যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামিক স্কুলে গুলি, বন্দুকধারীসহ নিহত ৫

0
4

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগোর ক্লেইরমন্ট এলাকায় একটি ইসলামিক সেন্টার ও মসজিদে বন্দুকধারী দুই কিশোরের গুলিতে তিনজন নিহত হয়েছে। পরে তারা নিজেরাও গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেছে। স্থানীয় সময় সোমবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। সন্দেহভাজন বন্দুকধারীদের একজনের বয়স ১৭ বছর, অন্যজনের ১৯ বছর।

ইসলামিক সেন্টারটি ক্লেইরমন্ট এলাকায় অবস্থিত। সেখানে সান দিয়েগো কাউন্টির সবচেয়ে বড় মসজিদটির অবস্থান। পাশাপাশি সেখানে শিশুদের ইসলামী বিদ্যালয়ও রয়েছে। সেখানে যখন এই হামলার ঘটনা ঘটে, তখন মসজিদের ভেতর শিশুরা ক্লাসে ছিল। এই ইসলামিক সেন্টার ক্যাম্পাসের ভেতরেই ‘আল রশিদ স্কুল’ নামে একটি রয়েছে।

ঘটনার পর ওপর থেকে ধারণ করা এক ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ যখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে, তখন শিশুরা একে অপরের হাত ধরে নিরাপদ স্থানে সরে যাচ্ছে। এ ঘটনায় নিরাপত্তার স্বার্থে আশেপাশের অন্যান্য স্কুলগুলোও তাৎক্ষণিকভাবে লকডাউন করা হয়েছিল। হামলাটিকে একটি ‘বিদ্বেষমূলক অপরাধ’ হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়া এক আত্মঘাতী কিশোরের সন্ধানে তদন্তের সময় এই হামলার ঘটনা ঘটে। ইসলামিক সেন্টার অব সান ডিয়েগো মসজিদে গুলির খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত সেখানে পৌঁছায়। তারা ভবনের সামনে গুলিবিদ্ধ তিনজনকে পড়ে থাকতে দেখেন। এর পরপরই পুলিশ খবর পায় যে, কাছেই একটি গাড়ি থেকে একজন মালিকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে। পরে মসজিদ থেকে কিছু দূরে একটি গাড়ির ভেতর থেকে ১৭ ও ১৮ বছর বয়সী দুই সন্দেহভাজন হামলাকারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তারা নিজেদের গুলিতে আত্মহত্যা করেছে।

নিহতদের মধ্যে মসজিদের একজন নিরাপত্তারক্ষী ছিলেন। তিনি হামলা প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। তার সাহসী পদক্ষেপের কারণে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। এ ব্যাপারে সান ডিয়েগো পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াহল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‌‘তার এই পদক্ষেপ বীরত্বপূর্ণ। নিঃসন্দেহে তিনি আজ অনেক মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছেন।
কর্তৃপক্ষ এখনও নিহত তিনজনের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (এফবিআই) ঘটনাটির তদন্ত করছে। এ বিষয়ে সারারণ নাগরিকদের কাছে তথ্যও চেয়েছে।

সিবিএস-এর বরাত দিয়ে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এফবিআই ঘটনাটিকে বিদ্বেষমূলক অপরাধ হিসেবে তদন্ত করছে এই কারণে যে, এক সন্দেহভাজনের মায়ের পাওয়া কিছু লেখা থেকে এই ইঙ্গিত মিলেছে। হামলার প্রায় দুই ঘণ্টা আগে এক সন্দেহভাজন কিশোরের মা পুলিশকে ফোন করে জানান যে, তার ছেলে বেশ কয়েকটি বন্দুক ও তার গাড়ি নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়েছে। তার ছেলের সঙ্গে আরেকজন রয়েছে। তারা দুজনই সামরিক ছদ্মবেশী পোশাকে ছিল।

স্কট ওয়াহল জানান, ওই তরুণের আচরণ কেবল ‘আত্মঘাতী’ মানুষের মতো ছিল না, বরং তা অন্য কিছুর ইঙ্গিত দেয়। তরুণটি বাড়িতে একটি চিরকুট রেখে যায়, যাতে ‘সাধারণ বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও উগ্র কথাবার্তা’ লেখা ছিল। তবে চিরকুটটিতে ওই নির্দিষ্ট মসজিদ, অন্য কোনো স্থান বা কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো হুমকির উল্লেখ ছিল না। তদন্তকারীরা খবর পেয়ে এরই মধ্যে একটি স্থানীয় হাই স্কুলে যান, যেখানে দুই কিশোরের একজন শিক্ষার্থী ছিল। এছাড়া পুলিশ একটি শপিং মলেও তল্লাশি চালায়, যেখানে ওই গাড়িটির অবস্থান ট্র্যাক করা হয়েছিল।

পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াহল জানিয়েছেন, হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা যায়নি। তবে সান ডিয়েগো কাউন্টির সবচেয়ে বড় মসজিদ হওয়ায় এটিকে একটি বিদ্বেষমূলক অপরাধ বলে ধারণা করা হচ্ছে। যখন গুলির ঘটনা ঘটে, তখন পুলিশ কর্মকর্তারা সন্দেহভাজনের মায়ের সাথে কথা বলছিলেন এবং তারা মসজিদ থেকে কিছু দূরে ছিলেন।

এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তিনি একটি ‘সেমি-অটোমেটিক অস্ত্র’ থেকে প্রায় ৩০ রাউন্ড গুলির শব্দ শুনেছেন। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি ৯১১-এ কল করেন এবং ৫ থেকে ১০ মিনিটের মধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ছুটির দিনগুলোতে এই মসজিদে প্রচুর ভিড় হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ভালো যে, ঘটনাটি শুক্রবার ঘটেনি। কারণ সেদিন রাস্তায় মানুষের উপচেপড়া ভিড় থাকে।’

ইসলামিক সেন্টার অব সান ডিয়েগোর পরিচালক ইমাম ত্বহা হাসান এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘কোনো উপাসনালয়কে লক্ষ্যবস্তু করা অত্যন্ত জঘন্য ও আপত্তিকর। এই স্থাপনাটি একটি উপাসনালয়, কোনো যুদ্ধক্ষেত্র নয়।

ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম এক বিবৃতিতে বলেন, তিনি এই সহিংস হামলায় ‘স্তম্ভিত ও আতঙ্কিত’। এটি এমন একটি জায়গা ‘যেখানে পরিবার ও শিশুরা একত্রিত হয়। প্রতিবেশীরা শান্তিতে ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে উপাসনা করে। ধর্মীয় সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা ভীতি প্রদর্শন ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্য সহ্য করবে না।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এটিকে একটি ‘ভয়াবহ পরিস্থিতি’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি প্রাথমিক কিছু তথ্য পেয়েছি। আমরা এই বিষয়টি খুব জোরালোভাবে খতিয়ে দেখব।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here