Home Blog

বিএসপিএ জার্নালিস্ট অ্যাওয়ার্ড: পুরস্কার জিতলেন সমকালের সঞ্জয়

০

বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশন (বিএসপিএ) আয়োজিত ‘ম্যাক্স-বিএসপিএ জার্নালিস্ট অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’-এ পুরস্কার জিতলেন দৈনিক সমকালের ক্রীড়া সম্পাদক সঞ্জয় সাহা পিয়াল। শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত স্পোর্টস জার্নালিস্ট অ্যাওয়ার্ডে ফিচার (প্রিন্ট ও অনলাইন) বিভাগে (রনজিৎ বিশ্বাস ট্রফি) দ্বিতীয় রানার আপ হয়েছেন তিনি। এই বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন কালের কন্ঠের শাহজাহান কবীর। প্রথম রানার আপ হয়েছেন ডেইলি স্টারের আসফাক-উল-আলম আলম।

এছাড়া বর্ষসেরা ক্রীড়া সাংবাদিকের পুরস্কার জিতেছেন দৈনিক আগামীর সময়ের রাহেনুর ইসলাম। বরাবরের মতো স্বাধীন বিচারক প্যানেলের মার্কিংয়ে সর্বোচ্চ নাম্বার পেয়ে তওফিক আজিজ খান ট্রফি এবং ১ লক্ষ টাকার চেক জিতে নেন রাহেনুর। রানার-আপ হয়েছেন প্রথম আলো’র ক্রীড়া সম্পাদক তারেক মাহমুদ ও ঢাকা পোস্ট ডটকমের সিনিয়র রিপোর্টার আরাফাত জোবায়ের।

BSPA 1792866814

বিএসপিএ সভাপতি রেজওয়ান উজ জামান-এর সভাপতিত্বে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ম্যাক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ সাঁতার ফেডারেশনের সিনিয়র সহ- সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোহাম্মদ আলমগীর। ম্যাক্স গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতায় বিএসপিএ টানা ১১তম বারের মতো আয়োজন করেছে ক্রীড়া সাংবাদিকদের এই স্বীকৃতি প্রদান অনুষ্ঠান।

এবারও আটটি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেয়া হয়েছে। ২০২৫ সালে এক্সক্লুসিভ রিপোর্ট বিভাগে সেরা হয়ে বদি-উজ- জামান ট্রফি জিতেছেন সময় টিভির সিনিয়র রিপোর্টার এস এম ইকবাল কাউসার। রানার্স-আপ হয়েছেন তিনজন- দৈনিক প্রথম আলো’র তারেক মাহমুদ, দ্য রিয়াসাদ আজিম- এর রিয়াসাদ আজিম ও দৈনিক প্রথম আলো’র জহির উদ্দিন। ইন্টারভিউ (প্রিন্ট ও অনলাইন) বিভাগে সেরা হয়ে আতাউল হক মল্লিক ট্রফি জিতেছেন রাহেনুর ইসলাম। এই বিভাগে দুই রানার্স- আপ হয়েছেন দৈনিক প্রথম আলো’র তারেক মাহমুদ ও বাংলাট্রিবিউন ডট কম- এর তানজীম আহমেদ। ইন্টারভিউ (টিভি) বিভাগে সেরা হয়েছেন নিউজ টোয়েন্টি ফোর- এর শুভ দেবনাথ। এই বিভাগে দুই রানার্স- আপ যমুনা টেলিভিশনের মেহেদী হাসান নাঈম ও টি স্পোর্টস- এর মৌসুমী মৌ।

সিরিজ রিপোর্ট বিভাগে সেরা হয়ে আব্দুল হামিদ ট্রফি জিতে নিয়েছেন ঢাকা পোস্ট ডট কম- এর আরাফাত জোবায়ের। এই বিভাগের দুই রানার্স-আপ দৈনিক আগামীর সময়ের রাহেনুর ইসলাম ও টি স্পোর্টস- এর রুবেল রেহান। ফিচার (প্রিন্ট ও অনলাইন) বিভাগে সেরা হয়ে রণজিৎ বিশ্বাস ট্রফি জিতেছেন দৈনিক কালের কণ্ঠের শাহজাহান কবীর। এই বিভাগে দুই রানার্স-আপ দৈনিক সমকালের সঞ্জয় সাহা পিয়াল ও দ্য ডেইলি স্টার- এর আশফাক উল আলম। ডকুমেন্টরি (টিভি) বিভাগে সেরা হয়ে রণজিৎ বিশ্বাস ট্রফি জিতেছেন এখন টিভি’র এসকে শাওন। এই বিভাগে দুই রানার্স- আপ শরীফ এখন টিভি’র রওশন ও টি স্পোর্টস- এর রাহুল রায়। ফটোগ্রাফি বিভাগে সেরা হয়ে বদরুল হুদা চৌধুরী ট্রফি জিতেছেন প্রথম আলো’র শামসুল হক টেংকু। এই বিভাগে দুই রানার্স- আপ ডেইলি স্টার- এর ফিরোজ আহমেদ ও দৈনিক আগামীর সময়ের মোশারফ হোসেন।

এই অনুষ্ঠানে বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবস উপলক্ষে সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক জনাব মোস্তফা কামাল ও সিনিয়র ক্রীড়ালেখক জনাব মেজর (অব.) শাহাবউদ্দিন চাকলাদারকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়।

হঠাৎ ব্যাটিং কোচের পদ থেকে আশরাফুলকে সরাল বিসিবি

০

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শুরুর আগমুহূর্তে জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব থেকে মোহাম্মদ আশরাফুলকে সরিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তার পরিবর্তে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যাটিং কোচ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বিসিবির হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) ইউনিটের প্রধান কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন।

শনিবার এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিসিবি। বোর্ড জানিয়েছে, আশরাফুলকে ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে অন্য একটি পদে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন স্থায়ী ব্যাটিং কোচ নিয়োগ না দেওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব সামলাবেন সালাহউদ্দিন।

২০২৫ সালের নভেম্বরে জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন সাবেক অধিনায়ক আশরাফুল। বাংলাদেশ দলের সঙ্গে কাজ করার জন্য তাকে ধন্যবাদও জানিয়েছে বিসিবি।

আগামী বুধবার শুরু হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের টেস্ট সিরিজ। এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশের ব্যাটিং ছিল হতাশাজনক। দুই ম্যাচেই দুইশ রানের আগেই অলআউট হয় দল। সেই ব্যর্থতার পরই ব্যাটিং কোচের দায়িত্বে এই পরিবর্তন এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আশরাফুলকে সরানোর নির্দিষ্ট কারণ বিবৃতিতে উল্লেখ করেনি বিসিবি।

চুক্তিতে না এলে রোববারই ইরানে হামলা হতে পারে: ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে সমঝোতা না হলে রোববারই দেশটিতে সামরিক হামলার সিদ্ধান্ত নিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে হামলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করেননি তিনি।

শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে হয়তো ‘কাজটি সম্পন্ন’ করতে হবে। তবে ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর সুযোগও রয়েছে। তেহরান চুক্তিতে রাজি হলে নতুন করে হামলা এড়ানো সম্ভব।

ট্রাম্পের দাবি, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করতে চায়। তবে আলোচনার কথা বলার পাশাপাশি সামরিক হামলার হুঁশিয়ারি দিয়ে তেহরানের ওপর চাপ বাড়াচ্ছেন। হামলার পরিকল্পনা আগেভাগে জানানো হবে কি না, সে বিষয়ে প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ইরানের পরমাণু অস্ত্র তৈরি ঠেকানো নিজের অন্যতম লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প। বি-২ বোমারু বিমান ব্যবহার করেও সেই লক্ষ্য পুরোপুরি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তাই বিষয়টি স্থায়ীভাবে সমাধান করতে চান তিনি। তবে ইরানের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাননি।

এদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছেন। আমেরিকানদের ‘কাপুরুষ’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, তারা ‘সবকিছু এলোমেলো করে দিয়েছে’। তবে তেহরানের উচিত চুক্তিতে পৌঁছানোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।

এ ছাড়া, যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় এখন হরমুজ প্রণালি দিয়ে বেশি তেল পরিবহন হচ্ছে বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো পরিসংখ্যান দেননি। সংঘাত নিরসনে আরও সামরিক পদক্ষেপ নিতে হতে পারে, আবার দুই পক্ষের মধ্যে চুক্তিও হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যেকোনো পরিস্থিতিতেই যুক্তরাষ্ট্র জয়ী হবে।

অন্যদিকে, সৌদি আরব জানিয়েছে, হুথিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ মক্কা ও জেদ্দায় পড়েছে। ইয়েমেনের সরকার জানিয়েছে, ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী এডেন শহরেও হামলা চালিয়েছে।

ইয়েমেনের একাধিক শহরে সৌদির বিমান হামলা, তিনজন নিহত

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা রাজধানী সানায় গতকাল শনিবার বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি বাহিনী। এতে অন্তত তিনজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে হুতিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম আল-মাসিরা জানিয়েছে। একই দিনে ইয়েমেনের মোখা শহর ও এর আশপাশে প্রায় ২০টি বিমান হামলার খবরও প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যমটি।

আল-মাসিরার প্রতিবেদনে এসব হামলাকে ‘সৌদি শত্রুর বিমান হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, রাজধানী সানার পশ্চিমাঞ্চলীয় আসর এলাকায় একটি বাড়িতে হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত তিনজন নিহত হন। আহত হন আরও কয়েকজন। হতাহতের এই সংখ্যা প্রাথমিক হিসাব বলেও জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।

সানা গভর্নরেটের একটি সিমেন্ট কারখানায় পৃথক হামলার ঘটনাও জানিয়েছে আল-মাসিরা। ওই হামলায় বেশ কয়েকজন নিহত ও আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে হতাহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানানো হয়নি। এর আগে সৌদি নেতৃত্বাধীন ইয়েমেনবিষয়ক সামরিক জোট জানিয়েছিল, হুতিদের ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর তায়েফ ও ইয়ানবুর দিকে ক্ষেপণাস্ত্র দুটি ছোড়া হয়েছিল বলে জানায় জোটটি।

এদিকে শনিবার সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের চারটি এলাকায় সম্ভাব্য বিপদের সতর্কতা জারি করে। এসব এলাকার মধ্যে তায়েফ, ইয়ানবু, মক্কা ও জেদ্দা রয়েছে। সতর্কতা জারির কয়েক মিনিটের মধ্যেই অবশ্য তা প্রত্যাহার করা হয়। সতর্কবার্তায় বাসিন্দাদের নিকটতম নিরাপদ স্থানে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার কার্যক্রম-সংক্রান্ত ছবি বা তথ্য প্রকাশ না করার বিষয়ে আইনি সতর্কতাও পুনর্ব্যক্ত করে সংস্থাটি।

তৎপরতা বন্ধে চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি
তুরস্ক, মিসর, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে হুতি বাহিনীর সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি ও উত্তেজনা সৃষ্টির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তুরস্কের ইস্তাম্বুলে চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক শেষে এক যৌথ বিবৃতিতে এ নিন্দা জানানো হয়।

বিবৃতিতে সৌদি আরবের ভূখণ্ডে বেসামরিক নাগরিক ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হুতি সশস্ত্র গোষ্ঠীর ধারাবাহিক হামলার সমালোচনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলারও নিন্দা জানিয়েছেন তারা।

চার দেশের প্রতিনিধিরা বলেন, হুতিদের এসব কর্মকাণ্ড লোহিত সাগরের নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি তৈরি করছে এবং মানবিক সংকটকে আরও গভীর করে তুলছে। বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সৌদি আরবের সরকার ও ইয়েমেনের সরকারের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে হুতি বাহিনীকে অবিলম্বে সব ধরনের শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করে শান্তি আলোচনার পথে ফিরে আসার আহ্বান জানান তারা। সামুদ্রিক নিরাপত্তার পাশাপাশি চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিতিশীলতার জন্য ইসরায়েলের দখলদারিত্বমূলক নীতিকে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

রিয়াদমুখী ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি 
গতকাল শনিবার সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট আরও জানিয়েছে, ইরানের সমর্থনপুষ্ট হুতিরা রিয়াদ লক্ষ্য করে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সেটি প্রতিহত করেছে বলে দাবি করেছে জোটটি। সৌদি রাজধানী রিয়াদে শনিবার ভোরে দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় বলে জানিয়েছেন বার্তা সংস্থা এএফপির একজন সাংবাদিক। এ সময় সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে বাসিন্দাদের সতর্ক করতে আগাম সতর্কতা ব্যবস্থাও সক্রিয় করা হয়েছিল বলে জানায় সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, হুতিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয়েছে।

শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা আজ

শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা আজ রোববার। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব। এটি আশ্বিনী পূর্ণিমা নামেও পরিচিত। দেশের বৌদ্ধরা নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করবেন।

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের মতে, এই পুণ্যময় পূর্ণিমা তিথিতে মহামানব তথাগত গৌতম বুদ্ধ তাবতিংস স্বর্গে মাতৃদেবীকে অভিধর্ম দেশনার পর ভারতের সাংকাশ্য নগরে অবতরণ করেন। এ দিনেই মানবজাতির সুখ, শান্তি ও কল্যাণে দিকে দিকে স্বধর্ম প্রচারের জন্য তাঁর ভিক্ষু সংঘকে নির্দেশ দেন তিনি। একই দিনে তাঁর তিন মাসের বর্ষাবাসের পরিসমাপ্তিও ঘটে।

পূজনীয় ভিক্ষু সংঘের ত্রৈমাসিক বর্ষাব্রত শেষে আসে এই প্রবারণা তিথি, অর্থাৎ বৌদ্ধ ভিক্ষুদের তিন মাসের বর্ষাবাস সমাপনীতে প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপন করেন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা। এই পূর্ণিমা উদযাপনের মাধ্যমে বৌদ্ধভিক্ষু ও গৃহীদের পাপমোচন হয় বলে তাদের বিশ্বাস। এই দিনে বুদ্ধপূজা, সংঘদান, পিণ্ডদান, অষ্টপরিষ্কার দান, পঞ্চশীল প্রার্থনা, শীল গ্রহণ, প্রদীপ পূজা এবং ফানুস ওড়ানোর মতো নানা আচার পালন

করা হয়। প্রবারণা হলো আত্মশুদ্ধি ও অশুভকে বর্জন করে সত্য ও সুন্দরকে বরণের অনুষ্ঠান। প্রবারণা পূর্ণিমার পরদিন থেকে এক মাস ধরে দেশের বিভিন্ন বৌদ্ধবিহারে শুরু হয় শুভ কঠিন চীবর দান উৎসব।

বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ভিক্ষু সুনন্দপ্রিয় সমকালকে বলেন, আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনের পূর্ণিমা পর্যন্ত তিন মাস ভিক্ষুরা উপবাস থাকেন। এ সময়কে বলা হয় বর্ষাবাস। এই তিন মাস রোববার (আজ) শেষ হচ্ছে। এদিন তারা প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপন করেন। প্রবারণা হচ্ছে খারাপ কাজকে বারণ করা এবং ভালো কাজকে বরণ করে নেওয়া।

প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে আজ বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট ফেডারেশন রাজধানীর মেরুল বাড্ডার আন্তর্জাতিক বৌদ্ধবিহারে দিনভর অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে।

অনুষ্ঠানমালায় রয়েছে ভোর সাড়ে ৫টায় সমবেত প্রভাতি বন্দনা, সকাল সাড়ে ৬টায় জাতীয় ও ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন, ৭টা ১০ মিনিটে ভিক্ষুসংঘের প্রাতঃরাশ, সাড়ে ৯টায় বুদ্ধপূজা, শীল গ্রহণ, অষ্টোপকরণসহ মহাসংঘদান, বেলা ১১টা ১ মিনিটে ভিক্ষুসংঘের পিণ্ডদান, ১১টা ৫ মিনিটে অতিথিদের মধ্যাহ্নভোজন, বিকেল ৪টা ১ মিনিটে পবিত্র ত্রিপিটক থেকে সূত্রপাঠ, ৪টা ২০ মিনিটে আলোচনা সভা, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শীলগ্রহণ, আলোকসজ্জা ও ফানুসবাতি উৎসর্গ এবং ৭টা ১ মিনিটে বর্ণাঢ্য ফানুস উৎসব।

বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘ রাজধানীর সবুজবাগ ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারে দিনভর অনুরূপ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করবে। সারাদেশের বৌদ্ধবিহারগুলোতেও রয়েছে নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠান। এ ছাড়া আগামীকাল সোমবার থেকে পরের এক মাস বিভিন্ন বৌদ্ধবিহারে চলবে কঠিন চীবর দান উৎসব।

দেশের বাজারে আরও কমল স্বর্ণের দাম

০

দেশের বাজারে আবারও কমেছে স্বর্ণের দাম। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ৩২৪ টাকা কমেছে। ফলে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হবে ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকায়। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) রবিবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন মূল্য ঘোষণা করে। নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

বাজুস জানিয়েছে, খাঁটি স্বর্ণের মূল্য হ্রাস পেয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর আগে গত ১৩, ২২ ও ২৩ অক্টোবর টানা তিন দফা স্বর্ণের দাম কমানো হয়।

নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ১৫০ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১০ হাজার ৯৪৩ টাকা। এছাড়া, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ হাজার ৬৮৩ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮১ হাজার ২০০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ১৮৬ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ১৬ টাকা।

বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, নতুন মূল্য ভ্যাটসহ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অলংকারের ডিজাইন ও কারুকাজভেদে মজুরি আলাদাভাবে যুক্ত হবে।

স্বর্ণের দাম কমানো হলেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ১৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৩৯১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বড় অঙ্কের মুনাফা করেছে ভারতের আদানি পাওয়ার

০

ভারতের বেসরকারি খাতের বৃহত্তম তাপবিদ্যুৎ উৎপাদক আদানি পাওয়ার লিমিটেডের (এপিএল) সে দেশের চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০২৬) কর-পরবর্তী মুনাফা বেড়েছে ১৪১ শতাংশ। এ সময়ে কোম্পানিটির মুনাফা হয়েছে ৯ হাজার ১২৫ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল তিন হাজার ৭৭৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা ।
বাংলাদেশ আদানি পাওয়ারের বিদ্যুতের অন্যতম ক্রেতা। কোম্পানিটি গড়ে ১২শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশকে সরবরাহ করে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশে তাদের নিযুক্ত জনসংযোগ প্রতিষ্ঠান গতকাল শনিবার মুনাফার তথ্য দিয়েছে।

কোম্পানির প্রকাশিত আর্থিক ফলাফল অনুযায়ী, দ্বিতীয় প্রান্তিকে চলমান কার্যক্রম থেকে পরিচালন আয় প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়ে ২২ হাজার ১১৮ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে আয় ছিল ১৭ হাজার ৩৮ কোটি টাকা।
আদানি পাওয়ার জানিয়েছে, বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির আওতায় বিক্রি বাড়া এবং উন্নত ট্যারিফ ও বাণিজ্যিক বাজারে ভালো মূল্যপ্রাপ্তি মুনাফা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (এপ্রিল-সেপ্টেম্বর) কোম্পানির কর-পরবর্তী মুনাফা ৯১ শতাংশ বেড়ে ১৫ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা হয়েছে।
আদানি পাওয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস বি খ্যালিয়া বলেন, ভারতের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে নির্ভরযোগ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং ২০৩২ সালের মধ্যে নতুন ১০০ গিগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ সক্ষমতা সংযোজনের জাতীয় লক্ষ্যে অবদান রাখাই কোম্পানির অগ্রাধিকার।

স্থানীয় নির্বাচনে জোট করতে শরিকদের চাপে জামায়াত জোট না হলে ১১ দল ভাঙতে পারে

০

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের কৌশল নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। জামায়াত এককভাবে নির্বাচন করতে চায়, কিন্তু জোটের কয়েকটি শরিক দল চায় জোটবদ্ধভাবে অংশ নিতে। এ নিয়ে সমঝোতা না হলে শরিকদের কেউ কেউ বিকল্প জোটে নির্বাচনের কথা ভাবছে। তাতে ১১ দলীয় ঐক্যে ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জোটের কয়েকটি শরিক দলের যুক্তি, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসন সমঝোতা এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আন্দোলনে একসঙ্গে থাকার পর স্থানীয় নির্বাচনে সমন্বয় করা না হলে ঐক্যের রাজনৈতিক গুরুত্ব কমে যাবে।

জামায়াত ও শরিক দলগুলোর একাধিক নেতা সমকালকে এসব তথ্য জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, স্থানীয় নির্বাচনে জোটের প্রশ্নটি শুধু প্রার্থী সমন্বয়ের নয়; এর সঙ্গে শরিক দলগুলোর রাজনৈতিক গুরুত্ব, সাংগঠনিক বিস্তার এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনী অবস্থানও জড়িত।

এমন পরিস্থিতির মধ্যে হেফাজতে ইসলামের উদ্যোগে কওমি ধারার সাতটি রাজনৈতিক দল ‘সমমনা ইসলামী দলসমূহ’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি রয়েছে। তবে নতুন প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হওয়া দলগুলো পুরোনো জোট ছাড়বে কিনা, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। কোনো কোনো দল দুই প্ল্যাটফর্মেই থাকার পক্ষে।

গত ২২ অক্টোবর হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব সাজিদুর রহমানের সভাপতিত্বে সাত দলের বৈঠকে নতুন প্ল্যাটফর্মের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। এতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন রয়েছে। দলগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে ২১ সদস্যের একটি লিয়াজোঁ কমিটিও গঠন করা হয়েছে। আগামী ৫ ডিসেম্বর পরবর্তী বৈঠকে প্ল্যাটফর্মের কাঠামো ও কর্মপন্থা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিন সমকালকে বলেছেন, কওমি ধারার সাতটি দল স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা করছে। তবে ১১ দলীয় ঐক্য ছাড়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি।

কেন একক নির্বাচন চায় জামায়াত
জামায়াতের নেতাদের বক্তব্য, স্থানীয় সরকার নির্বাচন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো নয়। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনে বিপুলসংখ্যক পদে প্রার্থী বাছাই এবং সমঝোতা করা কঠিন। তা ছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে প্রার্থীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, সাংগঠনিক শক্তি ও আঞ্চলিক হিসাব গুরুত্বপূর্ণ। তাই কেন্দ্রীয়ভাবে আসন ভাগাভাগি না করে স্থানীয় নেতৃত্বের ভিত্তিতে নির্বাচন করতে চায় দলটি।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ সমকালকে বলেছেন, স্থানীয় নির্বাচনে কেন্দ্রীয়ভাবে জোট করার সিদ্ধান্ত নেই। তবে কোনো জেলা, উপজেলা বা এলাকায় শরিক দলগুলো নিজেরা আলোচনা করে একক প্রার্থী ঠিক করলে কেন্দ্র থেকে বাধা দেওয়া হবে না।

জামায়াত নেতারা আরও বলছেন, অতীতে বিএনপির সঙ্গে জোটে থাকার সময়ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কেন্দ্রীয়ভাবে আসন ভাগাভাগি হয়নি। ২০১৪ সালের উপজেলা ও ২০১৫ সালের পৌরসভা নির্বাচনে কোথাও বিএনপি জামায়াতকে, কোথাও জামায়াত বিএনপিকে ছাড় দিয়েছিল। সেসব সমঝোতা হয়েছিল স্থানীয় পর্যায়ে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলটির একজন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরিকদের আসন ছেড়ে দিতে গিয়ে জামায়াতের কয়েকটি আসনে সম্ভাবনাময় প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া যায়নি। অন্তত তিনটি আসনে স্থানীয় নেতারা কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন। তাঁর মতে, স্থানীয় নির্বাচনে আবারও শরিকদের জন্য ছাড় দিতে গেলে দলের সাংগঠনিক অসন্তোষ বাড়তে পারে। যেসব নেতাকর্মী দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের সুযোগ দিতে চায় জামায়াত।

দলটির এই অবস্থানের পেছনে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি যাচাইয়ের হিসাবও রয়েছে। জাতীয় নির্বাচনে জোটের আসন সমঝোতার কারণে কোন এলাকায় জামায়াতের প্রকৃত জনসমর্থন কতটা, তা নির্ণয়ের সুযোগ সীমিত ছিল। স্থানীয় নির্বাচনে এককভাবে অংশ নিলে সেই চিত্র স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন নেতারা।

শরিকদের অসন্তোষ কেন
১১ দলীয় ঐক্যের কয়েকটি শরিক দলের নেতারা মনে করছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরও তারা জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে জামায়াতের সঙ্গে আন্দোলন করছেন। অথচ স্থানীয় নির্বাচনে জোটগত সমঝোতা না হলে তাদের সাংগঠনিক ও নির্বাচনী লাভের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়বে।

একাধিক শরিক দলের নেতার বক্তব্য, জাতীয় নির্বাচনে যেসব আসনে তাদের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, স্থানীয় নির্বাচনেও সেসব এলাকায় দলীয় প্রার্থীদের সমর্থন পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এতে তৃণমূলে দলগুলোর ভিত্তি তৈরি হবে এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনে দর-কষাকষির ক্ষমতা বাড়বে। জামায়াত এককভাবে নির্বাচন করলে শরিকদের জন্য সেই সুযোগ থাকবে কি না, তা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।

শরিকদের একাংশের অসন্তোষের পেছনে আদর্শিক ও রাজনৈতিক দূরত্বও রয়েছে। কওমি ধারার দলগুলোর সঙ্গে জামায়াতের মতাদর্শগত পার্থক্য দীর্ঘদিনের। এর পরও জাতীয় নির্বাচনে আসন সমঝোতা এবং পরবর্তী রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তারা একসঙ্গে ছিল। শরিক নেতাদের কেউ কেউ মনে করেন, এই সহযোগিতার সুফল জামায়াত তুলনামূলকভাবে বেশি পাচ্ছে।

তবে সব শরিক দল যে বিকল্প জোটে যেতে চায়, তা নয়। বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান সমকালকে বলেছেন, স্থানীয় নির্বাচনে তাদের সঙ্গে জামায়াতের সমন্বয় রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা ও পৌরসভায় লেবার পার্টির ভালো প্রার্থী থাকলে স্থানীয় জামায়াতের সঙ্গে আলোচনা করে সমঝোতা করা হবে।

হেফাজতের উদ্যোগে বিকল্প মেরূকরণ
জামায়াতের সঙ্গে স্থানীয় নির্বাচনে সমঝোতা না হলে কওমি ধারার দলগুলো নিজেদের মধ্যে নির্বাচনী বোঝাপড়া গড়ে তুলতে পারে। হেফাজতে ইসলামের উদ্যোগে সাত দলের নতুন প্ল্যাটফর্ম সেই সম্ভাবনা সামনে এনেছে।

জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা সাইয়েদ আবুল আলা মওদুদীর মতবাদের বিরোধিতা কওমি ধারার ধর্মীয় পরিমণ্ডলে দীর্ঘদিনের। ফলে হেফাজতের মধ্যস্থতায় দেওবন্দি আদর্শের অনুসারী দলগুলোর এক মঞ্চে আসাকে শুধু নির্বাচনী কৌশল হিসেবে দেখছেন না সংশ্লিষ্ট নেতারা; এর সঙ্গে আদর্শিক বলয়ের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়ও জড়িত।

তবে নতুন প্ল্যাটফর্মের দলগুলোর রাজনৈতিক অবস্থান এক নয়। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও নেজামে ইসলাম পার্টি জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যে রয়েছে। অন্যদিকে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বিএনপির সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতায় রয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতায় যায়নি। ফলে সাত দলের অভিন্ন নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণে পুরোনো রাজনৈতিক সম্পর্ক বড় বিবেচনা হয়ে উঠতে পারে।

জামায়াত নেতারা অবশ্য এ উদ্যোগকে সন্দেহের চোখে দেখছেন। তাদের কারও কারও ধারণা, স্থানীয় নির্বাচনে ইসলামপন্থি ভোট ভাগ করতেই বিএনপির স্বার্থে বিকল্প মেরূকরণ তৈরি করা হচ্ছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই।

এনসিপির অবস্থান
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এককভাবে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেবে বলে জানিয়েছে। নেতারা জানান, শতাধিক উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনে সমর্থিত প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে ইউনিয়ন পর্যায়ে যোগ্য প্রার্থীর সংকট রয়েছে। নির্বাচনের পরিবেশ ও প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর কৌশল বিবেচনায় ভবিষ্যতে কিছু স্তরে সমঝোতার প্রয়োজন হতে পারে।

এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন সমকালকে বলেন, দলের সমর্থিত প্রার্থীরা এককভাবে নির্বাচন করবেন। সিটি করপোরেশনের প্রার্থিতা ঘোষণা করা হয়েছে এবং ইউনিয়ন পরিষদের প্রার্থী বাছাই চলছে।

এনসিপি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে এবং উত্তরে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে প্রার্থী করার ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণে জামায়াতের প্রার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি আবু সাদিক কায়েম। উত্তরে ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।

এ দুই দলের আলাদা প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত স্থানীয় নির্বাচনে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে নির্বাচন যত এগোবে, রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও স্থানীয় হিসাব অনুযায়ী সমঝোতার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

জামায়াত শেষমেশ কী করবে
স্থানীয় নির্বাচনে এককভাবে এগোনোর বিষয়ে জামায়াতের চূড়ান্ত কৌশল নির্ধারণে বিএনপি সরকারের অধীনে নির্বাচনের পরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। দলটির নেতারা বলছেন, নির্বাচন কতটা অবাধ ও নিরপেক্ষ হয়, তা দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করা হবে। তাদের মতে, নির্বাচনে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে বিরোধী দলগুলোর সমন্বিত অবস্থানের প্রয়োজন বাড়তে পারে।

জামায়াত নেতারা ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ২৯ অক্টোবরের উপনির্বাচনকে এ ক্ষেত্রে পর্যবেক্ষণ করছেন। তাদের মূল্যায়নে নির্বাচন সুষ্ঠু হলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তে এগোনো সহজ হবে। অন্যদিকে অনিয়ম বা পক্ষপাতের অভিযোগ উঠলে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা নতুন করে বিবেচনায় আসতে পারে।

তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সর্বস্তরে একই কৌশল কার্যকর হবে কিনা, তা নিয়ে জামায়াতের মধ্যেও আলোচনা রয়েছে। দলটি সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই করে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে। ফলে কেন্দ্রীয়ভাবে জোট না করার সিদ্ধান্তের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে সমঝোতার সুযোগ খোলা রাখছে তারা।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের লক্ষ্মীপূজা আজ

লক্ষ্মীপূজা আজ রোববার। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা আজ নানা আয়োজনে এই উৎসব উদযাপন করবেন। শারদীয় দুর্গোৎসব শেষ হওয়ার পরবর্তী পূর্ণিমা তিথিতে লক্ষ্মীপূজা উদযাপিত হয়। হিন্দুদের ঘরে ঘরে লক্ষ্মী ধন-সম্পদ বা ঐশ্বর্যের দেবী হিসেবে পূজিত হন। এ ছাড়া উন্নতি, আলো, জ্ঞান, সৌভাগ্য, দানশীলতা, সাহস এবং সৌন্দর্যের দেবীও তিনি।

লক্ষ্মী দেবী দ্বিভুজা এবং তাঁর বাহন পেঁচা। তাঁর হাতে থাকে শস্যের ভান্ডার। তবে বাংলার বাইরে লক্ষ্মীর চতুর্ভুজা কমলে-কামিনী মূর্তি বেশি দেখা যায়। লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে হিন্দু নারীরা উপবাস ব্রত পালন করেন। এই পূজায় প্রয়োজন হয় ধানের শীষ, কাঁচা সুপারি, কলাপাতা, কলাগাছের খোলসহ নানা সামগ্রী। মঙ্গলঘট ও ধানের ছড়ার সঙ্গে গৃহস্থের আঙিনায় আজ শোভা পাবে চালের গুঁড়োর আলপনায় মা লক্ষ্মীর ছাপ। বহু বাড়ির প্রবেশপথেও মা লক্ষ্মীর পা আঁকা হবে।

হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম এই ধর্মীয় উৎসব কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা নামেও পরিচিত। কোজাগরী অর্থ ‘কে জেগে আছো’। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাসমতে, বছরের সবচেয়ে উজ্জ্বল রাত আশ্বিনের পূর্ণিমা তিথিতে ধনসম্পদ, প্রাচুর্য, সৌন্দর্য ও সমৃদ্ধির দেবী লক্ষ্মী বিষ্ণুলোক থেকে পৃথিবীতে নেমে আসেন পূজা গ্রহণ করতে। লক্ষ্মী দেবী সন্তুষ্ট থাকলে সংসারে অর্থকষ্ট থাকবে না এবং সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বাড়বে। মানুষের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে দেবী ‘কে জেগে আছো’– প্রশ্ন করেন। তাই লক্ষ্মীপূজা ভক্তদের কাছে কোজাগরী পূজাও।

লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে সারাদেশের বিভিন্ন মন্দির ও মণ্ডপের পাশাপাশি হিন্দুদের ঘরে ঘরে আজ পূর্ণিমা তিথিতে পূজার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। বেলা ১১টা ৫৫ মিনিট থেকে এই পূর্ণিমা তিথি শুরু হয়ে আগামীকাল সকাল ৯টা ৪১ মিনিটে শেষ হবে। পূজা শেষে অঞ্জলি ও প্রসাদ বিতরণ করা হবে।

রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ মন্দির, রামসীতা মন্দির, পঞ্চানন্দ শিবমন্দির, গৌতম মন্দির, রাধামাধব বিগ্রহ মন্দির এবং পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজার, সূত্রাপুর, ফরাশগঞ্জ, লক্ষ্মীবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় লক্ষ্মীপূজার অনুষ্ঠান হবে।

এইচএসসির ফল প্রকাশিত হবে বৃহস্পতিবার

এ বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামী বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর প্রকাশিত হবে। আজ শনিবার রাতে আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের আহ্বায়ক ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আখতারুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়। এর আগে ২৫ থেকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে ফল প্রকাশের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছিল শিক্ষা বোর্ডগুলো। এর মধ্যে ২৯ অক্টোবর ফল প্রকাশের জন্য চূড়ান্ত করেছে সরকার।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র সমকালকে বলেন, সাধারণত বৃহস্পতিবার ফল প্রকাশ করা হয়। ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার। এদিন ফল প্রকাশিত হবে।

জানতে চাইলে অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান সমকালকে বলেন, তাঁরা ২৫ থেকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে ফল প্রকাশের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন। সরকার ফল প্রকাশের জন্য ২৯ শে অক্টোবর দিনটি চূড়ান্ত করেছে।

এ বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছিল গত ২ জুলাই। এবার নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন। অবশ্য পরীক্ষায় বেশ কিছুসংখ্যক পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন।