হাইকোর্টের রুল জারি গৃহকর্মীদের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক কেন নয়

0
4

দেশে গৃহকর্মীদের নিবন্ধন কেন বাধ্যতামূলক করা হবে না, তা জানতে চেয়ে সরকারের  সংশ্লিষ্টদের প্রতি  রুল জারি করেছেন হাই কোর্ট।

একইসঙ্গে বিদ্যমান ‘দ্য ডোমেস্টিক সার্ভেন্টস রেজিস্ট্রেশন অর্ডিন্যান্স ১৯৬১’ অনুযায়ী এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের ‘নিষ্ক্রিয়তাকে’ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।
জনস্বার্থে করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে  বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরী সমন্বয় গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল রোববার এ রুল জারি করেন।  আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে বিবাদী দেরকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে

‘জনস্বার্থে’ এই রিট মামলা দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খাদিজাতুল কোবরা।

তিনি বলেন, “আদালত কোনো অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেননি। বিবাদীদের রুলের জবাব পাওয়ার পর আদালতের কাছে পরবর্তী নির্দেশনার জন্য আবেদন করা হবে।”
আইন  সচিব, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে রিট মামলায় বিবাদী করা হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়, দেশে গৃহকর্মীদের একটি বড় অংশ আনুষ্ঠানিক আইনি সুরক্ষা, চুক্তি, বা পরিচয়পত্র ছাড়াই কাজ করছে। ২০১৫ সালে সরকার ‘গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি’ গ্রহণ করলেও এর কোনো কার্যকর নিবন্ধন, তদারকি বা প্রয়োগ ব্যবস্থা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।

এছাড়া ১৯৬১ সালের ‘ডোমেস্টিক সার্ভেন্টস রেজিস্ট্রেশন অর্ডিন্যান্স’-এ গৃহকর্মীদের বাধ্যতামূলক নিবন্ধন, রেজিস্ট্রেশন কার্ড ইস্যু এবং নিবন্ধন ছাড়া কাজের ওপর নিষেধাজ্ঞার স্পষ্ট বিধান রয়েছে।
কিন্তু এ আইন নির্দিষ্ট কিছু এলাকার বাইরে দেশব্যাপী সম্প্রসারণের পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, যার ফলে এটি কার্যত অকার্যকর হয়ে আছে।

সম্প্রতি রাজধানীর মোহাম্মদপুরে একজন গৃহকর্মীর বিরুদ্ধে মা ও মেয়েকে (লায়লা আফরোজ এবং নাফিসা নাওয়াল বিনতে আজিজ) হত্যার অভিযোগ ওঠার ঘটনা তুলে ধরা হয় রিট আবেদনে।
একইসঙ্গে গৃহকর্মীদের অধিকার, আইনি সুরক্ষা এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য জেলাভিত্তিক মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here