Home Blog

নিউইয়র্কে দুর্গাপূজা শুরু ১৬ই অক্টোবর থেকে

জন্মভূমি প্রতিবেদকঃ নিউইয়র্ক তথা উত্তর আমেরিকায় শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু হচ্ছে আগামী ১৬ই অক্টোবর থেকে ২০ শে অক্টোবর । এবার নিউইয়র্ক সহ আমেরিকার বড় বড় শহর শিকাগো, লসএঞ্জেলস্ মায়ারি, ওয়াশিংটন, নিউজার্সি, ভার্জেনিয়াসহ ফ্লোরিডা মিলে প্রায় শতাধিক দুর্গাপূজার খবর পাওয়া গেছে। আমেরিকার প্রতিবেশী কানডার মন্ট্রিল, টরেন্টু অটোয়া, কেলগেরীর সহ অনেকগুলি দুর্গাপূজার আয়োজন চলছে। বাঙালি হিন্দুর সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা। প্রতি বছরের অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশের এ উৎসব এ বছরও পালিত হচ্ছে।

একদিকে শারদোৎসব হলেও এবার দুর্গাপূজা পালন হচ্ছে বর্নীল উৎসবের ছন্দে। আলোকসজ্জা, সাজসজ্জাসহ উৎসব ও পূজার সাত্ত্বিক আচার-অনুষ্ঠানে সীমাবদ্ধ থাকবে পূজামণ্ডপ। এবারের দুর্গোৎসবকে জাতীয় পূজা উদযাপন পরিষদ আড়ম্ব্বর ও উৎসবে দুর্গাপূজা ভিন্ন আমেজ থাকবে। দেবী দুর্গার পূজা মানেই অশুভ শক্তির প্রতীক অসুরের বিরুদ্ধে শুভশক্তির বিজয়। সে জন্য চিরসুন্দর কল্যাণময়ী মাতৃরূপের সঙ্গে অসহায় ও নিপীড়িতের আশ্রয়ও তিনি। আর এখানেই শারদীয় দুর্গোৎসব সার্বজনীনরূপে আবির্ভূত। দুর্গাপূজা সার্বজনীন হওয়ার ফলে এর বৈশিষ্ট্যগত পরিবর্তন ঘটেছে। এর সঙ্গে সাধারণ মানুষের সংশ্নিষ্টতা বেড়েছে। সমাজের ধনী-দরিদ্র সবাই একসঙ্গে মিলে এ উৎসব পালন করার সুযোগ লাভ করেছে। এখানে উঁচু-নিচু কিংবা জাতি-সম্প্রদায়গত ভেদ নেই। দুর্গাপূজার এই সার্বজনীনতা দেবী প্রতিমার রূপ-কল্পনায়ও পরিলক্ষিত হয়। অন্য সব দেবতাই এককভাবে পূজিত হন; কিন্তু দেবী দুর্গা পূজিত হন সমষ্টিগতভাবে। এই যে সামষ্টিকতা, সমাজের জন্য উপকারী হবে বলেই আমাদের বিশ্বাস। এবারে দুর্গার আগমনকে আমরা বাংলাদেশের জন্য, বাঙালির জন্য, মর্ত্যবাসীর জন্য শুভ সংবাদ হিসেবে বিবেচনা করতে চাই। দেবীর আগমনে শান্তি ও সদ্ভাব সর্বত্র প্রসারিত হয়ে আমাদের চারদিক মঙ্গলালোকে ভরে তুলুক।

নিউইয়র্কেও দুর্গাপূজার আমেজ ও অনুভূমি প্রবাসী বাংলাদেশী হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে উৎসব। ১৬ই অক্টোবর ষষ্ঠী পূজা দিয়ে দেবীর বোধন শুরু হবে। তারপর সপ্তামী, অষ্টমী, নবমী ও দশমী বা বিসর্জনের মাধ্যমে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানো হয়।নিউইয়র্কে প্রধান প্রধান সংগঠন ও মন্দিরগুলির মধ্যে কুইন্সের করোনায় বাংলাদেশ হিন্দু মন্দির, জ্যাকসন হাইটসের ওম শক্তি মন্দির, উডসাইডের দিব্য দামে নিউইয়র্ক পূজা উদযাপন পরিষদ, ঢাকা ক্লাবে হিন্দু মিলন মেলা, কুইন্স প্যালেসে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, জ্যাকসন হাইটসের ডাইবারসিটি প্লাজা, টাইম স্কয়ারে বেঙ্গলী ক্লাব, টাইমস স্কয়ার পূজা উদযাপন কমিটি, ব্রুকলিনের গৌড়নিতাই মন্দির এবং রাধামাধব মন্দির, জ্যামাইকার মহামায়া মন্দির, জ্যামাইকা কালী মন্দির, সনাতন সেবাশ্রম মন্দির, মহাকাল মন্দির, রিচমণ্ডহালের শ্রীহরি মন্দির সহ ফ্লোরাল পার্কের দেবালয় মন্দিরে দুর্গোৎসবের ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিউইয়র্ক সিটির পুলিশ ডিপার্টমেন্ট ও নিরাপত্তা ইস্যুতে সচেতন ভূমিকার বিষয়ে অবগত রয়েছে। নিউইয়র্ক বাংলাদেশী হিন্দু কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ সকল প্রবাসীদের শান্তিপূর্ণ ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে দুর্গোৎসব পালনের আহ্বান জানান।

নিউইয়র্কের প্রথম বাংলাদেশী দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯০ সালে। বাংলাদেশ পূজা সমিতি নিউইয়র্কের আদি সংগঠন। বাংলাদেশ পূজা সমিতির পূজা হচ্ছে প্রেশমেডোর গুজরাটী সমাজ হলে অক্টোবর ৪ ও ৫ তারিখে দুর্গোৎসবের আয়োজন করেছে।

খবর নিয়ে জানা যায় নিউইয়র্কের সব পূজা মন্ডপে স্থানীয় শিল্পী, ঢাকা ও কলকাতার শিল্পীরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেবে।

রোদে দেবীবরণ, বৃষ্টিতে বিদায়: টাইমস স্কোয়ারে হৃদয়ের মহামিলন

বিশ্বজিত সাহাঃ ১০ অক্টোবরের ঝলমলে রোদ আর ১১ অক্টোবরের বৃষ্টিভেজা আকাশ- দুটি দিনের দুটি ভিন্ন রূপের মধ্যে রয়ে গেল একই অনুভূতি: মায়ের জন্য ভালোবাসা, মানুষের সঙ্গে মানুষের মিলন এবং দূরপ্রবাসে নিজের শিকড়কে ফিরে পাওয়ার আনন্দ। নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কোয়ারে ২০২৬ সালের দুর্গোৎসব তাই পূজার আনুষ্ঠানিকতা পেরিয়ে হয়ে উঠল এক আবেগঘন স্মৃতি। দেবী এলেন রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে; বিদায়ের সময় আকাশ ভিজল বৃষ্টিতে। প্রকৃতির এই পরিবর্তনের মধ্যে বাঙালির উৎসবের চিরপরিচিত দুই অনুভূতি যেন পাশাপাশি ধরা দিল- আগমনের উচ্ছ্বাস এবং বিদায়ের বিষাদ।

ম্যানহাটনের ফাদার ডাফি স্কোয়ারে ১০ ও ১১ অক্টোবর আয়োজিত এই উৎসব ছিল টাইমস স্কোয়ারে দুর্গোৎসবের দ্বিতীয় আয়োজন। এর ভাবনা ছিল ‘মহামিলন ২০২৬’- বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষকে বাঙালির ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত করা। আন্তর্জাতিক পর্যটক, প্রবাসী পরিবার, শিল্পী এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের উপস্থিতিতে বিশ্বনগরীর এই পরিচিত প্রাঙ্গণ হয়ে উঠেছিল আপনজনের মিলনক্ষেত্র।

১০ অক্টোবর, শনিবার, ঝকঝকে রোদের নিচে দেবীবরণের আনন্দে মুখরিত হয়ে ওঠে উৎসবস্থল। হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি, পূজার আয়োজন এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনা মিলিয়ে টাইমস স্কোয়ার পায় অন্য এক পরিচয়। প্রতিদিনের ব্যস্ত নগরজীবনের মধ্যে সেদিন জায়গা করে নেয় বাঙালির শারদীয় আবেগ। দূরদেশে বসবাস করেও মানুষ অনুভব করেন, তাঁদের উৎসব, ভাষা ও সংস্কৃতি এখনও এক সুতোয় বেঁধে রেখেছে।

প্রবাসে দুর্গাপূজার আনন্দের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে ফেলে আসা জীবনের স্মৃতি। কারও মনে পড়ে শৈশবের পূজামণ্ডপ, কারও পাড়ার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কারও পরিবারের সঙ্গে অঞ্জলি দেওয়ার মুহূর্ত। টাইমস স্কোয়ারের এই আয়োজন সেই স্মৃতিগুলোকে নতুন পরিবেশে বাঁচিয়ে রাখার সুযোগ এনে দেয়। এখানে বেড়ে ওঠা শিশুদের কাছে যে উৎসব নতুন পরিচয়ের দরজা, তাঁদের মা-বাবার কাছে সেটিই ফিরে পাওয়ার এক কোমল অনুভূতি।

মহালয়া, পূজা, সংগীত, নৃত্য ও মানুষের উপস্থিতি মিলিয়ে দুদিনের আয়োজনটি হয়ে ওঠে ধর্মীয় বিশ্বাস এবং সাংস্কৃতিক প্রকাশের সম্মিলিত পরিসর। উৎসবের পূর্বঘোষিত কর্মসূচিতে সত্যম রায়চৌধুরীর চণ্ডীপাঠ, সুতিপা চৌধুরীর পরিচালনায় শিশু-কিশোরদের গীতাপাঠ এবং মালবিকা চ্যাটার্জির পরিচালনায় সংগীত সাধনা একাডেমির পরিবেশনার কথা ছিল। নতুন প্রজন্মকে ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত করার এই ভাবনা আয়োজনটির একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিক।

উৎসবের দৃশ্যমান আনন্দের পেছনে ছিল বহু মানুষের শ্রম। টাইমস স্কোয়ার দুর্গা উৎসব অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্বে প্রায় ৩৫ জন তরুণ-তরুণী স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি- এনওয়াইইউ এবং রাটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। তাঁদের দায়িত্ববোধ ও সাংগঠনিক দক্ষতায় সার্বিক ব্যবস্থাপনা আরও সুশৃঙ্খল ও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

এই তরুণদের অংশগ্রহণ বিশেষভাবে মনে রাখার মতো। উৎসবের মঞ্চে শিল্পীরা যেমন সংস্কৃতিকে প্রকাশ করেন, স্বেচ্ছাসেবকেরা তেমনি নিজেদের শ্রম দিয়ে তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করেন। পড়াশোনা ও ব্যস্ত জীবনের মধ্যে সময় বের করে তাঁরা দেখিয়েছেন, ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পর্ক শুধু স্মরণে নয়, দায়িত্ব গ্রহণের মধ্যেও গড়ে ওঠে। তাঁদের হাত ধরে প্রবীণ প্রজন্মের আয়োজন নতুন প্রজন্মের নিজের উৎসবে পরিণত হয়েছে।

প্রথম দিনের অন্যতম স্মরণীয় আকর্ষণ ছিল নৃত্যাঞ্জলির ‘দশ মহাবিদ্যা’। চন্দ্রা ব্যানার্জির পরিচালনায় ষাটের অধিক শিল্পীর অংশগ্রহণে পরিবেশিত এই নৃত্যানুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলে প্রায় তিন মাস ধরে। দীর্ঘ মহড়া, শিল্পীদের নিষ্ঠা এবং সমবেত সাধনা ১০ অক্টোবরের মঞ্চে পূর্ণতা পায়। দেবীশক্তির দশটি স্বরূপকে নৃত্যের ভাষায় তুলে ধরে তাঁরা উপস্থিত সহস্র দর্শককে মুগ্ধ করেন।

‘দশ মহাবিদ্যা’র পরিবেশনায় আধ্যাত্মিক ভাবনা ও শিল্পের সৌন্দর্য একসঙ্গে প্রকাশিত হয়। মুদ্রা, ছন্দ, অভিব্যক্তি এবং সম্মিলিত কোরিওগ্রাফির মধ্যে দর্শকের সামনে উন্মোচিত হয় দেবীশক্তির বহুমাত্রিক রূপ। বিশ্বের এত পরিচিত একটি প্রাঙ্গণে এই উপস্থাপনা শিল্পীদের জন্য যেমন অর্জনের মুহূর্ত, প্রবাসী দর্শকদের জন্য তেমনি গর্বের অনুভূতি। তিন মাসের পরিশ্রম যেন সেদিন প্রতিটি নৃত্যভঙ্গিতে কথা বলেছে।

সংগীতও প্রথম দিনের উৎসবকে দিয়েছে প্রাণ। শাহ্ মাহবুবের সুরেলা কণ্ঠ ও প্রাণবন্ত পরিবেশনায় দর্শকেরা আনন্দে উদ্বেলিত হন। তাঁর সংগীতের সঙ্গে শিল্পী মহিতোষ তালুকদার তাপসের নৃত্য যোগ করে বিশেষ মাত্রা। গান ও নাচের এই মেলবন্ধনে টাইমস স্কোয়ারের উৎসবস্থল ভরে ওঠে উচ্ছ্বাসে। মানুষের সমবেত আনন্দে ব্যস্ত শহরের মধ্যেও তৈরি হয় এক আন্তরিক সাংস্কৃতিক পরিসর।

মেখলা দাশগুপ্ত ও তাঁর দলের পরিবেশনা রাত দশটা পর্যন্ত দর্শকদের মুগ্ধ করে রাখে। তাঁর কণ্ঠের আবেগ ও সুরের আকর্ষণ উৎসবের রাতকে স্মরণীয় করে তোলে। দীর্ঘ সময় ধরে দর্শকদের এই সম্পৃক্ততা বুঝিয়ে দেয়, প্রবাসে বাংলা গান শুধু বিনোদনের উপকরণ নয়; তার সঙ্গে জড়িয়ে আছে ভাষার টান, স্মৃতির উষ্ণতা এবং নিজের পরিচয়কে অনুভব করার আনন্দ।

উৎসবে উত্তর আমেরিকার চারজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে বিশেষ সম্মাননা জানানো হয়। তাঁরা হলেন ড. মৃদুল পাঠক, অশোক রক্ষিত, মিলন আওয়ান এবং জয়প্রকাশ বিশ্বাস। অশোক রক্ষিতের হাতে সম্মাননা তুলে দিয়েছি আমি নিজে। মিলন আওয়ানের হাতে সম্মাননা তুলে দেন সংগঠনের সভাপতি শশধর হাওলাদার এবং জয়প্রকাশ বিশ্বাসের হাতে সম্মাননা তুলে দেন কোষাধ্যক্ষ সম্যব্রত দাশগুপ্ত। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ড. কল্লোল বসু।

এই সম্মাননা উৎসবের আনন্দের মধ্যে কৃতজ্ঞতার একটি জায়গা তৈরি করে। প্রবাসের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবন যাঁদের উদ্যোগে সমৃদ্ধ হয়, তাঁদের অবদান প্রকাশ্যে স্বীকার করার মধ্য দিয়ে একটি সম্প্রদায় নিজের ইতিহাসকেও মূল্য দেয়। উৎসবের মঞ্চ তাই সেদিন আনন্দের পাশাপাশি সম্মান ও স্বীকৃতির মঞ্চ হয়ে ওঠে।

১০ অক্টোবর বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. প্রিন্স মারিও-ম্যাক্স শাউমবুর্গ-লিপে এবং তাঁর মা ড. আন্তোনিয়া প্রিন্সেসিন জু শাউমবুর্গ-লিপে। তাঁদের উষ্ণ অভ্যর্থনা ও করতালির মাধ্যমে স্বাগত জানানো হয়। অ্যাসোসিয়েশনের অতিথি সম্পর্ক ও আতিথেয়তা বিভাগের প্রধান অনুপম দত্ত তাঁদের অভ্যর্থনা জানান। বিভিন্ন পটভূমির অতিথিদের উপস্থিতি আয়োজনটির আন্তর্জাতিক চরিত্রকে আরও দৃশ্যমান করে তোলে।

সেদিন রাত আনুমানিক নয়টার দিকে নিউ ইয়র্কে ভারতের কনসাল জেনারেল বিনয় শ্রীকান্ত প্রধান তাঁর স্ত্রী মোনালিসা প্রধান এবং দুই সন্তানকে নিয়ে দুর্গাপ্রতিমা দর্শনে আসেন। দুদিনের বিভিন্ন সময়ে অন্য দেশের কূটনীতিবিদ এবং কর্পোরেট অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও উৎসবে উপস্থিত হয়ে শ্রদ্ধা জানান। তাঁদের উপস্থিতিতে বাঙালির এই আয়োজন বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সমাজের সঙ্গে সংযোগের সুযোগ পায়।

উৎসবের সহযোগী উদ্যোগগুলোর অবদানও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। অংশীদার আশা গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত আশা হোম কেয়ার ও আশা রেস্টুরেন্ট আয়োজনটির পাশে ছিল। আয়োজক, সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং স্বেচ্ছাসেবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এত বড় জনপরিসরে ধর্মীয় আচার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা সম্ভব হয়েছে। মঞ্চের আলোয় যাঁদের দেখা যায় এবং আড়ালে থেকে যাঁরা কাজ করেন- সবার শ্রমেই উৎসবের পূর্ণতা।

পরদিন, ১১ অক্টোবর, রবিবার, বদলে যায় আবহাওয়া। আগের দিনের উজ্জ্বল রোদের জায়গায় আসে বৃষ্টি ও দুর্যোগপূর্ণ পরিবেশ। কিন্তু মানুষের টান কমে না। দেবীর বিদায়ের দিনে প্রকৃতির প্রতিকূলতার সঙ্গে মিশে যায় বিসর্জনের বিষাদ। বৃষ্টিভেজা টাইমস স্কোয়ারে উৎসবের আবেগ তখন আরও গভীর, আরও অন্তরঙ্গ।
দ্বিতীয় দিনের আয়োজনে ছিল মহাষ্টমী, মহানবমী ও বিজয়া দশমীর পূজা, পুষ্পাঞ্জলি, শান্তিজল প্রদান এবং বিসর্জনের অনুষ্ঠান। সিঁদুর খেলায় ফুটে ওঠে বিদায়বেলার পরিচিত শারদীয় রং। মায়ের বিদায় মানেই উৎসবের সমাপ্তি, অথচ সেই সমাপ্তির মধ্যেই থাকে আবার দেখা হওয়ার আকাঙ্ক্ষা। বৃষ্টির দিনে এই অনুভূতি যেন আরও নিবিড় হয়ে ওঠে।

প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই অনুষ্ঠিত হয় ছয়টি ঐতিহ্যবাহী সংগঠনকে সম্মাননা প্রদানের বিশেষ অনুষ্ঠান। যুক্তরাষ্ট্রে পাঁচ দশক বা তার বেশি সময় ধরে দুর্গাপূজা আয়োজন এবং বাঙালি সংস্কৃতি সংরক্ষণে ভূমিকা রাখা সংগঠনগুলো হলো ক্যালিফোর্নিয়ার Bay Area Prabasi Inc., ইলিনয়ের Bengali Association of Greater Chicago, ওহাইওর Bengali Cultural Society, নিউইয়র্কের East Coast Durga Puja Association, নিউ জার্সির Kallol এবং পেনসিলভানিয়ার Pragati।

ছয়টি সংগঠনের এই স্বীকৃতির মধ্যে রয়েছে কয়েক প্রজন্মের শ্রমকে সম্মান জানানোর অর্থ। প্রবাসে সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং দীর্ঘদিন সক্রিয় রাখা সহজ নয়। মানুষের সময়, অর্থ, সাংগঠনিক নিষ্ঠা এবং আন্তরিকতা একত্র হলেই এমন ধারাবাহিকতা তৈরি হয়। তাঁদের সম্মাননা দেওয়ার মুহূর্তটি তাই অতীতের অবদান স্মরণ করার পাশাপাশি আগামী প্রজন্মকে সেই কাজ এগিয়ে নেওয়ার আহ্বানও বহন করে।

রবিবারের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সুদেষ্ণা সাহার একক নৃত্য এবং নৃত্যাঞ্জলির ধুনুচি নাচ উৎসবে বিশেষ মাত্রা যোগ করে। কানেকটিকাট থেকে আসা তাথৈ শিল্পীগোষ্ঠী পরিবেশন করে ‘প্রেমের বৃন্দাবন’; কোরিওগ্রাফি ও পরিচালনায় ছিলেন তানিয়া চন্দ্র। সবিতা দাসের একক সংগীতানুষ্ঠানও আয়োজনকে সমৃদ্ধ করে। বাংলাদেশ একাডেমি অব ফাইন আর্টস—বাফার নিবেদন ছিল ‘জয় মা দুর্গা’, পরিকল্পনা ও পরিচালনায় মার্জিয়া স্মৃতি। বিভিন্ন শিল্পীগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে একই মঞ্চে মিলিত হয় প্রবাসের নানা অঞ্চলের সৃজনশীল চর্চা।

বৃষ্টিস্নাত রবিবারে দিয়াসিনী রায় ও তাঁর ব্যান্ডের বাংলা ও হিন্দি গানের পরিবেশনা টাইমস স্কোয়ারকে আবার প্রাণবন্ত করে তোলে। দর্শকেরা গানের তালে নৃত্যে মেতে ওঠেন। বাংলাভাষী ও হিন্দিভাষী মানুষের পাশাপাশি আমেরিকার বৃহত্তর সাংস্কৃতিক পরিসরের দর্শকদের অংশগ্রহণও সেই আনন্দকে ছড়িয়ে দেয়। ভাষা পুরোপুরি না বুঝেও মানুষ সুরের আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন—সংগীতের এই শক্তি উৎসবের মহামিলনের ভাবনাকে জীবন্ত করে তোলে।

বৃষ্টি তখন আয়োজনের বাধা, আবার স্মৃতিরও অংশ। তার মধ্যেই গান হয়েছে, নাচ হয়েছে, পূজা হয়েছে, সম্মাননা জানানো হয়েছে। মানুষের উপস্থিতি ও অংশগ্রহণে বোঝা গেছে, উৎসবের প্রাণ শুধু অনুকূল আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে না। অনেক দূর থেকে এসে একসঙ্গে দাঁড়ানোর যে আকাঙ্ক্ষা, সেটিই এই আয়োজনকে ধরে রেখেছে।
উৎসবের আরেকটি স্থায়ী অর্জন বিশেষ প্রকাশনা ‘শারদীয় ২০২৬’। আমার (বিশ্বজিত সাহা) সম্পাদনায় প্রকাশিত এই শারদসংখ্যায় বিশিষ্ট সাহিত্যিক নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়িসহ বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ এবং আমেরিকার বিভিন্ন শহরের লেখকদের রচনা স্থান পেয়েছে। সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে এক মলাটে ধারণ করে প্রকাশনাটি প্রবাসী বাঙালির মননশীল চর্চার সাক্ষ্য বহন করে।

উৎসব চলাকালে ‘শারদীয় ২০২৬’-এর শত শত কপি পাঠক ও উৎসাহীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। যাঁরা সেখানে সংগ্রহ করতে পারেননি, তাঁদের কাছেও প্রকাশনাটি পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মঞ্চের অনুষ্ঠান শেষ হয়ে যায়, কিন্তু লেখা থেকে যায়। পাঠকের ঘরে পৌঁছে এই শারদসংখ্যা উৎসবের স্মৃতিকে আরও দীর্ঘ জীবন দেবে; নতুন প্রজন্মের হাতে তুলে দেবে পূর্বসূরিদের ভাবনা, সাহিত্য এবং সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা।

টাইমস স্কোয়ারের ২০২৬ সালের দুর্গোৎসবের সবচেয়ে সুন্দর ছবি তাই কোনো একটি পরিবেশনা বা অতিথির উপস্থিতিতে সীমাবদ্ধ নয়। তার মধ্যে আছে তিন মাস মহড়া করা শিল্পীদের নিষ্ঠা, প্রায় ৩৫ জন তরুণ স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ববোধ, দীর্ঘদিন সংস্কৃতি লালন করা সংগঠনগুলোর অবদান এবং রোদ-বৃষ্টি পেরিয়ে উৎসবে আসা মানুষের ভালোবাসা। এই সবকিছু মিলেই দুদিনের আয়োজনকে দিয়েছে হৃদয়ের গভীরতা।

দেবীর আগমন হয়েছিল ঝলমলে রোদে, বিদায় বৃষ্টিভেজা আকাশের নিচে। কিন্তু বিদায়ের পরও থেকে যাবে নৃত্যের ছন্দ, গানের রেশ, করতালির উষ্ণতা এবং একসঙ্গে থাকার স্মৃতি। দূরপ্রবাসের এই মহামিলন মনে করিয়ে দিল- ঘর শুধু একটি ভৌগোলিক ঠিকানা নয়; আপন ভাষা, আপন সংস্কৃতি এবং আপন মানুষের সান্নিধ্যেও ঘর তৈরি হয়।

টাইমস স্কোয়ারে সেই ঘর তৈরি হয়েছিল দুদিনের জন্য। দেবী বিদায় নিয়েছেন, মানুষ ফিরেছেন নিজেদের জীবনে। তবু তাঁদের স্মৃতিতে রয়ে যাবে একটি রৌদ্রোজ্জ্বল বরণ এবং একটি বৃষ্টিসিক্ত বিদায়- যার মাঝখানে বাঙালি আবারও খুঁজে পেয়েছে একে অন্যকে।

(লেখক : বিশ্বজিত সাহা, মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা, নিউ ইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলার অন্যতম সূচনাকারী এবং যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী সাংস্কৃতিক সংগঠক।)

রবীন্দ্রনাথের মুখে কালি দিয়ে তাঁকে অদৃশ্য করা যাবে?

জন্মভূমি প্রতিবেদকঃ একটি মুখে কালি দেওয়া যায়। একটি প্রতিকৃতি মুছে ফেলার চেষ্টা করা যায়। কিন্তু তাতে কি মুছে যায় সেই মানুষের সৃষ্টি, চিন্তা ও ইতিহাসে তাঁর উপস্থিতি? নাকি প্রতীককে আঘাত করার মধ্য দিয়ে অনিচ্ছায় আরও একবার সামনে নিয়ে আসা হয় সেই মানুষটিকেই? ঢাকার সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে আঁকা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে কালি দেওয়ার ঘটনাটি আমাদের সামনে এমন কিছু প্রশ্নই তুলে ধরেছে। ২০২৬ সালের ১০ অক্টোবরের এ ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করে আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হয়েছে। তবে অভিযোগ, তদন্ত ও বিচারিক সিদ্ধান্তের মধ্যে পার্থক্য রাখা জরুরি।

ঘটনাটিকে নিছক একটি প্রতিকৃতির ওপর আঘাত হিসেবে দেখলে এর তাৎপর্য পুরোপুরি বোঝা যাবে না। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রতিবাদের ভাষা, সাংস্কৃতিক পরিচয়, ইতিহাসের ব্যাখ্যা এবং মতভিন্নতার প্রতি আমাদের মনোভাব। আরও গভীরে রয়েছে একটি মৌলিক প্রশ্ন: কোনো চিন্তা বা সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করতে হলে কি তার দৃশ্যমান প্রতীককে অপমান করতেই হবে?
প্রশ্নটি রবীন্দ্রনাথকে ঘিরে উঠেছে বলে এর গুরুত্ব কেবল একজন কবির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি আমাদের বৌদ্ধিক পরিবেশেরও পরীক্ষা।

প্রতিকৃতি আর উত্তরাধিকার এক নয়
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে কেবল একটি পরিচিত মুখ, নোবেলজয়ী কবি কিংবা সাংস্কৃতিক আবেগের প্রতীক হিসেবে দেখলে তাঁকে বোঝার কাজ অসম্পূর্ণ থেকে যায়। তাঁর কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ ও শিক্ষাভাবনার মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছে এক বিস্তৃত সৃষ্টিজগৎ। সেই জগতে যেমন প্রেম ও প্রকৃতি আছে, তেমনি আছে নিঃসঙ্গতা, ক্ষমতা, সামাজিক বৈষম্য, ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং মানুষের আত্মপরিচয়ের নানা জিজ্ঞাসা।

বাংলাদেশ ও বাঙালির জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের আত্মিক ও ঐতিহাসিক যোগসূত্রের গুরুত্ব অপরিসীম। তিনি কেবল বাংলা সাহিত্যের অনন্য রূপকার নন—বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত ‘আমার সোনার বাংলা’র রচয়িতা। আমাদের ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বাঙালির সাংস্কৃতিক চেতনা ও স্বাধিকার সংগ্রামের অন্যতম প্রধান প্রেরণা ছিল তাঁর সাহিত্য ও দর্শন। সংকটে, সংগ্রামে, উৎসবে কিংবা ব্যক্তিগত আনন্দ-বেদনার মুহূর্তে বাঙালি প্রতিনিয়ত রবীন্দ্রনাথকে ধারণ করে। এই গভীর আত্মিক উপস্থিতি কোনো সাময়িক রাজনৈতিক উত্তেজনায় মুছে যাওয়ার নয়।

তাঁর রচনা নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। তাঁর চিন্তার সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। ইতিহাসের নির্দিষ্ট পর্বে তাঁর অবস্থান, সমাজ সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি কিংবা তাঁর সাহিত্যিক উত্তরাধিকারের রাজনৈতিক ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন তোলা যায়। কোনো লেখককে সম্মান করার অর্থ তাঁর প্রতিটি বক্তব্য মেনে নেওয়া নয়। বরং তাঁকে যথাযথভাবে পড়তে হলে প্রশ্ন করার স্বাধীনতাও প্রয়োজন।
কিন্তু সমালোচনা আর মুছে ফেলার চেষ্টা এক বিষয় নয়। সমালোচক যুক্তি দেন, প্রমাণ হাজির করেন, বিকল্প ব্যাখ্যা নির্মাণ করেন। প্রতীকের ওপর আঘাতের মাধ্যমে বিরোধিতা দৃশ্যমান হতে পারে, কিন্তু তাতে মতভেদের কারণ সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান বাড়ে না।

একটি দেয়ালে রবীন্দ্রনাথের মুখ মুছে ফেলা সম্ভব। কিন্তু তাঁর রচনার সঙ্গে পাঠকের সম্পর্ক মুছে ফেলা যায় না কোনো একক আঘাতে। সেই সম্পর্ক টিকে থাকে পাঠে, স্মৃতিতে, গানে, প্রশ্নে এবং নতুন প্রজন্মের পুনর্ব্যাখ্যায়।

প্রতিবাদের অধিকার, প্রতিবাদের দায়
ঘটনাটির সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে ভারতীয় আধিপত্যের প্রতিবাদের কথা বলা হয়েছিল বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। কোনো দেশের রাজনৈতিক প্রভাব, আধিপত্যের অভিযোগ কিংবা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার অবশ্যই রয়েছে। রাষ্ট্রের নীতি, সীমান্তের বাস্তবতা, অর্থনৈতিক সম্পর্ক কিংবা সাংস্কৃতিক প্রভাব—কোনো বিষয়ই সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়।

কিন্তু এখানে একটি চরম বৈপরীত্য ও অজ্ঞতার চিত্র ফুটে ওঠে। কোনো রাষ্ট্রের নীতির বিরোধিতা এবং একজন সাহিত্যিকের প্রতিকৃতিকে সেই রাষ্ট্রের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা এক কথা নয়। ইতিহাস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজে যেকোনো ধরণের উগ্র জাতীয়তাবাদ, সাম্রাজ্যবাদ ও রাষ্ট্রীয় আধিপত্যের তীব্র সমালোচক ছিলেন। ১৯১৯ সালের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ব্রিটিশ সরকারের দেওয়া ‘নাইটহুড’ উপাধি বর্জন কিংবা তাঁর প্রসিদ্ধ ‘ন্যাশনালিজম’ (ঘধঃরড়হধষরংস) প্রবন্ধে রাষ্ট্রের অন্ধ ক্ষমতাচর্চার বিরোধিতা—প্রমাণ করে যে তিনি কখনোই কোনো অন্ধ রাষ্ট্রীয় আনুগত্যের অনুসারী ছিলেন না।

তাই কোনো রাষ্ট্রের সমকালীন রাজনীতির প্রতিবাদে রবীন্দ্রনাথের মুখে কালি দেওয়া মূলত তাঁর চিন্তার পরিধির প্রতিই চরম অবিচার। রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যিক জীবন গড়ে উঠেছিল উপমহাদেশের জটিল সামাজিক ও ঐতিহাসিক বাস্তবতার মধ্যে। তাঁর রচনার মূল্যায়নকে সমকালীন রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের একমাত্রিক ছকে আটকে দিলে তাঁর সাহিত্যিক পরিচয় ও চিন্তার বহুমাত্রিকতা আড়ালে পড়ে যায়।
কোনো সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বকে রাজনৈতিক বিরোধিতার প্রতীকে পরিণত করা সহজ। কিন্তু সেই প্রতীকায়ন কি বাস্তব সমস্যার সমাধানে সাহায্য করে? ভারতীয় রাষ্ট্রের কোনো নীতির বিরোধিতা করতে হলে তার যুক্তি, প্রমাণ ও পরিণতি নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন। কোনো কবির মুখে কালি দিলে সেই আলোচনার জায়গাটি তৈরি হয় না।

প্রতিবাদের শক্তি শুধু তার দৃশ্যমান তীব্রতায় নয়; তার যুক্তির স্বচ্ছতা, নৈতিক সামঞ্জস্য এবং বাস্তব পরিবর্তন ঘটানোর সামর্থ্যেও। যে প্রতিবাদ প্রশ্নের জবাবে প্রশ্ন, যুক্তির জবাবে যুক্তি হাজির করতে পারে, তার স্থায়িত্ব একটি প্রতীকী আঘাতের চেয়ে অনেক বেশি।

সংস্কৃতি কি সীমান্তের সম্পত্তি?
রবীন্দ্রনাথকে ঘিরে বিতর্কের আরেকটি দিক হলো সাংস্কৃতিক পরিচয়ের মালিকানা। একজন লেখক কোথায় জন্মেছেন, কোন ভাষায় লিখেছেন, কোন রাজনৈতিক ভূগোলে তাঁর জীবন কেটেছে—এসব তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সৃষ্টিশীলতার উত্তরাধিকার কি কেবল ভৌগোলিক সীমারেখা দিয়ে নির্ধারিত হয়?

বাংলা ভাষা বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা এবং বিশ্বের নানা প্রান্তে বসবাসকারী মানুষের জীবন ও অভিজ্ঞতার অংশ। তাঁদের সামাজিক বাস্তবতা এক নয়, রাজনৈতিক অবস্থানও অভিন্ন নয়। তবু ভাষা, সাহিত্য ও সংগীত তাঁদের মধ্যে সংলাপের একটি ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে। এই সম্পর্ক কোনো রাষ্ট্রীয় আনুগত্যের প্রমাণ নয়; বরং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের সম্ভাবনা।

রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য বাংলাদেশের মানুষেরও পাঠের বিষয়, পশ্চিমবঙ্গের মানুষেরও; একইভাবে বিশ্বের নানা প্রান্তে বাংলাভাষী পাঠকের কাছে তাঁর রচনা পৌঁছেছে। তাঁর সৃষ্টিকে গ্রহণ করা মানেই কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্রের রাজনৈতিক অবস্থান সমর্থন করা নয়। আবার তাঁর সমালোচনা করাও কোনো ভাষা বা সংস্কৃতির প্রতি শত্রুতা নয়।

সমস্যা তৈরি হয় যখন সাংস্কৃতিক পরিচয়কে আনুগত্যের পরীক্ষায় পরিণত করা হয়। তখন একজন কবিকে পড়ার আগে জানতে চাওয়া হয়, তিনি কোন পক্ষের; তাঁর রচনার মূল্যায়নের আগে নির্ধারণ করা হয়, তাঁকে গ্রহণ করলে কোন রাজনৈতিক পরিচয় ক্ষুণ্ন হবে। এতে সাহিত্য পাঠের স্বাধীনতা সংকুচিত হয়, আর সংস্কৃতি পরিণত হয় বিভাজনের অস্ত্রে।

একটি জীবন্ত সংস্কৃতি নিজের ভেতরে ভিন্নমত ধারণ করতে পারে। সেখানে কাউকে ভালোবাসার জন্য অন্য কাউকে ঘৃণা করতে হয় না; কাউকে সমালোচনা করার জন্য তাঁর সব সৃষ্টিকে অস্বীকারও করতে হয় না।

কালি মুছে যায়, প্রশ্ন থেকে যায়
কোনো সাংস্কৃতিক প্রতীককে আঘাত করলে সেই কাজটি সংবাদ, আলোচনা ও বিতর্কের মধ্য দিয়ে আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠতে পারে। যে মুখটি মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়, সেটিই তখন নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে আসে। কিন্তু বিষয়টি শুধু এই পরিহাসে সীমাবদ্ধ নয়।

গভীর প্রশ্ন হলো, আমরা মতভেদ প্রকাশের জন্য কোন পদ্ধতিকে বেছে নিচ্ছি। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা শুধু নিজের অপছন্দের কথা বলার অধিকার নয়; অন্যের বক্তব্যের সঙ্গে যুক্তিপূর্ণভাবে মোকাবিলা করার সামর্থ্যও। একটি সমাজে স্বাধীনচিন্তার পরিসর তখনই বিস্তৃত হয়, যখন মানুষ প্রশ্ন করতে পারে, সমালোচনা করতে পারে এবং নিজের বক্তব্যের পক্ষে যুক্তি দিতে পারে—কোনো প্রতীককে অপমান না করেও।

রবীন্দ্রনাথের কোনো রচনা নিয়ে আপত্তি থাকলে সেই রচনা বিশ্লেষণ করা যেতে পারে। তাঁর কোনো বক্তব্যকে সময়ের প্রেক্ষাপটে বিচার করা যেতে পারে। তাঁর চিন্তার সীমা চিহ্নিত করে নতুন চিন্তা নির্মাণ করা যায়। এমনকি তাঁর জনপ্রিয়তা, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা কিংবা তাঁর উত্তরাধিকারের নির্বাচিত ব্যবহার নিয়েও বিতর্ক হতে পারে। এসবই বৌদ্ধিক চর্চার স্বাভাবিক অংশ।
কিন্তু কালি দেওয়ার দৃশ্য যদি যুক্তির পরিবর্তে বিরোধিতার প্রধান ভাষা হয়ে ওঠে, তবে প্রশ্ন থেকে যায়—আমরা কি সত্যিই কোনো চিন্তার মোকাবিলা করছি, নাকি চিন্তার দৃশ্যমান চিহ্নটিকেই আমাদের প্রতিপক্ষ বানিয়ে নিচ্ছি?

এখানে আইন ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সৃষ্টিশীলতার প্রতি অবমাননাকর আচরণের সমালোচনা করা যেমন জরুরি, তেমনি এ ধরনের ঘটনায় আইনের যথাযথ প্রয়োগও প্রয়োজন। অভিযোগের তদন্ত ও বিচার হতে হবে প্রমাণের ভিত্তিতে এবং ন্যায়সংগত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে। কারণ, সাংস্কৃতিক মর্যাদা রক্ষা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা পরস্পরবিরোধী নয়; বরং একটি দায়িত্বশীল সমাজে দুটিই সমান গুরুত্বপূর্ণ।

একজন কবিকে কীভাবে মোকাবিলা করা যায়?
রবীন্দ্রনাথকে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব কোনো প্রতিকৃতি, স্মৃতিস্তম্ভ কিংবা আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধার মধ্যে শেষ হয় না। তাঁর সাহিত্যকে জীবিত রাখার অর্থ তাঁকে নিয়মিত পড়া, তাঁর বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা, তাঁর রচনার নতুন অর্থ আবিষ্কার করা এবং তাঁর সীমাবদ্ধতা সম্পর্কেও সৎ থাকা।

একজন লেখকের স্থায়ী উপস্থিতি তাঁর মুখের ছবিতে নয়, মানুষের চিন্তায় ও প্রাত্যহিক অভিজ্ঞতায়। সেই চিন্তা কখনো সম্মতি তৈরি করবে, কখনো আপত্তি; কখনো নতুন ব্যাখ্যার জন্ম দেবে, কখনো পুরোনো ধারণাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাবে। সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রাণশক্তি এখানেই—তারা কোনো একটি ব্যাখ্যায় চিরকাল বন্দী থাকে না।

তাই রবীন্দ্রনাথকে অন্ধভাবে পূজা করার প্রয়োজন নেই, তাঁকে রাজনৈতিক প্রতীকের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে বাতিল করারও প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন তাঁকে পড়ার, বোঝার, সমালোচনা করার এবং তাঁর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেও নিজের যুক্তির প্রতি সৎ থাকার।

মুখে কালি দিয়ে একজন কবির প্রতিকৃতি আড়াল করা যেতে পারে; কিন্তু তাঁর সৃষ্টিকে অদৃশ্য করতে হলে মানুষের পাঠ, স্মৃতি ও চিন্তার জগৎকেও সংকুচিত করতে হবে। আর যে সমাজে চিন্তার জগৎ সংকুচিত হয়, সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত হন শুধু একজন কবি নন—ক্ষতিগ্রস্ত হয় প্রশ্ন করার স্বাধীনতা, মতভেদের সংস্কৃতি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বৌদ্ধিক সম্ভাবনা।

শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি তাই শুধু রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে নয়। আমরা কি এমন একটি সমাজ গড়তে চাই, যেখানে অপছন্দের চিন্তাকে কালি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়, নাকি এমন একটি সমাজ, যেখানে সেই চিন্তার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আরও গভীর, আরও স্বাধীন এবং আরও যুক্তিসংগত চিন্তা নির্মাণ করা যায়?
-লেখক: জহিরুল ইসলাম

প্রচন্ড বৃষ্টি উপেক্ষা করে ব্রঙ্কসের সভায় মানুষের ঢল

‘সেলিম-আলী’ প্যানেলের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের জবাব হবে ব্যালটে

জন্মভূমি প্রতিবেদকঃ প্রচন্ড বৃষ্টি উপেক্ষা করে ব্রঙ্কসে আয়োজিত ‘সেলিম-আলী’ প্যানেলের পরিচিত ও নির্বাচনী জনসভায় সর্বস্তরের মানুষের ঢল নেমেছিলো। সভায় বক্তারা বলেছেন, ব্রঙ্কস ‘সেলিম-আলী’র ঘাটি। ‘সেলিম-আলী’র পক্ষে ব্রঙ্কসবাসী ঐক্যবদ্ধ। তার প্রমান বিরূপ প্রকৃতির মধ্যেও নির্বাচনী সভায় সর্বস্তরের বিপুল মানুষের উপস্থিতি, অংশগ্রহণ আর সমর্থন। বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ সোসাইটি-কে যোগ্যতার সাথে নেতৃত্ব দেয়ার যোগ্য প্যানেল ‘সেলিম-আলী’ প্যানেল। এই প্যানেল বিগত নির্বাচনে জয়ী হয়েই তার প্রমাণ রেখেছে। এবারের নির্বাচন ঘিরে ‘সেলিম-আলী’ প্যানেলের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে জবাব দেয়া হবে ব্যালটের মাধ্যমে। বক্তারা আগামী ২৫ অক্টোবরের নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ‘সেলিম-আলী’ প্যানেল-কে ভোট দিয়ে জয়ী করার জন্য সকল ভোটারের প্রতি আহবান জানান।

গত ১১ অক্টোবর রোববার সন্ধ্যায় ব্রঙ্কসের পিএস ১০৬ মিলনায়তনে প্যানেল পরিচিত ও নির্বাচনী জনসভার আয়োজন করা হয়। ‘সেলিম-আলী’ প্যানেলের ব্রঙ্কস নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক মাহবুব আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভার শুরুতে পরিবত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন শফিকুল আলম এবং গীতা থেকে পাঠ করেন শ্রী পল্লব সরকার। এরপর বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশিত হয়। সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক সিরাজ উদ্দিন আহমেদ সোহাগ।

সভামঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন প্রবীণ প্রবাসী আব্দুর রব ধলা মিয়া, ‘সেলিম-আলী’ প্যানেলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক নাজমুল হাসান মানিক, কো চেয়ারম্যান আব্দুল হাসিম হাসনু, এম বাসিত রাজ্জাক, দুলাল মিয়া এনাম ও তাজু মিয়া, উপদেষ্টা আব্দুস শহীদ, যুগ্ম সদস্য সচিব এএসএম মাইনুদ্দীন পিন্টু, বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবর উদ্দিন ও লিয়াকত আলী, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম, বিয়ানীবাজার সমিতির সাবেক সভাপতি মকবুল রহিম চুনই এবং উপদেষ্টা গহর চৌধুরী কিনু, চট্টগ্রাম এসোসিয়েশন ইউএসএ’র সভাপতি মাকসুদুল হক চৌধুরী, জ্যামাইকা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক ফারুক হোসেন মজুমদার, ওজনপার্ক নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো কনভেনর নজরুল ইসলাম লিটন ও প্রধান উপদেষ্টা সামির উদ্দিন, খবির ভূইয়া, কবি জলি রহমান, ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল খালেক।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকার সহ সভাপতি লোকমান হোসেন লুকু, ঢাকা জেলা সমিতি ইউএসএ’র সভাপতি সাইফুল ইসলাম, মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর সমিতির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম, ব্রঙ্কস বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি সামাদ মিয়া জাকারিয়া, বাংলাদেশী-আমেরিকান কালচারাল এসোসিয়েশন (বাকা)’র সভাপতি সারওয়ার চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক শাহ বদরুজ্জামান রুহেল, হৃদয়ে বাংলাদেশ-এর সভাপতি সাঈদুর রহমান লিংকন, জামালপুর জেলা সোসাইটি ইউএসএ’র সভাপতি মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বাবু, মৌলভীবাজার ডিষ্ট্রিক্ট সোসাইটি ইউএসএ’র সভাপতি সোহান আহমেদ টুটুল, সাবেক সভাপতি তোজাম্মেল আলী ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ রুহুল আলী, হবিগঞ্জ জেলা কল্যাণ সমিতি ইউএসএ’র সভাপতি সাব্বির আহমেদ, বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস-এর সাধারণ সম্পাদক শেখ অলি আহাদ, কুলাউড়া বাংলাদেশী এসোসিয়েশন ইউএসএ’র সাধারণ সম্পাদক মঈনুর রহমান সুয়েব, প্রফেসর কামাল চৌধুরী, ড. ওয়াব জোয়ারদার, বিশ্বনাথ সমিতি ইউএসএ’র সাবেক সভাপতি মনির আহমেদ, নবীগঞ্জ ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ইমরান আলী টিপু, নিউজার্সীর পেটারসন সিটির সাবেক কমিশনার এহিয়া খান, ‘সেলিম-আলী’ প্যানেলের ব্রঙ্কস নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী মমিনুল ইসলাম, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিষ্ট শাহ কামাল, কফিল আহমেদ চৌধুরী, লিয়াকত আলী, গণেশ কীর্তনীয়া, রবিউল ইসলাম (কমিশনার), সোহেল আহমেদ, ফয়সাল আহমেদ, কাজী কিং জাকির, তাজুল ইসলাম প্রমুখ। যৌথভাবে সভা পরিচালনা করেন ‘সেলিম-আলী’ প্যানেলের ব্রঙ্কস নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব জিয়া আব্দুল্লাহ ও শামীম মিয়া।

সভার মাঝে ‘সেলিম-আলী’ প্যানেলের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব জে মোল্লা সানি। এসময় সভাপতি পদপ্রার্থী আতাউর রহমান সেলিম, সিনিয়র সহ সভাপতি মহিউদ্দিন দেওয়ান ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মোহাম্মদ আলী ছাড়াও ব্রঙ্কস থেকে এই প্যানেলের চার প্রার্থী যথাক্রমে সমাজকলাণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মুনসুর আহমেদ, সাহিত্য সম্পাদক পদপ্রার্থী রুমানা আহমেদ, কার্যকরী সদস্য শামীম আহমেদ ও কাজী রবিউজ্জামান।

‘সেলিম-আলী’ প্যানেলের প্রার্থীরা হলেন: সভাপতি- আতাউর রহমান সেলিম, সিনিয়র সহ সভাপতি- মহিউদ্দিন দেওয়ান, সহ সভাপতি- কামরুজ্জামান কামরুল, সাধারণ সম্পাদক- মোহাম্মদ আলী, সহ সাধারণ সম্পাদক- হারুন রশিদ (চেয়ারম্যান), কোষাধ্যক্ষ- নওশাদ হায়দার, সাংগঠনিক সম্পাদক- ডিউক খান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক- অনিক রাজ, জনসংযোগ ও প্রচার সম্পাদক- রিজু মোহাম্মদ, সমাজকলাণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মুনসুর আহমেদ, সাহিত্য সম্পাদক পদপ্রার্থী রুমানা আহমেদ, ক্রীড়া ও আপ্যায়ন সম্পাদক- হাসান খান, স্কুল ও শিক্ষা সম্পাদক- এএসএম মাইন উদ্দিন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক- শাহনাজ হোসেন, এবং কার্যকরি সদস্য- জাহাঙ্গীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মোহাম্মদ উজ্জল বিপুল, সারোয়ার খান বাবু, মোহাম্মদ এ মান্নান, শামীম আহমেদ, মোহাম্মদ আব্দুল মালেক খান ও কাজী রবিউজ্জামান।

সভায় বক্তারা বলেন, সোসাইটির ৫০ বছরের ইতিহাসে সেলিম-আলী পরিষদ সঠিক ও যোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইতিহাস রচনা করেছেন, সোসাইটিকে গণমুখী করেছেন, সোসাইটির ফান্ডে প্রায় এক মিলিয়ন ডলার অর্থ ফান্ড রেখেছেন। বক্তারা এই প্যানেল-কে যোগ্য এবং সবার সেরা উল্লেখ করে আগামী নির্বাচনেও ‘সেলিম-আলী’ প্যানেল-কে পুনরায় নির্বাচিত করার আহবায়ক জানান।
সভায় আতাউর রহমান সেলিম তার দীর্ঘ প্রবাস জীবনে বিভিন্ন সংগঠনে নেতৃত্ব দেয়ার কথা তুলে ধরে বলেন, আমরা কথা নয়, কাজে বিশ্বাসী। আমরা সোসাইটির ‘কামলা’ হিসেবে গত দুই বছরে সোসাইটির জন্য কি কাজ করেছি তা সবাই জানেন, বাকী কাজ সমাপ্ত করতেই আমরা আবার প্রার্থী হয়েছি। তিনি কারো অপপ্রচারে কান না দিয়ে আগামী ২৫ অক্টোবরের নির্বাচনে ভোট দিয়ে ‘সেলিম-আলী’ প্যানেলেল প্রার্থীদের জয়ী করার আহবায়ক জানান।

মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘সেলিম-আলী’ প্যানেলের জনপ্রিয়তায় কোন কোন মহল নানা অপপ্রচার চালাছে, ষড়যন্ত্র করছে। আমরা সবাই মিলে ‘সেলিম-আলী’ প্যানেল-কে বিজয় করে এই অপপ্রচারের জবাব দেবো। তিনি বলেন, ইফতার মাহফিলের মতো স্পর্শকাতর ও ধর্মীয় বিষয় নিয়েও মহলটি মিথ্যা কথা বলছে। তারা বিজয়ী হলে সোসাইটির উদ্যোগে ইফতার মাহফিল হবে কিনা আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমরা বিজয়ী হলে অবশ্যই ইফতার মাহফিল করবো। এটা আমাদের ধর্মীয় কাজ। আমরা কোন অপচয় করিনি। শুধু তাই না, আমরা অন্যান্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবো, তাদেরকেও সহযোগিতা করেছি, আগামীতেও করবো। আমরা যেকোন মূল্যে সোসাইটিকে সর্বজনীন সংগঠন হিসেবে দেখতে চাই, রাখতে চাই।

সভায় উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিবর্গের মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা কামাল ও জাহাঙ্গীর আলম, ব্রঙ্কস কমিউনিটির উপদেষ্টা খন্দকার আবাদুল বাকী, চুনাঘাট বাহুবহলের চেয়ারম্যান বশির মিয়া, এডভোকেট রেদওয়ানা রাজ্জাক সেতু, ‘সেলিম-আলী’ প্যানেলের ব্রঙ্কস নির্বাচন পরিচালনা কমিটির উপদেষ্টা সানাউল্লাহ ও মোক্তার আহমেদ, প্রধান সমন্বয়কারী রোকন হাকিম, যুগ্ম আহবায়ক হুমায়ুন কবীর, কাজীরুল ইসলাম ও আশরাফুল চৌধুরী, যুগ্ম সদস্য সচিব গুলজার হোসেন ও পল্লব সরকার, সদস্য দিপংকর দেব, ওজনপার্ক নির্বাচন পরিচালনা কমিটির উপদেষ্টা মনির উদ্দিন, কো-চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল চৌধুরী ও প্রধান সমন্বয়কারী আব্দুল করীম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

‘সেলিম-আলী’ প্যানেলের পরবর্তী পরিচিতি ও নির্বাচনী জনসভা যথাক্রমে ১৬ অক্টোবর শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় জ্যামাইকার অঙ্গন পার্টি হলে, ১৮ অক্টোবর রোববার সন্ধ্যা ৭টায় উডসাইডের গুলশান ট্যারেসে এবং ১৯ অক্টোবর রোববার সন্ধ্যা ৭টায় ওজনপার্কের আল মদিনা পার্টি হলে অনুষ্ঠিত হবে।

-প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের পক্ষে ঢাকাবাসী’র ব্যাপক সমর্থন

জয়ী হই বা না হই সোসাইটির পাশে থাকবো, শিক্ষা বৃত্তি প্রদানে সহযোগিতা করবো : দুলাল বেহেদু

জন্মভূমি প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ সোসাইটির আসন্ন নির্বাচনে ‘পরিবর্তনের শ্লোগান’ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের উদ্যোগে ব্যাপক সমর্থন জানালো বৃহত্তর ঢাকাবাসী। নিউইয়র্ক প্রবাসী বৃহত্তর ঢাকাবাসী’র ব্যানারে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এই সমর্থন জানানো হয়। বিশেষ করে ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের সিনিয়র সহ সভাপতি দুলাল বেহেদু, সহ সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নওশাদ হোসেন ও সাহিত্য সম্পাদক মোহাম্মদ এ আখতার বৃহত্তর ঢাকার সন্তান হওয়ায় প্যানেলটিকে যোগ্য প্যানেল হিসেবে সমর্থন জানোনো হয়। উল্লেখ্য, দুলাল বেহেদু বৃহত্তর ঢাকা জেলা এসোসিয়েশনের সভাপতি’র দায়িত্ব পালন করছেন। সভায় দুলাল বেহেদু বলেন, সোসাইটির নির্বাচনে আমি জয়ী হই বা না হই আমি সোসাইটির পাশে থাকবো, কমিউনিটির পশে থাকবো এবং শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদানে সাধ্যমত সহযোগিতা করবো। এটি আমার ওয়াদা।

সভায় ঢাকাবাসীর পক্ষ থেকে আয়োজক কমিটির বক্তারা যোগ্য প্যানেল হিসেবে ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের পক্ষে কাজ করা এবং ২৫ অক্টোবরের নির্বাচনে জয়ী করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। অপরদিকে সভায় ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের সভাপতি পদপ্রার্থী আজমল হোসেন কুনু ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ফিরোজ আহমেদ তাদের বক্তব্যে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশী কমিউনিটির গড়ার পাশাপাশি স্বচ্ছ, পরিচ্ছন্ন সোসাইটি প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন।

গত ৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উডসাইডের কুইন্স প্যালেসে আয়োজিত এই সভায় বিপুল সংখ্যক ঢাকাবাসী সপরিবারে অংশ নেন। এছাড়াও বিপুল সংখ্য বাংলাদেশী-আমেরিকান সভায় উপস্থিত হওয়ায় সভাটি উৎসবমুখর হয়ে উঠে। সন্ধ্যা ৮টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত সভার কার্যক্রম চলে। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্যদিয়ে সভার কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত এবং বিশেষ দোয়া মুনাজাত করেন মাওলানা কাজী মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক এবং গীতা থেকে পাঠ করেন বিমল চন্দ্র বর্মণ। পরবর্তীতে ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের প্রার্থীর নিয়ে সরচিত কবিতা পাঠ করেন।

বিশিষ্ট রাজনীতিক, ব্যবসায়ী, সংগঠক ঢাকা জেলা এসোসিয়েশনের প্রধান উপদেষ্টা গিয়াস আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির সাকে সভাপতি ও সাবেক ট্রাষ্টিবোর্ড চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোহাম্মদ এ আজিজ। প্রধান বক্তা ছিলেন বিশিস্ট রাজনীতিক ও ঢাকা জেলা এসোসিয়েশনের অন্যতম উপদেষ্টা গিয়াস উদ্দিন। আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট রাজনীতিক জিল্লুর রহমান জিল্লু, সাবেক ছাত্রনেতা আলাউদ্দিন ভুলু, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ রব মিয়া, সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার নাসির খান পল ও জামাল আহমেদ জনি, ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের সভাপতি পদপ্রার্থী আজমল হোসেন কুনু ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ফিরোজ আহমেদ, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক রুহুল আমীন সিদ্দিকী, যুগ্ম আহবায়ক ভিপি জহির মোল্লা ও প্রধান সমন্বয়কারী বাবুল চৌধুরী, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সহ সভাপতি ফারুক চৌধুরী, সাবেক স্কুল ও শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক নূরুল হক, জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা’র সাবেক সভাপতি বদরুন্নাহার খান মিতা, জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা’র (একাংশ) সভাপতি মইনুল ইসলাম, নারায়নগঞ্জ সমিতির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ মহসিন, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিষ্ট ও মূলধারার রাজনীতিক শেখ শাহজাহান।

সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন ঢাকা জেলা এসোসিয়েশনের উপদেষ্টা ও সাভার উপজেলা এসোসিয়েশনের সভাপতি এবং অনুষ্ঠান আয়োজক কমিটির আহবায়ক আমানুল্লাহ আমান। সভায় দুলাল বেহেদু সহ অতিথিবৃন্দ ছাড়াও অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকা জেলা এসোসিয়েশনের উপদেষ্টা শেখ সালাউদ্দিন খোকন ও মুক্তিযোদ্ধা আজাদ হোসেন, মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর সমিতির সাবেক সভাপতি শাহাদৎ হোসেন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন সেলিম, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিষ্ট নূর আমিন, মিজানুর রহমান মিজান, সৈয়দ এ আর ফারুক প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। যৌথভাবে সভা পরিচালনা করেন আসাদ জামান ও আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব সেলিম ইব্রাহীম।

সভায় এম আজীজ বলেন, বাংলাদেশ সোসাইটির বর্তমান নেতৃত্ব আর কর্মকান্ড নিয়ে নানা কথা হচ্ছে। বর্তমান কমিটির কোন যোগ্য নেতৃত্ব আমরা দেখছি না। তারা মিথ্যাচার করছে। আমরা চাই সোসাইটিতে যোগ্য নেতৃত্ব। আমরা সবাইকে নিয়ে সোসাইটিকে শক্তিশালী করতে চাই।

নাসির খান পল বলেন, সোসাইটিতে নেতৃত্ব দিতে সেলিম-আলীরা সম্পূর্ণ ব্যর্থ। তারা সোসাইটির অর্থ তথা আমাদের অর্থ অপচয় করেছে। তারা নির্বাচনী ওয়াদা রক্ষা তো করেই নি বরং মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে কমিউনিটিকে বিভ্রান্ত করছে। তাই আমরা যোগ্য নেতৃত্ব চাই। ‘কুনু-ফিরোজ’ জয়ী হলে সোসাইটিতে যোগ্য নেতৃত্ব ফিরে আসবে। তিনি এই প্যনেলকে জয়ী করতে সবার সহযোগিতা চান।

জিল্লুর রহমান জিল্লু বলেন, আমি রাজনীতি করি। একট দল করি। কুনু ভাই আমার বড় ভাই। কিন্তু সোসাইটিত্বে যোগ্য নেতৃত্ব চাই বলেই ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলকে সমর্থন করছি। ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেল যোগ্য হলে তিনি এই প্যানেলকে জয়ী করতে ঢাকাবাসীর প্রতি অনুরোধ জানাই।

জামাল উদ্দিন আহমেদ জনি আবারো বর্তমান কমিটির সময়ের ৯০ হাজার ডলার কিভাবে ইফতার পার্টির খরচ, ২৪ হাজার ডলার ফটো কার্ড, ম্যাগাজিনের খরচ, কবর ক্রয়ে অর্থ ফেরৎ নেয়া প্রভৃতি ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেন এবং তার হিসাব চান। কবর ক্রয়ের অর্থ কেন ফেরৎ আনা হলো তার ব্যাখ্যা দিতে হবে এবং বিদায়ী কমিটিকে আগের মূল্যেই সোসাইটির কবর ক্রয় করে দিতে হবে। তিনি আজমল হোসেন কুনু ও ফিরোজ আহমেদ-কে স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করে এই প্যানেল-কে জয়যুক্ত করার অনুরোধ জানান।

গিয়াস আহমেদ বলেন, একটি মহল সিন্ডিকেট তৈরী করে সোসাটির নেতৃত্ব ধরে রাখছে। ফলে সোসাইটির কোন কাজ হচ্ছে না। অথচ আমরা বলছি সোসাইটি আমব্রেলা সংগঠন। সোসাইটির ৩৫ হাজার সদস্য হলে সিটি ও ষ্টেট প্রশাসনের অনুদান পাওয়ার কথা, সেই উদ্যোগ নেই। তিনি বলে, আমরা সোসাইটিকে গণমুখী করেছি। এই গণমুখিতা ধরে রাখতে গণমুখী কর্মসূচী দরকার। তাই ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলকে বিজী করা দরকার।

গিয়াস উদ্দিন বলেন, যারা মিথ্যাচার করেন, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন তাদের যেমন আল্লাহ পছন্দ করেন না, আমরাও তাদের পছন্দ করবো না। সোসাইটির কর্মকর্তারা কথা দিয়ে কথা রাখেননি। তারা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন। তাই আমরা ঢাকাবাসী তাদের সমর্থন করতে পারি না। তিনি বলেন, ‘সেলিম-আলী’ ভন্ড প্রতারক। তারা তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেনি।

আজমল হোসেন কুনু বলেন, নির্বাচন ঘিরে আমার এবং প্যানেলের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চলছে। বলা হচ্ছে আমার পরিবার আমার সাথে নেই। বলা হচ্ছে আমরা নির্বাচন থেকে সরে যাচ্ছি। কিন্তু প্রমান হচ্ছে আমার কাজিন জিল্লুর রহমান আর আমি আজ একই মঞ্চে, আমরা জয়ের জন্যই নির্বাচন করছি। তিনি বলেন, আমরা অপপ্রচারে বিশ্বাসী নই, কাজে বিশ্বাসী। যা বলবো তাই তাই করবো। তিনি তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরে বলেন, আগেও বলেছি, এখনো বলছি সোসাইটির নির্বাচন ঘিরে কোন মিথ্যা প্রতিশ্রুতি, আশ্বাস দেবো না। সোসাইটির কোন অর্থ অপচয় করবো না। তবে প্রয়োজনের জন্য যা করা দরকার তাই করবো। তিনি বলেন, আমরা নির্বাচিত হলে আমাদের প্রথম কাজ হবে ফিউনেরাল হোম প্রতিষ্ঠা করা।

ফিরোজ আহমেদ বলেন, আমরা স্বচ্ছ আর জবাবদিহীমূলক সোসাইটি গড়তে চাই। নিউ ইমিগ্র্যান্টদের চাকরীর সুযোগের পথ দেখানো, নিউইয়র্ক-ঢাকা-নিউইয়র্ক রুটে বিমান চালু সহ প্রবাসীদের সমস্যা মোকাবেলায় তিনি কতিপয় কর্মসূচী বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন এবং নতুন প্রজন্মকে সোসাইটীমুখী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সভায় দোহার উপজেলা সমিতি ইউএনএ’র সভাপতি মোস্তফা কামাল মঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন। এছাড়াও উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিবর্গের মধ্যে কুইন্স সোসাইটির সভাপতি ও ব্রাক্ষণবাড়িয়া সোসাইটির সাবেক সভাপতি কাজী তোফায়েল ইসলাম, খুলনা সোসাইটি ইউএসএ’র সভাপতি কাজী এলিন, সোসাইটির সাবেক কর্মকর্তা সাদী মিন্টু, ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির যুগ্ম আহবায়ক টি মোল্লা, কুইন্স নির্বাচন পরিচালনা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব কাজী আবু নাসের, এস্টোরিয়া নির্বাচন পরিচালনা পরিচালনা কমিটির আহবায়ক জাবেদ উদ্দিন প্রমুখ সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সভায় ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব আনোয়ার হোসেন। প্যানেলের প্রার্থীর হলেন: সভাপতি- আজমল হোসেন কুনু, সিনিয়র সহ সভাপতি- দুলাল বেহেদু, সহ সভাপতি- আবুল কালাম ভূইয়া, সাধারণ সম্পাদক-ফিরোজ আহমেদ, সহ সাধারণ সম্পাদক- মোহাম্মদ নওশাদ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ- মফিজুল ইসলাম ভূইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক- মোহাম্মদ জামিল আনসারী, সাংস্কৃতিক সম্পাদক- আহমেদ আর চৌধুরী, জনসংযোগ ও প্রচার সম্পাদক- সৈয়দ গৌসুল হোসাইন, সমাজকল্যাণ সম্পাদক- কয়েস আহমেদ, সাহিত্য সম্পাদক- মোহাম্মদ এ আখতার, ক্রীড়া ও আপ্যায়ন সম্পাদক- মোর্শেদ আলম, স্কুল ও শিক্ষা সম্পাদক- মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক- বেগম এম চৌধুরী, যুব ও তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক- কাজী আর হাসান এবং কার্যকরী সদস্য- সিরাজুদ্দিন হক, মোহম্মদ এ সিদ্দিক, মোহাম্মদ আবুল বাসার, মাসুদুল হক সানু, মোহাম্মদ কাওসার আলম ও মোহাম্মদ এম ইসলাম।

ঢাকাবাসী ছাড়াও নিউইয়র্ক সিটির কুইন্স, ব্রুকলীন, ব্রঙ্কস এবং বাফেলো থেকে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী এই সভায় যোগ দেন। নৈশভোজের মাধ্যমে সভার সমাপ্তি ঘটে। উল্লেখ্য, আগামী ২৫ অক্টোবর, রোববার নির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
-প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

সোনালী এক্সচেঞ্জ মোবাইল এ্যাপ এর মার্কেটিং

জন্মভূমি প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ এর রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সর্ববৃহৎ বানিজ্যিক ব্যাংক সোনালী ব্যাংক পিএলসির এর সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান সোনালী এক্সচেঞ্জ ১৯৯৪ সাল থেকে তথা দীর্ঘ ৩২ বছর যাবৎ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্টেট এ বসবাসরত বাংলাদেশী প্রবাসীদের মাঝে রেমিট্যান্স সেবা দিয়ে যাচ্ছে। অক্টোবর ৬, ২০২৬ থেকে সোনালী এক্সচেঞ্জ এর শাখা ভিত্তিক বিভিন্ন সেবা বিশেষ করে মোবাইল এ্যাপ-বাকী অংশ ২৬ পাতায় এর প্রচার-প্রচারনার জন্য মাসব্যাপী বিজনেস প্রমোশনাল ক্যাম্পেইন এর শুভ সূচনা হযেছে। অক্টোবর ১৪, ২০২৬ তারিখে জ্যাকসন হাইটস শাখায় ক্যাম্পেইন এর উদ্বোধন করেন কোম্পানীর প্রেসিডেন্ট এন্ড চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার জনাব মোহাম্মদ মহসিন কবীর। তিনি শাখায় গ্রাহকদের সাথে সোনালী এক্সচেঞ্জ এর বিদ্যমান বিভিন্ন সেবাসমূহের সুবিধার কথা তুলে ধরেন। তিনি গ্রাহকদের সাথে মত বিনিময় এর পাশাপাশি সকলকে সোনালী এক্সচেঞ্জ এর জনপ্রিয় মোবাইল এ্যাপটি কিভাবে আইফোন ও এনড্রয়েড ফোন এ ১-২ মিনিটের মধ্যে ডাউনলোড ও রেজিষ্ট্রশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মূহূর্তের মধ্যে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স প্রেরণ করা যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য প্রদান করেন। উপস্থিত অনেক গ্রাহকগনকে তাৎক্ষনিকভাবে এ্যাপটি ডাউনলোড ও রেজিষ্ট্রেশন সম্পন্ন করতে সহায়তা করেন।

সোনালী এক্সচেঞ্জ মোবাইল এ্যাপ দিয়ে শাখার দীর্ঘ লাইনে না এসে যে কোন সময় যে কোন জায়গা থেকে বিনা খরচে, ইউএস গভর্মেন্ট এর ১% রেমিট্যান্স ট্যাক্স ব্যতিত এবং কম্পিটিটিভ এক্সচেঞ্জ রেট এ বাংলাদেশে টাকা পাঠানোর বিশেষ সুবিধার কথা সকলের সামনে তিনি তুলে ধরেন। ক্যাম্পেইন চলাকালীন জ্যাকসন হাইটস শাখার ম্যানেজার জনাব কাজী মো: খালিদ বিন আজিজ, সিনিয়র ডাটা প্রসেসর জনাব মো: ইদ্রিস মোল্লা এবং শেখ ফারজানা পারভীন গ্রাহকদের সোনালী এক্সচেঞ্জ মোবাইল এ্যাপ ব্যবহার করার জন্য অনুরোধ করেন। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, ফরেন কারেন্সী রিজার্ভ বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ এর মানুষের জীবন-মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ন অবদান রাখার জন্য কোম্পানরি প্রেসিডেন্ট এন্ড সিইও উপস্থিত সকল বাংলাদেশী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের সোনালী এক্সচেঞ্জ এর পক্ষ থেকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

জাতিসংঘে মুহাম্মদ নওশাদ জমির এমপি: মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নের আহ্বান

জন্মভূমি প্রতিবেদকঃ মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধ, অপরাধীদের বিচার এবং ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন মুহাম্মদ নওশাদ জমির এমপি। আজ মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ষষ্ঠ কমিটিতে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এ আহ্বান জানান।

মানবতাবিরোধী অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের আশ্রয়দানকারী দেশগুলোর বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তাবিত সনদে তিনটি সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা রাখার আহ্বান জানান নওশাদ জমির। তিনি অপরাধের আলামত সংরক্ষণ ও সাক্ষীদের সুরক্ষায় সহযোগিতা, ভুক্তভোগীদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং আশ্রয়দানকারী দেশগুলোর দায়িত্ব ভাগাভাগিতে আন্তর্জাতিক সংহতি জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে নওশাদ জমির বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে আন্তর্জাতিক কাঠামোতে ভুক্তভোগীদের আশ্রয়দানকারী দেশগুলোর ভূমিকার যথাযথ স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের তথ্যানুসন্ধান প্রতিবেদনে ওই সময়ে শিশুসহ প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষের প্রাণহানির তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে কি না, তা নির্ধারণে ফৌজদারি তদন্তের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা যাতে কোনো দেশে নিরাপদ আশ্রয় না পান, সে জন্য সর্বজনীন বিচারিক এখতিয়ার প্রতিষ্ঠা, অপরাধীদের প্রত্যর্পণ এবং আন্তর্জাতিক আইনি সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান নওশাদ জমির। একই সঙ্গে নারী ও শিশুদের ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নে আপসের বিষয়ে সতর্ক করে নওশাদ জমির বলেন, ‘সবাইকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে সনদকে দুর্বল করা হলে তা শেষ পর্যন্ত কাউকেই সুরক্ষা দিতে পারবে না।’

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সমস্যা সমাধানে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন জামায়াত আমির

জন্মভূমি প্রতিনিধিঃ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ কথা জানিয়েছেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন সমস্যা, বৈষম্য ও বঞ্চনার কথা শুনেছেন জামায়াত আমির এবং এসব সমস্যা সমাধানে তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডের ২৯ নম্বর সরকারি বাসভবনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে হিন্দু ধর্মাবলম্বী নেতাদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। মতবিনিময় শেষে এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন গোলাম পরোয়ার।

তিনি বলেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের যত সংগঠন আছে, জাতীয় ভাবে তার প্রায় সব সংগঠনের প্রতিনিধিত্বকারী নেতারা সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, পূজা উদযাপন ফ্রন্ট, জাতীয় হিন্দু মহাজোট, হিন্দু ধর্ম কল্যাণ ট্রাস্টসহ আরও অনেক সংগঠন ও সংস্থার নেতৃবৃন্দ এখানে উপস্থিত ছিলেন।
গোলাম পরোয়ার বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবে শুধু নয়, লিডার অব দ্য অপজিশন হিসেবে একটি সাংবিধানিক দায়িত্বের কথা তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। আমাদের এই প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশের সব ধর্মের মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা ও তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব বিষয়ে কথা বলা সরকারের যেমন দায়িত্ব, তেমনি বিরোধীদলীয় নেতারও সাংবিধানিক কর্তব্য। তিনি সেটি স্মরণ করেছেন এবং এ ব্যাপারে তার ভূমিকা যতটুকু তিনি পালন করেন, সেটিও ব্রিফ করেছেন।

Jamat Amir 1791975111

তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতের পক্ষ থেকে, বিশেষ করে ৫ আগস্টের জুলাই অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান, পূজা ও মন্দির রক্ষায় জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের সাহসী এবং দিনরাত নিরবচ্ছিন্ন ভূমিকার প্রশংসা করেছেন হিন্দু ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দ।
তিনি আরও বলেন, এই মতবিনিময় সভায় নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন জায়গায় কিছু বৈষম্য, বঞ্চনা, অসুবিধা, দুঃখ-কষ্ট ও ডিসক্রিমিনেশনের কথা উল্লেখ করেছেন। তারা সহযোগিতা চেয়েছেন। সরকার ও বিরোধী দল ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের পাশে থেকে এসব সমস্যার সমাধান করবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন আমাদের নেতা। তিনি আশ্বস্ত করেছেন, আমরা আপনাদের সঙ্গে আরও মতবিনিময় করব, আরও কথা শুনব এবং আমাদের এই কর্তব্য ও দায়িত্ব পালনে আপনাদের পাশে আমরা সব সময় থাকব।

বিফ্রিংয়ে সিনিয়র আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রাক্কালে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে সনাতন সমাজের নেতৃবৃন্দকে শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য আজ যে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, এজন্য সনাতন সমাজের পক্ষ থেকে আমি আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাই। সবাই মিলেমিশে বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করতে পারি এবং একে অপরের সহমর্মিতায় পাশে থাকতে পারি, সেটিই আজ আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর শ্রদ্ধেয় আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা।

সুব্রত চৌধুরী বলেন, আমরা সনাতন সমাজের পক্ষ থেকে তার এই গ্রহণযোগ্যতা ও বক্তব্যে সন্তুষ্ট। আগামী দিনে জামায়াতে ইসলামী এসব বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, তবে আমি একটি কথা বলতে চাই, যখনই আমাদের কোনো ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান হয়, তখন রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ এবং পৃথিবীর বুকে আমরা খুব উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করি। আমি বলতে চাই, এই কথাটা আমাদের মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতা-নেত্রীরা যদি মসজিদে খুতবার মাধ্যমে এই সম্প্রীতির আহ্বান জানান, তাহলে বাংলাদেশ সত্যি সত্যি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ হয়ে উঠবে।

হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিতে জাতীয় কমিটি গঠনের পরামর্শ রাষ্ট্রপতির

জন্মভূমি প্রতিনিধিঃ রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়গুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি জাতীয় কমিটি গঠনের পরামর্শ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়গুলোর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি জাতীয় কমিটি গঠন করা গেলে তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবিদাওয়া যথাযথভাবে সরকারের কাছে তুলে ধরা সহজ হবে।
আজ বুধবার দুপুরে বঙ্গভবনে বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের সভাপতি ও ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারের মহাধ্যক্ষ শ্রীসদ্ধম্মসাসনধ্বজ বুদ্ধপ্রিয় মহাথেরের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ পরামর্শ দেন।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এই তথ্য জানান।
এ সময় হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃগোষ্ঠীবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ছেলে-মেয়েদের শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে আরও গুরুত্ব দিতে হবে, যাতে তারা কোনোভাবেই পিছিয়ে না পড়ে। এ ক্ষেত্রে সম্প্রদায়ের শিক্ষিত ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদল বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বিভিন্ন বিষয় ও সমস্যা রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরে এবং তাদের ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করে।
সমস্যা সমাধানের বিষয়ে রাষ্ট্রপতি তাদেরকে আশ্বস্ত করে বলেন, সব সম্প্রদায়ের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা এবং বৈষম্য দূর করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।
এ সময় তারা আগামী নভেম্বরে কমলাপুরের ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারে অনুষ্ঠেয় কঠিন চীবরদান অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার বিষয়ে আশ্বস্ত করেন।
সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সুশীল চন্দ্র বড়ুয়া, বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি পার্থ প্রতিম বড়ুয়া, বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের সহ-সভাপতি ও সাবেক যুগ্ম সচিব রণজিৎ কুমার বড়ুয়া, জাতীয়তাবাদী বৌদ্ধ ফোরামের সভাপতি ও কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য দিলীপ কুমার বড়ুয়া, বাসাবো ধর্মরাজিক মহাবিহারের উপাধ্যক্ষ সুমিত্তানন্দ ভিক্ষু (অনুপম বড়ুয়া) এবং রীটন কান্তি বড়ুয়া (স্বরূপানন্দ ভিক্ষু)-সহ বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ।
এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।

দুর্গাপূজায় শ্লোগান উঠুক, ‘চিন্ময় প্রভু’র মুক্তি চাই’

০

শিতাংশু গুহ, নিউইয়র্ক, ১০ই অক্টবর ২০২৬।। দুর্গাপূজা এসে গেছে। পূঁজার লেখা নিয়ে অনুরোধ থাকে, কি লিখবো? নিউইয়র্কে দুর্গাপূজা নিয়ে লিখে লাভ নেই, এখানে কেউ মুর্ক্তি ভাঙ্গেনা। পুলিশ প্রহরা লাগেনা। দলীয় ও পাড়ার মাস্তানদের দৌরাত্ম নেই! নারীর গায়ে কেউ হাত দেয়না। নাবালিকা অপহরন হয়না। মারামারি নাই। তবে কোন্দল আছে। একটি মন্দিরে পাল্টাপাল্টি দুই গ্রূপ একই সময়, একই জায়গায় পূজা দেয়ার ঘোষণা দিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বব্যাপী প্রতিটি পূজা মণ্ডপে ‘চিন্ময় প্রভু’র মুক্তি চাই’ ও ‘ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অজুহাতে বন্দী সকল হিন্দু’র মুক্তি চাই’, এবং ‘বাংলাদেশে হিন্দু হত্যা ও হিন্দু নির্যাতন বন্ধ হউক’ ইত্যাদি ব্যানার ও পোষ্টার থাকা উচিত।

বাংলাদেশে হিন্দুরা নির্যাতিত, অবহেলিত, নিউইয়র্কের পূজা কমিটিগুলো এগিয়ে আসতে পারেন। প্রতি পূজায় সামান্য কিছু ডলার বাঁচিয়ে দেশে অন্তত: একটি পরিবারকে সাহায্য দিয়ে রোজগারের ব্যবস্থা করে দিলে মানুষগুলো বেঁচে যায়। বিশ্বব্যাপী প্রতিটি পূজামণ্ডপ এ ব্যবস্থা নিলে বাংলাদেশে বহু হিন্দু’র কাজের ব্যবস্থা হতে পারে। নিউইয়র্কে অনেকগুলো পূজা হয়, মানুষের ঢল নামে, এটি ভাল। কিন্তু এই মানুষগুলো বা কোন সংগঠন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এলে জাতিসংঘের সামনে হিন্দু নির্যাতনের বিরুদ্ধে বা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস প্রভু’র মুক্তির দাবিতে কোন সমাবেশ করেনি। ব্যক্তিগত উদ্যোগে দু’একজন চিন্ময় প্রভু’র ছবি নিয়ে দাঁড়িয়েছেন।

বাংলাদেশে মুর্ক্তিভাঙ্গা জানান দেয় যে দুর্গাপূজা এসে গেছে। বিভিন্ন স্থানে ইতিমধ্যে বেশ কিছু মুর্ক্তি ভেঙ্গেছে। আচ্ছা, ধর্মীয় জিঘাংসা ব্যতিত কি মুর্ক্তি ভাঙ্গা সম্ভব? না, সম্ভব নয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে হাজার হাজার মুর্ক্তি ভেঙ্গেছে, মন্দির আক্রমন হয়েছে, বিচার হয়নি। মুর্ক্তিভাঙ্গা জায়েজ, বিচার করে সাধ্য কার? বাংলাদেশে পুলিশ প্রহরায় পূজা হয়, পুলিশ পাহারা ছাড়া পূজা কি সম্ভব? না, কেন নয়? দুর্গাপূজায় পুলিশ লাগে, ঈদের নামাজে লাগেনা। এমনকি ভারতেও হজ্বযাত্রীদের ওপর আক্রমণ হয়না, অমরনাথ মন্দিরে যাত্রীদের ওপর আক্রমন হয়, তাই সেখানে পাহারা লাগে। মমতা ব্যানার্জীর আমলে কলকাতায় মন্দিরে আক্রমণ হয়েছে।

বাংলাদেশে পূজার সময় প্রতিটি কমিটিকে কিছু অনুদান (ভিক্ষা) দেয়, তাই পূজার সংখ্যা বাড়ে। সরকার এটিকে ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’র নমুনা বলে প্রচার করে। দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নেই, কখনো ছিলোনা। যেমন দেশে গণতন্ত্র নেই, কখনো ছিলোনা। ইসলাম ও গণতন্ত্র যেমন একসাথে চলতে পারেনা, তেমনি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলে অন্যরা টিকতে পারেনা। বাংলাদেশ, পাকিস্তান বা পুরো মুসলিম বিশ্ব এর উদাহরণ। বাংলাদেশ ধীরে ধীরে কট্টর ইসলামী রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে, এবং এজন্যে দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দল, নেতানেত্রীরা দায়ী। মুসলিম রাষ্ট্রগুলো হয় আমেরিকা, নয়তো চীনের পা-ধরে বসে আছে, বাংলাদেশও তাই।