কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় মাকে কুপিয়ে ও ছয় মাস বয়সী ভাতিজিকে আছাড় মেরে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক তরুণের বিরুদ্ধে। পুলিশ বলছে, আত্মহত্যায় বাধা দেওয়ায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। প্রতিবেশীরা অভিযুক্ত ইমন মিয়াকে (২৪) আটকে পুলিশে সোপর্দ করেছেন।
বাগেরহাটের রামপালে হামলায় যুবক নিহত ও মানিকগঞ্জে শ্বশুরকে খুনের অভিযোগে জামাতাকে আটক করেছে পুলিশ। খুলনা, ফরিদপুরের ভাঙ্গা, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, বরগুনার বেতাগী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর, পটুয়াখালীর কলাপাড়া ও শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় সাতটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
কুমিল্লার দেবিদ্বারে খুন হওয়া দুজন হলেন উপজেলার বড়শালঘর গ্রামের দক্ষিণপাড়ার মোস্তফা মাস্টারের বাড়ির মৃত ফরিদ মিয়ার স্ত্রী পেয়ারা বেগম (৬২) ও ইসরাত জাহান। হামলায় ইমনের ভাবি রাবেয়া বেগম আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ইমন ওই গ্রামের ফরিদ মিয়ার ছেলে এবং ইশরাত তাঁর ভাই সুজন মিয়ার মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাঁচ বছর আগে ফুটবল খেলতে গিয়ে ইমনের পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে যায়। এর পর থেকে তিনি স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারেন না। অনেক চিকিৎসা করিয়েও কোনো লাভ হয়নি। সম্প্রতি পায়ের যন্ত্রণা আরও বেড়ে যায়। দীর্ঘদিনের পঙ্গুত্ব, বেকারত্ব, দারিদ্র্য ও পায়ের তীব্র যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে তিনি ‘আত্মহত্যা’র সিদ্ধান্ত নেন। গত রোববার রাতে আত্মহত্যার চেষ্টা করলে পেয়ারা বেগম ও রাবেয়া বেগম বাধা দেন।
তারা আরও জানায়, আত্মহত্যায় বাধা দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে গতকাল সকালে মা ও ভাবিকে গালাগাল শুরু করেন ইমন। একপর্যায়ে ঘরে থাকা ধারালো দা দিয়ে মাকে কুপিয়ে জখম করেন। শাশুড়িকে বাঁচাতে রাবেয়া ছুটে গেলে তাঁর কোল থেকে ভাতিজি ইসরাতকে কেড়ে নিয়ে আছাড় মারেন। পরে ভাবিকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন। চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা গিয়ে তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক পেয়ারা বেগম ও ইসরাতকে মৃত ঘোষণা করেন। রাবেয়াকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনার পর ইমনকে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেন প্রতিবেশীরা।
দেবিদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, পায়ের যন্ত্রণায় মানসিক রোগে ভোগা ইমন আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। এতে বাধা দেওয়ায় তিনি এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে প্রাথমিক স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।
খুলনায় হোটেলে যুবকের মরদেহ, নারী আটক
খুলনা নগরীর একটি আবাসিক হোটেল থেকে সোহেল রানা ওরফে বাবু (৩৫) নামের যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল হোটেলটির দ্বিতীয় তলার ১০ নম্বর কক্ষ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। সোহেল রানা লবণচরা থানার হরিণটানা অটোস্ট্যান্ড রোডের লোকমান ফকিরের ছেলে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও হোটেলকর্মীরা জানান, গত শনিবার সন্ধ্যায় দুজন স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ওই হোটেলে ওঠেন। গত রোববার রাতে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে ওড়না পেঁচিয়ে সোহেল রানাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন ওই নারী।
খুলনা সদর থানার ওসি লোকমান হোসেন রিপন জানান, অভিযুক্ত নারীর সঙ্গে সোহেলের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। তিনি তাঁকে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। রোববার রাতে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে ওড়না পেঁচিয়ে ওই নারীই সোহেলকে হত্যা করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিষয়টি স্বীকার করেছেন তিনি।
রামপালে হামলায় যুবক নিহত
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় হামলায় শেখ আহাদ আহমেদ ইতু (২৪) নামের এক তরুণ নিহত হয়েছেন। এ সময় তাঁর বাবা, মা ও ছোট ভাই আহত হন। গতকাল উপজেলার ইসলামাবাদ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ইতু ওই গ্রামের শেখ ফরিদুজ্জামানের ছেলে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফরিদুজ্জামানের পরিবারের সঙ্গে দূরসম্পর্কের চাচাতো ভাই বাকি বিল্লাহ ও মাসুমের জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। গত রোববার বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন নিয়ে দুই পক্ষের কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। গতকাল সকালে বাড়ির সামনের রাস্তায় পানি নিষ্কাশন নিয়ে আবারও কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে মারামারি বেধে যায়। এ সময় দেশি অস্ত্রের আঘাতে ইতু ও তাঁর বাবা শেখ ফরিদুজ্জামান (৬০) জখম হন। তাদের বাঁচাতে গিয়ে ইতুর মা নাজমা বেগম ও ছোট ভাইও জখম হন। প্রতিবেশীরা তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক ইতুকে মৃত ঘোষণা করেন।
রামপাল থানার ওসি শেখ রাজিব আল রশীদ বলেন, নিহত ও অভিযুক্তরা সম্পর্কে চাচাতো ভাই। তাদের মধ্যে জমি-সংক্রান্ত বিরোধ ছিল।
ভাঙ্গায় গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, স্বামী পলাতক
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় তামান্না আক্তার মৌ (২৩) নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল চণ্ডীদাসদী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তামান্না আক্তার মৌ নগরকান্দা উপজেলার রামেশ্বর এলাকার আতিয়ার রহমানের মেয়ে এবং ভাঙ্গা পৌরসভার চণ্ডীদাসদী এলাকার শাখাওয়াত হোসেনের স্ত্রী। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক।
সুন্দরগঞ্জে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, স্বামী গ্রেপ্তার
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার পূর্ব শিবরাম গ্রামে দুই সন্তানের জননী সাজেদা বেগমের (৩৫) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত রোববার রাতে ওই গ্রামে স্বামী আওয়াল খানের বাড়ি থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সাজেদা পূর্ব শিবরামের পশ্চিম বৈদ্যনাথ গ্রামের সাইব উদ্দিনের মেয়ে। পুলিশ আউয়াল খানকে আটক করেছে।
বেতাগীতে তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
বরগুনার বেতাগী উপজেলায় নিজ বসতঘর থেকে সাদিয়া আক্তার (১৭) নামের এক কিশোরীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত রোববার রাতে ঝোপখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সাদিয়া ওই গ্রামের মৃত পান্নু প্যাদার মেয়ে। তিনি বেতাগী পৌর শহরের ফরাজী ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কর্মরত ছিলেন।
নাসিরনগরে অটোরিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে আরজান মিয়া (১৯) নামের এক অটোরিকশাচালকের মুখ ও শরীরে স্কচটেপ মোড়ানো মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিখোঁজের এক দিন পর গতকাল সোমবার দুপুরে সরকারি কলেজের গেটের সামনের একটি মার্কেটের পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
কলাপাড়ায় ইন্টারনেট লাইনম্যানের মরদেহ উদ্ধার
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বায়েজিদ শেখ (২৫) নামের এক তরুণের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার টিয়াখালী ইউনিয়নের সাতানি কান্দার একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। বায়েজিদ ইন্টারনেটের লাইনম্যানের কাজ করতেন। তাঁর বাবার নাম কামাল শেখ।
মানিকগঞ্জে শ্বশুরকে খুনের অভিযোগে জামাতা আটক
মানিকগঞ্জে শ্বশুরকে হত্যার অভিযোগে জামাতাকে আটক করেছে পুলিশ। গত রোববার রাতে সাকরাইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সিদ্দিকুর রহমান ওই গ্রামের রূপচানের ছেলে। তিনি পেশায় অটোরিকশাচালক ছিলেন। অভিযুক্তের নাম রাসেল।
পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানান, সিদ্দিকুর রহমান রাতে অটোরিকশা চার্জে দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। গভীর রাতে শব্দ শুনে তিনি ছেলেকে নিয়ে বের হন। তারা অন্ধকারে একজনকে দৌড়ে পালাতে দেখে তাকে আটকানোর চেষ্টা করেন। এ সময় ওই ব্যক্তির লাথিতে সিদ্দিকুর রহমান আহত হলে তাঁকে মানিকগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে প্রতিবেশীরা ওই ব্যক্তিকে আটক করে পিটুনি দেওয়ার পর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায় যে তিনি সিদ্দিকুরের মেয়ের স্বামী।
শ্রীবরদীতে মাছের খামার থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার
শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় এক তরুণের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সকালে নলিয়ারপাড় এলাকার একটি মাছের খামার থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত কালু মিয়া (২০) দক্ষিণপাড়ার মন্টু মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তাঁর সহকর্মী ও বন্ধু বাদশা মিয়াকে আটক করা হয়েছ।
(অফিস ও প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য)



