ঈদুল আজহায় মুক্তির ঘোষণা দিয়েছে একাধিক সিনেমা। কোনোটির শুটিং হচ্ছে,কোনোটির আবার শুটিং শেষ চলছে পোস্ট প্রডাকশনের কাজ। ঈদে মুক্তি প্রতিক্ষিত সিনেমাগুলোর পরিচালকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানার চেষ্টা করা হয়েছে সিনেমাগুলোর সর্বশেষ পরিস্থিতি
আজমান রুশো রকস্টার পরিচালক
আমাদের রকস্টারের শুটিং শেষ। এখন পোস্টের কাজ করছি। প্রচার-প্রচারণাও চলছে। ইতোমধ্যে আমরা রকস্টারের লুক পোস্টার, অ্যানিমেশন টিজার, টিজার ও প্রথম গান ‘পিরিতি’ প্রকাশ করেছি। সবকিছুই দর্শক দারুণভাবে গ্রহণ করছে। প্রচারণার জন্য আগামীতে আরও যা আসবে সবকিছুতেই চমক থাকবে। আগামী সপ্তাহে আমরা সিনেমাটি সেন্সরে জমা দেব। রকস্টারে শাকিব খান বাংলাদেশের ঢাকার একটি ছেলের চরিত্র করেছেন। গল্পের ক্ষেত্রে তিনি দেশের বাইরেও যান। তবে গল্পের যে মানুষেরা রয়েছেন তারা প্রত্যেকেই বাংলাদেশি। সে কারণে জোরালোভাবে বলতে পারি রকস্টার বাঙালি ছেলের গল্প, এটি বাংলাদেশের গল্প। ছোটবেলা থেকে আমি কোনো নায়কের স্টাইল ফলো করিনি। সবসময় মিউজিশিয়ানদের লাইফস্টাইল ফলো করেছি। তাদের মতো পোশাক, চুলের স্টাইল করতাম। সেই আমার প্রথম সিনেমা হচ্ছে মিউজিক্যাল ফিল্ম।
মেজবাউর রহমান সুমন, রইদ পরিচালক
রইদ সিনেমার শুটিং বেশ আগেই শেষ হয়। মুক্তির আগে যথাযথ প্রচারণার জন্য সময় নেওয়া হয়েছে। আমরা চেয়েছিলাম, মুক্তির আগে দর্শকের কাছে ঠিকভাবে পৌঁছাতে। প্রচারণা এখানে বড় বিষয়। এ ছাড়া উৎসবে অংশগ্রহণ এবং ঈদুল ফিতরের আগের সময়টা উপযুক্ত মনে হয়নি। তাই আমরা ঈদুল আজহাকে মুক্তির জন্য বেছে নিয়েছি। তবে আমরা শুরুর দিকে ভেবেছিলাম, ঈদের পর নিরিবিলি সময়ে সিনেমাটি মুক্তি দেব। এতে দর্শকরা গল্পটি ভালোভাবে উপভোগ করতে পারবেন। তবে ঈদের পরপরই বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনা শুরু হয়ে যাবে। তাই মুক্তির সিদ্ধান্ত বদলাতে হয়। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে ঈদুল আজহাতেই ‘রইদ’ মুক্তির সিদ্ধান্ত নিই। ইতোমধ্যে সিনেমার পোস্টার, ট্রিজার ও দুটি গান প্রকাশ করেছি। দর্শক সেগুলো দারুণভাবে গ্রহণও করছেন। আগামী ঈদের আগ পর্যন্ত এই প্রচারণা চলমান থাকবে।
সাইফ চন্দন মালিক পরিচালক
আমরা আমাদের সিনেমার আনুষ্ঠানিক কিছুর ঘোষণা এখনও দেয়নি। চেয়েছিলাম সিনেমাটি প্রপারভাবে সব শেষ করে করে এরপর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেব। এখনও আমরা সে পথেই আছি। আমাদের শুটিং, ডাবিং সব শেষ। এখন পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ চলছে। তবে এরই মধ্যে সিনেমাটির ফুটেজ ও শুটিংয়ের ছবি কারা যেন প্রকাশ করেছে। তাতেই দেখেছি দর্শকের কাছে সিনেমাটি নিয়ে দারুণ কৌতূহল। সিনেমাটির পোস্টার, গান ও ট্রেলার দেখে দর্শকরা আরও চমকে যাবে বলে আমার বিশ্বাস। আমরা সেন্সরে জমা দেওয়ার জন্য পরিপূর্ণ কাজ শেষ করে একযোগে প্রচারণায় নামতে চাই। প্রযোজকেরও একই পরিকল্পনা। এর মধ্যে আমরা সব গুছিয়ে এনেছি। প্রচারণা শুরু হওয়া মাত্রই একে একে সব প্রকাশ করা হবে। মূলত অ্যাকশন ঘরানার সিনেমা এটি। এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এর গল্প এগিয়ে যায়।
আলোক হাসান নাকফুলের কাব্য পরিচালক
সিনেমাটি অনেক আগেই আমি শেষ করে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের কাছে জমা দিয়েছি। এরপর ‘নাকফুলের কাব্য’ ২০২৪ সালে সেন্সর ছাড়পত্র পায়। নানা কারণে মুক্তি দেওয়া হয়নি। এবার প্রযোজনা সংস্থা ঈদুল আজহায় মুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পোস্টার প্রকাশ করে প্রচারণাও শুরু করেছে। সব কিছু ঠিক থাকলে ঈদেই সিনেমাটি মুক্তি পাবে। এ ক্ষেত্রে কেবল মাল্টিপ্লেক্সে মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে। গ্রামীণ আবহ ও নিখাদ দেশীয় প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই সিনেমার কাহিনি আবর্তিত হয়েছে এক আবেগঘন প্রেম ও বিরহের গল্পকে কেন্দ্র করে। সমাজপতিদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে একটি অমর প্রেম ও বিরহের গল্প ‘নাকফুলের কাব্য’। এতে রয়েছে তিনটি গান। প্রেম, আবেগ, কমেডি–সবই রয়েছে। দর্শকরা একটি পরিচ্ছন্ন ও নিরেট বাংলাদেশি গল্পের সিনেমা পাবেন। পরিবারসহ উপভোগ করার মতো সিনেমা এটি।




