জামালপুরে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর নির্মাণাধীন নান্দিনা-লক্ষ্মীরচর সেতুর জন্য অধিগ্রহণ করা জমি থেকে অর্ধশত অবৈধ স্থাপনা অপসারণে অভিযান চালিয়েছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানভীর হায়দার ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহীন কাওছারের নেতৃত্বে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।
দিনভর পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের নিরাপত্তা বেষ্টনীতে ভেকু ও বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় অর্ধশতাধিক দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ঘরবাড়ি ও অবৈধ স্থাপনা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী রোজদিদ আহামেদ, সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী আমিনুল হক, উপজেলা প্রকৌশলী আকরাম হোসেন তালুকদার ও সেতুর প্রকল্প কর্মকর্তা।
যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করতে জামালপুরের নান্দিনা-লক্ষ্মীরচর সড়কে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর ৬০৬ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১০ মিটার প্রস্থের একটি পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। সেতু নির্মাণে বরাদ্দ দেওয়া হয় ১০৬ কোটি ৫২ লাখ টাকা। সেতুর দুই প্রান্তের ৩ একর ৬০ শতাংশ ভূমি অধিগ্রহণে ব্যয় ধরা হয় ২৫ কোটি ৭০ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। সেতু নির্মাণের দায়িত্ব পায় মেসার্স চৌধুরী এন্টারপ্রাইজ। ২০২২ সালের ১৬ নভেম্বর সেতু নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। ২০২৫ সালের ২৫ অক্টোবর সেতুর কাজ সম্পন্ন করে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেতুটির অর্ধেক কাজও শেষ না হওয়ায় চলতি বছরের ৮ জুন পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ৭-৮ মাস বন্ধ থাকার পর কাজ শুরু হলে দেখা দেয় আরেক বিপত্তি। সেতুর উভয় প্রান্তে প্রয়োজনীয় ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়। ভূমি মালিকদের ক্ষতিপূরণের টাকাও পরিশোধ করে জেলা প্রশাসন। কিন্তু সেতুর দক্ষিণ প্রান্তের নান্দিনা বাজার অংশে টাকা নিয়েও প্রকল্প স্থান থেকে অনেকেই স্থাপনা সরিয়ে না নেওয়ায় থমকে যায় সেতুর কাজ; যা নিয়ে গত ১৪ মার্চ সমকালে ‘ক্ষতিপূরণ নিয়েও সরছে না ভূমির মালিকরা, বাধাগ্রস্ত সেতুর কাজ’ শিরোনামে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে জেলা প্রশাসক ইউসুফ আলী সেতুর জন্য অধিগ্রহণ করা জায়গা থেকে সব ধরনের স্থাপনা অপসারণের জন্য উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেন।
এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী রোজদিদ আহামেদ জানান, ক্ষতিপূরণ নিয়েও স্থাপনা সরিয়ে না নেওয়ায় সেতুর কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হওয়ায় সেতু নির্মাণের কাজে আর প্রতিবন্ধকতা থাকল না।
সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানভীর হায়দার বলেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ঈদের আগে জমির মালিকদের স্থাপনা সরাতে ৭ দিনের সময় দিয়েছিলেন। এরপরও স্থাপনা না সরানোয় উচ্ছেদ অভিযান চালান তারা।




