রেলওয়ের সক্ষমতা বাড়াতে ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ কেনা হবে। এর ফলে নতুন করে গতি আসবে রেলে। একই সঙ্গে ট্রেন পরিচালনার দক্ষতা বাড়বে, সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত হবে এবং পুরোনো ইঞ্জিনের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে।
গতকাল বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে ‘রেলওয়ের সক্ষমতা সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহ’ প্রকল্পসহ মোট ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন একনেক চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ২০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এই ব্যয়ে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১০ হাজার ৬০০ কোটি ৮০ লাখ টাকা। বিদেশি ঋণ চার হাজার ৮১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। বাকি এক হাজার ৫২৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর নিজস্ব জোগান। অনুমোদিত প্রকল্পের মধ্যে ১০টি নতুন এবং তিনটি সংশোধিত প্রকল্প।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, মহিলা ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, শিল্প, বস্ত্র ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। একনেকে উত্থাপিত প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তুলে ধরনে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে। সাধারণত প্রধানমন্ত্রী একনেক বৈঠকে বিভিন্ন বিষয়ে নির্দেশনা দিয়ে থাকেন। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, যে কোনো রাস্তা কিংবা অবকাঠামো প্রকল্পের ক্ষেত্রে তিন বছরের মধ্যে সমস্যা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে তা মেরামত করে দিতে হবে। প্রকল্পের কার্যক্রমে এই বাধ্যবাধকতা যুক্ত করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী প্রস্তুতির সঙ্গে একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পের কোনো সম্পর্ক নেই।
অনুমোদিত ১৩ প্রকল্প
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যয় ধরা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের দ্বিতীয় সংশোধনে। প্রকল্পটির ব্যয় এক হাজার ৩১০ কোটি ৪০ লাখ টাকা বাড়িয়ে মোট সাত হাজার ৩৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা করা হয়েছে। প্রকল্পটির মূল ব্যয় ছিল তিন হাজার ৪৬১ কোটি টাকা। পুরোটাই সরকারি অর্থায়নে হবে। অনুমোদিত অন্য বড় প্রকল্পের মধ্যে সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও নওগাঁ জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প। ব্যয় ধরা হয়েছে তিন হাজার ৭৬৮ কোটি টাকা। এটি একটি নতুন প্রকল্প। রেলওয়ের সক্ষমতা সম্প্রসারণে ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয় দুই হাজার ৭৭০ কোটি টাকা। প্রকল্পে বিদেশি ঋণ আছে এক হাজার ৯৫৮ কোটি টাকা। প্রকল্পটির কাজ শেষ হবে ২০২৯ সালের ডিসেম্বরে। রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট পিক সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় হবে দুই হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রকল্প ঋণ ও অনুদান থেকে আসবে দুই হাজার ১২৩ কোটি টাকা। ২০২৯ সালের মার্চে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা। এ ছাড়া গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ৮ নম্বর জোনের রাস্তা, নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণে দুই হাজার ৫৮৬ কোটি ৯৯ লাখ টাকার নতুন প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।
অনুমোদিত অন্য প্রকল্পের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত নতুন পাঁচটি অঞ্চলের ১৮ ওয়ার্ডের সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে ৭৮৪ কোটি ৪৯ লাখ ৮৭ হাজার টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রংপুর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে এক হাজার ৬০৭ কোটি টাকা অনুমোদন হয়েছে। রংপুর সিটি করপোরেশনের ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা পুনর্বাসনে ২১০ কোটি ৪৯ টাকার নতুন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। বিআইডব্লিউটিসির জন্য ৩৫টি বাণিজ্যিক ও আটটি সহায়ক জলযান সংগ্রহ এবং দুটি নতুন স্লিপওয়ে নির্মাণ প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধন অনুমোদন করা হয়েছে। ফ্রান্সের প্যারিসে ক্রয় করা চ্যান্সারি ভবন ব্যবহারোপযোগী করতে সংস্কার ও আধুনিকায়নে ২১১ কোটি টাকার নতুন প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। পঞ্চগড়ের ভজনপুর থেকে পঞ্চগড় সড়কের ১৫তম কিলোমিটারে দ্বিতীয় করতোয়া সেতু নির্মাণে ২০৪ কোটি টাকার নতুন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। থানচি-রিমাকরি-মদক-লিকরি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধন অনুমোদন হয়েছে। এতে ৩৬ কোটি ৫০ লাখ ৩২ হাজার টাকা ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। প্রকল্পটির মেয়াদ চতুর্থবার বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। সমবায়ের মাধ্যমে নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে ১৮৫ কোটি টাকার নতুন প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।


