Home Blog

কুষ্টিয়া শতকোটি টাকার প্রকল্প কাঙ্ক্ষিত ফল মেলেনি তিন জেলায় একই প্রকল্পে খরচ ২৪৮ কোটি

সেচ সুবিধা বাড়িয়ে বেশি ফসল উৎপাদনের লক্ষ্য ছিল প্রকল্পটির। তিন জেলায় পাঁচ বছরে খরচ হয়েছে ২৪৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে কুষ্টিয়া জেলার জন্য বরাদ্দ ছিল শতকোটি টাকা। প্রকল্পের কুষ্টিয়া অংশে নানা অনিয়মের চিত্র পাওয়া গেছে। বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা বলছেন, তারা কাঙ্ক্ষিত সেচ সুবিধা পাননি।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সেচ বিভাগ ২০২০ সালে ‘মুজিবনগর সেচ উন্নয়ন প্রকল্প’ শুরু করে। প্রকল্পটি শেষ হয় গত বছর। কোথাও পাম্প অচল, কোথাও যন্ত্রপাতি চুরি হয়েছে; আবার কোথাও খাল খননের পর উল্টো মাঠে পানি ঢোকা বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

কুষ্টিয়া, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গায় বাস্তবায়িত প্রকল্পটির আওতায় ৬৮ হাজার টন অতিরিক্ত ফসল উৎপাদনের লক্ষ্য ধরা হয়েছিল। পাশাপাশি কৃষকের আয় ও জীবনমান উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্য ছিল।

এখন এই তিন জেলায় নতুন করে ৬৮১ কোটি টাকার প্রকল্পের প্রস্তাব দিয়েছে বিএডিসির সেচ বিভাগ। আগের প্রকল্পের কার্যকারিতা ও ব্যয়ের মূল্যায়ন কতটা হয়েছে, সে বিষয়ে অবশ্য সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

গত বছর শেষ হওয়া প্রকল্পের আওতায় তিন জেলায় আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদে ২০০ কোটি এবং ৪৮ কোটি টাকা বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় খরচ করা হয়েছে। এর মধ্যে শতকোটি টাকার বেশি খরচ করা হয়েছে কুষ্টিয়ার ছয়টি উপজেলায়।

সমকালের পক্ষ থেকে শুধু কুষ্টিয়ার ওই ছয়টি উপজেলায় প্রকল্প এলাকায় অনুসন্ধান চালানো হয়েছে। এতে প্রকল্পের নথি, মাঠ পর্যায়ের পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এসব লক্ষ্যের সঙ্গে বাস্তবতার বড় ধরনের ফারাক পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের মধ্যে কাজ ভাগাভাগি, নিম্নমানের নির্মাণ এবং অপরিকল্পিত অবকাঠামো তৈরির কারণে প্রকল্পের সুফল ব্যাহত হয়েছে।

কুষ্টিয়ায় যেসব খাতে বরাদ্দ 
প্রকল্পের আওতায় ছয় উপজেলায় খাল পুনর্খনন করা হয় ১০৬ কিলোমিটার, এলপি স্থাপন ১১২টি, ভূগর্ভের সেচনালা নির্মাণ ১৬৫টি, সৌরচালিত ডাগওয়েল স্থাপন ২২টি, ছোট, মাঝারি ও বড় আকারের সেচ অবকাঠামো নির্মাণ ২৪১টি, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ ছোট-বড় ৩০টির বেশি। ল্যাব ও বঙ্গবন্ধু কর্নার স্থাপন করা হয়। এ ছাড়া শতাধিক কৃষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র  করা হয়।

নথি অনুযায়ী, একটি ডাগওয়েল নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ লাখ টাকা, পাম্প হাউসপ্রতি ১৫ লাখ, দুই কিউসেক পাম্প সেটপ্রতি ১৫ লাখ এবং পাঁচ কিউসেক সৌর পাম্পপ্রতি ১৫ লাখ টাকা। বড়, মাঝারি ও ছোট সেচ অবকাঠামোর জন্য যথাক্রমে ৪০ লাখ, ২৫ লাখ ও সাড়ে সাত লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে।

১২ লাখ টাকার ডাগওয়েল অচল
দৌলতপুর উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের তেকালা গ্রামের মাঠে ২০২০-২১ অর্থবছরে একটি সৌরচালিত ডাগওয়েল নির্মাণ করা হয়। প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল ভূগর্ভ ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে আশপাশের প্রায় ৫০ জন কৃষককে কম খরচে সেচ দেওয়া। কিন্তু এখন সেটি অচল। পাম্পের মোটর, বৈদ্যুতিক তার, পানি সংরক্ষণের ট্যাঙ্কসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নেই।

সরেজমিন সেখানে সৌর প্যানেল ও অবকাঠামোর একটি অংশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। কুয়ায়ও পানি নেই। স্থানীয় কৃষকরা এখন ডিজেলচালিত শ্যালো মেশিনে সেচ দিচ্ছেন।

সবজি চাষি লিয়াকত হোসেন বলেন, সরকারি টাকায় প্রকল্প করা হয়েছিল। কিন্তু চালু হওয়ার পর থেকেই পড়ে আছে। এখন ডিজেল পাম্প দিয়ে সেচ নিতে হচ্ছে। এতে খরচ বাড়ছে।

একই গ্রামের কৃষক ইউনূস আলী বলেন, দৌলতপুরে ধান, গম ও ভুট্টার মতো ফসল চাষে বেশি পরিমাণ পানি প্রয়োজন। ডাগওয়েলের তিন ইঞ্চি পাইপ দিয়ে সেই চাহিদা মেটে না। তাঁর ভাষ্য, নিম্নমানের যন্ত্রপাতির কারণে পাম্পটিও নষ্ট হয়ে পড়ে আছে।

তেকালা থেকে আড়াই কিলোমিটার দূরে কাজীপুরেও একই ধরনের একটি ডাগওয়েল ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, সেটিও দীর্ঘদিন ধরে অচল।

কুমারখালীর মাহেন্দ্রপুর পদ্মার চরে স্থাপন করা হয়েছে সৌরচালিত এলএলপি। সরেজমিন সেখানে পাম্পের ঘর ও নদী পর্যন্ত নেওয়া পাইপ দেখা গেলেও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, বছরের প্রায় অর্ধেক সময় এটি ব্যবহার করা যায় না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএডিসির এক প্রকৌশলী বলেন, ১৩০টি ডাগওয়েল কৃষকের সেচ চাহিদা পূরণ করতে পারছে না। তাঁর দাবি, কুষ্টিয়া অঞ্চলের জন্য এই প্রযুক্তি উপযোগী নয়। তিনি বলেন, রাজনৈতিক সুপারিশে প্রকল্পে ডাগওয়েল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তাঁর হিসাবে, এ খাতে ব্যয় করা প্রায় এক কোটি ৫৬ লাখ টাকা কার্যত কোনো কাজে আসেনি।

কৃষিবিদদেরও কেউ কেউ মনে করেন, এ ধরনের ডাগওয়েল মূলত সীমিত পরিসরে সবজি চাষে ব্যবহারযোগ্য; ধান বা বেশি পানিনির্ভর ফসলের জন্য তা কার্যকর নয়। তাদের মতে, তুলনামূলক কম ব্যয়েই এমন ব্যবস্থা করা সম্ভব।

খাল খননে উল্টো ফল
প্রকল্পের আওতায় ১৮০ কিলোমিটার খাল ও নালা পুনর্খননের কথা ছিল। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, কোথাও অপরিকল্পিতভাবে খনন করা হয়েছে, আবার কোথাও কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই বিল তুলে নেওয়া হয়েছে।

কুমারখালীর যদুবয়রা ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে যাওয়া গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) সেচ প্রকল্পের একটি ক্যানেল কয়েক বছর আগে পর্যন্ত স্থানীয় কৃষকদের সেচের পানি সরবরাহ করত। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিএডিসি পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনুমতি না নিয়েই ক্যানেলটি পুনর্খনন করে।

খননের পর এটি আগের তুলনায় অনেক গভীর হয়ে গেছে। ফলে খালের পানি মাঠে উঠছে না; বরং বৃষ্টির পানি মাঠ থেকে নেমে খালে চলে যাচ্ছে। এখন কৃষকরা শ্যালো মেশিনের ওপর নির্ভর করছেন।

কৃষক উসমান আলী বলেন, আগে এই খালের পানি দিয়ে চাষাবাদ হতো। এখন পানি থাকলেও মাঠে আসে না। লাখ লাখ টাকা খরচ করে খনন করে কৃষকেরই ক্ষতি হয়েছে।

দৌলতপুরের পিয়ারপুর ইউনিয়নের কামালপুর বাজারের পাশের একটি খালের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেড় কিলোমিটার খাল খননের কার্যাদেশ দেওয়া হলেও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রায় এক কিলোমিটার খননের পরই কাজ বন্ধ করে দেন ঠিকাদার। সরেজমিন খালের অসম্পূর্ণ অংশের অস্তিত্বও দেখা গেছে।

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিনারায়ণপুর ইউনিয়নের শান্তিডাঙ্গা মৌজায় ৬০০ মিটার পানি নিষ্কাশন খাল খননের কথা রয়েছে ২০২৩ সালে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, খালটির বড় অংশ এখন ভরাট ও ঝোপঝাড়ে ঢেকে গেছে। ফলে বৃষ্টির সময় পানি নিষ্কাশনে সমস্যা হয় এবং নিচু জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী রাশিদুর রহমান বাপ্পি বলেন, তাদের জিকে প্রকল্পের অন্তত কয়েকটি খালকে নিষ্কাশন খাল দেখিয়ে বিএডিসি পুনর্খনন করেছে। এ জন্য তাদের অনুমতি নেওয়া হয়নি। ভুল নকশায় খননের কারণে কয়েকটি এলাকায় কৃষকরা সেচের পানি পাচ্ছেন না। এসব খাল ঠিক করতে পাউবোকে আবার অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

গভীর নলকূপেও প্রভাবশালীদের দখল
প্রকল্পের আওতায় কুষ্টিয়ার ছয় উপজেলায় অর্ধশতাধিক গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটির নির্মাণ ব্যয় ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা। কৃষকদের মাত্র ৫৫ হাজার টাকা জামানত দিয়ে এসব পাম্প নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।

সরকারি পাম্পের পানি ব্যবহারের জন্য সেচ কমিটির নির্ধারিত হারও রয়েছে। তিন দফা সেচে এক বিঘা জমির জন্য এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা নেওয়ার কথা। কিন্তু কুমারখালীর বাগুলাট ইউনিয়নের দুধকুমড়া গ্রামের কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি পাম্প ইজারা পাওয়া ব্যক্তিরা প্রতি সেচে বিঘাপ্রতি ৯০০ থেকে এক হাজার টাকা নিচ্ছেন। ফলে পাঁচ বিঘা জমিতে একবার সেচ দিতেই প্রায় পাঁচ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে।

কৃষক শরীফ উদ্দিন বলেন, কম খরচে সেচ দেওয়ার জন্য সরকার পাম্প দিয়েছে। কিন্তু নির্ধারিত হারের কয়েক গুণ টাকা দিতে হচ্ছে। তাই অনেকে আবার শ্যালো মেশিনের পানি নিচ্ছেন।

পাম্পটির ম্যানেজার মোজাফফর হোসেন নিজাম অবশ্য অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে দৌলতপুরে ছয়টি গভীর নলকূপ স্থাপনের তথ্য পাওয়া গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এর কয়েকটি আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা পেয়েছেন। তৎকালীন মন্ত্রী ও কয়েকজন সচিবের সুপারিশে এসব পাম্প বরাদ্দের অভিযোগও রয়েছে।

সমঝোতায় ঠিকাদারকে কাজ প্রদান
প্রকল্পের নথি পর্যালোচনা ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বড় কাজের একটি অংশ কয়েকজন ঠিকাদারের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। অভিযোগ রয়েছে, দরপত্রের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া থাকলেও পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতে আগে থেকে দর ও কাজের তথ্য সরবরাহ করা হয়েছিল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএডিসির একজন নিবন্ধিত ঠিকাদার বলেন, রাজনৈতিক নেতা, তৎকালীন মন্ত্রী, বিএডিসির চেয়ারম্যান ও সচিবের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা বড় কাজগুলো পেয়েছেন। তাঁর দাবি, কাগজপত্রে দরপত্রের নিয়ম মানা হলেও বাস্তবে কাজ বণ্টনের ক্ষেত্রে আগে থেকেই সমঝোতা করা হতো।

প্রকল্পের নথিতে দেখা গেছে, কুষ্টিয়ায় চার বছরে ঠিকাদার আতাউর রহমান আতা ৫০টির বেশি কাজ পেয়েছেন। মোট আটজন ঠিকাদার তুলনামূলকভাবে বেশি কাজ পেয়েছেন। তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগ নেতাদের স্বজন ও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নাম রয়েছে।

প্রকল্পের প্রথম বছরেই প্রায় ২৫ কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়। এর মধ্যে কুষ্টিয়ায় অফিস সাজসজ্জা, ল্যাব স্থাপন, বঙ্গবন্ধু কর্নারসহ বিভিন্ন কাজ ছিল।
নথি অনুযায়ী, প্রকল্প পরিচালকের (পিডি) কক্ষ সাজাতে ৩৯ লাখ ৭৭ হাজার টাকা, অফিস সংস্কারে ২১ লাখ ৫১ হাজার এবং বঙ্গবন্ধু কর্নার নির্মাণে ২১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। এই তিন কাজ একই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে করা হয়েছে বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

সরেজমিন প্রকল্প কার্যালয়ের পেছনে পাম্প টেস্টিং ল্যাবের জন্য তৈরি একটি অসম্পূর্ণ স্থাপনা দেখা যায়। নথিতে কাজের ৬০ শতাংশ শেষ দেখানো হলেও বাস্তবে কাজ আরও কম হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান।

ঠিকাদার তানভীর নোবেল বলেন, কাজটি তাদের প্রতিষ্ঠান পেয়েছিল, তবে পুরোপুরি শেষ হয়নি এবং কিছু বিলও বকেয়া রয়েছে।
ঠিকাদার রুবেল হাসান অভিযোগ করেন, সরকারি প্রকল্পের কাজ পেতে কৃষকদেরও ঘুষ দিতে হয়েছে। আরেক ঠিকাদার এ এম জুবায়েদ রিপনের অভিযোগ, প্রকল্পের বড় অংশই নেতা ও ঠিকাদারদের স্বার্থে বাস্তবায়ন হয়েছে; কৃষকের বাস্তব সুবিধা বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

তিন পিডি, অনিয়মের অভিযোগ
পাঁচ বছরের প্রকল্পে তিনজন প্রকল্প পরিচালক (পিডি) দায়িত্ব পালন করেন। শুরুতে প্রায় আট মাস দায়িত্বে ছিলেন নুরুল ইসলাম। তাঁর সময়ে আগাম দরপত্র আহ্বান ও কমিশন নেওয়ার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ঠিকাদার। পরে তিন বছরের বেশি সময় দায়িত্ব পালন করেন মাহবুব আলম। ২০২৪ সালের মার্চে দায়িত্ব নেন আলী আশরাফ।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট নথিতে নুরুল ইসলামের সময়ে প্রায় ২৬ কোটি টাকার অডিট আপত্তির তথ্য রয়েছে। পরে ওই আপত্তি নিষ্পত্তি হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথিতে পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যায়নি।

আলী আশরাফ দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ৪৮ কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, সরকার পরিবর্তনের পরও কাজ বণ্টনের পুরোনো পদ্ধতি পুরোপুরি বদলায়নি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাদের প্রভাবের কারণে কয়েকজন ঠিকাদার একাধিক লটের কাজ পেয়েছেন।

তিন জেলার জন্য নতুন প্রকল্পে ৬৮১ কোটি
পুরোনো প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও কুষ্টিয়া, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গাকে নিয়ে নতুন করে ৬৮১ কোটি টাকার সেচ উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাব করেছে বিএডিসির সেচ বিভাগ। নতুন প্রকল্পে সেচ প্রযুক্তি উন্নয়নের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। তবে আগের প্রকল্পে কোন খাতে কী ফল পাওয়া গেছে, কৃষকের সেচ ব্যয় কতটা কমেছে বা উৎপাদন কতটা বেড়েছে– এমন সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি।

উন্নয়ন সংগঠন দিশার নির্বাহী পরিচালক রবিউল ইসলাম বলেন, কৃষকের প্রয়োজন ও প্রকল্পের ফল যাচাই না করে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করা হলে তা টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করে না। তাঁর মতে, ভবিষ্যৎ প্রকল্পে কৃষকের বাস্তব চাহিদা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

সদ্য শেষ হওয়া প্রকল্পের পিডি ও বিএডিসির নির্বাহী প্রকৌশলী আলী আশরাফ বলেন, প্রকল্পের সব কাজ হয়েছে। তবে কিছু অনিয়ম থাকতে পারে, বিশেষ করে ডাগওয়েল নির্মাণে ত্রুটি পাওয়া গেছে। নতুন প্রকল্পে ডাগওয়েল বাদ দেওয়া হচ্ছে।

কৃষকদের সুবিধা পাওয়ার বিষয়ে আলী আশরাফ বলেন, প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকরা সুবিধা পেয়েছেন এবং ফসল উৎপাদন বেড়েছে। তবে উৎপাদন কতটা বেড়েছে বা কৃষকের খরচ কতটা কমেছে– এমন কোনো পরিসংখ্যান তাঁর কাছে নেই বলে জানান।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা ১০ বছরের কম বয়সী শিশুদের স্থূলতায় ওষুধ ও অস্ত্রোপচার নয়

বিশ্বজুড়ে শিশু ও কিশোরদের স্থূলতা দ্রুত বাড়ছে। এ সমস্যা মোকাবিলায় ওষুধ বা অস্ত্রোপচারের চেয়ে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং আচরণগত ইতিবাচক পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

শিশু ও কিশোরদের স্থূলতা মোকাবিলায় প্রথমবারের মতো নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে ডব্লিউএইচও। এতে বয়সভেদে স্থূলতার চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন সুপারিশ করা হয়।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ১০ বছরের কম বয়সের শিশুদের স্থূলতার চিকিৎসায় ওজন কমানোর ওষুধ, পাকস্থলীতে অস্ত্রোপচার বা ওজন কমানোর কোনো যন্ত্র যেন ব্যবহার করা না হয়। তবে ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত জীবনযাত্রা পরিবর্তনের কর্মসূচিতে কাঙ্ক্ষিত ফল না এলে অনুমোদিত ওষুধ ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। গুরুতর স্থূলতার সঙ্গে স্বাস্থ্যগত জটিলতা থাকলে নির্দিষ্ট শর্তে ব্যারিয়াট্রিক সার্জারিও বিবেচনা করা যেতে পারে।

বিশ্বজুড়ে বাড়ছে স্থূলতা
ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে ৫ থেকে ৯ বছরের প্রায় সাত কোটি শিশু স্থূলতায় ভুগছিল। একই সময়ে ১০ থেকে ১৯ বছরের প্রায় ১০ কোটি কিশোর-কিশোরী স্থূলতায় ভুগছিল। ৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী শিশু-কিশোর ও তরুণ-তরুণীদের মধ্যে স্থূলতার হারও গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ১৯৯০ সালে এদের মধ্যে স্থূলতার হার ছিল প্রায় ২ শতাংশ। ২০২৪ সালে তা বেড়ে ৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
ডব্লিউএইচওর পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা বিভাগের পরিচালক লুজ মারিয়া দে রেজিল বলেন, বিশ্বের সব অঞ্চলেই শিশু-কিশোরদের স্থূলতার হার বাড়ছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে এ প্রবণতা বেশি। তাঁর মতে, শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের স্থূলতার চিকিৎসার ভিত্তি ওষুধ বা অস্ত্রোপচার নয়। স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ, নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম এবং দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক আচরণগত পরিবর্তনের সুযোগ নিশ্চিত করাই এর মূল ভিত্তি।

শুধু ওজন নয়, মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও নজর
স্থূলতার পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছে ডব্লিউএইচও। সংস্থাটি জানিয়েছে, উদ্বেগ, বিষণ্নতা ও আত্মসম্মানবোধ কমে যাওয়ার মতো সমস্যা অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এবং সামাজিকভাবে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। স্থূলতায় আক্রান্ত শিশু ও কিশোর-কিশোরীরা সামাজিক কটূক্তি, বৈষম্য ও বুলিংয়েরও শিকার হতে পারে। তাই স্থূলতার চিকিৎসায় শুধু ওজন কমানোর বিষয় নয়; শিশুর মানসিক ও সামাজিক সুস্থতার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

গুরুতর স্থূলতায় অস্ত্রোপচারের সুযোগ
ডব্লিউএইচওর পুষ্টি ও খাদ্যনিরাপত্তা বিভাগের বিজ্ঞানী মারিয়া নিভেস গার্সিয়া কাসাল বলেন, কিশোর বয়সে গুরুতর স্থূলতার সঙ্গে টাইপ-২ ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের মতো জটিলতা দেখা দিলে ব্যারিয়াট্রিক সার্জারি বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে অস্ত্রোপচারের আগে খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তনের মাধ্যমে স্থূলতা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতে হবে। এসব পদক্ষেপে কাঙ্ক্ষিত ফল না এলে এবং গুরুতর স্থূলতার সঙ্গে স্বাস্থ্যগত জটিলতা থাকলে অস্ত্রোপচারের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে নীতি ভিন্ন
শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের জন্য ডব্লিউএইচওর এই নির্দেশনা প্রাপ্তবয়স্কদের স্থূলতা চিকিৎসায় সংস্থাটির সাম্প্রতিক অবস্থানের তুলনায় ভিন্ন। প্রাপ্তবয়স্কদের স্থূলতা চিকিৎসায় জিএলপি-ওয়ান অ্যাগোনিস্ট শ্রেণির ওষুধের ভূমিকা বিবেচনা করেছে ডব্লিউএইচও। ওজেম্পিক ও মাউনজারোর মতো পরিচিত ব্র্যান্ড এ শ্রেণির ওষুধের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে শিশু-কিশোরদের ক্ষেত্রে ওষুধনির্ভর চিকিৎসার বদলে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম এবং দীর্ঘমেয়াদি আচরণগত পরিবর্তনকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশেও বাড়ছে অতিরিক্ত ওজনের প্রবণতা
বাংলাদেশে একদিকে অপুষ্টি এখনও শিশুস্বাস্থ্যের বড় হুমকি, অন্যদিকে শহরাঞ্চলে শিশু-কিশোরদের অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতার প্রবণতা বাড়ছে। গত এপ্রিলে ইউনিসেফের ‘ফিডিং প্রফিট: হাউ ফুড এনভায়রনমেন্টস আর ফেইলিং চিলড্রেন’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের শিশুদের খাদ্যাভ্যাস ও পুষ্টি পরিস্থিতির এমন চিত্র উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের ৮ শতাংশ শিশু অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় ভুগছে। আগে তুলনামূলকভাবে উচ্চবিত্ত পরিবারের শিশুদের মধ্যে স্থূলতা বেশি দেখা গেলেও এখন মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের শিশুদের মধ্যেও এ প্রবণতা বাড়ছে। ভাজাপোড়া, ফাস্টফুড, মিষ্টি বিস্কুট ও কোমল পানীয়র মতো প্রক্রিয়াজাত খাবারের সহজলভ্যতা এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পুষ্টির অভাবে দেশের গ্রামীণ অঞ্চলের প্রায় ২৮ শতাংশ শিশু খর্বাকৃতিতে ভুগছে। ফলে বাংলাদেশে অপুষ্টির ডাবল বার্ডেন বা দ্বৈত বোঝা স্পষ্ট হয়ে উঠছে– একদিকে অপুষ্টি, অন্যদিকে অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতা।

শিশুর খাদ্যতালিকায় পুষ্টিকর খাবারের ঘাটতি
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ৬ থেকে ২৩ মাস বয়সী শিশুদের মধ্যে অপুষ্টি ও অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণের প্রবণতা বেড়েছে। স্কুল পরিবেশে ফাস্টফুড ও চিনিযুক্ত পানীয়র সহজলভ্যতাও কিশোর-কিশোরীদের ওজন বাড়ার অন্যতম কারণ। ৬ থেকে ২৩ মাসের শিশুদের খাদ্যতালিকায় পুষ্টিকর খাবারের বড় ঘাটতি রয়েছে। প্রায় ৩৮ শতাংশ শিশু ডিম ও মাংস খেতে পায় না। ৪৬ শতাংশ শিশু শাকসবজি ও ফল খায় না। বিপরীতে ৫৯ শতাংশ শিশু নিয়মিত নিম্নমানের খাবার ও কোমল পানীয় গ্রহণ করে। প্রায় ২০ শতাংশ শিশু লবণাক্ত ও ভাজা খাবার খায়। বিশ্বজুড়েও স্কুলগামী শিশু-কিশোরদের মধ্যে স্থূলতা বাড়াকে সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। শিশুদের ওজন বাড়লেও তাদের পুষ্টির ঘাটতি থেকে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতেই এ ধরনের স্থূলতার হার সবচেয়ে দ্রুত বাড়ছে।

চিনিযুক্ত খাবার ও পানীয় নিয়ে উদ্বেগ
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বে পাঁচ বছরের কম বয়সের শিশুদের মধ্যে ২০ জনে একজন, অর্থাৎ প্রায় ৫ শতাংশ অতিরিক্ত ওজনের শিকার। ৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী শিশু ও কিশোরদের মধ্যে প্রায় পাঁচজনে একজন বা ২০ শতাংশ বাড়তি ওজনে ভুগছে। ২০০০ সালে বিশ্বে ৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী অতিরিক্ত ওজনের শিশু-কিশোর ও তরুণ-তরুণীদের সংখ্যা ছিল প্রায় ১৯ কোটি ৪০ লাখ। ২০২২ সালে তা বেড়ে ৩৯ কোটি ১০ লাখে দাঁড়িয়েছে।
নতুন সূচক অনুযায়ী, ৬ থেকে ২৩ মাসের অনেক শিশুই নিয়মিত মিষ্টি ও ভাজা খাবার খাচ্ছে। ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সীদের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ প্রতিদিন একাধিক চিনিযুক্ত খাবার বা পানীয় গ্রহণ করে। এ বয়সীদের প্রায় ৩২ শতাংশ কোমল পানীয় এবং ২৫ শতাংশ নোনতা প্রক্রিয়াজাত খাবার খায়।

বিদায়, পূর্ণতার অমর গল্প

০

বিদায় বোধ হয় সব সময় সবকিছুর সমাপ্তি নয়! কখনও কখনও তা স্মৃতির সিন্দুকে এক অনন্ত হাহাকার আর ভালোবাসা জমা রাখার নিভৃত, গোপন আয়োজনও; যা পাথেয় করেই হয়তো বাকি জীবনটা অনায়াসে কাটিয়ে দেওয়া যায়। লিওনেল মেসিও বুঝি জীবনের গূঢ় বাঁকে দাঁড়িয়ে সেই চিরন্তন সত্যটাই বেছে নিলেন। গতকাল বুধবার আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে বেনিনের বিপক্ষে শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচটি খেলার পর বিষাদঘন মহালগ্নে তিনি আশ্রয় নিলেন পরিবারের বুকে। একপাশে তাঁর কাঁধ ছুঁইছুঁই বড় ছেলে থিয়াগো, অন্যপাশে চির-সহচরী আন্তোনেলা রোকুজ্জো আর বাকি দুই সন্তান– স্টেডিয়ামের দিকে মুখ ঘুরিয়ে মাঠ থেকে ফিরে প্রস্থান নিলেন আর্জেন্টিনার হয়ে খেলার একুশ বছরের অভ্যাস থেকে।

লুসাইলের সেই কাঙ্ক্ষিত সোনার হরিণ– বিশ্বকাপ, কোপার মরমিয়া উল্লাস আর আলবিসেলেস্তে জার্সির গায়ে খোদাই করা অতিমানবিক কীর্তিগাথা রেখে দিয়ে এলেন ‘মেসিশূন্য’ আর্জেন্টিনার একলা আকাশে। ক্যামেরার লেন্স যখন তাঁর চোখের কোণে জমা হওয়া সেই নোনা জলের শেষ বিন্দুটিকে ছুঁয়ে গেল, তখন স্পষ্ট বোঝা গেল– যিনি কোটি মানুষকে প্রতিদিন স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছেন, তিনিও আজ এক চরম রিক্ততার মুখোমুখি। জামার হাতায় চোখ মুছে তাঁর বিদায়ী স্বরলিপি, ‘আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কষ্টের ও দুঃখের দিনটি পার করছি। কারণ আজ সেই দিন, যেদিন আমি জাতীয় দল ও আপনাদের সবাইকে বিদায় জানাচ্ছি। জাতীয় দলের এই ঐতিহাসিক জার্সি ও সম্মান রক্ষা করার প্রতিটি মুহূর্তকে আমি মিস করব। তবে এখন থেকে আমি আপনাদের সারিতে, ওপাশে গিয়ে দাঁড়াব।’

আলবিসেলেস্তে জার্সির মায়া কাটিয়ে ওপাশে গিয়ে সাধারণ সমর্থক হওয়ার ঘোষণা দিলেও ফুটবলকে তিনি অবশ্য এখনই বিদায় জানাচ্ছেন না। আটলান্টিকের ওপারে, ইন্টার মায়ামির চেনা গোলাপি জার্সিতে এখনও তাঁর পায়ের জাদু দেখার অপেক্ষায় বুঁদ হয়ে থাকবে গোটা বিশ্ব। মেসি এখন ক্লাব ফুটবলের আঙিনায় খেলবেন শুধুই নিজের আনন্দের জন্য, ফুটবলের আদি ও অকৃত্রিম ভালোবাসার জন্য। দেশের হয়ে ‘আছেন’ থেকে ‘ছিলেন’ হয়ে যাওয়ার পরও মায়ামির সবুজ ঘাসে তাঁর প্রতিটি ছোঁয়া ফুটবল রোমান্টিকদের মনে করিয়ে দেবে– রাজার দেশ বদলেছে, কিন্তু জাদুর মায়া ফুরিয়ে যায়নি! দেশের হয়ে শেষ ম্যাচটি খেলতে নেমেও শেষবারের মতো আকাশি-সাদায় জাদুই দেখিয়েছেন।

মাঠে লিওনেল মেসি যে কেন শুধুই একজন ফুটবলার নন– এক অলৌকিক কিংবদন্তি, তার চূড়ান্ত সাক্ষ্য তিনি রেখে গেলেন বেনিনের বিপক্ষে এই বিদায়ী মঞ্চেও। ৩-০ গোলের ম্যাচটি শুধু স্মরণীয় করে রাখলেন না, বরং চিত্রনাট্যের মতো করে বুনে গেলেন এক পরম বৃত্তপূরণ। অদ্ভুত এক নিয়তি, ম্যাচের প্রথম গোলটি তিনি করালেন কার হাত দিয়ে? নিকোলাস ওতামেন্দি! মেসির মতোই যাঁর আজ আলবিসেলেস্তে জার্সিতে শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ ছিল। দুই পুরোনো কমরেডের এই শেষ যুগলবন্দি যেন এক প্রজন্মের অবসান। আর ঠিক তার পরেই দ্বিতীয় গোলটি তিনি সাজিয়ে দিলেন তরুণ নিকো পাজের পায়ে, যাঁর চোখের মণিতে ফুটবলবিশ্ব এরই মধ্যে মেসির এক যোগ্য উত্তরসূরির ছায়া দেখতে শুরু করেছে। কে জানে, হয়তো এই পাজের পিঠেই উঠতে যাচ্ছে আগামী দিনের সেই পবিত্র ১০ নম্বর জার্সি! আর নাটকের শেষ অঙ্কটি মেসি লিখলেন নিজের পায়ে। যে পেনাল্টি কিক নিয়ে জীবনের নানা বসন্তে তাঁকে অজস্র তীরবিদ্ধ হতে হয়েছে, সমালোচকদের বিষাক্ত বাণে বিদ্ধ হতে হয়েছে, সেই পেনাল্টি থেকেই স্পট-কিকে বল জাল ছুঁয়ে তিনি যেন নিজের ক্যারিয়ারের সমস্ত অপূর্ণতা আর যন্ত্রণার হিসাব চুকিয়ে দিলেন। বিদায়ের রাতে বেনিন-বধের এই ৩-০ ব্যবধান তাই কোনো সাধারণ পরিসংখ্যান নয়; এ এক মহানায়কের নিজের হাতে লিখে যাওয়া নিখুঁত এক মহাকাব্যের শেষ অনুচ্ছেদও।

খেলা শুরুর ঠিক পাঁচ ঘণ্টা আগে থেকেই মূলত মহাকালের সেই বিষণ্ন নাটকের প্রথম অঙ্কটা শুরু হয়ে গিয়েছিল। আর্জেন্টিনার ট্রেনিং সেন্টারের প্রবেশমুখে যখন হাজার হাজার ভক্তের সেই উথালপাতাল ভিড় আছড়ে পড়ছিল, গাড়িবারান্দার ওপাশে বসা লিওনেল মেসির চোখের কোণটা তখনই প্রথম আর্দ্র হয়ে ওঠে। তারপর যখন হাইওয়ে ধরে টিম-বাস ছুটছে এস্তাদিও মনুমেন্তালের দিকে, জানালার কাচে মাথা রেখে বাইরে তাকানো জাদুকর আর নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। ঝরঝর করে কেঁদে ফেললেন সেই অতিমানব, যিনি গত একুশ বছর ধরে গোটা বিশ্বকে হাসিয়েছেন, কাঁদিয়েছেন। স্টেডিয়ামের টানেলে ঢোকামাত্রই তাঁকে জড়িয়ে ধরে একটুকরো নিরাপদ পৃথিবী– তাঁর মা, ছায়ার মতো পাশে থাকা স্ত্রী আন্তোনেলা আর অবুঝ সন্তানরা। একটু দূরেই দাঁড়িয়ে ছিলেন অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়ার মতো আজন্ম যোদ্ধারা, যারা এই ঐতিহাসিক বিদায়ের সাক্ষী হতে, বন্ধুকে শেষ আলিঙ্গন দিতে গ্যালারি আলো করে এসেছিলেন।

আর মাঠের ভেতর? ওটা তো নিছক কোনো ফুটবল ম্যাচ ছিল না, ওটা ছিল এক ভালোবাসার মানুষের প্রতি ভক্তকুলের রাজকীয় উপাসনা। গ্যালারি থেকে যখন পঁচাশি হাজার কণ্ঠের ‘মেসি… মেসি…’ ধ্বনি কূজনের মতো আছড়ে পড়ছিল, জাতীয় সংগীতের প্রতিটি সুরে মিশে যাচ্ছিল এক অলৌকিক হাহাকার। আর কখনও কি এমন সন্ধ্যা আসবে তাদের জীবনে?

চিত্রনাট্যের সবচেয়ে মায়াবী দৃশ্যটা মঞ্চস্থ হয়েছিল ম্যাচের ঠিক দশম মিনিটে; রেফারি যখন খেলা থামিয়ে দিলেন, পুরো স্টেডিয়াম একযোগে উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান জানাল আর্জেন্টিনার ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম ‘নম্বর ১০’-কে। প্রতিপক্ষের ফুটবলারদের বাড়িয়ে দেওয়া লাল গোলাপের শুভেচ্ছা যেন শত্রু-মিত্রের সীমানা মুছে দিল চিরতরে। আর ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজতেই দেখা গেল এক অভাবনীয় দৃশ্য– খোদ রেফারি এগিয়ে এসে মেসির হাতে তুলে দিচ্ছেন ম্যাচের বল, পকেট থেকে বের করছেন লাল আর হলুদ কার্ড। যেন বলতে চাইছেন, ‘হে জাদুকর, এই নিয়মের খেলা তো আজ থেকে তোমার জন্য শেষ!’ ঠিক তখনই বুয়েন্স আয়ার্সের রাতের আকাশকে চিরে দিয়ে ড্রোনের আলোয় জ্বলে উঠল দুটো অমর শব্দ– ‘গ্রাসিয়াস মেসি’। প্রযুক্তির শরীরে মায়ার প্রলেপ মাখানো মেসির রূপকথা সাজানো ছিল রাতের আকাশে। জাদুকরের পায়ের জাদুর মতোই হাজার হাজার ড্রোন আকাশে এক আলোর নকশিকাঁথা বুনছিল তখন। যে আলোর রোশনাই বুঝিয়ে দিয়েছিল, আলো নিভে গেলেও এই রূপকথার গোধূলি কখনও ফুরাবার নয়।

যে গল্পের শুরুটা হয়েছিল রোজারিওর এক চিলতে ধুলোবালি মাখা গলিতে, এক হরমোনজনিত সমস্যায় ভোগা বিষণ্ন বালকের পায়ে বলের আলতো ছোঁয়ায়, এদিন বুয়েন্স আয়ার্সের এস্তাদিও মনুমেন্তালের আকাশ ছোঁয়া গর্জনে এসে তার রাজকীয় অবসান হলো। মেসির এই দুই দশকের আন্তর্জাতিক পথচলা তো কেবল কিলোমিটারের মাপে রোজারিও থেকে বুয়েন্স আয়ার্সের দূরত্ব নয়; এ আসলে এক মহাকাব্যের সফল রূপান্তর করার জীবন-যুদ্ধ। সেই ছোটবেলার ‘লা পুলগা’ বা খুদে জাদুকরটি যখন দেশের জন্য নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দিতে দিতে ফাইনালে হারার কান্না সয়েছেন, ট্রফি না পাওয়ার বিষাক্ত বাণে বিদ্ধ হয়েছেন, তখনও কেউ ভাবেনি এই রূপকথার শেষ অঙ্কটা এত মধুর হবে। রোজারিওর সেই ছটফটে পায়ে আজ ২০৮টি ম্যাচের ক্লান্তি আর ১২৬টি গোলের রাজকীয় অহংকার মিশে আছে বটে; কিন্তু শেষ ম্যাচে এসে যখন তিনি পরম তৃপ্তিতে থিয়াগোর কাঁধে হাত রাখলেন, তখন মনে হলো বৃত্তটা সম্পূর্ণ হলো।

এদিন ম্যাচ শেষের পর যখন উৎসবের আলো একে একে নিভে এলো, তখন মনুমেন্তালের ড্রেসিংরুমের বদ্ধ বাতাসে নেমে এলো এক ভারী নৈঃশব্দ্য। কিছু বিদায় সতীর্থদের আর সতীর্থ রাখে না, তাদের বানিয়ে দেয় একেকজন অভিভাবকহারা ক্রন্দনরত শিশু। তারা শুধু একজন অধিনায়ককে হারাচ্ছেন না; হারাচ্ছেন তাদের শৈশবের রূপকথাকে, মাঠের ভেতরের পরম নির্ভরতাকে। ডি মারিয়া দূর থেকে দাঁড়িয়ে চোখ মুছছিলেন; যেন এক কমরেড অন্য কমরেডের মহানিষ্ক্রমণ দেখছেন গভীর নীরবতায়। সতীর্থদের প্রতিটি আলিঙ্গন, প্রতিটি ভাঙা কণ্ঠের আকুতি মেসিকে বুঝিয়ে দিচ্ছিল– গত একুশ বছরে তিনি কেবল ট্রফি জেতেননি; জয় করেছেন একেকটা মানুষের হৃদয়।

আর ঠিক তার পরেই এলো সেই চিরস্মরণীয় মুহূর্ত, যখন মাইক হাতে মঞ্চের মাঝখানে এসে দাঁড়ালেন মেসি। চারপাশের গগনবিদারী চিৎকারের মধ্যেও তাঁর বিদায়ী ভাষণের আবহ জুড়ে ছিল এক অপার্থিব মরমিয়া বিষাদ। কাঁপা কাঁপা গলায় যখন তিনি বলে উঠলেন, ‘আজ কিছু বলা সত্যিই খুব কঠিন… আমি মাঠ ছেড়ে যেতে চাইছি না, আমি বিদায় নিতে চাইছি না’– তখন এস্তাদিওর প্রতিটি ঘাসের কণা যেন গুমরে কেঁদে উঠেছিল। কণ্ঠে কোনো অহংকার ছিল না, ছিল না বিশ্বজয়ের কোনো উদ্ধত আস্ফালন; বরং সেখানে মিশে ছিল বাবার স্মৃতির প্রতি নিবিড় কৃতজ্ঞতা, ইংল্যান্ড ম্যাচের সেই শরীর নিংড়ানো ক্লান্তির স্বীকারোক্তি এবং চিরকাল আর্জেন্টিনার সাধারণ এক সমর্থক হয়ে ওপাশে গিয়ে দাঁড়ানোর এক পরম আত্মত্যাগ। আলো-ছায়ার সেই মায়াবী সন্ধ্যায়, মেসির মুখ থেকে ঝরে পড়া প্রতিটি শব্দ যেন বুয়েন্স আয়ার্সের আকাশ চিরে একেকটা নীল পদ্ম হয়ে ঝরে পড়ছিল কোটি ভক্তের হৃদয়ে। রাজা মঞ্চ ছাড়লেন, কিন্তু তাঁর কণ্ঠের সেই শেষ আকুতি ফুটবল রোমান্টিকদের স্মৃতির সিন্দুকে অমর হয়ে রইল চিরকালের জন্য।

রেলে গতি আনতে কেনা হবে ৩০ লোকোমোটিভ

রেলওয়ের সক্ষমতা বাড়াতে ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ কেনা হবে। এর ফলে নতুন করে গতি আসবে রেলে। একই সঙ্গে ট্রেন পরিচালনার দক্ষতা বাড়বে, সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত হবে এবং পুরোনো ইঞ্জিনের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে।

গতকাল বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে ‘রেলওয়ের সক্ষমতা সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহ’ প্রকল্পসহ মোট ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন  দেওয়া হয়। সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন একনেক চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ২০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এই ব্যয়ে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১০ হাজার ৬০০ কোটি ৮০ লাখ টাকা। বিদেশি ঋণ চার হাজার ৮১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। বাকি এক হাজার ৫২৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর নিজস্ব জোগান। অনুমোদিত প্রকল্পের মধ্যে ১০টি নতুন এবং তিনটি সংশোধিত প্রকল্প।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, মহিলা ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, শিল্প, বস্ত্র ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। একনেকে উত্থাপিত প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট  মন্ত্রণালয়ের সচিবরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তুলে ধরনে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে। সাধারণত প্রধানমন্ত্রী একনেক বৈঠকে বিভিন্ন বিষয়ে নির্দেশনা দিয়ে থাকেন। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, যে কোনো রাস্তা কিংবা অবকাঠামো প্রকল্পের ক্ষেত্রে তিন বছরের মধ্যে সমস্যা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে তা মেরামত করে দিতে হবে। প্রকল্পের কার্যক্রমে এই বাধ্যবাধকতা যুক্ত করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন,  নির্বাচনী প্রস্তুতির সঙ্গে একনেকে অনুমোদিত  প্রকল্পের কোনো  সম্পর্ক নেই।

অনুমোদিত ১৩ প্রকল্প
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যয় ধরা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের দ্বিতীয় সংশোধনে। প্রকল্পটির ব্যয় এক হাজার ৩১০ কোটি ৪০ লাখ টাকা বাড়িয়ে মোট সাত হাজার ৩৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা করা হয়েছে। প্রকল্পটির মূল ব্যয় ছিল তিন হাজার ৪৬১ কোটি টাকা। পুরোটাই সরকারি অর্থায়নে হবে। অনুমোদিত অন্য বড় প্রকল্পের মধ্যে সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও নওগাঁ জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প। ব্যয় ধরা হয়েছে তিন হাজার ৭৬৮ কোটি টাকা। এটি একটি নতুন প্রকল্প। রেলওয়ের সক্ষমতা সম্প্রসারণে ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয় দুই হাজার ৭৭০ কোটি টাকা। প্রকল্পে বিদেশি ঋণ আছে এক হাজার ৯৫৮ কোটি টাকা। প্রকল্পটির কাজ শেষ হবে ২০২৯ সালের ডিসেম্বরে। রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট পিক সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় হবে দুই হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রকল্প ঋণ ও অনুদান থেকে আসবে দুই হাজার ১২৩ কোটি  টাকা।  ২০২৯ সালের মার্চে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা। এ ছাড়া গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ৮ নম্বর জোনের রাস্তা, নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণে দুই হাজার ৫৮৬ কোটি ৯৯ লাখ টাকার নতুন প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।

অনুমোদিত অন্য প্রকল্পের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত নতুন পাঁচটি অঞ্চলের ১৮ ওয়ার্ডের সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে ৭৮৪ কোটি ৪৯ লাখ ৮৭ হাজার টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রংপুর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে এক হাজার ৬০৭ কোটি টাকা অনুমোদন হয়েছে। রংপুর সিটি করপোরেশনের ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা পুনর্বাসনে ২১০ কোটি ৪৯ টাকার নতুন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। বিআইডব্লিউটিসির জন্য ৩৫টি বাণিজ্যিক ও আটটি সহায়ক জলযান সংগ্রহ এবং দুটি নতুন স্লিপওয়ে নির্মাণ প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধন অনুমোদন করা হয়েছে। ফ্রান্সের প্যারিসে ক্রয় করা চ্যান্সারি ভবন ব্যবহারোপযোগী করতে সংস্কার ও আধুনিকায়নে ২১১ কোটি  টাকার নতুন প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। পঞ্চগড়ের ভজনপুর থেকে পঞ্চগড় সড়কের ১৫তম কিলোমিটারে দ্বিতীয় করতোয়া সেতু নির্মাণে ২০৪ কোটি টাকার নতুন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। থানচি-রিমাকরি-মদক-লিকরি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধন অনুমোদন হয়েছে। এতে ৩৬ কোটি ৫০ লাখ ৩২ হাজার টাকা ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। প্রকল্পটির মেয়াদ চতুর্থবার বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। সমবায়ের মাধ্যমে নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে ১৮৫ কোটি টাকার নতুন প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।

ভারতের সঙ্গে পানির হিস্যায় বাংলাদেশ একচুলও ছাড় দেবে না: নাহিদ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেন, ভারতের সঙ্গে আগামী ডিসেম্বরে গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। নতুন চুক্তিতে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নদী ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের অংশীদারত্ব স্পষ্ট করতে হবে। পানির হিস্যায় বাংলাদেশ একচুলও ছাড় দেবে না।

বুধবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর পলাশী মোড়ে আবরার ফাহাদ স্মৃতি সংসদ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের হত্যার সপ্তম বার্ষিকীতে তার স্মৃতিকে সামনে রেখে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়নে সরকারকে আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, আবরার ফাহাদ বাংলাদেশের নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার কথা বলেছিলেন। সেই অবস্থানকে ধারণ করতে হলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে ন্যায্যতা ও সমতার ভিত্তিতে পুনঃস্থাপন করতে হবে।

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, আগামী ডিসেম্বরে গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। নতুন চুক্তিতে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নদী ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের অংশীদারত্ব স্পষ্ট করতে হবে। পানির হিস্যায় বাংলাদেশ একচুলও ছাড় দেবে না।

নাহিদ ইসলাম বলেন, আবরার ফাহাদ শুধু একজন ব্যক্তি নন; তার হত্যার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ আমলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নির্যাতন ও গেস্টরুম সংস্কৃতির চিত্রও প্রকাশ পেয়েছিল। সামান্য ফেসবুক স্ট্যাটাসের কারণে তাকে সারারাত নির্যাতন করে হত্যা করা হয়।

এনসিপি নেতা নাহিদ বলেন, শুধু বোয়িং বিমান কেনা বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বৈঠক করলেই হবে না; সরকার আন্তর্জাতিক চুক্তিতে বাংলাদেশের স্বার্থ কতটা নিশ্চিত করতে পারছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। গঙ্গা পানি বণ্টনসহ সব আন্তর্জাতিক চুক্তি সংসদে আলোচনা করে জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

গাজা যুদ্ধের ৩ বছর ‘আমরা সব হারিয়েছি’

০

গাজা যুদ্ধের তিন বছর পূর্ণ হয়েছে বুধবার। ইসরায়েলের নির্বিচার হামলা, মানবেতর পরিস্থিতি সৃষ্টি এবং পদ্ধতিগত নির্মূল প্রচেষ্টার মুখে পড়ে বাস্তবতাই পাল্টে গেছে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডটির। নিজেদের বাস্তবতা তুলে ধরতে গিয়ে বেইত হানুনের এক ফিলিস্তিনি বলেন, ‘আমরা সব হারিয়েছি।’

আলজাজিরার প্রতিবেদন বলছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে হামলা হয়েছিল ইসরায়েলে। ওই হামলার পর ইসরায়েল গাজায় ব্যাপক বিমান ও স্থল অভিযান শুরু করে। এরপর টানা হামলায় গাজার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে বাড়িঘর ও আবাসিক এলাকা ধ্বংস হয়ে গেছে। মানবেতর পরিস্থিতির মুখে পড়েছে মানুষ।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৭৪ হাজার ২৪৫ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। প্রায় ২০ লাখ মানুষের জীবন এই যুদ্ধে বিপর্যস্ত হয়েছে। বারবার বাস্তুচ্যুতি ও উচ্ছেদের নির্দেশে পরিবার ও সম্প্রদায়গুলোকে ঘরছাড়া হতে হয়েছে।

গাজা যুদ্ধের নির্মমতায় যখন গোটা বিশ্ব নড়েচড়ে বসতে শুরু করে, সে সময় আসে বহুল প্রতীক্ষিত এক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৫ সালের অক্টোবরে ওই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও এক হাজার ৪৬২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন ইসরায়েলি হামলায়।

প্রতিদিনের জীবনে টিকে থাকার লড়াই

গাজার মানুষের জন্য যুদ্ধ শুধু তাদের বসবাসের জায়গা বদলে দেয়নি, দৈনন্দিন জীবনের সবচেয়ে সাধারণ কাজগুলো করার পদ্ধতিও বদলে দিয়েছে। এই যুদ্ধের জেরে উপত্যকাটির শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে। খাবার, পানি, আশ্রয় এবং অন্যান্য মৌলিক প্রয়োজনীয় জিনিসের ব্যবস্থা করাই এখন প্রতিদিনের বড় চ্যালেঞ্জ।

জাতিসংঘের দেওয়া তথ্যানুসারে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে গাজার ৯৪ শতাংশ মানুষের জরুরি আশ্রয় ও মৌলিক গৃহস্থালি সহায়তার প্রয়োজন ছিল। আর ৬৫ শতাংশ পরিবার তাঁবু বা অস্থায়ী আশ্রয়ে বসবাস করছিল। ইসরায়েলি হামলা কিংবা জোরপূর্বক উচ্ছেদের নির্দেশে ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হওয়ায় এসব আশ্রয়ে তাদের থাকতে হচ্ছে। এসব অস্থায়ী আশ্রয় আবহাওয়া থেকে সামান্যই সুরক্ষা দেয় তাদের।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, অনেক পরিবারের পর্যাপ্ত বিছানা, আলো, রান্নার সরঞ্জাম ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থাও নেই। পানিও প্রতিদিনের আরেকটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাতিসংঘের তথ্যানুসারে, আগস্টের শুরুতে গাজার ৯১ শতাংশ মাঝারি থেকে উচ্চমাত্রার পানি নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে ছিল। বিদ্যুৎ পরিস্থিতিও একইভাবে অনিশ্চিত। উপত্যকাটিতে এখনও কার্যকর বিদ্যুৎ গ্রিড নেই। জ্বালানিও ক্রমে দুর্লভ হয়ে উঠছে।

গাজার উত্তরাঞ্চলের প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাওয়া শহর বেইত হানুনের বাসিন্দা বাসাম নাসের বলেন, ‘একসময় আমাদের বাড়ি ছিল। এখন আমরা প্রিয়জনদের হারিয়েছি। তাদের মরদেহ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়ে আছে। আমরা সব হারিয়েছি।’

ধ্বংস হয়ে গেছে অর্থনীতি

যুদ্ধ গাজার অর্থনীতিও পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে। ব্যবসা ও স্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস হওয়ায় পরিবারগুলোর আয় কমে গেছে এবং তাদের ক্রয়ক্ষমতা ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে।

চাকরি ও আয় হারিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এখন ক্রমে মানবিক সহায়তা, ঋণ এবং ছোট পরিসরের অনানুষ্ঠানিক কাজকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠছে। অর্থনৈতিক গবেষক রামি আল-জায়গ আলজাজিরাকে বলেছেন, এই যুদ্ধ ‘সমাজটিকে কয়েক দশক পিছিয়ে দিয়েছে’।

সংকুচিত হয়ে আসছে বসবাসের জায়গা

যুদ্ধের কারণে গাজার ভৌগোলিক চিত্রও বদলে গেছে। ইসরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রণ ও প্রবেশাধিকার-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ ভূখণ্ডটিকে বিভক্ত করেছে। ফিলিস্তিনিদের ক্রমেই ছোট একটি এলাকায় ঠেলে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের বাড়িঘর, কৃষিজমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে।

তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ তৈরির মাধ্যমে গাজার ভেতরে একটি সামরিক সীমারেখা তৈরি করা হয়েছে। এই কথিত রেখার একপাশে ইসরায়েলি সেনার অবস্থান এবং অন্যপাশে আছেন ফিলিস্তিনিরা। গত সেপ্টেম্বরে ইউরো-মেড হিউম্যান রাইটস মনিটর জানিয়েছিল, ইসরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রণ ও প্রবেশাধিকার-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ গাজার প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকাজুড়ে রয়েছে। ফলে ২০ লাখের বেশি ফিলিস্তিনিকে গাজার ৩০ শতাংশেরও কম এলাকায় কেন্দ্রীভূত হয়ে থাকতে হচ্ছে।

তৃতীয় বার্ষিকীতেও হামলা

যুদ্ধের তৃতীয় বার্ষিকীতেও বুধবার গাজায় নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন।

গাজা সিটির আল-শিফা হাসপাতাল জানিয়েছে, রাতে ইসরায়েলি হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন। গাজার সিভিল ডিফেন্স নিহতদের একজনকে মোহাম্মদ তামুস হিসেবে শনাক্ত করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, তিনি তাদের একজন স্বেচ্ছাসেবক ছিলেন।

দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনিস শহরের নাসের হাসপাতাল জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় ৬০ বছর বয়সী হিশাম ইব্রাহিম আবু মুস্তাফা নিহত হয়েছেন এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

রাশিয়ায় প্লেগে নারীর মৃত্যু, বিশ্বজুড়ে শঙ্কা ছড়িয়ে পড়ার লক্ষণ নেই: ডব্লিউএইচও

রাশিয়ার একটি গবেষণা কেন্দ্রে সংক্রামক রোগ প্লেগে টেকনিশিয়ানের মৃত্যুর খবর এক ধরনের আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বিষয়টি নিয়ে রাশিয়ার কাছে আনুষ্ঠানিক তথ্য চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ঘটনাটির বিষয়ে মস্কোর দিক থেকে স্বচ্ছতার দাবিও জোরালো হচ্ছে।

গত সপ্তাহে সাইবেরিয়ার ইরকুতস্ক অঞ্চলে প্লেগ গবেষণা ইনস্টিটিউটে টেকনিশিয়ানের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। রাশিয়ার গণমাধ্যম পিপল অব বৈকাল গত শুক্রবার জানায়, মারা যাওয়া ওই নারীর নাম দারিয়া শিপিলোভা (২৮)। ভেঙে যাওয়া একটি টেস্ট টিউব থেকে তিনি নিউমোনিক প্লেগে সংক্রমিত হয়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্য গণমাধ্যমও ল্যাবরেটরিতে ঘটা এক দুর্ঘটনার সঙ্গে দারিয়ার মৃত্যুর সম্ভাব্য সম্পর্কের কথা বলছে। তাঁর সংস্পর্শে যাওয়া প্রায় ২০০ জনকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। তবে রুশ কর্তৃপক্ষ বলছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মস্কোকে স্বচ্ছতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রিয়াসুস। সংস্থাটি বলছে, মঙ্গলবার রাশিয়ার কাছ থেকে হালনাগাদকৃত তথ্য পাওয়া গেছে। সেখানে বলা হয়েছে, ইরকুতস্কে বিপজ্জনক রোগের সংক্রমণ রেকর্ড করা হয়নি।

গত মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি শিগগিরই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে কথা বলবেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে মস্কোর কাছে আরও তথ্য চেয়েছি।’

প্লেগ একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ। এর জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়ার নাম ইয়ারসিনিয়া পেস্টিস। বুরিয়াতিয়া অঞ্চলে মারমটের মতো তৃণভোজী ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর দেহে এই ব্যাকটেরিয়া পাওয়া যায়। প্লেগ নানা ধরনের হতে পারে। এর মধ্যে সবচেয়ে সংক্রামক ধরন নিউমোনিক প্লেগ। এটি শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে একজন থেকে অন্যজনে ছড়াতে পারে। বিউবনিক প্লেগ ছড়ায় সংক্রমিত পরজীবী পোকার মাধ্যমে।

স্বাধীন বাংলাদেশে মানুষের মধ্যে কখনও প্লেগ ছড়ায়নি। তবে ব্রিটিশ শাসনামলে ১৮৯৮ সালের দিকে কলকাতায় বিউবনিক প্লেগ মহামারি আকার ধারণ করলে তৎকালীন পূর্ব বাংলাতে (বর্তমান বাংলাদেশ) আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৯৪ সালে ভারতের সুরাটে নিউমোনিক প্লেগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। এরপর বাংলাদেশ সীমান্তে কঠোর সতর্কতা জারি করে রোগটির প্রবেশ ঠেকানো হয়।

২০০৯ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঁশবনে ফুল ফোটার কারণে ইঁদুরের সংখ্যা অস্বাভাবিক বাড়লে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো প্লেগের আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল। তবে সরকারের দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার কারণে তা ঠেকানো সম্ভব হয়।

সৌদি আরবে দুটি বিমানবন্দরে হামলায় নিহত ৩, আহত ৩৬

ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহী ও সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ার মধ্যে সৌদি আরবের দুটি বিমানবন্দরে হামলায় তিনজন নিহত ও ৩৬ জন আহত হয়েছেন। বুধবার দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় একজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন। আবহা বিমানবন্দরের স্থাপনায় হামলায় দুজন নিহত ও ২৮ জন আহত হয়েছেন।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলা দুটির একটি মঙ্গলবার এবং অন্যটি বুধবার চালানো হয়। তবে কোন দিন কোন বিমানবন্দরে হামলা হয়েছে, তা জানানো হয়নি।

হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত সৌদি-নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, এসব হামলার জবাব দেওয়া হবে। বুধবার গভীর রাতে এক বিবৃতিতে জোটটি জানায়, তারা ইয়েমেনের সা’দা, হোদেইদাহ, জাওফ ও মারিব অঞ্চলে হুতিদের ৮০টির বেশি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।

বুধবার বিমান চলাচলের অবকাঠামো লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলার অংশ হিসেবে সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে হামলা চালানো হয়। এর আগে হুতিরা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ব্যবহার করে এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও হামলা চালায়।

ইয়েমেনের পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কায়রো থেকে একটি ফ্লাইট অবতরণের কয়েক মিনিট আগে এডেন বিমানবন্দরের রানওয়ের কাছে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। হুতিদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা ইয়েমেনের বিভিন্ন অংশের মানুষের জন্য এডেন বিমানবন্দরটি প্রধান আন্তর্জাতিক প্রবেশপথ।

সৌদি-নেতৃত্বাধীন জোট বুধবার আরও জানিয়েছে, তারা সৌদি রাজধানী রিয়াদের উত্তরে হুতিদের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে। জোটটি বলেছে, হুতি-নিয়ন্ত্রিত সানা এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকারী প্ল্যাটফর্মটির ওপর নজর রাখা হচ্ছে এবং সেটি ধ্বংস করা হবে। তবে এতে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত জানানো হয়নি।

হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তাদের গোষ্ঠী বেশ কয়েকটি ড্রোন দিয়ে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইয়েমেনের লড়াই মূলত বাব আল-মান্দাব প্রণালীর আশপাশের এলাকাকে কেন্দ্র করে তীব্র হয়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্য সীমিত হয়ে পড়ায় জ্বালানি রপ্তানির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

চলতি সপ্তাহে সৌদি-নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান সহায়তায় ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী বাব আল-মান্দাব প্রণালীর কাছে এবং মোচা শহরের আশপাশের কৌশলগত এলাকাগুলো পুনরুদ্ধারে পাল্টা অভিযান শুরু করেছে। গত সেপ্টেম্বরে হুতিরা এসব এলাকা দখল করে নিয়েছিল। তবে সরকারি বাহিনীর এই অগ্রযাত্রা কতটা স্থায়ী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বৃহত্তর সংঘাতের রেশ হিসেবে ছড়িয়ে পড়া এই লড়াই ইয়েমেনের দীর্ঘ ১২ বছরের যুদ্ধকে নতুন করে উসকে দিয়েছে। এতে দেশটিতে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে এবং আরব বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র দেশটি খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে পড়েছে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা বুধবার জানিয়েছে, লড়াইয়ের সর্বশেষ পর্যায় শুরুর পর থেকে ইয়েমেনে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ২ লাখ ছাড়িয়েছে। সংস্থাটির মহাপরিচালক অ্যামি পোপ বলেন, ‘মানুষ জীবন বাঁচাতে ছুটছে, কিন্তু নিরাপদ কোনো আশ্রয় খুঁজে পাচ্ছে না।’ খাদ্য ও আশ্রয়ের ক্রমবর্ধমান চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি আরও অর্থায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।

উভয় পক্ষই কোনো বিস্তারিত তথ্য না দিয়ে দাবি করেছে, লড়াইয়ে শত শত মানুষ নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘের তথ্যমতে, ইয়েমেনের কিছু এলাকায় প্রতি চারটি পরিবারের মধ্যে তিনটি পরিবার অনাহারের শিকার হচ্ছে।

হুতিরা এর আগে সৌদি আরবের বিভিন্ন অবকাঠামো, যার মধ্যে বিমানবন্দর, তেল শোধনাগার ও পাইপলাইন রয়েছে, লক্ষ্য করে বারবার হামলা চালিয়েছে।

বাব আল-মান্দাব প্রণালীকে কেন্দ্র করে সংঘাত আরও তীব্র হলে নৌ চলাচল ও বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহ হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। হুতিদের প্রতিহত করতে সৌদি আরব আন্তর্জাতিক সহায়তা চাইছে। তুরস্ক মূলত প্রতিরক্ষামূলক ও কারিগরি সহায়তা পাঠাচ্ছে বলে বুধবার দুজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

ন্যাটো সদস্য তুরস্ক ও পাকিস্তান তাদের নবগঠিত জোটের আওতায় যৌথ প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

হুতিদের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাত তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে মিত্র দেশ সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি সিরিয়া গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একজন মার্কিন কর্মকর্তা ও একজন সিরীয় সামরিক কর্মকর্তা।

বিবেচনাধীন বিকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরবকে হামলা থেকে রক্ষায় প্রতিরক্ষামূলক সহায়তা দেওয়া অথবা হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীকে সহায়তার জন্য সেনা মোতায়েন করা। ওই মার্কিন কর্মকর্তা জানান, হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য সেনা মোতায়েন করতে সৌদি আরব সিরিয়ার কাছে অনুরোধ জানিয়েছিল।

মন্তব্যের জন্য সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে একজন সিরীয় কূটনীতিক বলেন, হুতি হামলার মুখে সিরিয়া দৃঢ়ভাবে সৌদি আরবের পাশে রয়েছে। তবে সরকারের মূল মনোযোগ এখন দেশের অভ্যন্তরীণ অগ্রাধিকারের দিকে, যার মধ্যে রয়েছে গৃহযুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠা।

ইয়েমেনি সামরিক ও সরকারি সূত্র জানিয়েছে, পশ্চিমাঞ্চলের রণাঙ্গনে লড়াই মূলত বাব আল-মান্দাব প্রণালীর দিকে নজর রাখা ধুবাব জেলাকে কেন্দ্র করে সীমাবদ্ধ রয়েছে। সেখানে সরকারি বাহিনী উপকূলীয় সমভূমির পূর্বদিকে অবস্থিত কৌশলগত পাহাড়গুলোতে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছে।

সোমবার ইয়েমেন সরকার দাবি করেছিল, তারা মোচা শহরে পৌঁছেছে। শহরটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্র তাইজের সঙ্গে সংযোগকারী একটি সরবরাহ পথের সংযোগস্থলে অবস্থিত। তবে মাঠপর্যায়ের ইয়েমেনি সামরিক কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকদের মতে, ওই দাবি ছিল অকালপক্ব বা তাড়াহুড়ো করে করা।

ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলের বড় অংশের নিয়ন্ত্রণকারী হুতিরা ২০১৪ সালে রাজধানী সানা দখল করে নেয়। এর পর সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন একটি সামরিক জোট ইয়েমেনে হস্তক্ষেপ করে। জোটটির আশঙ্কা ছিল, ইয়েমেনে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী ইরানের প্রভাব বাড়তে পারে এবং সৌদি সীমান্তে অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে।

সৌদি-নেতৃত্বাধীন জোটের অভিযোগ, ইরান হুতিদের অস্ত্র ও অর্থ সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি প্রশিক্ষণও দিচ্ছে। পাহাড়ি অঞ্চলে গড়ে ওঠা হুতিরা বর্তমানে হাজার হাজার যোদ্ধার সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। তাদের হাতে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন পুরো অঞ্চলের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে সৌদি জোটের দাবি।

তবে হুতিরা ইরানের মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক প্রতিনিধি নেটওয়ার্কের অংশ হওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেদের অস্ত্র নিজেরাই তৈরি করে বলে দাবি করেছে। তেহরানও হুতিদের অস্ত্র ও অর্থ সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন অভিনেতা নানা পাটেকার

০

বলিউডের প্রবীণ অভিনেতা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা নানা পাটেকার মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার গোয়ায় নিজের বাসভবনে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। তাঁকে বাসভবনে অচৈতন্য অবস্থায় পাওয়ার পর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল।

হাসপাতাল সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, ভোর ৫টা ২০ মিনিটে নানা পাটেকারকে মৃত ঘোষণা করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। তবে এতে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী নানা পাটেকার হিন্দি ও মারাঠি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য ব্যাপকভাবে পরিচিত ছিলেন। ‘নাটসম্রাট’, ‘ওয়াজুদ’, ‘পরিন্দা’, ‘আব তক ছাপ্পান’ ও ‘যশবন্ত’-এর মতো সিনেমায় তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে।

১৯৭৮ সালে ‘গমন’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় তাঁর। পরে ‘শক্তি: দ্য পাওয়ার’ (২০০২), ‘আব তক ছাপ্পান’ (২০০৪), ‘অপহরণ’ (২০০৫) ও ‘ট্যাক্সি নম্বর ৯২১১’ (২০০৬)-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করে দর্শক-সমালোচকদের প্রশংসা পান।

এ ছাড়া ‘ওয়েলকাম’ (২০০৭) ও এর সিক্যুয়েল ‘ওয়েলকাম ব্যাক’ (২০১৫)-এ গ্যাংস্টার উদয় শেঠির চরিত্রে অভিনয় করে ভিন্নধর্মী জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

কঠিন শর্তে ৩৩০ কোটি ডলার বিদেশি ঋণ নিচ্ছে সরকার

দেশের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি অব্যাহত রাখতে মোট ৩৩০ কোটি ডলারের কঠিন শর্তের বৈদেশিক ঋণ প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

গতকাল বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনমনীয় ঋণ সম্পর্কিত স্থায়ী (এসসিএনসিএল) কমিটির সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদিত মোট অর্থের মধ্যে বিদ্যুৎ খাতের একটি নতুন প্রকল্পের জন্য ২০ কোটি ডলার এবং জ্বালানি খাতের জরুরি আমদানির জন্য ভূতাপেক্ষ অনুমোদনে ৩১০ কোটি ডলারের ঋণ রয়েছে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুৎ বিভাগের অধীনে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বিআরইবি) বাস্তবায়নাধীন ‘পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক এনহান্সমেন্ট প্রজেক্ট’-এর জন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ গ্রহণের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে কমিটি।

সভায় উপস্থাপনের জন্য তৈরি ইআরডির কার্যপত্রে বলা হয়েছে, এডিবির এ ঋণের সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছে সিকিউর্ড ওভারনাইট ফাইন্যান্সিং রেটের (এসওএফআর) সঙ্গে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ স্প্রেড যুক্ত করে। ২৫ বছর মেয়াদি এ ঋণে পাঁচ বছরের গ্রেস পিরিয়ড রয়েছে। এ ছাড়া শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ ম্যাচিউরিটি প্রিমিয়াম ও শূন্য দশমিক ১৫ শতাংশ কমিটমেন্ট চার্জ রয়েছে। ঋণটির গ্র্যান্ট এলিমেন্ট মাত্র ৫ দশমিক ৭০ শতাংশ। এটি ২৫ শতাংশের নিচে হওয়ায় ঋণটি কঠিন শর্তের বা অনমনীয় ঋণ হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, অনুমোদিত ২০ কোটি ডলার ঋণের প্রধান লক্ষ্য হলো ঢাকা শহরের পার্শ্ববর্তী ১৩টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি (পিবিএস) এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জলবায়ু সহনশীলতা বাড়ানো।

২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০৩১ সালের জুলাই মেয়াদে বাস্তবায়নযোগ্য এ প্রকল্পের আওতায় নতুন ও বিদ্যমান উপকেন্দ্র সম্প্রসারণ, আন্ডারগ্রাউন্ড ও ওভারহেড লাইন নির্মাণ, ইনসুলেটেড কন্ডাক্টর স্থাপন এবং ডিজিটাল মনিটরিং ও ফল্ট লোকেটর প্রযুক্তি যুক্ত করা হবে। এর ফলে কারিগরি লোকসান (সিস্টেম লস) কমানোর পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন ও উন্নত মানের বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

আইটিএফসি থেকে ৩১০ কোটি ডলার
দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা সুসংহত এবং নিয়মিত সরবরাহ বজায় রাখতে সৌদি আরবের জেদ্দাভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ট্রেড ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইটিএফসি) থেকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৩১০ কোটি ডলারের স্বল্পমেয়াদি অনমনীয় ঋণ ভূতাপেক্ষ অনুমোদন দিয়েছে এসসিএনসিএল।

এ ঋণের মধ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) জ্বালানি তেল আমদানির জন্য ২৫০ কোটি ডলার এবং বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) এলএনজি আমদানির জন্য ৬০ কোটি ডলার ব্যয় করা হবে।

ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, ছয় মাস মেয়াদি এ ঋণের সুদের হার ধরা হয়েছে ছয় মাসের টার্ম এসওএফআরের সঙ্গে ১ দশমিক ৭০ শতাংশ যোগ করে, যা বিগত বছরের বার্ষিক হারের তুলনায় কিছুটা কম।

আইটিএফসি তাদের নিজস্ব উৎস থেকে সংস্থান করবে ৬০ কোটি ডলার। অবশিষ্ট ২৫০ কোটি ডলারের সংস্থান হবে কো-ফাইন্যান্সিংয়ের মাধ্যমে। জরুরি ভিত্তিতে দেশের জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খল অটুট রাখতে কমিটি নথিতে অনুমোদিত এ ঋণ প্রস্তাবের অনুমোদন নিশ্চিত করেছে।

ইআরডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনমনীয় ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে সরকারের নির্ধারিত নির্দেশিকা অনুসরণের বিষয়টি সভায় গুরুত্ব পায়। নিয়ম অনুযায়ী, বৈদেশিক অনমনীয় ঋণের দায় পরিশোধ ব্যয় কোনোভাবেই সংশ্লিষ্ট অর্থবছরের রপ্তানি আয়ের ১০ শতাংশ বা রাজস্ব আয়ের ১৫ শতাংশের বেশি হবে না। সার্বিক অর্থনৈতিক বিবেচনা, নিজস্ব আয় থেকে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার বিবেচনা করেই এ বিশাল অঙ্কের ঋণ মঞ্জুর করা হয়েছে।