শিতাংশু গুহ, নিউইয়র্ক।।
আমি বাঙ্গালী হিন্দু’র বাঁচার সংগ্রামের পক্ষে কথা বলছি। এ সময়ে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস এন্টি-হিন্দু এবং মুসলিম তোষণ করছে; বিজেপি হিন্দুর পক্ষে লড়ছে, তাই বিজেপি’র কথা বলছি। কংগ্রেস দেখেছেন, বাম-রাজনীতি দেখেছেন, তৃণমূল দেখছেন, একবার বিজেপি দেখুন না? আবারো বলছি, আমি বাংলাদেশী হিন্দু, মুসলমানের সাথে বেড়ে ওঠা, আমি দেখেছি কিভাবে বঙ্গ-সংস্কৃতি আরব্য-ইসলামী সংস্কৃতিতে পরিণত হয়, তাই বলছি, বাঁচতে হলে গা-ঝাড়া দিয়ে উঠুন, তৃণমূলকে বিদায় করুন। পশ্চিমবঙ্গের অবস্থা খারাপ, এখানে ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ শ্লোগান ওঠে; মেয়র কলকাতাকে পাকিস্তান বানাতে চায় এবং মুখ্যমন্ত্রী অবৈধদের পক্ষে, এসআইআর-র বিপক্ষে রাজপথে নামেন।
একটু অতীতের দিকে ফিরে তাকালে দেখবেন, অবিভক্ত বাংলায় কোন হিন্দু মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেননি। মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন, খাজা নাজিমুদ্দিন; এ. কে. ফজলুল হক; ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। এর কারণ হচ্ছে, মুসলমানরা এককাট্টা হয়ে মুসলিম লীগকে ভোট দিয়েছে, হিন্দুরা কংগ্রেস, কমিউনিষ্ট নানা ভাগে বিভক্ত ছিলো। ২০২৬-এ তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিজেপি, কংগ্রেস, বামরা এক হয়ে লড়তে পারেন না? রাজনীতিতে সবই সম্ভব, তৃণমূলকে হটানো জরুরী। আগে রাজ্যটা বাঁচান, এরপর না হয় আবার রাজনীতি করুন। গত নির্বাচনে কংগ্রেসের অধীরবাবু’র পরাজয় থেকেও কি শিক্ষা নেয়া যায়না? এমনিতে বাংলায় কংগ্রেস বাদ দিলে সর্বদা কেন্দ্রের বিপক্ষে ছিলো, এতে কি লাভ হয়েছে? বিজেপি একবার শাসন করুক না? বিজেপি কি মমতার থেকেও খারাপ?
২০২৬-এ তৃণমূলের পতন না হলে পশ্চিমবঙ্গের কোনায় কোনায় বহু মুর্শিদাবাদ তৈরী হবে, অসংখ্য হুমায়ুন কবীর জন্ম নেবে। বাংলাদেশকে হিন্দু-শূন্য করতে ৫০ বছর সময় লেগেছে, একই ধারা পশ্চিমবঙ্গে শুরু হবে এবং ২০৪০ নাগাদ ইসলামের আসল রূপ পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুরা দেখতে পাবে। হিন্দুরা ধীরে ধীরে বিহার ও উড়িষ্যায় আশ্রয় নেবে। মহল্লার পর মহল্লা উজাড় হয়ে যাবে, মুসলমানরা সেখানে দখল নেবে। কলকাতার সাংস্কৃতিক আন্দোলন মুখ থুবড়ে পড়বে, নাচ-গান, যাত্রা, অভিনয়, নাটক, সিনেমা ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যাবে। শিল্প-সাহিত্য আলোচনা বন্ধ হবে, মন্দিরের দুয়ারে গরুর মাথা পাওয়া যাবে, মুর্ক্তি ভাঙ্গবে, মন্দির আক্রমন হবে, পূজায় বাঁধা দেয়া হবে, আজানের সময় পূজা বন্ধ রাখতে হবে, বাদ্যযন্ত্র নিষিদ্ধ হবে, রমজানে দিনের বেলা খাবার দোকান জোরপূর্বক বন্ধ রাখতে হবে, বাইরে খেলে আপনি মার খাবেন।
ভোটে জিততে হলে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি আসনে একজন করে গোপাল পাঠা দরকার। এই গোপাল পাঠারা ভোটকেন্দ্রে মমতা ব্যানার্জী’র পোষা ‘দুধেল গাইদের’ শায়েস্তা করবে। মমতার গুণ্ডাবাহিনীর বিরুদ্ধে পাড়ায় পাড়ায় মহল্লায় মহল্লায় ‘হিন্দু সুরক্ষা বাহিনী’ গড়ে তোলা উচিত। ২০২৬-এ ব্যর্থ হলে হিন্দু বাবুদের খবর আছে। মমতাকে পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানরা ভালবাসে, বাংলাদেশের মুসলমানরা ভালবাসে, পাকিস্তানিরা নিজেদের লোক ভাবে। কেন বলুন তো? কারণ তিনি তাদের স্বার্থরক্ষা করছেন। মুসলমানের ভোটে, মুসলমানের জন্যে তিনি হিন্দুর বিরুদ্ধে কাজ করেন। পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি কেন্দ্রের দিকে না তাকিয়ে ‘যার যা আছে তাই নিয়ে প্রস্তুতি নিতে হবে’। কেন্দ্রের সীমাবদ্ধতা আছে, ‘চাচা আপন বাঁচা’। ‘যেমন কুকুর তেমনি মুগুর’ হওয়া ছাড়া উপায় নাই?




