Home Blog

২০০ কোটি ডলারের সার্বভৌম তহবিল গঠনের প্রস্তাব

অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ডিজিটাল অবকাঠামোসহ বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক খাতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ আকর্ষণে কোরিয়া ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশনের (কেআইসি) সঙ্গে আলোচনা করেছে দক্ষিণ কোরিয়া সফররত বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল। ১০০ থেকে ২০০ কোটি ডলারের একটি সার্বভৌম তহবিলকে বিনিয়োগের সম্ভাব্য মাধ্যম হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে আলোচনায়। এ ছাড়া কোরিয়ার ফান্ড ম্যানেজারদের মাধ্যমে কেআইসির বিনিয়োগের পাশাপাশি কোরিয়া এক্সিম ব্যাংকের অর্থায়ন পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়া সফর করছে। প্রতিনিধি দলটি গত মঙ্গলবার কোরিয়ার সরকারি প্রতিষ্ঠান, আর্থিক সংস্থা, শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে। গতকাল বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের পুঁজি কীভাবে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে আনা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করেন দুইপক্ষ। কেআইসির ইকুইটি বিনিয়োগের সঙ্গে কোরিয়া এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংকের (কেএক্সিম) অর্থায়ন যুক্ত করার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হয়। কোরীয় ফান্ড ম্যানেজারদের মাধ্যমে এ ধরনের বিনিয়োগের বিষয়টি আলোচনায় আসে।
উল্লেখ্য, সার্বভৌম সম্পদ তহবিল হলো সরকারের মালিকানাধীন বিশেষ বিনিয়োগ তহবিল। দেশের আর্থিক সম্পদ থেকে দীর্ঘমেয়াদে মুনাফা অর্জন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সম্পদ সংরক্ষণের লক্ষ্যে এ তহবিলের অর্থ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করা হয়। বাংলাদেশ ২০১৭ সালে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবহার করে এ ধরনের তহবিল গঠনের পরিকল্পনা নিয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে তা বাতিল করা হয়।

কোরিয়া এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হোয়াং কিয়নের সঙ্গে বৈঠকে ২০২৩-২০২৭ মেয়াদের ৩০০ কোটি ডলারের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহযোগিতা তহবিলের (ইডিসিএফ) ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি পর্যালোচনা করেছে দুইপক্ষ। এ কাঠামোর আওতায় কয়েকটি অগ্রাধিকার প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকা এমআরটি লাইন-৫-এর দক্ষিণ রুট, মতলব উত্তর-গজারিয়া সেতু এবং ২৬০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী রেলকোচ সংগ্রহ।

ইডিসিএফের অবশিষ্ট অর্থ ব্যবহারে বাংলাদেশ একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা প্রস্তাব করেছে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল রূপান্তর, স্মার্ট অবকাঠামো ও সরবরাহব্যবস্থার মতো নতুন খাতে অর্থায়নের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। কেএক্সিম জানিয়েছে, ইডিসিএফের অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কোরীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রকল্প প্রস্তাবগুলো বিবেচনা করা হবে।
কোরিয়ার অর্থ ও অর্থনীতি মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় ভাইস মিনিস্টার চ্যাং হুহর সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত ও কৌশলগত পর্যায়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশ বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উন্নত উৎপাদন, জ্বালানি, জাহাজ নির্মাণ ও ডিজিটাল প্রযুক্তিতে সহযোগিতার সম্ভাবনা তুলে ধরে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তায় ইন্টিগ্রেটেড গ্রোথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইজিএনডি) উদ্যোগের মাস্টারপ্ল্যান তৈরিতে কোরিয়ার কারিগরি সহায়তার বিষয়টিও স্বাগত জানানো হয়। এ উদ্যোগের অর্থায়ন ও বাস্তবায়নে আরও বিস্তৃত অংশগ্রহণের আহ্বান জানায় বাংলাদেশ
এআই সহযোগিতার ক্ষেত্রেও আলোচনা হয়েছে। এলজি এআই রিসার্চের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের ভাষা ও সংস্কৃতির উপযোগী লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (এলএলএম) তৈরির বিষয়ে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, উৎপাদন ও সরকারি সেবায় এআই ব্যবহারের বিষয়টিও আলোচনায় আসে। পাশাপাশি বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এআই ও ডেটা সেন্টার হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।
কোরিয়ার বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ আকর্ষণেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠক করেছে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল। স্যামসাং সিঅ্যান্ডটির সঙ্গে অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, নগর উন্নয়ন, পর্যটন ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়। রুফটপ ও বড় পরিসরের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

আন্দোলনে অর্থায়নের অভিযোগ সাবেক মন্ত্রী, এমপিসহ ২০ ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব জব্দ হচ্ছে

মজুরি বাড়ানোর দাবিতে চলমান তৈরি পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনে অর্থায়ন ও জনবল দিয়ে সহায়তা করার গোয়েন্দা তথ্য ধরে অন্তত ২০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হচ্ছে। এরই মধ্যে সব ব্যাংকে নির্দেশনা পাঠিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এ তালিকায় দেশের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকটি শিল্প গ্রুপের মালিক, সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং রাজনৈতিক কর্মীও আছেন। এদের বেশির ভাগ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বা আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাভোগী ছিল। এদের কারও কারও ব্যাংক হিসাব ৫ আগস্টের পর দুর্নীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) একাধিাক সংস্থার মামলায় জব্দ করা হয়। কেউ কেউ কারাগারে আছেন; কেউ দেশের বাইরে। ফলে অভিযোগ বিষয়ে তাৎক্ষণিক তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

গত মঙ্গলবার এনবিআরের এক অনুষ্ঠানে সংস্থাটির চেয়ারম্যান আহসান হাবিব কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তিনি বলেছেন, বিশেষ একটি কারণে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) ও আয়কর গোয়েন্দা বিভাগ ৩৪ ব্যক্তি ও ৩৪টি পরিবারের ব্যাংক হিসাব জব্দ করছে।

রাজস্ব বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ১২টি গ্রুপের মালিক এ আন্দোলনে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড করার জন্য অর্থায়ন করছেন। এ তালিকায় রয়েছেন সিপাল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক টিপু মুনশি। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলেন।

একই অভিযোগে ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হচ্ছে বেক্সিমকো গ্রুপের মালিক সালমান এফ রহমানেরও। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শিল্প ও বেসরকারি বিনিয়োগ-বিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন।

এ ছাড়া যাদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হচ্ছে তাদের মধ্যে রয়েছেন– এনভয় গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সাবেক সংসদ সদস্য সালাম মুর্শেদী, রেনেসাঁ গ্রুপের মালিক ও সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, হামিদ গ্রুপের মালিক এবং সাবেক জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, ফেবিয়ান গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম, তুসুকা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়জুর রহমান বাদল, ওয়েল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা আবদুস ছালাম, নিপা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খসরু চৌধুরী, অ্যাক্সিস নিটওয়্যারস লিমিটেডের পরিচালক জাহিদ আহমেদ টুলু, স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম মোশাররফ হোসেন, গিভেন্সি গ্রুপের চেয়ারম্যান মাসুমা খাতুন লিপা।

এ ছাড়া মিরপুর এলাকায় আন্দোলনে অর্থ জোগান দেওয়ার অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম মান্নান কচি ও শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সহকারী জাহাঙ্গীর আলমের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও কিছু ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হচ্ছে। তারা হলেন– সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহর ভাগনে আলিফ মোল্লা, শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সহকারী জাহাঙ্গীর আলমের সহযোগী মাহবুবুর রহমান জুয়েল, স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মী কামাল গাজী ও শুভ নামে এক ব্যক্তি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অনলাইনে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। তাঁর নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫টি হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম, ফেসবুক পেজে আন্দোলনের বিভিন্ন স্থানের ভিডিও, ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করছেন প্রায় ১৫০ ব্যক্তি। এদের মধ্যে বাহাউদ্দিন নাছিমের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, পোশাক খাতের চলমান অস্থিরতার পেছনে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের ইন্ধন রয়েছে। এ কাজে কিছু শিল্প মালিকও জড়িত– সরকারের কাছে এমন তথ্য-প্রমাণ আছে।

ব্যাংক হিসাব জব্দের বিষয়ে জানতে চাইলে এনবিআরের শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এরই মধ্যে ব্যাংকগুলোকে এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দ করার জন্য ইমেইলে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

গাজীপুরে সিলিন্ডারের গ্যাস লিকেজ থেকে আগুন, দগ্ধ ৪

গাজীপুরের নাওজোড় এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার রি-টেস্টিং সেন্টারে গ্যাস লিকেজ থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে চারজন দগ্ধ হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। দগ্ধদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মহানগরের নাওজোড় এলাকায় রিয়াজ ফিলিং স্টেশনসংলগ্ন ইউনাইটেড সিলিন্ডার রি-টেস্টিং সেন্টার-২-এ এ দুর্ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট প্রায় ২০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মিডিয়া সেলের সদস্য তালহা বিন জসিম জানান, অগ্নিকাণ্ডে চারজন দগ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে- আব্দুল্লাহর(১৮) শরীরের ২০ শতাংশ, ১৯ বছর বয়সী আহাদের ৫৫ শতাংশ, ২৬ বছর বয়সী আশরাফুলের ১৫ শতাংশ এবং ২৫ বছর বয়সী নাঈমের ৪ শতাংশ পুড়ে গেছে।

তিনি আরও জানান, দগ্ধদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আব্দুল্লাহ ও আহাদকে মেডিকেল হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে (এমএইচডিইউ) রাখা হয়েছে। নাঈমকে জরুরি বিভাগে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। শরীরের ৫৫ শতাংশ পুড়ে যাওয়ায় আহাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

ভোগড়া মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. হিরণ মিয়া জানান,  রাত ৮টা ৪০ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস ভর্তি সিলিন্ডার থেকে গ্যাস লিকেজ হয়ে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। প্রথমে দুজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।

মুশফিক-তাসকিনকে ফিরিয়ে সিলেট টেস্টে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ

০

সিলেট টেস্টে টস জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। একাদশে দুটি পরিবর্তন এনেছে স্বাগতিকেরা। চোট কাটিয়ে দলে ফিরেছেন মুশফিকুর রহিম। পেসার শরীফুল ইসলামের জায়গায় একাদশে সুযোগ পেয়েছেন তাসকিন আহমেদ।

মিরপুরের মতো সিলেটেও তিন স্পিনার ও দুই পেসার নিয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। একাদশে মেহেদী হাসান মিরাজ, নাঈম হাসান ও তাইজুল ইসলামের সঙ্গে পেস আক্রমণে রয়েছেন তাসকিন ও হাসান মাহমুদ।

বাংলাদেশের একাদশ: তানজিদ হাসান, সাদমান ইসলাম, নাজমুল হোসেন, তাওহিদ হৃদয়, মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ, নাঈম হাসান, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদ।

অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের একাদশেও এসেছে দুটি পরিবর্তন। ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে টেস্ট অভিষেক হয়েছে কেভিন উইকহ্যামের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে টেস্ট খেলতে নামা ৩৪৯তম ক্রিকেটার তিনি। একাদশে ফিরেছেন উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান জশুয়া ডা সিলভাও। ক্যারিবীয়দের একাদশ থেকে বাদ পড়েছেন জন ক্যাম্পবেল ও তেজনারাইন চান্দারপল।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের একাদশ: ব্র্যান্ডন কিং, জশুয়া ডা সিলভা, কেভিন উইকহ্যাম, কাভেম হজ, জাস্টিন গ্রিভস, আমির জাঙ্গু, রস্টন চেইস, শামার জোসেফ, জেডেন সিলস, জশুয়া বিশপ ও জোমেল ওয়ারিক্যান।

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নতুন বাস্তবতার মুখে ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের ভোটাররা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে তুলে দেওয়ায় সম্পূর্ণ বদলে যাওয়া এক রাজনৈতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রতি বড় ধরনের অনাস্থা প্রকাশ করে এই রায় দিয়েছেন ভোটাররা।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন বলছে, ৮০ বছর বয়সী ট্রাম্পের জন্য এই ফলাফল ব্যক্তিগতভাবে বড় ধরনের অপমান। জ্বালানির আকাশছোঁয়া দাম এবং ইরানের সঙ্গে তাঁর ব্যয়বহুল ও দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের বিরুদ্ধে জন-অসন্তোষের জেরে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটিতেও ডেমোক্র্যাটরা বিজয়ী হয়েছেন।

সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ– কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যাওয়ার অর্থ হলো যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ট্রাম্পের একচ্ছত্র প্রভাবের অবসান ঘটেছে। এখন ডেমোক্র্যাটরা বিভিন্ন আইন প্রণয়নে বাধা দিতে পারবেন, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করতে পারবেন এবং তাঁর মনোনীত বিভিন্ন পদে নিয়োগ আটকে দিতে পারবেন।

প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের নেতা হাকিম জেফ্রিস বলেছেন, ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ বা মাগা আন্দোলন এখন পিছু হটছে। আগামী জানুয়ারিতে নতুন কংগ্রেসের অধিবেশন শুরু হলে জেফ্রিস প্রতিনিধি পরিষদের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার হওয়ার সুযোগ পাবেন।

সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি নিজে নির্বাচনে প্রার্থী হলে রিপাবলিকানরা ‘বিশাল ব্যবধানে’ জয়ী হতো। অথচ নির্বাচনী প্রচারের পুরো সময় তিনি সমর্থকদের বারবার বলেছিলেন, তারা যেন ধরে নেন তিনিও ব্যালটে রয়েছেন। ডেমোক্র্যাটদের পাস করা বিলে প্রেসিডেন্টের ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগের হুমকিও পুনর্ব্যক্ত করেছেন ট্রাম্প। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লাল রঙের একটি বেসবল ক্যাপের ছবি পোস্ট করেন, যাতে শুধু ‘ভেটো’ শব্দটি লেখা ছিল। তবে নতুন কংগ্রেসের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

একক কৃতিত্ব নেই 

মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ব্যবধানে এই জয়ের কৃতিত্ব ডেমোক্রেটিক পার্টির কোনো একটি নির্দিষ্ট অংশ এককভাবে দাবি করতে পারবে না। বরং দলের সব অংশই এই জয়ের কৃতিত্বের দাবিদার। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদন বলছে, ৪৩৫ আসনের প্রতিনিধি পরিষদে ২২৮ আসনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা। অন্যদিকে রিপাবলিকান পার্টি পেয়েছে ১২৬ আসন। আর সিনেটে ৫৪টি আসন পেয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা। মঙ্গলবার রাতে ডেমোক্রেটিক পার্টির সব ধারার নেতাকেই বিজয়ী হতে দেখা যায়। তাদের মধ্যে ছিলেন মধ্যপন্থি, প্রগতিশীল, জনতুষ্টিবাদী এবং গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী।

ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন বলছে, ডেমোক্র্যাটদের জয় এতটাই ব্যাপক ও বড় ব্যবধানের ছিল যে, দলের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য দিয়ে এই ফলাফল ব্যাখ্যা করা কঠিন। এ বছর নির্বাচনে জিততে ডেমোক্র্যাটদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে পরিচয়টি প্রয়োজন ছিল, তা হলো তারা রিপাবলিকান নন।
ডেমোক্র্যাটদের জন্য একের পর এক রাজনৈতিক সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন ট্রাম্প নিজেই। ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপকভাবে অজনপ্রিয় যুদ্ধের কারণে বেড়েছে পণ্যমূল্য। তাঁর বিশৃঙ্খল শুল্কনীতি ক্ষুদ্র ব্যবসা, কৃষক এবং আন্তর্জাতিক মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এ ছাড়া স্বাস্থ্যসেবা খাতে বরাদ্দ কমানো, অভিবাসনবিরোধী বহিষ্কার অভিযান, ব্যক্তিগত সম্পদ বৃদ্ধির চেষ্টা এবং লিংকন মেমোরিয়ালের রিফ্লেক্টিং পুল সংস্কার নিয়ে অন্তহীন বিতর্ক– সবকিছুই তাঁর বিরুদ্ধে গেছে।

ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের গভর্নরের পদেও জয় পেয়েছেন তারা। একই সঙ্গে কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে আইনসভা ও গভর্নরের পদ– দুইয়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন রাজনৈতিক শক্তির ভারসাম্য তৈরি করেছেন ডেমোক্র্যাটরা। রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটিতেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা। এমন অনেক এলাকায় তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, যেগুলো ছয় মাস আগেও দলটির সম্ভাব্য জয়ের তালিকায় ছিল না।
ক্যানসাস ও সাউথ ক্যারোলাইনা থেকে নতুন ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন। বিশেষ করে ক্যানসাস ৯৪ বছর পর প্রথম ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত করেছে। সাউথ ক্যারোলাইনায় রিপাবলিকান প্রার্থী ও বর্তমান সিনেটর ডারলাইন গ্রাহামকে পরাজিত করেছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যানি অ্যান্ড্রুজ। অঙ্গরাজ্যটি থেকে প্রায় তিন দশক পর কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেট নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। ১৯৯৮ সালের পর সাউথ ক্যারোলাইনা থেকে আর কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হননি।

টেক্সাসেও ডেমোক্র্যাটরা জয় পেয়েছেন। এমনকি গ্রামীণ এলাকার যেসব আসন থেকে আগে জয়ের আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন ডেমোক্র্যাটরা, সেখানকার ভোটারদেরও নিজেদের পক্ষে আনতে পেরেছেন তারা। মেইনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে জেতাতে গিয়ে ভোটাররা যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে ৩০ বছর দায়িত্ব পালন করা এক অভিজ্ঞ রিপাবলিকান রাজনীতিককে পরাজিত করে দিয়েছেন।

আইওয়ার ডেস মইনেসে ডেমোক্র্যাটদের নির্বাচনী ফলাফল পর্যবেক্ষণের অনুষ্ঠানে উচ্ছ্বাসের মাত্রা ছিল প্রায় অবিশ্বাস্য। সেখানে গভর্নরের কার্যালয়, সিনেটের একটি আসন এবং প্রতিনিধি পরিষদের চারটি আসনের মধ্যে তিনটিতে জয় পেয়েছে দলটি। অঙ্গরাজ্যটির পরবর্তী গভর্নর নির্বাচিত হওয়া রব স্যান্ড বিজয়ী ভাষণে সমর্থকদের বলেন, ‘আইওয়ার ডেমোক্র্যাটদের জন্য গত কয়েক বছর বেশ কঠিন ছিল।

তবে এখন অঙ্গরাজ্যে ভারসাম্যপূর্ণ সরকারব্যবস্থা আবার ফিরে এসেছে।’ পাশাপাশি আগে রিপাবলিকানদের দখলে থাকা ওহাইও, নর্থ ক্যারোলাইনার নিয়ন্ত্রণও চলে গেছে ডেমোক্র্যাটদের হাতে। সব মিলিয়ে সাতটি ঘাঁটি হারিয়েছে রিপাবলিকান পার্টি। এদিকে জর্জিয়ায় গভর্নর নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট কিশা ল্যান্স। ইতিহাসে এই প্রথম মার্কিন কোনো অঙ্গরাজ্য কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর পেল।

নিউ হ্যাম্পশায়ারের রচেস্টারের স্বতন্ত্র ভোটার রেবেকা কনরস বলেন, ট্রাম্পকে বার্তা দিতেই তিনি ডেমোক্র্যাটদের ভোট দিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, ‘তিনি (ট্রাম্প) সর্বত্র বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন।’ বিজয়ের পর মিনেসোটার নবনির্বাচিত ডেমোক্র্যাট সিনেটর পেগি ফ্লানাগান বলেন, ‘এই অঙ্গরাজ্যজুড়ে এবং পুরো দেশেই মানুষ বলছে, এবার যথেষ্ট হয়েছে।’

আন্তর্জাতিক অঙ্গন

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাশিয়া আশা প্রকাশ করেছে, ট্রাম্প তাঁর ‘শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা’ অব্যাহত রাখবেন। অন্যদিকে চীন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তারা কাজ চালিয়ে যাবে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বলেছেন, মার্কিন নির্বাচনের ফলাফলে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে বলে তিনি মনে করেন না। এদিকে হরমুজ প্রণালিতে আক্রমণের একদিন পরে নির্বাচনের দিন ট্রাম্প জানান, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে হামলার পরিকল্পনা নেই তাঁর। এর প্রয়োজন পড়বে না। তবে তারা প্রস্তুত আছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর নির্বাচিত আবদুল এল-সায়েদ

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেটের শূন্য আসনে মঙ্গলবার জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ। সংবাদমাধ্যমগুলোর নির্বাচনী পূর্বাভাস অনুযায়ী, তাঁর এই জয়ের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে প্রথম মুসলিম সদস্য নির্বাচিত হলেন তিনি।

হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই নির্বাচনে এল-সায়েদের জয় ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগতিশীল অংশের জন্য একটি বড় অর্জন। ৪২ বছর বয়সী এল-সায়েদ জনস্বাস্থ্য বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা। নির্বাচনী প্রচারে তিনি কর্মজীবী পরিবারগুলোর জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং রাজনীতিতে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রভাব হ্রাসের ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

নির্বাচনে এল-সায়েদের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ৬৩ বছর বয়সী মাইক রজার্স। তিনি কংগ্রেসের সাবেক সদস্য এবং এফবিআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা। ট্রাম্প ও জাতীয় পর্যায়ের রিপাবলিকান নেতাদের জোরালো সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন তিনি।

রজার্স নির্বাচনী প্রচারে এল-সায়েদকে উগ্রপন্থি এবং ইসলামী চরমপন্থার প্রতি সহানুভূতিশীল প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন। এ ক্ষেত্রে তাঁর বিরুদ্ধে মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে কথিত সম্পর্কের অভিযোগ আনা হয়েছিল। তবে এল-সায়েদ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং অভিযোগগুলোর পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বিরোধের জেরে বন্ধুকে হত্যা কুয়েতে বাংলাদেশি প্রবাসীকে মৃত্যুদণ্ড

কুয়েতে এক বাংলাদেশি প্রবাসীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি ফৌজদারি আদালত। বিরোধের জেরে বন্ধুকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার দায়ে সাজা দেওয়া হয় তাঁকে।

গতকাল বুধবার গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির আদালত গত মঙ্গলবার ওই রায় দেন। ওই ব্যক্তিকে ইচ্ছাকৃত ও পূর্বপরিকল্পিত হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

কৌঁসুলিরা জানান, নিহত ব্যক্তি আসামির স্ত্রীর ব্যক্তিগত ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন। আসামি বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও সেগুলো ডিলিট করতে অস্বীকৃতি জানান ওই ব্যক্তি।

আসামি আদালতে বলেন, তাঁর বন্ধু তাঁর স্ত্রীর সম্মতি ছাড়াই তাদের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ছবিগুলো তুলেছিলেন। তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য পোস্ট করার পর তিনি বন্ধুকে বারবার ছবিগুলো মুছে দেওয়ার অনুরোধ করেন।

আসামি বলেন, তাঁর বন্ধু ছবিগুলো ডিলিট করেননি। বরং পরে আরও ছবি পোস্ট করেন। এ নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের টানাপোড়েন বেড়ে যায়। এই বিরোধের জেরে তিনি প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং বন্ধুকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

আইনজীবীদের দেওয়া তথ্যানুসারে, আসামি একটি ছুরি দিয়ে হত্যার পরিকল্পনা করেন এবং তাঁর বন্ধু কর্মস্থলে আছেন নিশ্চিত হওয়ার পর বাইরে কাছেই একটি জায়গায় অপেক্ষা করতে থাকেন। পরে আসামি তাঁর ওপর হামলা চালান এবং মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে বারবার ছুরিকাঘাত করেন। আদালতের কার্যক্রম চলাকালে আসামি অভিযোগ স্বীকার করেন।

৮০০ যাত্রী নিয়ে সেন্টমার্টিনের পথে মৌসুমের প্রথম জাহাজ

দীর্ঘ অপেক্ষা, অনিশ্চয়তা ও নানা জটিলতার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে শুরু হয়েছে কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌপথে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল। মৌসুমের প্রথম দিনেই ৮০০ জনের বেশি পর্যটক নিয়ে দ্বীপের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে জাহাজ। এতে পর্যটনসংশ্লিষ্টদের মধ্যে ফিরেছে স্বস্তি, আর দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হওয়ায় উচ্ছ্বসিত পর্যটকেরা। তবে যাত্রার প্রথম দিনেই টিকিটের বাড়তি দাম ও ভোগান্তি নিয়ে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন যাত্রী। অন্যদিকে দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ঘাটে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক, পলিথিন ও সাউন্ডবক্স বহনে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়ার বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে ৮০০ জনের বেশি যাত্রী নিয়ে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে এমভি বার আউলিয়া। এর আগে ভোর ৬টা থেকেই ঘাটে জড়ো হতে থাকেন পর্যটকেরা।

সরকারের পরিবেশ সংরক্ষণবিষয়ক নির্দেশনা বাস্তবায়নে ঘাটে দায়িত্ব পালন করেন জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর, বিআইডব্লিউটিএ ও কোস্ট গার্ডের সদস্যরা। এ সময় পর্যটকদের সঙ্গে থাকা একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন ও সাউন্ডবক্স জাহাজে নিতে বাধা দেওয়া হয়। পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা তৈরিতে কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে মাইকিংও করা হয়।

সেন্টমার্টিনগামী জাহাজ মালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, ‘আজ ৮০০ জনের বেশি যাত্রী নিয়ে এ মৌসুমের প্রথম জাহাজ যাত্রা শুরু করেছে। এর মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্তের অবসান হতে যাচ্ছে।’

পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা বলেন, সেন্টমার্টিনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পর্যটকদের নির্ধারিত নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। দ্বীপের কেয়াবনে প্রবেশ, ছেঁড়াদ্বীপে যাওয়া, পার্টি আয়োজন ও উচ্চ শব্দ সৃষ্টি নিষিদ্ধ। সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্ষতিকর এমন কোনো কর্মকাণ্ডও করা যাবে না।

তিনি বলেন, পর্যটকদের সঙ্গে থাকা একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের বোতল ও অন্যান্য সামগ্রী ঘাটে নির্ধারিত স্থানে রেখে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কয়েকটি সাউন্ডবক্সও পর্যটকদের কাছ থেকে বুঝে নিয়ে জাহাজ মালিকদের কাছে রাখা হয়েছে। পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মেনে চলতে সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুর রহমান সায়েম বলেন, প্রথম দিন প্রায় ৮০০ টিকিট বিক্রি হয়েছে, যা জাহাজটির মোট ধারণক্ষমতার প্রায় এক-চতুর্থাংশ। পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারের নির্দেশনা এবং প্লাস্টিক ও সাউন্ডবক্স বহন না করার বিষয়ে পর্যটকদের সচেতন করা হয়েছে।

এদিকে প্রথমবার সেন্টমার্টিন যাওয়ার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন পর্যটক পপি সাবরিন জেসি। তিনি বলেন, আগে কখনো সেন্টমার্টিন যাওয়া হয়নি। এবার প্রথমবারের মতো দ্বীপে যাচ্ছেন। মৌসুমের প্রথম দিন হওয়ায় আনন্দ ও উত্তেজনা আরও বেশি। অফিসারদের একটি দলের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গাইড হিসেবেও তিনি দ্বীপে যাচ্ছেন।

তবে যাত্রার আনন্দের মধ্যেও ভোগান্তির অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন পর্যটক। ঢাকা থেকে আসা পর্যটক হৃদয় বলেন, ‘এবারের মতো হয়রানি আগে কখনো হয়নি। অনলাইনে টিকিট কাটার পরও যদি ভোগান্তিতে পড়তে হয়, তাহলে সাধারণ পর্যটকদের কী অবস্থা হবে? এবার সর্বনিম্ন টিকিটের দাম ৪ হাজার ২০০ টাকা। আগে ছিল ৩ হাজার ৫০০ টাকা। অর্থাৎ টিকিটপ্রতি ৭০০ টাকা বেড়েছে। সবকিছুর দাম শুধু বাড়ছেই, কমছে না। এতে আমরা মর্মাহত।’

অন্যদিকে দ্বীপের পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক ড. এস এম মোজাম্মেল হোসেন। তিনি বলেন, সেন্টমার্টিন পরিবেশগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দ্বীপ। এর জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় সরকার যেসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে পর্যটকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

স্কোয়াব সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সেন্টমার্টিন রুটে চলাচলের অনুমতি পেয়েছে তিনটি জাহাজ। এগুলো হলো এমভি বার আউলিয়া, এমভি কর্ণফুলি ও এমভি টেকনাফ। তিনটি জাহাজের মোট যাত্রী ধারণক্ষমতা ২ হাজার ২৯৮ জন। এর মধ্যে এমভি বার আউলিয়ার ধারণক্ষমতা ৮৫০, এমভি কর্ণফুলির ৭৩২ এবং এমভি টেকনাফের ৭১৬ জন।

WhatsApp%20Image%202026 11 05%20at%209.38.18%20AM%20(1) 1793850555

নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, এমভি বার আউলিয়া সকাল ৭টায়, এমভি কর্ণফুলি সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে এবং এমভি টেকনাফ সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়ার কথা। ফিরতি যাত্রায় জাহাজ তিনটি যথাক্রমে দুপুর ২টা ৩০ মিনিট, দুপুর ২টা ১৫ মিনিট ও বিকেল সাড়ে ৩টায় সেন্টমার্টিন ঘাট ছাড়বে।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত ১ নভেম্বর থেকে আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত সেন্টমার্টিন পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। এ সময় দ্বীপে ভ্রমণের পাশাপাশি ৩ হাজার ৫০০ পর্যটকের রাতযাপনের সুযোগ রয়েছে। দ্বীপে প্রবেশের জন্য প্রত্যেক পর্যটককে ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিতে হবে। এ ছাড়া ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোডযুক্ত টিকিট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ হাজার পর্যটক দ্বীপে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।

পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে দ্বীপে বেশ কিছু বিধিনিষেধও বহাল রয়েছে। রাতে সৈকত ও আশপাশের এলাকায় আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ সৃষ্টি এবং বারবিকিউ পার্টি আয়োজন নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ ও কেনাবেচা এবং সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, শামুক, ঝিনুক, তারামাছ, রাজকাঁকড়া, সামুদ্রিক ঘাস ও শৈবালসহ দ্বীপের জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হয়—এমন কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

দীর্ঘ অনিশ্চয়তা কাটিয়ে জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ায় সেন্টমার্টিনে পর্যটন মৌসুম ঘিরে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরবে বলে আশা করছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

রাজীবের প্রথম সিনেমায় নিশো-মেহজাবীন

০

নাটক ও বিজ্ঞাপন নির্মাণে পরিচিত আদনান আল রাজীব এবার নাম লেখাচ্ছেন বড় পর্দায়। তার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করবেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় দুই তারকা আফরান নিশো ও মেহজাবীন চৌধুরী। প্রেমের গল্প নিয়ে নির্মিতব্য এই সিনেমার নাম ‘অপলক’।

বুধবার রাতে সিনেমাটিতে অভিনয়ের জন্য নির্মাতা ও দুই অভিনয়শিল্পীর মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।

এর আগে নিজের প্রথম সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন আদনান আল রাজীব। জানিয়েছিলেন, এটি হবে প্রেমের গল্প। তবে তখন সিনেমার নাম কিংবা অভিনয়শিল্পীদের পরিচয় প্রকাশ করেননি তিনি। অবশেষে বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টের মাধ্যমে সিনেমার নাম ও কেন্দ্রীয় দুই অভিনয়শিল্পীর নাম জানান নির্মাতা।

আদনান আল রাজীব, মেহজাবীন চৌধুরী ও আফরান নিশো

আদনান আল রাজীব, মেহজাবীন চৌধুরী ও আফরান নিশো

পোস্টে আদনান আল রাজীব লিখেছেন, ‘আমার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘অপলক’। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পুরো টিমের অনেকখানি স্বপ্ন আর ভালোবাসা। সেই ভালোবাসার পৃথিবীতে এবার যুক্ত হলেন আফরান নিশো এবং মেহজাবীন চৌধুরী। আমরা একটা সৎ, সরল আর মন ছুঁয়ে যাওয়া রোমান্টিক ফিল্ম বানাতে চাই। যেখানে মানুষ ভালোবাসার পাশাপাশি নিজেদেরও খুঁজে পাবেন। আশা করি, যে মায়া নিয়ে ছবিটা বানাতে যাচ্ছি, সেই মায়াটুকু আপনাদের কাছেও পৌঁছাবে।’

‘কাছে আসার গল্প’, ‘বিকেল বেলার পাখি’ ও ‘মিডল ক্লাস সেন্টিমেন্ট’-এর মতো নাটক নির্মাণ করে দর্শকের কাছে পরিচিতি পেয়েছেন আদনান আল রাজীব।

নাটকের পাশাপাশি বিজ্ঞাপন নির্মাণেও রয়েছে তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজ। এবার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের মধ্য দিয়ে বড় পর্দায় নতুন যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছেন তিনি।

শীতের আগমনে প্রতিদিনের খাবারে রাখুন ৬ উপাদান

দিনের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের সঙ্গে বাড়ছে সর্দি, কাশি, নাক বন্ধ, গলা ব্যথা ও ঠান্ডাজনিত নানা সমস্যা। বিশেষ করে সকাল ও রাতের ঠান্ডা এবং দিনের তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় ধুলাবালি ও শুষ্ক বাতাসও শ্বাসতন্ত্রের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

শীতের শুরুতে সুস্থ থাকতে তাই পোশাকের পাশাপাশি প্রতিদিনের খাবারের দিকেও বাড়তি নজর দেওয়া প্রয়োজন। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো রাখা, প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি পূরণ এবং পানিশূন্যতা এড়াতে সুষম খাবারের বিকল্প নেই। এজন্য দামি বা বিশেষ কোনো খাবার খাওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং প্রতিদিনের পরিচিত খাবারেই কিছু পরিবর্তন আনতে পারেন। খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত ভিটামিন, প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান থাকলে শরীর সুস্থ রাখতে তা সহায়ক হতে পারে। শীতের আগমনে প্রতিদিনের খাবারে যে ছয় ধরনের উপাদান রাখবেন, সেগুলো জেনে নেওয়া যাক।

ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার রাখুন

শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে স্বাভাবিক রাখতে ভিটামিন সি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতিদিনের খাবারে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল ও সবজি রাখুন। পেয়ারা, আমলকী, কমলালেবু, লেবু ও টমেটো এ ক্ষেত্রে ভালো উৎস। বিশেষ করে মৌসুমি ফল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এতে শরীর প্রয়োজনীয় ভিটামিন পাবে। তবে ফলের রসের পরিবর্তে আস্ত ফল খাওয়া বেশি ভালো, কারণ এতে আঁশও পাওয়া যায়।

প্রোটিনযুক্ত খাবার খান

শরীরের কোষ গঠন ও মেরামত এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য প্রোটিন প্রয়োজন। এ সময় প্রতিদিনের খাবারে ডিম, মাছ, মুরগির মাংস, ডাল ও দুধ রাখতে পারেন। বিশেষ করে যারা নিয়মিত খাবার খান না, তাদের প্রতিটি প্রধান খাবারে প্রোটিনের কোনো না কোনো উৎস রাখা জরুরি। এতে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাবে এবং কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে।

আদা, হলুদ ও রসুনের ব্যবহার বাড়ান

শীতের সময়ে রান্নায় আদা, হলুদ ও রসুন ব্যবহার করতে পারেন। আদা ও হলুদে এমন কিছু প্রাকৃতিক উপাদান রয়েছে, যা প্রদাহ কমাতে সহায়ক। অন্যদিকে রসুনেও রয়েছে বিভিন্ন উপকারী যৌগ। গলা খুসখুস করলে আদা দিয়ে হালকা গরম চা পান করতে পারেন। আবার রাতে এক কাপ গরম দুধে সামান্য হলুদ মিশিয়েও খাওয়া যায়। তবে এসব উপাদান ঠান্ডা বা সংক্রমণের চিকিৎসার বিকল্প নয়।

বাদাম ও স্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার খান

শরীরের শক্তি ও প্রয়োজনীয় পুষ্টির জন্য স্বাস্থ্যকর চর্বি গুরুত্বপূর্ণ। কাঠবাদাম, আখরোট, চিনাবাদাম ও বিভিন্ন বীজে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান পাওয়া যায়। এগুলো পরিমিত পরিমাণে প্রতিদিনের নাশতায় রাখতে পারেন। এ ছাড়া রান্নায় পরিমিত পরিমাণে ভালো মানের উদ্ভিজ্জ তেল ব্যবহার করুন। অতিরিক্ত ভাজাপোড়া ও ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।

অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এমন খাবার খান

শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার সঙ্গে অন্ত্রের স্বাস্থ্যের সম্পর্ক রয়েছে। তাই খাবারের তালিকায় টক দইয়ের মতো গাঁজন প্রক্রিয়ায় তৈরি খাবার রাখতে পারেন। পাশাপাশি ডাল, শাকসবজি, ফল ও গোটা শস্যে থাকা আঁশ অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার জন্য ভালো। নিয়মিত এসব খাবার খেলে হজমের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতেও সহায়তা পাওয়া যায়।

পর্যাপ্ত পানি ও উষ্ণ তরল খাবার গ্রহণ করুন

শীতকালে তৃষ্ণা কম পেলেও শরীরের পানির প্রয়োজন কমে না। তাই তৃষ্ণা না পেলেও নিয়মিত পানি পান করুন। পাশাপাশি সবজির স্যুপ, মুরগির ঝোল, ডাল ও হালকা গরম পানীয় খেতে পারেন। গলা শুকিয়ে গেলে বা অস্বস্তি হলে কুসুম গরম পানি পান করলে আরাম পাওয়া যায়। চাইলে হালকা গরম পানিতে মধু ও লেবু মিশিয়েও পান করতে পারেন। তবে অতিরিক্ত চিনি দেওয়া পানীয় এড়িয়ে চলুন।

শীতে সুস্থ থাকতে আরও কিছু অভ্যাস

খাবারের পাশাপাশি প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম ও নিয়মিত শরীরচর্চার অভ্যাস গড়ে তুলুন। ধুলাবালি ও ধোঁয়া থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকুন। বাইরে থেকে ফিরে হাত-মুখ পরিষ্কার করুন এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন। ঠান্ডা লাগা, গলা ব্যথা বা কাশি দীর্ঘদিন থাকলে কিংবা জ্বর ও শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। মনে রাখবেন, কোনো একটি বিশেষ খাবার খেলেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যায় না। বরং নিয়মিত সুষম খাবার, পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই সুস্থ থাকার অন্যতম উপায়।

শীতের শুরুতেই খাদ্যাভ্যাসে সচেতন হলে অনেক মৌসুমি স্বাস্থ্যসমস্যা মোকাবিলা করা সহজ হয়। তাই প্রতিদিনের খাবারে পুষ্টিকর ও সুষম খাবার রাখার পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত ঘুম এবং শরীরচর্চার অভ্যাস গড়ে তুলুন। নিজের শরীরের প্রয়োজন বুঝে খাবার নির্বাচন করুন। মনে রাখবেন, সুস্থ থাকতে কোনো একটি বিশেষ খাবারের ওপর নির্ভর না করে সারা বছরই সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা জরুরি।

গাজীপুরে কর্মস্থলে ফিরছেন শ্রমিকেরা, কারখানায় ফিরছে কর্মচাঞ্চল্য

০

গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে কয়েক দিনের অস্থিরতা কাটিয়ে স্বাভাবিক হচ্ছে পরিস্থিতি। ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে টানা কয়েক দিন সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভের পর কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন পোশাকশ্রমিকেরা। আজ বৃহস্পতিবার সকালে সড়কে বিক্ষোভের পরিবর্তে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। দলবেঁধে কারখানায় প্রবেশ করছেন শ্রমিকেরা। তাঁদের উপস্থিতিতে ফিরতে শুরু করেছে শিল্পাঞ্চলের কর্মচাঞ্চল্য।

আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত জেলার কোনো মহাসড়ক বা আঞ্চলিক সড়কে শ্রমিকদের অবস্থান নিতে দেখা যায়নি। ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচলও স্বাভাবিক ছিল। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ায় শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার রাখা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মাঠে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। তাঁদের মধ্যে বিজিবির ১২ প্লাটুন, আনসারের পাঁচ প্লাটুন ও এসআরবির আট প্লাটুন সদস্য রয়েছেন।

গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া ও রিসার্চ সেল) মো. আরিফ হোসাঈন জানান, শিল্পাঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাঁদের লক্ষ্য।

তিনি আরও জানান, আন্দোলনের নামে যাতে কোনো ধরনের নাশকতা বা রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক রয়েছে প্রশাসন। বিজিবি সদস্যরা ইতোমধ্যে মাঠে অবস্থান নিয়েছেন। অন্য বাহিনীর সদস্যরাও প্রস্তুত রয়েছেন।

এর আগে ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে কয়েক দিন ধরে গাজীপুরের বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন তাঁরা। এতে গুরুত্বপূর্ণ এসব সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহারের ঘটনা ঘটে।

নিরাপত্তায় নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা

নিরাপত্তায় নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা

আন্দোলনের মধ্যে পুলিশ বক্স, পুলিশের গাড়ি ও কারখানার গুদামে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ওঠে। সংঘর্ষে শ্রমিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আহত হন। এসব ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে আটকও করা হয়েছে।

টানা আন্দোলন ও সংঘাতের কারণে শিল্পাঞ্চলের অনেক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে আন্দোলন চলাকালে মারধরের শিকার হয়ে তৌফিক হোসেন শেখ নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর ঘটনাও শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতিকে আরও আলোচনায় নিয়ে আসে।

কয়েক দিনের উত্তেজনা ও অস্থিরতার পর বৃহস্পতিবার সকালে শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফেরার মধ্য দিয়ে শিল্পাঞ্চলে স্বাভাবিক পরিবেশ ফেরার আভাস মিলছে। তবে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।