Home Blog

কুমিল্লায় মাকে কুপিয়ে ভাতিজিকে আছড়ে হত্যা, সারাদেশে ৭ মরদেহ উদ্ধার

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় মাকে কুপিয়ে ও ছয় মাস বয়সী ভাতিজিকে আছাড় মেরে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক তরুণের বিরুদ্ধে। পুলিশ বলছে, আত্মহত্যায় বাধা দেওয়ায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। প্রতিবেশীরা অভিযুক্ত ইমন মিয়াকে (২৪) আটকে পুলিশে সোপর্দ করেছেন।

বাগেরহাটের রামপালে হামলায় যুবক নিহত ও মানিকগঞ্জে শ্বশুরকে খুনের অভিযোগে জামাতাকে আটক করেছে পুলিশ। খুলনা, ফরিদপুরের ভাঙ্গা, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, বরগুনার বেতাগী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর, পটুয়াখালীর কলাপাড়া ও শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় সাতটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

​কুমিল্লার দেবিদ্বারে খুন হওয়া দুজন হলেন উপজেলার বড়শালঘর গ্রামের দক্ষিণপাড়ার মোস্তফা মাস্টারের বাড়ির মৃত ফরিদ মিয়ার স্ত্রী পেয়ারা বেগম (৬২) ও ইসরাত জাহান। হামলায় ইমনের ভাবি রাবেয়া বেগম আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ইমন ওই গ্রামের ফরিদ মিয়ার ছেলে এবং ইশরাত তাঁর ভাই সুজন মিয়ার মেয়ে।

​পু‌লিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাঁচ বছর আগে ফুটবল খেলতে গিয়ে ইমনের পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে যায়। এর পর থেকে তিনি স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারেন না। অনেক চিকিৎসা করিয়েও কোনো লাভ হয়নি। সম্প্রতি পায়ের যন্ত্রণা আরও বেড়ে যায়। দীর্ঘদিনের পঙ্গুত্ব, বেকারত্ব, দা‌রিদ্র্য ও পা‌য়ের তীব্র যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে তিনি ‘আত্মহত্যা’র সিদ্ধান্ত নেন। গত রোববার রাতে আত্মহত্যার চেষ্টা করলে পেয়ারা বেগম ও রাবেয়া বেগম বাধা দেন।

তারা আরও জানায়, ​আত্মহত্যায় বাধা দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে গতকাল সকালে মা ও ভাবিকে গালাগাল শুরু করেন ইমন। একপর্যায়ে ঘরে থাকা ধারালো দা দি‌য়ে মাকে কুপিয়ে জখম করেন। শাশুড়ি‌কে বাঁচা‌তে রা‌বেয়া ছুটে গেলে তাঁর কো‌ল থেকে ভাতিজি ইসরাতকে কেড়ে নিয়ে আছাড় মারেন। পরে ভাবিকে লা‌ঠি দি‌য়ে পি‌টি‌য়ে গুরুতর আহত করেন। চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা গিয়ে তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক পেয়ারা বেগম ও ইসরাতকে মৃত ঘোষণা করেন। রাবেয়াকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনার পর ইমনকে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেন প্রতিবেশীরা।

​দেবিদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, পায়ের যন্ত্রণায় মানসিক রোগে ভোগা ইমন আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। এতে বাধা দেওয়ায় তিনি এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে প্রাথমিক স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।

খুলনায় হোটেলে যুবকের মরদেহ, নারী আটক
খুলনা নগরীর একটি আবাসিক হোটেল থেকে সোহেল রানা ওরফে বাবু (৩৫) নামের যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল হোটেলটির দ্বিতীয় তলার ১০ নম্বর কক্ষ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। সোহেল রানা লবণচরা থানার হরিণটানা অটোস্ট্যান্ড রোডের লোকমান ফকিরের ছেলে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও হোটেলকর্মীরা জানান, গত শনিবার সন্ধ্যায় দুজন স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ওই হোটেলে ওঠেন। গত রোববার রাতে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে ওড়না পেঁচিয়ে সোহেল রানাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন ওই নারী।

খুলনা সদর থানার ওসি লোকমান হোসেন রিপন জানান, অভিযুক্ত নারীর সঙ্গে সোহেলের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। তিনি তাঁকে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। রোববার রাতে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে ওড়না পেঁচিয়ে ওই নারীই সোহেলকে হত্যা করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিষয়টি স্বীকার করেছেন তিনি।

রামপালে হামলায় যুবক নিহত 
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় হামলায় শেখ আহাদ আহমেদ ইতু (২৪) নামের এক তরুণ নিহত হয়েছেন। এ সময় তাঁর বাবা, মা ও ছোট ভাই আহত হন। গতকাল উপজেলার ইসলামাবাদ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ইতু ওই গ্রামের শেখ ফরিদুজ্জামানের ছেলে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফরিদুজ্জামানের পরিবারের সঙ্গে দূরসম্পর্কের চাচাতো ভাই বাকি বিল্লাহ ও মাসুমের জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। গত রোববার বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন নিয়ে দুই পক্ষের কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। গতকাল সকালে বাড়ির সামনের রাস্তায় পানি নিষ্কাশন নিয়ে আবারও কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে মারামারি বেধে যায়। এ সময় দেশি অস্ত্রের আঘাতে ইতু ও তাঁর বাবা শেখ ফরিদুজ্জামান (৬০) জখম হন। তাদের বাঁচাতে গিয়ে ইতুর মা নাজমা বেগম ও ছোট ভাইও জখম হন। প্রতিবেশীরা তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক ইতুকে মৃত ঘোষণা করেন।
রামপাল থানার ওসি শেখ রাজিব আল রশীদ বলেন, নিহত ও অভিযুক্তরা সম্পর্কে চাচাতো ভাই। তাদের মধ্যে জমি-সংক্রান্ত বিরোধ ছিল।

ভাঙ্গায় গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, স্বামী পলাতক
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় তামান্না আক্তার মৌ (২৩) নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল চণ্ডীদাসদী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তামান্না আক্তার মৌ নগরকান্দা উপজেলার রামেশ্বর এলাকার আতিয়ার রহমানের মেয়ে এবং ভাঙ্গা পৌরসভার চণ্ডীদাসদী এলাকার শাখাওয়াত হোসেনের স্ত্রী। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক।

সুন্দরগঞ্জে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, স্বামী গ্রেপ্তার
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার পূর্ব শিবরাম গ্রামে দুই সন্তানের জননী সাজেদা বেগমের (৩৫) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত রোববার রাতে ওই গ্রামে স্বামী আওয়াল খানের বাড়ি থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সাজেদা পূর্ব শিবরামের পশ্চিম বৈদ্যনাথ গ্রামের সাইব উদ্দিনের মেয়ে। পুলিশ আউয়াল খানকে আটক করেছে।

বেতাগীতে তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার 
বরগুনার বেতাগী উপজেলায় নিজ বসতঘর থেকে সাদিয়া আক্তার (১৭) নামের এক কিশোরীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত রোববার রাতে ঝোপখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সাদিয়া ওই গ্রামের মৃত পান্নু প্যাদার মেয়ে। তিনি বেতাগী পৌর শহরের ফরাজী ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কর্মরত ছিলেন।

নাসিরনগরে অটোরিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে আরজান মিয়া (১৯) নামের এক অটোরিকশাচালকের মুখ ও শরীরে স্কচটেপ মোড়ানো মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিখোঁজের এক দিন পর গতকাল সোমবার দুপুরে সরকারি কলেজের গেটের সামনের একটি মার্কেটের পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

কলাপাড়ায় ইন্টারনেট লাইনম্যানের মরদেহ উদ্ধার
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বায়েজিদ শেখ (২৫) নামের এক তরুণের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার টিয়াখালী ইউনিয়নের সাতানি কান্দার একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। বায়েজিদ ইন্টারনেটের লাইনম্যানের কাজ করতেন। তাঁর বাবার নাম কামাল শেখ।

মানিকগঞ্জে শ্বশুরকে খুনের অভিযোগে জামাতা আটক 
মানিকগঞ্জে শ্বশুরকে হত্যার অভিযোগে জামাতাকে আটক করেছে পুলিশ। গত রোববার রাতে সাকরাইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সিদ্দিকুর রহমান ওই গ্রামের রূপচানের ছেলে। তিনি পেশায় অটোরিকশাচালক ছিলেন। অভিযুক্তের নাম রাসেল।

পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানান, সিদ্দিকুর রহমান রাতে অটোরিকশা চার্জে দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। গভীর রাতে শব্দ শুনে তিনি ছেলেকে নিয়ে বের হন। তারা অন্ধকারে একজনকে দৌড়ে পালাতে দেখে তাকে আটকানোর চেষ্টা করেন। এ সময় ওই ব্যক্তির লাথিতে সিদ্দিকুর রহমান আহত হলে তাঁকে মানিকগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে প্রতিবেশীরা ওই ব্যক্তিকে আটক করে পিটুনি দেওয়ার পর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায় যে তিনি সিদ্দিকুরের মেয়ের স্বামী।

শ্রীবরদীতে মাছের খামার থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার
শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় এক তরুণের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সকালে নলিয়ারপাড় এলাকার একটি মাছের খামার থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত কালু মিয়া (২০) দক্ষিণপাড়ার মন্টু মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তাঁর সহকর্মী ও বন্ধু বাদশা মিয়াকে আটক করা হয়েছ।
(অফিস ও প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য)

 

সুপেয় পানি সরবরাহ প্রকল্পে দুর্নীতির প্রমাণ মিলেছে বান্দরবান

বান্দরবানের উপজেলাগুলোতে বিভিন্ন প্রযুক্তির মাধ্যমে সুপেয় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে কয়েকটি প্রকল্প নেওয়া হয়।
তবে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নামমাত্র ও নিম্নমানের কাজ দেখিয়ে প্রকল্পে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছে বলে প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

গত রোববার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে রাত পর্যন্ত বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কাগজপত্র জব্দ করে দুদক। অনিয়মের অভিযোগ যাচাই করতে দুদকের কক্সবাজার কার্যালয়ের এনফোর্সমেন্ট দল কুহালং ইউনিয়নের বাকীছড়া পাড়ায় যায়। সেখানে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়িত কয়েকটি প্রকল্প পরিদর্শন করে কাজের মান ও বাস্তবায়ন পরিস্থিতি সরেজমিন যাচাই করা হয়।

দুদকের কক্সবাজার সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ও আভিযানিক দলের প্রধান আবদুল আল নোমান জানান, বেশ কয়েকটি অভিযোগের ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত যেসব উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং যেসব প্রকল্প চলমান রয়েছে, সেগুলো সরেজমিন তদন্ত করে কমিশনের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
তবে দুদকের একটি সূত্র জানিয়েছে, অভিযানকালে সুপেয় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পে নিম্নমানের যন্ত্রাংশ এবং টিউবওয়েল স্থাপনের একই ছবি বারবার ব্যবহারসহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। এমনই একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন কক্সবাজার কার্যালয় থেকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদনে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধানের অনুমতি চাওয়া হয়েছে কমিশন থেকে।

অভিযান চলাকালে বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে এবং প্রাক্কলনবিদ (এস্টিমেটর) মোহাম্মদ জুলহাস নিজ নিজ অফিসকক্ষে উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বান্দরবান সারা বছরই পর্যটকদের পদচারণায় মুখর থাকে। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় নিরাপদ পানি সরবরাহব্যবস্থা খুবই অপ্রতুল। এই জেলায় নিরাপদ পানি সরবরাহের আওতা ৬৩ শতাংশ। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে ২০২৬ সালে তা ৭৬ শতাংশে উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়। ১৩ শতাংশ বাড়ানোর কথা থাকলেও তা হয়েছে মাত্র ৪ শতাংশ। প্রকল্পের আওতাধীন উপজেলাগুলো বান্দরবান সদর, রোয়াংছড়ি, রুমা, থানচি, লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ি।

সম্পূর্ণ সরকারি খরচে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করে স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছিল ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত। মোট খরচ ধরা হয় ৪৫ কোটি ১৬ লাখ টাকা। প্রকল্পটির উদ্দেশ্য ছিল নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশনব্যবস্থা উন্নয়নের মাধ্যমে বান্দরবান জেলার বিভিন্ন উপজেলার জনগণের স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা।
প্রকল্পের প্রধান কাজ ছিল ১০টি নলকূপ, ৮৫টি পাম্পসহ গভীর নলকূপ, পানি সরবরাহ, ৩০টি বিদ্যুৎ সংযোগসহ পাবলিক টয়লেট, ৮৫টি ইলেকট্রিক সংযোগসহ পাম্প হাউস ও ৮৫টি স্ট্যান্ড পোস্ট স্থাপন। এ ছাড়া ৮৫ কিলোমিটার বিভিন্ন ধরনের পাইপের পানির লাইন স্থাপন ও ১২টি জিএফএস সংস্কার, ১৪০টি রিংওয়েল
এবং রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং কাজও ছিল ওই প্রকল্পের অধীনে।
এ বিষয়ে জানার জন্য বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

‘এক বেলা রাস্তায় নামলে তিন বেলা ব্যথা’

‘আউশকান্দির এগুলারে অখন আর রাস্তা মনে হয় না। এক বেলা রাস্তাত গেলে শইল ব্যথা থাকে তিন বেলা। ডেইলি রাইতে ব্যথার বড়ি খাওন লাগে। গাড়ি কী চালাইতায়; হাডনই তো যায় না। আর ভোট আইলে আউশকান্দিত নেতারা পাগল করি দেয়। ভোট গেলেগি কেউ উক্কি মারে না।’

বিগত ২৫ বছর ধরে সংস্কার না হওয়ায় জনপ্রতিনিধিদের ভোট আদায়ের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে নবীগঞ্জ উপজেলার জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো। আউশকান্দি ইউনিয়নের আউশকান্দি-গোরাইরা বাজার এবং রুদ্রগ্রাম-নবীগঞ্জ বেহাল সড়ক নিয়ে এসব কথা বলেন স্থানীয় এক অটোরিকশা চালক।

স্থানীয়দের ভাষ্য, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দুটি ব্যবহার করেন উপজেলার অন্তত ২৫টি গ্রামের লাখো মানুষ। স্থানীয় বাজার থেকে আমুকোনা বেতাপুর ঈদগাহ হয়ে দেবপাড়া ইউপির ফরিদপুর এবং মৌলভীবাজার সদর উপজেলার গোরাইর বাজার পর্যন্ত সড়কটি বর্তমানে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। গ্রাম্যবাজারে পণ্য পরিবহন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত এবং সদর অংশের সঙ্গে সড়কপথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দুটি সংস্কারে কারও দৃষ্টি নেই। এমনটাই অভিযোগ স্থানীয়দের।
আউশকান্দি-গোরাইরা বাজার সড়কে নবীগঞ্জ ও মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ২০টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ এবং শত শত ছাত্রছাত্রী যাতায়াত করেন। পাকা অংশটুকু ভেঙে এখন মেঠোপথে পরিণত হয়েছে।

প্রতিটি স্থানীয় সরকার ও জাতীয় নির্বাচনে এই সড়কের সংস্কার ইস্যু ভোট আদায়ের প্রধান হাতিয়ার হয়ে দাঁড়ায়। বিগত ২৫ বছরে বিভিন্ন নির্বাচনে প্রার্থীরা এই সড়ক সংস্কারের আশ্বাস দিয়ে ভোট নিলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।
২০০১, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনেও প্রার্থীরা পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছেন। তারা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট প্রার্থনা করলেও নির্বাচন পার হয়ে যাওয়ার পর সংস্কার কাজ শুরু না হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে চরম হতাশা বিরাজ করছে। এদিকে সড়কগুলোতে স্থানীয়দের যাতায়াত চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
দক্ষিণ দৌলতপুর গ্রামের মো. কাজল মিয়া জানান, সড়কটি ভোট আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে প্রার্থীরা ব্যবহার করেন। কিন্তু নির্বাচন চলে গেলে আর মনে থাকে না। অটোরিকশা চালক আমজাদ মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, এটা এখন আর চলাচলের উপযুক্ত নয়। এটা এখন আর সড়ক মনে হয় না।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল মুকিত জানান, সড়কটি সংস্কারের চেষ্টা চলছে এবং কিছুদিনের মধ্যে কাজ শুরু হবে। আউশকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান দিলাওয়ার হোসেন বলেন, নতুন টেন্ডার তালিকায় সড়কটির নাম দেওয়ার জন্য এমপি ডিও দিয়েছেন এবং চলতি বছরের মধ্যেই কাজ হবে বলে তিনি আশাবাদী।
নবীগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা সাব্বির আহমদ জানান, সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বিশেষ প্রকল্পে দেওয়া হয়েছে এবং এমপি মহোদয় এটি অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সম্পন্ন করার জন্য তাগিদ দিয়েছেন।

এদিকে নবীগঞ্জ-রুদ্রগ্রাম সড়কের বেহাল দশায় ভোগান্তিতে পড়েছেন লাখো মানুষ। এক অটোরিকশা চালক বলেন, এক দিন গাড়ি চালালে তিন দিন যায় গায়ে ব্যথা; প্যারাসিটাল খেতে হয় রাতে।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সঙ্গে নবীগঞ্জ শহরের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের ১০ কিলোমিটার অংশজুড়ে চরম পরিস্থিতি। সামান্য বৃষ্টিতেই খানাখন্দ ও বড় বড় গর্তে পানি জমে মরণফাঁদে পরিণত হওয়া এই সড়কটি দেখলে বোঝার উপায় থাকে না, এটি পাকা রাস্তা, নাকি গ্রামের কোনো মেঠোপথ। এলাকাবাসী মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করলেও কর্তৃপক্ষের টনক নড়েনি বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার পানিউমদা, গজনাইপুর, দেবপাড়া ও বাউসা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষের চলাচলের প্রধান মাধ্যম এই সড়ক। এই পথ দিয়েই শাহ তাজ উদ্দিন কুরেশী (রহ.) উচ্চ বিদ্যালয়, ধুলচাতল তাজিয়া মোবাশ্বীরিয়া আলিম মাদ্রাসা, দিনারপুর কলেজ, দিনারপুর উচ্চ বিদ্যালয়, দিনারপুর দাখিল মাদ্রাসা, পানিউমদা রাগীব-রাবেয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সরকারি চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীরা যাতায়াত করেন। একমাত্র বাইপাস সড়ক হওয়ায় ট্রাক, অটোভ্যান, অটোরিকশা ও প্রাইভেটকার এক সময় ব্যাপক চলাচল করলেও বেহাল দশার কারণে এখন যান চলাচল খুবই সীমিত।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাড়ে আট কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটি সংস্কার করা হলেও অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে তা এক বছরও টেকেনি। সংস্কারের এক মাস পর থেকেই রাস্তা ভাঙতে শুরু করেছিল। বর্তমানে নবীগঞ্জ-রুদ্রগ্রাম ১০ কিলোমিটার সড়কের আইনগাঁও, ভরপুর, চৌধুরী বাজার, বাউসা বাজার, বাউসা পয়েন্ট, বাউসা মাদ্রাসা পয়েন্ট, নাদামপুর মাদ্রাসা পয়েন্ট, রিফাতপুর ও শিবপাশা এলাকার কোথাও পাকা সড়কের লেশমাত্র নেই।

এসব স্থানে কার্পেটিং উঠে গিয়ে সৃষ্টি হওয়া বড় বড় গর্তে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি ও কাদামাটি জমে থাকে। যার ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
বাঁশডর গ্রামের সিএনজি চালক মহসিন আলী জানান, নবীগঞ্জ-রুদ্রগ্রাম সড়কের বেহাল অবস্থা। একদিন গাড়ি চালালে তিন দিন যায় গায়ে ব্যথা, রাতে প্যারাসিটামল খেতে হয় গায়ের ব্যথার জন্য। সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা হলে জনসাধারণ অনেক উপকৃত হবে।
দিনারপুর কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক তনুজ রায় জানান, বিভিন্ন কাজে উপজেলা সদরে যেতে হয় নবীগঞ্জ-রুদ্রগ্রাম সড়ক হয়ে। বৃষ্টিতে সড়কের বড় বড় গর্তে পানি জমে যাওয়ায় মানুষের খুবই কষ্ট হয়। নিম্নমানের কাজ হওয়ায় সড়ক সংস্কারের এক মাস পর থেকে ভাঙতে শুরু করে। এখন একেকটা ভাঙন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
লাল সবুজ যুব সংঘের সভাপতি হুমায়ুন কবির আজিম বলেন, সড়কটি সংস্কারের জন্য মানববন্ধন করে ইউএনওকে জানালেও সম্পূর্ণ সড়ক সংস্কার হয়নি। ফলে তাদের এলাকার ছাত্র-জনতা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ের প্রকৌশলী সাব্বির আহমদ জানান, নবীগঞ্জ-রুদ্রগ্রাম সড়ক সংস্কারে ইতোমধ্যে হবিগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে ঢাকায় প্রাক্কলন অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে।

অপ্রতিম হত্যা ভিন্ন কারণও দেখছে পরিবার, তদন্তের দাবি

কুমিল্লায় স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের আইফোন ছিনিয়ে নিতে তাকে পাহাড়ে নিয়ে পিটিয়ে হত্যার কথা বলেছে পুলিশ। তবে ঘটনার পেছনে অন্য কারণও দেখছেন তার মা নাহিদা বেগম। তিনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী প্রক্টর থাকাকালে কিশোর গ্যাংয়ের এক সদস্যকে পুলিশে দিয়েছিলেন। এ ছাড়া তাঁর স্বামীর প্রতিষ্ঠানে হত্যার ১০ দিন আগে এক কিশোর চাকরি নিয়েছিল। দুই ঘটনাকে তিনি সন্দেহ করছেন।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আব্দুল কাইয়ুম চত্বরে গতকাল সোমবার সকালে মানববন্ধন করে শিক্ষক সমিতি। কর্মসূচি চলাকালে বক্তব্য দেন বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কামরুন নাহার। কর্মসূচিতে অপ্রতিমের মা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগম থাকতে না পারায় তাঁর পক্ষে বক্তব্য দেন তিনি।

অপ্রতিমের মায়ের বরাত দিয়ে কামরুন নাহার বলেন, অপ্রতিম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন সালমানপুর এলাকার ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর ঘটনার প্রায় ১০ দিন আগে অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানে বিনা বেতনে চাকরি নিয়েছিল। এ ছাড়া সহকারী প্রক্টর থাকাকালে ড. নাহিদা এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনায় সহায়তা দিয়েছিলেন। ওই সময় তিনি কিশোর গ্যাংয়ের কয়েকজন সদস্যকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। তাদের মধ্যে দুজন অপ্রতিম হত্যা মামলার আসামি সাইফুল ইসলাম তুহিনের গ্যাংয়ের সদস্য ছিল। এই দুই ঘটনার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র আছে কিনা, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।

কামরুন নাহার আরও বলেন, হত্যা মামলায় যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং যাদের অপ্রাপ্তবয়স্ক বলে দাবি করা হচ্ছে, তারা আদৌ অপ্রাপ্তবয়স্ক কিনা, তা ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে আইন সংশোধন করে হলেও অপরাধীদের যেন উপযুক্ত সাজা নিশ্চিত করা হয়।
সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শোক র‍্যালি ও মানববন্ধনের আয়োজন করে শিক্ষক সমিতি। র‍্যালিটি শহীদ আব্দুল কাইয়ুম চত্বর থেকে শুরু হয়ে প্রশাসনিক ভবন ও মূল ফটক প্রদক্ষিণ করে ফের শহীদ আব্দুল কাইয়ুম চত্বরে এসে শেষ হয়।

র‍্যালিতে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার, প্রক্টর ড. মো. আবদুল হাকিম, শিক্ষক সমিতির আহ্বায়ক ড. শামীমা নাসরিনসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা। এ সময় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন এলাকায় কিশোর গ্যাং ও মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

পুলিশের তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে, অপ্রতিম হত্যায় সরাসরি জড়িত তুহিন (১৯), ১৫ ও ১৬ বছরের দুই কিশোর এবং জড়িত সন্দেহে মো. সিয়ামকে (১৯) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সিয়াম বাদে অন্য তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে গ্রেপ্তার আসামিরা আইনফোনের জন্য এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে স্বীকার করলেও মাদক, অর্থ ও কিশোর গ্যাং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোও তদন্তে আনা হচ্ছে। যাচাই করা হচ্ছে আসামিদের মোবাইল কল লিস্ট। আসামিদের কারা আশ্রয় দিয়েছে, হত্যার পর কারও কোনো সহায়তা ছিল কিনা, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কোটবাড়ী সালমানপুর এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, অপ্রতিম বয়সে ছোট হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকার সন্তান হওয়ায় এলাকার একদল কিশোরের সঙ্গে সখ্য ছিল। এক কিশোরকে ধার দেওয়া টাকার জন্যও চাপ দিচ্ছিল অপ্রতিম। এ জন্য ঘাতকরা তার ওপর হয়তো ক্ষুব্ধ ছিল। বেশ কিছু ছবিতে ঘাতকদের সঙ্গে অপ্রতিমের ছবি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হচ্ছে। ওরা প্রায়ই মোটরসাইকেল নিয়ে কুবি এলাকায় ঘুরত। অনেকেই ধারণা করছেন এমন অসম বন্ধুত্ব তাকে মৃত্যুর মুখে ঢেলে দিয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলেন, হত্যার পরও আসামিরা সামাজিক মাধ্যমে সরব ছিল। তারা বাসায় গিয়ে পরিবারকে সান্ত্বনা দেয়। তুহিনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার পরও তার মোবাইলে এক কিশোরের বারবার কল আসছিল। মরদেহ উদ্ধারের সময়ও এক কিশোর লাইভে ছিল।

রোববার দুপুরে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানান। শুক্রবার কুবি-সংলগ্ন এলাকা থেকে নিখোঁজ হন অপ্রতিম। পরদিন কুবির অদূরে একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম সমকালকে বলেন, তিন আসামিকে পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ ও তিন আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আইফোনের জন্য অপ্রতিমকে হত্যার কথা বললেও এর নেপথ্যে অর্থ কিংবা কিশোর গ্যাং সংশ্লিষ্টতা ছিল কিনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘অপ্রতিমের বাবা-মায়ের মানসিক অবস্থা স্বাভাবিক হলে এ বিষয়ে আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলব।’

বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ফাঁড়ি স্থাপনের দাবি 
২০০৬ সালের ২৮ মে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়। এর পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ও এর আশপাশের এলাকায় পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের দাবি উঠলেও ২০ বছরেও সেখানে ফাঁড়ি স্থাপন হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র বলছে, দীর্ঘ ২০ বছরে এলাকায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিনোদনকেন্দ্র গড়ে উঠেছে। কিন্তু নিরাপত্তার অভাবে লালমাই-ময়নামতি পাহাড় এলাকায় খুন, ধর্ষণ, চুরি ছিনতাই, যৌন হয়রানিসহ নানা অপরাধজনক কর্মকাণ্ড ঘটছে। গত ৩০ আগস্ট লালমাই পাহাড়ের সাধেরমুড়া এলাকায় এক কিশোরীকে পাঁচ বন্ধু দলবদ্ধ ধর্ষণ করে। সর্বশেষ গত শুক্রবার স্কুলছাত্র অপ্রতিম হত্যার পর সেখানকার নিরাপত্তার বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক আবদুর রাজ্জাক সোহেল বলেন, ‘কুমিল্লায় একের পর এক অপরাধ সংঘটিত হওয়ায় আমরা নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন এবং পুরো ক্যাম্পাসকে অবিলম্বে সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনতে হবে।’

গ্রেপ্তার দুই কিশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে
অপ্রতিম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার চারজন‌ের মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক দুই কিশোরকে গাজীপুরের টঙ্গীর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে (বালক) পাঠানো হয়েছে। গতকাল বি‌কেল ৪টায় গ্রেপ্তার দুই কিশোরকে টঙ্গীর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে আনা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শিশু উন্নয়ন কে‌ন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক মো. এমরান খান।

এমরান খান সমকালকে জানান, কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে দুই কিশোরকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে আনা হয়। যে শিশু হত্যার ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, সেই ঘটনার জন্য তাদের মধ্যে অনুশোচনার কোনো প্রকাশ দেখা যায়নি। প্রিজনভ্যান থেকে নামানোর পর তারা বেশ স্বাভাবিক ছিল। স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর তাদের নির্ধারিত কক্ষে নেওয়া হয়। সেখানে খাবার দেওয়া হলে তারা স্বাভাবিকভাবেই খাবার খায়।

শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি 
অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২০ ঘণ্টা পর তার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করছে চাইল্ড রাইটস অ্যাডভোকেসি কোয়ালিশন বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক। কোয়ালিশন মনে করে, একটি শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর প্রতিটি মুহূর্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশুকে জীবিত ও নিরাপদে উদ্ধারের জন্য দ্রুত অনুসন্ধান, তথ্য সংগ্রহ, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

ইউক্রেনে হামলা জোরদার করার হুমকি রাশিয়ার

রাশিয়ার রাজধানী মস্কো ও এর আশপাশের অঞ্চলগুলোতে সম্প্রতি ভয়াবহ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। জবাবে হামলা আরও জোরদার করার হুমকি দিয়েছে রাশিয়া। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, রাশিয়ার বেসামরিক স্থাপনায় কিয়েভ হামলা চালিয়েছে। জবাবে রুশ সেনাবাহিনী কিয়েভে সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে উচ্চ নির্ভুলতার হামলা চালানো অব্যাহত রাখবে।

রাশিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দল ইউনাইটেড রাশিয়া বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে।

দেশটির অভিযোগ, নির্বাচনের ভোট গ্রহণের শেষ দিন মস্কোতে ব্যাপক ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। হামলার লক্ষ্য ছিল নির্বাচন ব্যাহত করা। এতে অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। ২০২২ সালে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর মস্কোর ওপর এটিই সবচেয়ে বড় হামলা বলে জানিয়েছে রুশ কর্তৃপক্ষ। মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিনের দাবি, হামলায় প্রায় ১ হাজার ৬০০টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে ৪৫০টি সরাসরি মস্কোকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল।

হামলার পরের বিভিন্ন ছবিতে মস্কোর উপকণ্ঠের একটি বহুতল আবাসিক ভবনে বড় ধরনের গর্ত দেখা গেছে। অন্য একটি ছবিতে একটি তেল শোধনাগার বলে ধারণা করা স্থাপনা থেকে কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি হামলার প্রশংসা করে বলেন, ‘‘গত রাতে মস্কো অঞ্চলে আমাদের দূরপাল্লার হামলার ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। মস্কোতে হামলার জন্য ইউক্রেনে তৈরি ‘ফ্লামিঙ্গো’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রও ব্যবহার করা হয়েছে। এর আগে রাশিয়ার ভেতরে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে এই দূরপাল্লার অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল।’’

এদিকে ইউরোপের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, রাশিয়া ন্যাটোকে পরীক্ষা করে দেখার জন্য শিগগিরই কোনো পদক্ষেপ নিতে পারে। সাংবাদিক শন ওয়াকার লিখেছেন, এক ইউরোপীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলা বছরের মধ্যে নয়, কয়েক মাসের মধ্যে হতে পারে।

পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্কও পার্লামেন্টে বলেছেন, গোয়েন্দা মূল্যায়নে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে রাশিয়া ন্যাটোভুক্ত কোনো ভূখণ্ডে ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে রাশিয়া প্রমাণ করতে চাইতে পারে, ন্যাটোর বহুল আলোচিত ‘অনুচ্ছেদ ৫’ বাস্তবে যতটা কার্যকর বলে ধারণা করা হয়, তা আসলে ততটা নয়।

কিয়েভের আশপাশের অঞ্চলে চারজন নিহত
রাশিয়ার রাতভর হামলায় ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের আশপাশের অঞ্চলে চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিনটি শিশু রয়েছে বলে রোববার জানিয়েছে কিয়েভের আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ। সারাদিন কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় রুশ ড্রোন হামলা অব্যাহত ছিল। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে। একটি ব্যক্তিগত বাড়িতে রুশ ড্রোন হামলায় এক নারী ও তাঁর তিন বছর বয়সী দুই সন্তান নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জরুরি সেবা বিভাগ। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।

গাজায় তীব্র হচ্ছে মানুষের হতাশা, ইসরায়েলি গুলিতে নিহত ৪

ইসরায়েলি হামলায় গাজায় গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত চার ফিলিস্তিনি নিহত ও ১৭ জন আহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বুলেটিনে বলা হয়, নিহতদের একজন আগের হামলায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বুলেটিন অনুসারে, একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার ভোরে দক্ষিণ গাজা উপত্যকায় রাফাহর আল-মাওয়াসি এলাকায় ইসরায়েলি সেনারা এক ফিলিস্তিনি কিশোরকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত কিশোরটি ঘটনাস্থলেই মারা যায় বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। মধ্য গাজায় মৃত্যুর সড়ক নামে পরিচিত সালাহ আল-দিন সড়ক দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় এক ফিলিস্তিনি নারীকে লক্ষ্য করেও ইসরায়েলি ট্যাঙ্ক থেকে গুলি ছোড়া হয়। এই পথে ইসরায়েলি সেনাদের হামলায় শত শত ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

এদিকে সমুদ্রপথেও উত্তেজনা বাড়ছে বলে জানা গেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যে। গাজার উপকূলের কাছে ফিলিস্তিনি জেলেদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়েছে ইসরায়েলি নৌযান থেকে। এতে তিনজন জেলে আহত হন।

যুদ্ধবিরতির জন্য নির্ধারিত হলুদ রেখার কাছে বাস্তুচ্যুত হয়ে তাঁবুতে বসবাসকারী লোকজনকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে রোববার রাতেও। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে হামাদ এলাকার কাতার ক্যাম্পে অন্তত চার ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। এই এলাকাটি হলুদ রেখা থেকে বেশ দূরে হলেও সেখানে ব্যাপকভাবে ইসরায়েলি গুলি চালানো হয়। ইসরায়েলি সামরিক যান থেকেও গুলি ছোড়া হয় এবং এতে মানুষ আহত হন।

গাজায় বিপন্ন মানবিকতা    
প্রায় এক বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গাজা উপত্যকায় হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চলছেই।
গাজায় মানুষের হতাশা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। সেখানে মানুষের মানবিক পরিস্থিতিও অত্যন্ত সংকটাপন্ন। অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় যুদ্ধবিরতির জন্য নির্ধারিত হলুদ রেখার ভেতরে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে বহু ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। ইসরায়েলি বাহিনী গাজার ৭০ শতাংশের বেশি এলাকার ওপর সামরিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে।

আলজাজিরার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পর ৩৪৪ দিনের মধ্যে ৩০৮ দিনই গাজায় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। অর্থাৎ মাত্র ৩৬ দিন গাজায় কোনো সহিংস হামলা, মৃত্যু বা আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। এর পরও যুক্তরাষ্ট্র বলে আসছে যুদ্ধবিরতি এখনও বহাল রয়েছে। ২০২৫ সালের ১৯ ও ২৯ অক্টোবর ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী দুটি দিন। সেসময় ইসরায়েলি হামলায় মোট ১৫৪ জন নিহত হন।

দুই মাসে এডিপির ব্যয় ২ শতাংশেরও কম

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাস (জুলাই-আগস্ট) বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন হয়েছে বরাদ্দের মাত্র ১ দশমিক ৮৫ শতাংশ। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়েও বাস্তবায়নের হার কম ছিল। তবে সে সময়ও চলতি অর্থবছরের তুলনায় কিছুটা বেশি ব্যয় হয়েছিল। বরাদ্দের ২ দশমিক ৩৯ শতাংশ ব্যয় হয়েছিল ওই সময়ে। গতকাল সোমবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়নবিভাগ (আইএমইডি) প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

গত অর্থবছরের এ রকম সময়ের বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। সে সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার আগের সরকারের নেওয়া প্রকল্প পর্যালোচনা করার উদ্যোগ নেওয়ায় অনেক উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ স্থগিত ছিল। কিছু প্রকল্প বাদও দেওয়া হয়।
আবার কিছু প্রকল্পের বরাদ্দ কমানো হয়েছে। এসব কারণে ওই সময় এডিপি বাস্তবায়নের গতি কম ছিল। তবে বর্তমানের বাস্তবতা সে রকম নয়। তারপরও এডিপি বাস্তবায়ন আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়েও কমলো।

আইএমইডির তথ্য অনুযায়ী, গত দুই মাসে বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে পাঁচ হাজার ৭১০ কোটি টাকার মতো। গত অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল পাঁচ হাজার ৭১৫ কোটি টাকা। শতাংশে ১ শতাংশের মতো কম হলেও গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ব্যয়িত অর্থের ব্যবধান পাঁচ কোটি টাকার মতো। এর কারণ হচ্ছে এই অর্থবছরের এডিপির বড় আকার। গত অর্থবছরের চেয়ে যা প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা বেশি। চলতি অর্থবছরের এডিপির আকার তিন লাখ আট হাজার ৯২৫ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছর ছিল দুই লাখ ৩৮ হাজার ৬৯৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা।
শুধু আগস্ট মাসের এডিপি বাস্তবায়নের হার খুবই কম। মাসটিতে বাস্তবায়ন হার মাত্র ১ দশমিক ১৬ শতাংশ। অর্থমূল্যে ব্যয় হয়েছে তিন হাজার ৫৮৯ কোটি টাকারও কিছু কম। গত অর্থবছরের একই মাসের বাস্তবায়নের হার ছিল ১ দশমিক ৭১ শতাংশ। ওই মাসে ব্যয় হয়েছিল চার হাজার ৭০ কোটি টাকার কিছু বেশি।

আইএমইডির প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত দুই মাসে বিদেশি ঋণের প্রকল্পের গতি অনেক কম ছিল। এ ধরনের প্রকল্পের বাস্তবায়ন হার মাত্র ১ দশমিক ২২ শতাংশ। তুলনামূলক কিছুটা ভালো অবস্থানে আছে বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নের প্রকল্প। এ ধরনের প্রকল্পের বাস্তবায়ন হার ৩ দশমিক ৬২ শতাংশ। অন্যদিকে সরকারের নিজস্ব অর্থায়নের প্রকল্পের বাস্তবায়ন হার ২ দশমিক ১৩ শতাংশ।
দুই মাসে এক টাকাও খরচ করতে পারেনি পাঁচ মন্ত্রণালয় ও বিভাগ। এই মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো হচ্ছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়, ধর্ম মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগ। এ ছাড়া আরও ছয়টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ নামমাত্র অর্থ খরচ করতে সক্ষম হয়েছে।
আইএমইডির প্রতিবেদন বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, সর্বোচ্চ বরাদ্দের ১৫ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অবস্থান ষষ্ঠ। চলতি অর্থবছর এই মন্ত্রণালয় বরাদ্দ পেয়েছে ৯ হাজার ৫২০ কোটি টাকা। অথচ গত দুই মাসে ব্যয় করতে পেরেছে মাত্র ১৭ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের মাত্র শূন্য দশমিক ১৮ শতাংশ। এ ছাড়া রেলপথ মন্ত্রণালয়ের এডিপি ব্যয় মাত্র শূন্য দশমিক ৫৯ শতাংশ। অর্থমূল্যে ব্যয়ের এই পরিমাণ ৩২ কোটি টাকারও কম।

মেধাস্বত্ব সুরক্ষায় কার্যকর আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো জরুরি

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) কাতার থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের শিল্প খাতকে মেধাস্বত্ব, উদ্ভাবন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। এরকম চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর আইনি কাঠামো এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো জরুরি। মেধাস্বত্ব সুরক্ষা করা হলে উদ্ভাবন, প্রযুক্তি উন্নয়ন, ব্র্যান্ডিং ও মূল্য সংযোজনের নতুন সুযোগ ও সম্ভাবনা রয়েছে।

গতকাল সোমবার ‘এলডিসি-পরবর্তী সময়ে শিল্প খাতের রূপান্তর: মেধাস্বত্ব অধিকার সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ ও কৌশল নির্ধারণ’বিষয়ক এক কর্মশালার ফোকাস গ্রুপ আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। রাজধানীর ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সাপোর্ট টু সাসটেইনেবল গ্র্যাজুয়েশন প্রজেক্ট (এসএসজিপি) ও ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) যৌথভাবে এই কর্মশালার আয়োজন করে।

ইআরডি সচিব মো. শাহ্‌রিয়ার কাদের ছিদ্দিকী কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। সভাপতিত্ব করেন ডিসিসিআইর সভাপতি তাসকীন আহমেদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ ও ওয়াইপো একাডেমির সাবেক পরামর্শক মোহাম্মদ আতাউল করিম। বিভিন্ন শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিনিধিরা কর্মশালায় অংশ নেন।

আলোচনায় ইআরডি সচিব মো. শাহ্‌রিয়ার কাদের ছিদ্দিকী বলেন, মেধাস্বত্ব ব্যবস্থা শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট আইনি কাঠামো ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। এলডিসি উত্তরণের পর সম্ভাব্য ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে সরকার এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতকে এগিয়ে নিতে সরকার বড় ধরনের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। এলডিসি থেকে উত্তরণের পর দেশের অর্থনীতি ও শিল্প খাতে যেসব পরিবর্তন আসতে পারে, সেগুলো বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে পণ্যের মেধাস্বত্বের বিষয়টির গুরুত্ব প্রতিনিয়ত বাড়ছে এবং এলডিসি-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের জন্য একটি শক্তিশালী মেধাস্বত্ব অধিকারের ইকোসিস্টেম একান্ত অপরিহার্য। দেশের ওষুধ, তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতে সামনের দিনগুলোতে শুধু উৎপাদন বাড়ানোর ওপর নজর না দিয়ে উদ্ভাবন, ব্র্যান্ডিং, প্রযুক্তি বিনিময় এবং মূল্য সংযোজনের ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন। তবে দেশে মেধাস্বত্ব আইনের বিদ্যমান কাঠামোগত দীর্ঘসূত্রতা, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়হীনতা, প্রয়োজনীয় নীতিমালার অভাব, সীমিত সক্ষমতা এবং সর্বোপরি বেসরকারি খাতে এ বিষয়ে সচেতনতার অভাব অন্যতম চ্যালেঞ্জ।

একটি আধুনিক ও কার্যকর মেধাস্বত্ব অধিকারবিষয়ক কার্যালয় স্থাপনের পাশাপাশি দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রামে আইপি ট্রাইব্যুনাল চালু করা, ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশনে স্বয়ংক্রিয় ডিজিটাল ব্যবস্থার প্রবর্তন, প্রশিক্ষিত জনবল নিয়োগ এবং বিশেষ করে এসএমই উদ্যোক্তাদের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর প্রস্তাব দেন তিনি।
এসএসজিপির প্রকল্প পরিচালক ও ইআরডির অতিরিক্ত সচিব এ.এইচ.এম জাহাঙ্গীর বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বেসরকারি খাত। এক্ষেত্রে মেধাস্বত্ব আইনের যথাযথ প্রয়োগ, শিল্প খাতের প্রস্তুতি এবং প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন একান্ত অপরিহার্য।

Arif Hazra 1790042808

ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, এলডিসি-পরবর্তী সময়ের চ্যালেঞ্জ উত্তরণে শিল্পের প্রতিটি খাতের নিজস্ব কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং এ লক্ষ্যে সরকারি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর যথাযথ উদ্যোগ ও সহযোগিতা প্রদান নিশ্চিত করা জরুরি।

এসএসজিপির প্রকল্প উপদেষ্টা ও সাবেক সচিব আবদুল বাকী বলেন, এলডিসি উত্তরণের বর্ধিত সময়সীমা ভালোভাবে কাজে লাগাতে সরকারি সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করতে হবে।
কৃষি রসায়ন খাতকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে চিহ্নিত করে কার্যকর ও যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন করার আহ্বান জানান এগ্রোকেমিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কাজী মোস্তাফিজুর রহমান।

ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার ফায়েজ আহমেদ বলেন, ওষুধ খাতে এলডিসি-পরবর্তী সময়ে দেশীয় বাজারে আন্তর্জাতিকভাবে মেধাস্বত্ব আইনের প্রয়োগ করলে ওষুধের দাম বেশ বাড়বে। তাই বিষয়টির দিকে নজর দিতে হবে। তবে সেক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।
ক্রিয়েটিভ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে নিজস্ব পণ্যের ব্র্যান্ড তৈরি, মানবসম্পদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অ্যাসোসিয়েশনের মহাপরিচালক মো. আজিজুর রহমান।
নতুন পণ্য ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বয় বাড়ানো এবং উৎপাদিত পণ্যের জিআই নিবন্ধনের পাশাপাশি বাণিজ্যিকীকরণের ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আবুরেজা এম. মুজারেবা।

তেলের দাম বৃদ্ধিতে এনসিপির বিক্ষোভ, সরকারকে হুঁশিয়ারি

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে সোমবার রাজধানীতে বিক্ষোভ করেছে এনসিপি। এ কর্মসূচি থেকে দলটির নেতারা বিএনপি সরকারকে বিদায়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, সরকার জনগণের গলায় ছুরি বসিয়েছে। যারা জনগণের গলায় ছুরি বসায়, তাদের আর ক্ষমতায় থাকার প্রয়োজন নেই।

রাজধানীর বাংলামোটরে সমাবেশের পর এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল হয়। মিছিলটি শেরাটন মোড়ে সামনে গিয়ে শেষ হয়।

বাংলামোটর মোড়ে সমাবেশে বক্তব্য দেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানিসংকট রয়েছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা যে বিএনপি সরকারের নেই, সেটা ইতিমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে।

বিএনপি সরকার ইতিমধ্যে দেশের মানুষের সামনে ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছে মন্তব্য করে নাসীরুদ্দীন বলেন, এই ব্যর্থ সরকারকে আমরা লংমার্চ থেকে বলেছি, তাদের সামনে একটাই পথ আছে—এক দফা দাবি। যদি সরকার মনে করে যে বিরোধী দল বা ১১–দলীয় জোট আমাদের কী করবে, আমরা বলব ১১–দলীয় জোট কিছু করবে না, জনগণ রাস্তায় আপনাদের ধাওয়া দেবে। কারণ, জনগণের পেটে আপনারা লাথি দিয়েছেন।

মিছিলে এনসিপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক ইসহাক সরকার ও সদস্যসচিব এস এম শাহরিয়ার, ঢাকা জেলা উত্তরের আহ্বায়ক নাবিলা তাসনিদ, দলের যুব সংগঠন যুবশক্তির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ সোহেল, শ্রমিক সংগঠন জাতীয় শ্রমিক শক্তির সদস্যসচিব ঋআজ মোর্শেদসহ এনসিপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা অংশ নেন।

সন্ধ্যার পিক সময়ে ঘাটতি ১ হাজার ৮৪৮ মেগাওয়াট রাতে বেড়েছে লোডশেডিং

রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে গতকাল সোমবার দিনভর প্রচণ্ড গরমের পর সন্ধ্যায় বেড়েছে বিদ্যুতের চাহিদা। সেই সঙ্গে বেড়েছে লোডশেডিংও। সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ ঘাটতি দেড় হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সর্বোচ্চ এক হাজার ৮৪৮ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়। রাত ৮টা ও ৯টায়ও ঘাটতি ছিল যথাক্রমে এক হাজার ৫৯২ এবং এক হাজার ৫৭২ মেগাওয়াট। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায়ও সন্ধ্যার পর একাধিকবার বিদ্যুৎ বিভ্রাটের খবর পাওয়া গেছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সোমবার রাত ৯টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৭ হাজার ৩৩৯ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সাবস্টেশন প্রান্তে সরবরাহ হয়েছে ১৫ হাজার ৭৬৭ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি ছিল এক হাজার ৫৭২ মেগাওয়াট।
সন্ধ্যার আগে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হয়। বিকেল ৩টায় লোডশেডিং ছিল এক হাজার ৫৫৫ মেগাওয়াট। এক ঘণ্টা পর তা বেড়ে হয় এক হাজার ৭৭১ মেগাওয়াট। বিকেল ৫টায় কিছুটা কমে এক হাজার ৩৫৭ মেগাওয়াট হলেও সন্ধ্যা ৬টায় আবার এক হাজার ৮৭ মেগাওয়াট ঘাটতি ছিল। সন্ধ্যা ৭টায় চাহিদা ১৭ হাজার ১৪০ মেগাওয়াটের বিপরীতে সরবরাহ ছিল ১৫ হাজার ৬২০ মেগাওয়াট। তখন ঘাটতি ছিল এক হাজার ৫২০ মেগাওয়াট।

রোববারের তুলনায় অবনতি
এক দিনের ব্যবধানেই বিদ্যুৎ পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে। গত রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় লোডশেডিং ছিল ৪১৯ মেগাওয়াট। রাত ৭টায় ২৯৯, রাত ৮টায় ২৪৯ এবং রাত ৯টায় মাত্র ২২০ মেগাওয়াট ঘাটতি ছিল। রাত ১০টা ও ১১টায়ও ঘাটতি ছিল যথাক্রমে ২১৫ ও ২২২ মেগাওয়াট।
এর বিপরীতে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ঘাটতি দাঁড়ায় এক হাজার ৮৪৮ মেগাওয়াট। অর্থাৎ একই সময়ে এক দিনের ব্যবধানে লোডশেডিং বেড়েছে প্রায় সাড়ে চার গুণ। রাত ৮টায় আগের দিনের তুলনায় ঘাটতি বেড়েছে ছয় গুণের বেশি। রাত ৯টায় বেড়েছে সাত গুণেরও বেশি।
তবে সোমবার দিনের প্রথম ভাগে পরিস্থিতি তুলনামূলক স্বাভাবিক ছিল। দুপুর ১২টায় চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৩০ মেগাওয়াট, সরবরাহ ১৪ হাজার ৯২৪ মেগাওয়াট। তখন ঘাটতি ছিল মাত্র ১০৬ মেগাওয়াট। দুপুর ১টায় তা বেড়ে ২৯১ এবং দুপুর ২টায় ৭১৯ মেগাওয়াট হয়। এরপর বিকেল থেকে ঘাটতি দ্রুত বাড়তে থাকে।

গ্যাস সরবরাহ
সোমবার দুপুর ২টায় দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল দুই হাজার ৫৯১ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় সরবরাহ হয়েছে গ্যাস এক হাজার ৫৮৮ এবং এলএনজি থেকে এক হাজার ৩ মিলিয়ন ঘনফুট।