দেশে তারকা, বিদেশে আর্থিক কষ্ট- জেসমিনের জীবনের অজানা অধ্যায়

0
2

পঞ্জাবি ভাষায় পপ গানে জনপ্রিয়তা পেলেও সালমান খানের সিনেমা ‘কিক’ এর ‘ইয়ার না মিলে’ গানের মাধ্যমে পরিচিতি পান সংগীতশিল্পী জেসমিন স্যান্ডলাস। এর মাঝে জীনের সঙ্গে সংগ্রাম করতে হয়েছে তাকে। সম্প্রতি ‘ধুরন্ধর’ সিনেমার একাধিক গানে কণ্ঠ দেওয়ার পর ফের আলোচনায় উঠে এসেছেন তিনি। এমন অবহে নিজের জীবনের কঠিন সময়ের গল্প শোনালেন জেসমিন।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জেসমিন জানান, মাত্র ২৩ বছর বয়সে জীবনের চাপ ও একাকীত্ব থেকে মদ্যপানে জড়িয়ে পড়েন। তার কথায়, ‘যতটা পান করা উচিত ছিল, তার চেয়েও বেশি করেছি।’

ক্যারিয়ারের সাফল্যের মাঝেও ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন, বাবার মৃত্যু ও পারিবারিক ভাঙন তাকে মানসিকভাবে ভেঙে দেয়। সেই সময় মদ্যপানই যেন তার আশ্রয় হয়ে উঠেছিল—যদিও পরে বুঝতে পারেন, এটি তাকে আরও একা করে দিচ্ছিল।

জেসমিনের জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় তার পরিবারের সংগ্রাম। ছোটবেলায় বাবার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র পাড়ি জমান তিনি। প্রথমদিকে নিউইয়র্কে অত্যন্ত কষ্টে দিন কাটাতে হয়েছে তাদের। ছয়জনের পরিবার এক বেডরুমের ছোট্ট ফ্ল্যাটে থাকতেন, রেশন দোকানের খাবারেই চলত সংসার। ইংরেজি ভাষা না জানায় মানিয়ে নেওয়াও ছিল কঠিন।

ভারতে প্রতিষ্ঠিত পেশাজীবী হলেও আমেরিকায় গিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করতে হয় তার বাবাকে। গ্যাস স্টেশনে কাজ করা থেকে শুরু করে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন তিনি।

জেসমিনের ভাষায়, ‘বাবা নিজের সবকিছু ত্যাগ করেছিলেন সন্তানদের ভালো ভবিষ্যতের জন্য। অন্যদিকে মাও শ্রমজীবী কাজ করে সংসার সামলেছেন। পরবর্তীতে ক্যালিফোর্নিয়াতে যাওয়ার পর কিছুটা স্বস্তি আসে। সেখানে আদালতে দোভাষীর কাজ পান বাবা, আর ধীরে ধীরে পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হতে থাকে।’

জেসমিন বলেন, ‘জীবনের সেই অন্ধকার সময় থেকে বেরিয়ে আসতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন মা। পরিবারের সমর্থনই নতুন করে বাঁচার শক্তি দিয়েছে। আমার সবচেয়ে বড় লড়াই ছিল নিজের সঙ্গে।’

বর্তমানে তিনি নিজেকে বদলে নতুন জীবন শুরু করেছেন বলে জানান। তার মতে, পরিবার পাশে থাকলে যেকোনো কঠিন সময় পার হওয়া সম্ভব।

উল্লেখ্য, ‘‘ধুরন্ধর: দ্য রিজেঞ্জ’’ ছবির‘জাইয়ে সাজানা’, ‘আরি আরি’ ও ‘মে অর তু’ গানগুলোতে কণ্ঠ দিয়ে আবারও শ্রোতাদের মন জয় করেছেন জেসমিন স্যান্ডলাস। সূত্র: এনডিটিভি ও আনন্দবাজার

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here