পুলিশের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক পরিচয় নয়, অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই দেখবেন

0
3

পুলিশের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও দুঃশাসনের সঙ্গে আমরা আপস করতে চাই না। অনেক সময় আমরা দেখেছি, আপনাদের একটি সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। রাজনৈতিক পরিচয়, প্রভাবশালী পরিচয়—এ রকম বিষয় আপনাদের ফেস করতে হয়। আমি পরিষ্কারভাবে আজকের অনুষ্ঠানে বলতে চাই, দুর্নীতি-সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণে ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় নয়, যে বা যারা অপরাধে লিপ্ত হবে তাকে আপনারা অপরাধী হিসেবেই বিবেচনা করবেন।’

পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে আয়োজিত পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক ভাষণে তিনি এই নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো ব্যক্তি বা দল কিন্তু আপনাদের দল নয়। বরং আপনারা আইনের রক্ষক—এ জিনিসটা কিন্তু আপনাদের মনে রাখতে হবে। আপনারা দায়িত্ব পালন করবেন রাষ্ট্র ও জনগণের কল্যাণে। জনগণের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক হবে আইনগত ও মানবিক।’

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কঠোরভাবে বজায় রাখতে পুলিশের প্রতি নির্দেশনা দিয়ে ‘বর্তমান সরকার অবশ্যই জনগণের গণতান্ত্রিক-রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত রাখতে চায়। কেউ যেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি (বিনষ্ট) কিংবা কোনো রকম নাশকতামূলক কার্যক্রমে লিপ্ত হতে না পারে, এটিও কিন্তু আমাদের সবাইকে মনে রাখতে হবে। একটা সরকার যেমন চিরস্থায়ী নয়, আমরা পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হয়ে এসেছি। ঠিক একইভাবে কিন্তু জনপ্রশাসন কিংবা পুলিশ প্রশাসনের কোনো পদ কিন্তু কারও জন্য চিরস্থায়ী নয়।’

পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বিপদে পড়লে যেকোনো পেশার মানুষ আপনাদের কাছে যায়। অর্থাৎ লোকাল থানায় যায়। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সেখানে দায়িত্বশীল যে পুলিশ সদস্যরা থাকেন, তারা যদি আন্তরিকভাবে চান তাহলে আইনি ও কৌশলী ভূমিকা নিয়ে অনেক ঘটনার শুরুতেই নিষ্পত্তি করা যায়।’ পুলিশের আস্থা ও নির্ভরতা সৃষ্টি হলে মব ভায়োলেন্স সুন্দরভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজে মানুষ নানা রকম অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। অর্থনৈতিক বৈষম্য স্বাভাবিকভাবেই এর অন্যতম একটি কারণ। মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো যদি পূরণ হয়, সে ক্ষেত্রে অনেক সমস্যাই এড়ানো সম্ভব। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করে নাগরিকদের সামাজিক-অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে আনতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here