শিতাংশু গুহ, নিউইয়র্ক।।
ফেইসবুকে ১০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ক্লিপ দেখছিলাম, একটি মেয়ে রাস্তায় পড়ে থাকা একটি পদ্মফুলের পতাকা উঠিয়ে এক জায়গায় টাঙ্গিয়ে দিলেন। আরো একটি ছোট্ট ভিডিওতে দেখলাম মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী রাস্তা দিয়ে সদলবলে হন্হন্ করে হেটে যাচ্ছেন, হটাৎ একটি ছেলে তাঁকে প্রণাম করতে ব্যারিকেডে ঢুকে পরে, মুখ্যমন্ত্রী ঘাবড়ে দু’পা পিছিয়ে যান? তাঁকে বেশ ভীত ও রুগ্ন দেখাচ্ছিলো। কেন জানি মনে হলো, এতো পরাজিত প্রার্থীর দৃশ্যপট। সম্ভবত: পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু’র কুম্ভকর্ণের ঘুম ভেঙ্গেছে। বাংলাদেশের হিন্দু, পাকিস্তানের হিন্দু ও কাশ্মীরের হিন্দুর দুরবস্থা দেখে পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু হয়তো নিজেদের দুরবস্থা টের পাচ্ছে। বিষয়টি বিজেপি বা তৃণমূল নয়, ২০২৬’র নির্বাচন পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু’র বাঙ্গালী হিন্দু হিসাবে টিকে থাকার সংগ্রাম।
আমি ভারতীয় নই, পশ্চিমবাংলার অধিবাসী নই, বিজেপি-কংগ্রেস-তৃণমূল নই, পশ্চিমবাংলায় কে জিতলো তাতে আমার কিছু আসে-যায় না, তবু আমার মাথাব্যথা আছে, আমি বাংলাদেশের মানুষ, থাকি আমেরিকায়, দূর থেকে অনেক কিছু স্পষ্ঠ দেখতে পাই বিধায় এ লেখা। এবার তৃণমূল জিতলে পশ্চিমবাংলা ‘পশ্চিম বাংলাদেশ’ হবে, তা গ্যারান্টি দিয়ে বলা যায়? একটি ঘটনা বলি: পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন নিয়ে আমার একটি বই কলকাতায় ছাপাতে চেষ্টা করি, এতে তেমন কিছু নেই, অন্তত: দু’জন প্রকাশক বইটি ছাপতে রাজি হননি। এতে এমন কিছু নেই, শুধু বিভিন্ন ঘটনার বিশ্লেষণ করে বোঝানোর চেষ্টা হয়েছে যে, তৃণমূল হটাও, বাংলা বাঁচাও। কেন তাঁরা ছাপাতে সাহস পাননি? কারণ, তাদের ধারণা, নির্বাচনের আগে এটি প্রকাশ হলে ‘দুধেল গাইরা’ হামলা করতে পারে?
তৃণমূল জিতলে বাঙ্গালী হিন্দু বাঁচবে না, পশ্চিমবঙ্গকে বাঁচাতে হবে, বাঙ্গালী হিন্দুকে বাঁচাতে হবে। বাঙ্গালী হিন্দু না থাকলে বাংলাভাষা থাকবে না, বাঙ্গালী সংস্কৃতি থাকবে না, আপনার অস্তিত্ব থাকবে না, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নামগোত্রহীন হয়ে পড়বে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গুরুত্বহীন হয়ে যাবেন। তাই বাংলাদেশে ইসলামী মৌলবাদের জয়জয়কার, পশ্চিমবঙ্গ সেই দিকেই হাটছে। ইসলামী মৌলবাদের উত্থান মানে হিন্দুদের বিদায়। পাকিস্তানে ১৯৪৭ সালে ২৯.৭% হিন্দু ও অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘু ছিলো, এখন প্রায় নেই, কারণ মুসলমানরা সংখ্যায় ,বেশি হলে অন্যদের সেখানে থাকতে দেয়না। বাংলাদেশ নামক ভূখণ্ডে ১৯৭০-এ দেড়কোটি হিন্দু ছিলো, ৫৫ বছরে এ সংখ্যা বাড়েনি, তবে মুসলমানের সংখ্যা বেড়েছে আড়াই গুন্। কথা একটা-ই, মুসলমান বাড়লে আপনি (হিন্দু) আউট। সমগ্র মুসলিম বিশ্বের এটিই ইতিহাস।
আমি হিন্দু হিসাবে বাঁচতে চাই, আমি ধর্মান্তরিত হতে চাইনা, আরব্য সংস্কৃতি নয় আমি বঙ্গ-সংস্কৃতিকে ধারণ করতে চাই, আমি ভারতীয় সংস্কৃতিকে লালন করতে চাই, এটি অপরাধ নয়? ২০২৬-এ আপনার ভাগ্য আপনাকেই গড়তে হবে, আপনার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যে পশ্চিমবঙ্গকে বসবাসযোগ্য করে তুলতে হবে, এনআরসি, এসআইআর পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে হবে, অনুপ্রবেশ ঠেকাতে হবে, ইউনিফর্ম সিভিল কোড চালু করতে হবে, তৃণমূল কংগ্রেসকে বিদায় করতে হবে। কন্যাশ্রী ও লক্ষ্মীশ্রী’র ওপর ভরসা করে থাকলে সময় আসবে যখন কন্যাও থাকবেনা, লক্ষীও থাকবেনা। সামনের নির্বাচনে বিজেপি জিতলে বাঙ্গালী হিন্দু বাঁচবে, তৃণমূল জিতলে হিন্দু মরবে। আগের নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি হেরেছে, হিন্দুরা মুর্শিদাবাদ থেকে পালাতে বাধ্য হয়েছে। আসামে বিজেপি জিতেছে রোহিঙ্গারা বিদায় হচ্ছে। আত্মঘাতী বাঙালী হিন্দু বাঁচবে না মরবে তা নির্ধারণ হবে ২০২৬-এ, এটি হিন্দুদের লাষ্ট চান্স।




