১ দল। হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, বিরোধী দলের ছয় দফা এখন সাত দফায় পরিণত হয়েছে। আগের ছয় দফার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দুর্নীতি, দখলবাজি ও চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি। এসব ক্ষেত্রে বিএনপি বিগত ফ্যাসিস্ট আমলকে ছাড়িয়ে গেছে।

চলমান জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, বিরোধী সংকট নিরসনে যথাযথ উদ্যোগ নিতে বলেছিল। কিন্তু সরকার সমাধান দিতে পারেনি। সর্বশেষ বিরোধীদলীয় নেতার টাস্কফোর্স বা কমিটি গঠন করে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধান করতে বলা হয়েছিল। বিরোধী দল ১০ দফা প্রস্তাব দিয়েছিল। সরকার এগুলো আমলে নেয়নি।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল ক্ষমতায় এলে দুই বছরের মধ্যে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি করা হবে না। কিন্তু সরকার তাতে ব্যর্থ হয়েছে। গ্যাস–সংকটে কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। গার্মেন্টসের অর্ডার বাতিল হয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে চলে গেলে বাংলাদেশের অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়বে। সার সংকট নিরসনেও সরকার অদক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে।

বিগত সরকারের ওপর দায় দিলেও বর্তমান সরকারের ছয় মাসে সংকট নিরসনে কী পদক্ষেপ ছিল, এই প্রশ্ন রাখেন হামিদুর রহমান। বলেন, সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পারেনি। গ্যাসের পাশাপাশি এখন সারের সংকট দেখা দিচ্ছে। এ সংকট থাকলে খাদ্যসংকট দেখা দিতে পারে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে অভিযোগ করে এই জামায়াত নেতা বলেন, একটার পর একটা রোমহর্ষক গুম-খুন হচ্ছে। খুলনার মিরাজ শেখের সন্ধান পাওয়া যায়নি। বিরোধী দলের পাঁচজন নেতাকর্মী খুন হয়েছেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজী, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধানসহ ১১ দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

লংমার্চ সফলে সভা 

ঢাকা-রংপুর লংমার্চ সফলে আজ রোববার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াত কার্যালয়ে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের সভাপতিত্বে প্রস্তুতি সভা হয়েছে। এতে জামায়াতের বিভিন্ন শাখা, অঙ্গ সংগঠন এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতারা ছিলেন। মানিক মিয়ায় লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে লাখো মানুষের জমায়েতের প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি।

সাতকানিয়ায় বাসের ধাক্কায় আহত স্কুলছাত্রীর আইসিইউতে মৃত্যু

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় স্টার লাইন পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায় গুরুতর আহত হওয়ার পর নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঈশা দাশ (১২) নামের এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রোববার রাতে চট্টগ্রাম নগরের রয়েল হাসপাতাল প্রাইভেট লিমিটেডের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত ঈশা দাশ ছদাহা কেফায়েত উল্লাহ কবির আহমদ স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ছিল। সে ছদাহা ইউনিয়নের দাশপাড়া এলাকার সুনীল দাশের মেয়ে।

জানা যায়, গতকাল দুপুরে টিফিনের ছুটি হলে ঈশা তার সহপাঠীদের সঙ্গে বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে মহাসড়ক পার হচ্ছিল। এ সময় চট্টগ্রামগামী স্টার লাইন পরিবহনের একটি বাস তাকে ধাক্কা দেয়। এতে সে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে কেরানীহাটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম শহরের একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নিহত ঈশার জ্যাঠা ও সাতকানিয়া সদর ইউনিয়নের ঠাকুরদিঘির পাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বপন কান্তি দাশ বলেন, দুর্ঘটনার পর ঈশাকে প্রথমে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতাল লিমিটেডে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে আইসিইউ খালি না থাকায় পরে তাকে রয়েল হাসপাতাল প্রাইভেট লিমিটেডের আইসিইউতে রাখা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে বাসের ধাক্কায় ঈশা দাশ গুরুতর আহত হলেও এলাকায় গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে সে মারা গেছে। এরপরই ছদাহা কেফায়েত উল্লাহ কবির আহমদ স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজন মহাসড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করেন। বিক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা দুর্ঘটনাকবলিত বাসটিতে ব্যাপক ভাঙচুর চালান। পরে বাসের ভেতরের কয়েকটি সিট খুলে মহাসড়কের ওপর এনে আগুন ধরিয়ে দেন তারা।

বিক্ষোভকারীরা মহাসড়কে ফুটওভারব্রিজ ও গতিরোধক স্থাপনের দাবি জানান। তাদের অবরোধের কারণে প্রায় দুই ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। এতে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারমুখী সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

হামের উপসর্গে আরও ৩ জনের মৃত্যু

দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে গতকাল রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত প্রায় ছয় মাসে হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ২২। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মারা গেছে ১০০ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯২২ জনের।

রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৬৩ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। নতুন করে মারা যাওয়া তিনজনের মধ্যে দুজন ঢাকা বিভাগের এবং একজন চট্টগ্রাম বিভাগের। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত, হাসপাতালে ভর্তি এবং মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করে আসছে।

মৃত্যু বেশি ঢাকায় 
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে এ পর্যন্ত ৪১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে সিলেট বিভাগে। এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে রাজশাহী বিভাগে ৯৩, ময়মনসিংহে ৭৭, চট্টগ্রামে ৭০, বরিশালে ৫৭, খুলনায় ৩৯ এবং রংপুর বিভাগে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে আরও ৯০৫ জন এসেছে। তাদের মধ্যে ৮২২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নতুন ভর্তি রোগীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৩৭৩, চট্টগ্রামে ১৬৬, বরিশালে ৭৮, খুলনায় ৭৪, ময়মনসিংহে ৫৭, রাজশাহীতে ৩১, রংপুরে ২৭ এবং সিলেট বিভাগে ১৬ জন রয়েছে। এ নিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৫১ হাজার ২৪। তাদের মধ্যে এক লাখ ৪৫ হাজার ২৫২ জন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগীর সংখ্যা এক লাখ ৭১ হাজার ৫৪৩। এর মধ্যে পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়েছে ২০ হাজার ৬৯ জনের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা সব রোগীর পরীক্ষা করা হয় না। একইভাবে হাসপাতালের বাইরে থাকা উপসর্গযুক্ত রোগীদেরও সবার হাম পরীক্ষা করা সম্ভব হয় না। ফলে পরীক্ষায় শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দিয়ে দেশে প্রকৃত হাম আক্রান্তের সংখ্যা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। এ কারণে সরকারি হিসাবে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ২০ হাজার ৬৯ হলেও প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা এর চেয়ে বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রশাসন কোনোভাবেই শাসকের ভূমিকায় থাকবে না: ভূমি প্রতিমন্ত্রী

মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত সব কর্মকর্তাকে আন্তরিকতার সঙ্গে জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। তিনি বলেছেন, এই সরকারের প্রশাসন কোনোভাবেই শাসকের ভূমিকায় থাকবে না, বরং জনগণের প্রকৃত সেবক হিসেবে কাজ করবে।

গতকাল রোববার ঢাকা সচিবালয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিভাগীয় কমিশনারদের সমন্বয় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

ভূমি প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক, রাজনৈতিক ও নির্বাচিত সরকার মাঠ প্রশাসনের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনগণের দোরগোড়ায় নাগরিক সেবা প্রদান নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার জনগণের সেবা করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। সফলভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য সবাইকে পারস্পরিক সহযোগিতা, সমন্বয় ও সম্পূরকের মাধ্যমে কাজ করতে হবে।

সরকারি কর্মচারীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল আরও বলেন, আমাদের মনস্তত্ত্বে যেন সব সময় থাকে যে আমরা জনগণের সেবক। সেবার মানসিকতা ধারণ করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি দুর্নীতিমুক্ত ভূমি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় সব বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ডিজিটাল নিরাপত্তার মতোই হচ্ছে সাইবার সুরক্ষা আইন

সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের জন্য খসড়া প্রস্তুত করেছে সরকার। এতে মানহানির অপরাধে সাজা যুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি কাউকে হেয় প্রতিপন্ন করা, গুজব-অপতথ্য ছড়ালে ১০ বছর কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে খসড়ায়। এ রকম কিছু ধারা আওয়ামী লীগ আমলের বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা, সাইবার নিরাপত্তা আইনের মতো বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিরোধী দল ও নাগরিক সংগঠনগুলোও বলছে, খসড়ায় মানহানি, গুজব-অপতথ্যের যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে; এগুলোর অপব্যবহার হতে পারে।

আওয়ামী লীগ আমলের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মানহানির জন্য ১০ বছর কারাদণ্ডের বিধান ছিল। সমালোচনার মুখে সেই আইন বিলোপ করে সাইবার নিরাপত্তা আইন করা হয়। এতে জরিমানার বিধান থাকলেও কারাদণ্ড ছিল না। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মানহানির অংশ বাদ দিয়ে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ করা হয়। বিএনপি সরকার সেই অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করলেও ছয় মাসের মাথায় এসে তা সংশোধন করে পাঁচ বছর কারাদণ্ডের বিধান করতে চাইছে। এ ছাড়া গুজব, অপতথ্য প্রচার করলে ১০ বছর কারাদণ্ডের প্রস্তাব রয়েছে সংশোধনীর খসড়ায়।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ইতোমধ্যে আইন সংশোধনের খসড়া প্রকাশে করেছে। এতে উদ্বেগ জানিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বলেছে, খসড়াটি পাস হলে সাইবার জগৎ নিপীড়নের ভুবনে পরিণত হবে।

সাইবার সুরক্ষা আইনের এ সংশোধনী হলে তাতে মতপ্রকাশকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার সুযোগ বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছে গবেষণা সংস্থা টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউট। সংস্থাটির মতে, সংশোধনীতে মানহানির সংজ্ঞা আগের চেয়ে আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। পাশাপাশি ২৫ ও ২৬ ধারায় ‘অবমাননা’, ‘গুজব’ ও ‘অপতথ্য’-সংক্রান্ত নতুন অপরাধ যুক্ত করা হয়েছে। এসব শব্দের সংজ্ঞা যথেষ্ট স্পষ্ট নয়। ফলে কোনো বক্তব্য মানহানিকর, মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর বা গুজব কিনা, তা নির্ধারণে ব্যক্তিগত ব্যাখ্যার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

খসড়ার বিষয়ে জানতে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে সমকাল। ফোনকল এবং হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠালেও তারা সাড়া দেননি। তথ্যপ্রযুক্তি সচিব মামুনুর রশীদ ভূঞার বক্তব্যও পায়নি সমকাল।

জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান সমকালকে বলেন, আইনের সংশোধনীর খসড়ার কথা বলা হচ্ছে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও প্রকাশ হয়নি। প্রকাশের পর এ বিষয়ে সরকার বক্তব্য জানাবে।

তবে সরকারের একটি সূত্র সমকালকে জানিয়েছে, সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধন করে আওয়ামী লীগ আমলের বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মতো মানহানিকর বক্তব্যের কারণে কারাদণ্ডের বিধান রাখার প্রশ্নে সরকারের মধ্যে মতভিন্নতা রয়েছে। কয়েকজন প্রভাবশালী মন্ত্রী এ বিধানের পক্ষে। কিন্তু বিএনপির ৩১ দফা, নির্বাচনী ইশতেহার এবং দলের আগের অবস্থান বিপরীত হওয়ায় সরকারের অনেকে এমন সংশোধনীর বিপক্ষে। তাদের আশঙ্কা– মানহানি, হেয় প্রতিপন্ন, বুলিংয়ের মতো বিধান যুক্ত করলে এর অপব্যবহার হবে, যা সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করবে। প্রমাণিত গুজব, অপতথ্য প্রচারকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে। তবে এ জন্য গুজব, অপতথ্য চিহ্নিত করার সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি থাকতে হবে।

শেখ হাসিনার শাসনামলে কঠোর আইন

২০০৬ সালে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন করা হয়। ২০১৩ সালে আইনটি সংশোধন করে কঠোর করে আওয়ামী লীগ। মানহানি, রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটায়, এমন কিছু অনলাইনে লেখা, বলাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয় ৫৭ ধারায়। সরকারের সমালোচকদের মামলা ও কারাগারে পাঠানোর কারণে ধারাটি ‘কুখ্যাত’ হয়ে ওঠে।

দেশ-বিদেশে সমালোচনার মুখে আওয়ামী লীগ ২০১৮ সালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন করে। এই আইনের ২১ ধরায় মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জাতির পিতা, জাতীয় সংগীত বা জাতীয় পতাকার বিরুদ্ধে ‘প্রপাগান্ডা বা প্রচারণা’ চালালে ১০ বছর কারাদণ্ডের বিধান ছিল। ২০১৯ সালের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকীতে বরিশালের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম শ্রদ্ধা জানানোর সময় বাম হাত দিয়ে ফুল ধরে ছবি তোলায় এক বছর কারাদণ্ড হয়।

মানহানির আসামি হয়েছিলেন তারেক রহমানও

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৫ এবং ২৯ ধারায় অনলাইনে যে কোনো বক্তব্য, সংবাদ, লেখাকে আক্রমণাত্মক, মিথ্যা, মানহানিকর আখ্যা দিয়ে মামলার সুযোগ ছিল। মানহানিকর বক্তব্য দিয়েছেন– এ অভিযোগে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি মামলা করেছিলেন ছাত্রলীগ নেতারা। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে এই মামলায় অভিযোগপত্রও গৃহীত হয়েছিল। তারেক রহমান অনলাইনে বক্তব্যের মাধ্যমে শেখ মুজিবুর রহমানের অবমাননা এবং মানহানি করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়।

দেশে-বিদেশে সমালোচনার মুখে ২০২৩ সালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বিলুপ্ত করে সাইবার নিরাপত্তা আইন করে আওয়ামী লীগ সরকার। এই আইনেও জাতির পিতাকে অবমাননা, কোনো ব্যক্তির সম্পর্কে মানহানিকর বক্তব্য, আক্রমণাত্মক বক্তব্যকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে ওই আইনে মানহানির জন্য ১০ বছর কারাদণ্ডের বদলে ২৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান করা হয়।

সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিজিটাল ও সাইবার নিরাপত্তা আইনে ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ হাজার ৪৩৬টি মামলায় ৪ হাজার ৫২০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। এসব মামলার ৬০ শতাংশের বাদী ছিলেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য বা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

সিজিএস ৮৫৯টি মামলার বাদীর পরিচয় শনাক্ত করেছিল। ২৬৩টি মামলাই করেছিলেন তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের কর্মীরা। শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ হাসিনা, সজীব ওয়াজেদ জয়, ওবায়দুল কাদেরসহ আওয়ামী লীগের মন্ত্রী, এমপি, নেতাদের নিয়ে কটূক্তির মাধ্যমে মানহানি করার অভিযোগে এসব মামলায় ৮৮৭ জনকে আসামি করা হয়েছিল। অধিকাংশ আসামি ছিলেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। এর পরেই ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মী এবং ফেসবুকের সাধারণ ব্যবহারকারীরা।

‘শেখ হাসিনার বিধবা ভাতা পাওয়া উচিত’– ফেসবুকে এমন মন্তব্যের কারণে ২০২০ সালের জুনে ১৫ বছর বয়সী স্কুল শিক্ষার্থী মো. ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল আওয়ামী লীগ নেতাদের দায়ের করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায়।

শেখ হাসিনা ও ব্যবসায়ী নাফিজ শারাফাতকে বিদ্রুপ করে আঁকা কার্টুন ফেসবুকে পোস্ট করায় ২০২০ সালের মে মাসে লেখক মুশতাক আহমেদকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার করেছিল র‍্যাব। সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক কথাবার্তা ও গুজব ছড়ানোর মামলায় তাঁর জামিন আবেদন ছয়বার নাকচ হয়। ২০২১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি কারাগারে তাঁর মৃত্যু হয়।

ফিরছে কারাদণ্ডের বিধান 

বিএনপির ৩১ দফায় মতপ্রকাশের সব বাধা অপসারণের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। ১২ দফায় বলা হয়েছে,  মুক্ত চিন্তার পথ রুদ্ধ করে কিংবা ভিন্নমত দমন করতে ব্যবহার করা যায়– এমন সব ধরনের দমনমূলক ও কালো আইন সংস্কার বা বাতিল করা হবে।

বিরোধী দলে থাকাকালে বিএনপি এই আইনগুলো নিপীড়নমূলক আখ্যা দিয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল– ক্ষমতায় গেলে আইনগুলো বাতিল করবে। ২০২৫ সালের মে আসে অন্তর্বর্তী সরকার সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল করে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ জারি করে। গত এপ্রিলে বিএনপি সরকার অধ্যাদেশটিকে হুবহু আইনে পরিণত করে।

এই আইনে মানহানি, কটূক্তি, অবমাননার জন্য শাস্তির বিধান নেই। এই আইনে শুধু ভুক্তভোগী বা তাঁর ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি কিংবা পুলিশ মামলা করতে পারে। এই আইনে সাইবার স্পেসে জালিয়াতির অপরাধ, প্রতারণা, হ্যাকিং, সন্ত্রাসী কার্য, কর্তৃত্ব বহির্ভূত ই-ট্রানজেকশন শাস্তিযোগ্য অপরাধ। যৌন হয়রানি, ব্ল্যাকমেইলিং বা অশ্লীল বিষয়বস্তু প্রকাশ; সাইবার স্পেসে ধর্মীয় বা জাতিগত বিষয়ে সহিংসতা, ঘৃণা ও বিদ্বেষমূলক তথ্য প্রকাশও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। দুই থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে এসব অপরাধে।

সংশোধনীর খসড়ায় বিদ্যমান আইনের ২৫(১) ধারায় ‘মানহানি বা হেয় প্রতিপন্ন বা বুলিং’ শব্দ তিনটি যোগ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিদ্যমান আইনে এ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি সাইবার স্পেস অন্য কোনো ব্যক্তিকে ব্ল্যাকমেইলিং বা যৌন হয়রানি বা রিভেঞ্জ পর্ন বা ডিজিটাল শিশু যৌন নিপীড়নে কনটেন্ট রাখে, যা প্রকাশ, প্রচারের হুমকি দেন বা যা ক্ষতিকর বা ভীতি প্রদর্শক, তাহলে তা অপরাধ হবে। এর সঙ্গে ‘মানহানি বা হেয় প্রতিপন্ন বা বুলিং’ শব্দগুলো যুক্ত করা হয়েছে খসড়ায়।

মানহানির ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারায় বর্ণিত ব্যাখ্যা প্রযোজ্য হবে। কোনো ব্যক্তির সুনাম, মর্যাদা বা চরিত্র ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে প্রচারিত বা প্রদর্শিত এমন যে কোনো তথ্য, উপাত্ত, বক্তব্য, অডিও, ভিডিও, অডিও-ভিজুয়াল চিত্র, স্থিরচিত্র বা গ্রাফিক্সও অন্তর্ভুক্ত হবে। যা মিথ্যা, বিকৃত, বিভ্রান্তিকর, অপমানজনক বা ক্ষতিকর এবং যা ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক মাধ্যমে ধারণকৃত, সম্পাদিত বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি।

২০১৮ সালে কোটাবিরোধী আন্দোলনে শেখ হাসিনার কার্টুন শেয়ার করায় মানহানির অভিযোগে আটক হয়েছিলেন ভয়েস ফর রিফর্মের সহসমন্বয়ক ফাহিম মাশরুর। তিনি সমকালকে বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইনে মানহানির অংশ যুক্ত করার প্রয়োজনই নেই। এ আইনটি হচ্ছে হ্যাঙ্কিং প্রতিরোধ, লেনদেন নিরাপদ রাখা সংক্রান্ত। মানহানির বিচারের জন্য ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধি রয়েছে। কারও মানহানি হলে সেই আইনই বিচারের জন্য যথেষ্ট। সাইবার সুরক্ষায় তা যুক্ত করা হলে অবশ্যই আগের মতো অপব্যবহার হবে। কারণ অনলাইনের কোন লেখা, ভিডিও, কার্টুনে মানহানি হয়– তা ব্যাখ্যা দিয়ে স্পষ্ট করা যাবে না।

গুজব অপতথ্যের জন্য ১০ বছর সাজা

সংশোধনীর খসড়ায় হেয় প্রতিপন্নের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তির মর্যাদা, সম্মান, সুনাম বা সামাজিক অবস্থানকে কোনো কথা, আচরণ, প্রকাশনা, ইঙ্গিত বা কার্যকলাপের মাধ্যমে ক্ষুণ্ন করা, যা ওই ব্যক্তি অন্যের কাছে অপমানিত, তুচ্ছ, নিকৃষ্ট বা অসম্মানজনক করে তোলে।

ফাহিম মাশরুর সমকালকে বলেন, এ ব্যাখ্যা বিপজ্জনক। কারণ একজন দুর্নীতিবাজ ব্যক্তির বিরুদ্ধে যদি অপকর্মের তথ্য অনলাইনে উন্মোচিত হয়, তাহলে তিনি হেয় প্রতিপন্ন বোধ করার দাবি করে মামলা করে দিতে পারেন।

বুলিংরের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ইচ্ছাকৃত, পরিকল্পিত ও পুনরাবৃত্তিমূলক আচরণ বা কাজ দ্বারা কাউকে শারীরিক, মৌখিক, সামাজিক, ডিজিটাল বা অন্য কোনো মাধ্যমে শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি বা পীড়ার শিকার করা।

সাইবার সুরক্ষা আইনে ২৬(ক) ধারা যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে সংশোধনীর খসড়ায়। এতে বলা হয়েছে, কোন ব্যক্তি সাইবার স্পেসে গুজব ও অপতথ্য প্রকাশ বা প্রচার করলে অনধিক ১০ বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ৪০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড হবে।

গুজের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, এমন কোনো অসমর্থিত বা অযাচাইকৃত তথ্য, সংবাদ বা দাবি, যা জনমনে বিভ্রান্তি, আতঙ্ক, উত্তেজনা বা সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করে বা করবার সম্ভাবনা রাখে। অপতথ্যের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, কোনো মিথ্যা, বিকৃত বা বিভ্রান্তিকর তথ্য, যা ব্যক্তি, জনসাধারণ, প্রতিষ্ঠান বা রাষ্ট্রকে বিভ্রান্ত, প্রতারিত বা ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে তৈরি।

বিরোধী দল এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা নাগরিক সংগঠনগুলো বলছে, এমন ব্যাখ্যা রাখলে যে কোনো কিছুকে গুজব বলা যাবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মানবাধিকারকর্মী সমকালকে বলেন, সম্প্রতি বাগেরহাটের মোংলায় মিরাজ শেখ নামে এক তরুণকে গুমের অভিযোগ উঠেছে কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগ কোনো আদালতে প্রমাণ হয়নি। কিন্তু অনেক প্রত্যক্ষদর্শী রয়েছেন। যাদের বক্তব্য আবার সরকার সত্য বলে মানছে না। তাহলে সাইবার সুরক্ষা আইন যেভাবে সংশোধন করা হচ্ছে, তাতে বলা যাবে– মিরাজ শেখের গুমের গুজব ছড়ানো হচ্ছে। এটি বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করবে মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে।

প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে গালাগাল করা, কুৎসার বিরুদ্ধে সংসদে সরব হয়েছেন সদস্যরা। বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানও এ ইস্যুতে সরকারকে সমর্থন করার কথা বলেন।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ সমকালকে বলেন, কারও ব্যক্তিজীবন নিয়ে নোংরা কুৎসা রটনা করলে তা শাস্তির আওতায় আসতে পারে। কিন্তু সাইবার সুরক্ষা আইন যেভাবে সংশোধন করা হচ্ছে, তাহলে বাকস্বাধীনতা থাকবে না।

হামিদুর রহমান বলেন, শেখ হাসিনার স্বৈরাচার হওয়ার অন্যতম কারণ ছিল ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। ভিন্নমতকে যখন তখন দমন করা হয়েছে মানহানির নাম দিয়ে। বর্তমান সরকার সেই পথেই যাচ্ছে। এটা জনগণ মানবে না। প্রতিহত করতে বাধ্য হবে। তাই সরকারের উচিত ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার চেষ্টা থেকে বিরত থাকা।

বিদ্যমান আইনের ১২ ধারায় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিল রয়েছে। সংশোধনীতে কাউন্সিলে স্বরাষ্ট্র এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সদস্য করার প্রস্তাব করা হয়েছে। মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানকে বাদ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

সংশোধনীর মাধ্যমে ৮ ধারায় নতুন বিধান যুক্তের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিদ্যমান আইনে নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন হলে সরকার কোনো কনটেন্ট ব্লক করতে পারে। সংশোধনীতে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন হবে আশঙ্কা থাকলেও কনটেন্ট ব্লক করতে পারবে সরকার। তবে জানাতে হবে না– কী কারণে কোন কোন কনটেন্ট ব্লক করা হয়েছে।

তবে সংশোধনীতেও বহাল থাকছে, শুধু সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি, তার প্রতিনিধি বা পুলিশ মামলা করতে পারবে এই আইনে। কোনো মন্ত্রী, এমপিকে কটূক্তি করেছে অভিযোগে অন্য কেউ মামলা করতে পারবে না। এই আইনের সব মামলা জামিনযোগ্য থাকছে।