যমুনাতেই উঠছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

0
6

সরকারপ্রধানের নিরাপত্তা ও সচিবালয়ে যাতায়াতের সুবিধা বিবেচনায় রাজধানীর হেয়ার রোডে অবস্থিত রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনাকে সরকারি বাসভবন হিসেবে বেছে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

গণপূর্ত অধিদপ্তর ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এদিকে সরকারি আবাসন পরিদপ্তর নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের বাসা বরাদ্দের কাজও সম্পন্ন করেছে।

যমুনায় বর্তমানে অবস্থান করছেন সদ্যবিলুপ্ত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। সরকারি আবাসন পরিদপ্তর জানিয়েছে, আগামীকাল ২৭ ফেব্রুয়ারি তিনি যমুনা ছেড়ে দেবেন।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী যমুনায় থাকার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন। সাবেক প্রধান উপদেষ্টা এ মাসেই বাসা ছাড়বেন। কিছু সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী যমুনায় উঠবেন।

সংসদ ভবন ও শেরেবাংলা নগর বিবেচনায়, পরে বাদ অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে জাতীয় সংসদ ভবন ও শেরেবাংলা নগর এলাকায় নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছিল। তবে সময় স্বল্পতাসহ কয়েকটি কারণে ওই দুটি এলাকা আর বিবেচনায় রাখা হয়নি বলে গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে।

বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী গুলশানে নিজস্ব বাসভবনে অবস্থান করছেন। সেখান থেকে তিনি আবদুল গণি রোডের সচিবালয় ও তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যাতায়াত করছেন।

গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, চলতি রমজানে ইফতার অনুষ্ঠান এবং আসন্ন ঈদুল ফিতরে অতিথিদের সঙ্গে শুভেচ্ছাবিনিময় যমুনায় আয়োজনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সে অনুযায়ী সংস্কারকাজ দ্রুত শেষ করার প্রস্তুতি চলছে।

৩০ হেয়ার রোডে অবস্থিত যমুনার আয়তন প্রায় সোয়া তিন একর। মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, যমুনার পাশের ২৪ ও ২৫ নম্বর বাংলোবাড়িতে বর্তমানে সাবেক প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তায় নিয়োজিত বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা থাকছেন। সাবেক প্রধান উপদেষ্টা চলে গেলে এই দুটি বাংলোবাড়ি প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জন্য বরাদ্দ থাকবে।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ছিল গণভবন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন বিক্ষুব্ধ জনতা গণভবনে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায়।

পরবর্তীতে গণভবনকে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেয় তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার। বর্তমানে সেখানে জাদুঘরের নির্মাণকাজ চলছে। ফলে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর বসবাসের সুযোগ নেই।

নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী কোথায় থাকবেন— এ প্রশ্নে অন্তর্বর্তী সরকারের শেষদিকে কয়েক মাস আলোচনা চলে। গত বছরের ৭ জুলাই গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ছয় সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে। একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বাধীন কমিটি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন শেষে ২০ জুলাই প্রতিবেদন জমা দেয়।

কমিটি প্রতিবেদনে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা এবং হেয়ার রোডের ২৪ ও ২৫ নম্বর বাংলোবাড়িকে সমন্বিত পরিকল্পনায় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে বিবেচনার সুপারিশ করে।

ঢাকার হেয়ার রোড, মিন্টো রোড ও বেইলি রোড এলাকা ‘মন্ত্রিপাড়া’ নামে পরিচিত। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা সেখানে অবস্থান করছিলেন।

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে বিএনপি। ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথের মাধ্যমে সরকার গঠন হয়। দায়িত্ব হস্তান্তরের পর মন্ত্রিপাড়ার বাংলোবাড়ি ছাড়তে শুরু করেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা। সরকারি আবাসন পরিদপ্তর জানিয়েছে, অধিকাংশ উপদেষ্টা এরই মধ্যে বাসা ছেড়েছেন। বাকি দুজন শিগগির ছাড়বেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান আগে থেকেই মিন্টো রোডের ৩৩ নম্বর বাংলোবাড়িতে থাকছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা থেকে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী (টেকনোক্র্যাট) হওয়ায় ওই বাসভবনেই থাকছেন।

সরকারি আবাসন পরিদপ্তর জানিয়েছে, নতুন মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রীদের বাসা বরাদ্দের কাজ শেষ হয়েছে। এখন আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়া হবে। কিছু সংস্কারকাজ শেষে ঈদুল ফিতরের পর তারা বাসায় উঠতে পারবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here