ভবানীপুর না নন্দীগ্রাম—কোন আসন ছাড়বেন শুভেন্দু

0
2

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দলটির রাজ্য শাখার অন্যতম শীর্ষ নেতা শুভেন্দু অধিকারী এবারের নির্বাচনে দুটি আসনে লড়াই করে দুটিতেই জয় পেয়েছেন। আসনগুলো হলো— নন্দীগ্রাম এবং বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির দুর্গ বলে পরিচিত ভবানীপুর।

ভারতের জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী তিনি দুটি কেন্দ্রের বিধায়ক থাকতে পারবেন না। ফলে তাকে যেকোনো একটি আসন ছেড়ে দিতে হবে। এখন প্রশ্ন উঠেছে, তিনি নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরের মধ্যে কোন আসনটি ছাড়বেন?

ভারতের নির্বাচন কমিশনের নিয়ম এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১-এর ধারা ৩৩(৭) অনুযায়ী, একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ দুটি আসন থেকে নির্বাচনে লড়তে পারেন। কিন্তু আইন অনুযায়ী একজন ব্যক্তি একসঙ্গে দুটি আসনের বিধায়ক (এমএলএ) বা সাংসদ (এমপি) থাকতে পারেন না।

ফলাফল ঘোষণার পর যদি কোনো নেতা দুটি আসন থেকেই জয়ী হন, তবে নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের নির্দিষ্ট ১৪ দিনের মধ্যে তাকে যেকোনো একটি আসন থেকে পদত্যাগ করতে হয়। তিনি যে আসনটি ছেড়ে দেবেন, পরবর্তী ৬ মাসের মধ্যেই সেই শূন্য আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হাই ভোল্টেজ সেই লড়াইয়ে হেরে গেলেও পরে ভবানীপুরে উপনির্বাচনে জিতে মুখ্যমন্ত্রীত্ব টিকিয়ে রাখেন মমতা।

তবে ২০২৬ সালের এই নির্বাচনে দৃশ্যপট পুরোপুরি বদলে গেছে। এবার নন্দীগ্রামের পাশাপাশি মমতার নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরেও তাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ভোটে লড়েন শুভেন্দু।

ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৫ হাজার ১০৫ ভোটে হারিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারীর। অন্যদিকে, শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম আসন থেকে ৯ হাজার ৬৬৫ ভোটে জয়ী হয়েছেন। এই আসনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী পবিত্র করকে পরাজিত করেছেন তিনি।

এই পরিস্থিতিতে একটি আসন ছাড়ার বাধ্যবাধকতার বিষয়ে শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, দলের হাইকমান্ড তাকে যে সিদ্ধান্ত নিতে বলবে, তিনি সেটাই মেনে নেবেন।

তিনি বলেন, “দলের কেন্দ্রীয় নেতারা যে সিদ্ধান্ত নেবেন, সেটাই হবে। আমার মতামত দেওয়ার থাকলে তাদের কাছেই দেব। তবে আমার কর্তব্য থেকে সরে যাব না।”

বুধবার জয়ের পর প্রথমবারের মতো নন্দীগ্রামে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, “আমি ২০১১-এর পরিবর্তনে ছিলাম। আর এবার আসল পরিবর্তনে থাকলাম। ধৈর্য ও সহ্য—এই দুটো মন্ত্র মেনে চলুন। আমরা এমন ভালো কাজ করব যে, ১০০ বছর বিজেপি ক্ষমতায় থাকবে।”

তিনি স্থানীয় জনগণকে আশ্বস্ত করে জানান, আসন যেটিই ছাড়ুন না কেন নন্দীগ্রামের মানুষের তিনি আজীবন কাজ করে যাবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here