শিতাংশু গুহ, নিউইয়র্ক, ১০ই অক্টবর ২০২৬।। দুর্গাপূজা এসে গেছে। পূঁজার লেখা নিয়ে অনুরোধ থাকে, কি লিখবো? নিউইয়র্কে দুর্গাপূজা নিয়ে লিখে লাভ নেই, এখানে কেউ মুর্ক্তি ভাঙ্গেনা। পুলিশ প্রহরা লাগেনা। দলীয় ও পাড়ার মাস্তানদের দৌরাত্ম নেই! নারীর গায়ে কেউ হাত দেয়না। নাবালিকা অপহরন হয়না। মারামারি নাই। তবে কোন্দল আছে। একটি মন্দিরে পাল্টাপাল্টি দুই গ্রূপ একই সময়, একই জায়গায় পূজা দেয়ার ঘোষণা দিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বব্যাপী প্রতিটি পূজা মণ্ডপে ‘চিন্ময় প্রভু’র মুক্তি চাই’ ও ‘ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অজুহাতে বন্দী সকল হিন্দু’র মুক্তি চাই’, এবং ‘বাংলাদেশে হিন্দু হত্যা ও হিন্দু নির্যাতন বন্ধ হউক’ ইত্যাদি ব্যানার ও পোষ্টার থাকা উচিত।
বাংলাদেশে হিন্দুরা নির্যাতিত, অবহেলিত, নিউইয়র্কের পূজা কমিটিগুলো এগিয়ে আসতে পারেন। প্রতি পূজায় সামান্য কিছু ডলার বাঁচিয়ে দেশে অন্তত: একটি পরিবারকে সাহায্য দিয়ে রোজগারের ব্যবস্থা করে দিলে মানুষগুলো বেঁচে যায়। বিশ্বব্যাপী প্রতিটি পূজামণ্ডপ এ ব্যবস্থা নিলে বাংলাদেশে বহু হিন্দু’র কাজের ব্যবস্থা হতে পারে। নিউইয়র্কে অনেকগুলো পূজা হয়, মানুষের ঢল নামে, এটি ভাল। কিন্তু এই মানুষগুলো বা কোন সংগঠন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এলে জাতিসংঘের সামনে হিন্দু নির্যাতনের বিরুদ্ধে বা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস প্রভু’র মুক্তির দাবিতে কোন সমাবেশ করেনি। ব্যক্তিগত উদ্যোগে দু’একজন চিন্ময় প্রভু’র ছবি নিয়ে দাঁড়িয়েছেন।
বাংলাদেশে মুর্ক্তিভাঙ্গা জানান দেয় যে দুর্গাপূজা এসে গেছে। বিভিন্ন স্থানে ইতিমধ্যে বেশ কিছু মুর্ক্তি ভেঙ্গেছে। আচ্ছা, ধর্মীয় জিঘাংসা ব্যতিত কি মুর্ক্তি ভাঙ্গা সম্ভব? না, সম্ভব নয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে হাজার হাজার মুর্ক্তি ভেঙ্গেছে, মন্দির আক্রমন হয়েছে, বিচার হয়নি। মুর্ক্তিভাঙ্গা জায়েজ, বিচার করে সাধ্য কার? বাংলাদেশে পুলিশ প্রহরায় পূজা হয়, পুলিশ পাহারা ছাড়া পূজা কি সম্ভব? না, কেন নয়? দুর্গাপূজায় পুলিশ লাগে, ঈদের নামাজে লাগেনা। এমনকি ভারতেও হজ্বযাত্রীদের ওপর আক্রমণ হয়না, অমরনাথ মন্দিরে যাত্রীদের ওপর আক্রমন হয়, তাই সেখানে পাহারা লাগে। মমতা ব্যানার্জীর আমলে কলকাতায় মন্দিরে আক্রমণ হয়েছে।
বাংলাদেশে পূজার সময় প্রতিটি কমিটিকে কিছু অনুদান (ভিক্ষা) দেয়, তাই পূজার সংখ্যা বাড়ে। সরকার এটিকে ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’র নমুনা বলে প্রচার করে। দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নেই, কখনো ছিলোনা। যেমন দেশে গণতন্ত্র নেই, কখনো ছিলোনা। ইসলাম ও গণতন্ত্র যেমন একসাথে চলতে পারেনা, তেমনি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলে অন্যরা টিকতে পারেনা। বাংলাদেশ, পাকিস্তান বা পুরো মুসলিম বিশ্ব এর উদাহরণ। বাংলাদেশ ধীরে ধীরে কট্টর ইসলামী রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে, এবং এজন্যে দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দল, নেতানেত্রীরা দায়ী। মুসলিম রাষ্ট্রগুলো হয় আমেরিকা, নয়তো চীনের পা-ধরে বসে আছে, বাংলাদেশও তাই।


