চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় স্টার লাইন পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায় গুরুতর আহত হওয়ার পর নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঈশা দাশ (১২) নামের এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রোববার রাতে চট্টগ্রাম নগরের রয়েল হাসপাতাল প্রাইভেট লিমিটেডের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত ঈশা দাশ ছদাহা কেফায়েত উল্লাহ কবির আহমদ স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ছিল। সে ছদাহা ইউনিয়নের দাশপাড়া এলাকার সুনীল দাশের মেয়ে।
জানা যায়, গতকাল দুপুরে টিফিনের ছুটি হলে ঈশা তার সহপাঠীদের সঙ্গে বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে মহাসড়ক পার হচ্ছিল। এ সময় চট্টগ্রামগামী স্টার লাইন পরিবহনের একটি বাস তাকে ধাক্কা দেয়। এতে সে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে কেরানীহাটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম শহরের একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে নিহত ঈশার জ্যাঠা ও সাতকানিয়া সদর ইউনিয়নের ঠাকুরদিঘির পাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বপন কান্তি দাশ বলেন, দুর্ঘটনার পর ঈশাকে প্রথমে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতাল লিমিটেডে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে আইসিইউ খালি না থাকায় পরে তাকে রয়েল হাসপাতাল প্রাইভেট লিমিটেডের আইসিইউতে রাখা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে বাসের ধাক্কায় ঈশা দাশ গুরুতর আহত হলেও এলাকায় গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে সে মারা গেছে। এরপরই ছদাহা কেফায়েত উল্লাহ কবির আহমদ স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজন মহাসড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করেন। বিক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা দুর্ঘটনাকবলিত বাসটিতে ব্যাপক ভাঙচুর চালান। পরে বাসের ভেতরের কয়েকটি সিট খুলে মহাসড়কের ওপর এনে আগুন ধরিয়ে দেন তারা।
বিক্ষোভকারীরা মহাসড়কে ফুটওভারব্রিজ ও গতিরোধক স্থাপনের দাবি জানান। তাদের অবরোধের কারণে প্রায় দুই ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। এতে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারমুখী সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।


