তাইওয়ান উপকূলের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাল জাপান, ক্ষুব্ধ চীন

0
7

তাইওয়ান ও ফিলিপাইনের মধ্যবর্তী সমুদ্রসীমায় জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে জাপান। মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে এই পরীক্ষায় একটি পুরনো যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়া হয়। জাপানের এমন পদক্ষেপে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে চীন।

এর মধ্যে দিয়ে জাপানের প্রতিরক্ষা নীতিকে আরো আক্রমণাত্মক করার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করলেন প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের উৎসাহে টোকিও তাদের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী শান্তিবাদী অবস্থান থেকে সরে আসছে। অনুমোদন দিয়েছে প্রাণঘাতী অস্ত্র রপ্তানির।

১৯ দিনব্যাপী এই মহড়া শুক্রবার শেষ হবে। এতে জাপানের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, ফিলিপাইন, ফ্রান্স, নিউজিল্যান্ড ও কানাডার প্রায় ১৭ হাজার সেনা সদস্য অংশ নিয়েছেন। প্রথমবারের মতো অংশ নিয়েছে জাপানের যুদ্ধকালীন সেনাদল।

বুধবারের মহড়ায় দুটি ‘টাইপ-৮৮’ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। তাইওয়ান থেকে মাত্র ৪০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ফিলিপাইনের উত্তর প্রদেশ ইলোকস নর্তেতে বসে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ করেন টোকিও এবং ম্যানিলার প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিক্ষেপ করা দুটি ক্ষেপণাস্ত্রই দক্ষিণ চীন সাগরে উপকূল থেকে ৭৫ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।

প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাপান তাদের সামরিক ব্যয় বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিপক্ষকে পাল্টা আঘাত করার সক্ষমতা অর্জনে জোর দিয়েছে। একইসঙ্গে ফিলিপাইনসহ আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরো জোরদার করেছে।

গত মাসে তাকাইচির সরকার দীর্ঘদিনের আরোপিত একটি নিয়ম শিথিল করে। এর ফলে দেশটি এখন থেকে প্রাণঘাতী সামরিক সরঞ্জাম বিদেশে রপ্তানি করতে পারবে। মূলত বিশ্বজুড়ে সামরিক সরঞ্জামের বিশাল বাজারে নিজেদের অংশীদারত্ব বাড়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জাপানের মিতসুবিশি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ গত বছর অস্ট্রেলিয়ার নৌবাহিনীর কাছে থেকে ১১টি যুদ্ধজাহাজ সরবরাহের অর্ডার পেয়েছে। তাকাইচি নিজেও বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া সফর করছেন। তাঁর এই সফর দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চীনের ক্ষোভ
বেইজিং-টোকিওর দীর্ঘদিনের শীতল সম্পর্ক আরো খারাপ হয়েছে সম্প্রতি তাকাইচির একটি মন্তব্যের পর। তিনি বলেছিলেন, চীন তাইওয়ান দখলের চেষ্টা করলে জাপান সামরিক হস্তক্ষেপ করতে পারে।

তাইওয়ানকে চীন নিজেদের অংশ বলে মনে করে। দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নিতে প্রয়োজনের সামরিক শক্তি প্রয়োগেরও হুমকি দিয়েছে। বুধবারের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার প্রতিক্রিয়ায় বেইজিং কঠোর সমালোচনা করে বলেছে, এটি জাপানি কট্টরপন্থীদের পুনরায় সামরিকীকরণের পথে আরো একটি পদক্ষেপ।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আগ্রাসনকারী দেশ হিসেবে জাপান তাদের অতীতের অপরাধের জন্য অনুশোচনা করেনি। উল্টো তারা এখন নিরাপত্তা সহযোগিতার কথা বলে বিদেশে সেনাবাহিনী পাঠিয়ে আক্রমণাত্মক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে।

টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়ের অধ্যাপক ই কুয়াং হেং বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার এই পরীক্ষাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, দ্বীপপুঞ্জের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন জাপান ও ফিলিপাইন- উভয় দেশের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here