ভারতে সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর পদ্ধতিগত রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, নির্বাচন-উত্তর পরিকল্পিত সহিংসতা এবং সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে কঠোর বিধিনিষেধের অজুহাতে পরোক্ষভাবে গরু জবাই নিষিদ্ধ করার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির।
শুক্রবার বিবৃতিতে সংগঠনটির সভাপতি নুরুল ইসলাম এবং সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ বলেছেন, গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষতার দাবিদার ভারতে দীর্ঘদিন ধরে মুসলমানদের ধর্মীয় অধিকার, খাদ্যাভ্যাস ও বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকারের ওপর ধারাবাহিকভাবে আঘাত হানা হচ্ছে। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর গঠিত নতুন সরকার গবাদিপশু জবাইয়ে তথাকথিত যে ফিটনেস সার্টিফিকেটের বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছে, তা মূলত মুসলিম সম্প্রদায়কে ধর্মীয় ও অর্থনৈতিকভাবে চাপে ফেলার একটি বৈষম্যমূলক প্রশাসনিক পদক্ষেপ। বিশেষ করে পবিত্র ঈদুল আজহার আগে অবাস্তব বিধিনিষেধ মুসলিমদের ধর্মীয় অনুভূতিতে সরাসরি আঘাত।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরপরই মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর রাষ্ট্রীয় ও দলীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ভয়াবহ জুলুম-নির্যাতন শুরু হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা এপিসিআরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোচবিহার, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং কলকাতাসহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় মুসলমানদের লক্ষ্য করে ৩৪টিরও বেশি সুপরিকল্পিত সহিংসতার ঘটনা ঘটানো হয়েছে। অসংখ্য মুসলিম পরিবারের ঘরবাড়ি ও ব্যাবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর এবং বেশ কয়েকটি পবিত্র মসজিদে বর্বরোচিত হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে।
শিবির নেতারা বলেছেন, ভারতে উগ্রপন্থি শাসকগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে পদ্ধতিগতভাবে মুসলমানদের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে আসছে। যা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। জাতিগত ও ধর্মীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে কার্যকর ও জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণে জাতিসংঘ, ওআইসিসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও বিশ্ববাসীকে আহ্বান জানিয়েছে শিবির।




