হিজাব পরায় পরীক্ষার্থীর খাতা আটকে রাখার অভিযোগ, শিক্ষককে উকিল নোটিশ

0
3

কিশোরগঞ্জে অনার্স শেষ বর্ষের এক ছাত্রীর হিজাব পরার বিষয়কে কেন্দ্র করে চূড়ান্ত পরীক্ষার খাতা ৪০ মিনিট আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কলেজের অধ্যক্ষ ও প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার না পেয়ে বুধবার ওই শিক্ষককে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছেন ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীর আইনজীবী মামা।

তবে অভিযুক্ত শিক্ষক ও কলেজ অধ্যক্ষের দাবি, পরীক্ষার্থীর পরিচয় নিশ্চিত করতে এবং ডিভাইসের ব্যবহার রোধ করতেই পরীক্ষার হলের নিয়ম অনুযায়ী এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।

ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর নাম সুমাইয়া আক্তার। তিনি কিশোরগঞ্জ শহরের পৌর মহিলা কলেজ থেকে অর্থনীতিতে অনার্স শেষ বর্ষের পরীক্ষা দিচ্ছেন। গত ৩০ এপ্রিল সরকারি গুরুদয়াল কলেজের আবদুল হামিদ ভবনের ৫০৪ নম্বর কক্ষে ‘মুদ্রা, ব্যাংকিং ও অর্থায়ন’ বিষয়ে তার পরীক্ষা ছিল।

অ্যাডভোকেট আব্দুল মোমেন ভূঁইয়া তুহিনের লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, তার ভাগ্নি সুমাইয়া আক্তার শহরের পৌর মহিলা কলেজ থেকে এবার অর্থনীতিতে শেষ বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা দিচ্ছেন। সুমাইয়ার আসন পড়েছে শহরের সরকারি গুরুদয়াল কলেজে। গত ৩০ এপ্রিল মুদ্রা, ব্যাংকিং ও অর্থায়ন বিষয়ে পরীক্ষা শুরু হয় দুপুর ১টায়। সুমাইয়া আক্তার ও অপর পরীক্ষার্থী মুনিরা হিজাব পরিহিত ছিলেন। ওই কক্ষে দায়িত্ব পালন করছিলেন গুরুদয়াল কলেজের গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. শাহ পরান।

এতে আরও বলা হয়, পরীক্ষা চলাকালে ১টা ৪৫ মিনিটে তিনি দুই পরীক্ষার্থীকে হিজাব খুলে চেহারা দেখাতে বলেন। সুমাইয়া তখন একজন মহিলা শিক্ষক বা মহিলা পুলিশের সামনে হিজাব খোলার জন্য বলেন। কিন্তু শিক্ষক শাহ পরান এ কথায় কর্ণপাত না করে নিজেই শক্তি প্রয়োগ করে দু’জনের হিজাব উন্মুক্ত করেন। মহিলা শিক্ষক ও মহিলা পুলিশের কথা বলায় সুমাইয়া আক্তারকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে পরীক্ষার খাতা নিয়ে যান। অনেক অনুরোধের পর ৪০ মিনিট বিলম্বে খাতাটি ফেরত দেন শিক্ষক শাহ পরান। এতে সুমাইয়ার পরীক্ষার যথেষ্ট ক্ষতি হয়েছে।

অ্যাডভোকেট আব্দুল মোমেন তুহিন ভূঁইয়া দাবি করেন, ওই শিক্ষক বহিষ্কারের ক্ষমতা রাখেন, যে কোনো সময় বহিষ্কার করতে পারেন বলেও হুমকি দেন। ফলে সুমাইয়া আক্তারের মনে একটা ভীতি কাজ করছে। পরবর্তী পরীক্ষাগুলোর ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

অ্যাডভোকেট তুহিন অধ্যক্ষের কাছে এ বিষয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লিখিত আবেদন জানিয়েছিলেন।

পরীক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তারকে প্রশ্ন করলে তিনিও এসব অভিযোগের কথা বলেছেন। তিনি বলেন, আজকে একটি পরীক্ষাসহ এখনও সাতটি পরীক্ষা বাকি আছে। ওই শিক্ষক শাহ পরান তাকে বহিষ্কারের ক্ষমতা রাখেন বলে হুমকি দিয়েছেন। যে কারণে তাকে এক ধরনের ভীতি তাড়া করছে বলে জানিয়েছেন।

শিক্ষক শাহ পরানের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, ‘আমি সুমাইয়ার সামনের আসনের পরীক্ষার্থীকে প্রবেশপত্রের ছবির সঙ্গে যাচাই করার জন্য হিজাব খুলতে বললে তিনি সবসময় হিজাব ব্যবহার করেন বললে আর তাকে কিছু বলিনি। সুমাইয়াকে হিজাব খুলতে বলতেই বলে ওঠেন, আপনি যেভাবে বলছেন, তাতে তো হিজাব খুলতেই হবে। সুমাইয়া নিজেই হিজাব খুলেছেন। তার কথাগুলো ছিল বহিষ্কার করার মতো অশোভন। তবে খাতাটি ১০ মিনিটের মতো আটকে রেখেছিলাম। এখন বাড়িয়ে বলা হচ্ছে।’

মহিলা শিক্ষক বা মহিলা পুলিশের সামনে হিজাব খোলার মতো কোনো কথা সুমাইয়া বলেননি বলেও শিক্ষক শাহ পরান জানান। তবে উকিল নোটিশ পাঠানোর বিষয়টি এখনও তিনি জানেন না বললেন।

সরকারি গুরুদয়াল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. সিদ্দিক উল্লাহকে এ বিষয়ে বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। তবে উকিল নোটিশ পাঠানোর বিষয়টি তিনিও জানেন না বলে জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, অনেক পরীক্ষার্থী হিজাব পরে আসেন। হিজাবের আড়ালে অনেকে বিভিন্ন ধরনের ডিভাইস ব্যবহার করেন। যে কারণে কান পর্যন্ত চেহারা দেখার প্রয়োজন হয়। পরীক্ষায় এ ধরনের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক বিব্রতকর পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়, বাধার মুখে পড়তে হয়। পরীক্ষার্থী সুমাইয়া শিক্ষক শাহ পরানের সঙ্গে আপত্তিকর আচরণ করেছেন। এখন যে অভিযোগগুলো বলছেন, তা সঠিক নয়।

এদিকে অ্যাডভোকেট আব্দুল মোমেন ভূঁইয়া তুহিনের মাধ্যমে পাঠানো উকিল নোটিশে বলা হয়েছে, নোটিশ প্রাপ্তির ১৫ দিনের মধ্যে কেন মহামান্য হাইকোর্ট বা অন্য কোনো অধীনস্থ আদালতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, এই মর্মে উপযুক্ত কারণ দর্শাতে হবে। নতুবা ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনের বিধানমতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here