Home Blog Page 3

কলেজগুলোতে একাদশে ভর্তির তোড়জোড়

সারাদেশে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গতকাল রোববার থেকে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা সশরীরে গিয়ে নির্ধারিত কলেজে ভর্তির সুযোগ পাচ্ছে। এ প্রক্রিয়া চলবে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। তবে ভর্তির পুরো প্রক্রিয়া শুরু হতেই সামনে এসেছে বড় একটি চিত্র– চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রায় তিন লাখ ১০ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তির আবেদনই করেনি।

এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১১ লাখ ৪৪ হাজার ৬৯৫ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। এর মধ্যে একাদশে অনলাইন প্রক্রিয়ায় ভর্তির আবেদন করেছে আট লাখ ৩৪ হাজার ৭১৮ জন। অর্থাৎ, পাস করা শিক্ষার্থীদের প্রায় ২৭ শতাংশ কেন্দ্রীয় ভর্তি প্রক্রিয়ার বাইরে রয়েছে। এ হিসাবে পাস করা প্রতি চারজনের মধ্যে প্রায় একজন একাদশে ভর্তির জন্য আবেদন করেনি।

ভর্তির আবেদন না করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১১ হাজার ৫৩৫ জন জিপিএ ৫ পাওয়া। তারা কেন আবেদন করেনি, প্রকাশিত পরিসংখ্যানে এর ব্যাখ্যা নেই। এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়েছে এক লাখ ১৯ হাজার ৪৬৩ জন।

বিপুল আসন, কম শিক্ষার্থী

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য এবার দেশের আট হাজার ১৮১টি কলেজ ও মাদ্রাসায় মোট আসন ২৬ লাখ এক হাজার ৭৭৯টি। বিপরীতে প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপ মিলিয়ে কলেজে নির্বাচন নিশ্চিত হয়েছে আট লাখ ৫৩ হাজার ৪৪১ শিক্ষার্থীর। ফলে মোট আসনের তুলনায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা এখনও অনেক কম। ভর্তি-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরবর্তী ধাপের আবেদন, মাইগ্রেশন (বিভাগ পরিবর্তন) এবং শিক্ষার্থীদের ভর্তি সম্পন্ন করার পর প্রকৃত খালি আসনের চিত্র স্পষ্ট হবে। অনেক প্রতিষ্ঠানেই আসন খালি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

গত শনিবার রাতে প্রকাশিত দ্বিতীয় ধাপের ফল অনুযায়ী, এ ধাপে আট লাখ ৬৭ হাজার ৮৫৫ শিক্ষার্থী আবেদন করেছে। তাদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কলেজে মোট ৪৮ লাখ ৮৬ হাজার ২১৫টি আবেদন জমা পড়ে। মাইগ্রেশনের মাধ্যমে পছন্দক্রম অনুযায়ী কলেজ পরিবর্তনের সুযোগ পেয়েছে ৫৬ হাজার ৮০৪ জন।

১৬ সেপ্টেম্বর প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ করা হয়। ওই ধাপে ৯ লাখ ৯৫ হাজার ২৩৪ শিক্ষার্থী আবেদন করেছিল। তাদের মধ্যে ৯ লাখ ৮০ হাজার ৮১৫ জন কলেজে ভর্তির জন্য মনোনীত হয়।

২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ভর্তি

দ্বিতীয় ধাপে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা গতকাল থেকে ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কলেজে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ভর্তি নিশ্চিত করতে পারবে। এর পর আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণির প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু হবে।

ভর্তি ফি সর্বোচ্চ সাড়ে ৮ হাজার

ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, এবার প্রতিষ্ঠানভেদে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ফি সর্বনিম্ন এক হাজার ৫০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ আট হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা, অন্যান্য মেট্রোপলিটন ও বিভাগীয় শহরে তিন হাজার, জেলা পর্যায়ে দুই হাজার এবং উপজেলা ও মফস্বলে সর্বোচ্চ এক হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া যাবে।

অন্যদিকে নন-এমপিও ও আংশিক এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ঢাকা মহানগরে বাংলা ভার্সনে সর্বোচ্চ সাত হাজার ৫০০ এবং ইংরেজি ভার্সনে আট হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলা সদরে এ ফি যথাক্রমে তিন হাজার ও চার হাজার টাকা এবং উপজেলা ও মফস্বল এলাকায় দুই হাজার ৫০০ ও তিন হাজার টাকা।

৯৩ শতাংশ আসন উন্মুক্ত

ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, মোট আসনের ৯৩ শতাংশ সবার জন্য মেধার ভিত্তিতে উন্মুক্ত থাকবে। পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে মেধাক্রম তৈরি করে এসব আসনে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে। বাকি ৭ শতাংশের মধ্যে ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান এবং ২ শতাংশ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য সংরক্ষণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

অনিরাপদ চারপাশ, সহজ শিকার শিশুরা

মা-বাবা, ভাই-বোন ও পরিবার নিয়ে সবচেয়ে নিরাপদ যে ঘর, সেই ঘরেও এখন নিরাপদ নয় শিশু। আবার যে বাড়ি বা পাড়া-মহল্লায় স্বচ্ছন্দের শৈশব কাটানোর কথা, সেই জায়গায়ও নির্মমতার শিকার হচ্ছে কোমল প্রাণ। এতে ঘরে ও বাইরে– দুই স্থানেই সে অনিরাপদ।

চারপাশ অনিরাপদ হওয়ার পেছনে সামাজিক অবক্ষয়, কিশোর গ্যাং, মাদক, আইনি দুর্বলতা, পারিবারিক অসচেতনতা এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে বলে মনে করছেন বিশেজ্ঞরা। কুমিল্লায় ১৩ বছরের ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের হত্যাকাণ্ডে শিশুর বেড়ে ওঠার সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে অনেক প্রশ্ন সামনে এসেছে।

শিশু অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে বৈশ্বিক সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৩তম। নেদারল্যান্ডসভিত্তিক প্রতিষ্ঠান কিডস রাইটস ফাউন্ডেশন সর্বশেষ ২০২৫ সালে এই তালিকা প্রকাশ করে। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে দেখা যায়, সর্বশেষ প্রতিবেদনে ভারতের অবস্থান ভারত ৯৬, পাকিস্তান ১৫৫, গ্রিস প্রথম এবং আফগানিস্তান সর্বনিম্ন স্তরে (১৯৪তম)। শিশুদের জীবনের অধিকার, স্বাস্থ্যের অধিকার, শিক্ষার অধিকার, নিরাপত্তা এবং অধিকার ভোগ করার পরিবেশ– এই পাঁচটি বিষয়ে ২৩টি সূচকের ভিত্তিতে দেশগুলোর অবস্থান নির্ণয় করা হয়েছে। একে বলা হচ্ছে ‘কিডস রাইটস ইনডেক্স’। জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদ অনুসমর্থন করা দেশকে এখানে বেছে নেওয়া হয়েছ।

কিডস রাইটস ফাউন্ডেশন একটি সামাজিক ও একাডেমিক যৌথ উদ্যোগ। নেদারল্যান্ডসের এরাসমাস ইউনিভার্সিটি রোটেরডাম এবং ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল স্টাডিজ যৌথভাবে ২০১০ সালে এ উদ্যোগ শুরু করে।

২০১৩ সালে তারা প্রথম শিশু অধিকার সূচকের ভিত্তিতে দেশগুলোর বৈশ্বিক অবস্থান নির্ণয় করে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) জানুয়ারি-আগস্টের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিভিন্ন ধরনের ঘটনায় ২৫৪ শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ হিসাবে মাসে ৩১ জনের বেশি শিশুর লাশ পাওয়া যাচ্ছে। এসব ঘটনায় ৮১টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৬৮ জনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। শারীরিক নির্যাতনের পর হত্যার শিকার ৪৯ জন। এই আট মাসে নিখোঁজের পর লাশ পাওয়া গেছে ৩৬ শিশুর। নিহত ২৫৪ শিশুর প্রায় ৪৩ শতাংশের ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সী। শূন্য থেকে ছয় বছর বয়সী শিশু রয়েছে ৭৪ জন। এটি মোট নিহতের প্রায় ২৯ শতাংশ। কিশোর-কিশোরীদের পাশাপাশি ছোট শিশুরাও সহিংসতার শিকার হচ্ছে। ৭ থেকে ১২ বছরের ৬০ জন সহিংসতার শিকার হয়েছে। আসক বলছে, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের সূত্র থেকে শিশুর লাশ উদ্ধারের এই তথ্য পেয়েছে তারা।

আসকের নির্বাহী পরিচালক মানবাধিকারকর্মী তাহমিনা রহমান সমকালকে বলেন, শিশুদের বেড়ে ওঠার সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। সেখানে ব্যর্থ হওয়া যাবে না। নিখোঁজ হওয়ার পর শিশুর লাশ পাওয়া যাবে– এটা দেখতে চাই না। যত দ্রুত সম্ভব জীবিত উদ্ধার করতে হবে।

তিনি বলেন, সন্তানকে সুরক্ষিত রাখা এখন পরিবারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সন্তান কার সঙ্গে মিশছে, কীভাবে সময় কাটাচ্ছে– এদিকে নজর রাখা জরুরি। তথ্যের অধিকার থেকে যেমন শিশু-কিশোরদের বঞ্চিত করা যাবে না, আবার ইন্টারনেটে সে কী করছে সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

শিশুর লাশ উদ্ধারের পাশাপাশি অনেক শিশু নিখোঁজ থাকছে। তাদের ভাগ্যে কী ঘটেছে, পরিবারের সদস্যরা জানেন না। সন্তানের অপেক্ষায় অনেকে বছরের পর বছর পার করছেন। পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সারা দেশে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। ২ হাজার ৩৮ জনের সন্ধান এখনও মেলেনি। এ হিসাবে নিখোঁজ শিশুদের ১৩ শতাংশের খোঁজ পাওয়া যায়নি।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সী শিশু নিখোঁজের বিষয়ে ৪৭৪টি জিডি হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪০৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৬৮ জনকে উদ্ধার করা যায়নি। একই সময়ে ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু নিখোঁজের জিডি হয়েছে ১৫ হাজার ২৪৩টি। তাদের মধ্যে ১৩ হাজার ২৭৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং এক হাজার ৯৭০ জন উদ্ধার হয়নি।

পুলিশের ভাষ্য, শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সী শিশুরা সাধারণত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অপরিচিত স্থানে ঘুরতে গিয়ে পথ ভুলে, পরিবারের সদস্যদের নাম-ঠিকানা বলতে না পারায় এবং একাকী বাসায় ফিরতে গিয়ে অন্য কোথাও চলে যাওয়ার কারণে নিখোঁজ হয়।

অন্যদিকে, ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের নিখোঁজ হওয়ার পেছনে অভিমান, পড়ালেখার চাপ, অনৈতিক কাজে জড়িয়ে লজ্জার ভয়ে পালিয়ে থাকা, স্বাধীন জীবনযাপনের আকাঙ্ক্ষা, পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে অর্থ বা অন্য কোনো সুবিধা আদায়ের কৌশল, পারিবারিক কলহ ও অশান্তি এবং বন্ধু বা সহপাঠীদের প্রভাবের মতো কারণ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বর্তমানে সেবা সহজীকরণের অংশ হিসেবে অনলাইন জিডি সুবিধা চালু রয়েছে পুলিশ। এতে নিখোঁজের বিষয়ে জিডির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে নিখোঁজের বিষয়ে ১৭ হাজার ৮০৮টি জিডি হয়েছিল। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ১৬ হাজার ৪১৪ এবং ২০২৫ সালে ২২ হাজার ৫৫০।

পুলিশ সদরদপ্তরের পৃথক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা বাড়ছে। আগস্ট মাসে নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা হয়েছে দুই হাজার ১৫৬টি, জুলাইয়ে দুই হাজার ৩৩৬, জুনে দুই হাজার ২০০, মে মাসে এক হাজার ৯৫২, এপ্রিলে দুই হাজার ১১, মার্চে এক হাজার ৪৮৫, ফেব্রুয়ারিতে এক হাজার ১৮১ ও জানুয়ারিতে এক হাজার ২৮১টি।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় একই পরিবারের ১০, ৭ ও ২ বছরের তিন শিশুকে হত্যা করা হয়। ৯ সেপ্টেম্বর পাবনায় চতুর্থ শ্রেণি পড়ুয়া এক মেয়ে শিশু নিখোঁজ হয়। ১৬ সেপ্টেম্বর বাড়ির পাশের ডোবা থেকে তার খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার দুজন হলেন প্রধান আসামি মোস্তফা প্রামাণিক (৫৫) ও তাঁর বাড়ির ভাড়াটিয়া ইয়াছিন আলী (২১)। এই ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার প্রধান আসামির বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার সাভারের আশুলিয়ার একটি বাসা থেকে স্বামী-স্ত্রী ও নবজাতকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। ২৫ জুন লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে একটি ভাড়া বাসায় ঢুকে এক পরিবারের মা ও তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তিন বোনের মধ্যে সিপার বয়স ১০ এবং ইকরা ১৭ বছর ও সাইমা আক্তারের বয়স ছিল ২১ বছর। আগস্টে রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের সঙ্গে খুন করা হয় ১২ বছরের ছেলে আয়ুশকে। একই মাসে মাদারীপুরের শিবচরে এক নারীর লাশ উদ্ধারের পাঁচ দিন পর ২৪ আগস্ট নদী থেকে তাঁর এক বছরের সন্তানের লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ বলছে, মা ও শিশুকে হত্যা করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানবিকতা বা মানবতাবোধ উন্নত হচ্ছে না। শিশুরা দুর্বল বলে স্বার্থ আদায়ের জন্য তাদের নির্যাতন এবং হত্যা করা হচ্ছে। মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটছে। শিশু কেবল বাইরের পরিবেশেই অনিরাপদ নয়, পরিচিত জায়গায় এমনকি অনেক সময় নিকটাত্মীয় তাদের বিপদের কারণ হয়ে উঠছে। শারীরিক বা মানসিকভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। তাদের মাধ্যমে হত্যার ঘটনাও ঘটছে।

এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও শিশুর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। পাশাপাশি সামাজিক, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সঠিক সুরক্ষার অভাব শিশুদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলছে। বাবা-মায়ের পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকায় ভার্চুয়াল জগতেও শিশুরা প্রতিনিয়ত অনিরাপদ হয়ে উঠছে। শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ গড়তে হলে পরিবার থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় পর্যায় পর্যন্ত সম্মিলিত সচেতনতা এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ অত্যন্ত জরুরি।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে শিশুবান্ধব হতে হবে। শিশুবান্ধব হতে হবে সমাজ এবং সমাজের মানুষকে। এটি না হলে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হবে না।

৮ বছর ধরে অচল দেড় কোটি টাকার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প

নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনিক ভবনের ছাদে স্থাপন করা হয় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প। প্রায় এক কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে স্থাপিত প্রায় প্রকল্পটি প্রায় আট বছর ধরে অকেজো পড়ে রয়েছে।

জানা গেছে, দীর্ঘ দিন ধরে সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, আইপিসিসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি অব্যবহৃত থাকায় সরকারি অর্থের এই বিনিয়োগের কার্যকারিতা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সূত্র জানায়, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের আওতায় ২০১৩ সালে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের অধীনে উপজেলা প্রশাসনিক ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পটি স্থাপন করা হয়। প্রকল্পে ৩০ কিলোওয়াট ক্ষমতার ১০০টি সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, আইপিসিসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হয় এক কোটি ৪৭ লাখ টাকা।

প্রকল্পটি চালু থাকার সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়, উপজেলা পরিষদ, কৃষি, মৎস্য, সমবায়, প্রকল্প বাস্তবায়ন, স্থানীয় সরকার, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর এবং ইউএনওর বাসভবনে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতো। তবে প্রকল্পটি চালুর দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে বিভিন্ন যন্ত্রাংশে ত্রুটি দেখা দিতে শুরু করে।
এক পর্যায়ে পুরো সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা সচলহীন হয়ে পড়ে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত প্রায় আট বছর ধরে সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, আইপিসিসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি নষ্ট অবস্থায় পড়ে আছে। এগুলো মেরামত বা পুনরায় চালুর বিষয়ে এতদিন কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
দীর্ঘ দিন অব্যবহৃত থাকায় প্রকল্পের যন্ত্রপাতি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে ব্যাটারি, ইনভার্টার ও কন্ট্রোলারসহ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি দীর্ঘ দিন রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়া পড়ে থাকলে সেগুলোর কার্যক্ষমতা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের পাশাপাশি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি। ব্যাটারি, ইনভার্টার, কন্ট্রোলারসহ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা নিয়মিত পরীক্ষা এবং ত্রুটি দেখা দিলে দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা না থাকলে এ ধরনের প্রকল্প অচল হয়ে পড়তে পারে। এতে সরকারি বিনিয়োগের কাঙ্ক্ষিত সুফল থেকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বঞ্চিত হয়।
এদিকে প্রকল্পটি স্থাপনের পর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কোনো প্রতিষ্ঠান বা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ছিল, কত বছর পর্যন্ত ওয়ারেন্টি বা মেইনটেন্যান্স সুবিধা ছিল এবং প্রকল্পটির বিকল হওয়ার পর কেন সময়মতো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি– এসব বিষয় খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিল্লোল চাকমা বলেন, তিনি নতুন এসেছেন এবং স্থানীয় প্রকৌশলীর সঙ্গে এ বিষয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে। প্রকল্পটি সচল করতে কী পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হবে, তা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান বা বিশেষজ্ঞ দিয়ে একটি প্রাক্কলন (এস্টিমেট) করানো হবে। ব্যয় কম হলে এবং উপজেলা তহবিল থেকে তা বাস্তবায়নের মতো সংস্থান থাকলে তহবিল থেকেই কাজটি করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

দাম বেড়েছে স্বর্ণ ও রুপার

এক সপ্তাহ পর দেশের বাজারে আবার বেড়েছে স্বর্ণের দাম। এবার প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম বেড়েছে এক হাজার ৬৯১ টাকা। বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়ায় তারা দাম সমন্বয় করেছে। গতকাল শনিবার বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

নতুন দাম অনুযায়ী, গতকাল শনিবার থেকে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম হয়েছে দুই লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা। এর আগে যা ছিল দুই লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা। ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম বেড়ে ভরিতে দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ২৪ হাজার ৬৫ টাকা। ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম হয়েছে এক লাখ ৯২ হাজার ৩৯৮ টাকা। এ ছাড়া সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম হয়েছে এক লাখ ৫৭ হাজার ১৭২ টাকা। স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও বাড়িয়েছে বাজুস। প্রতি ভরিতে ১১৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচ হাজার ১৩২ টাকা।

দেশের ইতিহাসে স্বর্ণের সর্বোচ্চ দর বেড়েছিল চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি। ওই দিন স্বর্ণের দাম এক লাফে ভরিতে ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বেড়ে দুই লাখ ৮৬ হাজার টাকায় ওঠে। এরপর ধীরে ধীরে কমে ভরিপ্রতি দুই লাখ ২০ হাজার টাকার নিচে নেমে এসেছিল। তারপর আবার বাড়তে থাকে। এভাবে এ বছর বেশ কয়েকবার ওঠানামা করেছে মূল্যবান ধাতুটির দাম।
নানা কারণে স্বর্ণের দরে উত্থান-পতন ঘটে। যেমন– যুদ্ধ বা সংকটে মানুষ নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণ কেনে। মার্কিন ডলার দুর্বল হলে, ব্যাংকের সুদ হার কমলে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর রিজার্ভ বাড়ালে ও মুদ্রার মান কমলে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ে। ফলে দামও বেড়ে যায়। অন্যদিকে ডলার শক্তিশালী হলে স্বর্ণের দাম সাধারণত কমে যায়। ব্যাংকে সুদের হার বাড়লে মানুষ স্বর্ণ ছেড়ে বন্ড বা ব্যাংকে বিনিয়োগ করে।

যে ভিটামিনের অভাবে রাতে ঘুম হয় না

অনেকেই রাতে ঠিকঠাক ঘুমাতে পারেন না। সারাদিন পরিশ্রমের পরও সারারাত বিছানার এপাশ থেকে ওপাশে ফেরেন, কিন্তু চোখে ঘুম থাকে না। এ সমস্যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ইনসোমনিয়া বলা হয়। মূলত ভিটামিন ও খনিজের অভাবে মানুষ এ সমস্যায় ভোগে বলে জানানো হয়েছে নিউজ১৮-এর এক প্রতিবেদনে।

ভারতের পুষ্টিবিদ অনুশ্রী মিশ্র জানান, শরীরে দুটি ভিটামিন ও একটি খনিজের অভাবে রাতে ঘুম আসে না। এগুলো হলো ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি১২ ও ম্যাগনেশিয়াম।

কোন কোন খাবারে এই ভিটামিন ও খনিজের অভাব মিটবে

ভিটামিন বি ১২
স্নায়ুতন্ত্রকে সুস্থ রাখতে ভিটামিন বি ১২ অত্যন্ত জরুরি। প্রতিদিন ২.৪ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন বি ১২ গ্রহণ করা জরুরি। ভিটামিন বি ১২-এর ঘাটতি হলে শুধু ভুলে যাওয়াই নয়, রক্তে আরবিসি-ও কমে যায়। পাশাপাশি ইনসোমনিয়ার সমস্যা দেখা দেয়। ঘাটতি মেটাতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় দুধ, পালং শাক, বিট, দই, ছানার পানি, পনির রাখুন।

ম্যাগনেশিয়াম
সুস্থ থাকতে মিনারেল প্রয়োজন। আর ম্যাগনেশিয়াম হল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মিনারেল যা শরীরের ভেতরে চলতে থাকা নানা রকম রাসায়নিক প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে সাহায্য করে। ম্যাগনেশিয়াম কমে গেলে রাতে ঘুমও আসে না।

ভিটামিন ডি
ভিটামিন-ডি একটি স্নেহপদার্থে দ্রবণীয় ভিটামিন। অনেকসময়-ই একে বলে ‘সাইশাইন ভিটামিন’। ভিটামিন ডি কমলে ঘুম কমে যায়। আজকাল বহু মানুষ এই ভিটামিনের অভাবে ভোগেন। অনেকেই মনে করেন, নির্দিষ্ট সময় সূর্যের আলোতে থাকলে ভিটামিন ডি’র ঘাটতি হবে না। কিন্তু বিষয়টা এতটাও সহজ নয়। সূর্যালোক থেকে ভিটামিন ডি পাওয়া যায় ঠিকই, তবে ত্বক থেকে তা বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লিভারে পৌঁছনো ও সেখান থেকে শরীরে ছড়িয়ে পড়ার যে পদ্ধতি, তা খুবই ধীর গতিতে হয়। সেক্ষেত্রে খাবার থেকেই সরাসরি ভিটামিন ডি শরীরে ঢোকে। ঘাটতি মেটাতে তৈলাক্ত মাছ খান। তৈলাক্ত মাছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন ডি থাকে। সামুদ্রিক মাছ, দুগ্ধজাত খাদ্য ও ডিমে ভিটামিন-ডি পাওয়া যায়। ইলিশ মাছ, রুই-কাতলার পেটি ও তেল, তেলাপিয়া ও সরপুঁটি, দানাশস্য ও ওটস, কিনোয়া, ডালিয়া, ফর্টিফায়েড দুধ ও দই ইত্যাদিতে ভরপুর ভিটামিন-ডি থাকে।

এছাড়া মাশরুমে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ডি থাকে। প্রতি ১০০ গ্রাম মাশরুম থেকে প্রায় ৪৫০ আইইউ ভিটামিন ডি পাওয়া সম্ভব। যারা মাশরুম পছন্দ করেন না, তারা পালং শাক খেতে পারেন। এতেও ভিটামিন ডি থাকে। বিভিন্ন রকম বাদাম ও বীজে ভিটামিন ডি থাকে। কুমড়ো বীজ, সূর্যমুখীর বীজ থেকে ভরপুর মাত্রায় ভিটামিন ডি পাওয়া সম্ভব। কাঠবাদাম, আখরোটে ভিটামিন ডি থাকে। তবে আখরোট দিনে দু’টির বেশি নয়, কাঠবাদাম ৪-৫টিই যথেষ্ট।

রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়াতে বিলে সই করলেন ট্রাম্প

রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়াতে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের অনুমোদন দেওয়া একটি বিলে গত শুক্রবার স্বাক্ষর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চলতি সপ্তাহে মার্কিন কংগ্রেসে অনুমোদন পাওয়ার পরপরই তিনি বিলে স্বাক্ষর করেন।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন বলছে, নতুন আইনটি রাশিয়ার জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতের পাশাপাশি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও দেশটির অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুযোগ তৈরি করেছে। এতে রাশিয়ার তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রাশিয়ার তেল পরিবহনে এসব ট্যাঙ্কার ব্যবহার হয়।

এ ছাড়া রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের বড় ক্রেতা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা ট্রাম্পকে দেওয়া হয়েছে। এর আওতায় চীন ও ভারতও পড়তে পারে। এর মাধ্যমে ইউক্রেনে যুদ্ধ চালানোর জন্য মস্কোর অর্থের জোগান কমিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা আরও জোরদার হবে।

রাশিয়ার পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা
এদিকে শুক্রবার জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা জানিয়েছে, ইউক্রেন সীমান্তের কাছে রাশিয়ার কারস্ক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি কুলিং টাওয়ারে ড্রোন আঘাত হেনেছে। তবে এতে কোনো আগুন লাগেনি।

ইরানে পণ্যের অস্বাভাবিক দাম, যুদ্ধ বন্ধে তৎপরতা অব্যাহত

ইরানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে চাপে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। পেট্রোল পাম্পগুলোতেও দেখা দিয়েছে জ্বালানির তীব্র সংকট। অর্থনৈতিক চাপ ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে দেশটিতে। জনগণের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করেছে ইরান সরকার।

সংকটের মধ্যেও কূটনীতি অব্যাহত
তীব্র এই অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও আলোচনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে ইরান। ইরানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আলি জেনিবান্দ জানিয়েছেন, অমীমাংসিত বিষয়গুলো সমাধান এবং ‘ইসলামাবাদ চুক্তি’ বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার মাধ্যমে আলোচনা চলছে।

গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড
সামরিক স্থাপনা ও কর্মকর্তাদের সংবেদনশীল তথ্য শত্রুপক্ষের কাছে পাচারের অভিযোগে ইরানে এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির বিচার বিভাগীয় বার্তা সংস্থা ‘মিজান’।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও আবদুর রহমান বোরুমন্দ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে বিভিন্ন অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।

ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ২০৩১ পর্যন্ত বৃদ্ধি
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়িয়ে ২০৩১ সাল পর্যন্ত বহাল রাখার আইনি বিলে সই করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই আইনে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা, অতিরিক্ত শুল্ক ও বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপেরও সুযোগ রাখা হয়েছে। ১৯৯৬ সালের ইরান স্যাংশনস অ্যাক্টের মেয়াদ চলতি বছর শেষ হওয়ার কথা ছিল। নতুন আইন পাসের মাধ্যমে এর কার্যকারিতা আরও পাঁচ বছর বাড়ল।

পুলিশ সদস্যের বুদ্ধিমত্তায় রক্ষা পেলেন যুবক, গ্রেপ্তার ৫

ময়মনসিংহে গোয়েন্দা সংস্থার (ডিবি ও ডিজিএফআই) সদস্য পরিচয় দিয়ে এক যুবককে অপহরণ করে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অপহরণের শিকার যুবককেও উদ্ধার করা হয়েছে। টহল পুলিশের এএসআই কাদিরুল ইসলামের তাৎক্ষণিক বুদ্ধিমত্তা ও সতর্ক দৃষ্টির কারণে চক্রটি ধরা পড়ে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন– দিনাজপুরের খানসামা এলাকার শামীম ইসলাম সবুজ, ময়মনসিংহ নগরীর আল-আমীন, পিয়াস মিয়া, দিদারুল ইসলাম ও শেরপুরের নকলা এলাকার ফারুক আহম্মেদ।
অভিযানকালে আসামিদের কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেল, সাতটি মোবাইল ফোন ও একটি ভুয়া পরিচয়পত্র জব্দ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আব্দুস সামাদ বাদী হয়ে মামলা করেছেন। এই মামলায় গতকাল শনিবার দুপুরে আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী আব্দুস সামাদ ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানার পনঘাগড়া এলাকার বাসিন্দা। গত শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে চুরখাই এলাকা থেকে নিজেদের ডিবি ও ডিজিএফআই সদস্য পরিচয় দিয়ে তাঁকে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে নগরীর জালালের মোড় এলাকায় নটর ডেম কলেজের পেছনে নিয়ে গিয়ে মাদকের মিথ্যা মামলায় চালান দেওয়ার হুমকি দিয়ে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
ঘটনার দিন দুপুরে নটর ডেম কলেজের পেছনে একটি নির্মাণাধীন ভবনের কাছে নিয়মিত টহলে ছিলেন কোতোয়ালি থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) কাদিরুল ইসলাম। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে তিনজনকে যেতে দেখে সন্দেহ হয় তাঁর।

অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে এএসআই কাদিরুল ইসলাম বলেন, মাঝে বসা যুবকটির সঙ্গে চোখাচোখি হতেই তাঁর চোখের দৃষ্টি ও অবয়বে চরম বিপদগ্রস্ততার ছাপ ফুটে ওঠে। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় মোটরসাইকেলটির গতিবিধি অনুসরণ করতে শুরু করেন তিনি। প্রায় ১৫-২০ মিনিট অনুসরণের পর ভুক্তভোগীর আকুতি ও চিৎকার শুনতে পেয়ে সেখানে অভিযান চালান তারা। ঘটনাস্থল থেকে আব্দুস সামাদকে উদ্ধারসহ অপহরণকারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার শামীম ইসলাম নিজেকে সেনাসদস্য পরিচয় দেন। তথ্য যাচাই করে জানা গেছে, ২০০৯ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার পর ২০২১ সালে দুই মাসের ছুটিতে গিয়ে তিনি আর কর্মস্থলে ফেরেননি। এ ছাড়া গ্রেপ্তার দিদারুল ইসলাম ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের একজন কম্পিউটার অপারেটর বলে জানা গেছে।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, অপহরণ মামলার পর আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এই চক্রটি আগেও একই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

জামায়াত এমপির ছেলে-ভাইয়ের হামলায় সাংবাদিক রক্তাক্ত

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে সড়ক নির্মাণে অনিয়মের তথ্য সংগ্রহে যাওয়া এক সাংবাদিকের ওপর হামলা হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে পৌরসভার কালীবাড়ী মন্দিরের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী মাহবুবুল আহসান উল্লাসের অভিযোগ, হামলায় নেতৃত্ব দেন কু্ষ্টিয়া-৪ আসন থেকে নির্বাচিত জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আফজাল হোসেনের ছেলে শোভন হোসেন ও এমপির চাচাতো ভাই আনোয়ার হোসেন। এ ঘটনায় সন্ধ্যায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে কুমারখালী থানায় তিনি মামলা করেছেন।
আহত মাহবুবুল আহসান উল্লাস বাংলা টিভির কুমারখালী ও খোকসা উপজেলা প্রতিনিধি। পাশাপাশি কুমারখালী প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক পদে আছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আইইউজিআইপি-৫ নম্বর প্যাকেজের আওতায় কুমারখালীর গণমোড় থেকে হিম্মত মোড় পর্যন্ত রাস্তার উন্নয়নকাজ চলছে। এতে বরাদ্দ হয় প্রায় দেড় কোটি টাকা। নড়াইলের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নূর কনস্ট্রাকশন এটি বাস্তবায়ন করছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এক বছরের মধ্যে তাদের কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু এ পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি মাত্র ১৪ শতাংশ।
এলজিইডির আওতাধীন এই কাজের বিষয়ে গত ২৯ জুলাই প্রকল্পটির পরিচালক তোফায়েল আহমেদের সই করা চিঠিতে সংশ্লিষ্ট প্যাকেজের অনুকূলে ব্যাংকে সংরক্ষিত জামানতের টাকা বাজেয়াপ্ত করে ঠিকাদারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি বাতিলে পৌরসভাকে অনুরোধ করা হয়।

সূত্র জানায়, গত ১৮ আগস্ট কুমারখালী পৌরসভার প্রশাসক ও ইউএনও ফারজানা আখতার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স নূর কনস্ট্রাকশনের মো. ইউনুস আল মামুনকে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী অপসারণ ও রাস্তার নিম্নমানের কাজ বন্ধ রাখার চিঠি দেন। সেই নির্দেশনা অমান্য করে ঠিকাদার কু্ষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য আফজাল হোসেনের ছেলে শোভন হোসেন, চাচাতো ভাই আনোয়ার হোসেন ও জিয়াউর রহমান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা রুহুল আমীনের লোকজনের সহায়তায় নিম্নমানের সামগ্রী দিয়েই রাস্তার কাজ চালিয়ে যান। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।
গতকাল শনিবার দুপুরে ইউএনও ফারজানা আখতার সরেজমিনে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেন। এ সময় সংসদ সদস্যের স্বজনেরা তাঁর সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। সাংবাদিক মাহবুবুল আহসান উল্লাস ও সমকালের কুমারখালী প্রতিনিধি মিজানুর রহমান নয়ন বচসা ও অনিয়মের দৃশ্য ধারণ শুরু করেন। ইউএনও কাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়ে চলে গেলে কালিবাড়ী মন্দিরের সামনে এমপির স্বজনেরা উল্লাসের ওপর হামলা চালান। এ সময় সমকাল প্রতিনিধিকে চিত্র ধারণে বাধা দিয়ে তাঁর পথ অবরোধ করে রাখেন।

এলোপাতাড়ি মারধরে সাংবাদিক উল্লাসের চোখ, মুখ, পিঠসহ শরীরের নানা জায়গায় গুরুতর আঘাত পান। তাঁর চোখের নিচ থেকে রক্ত ঝরতে থাকে। বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন
বক্তব্যের জন্য আনোয়ার হোসেনের মোবাইল ফোনে কল দিলে তিনি বলেন, উল্লাসের বাড়ি তাদের এলাকায়। কাজের শুরুতে তিনি (উল্লাস) চাঁদা দাবি করে আসছিলেন বলে অভিযোগ করেন। তবে হামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্যে রাজি হননি।
কুমারখালী প্রেস ক্লাবের সভাপতি লিপু খন্দকার বলেন, এমপির ছেলে শোভন হোসেনের নেতৃত্বে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা সাংবাদিক উল্লাসের ওপরে হামলা করেছে।

পরিবারের সবাই হাসপাতালে ফাঁকা বাড়িতে চুরি

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় চেতনানাশক দ্রব্য মেশানো খাবার খেয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন একই পরিবারের ছয় সদস্য। এই সুযোগে তাদের বাড়িতে চুরির অভিযোগ উঠেছে। দুর্বৃত্তরা বাড়ির প্রধান ফটক ও দুটি ঘরের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে টাকা ও রুপার গহনা নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। গত শুক্রবার রাতে পয়লা ইউনিয়নের বাইলজুরী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগীরা হলেন– বাইলজুরী গ্রামের বাসিন্দা ও দৌলতপুর উপজেলার কল্যাণপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রমজান আলী, তাঁর মা বেদেনা বেগম, স্ত্রী জাহানারা আক্তার, তাদের তিন সন্তান রাইয়ান হোসেন, রিদোয়ান হোসেন ও মাইশা আক্তার।

জানা গেছে, গত শুক্রবার শিক্ষক রমজান আলীসহ তাঁর পরিবারের সবাই অচেতন ও অসুস্থ হয়ে পড়েন। সন্ধ্যায় তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরিবারের সবাই হাসপাতালে থাকায় রাতে বাড়ি ফাঁকা ছিল। এই সুযোগে দুর্বৃত্তরা বাড়িতে ঢুকে চুরি করে।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, প্রথমে বাড়ির ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকে দুর্বৃত্তরা। পরে দুটি ঘরের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে কাঠ ও স্টিলের আলমারি, ওয়ারড্রপ, লেপ-তোশকসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র তছনছ করে। একপর্যায়ে একটি মানিব্যাগ থেকে এক হাজার ১০০ টাকা নিয়ে যায়। এ ছাড়া প্রায় ৯ ভরি ৬ আনা ওজনের দুই জোড়া রুপার নূপুর এবং তিনটি রুপার আংটি চুরি করে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে গতকাল শনিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ।
শিক্ষক রমজান আলী বলেন, খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক দ্রব্য মেশায় দুর্বৃত্তরা। এতে তাঁর পরিবারের ছয় সদস্য অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে থাকায় বাড়ি ফাঁকা ছিল। গত শনিবার সকালে বাড়িতে গিয়ে তারা তালা ভাঙা ও ঘরের মালপত্র এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান। তাঁর ধারণা, বাড়ির সবাই হাসপাতালে থাকার সুযোগেই দুর্বৃত্তরা চুরি করেছে। সুস্থ হওয়ার পর তারা সবাই বাড়িতে ফিরেছেন।
ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান জানান, চুরির ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। পরিবারের ছয় সদস্য কীভাবে অসুস্থ হয়েছেন এবং তাদের অসুস্থতার সঙ্গে চুরির ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।